Friday, May 29, 2026
spot_img
Home Blog Page 87

আগুন লাগলে যা করতে হবে

আগুন লাগলে ভয় পাওয়া একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে ভয় না পেয়ে একে মোকাবিলা করাটা সবচেয়ে জরুরি। আগুন লাগলে করণীয় বিষয় লিখেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন, ডা. কামরুল আক্তার সঞ্জু।

আগুন দেখলে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে ধীরস্থির থাকুন। প্রথমে এর উৎপত্তি কোথায়, সত্যিই এটি লেগেছে কি না—জানার চেষ্টা করুন। অযথা চিৎকার-চেঁচামেচি না করে প্রাথমিক অবস্থায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করুন।

তেলজাতীয় আগুনে কম্বল, কাঁথা, ছালা বা মোটা কাপড় ভিজিয়ে চাপা দিন। বৈদ্যুতিক আগুনে দ্রুত প্রধান সুইচ বন্ধ করুন। পরনের কাপড়ে আগুন লাগলে মাটিতে গড়াগড়ি দিন। ভুলেও দৌড়াবেন না। তাতে আগুন বেড়ে যাবে।

বহুতল ভবনে আগুন লাগলে, পর্যায়ক্রমে ধীরে-সুস্থে নেমে আসুন। হুড়োহুড়ি করে নামতে যাবেন না। আগুন ঊর্ধ্বমুখী, তাই ওপরতলায় আগুন লাগলে প্রথমে সেই তলার লোকজনকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দিন। ওপরের তলার পর নিচের দিকের তলার লোকজনকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দিন।

প্রাথমিক চিকিৎসা

ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন

শরীরের উপরিভাগের স্তর হচ্ছে ত্বক। আগুনে ত্বক পুড়ে গেলে চামড়া লাল হয়ে যায়, সামান্য ফুলে যায় এবং জ্বালা করে। এ অবস্থাকে বলে প্রথম বা ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন। এ ক্ষেত্রে পোড়ার স্থানে শুধু ১৫ থেকে ২০ মিনিট পানি ঢাললেই চলবে। খুব বেশি জ্বললে একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেতে পারেন।

সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন

দুই বা সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন হলে ত্বকের উপরিভাগের প্রথম স্তর (এপিডার্মিস) সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তী স্তর (ডার্মিস) আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুড়ে যাওয়া স্থান লাল হয়ে যায়, ফুলে যায়, ফোসকা পড়ে এবং প্রচণ্ড ব্যথা হয়।

সাধারণত গরম পানি বা গরম তরল কিছু পড়লে, কাপড়ে আগুন লেগে গেলে, মোমের গরম তরল অংশ সরাসরি চামড়ায় লাগলে, আগুনে উত্তপ্ত কড়াইজাতীয় কিছুর স্পর্শে এ ধরনের বার্ন হয়। এ ক্ষেত্রে অনেকক্ষণ ধরে পানি ঢালতে হবে—এক-দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। ফোসকা গলানোর চেষ্টা করবেন না।

থার্ড ডিগ্রি বার্ন

তিন বা র্থাড ডিগ্রি বার্ন হলে ত্বকের উপরিভাগের দুটি স্তরই (এপিডার্মিস ও ডার্মিস) সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চামড়ার নিচে থাকা মাংসপেশি, রক্তনালি, স্নায়ু ইত্যাদিও আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে যায়, চামড়া পুড়ে শক্ত হয়ে যায়, স্পর্শ করলেও ব্যথা অনুভূত হয় না। সরাসরি আগুনে পুড়লে, বিদ্যুতায়িত হলে, ফুটন্ত পানি বা তরল সরাসরি শরীরে পড়লে বা বিস্ফোরণে এ ধরনের বার্ন হয়।

এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব আগুন বা গরম জায়গা থেকে সরিয়ে নিন। পুড়ে যাওয়া কাপড় খুলে দিতে হবে। অযথা ডিম, টুথপেস্ট ইত্যাদি লাগাবেন না। এতে কোনো উপকার নেই।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে এমনভাবে শুইয়ে দিতে হবে, যাতে তার পুড়ে যাওয়া অংশ খোলা দিকে থাকে। তারপর জগ বা মগে ঠান্ডা পানি বা বরফপানি এনে পোড়া জায়গায় ঢালতে হবে, যতক্ষণ না তার জ্বালা-যন্ত্রণা কমে এবং ক্ষতস্থানের গরমভাবও কমে না যায়। আক্রান্ত স্থানটি ফুলে যাওয়ার আগে সেখান থেকে ঘড়ি, বেল্ট, আংটি, কাপড় ইত্যাদি থাকলে খুলে ফেলতে হবে।

পুড়ে যাওয়া অংশে কাপড় লেগে থাকলে সেটা না টেনে বাকি পোশাক কেটে সরিয়ে ফেলুন। পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ বা কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান হালকা করে বেঁধে দিতে পারেন। মুখের কোথাও পুড়ে গেলে পানি দিয়ে ঠান্ডা করতে হবে, যতক্ষণ না ক্ষতস্থান ঠান্ডা হয় এবং ব্যথা কমে। মুখ ঢাকার প্রয়োজন নেই, তবে পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কাপড় দিয়ে এমনভাবে মাস্ক তৈরি করতে হবে, যাতে নাক, মুখ ও চোখ বের করে ঢাকা যায়।

সিলভার সালফাডায়জিন ক্রিম হাতের কাছে থাকলে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে লাগিয়ে দিতে পারেন। আক্রান্ত অংশ পরিষ্কার কাপড় বা গজ-ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে একটু উঁচু করে ধরে রাখুন।

আক্রান্ত ব্যক্তির জ্ঞান থাকলে পানিতে একটু লবণ মিশিয়ে স্যালাইন বা শরবত করে খেতে দিন অথবা ডাবের পানি বা খাওয়ার পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করতে দিন। প্রাথমিক চিকিৎসা চালানো অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিন।

শিশুর সর্দিতে নাকের ড্রপ : ক্ষতি না কি উপকার?

ডা. আবু সাঈদ শিমুল

শিশুর সর্দিতে বিভিন্ন ধরনের নাকের ড্রপ ব্যবহার করা হলেও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় অক্সিমেটাজলিন, জাইলোমেটাজলিন ধরনের ড্রপ।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেই এসব ওষুধ জেনারেল স্টোরগুলোতে পাওয়া যায় অর্থাৎ এসব ওষুধ কিনতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন পড়ে না। তাই অহরহ এসব ড্রপ ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশেও এসব ড্রপের ব্যবহার কম নয়।

শিশুর বন্ধ নাক খুলে দেওয়ার জন্য এসব ড্রপ ব্যবহার করা হলেও ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, নাকের ড্রপে লাভতো হয়ই না বরং এতে শিশুর ক্ষতি হতে পারে।

ডা. ড্রিল- এর নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের একদল চিকিৎসকের গবেষণা থেকে জানা যায়, এসব নাকের ড্রপ শিশুকে দিলে অত্যধিক ঝিমুনি, পেটের সমস্যা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, খিঁচুনি- এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। নাকের ড্রপগুলোর ক্ষেত্রে আরেকটি অসুবিধা হলো, এগুলোর নাম ও প্যাকেট একই দেখতে হলেও ছোট ও বড়দের ক্ষেত্রে এই ড্রপগুলোতে মাত্রার ভিন্নতা রয়েছে। কিন্তু অনেক সময়ই অসাবধানতাবশত মাত্রা না দেখে কেনার কারণে বড়দের ড্রপ ছোটদের দিয়ে দেওয়া হয়। এতে শিশুর ক্ষতি হতে পারে।

এসব কারণে ইতোপূর্বে আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএসএফডিএ) দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য এসব ড্রপ নিষিদ্ধ করেছিল। তবে এই গবেষণায় দেখা যায়, ছয় বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রেও এগুলো ক্ষতিকর।

নাকের ড্রপের সঙ্গে শিশুর সর্দিতে যেকোনো ধরনের অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধও অপ্রয়োজনীয় বলে গবেষকরা এখন মতামত দিচ্ছেন।

লেখক
শিশু বিশেষজ্ঞ
মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ইফতারে বিরিয়ানি ও কাবাব কতটা স্বাস্থ্যকর?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ইফতারে খাবারের তালিকায় বিরিয়ানি ও কাবার অনেকেরই পছন্দ। তবে বেশিরভাগ সময়ই বিরিয়ানি তৈরি করা হয় গরু বা খাসির মাংস দিয়ে। আর বিরিয়ানি রান্নায় ব্যবহার হয় অতিরিক্ত মসলা ও তেল। অনেকে আবার স্বাদের জন্য এতে ঘি ও মাখন যোগ করে।

‘যারা স্থূলতা, হৃদরোগ, কোলেস্টেল, হজমের গোলমাল ইত্যাদি সমস্যায় ভুগছে, তারা ইফতারের সময় এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলো দেহের বিভিন্ন সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। আর কাবাবের ক্ষেত্রে পুড়িয়ে রান্না করা খাবার এড়িয়ে যেতে হবে,’ বলছিলেন পপুলার মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি।

রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে একসঙ্গে অনেক ভারী ও গুরুপাক খাবার খাওয়ার কারণে হার্টে রক্তসঞ্চালন কমে যায়। শরীরের বেশিরভাগ রক্ত পাকস্থলীতে সঞ্চালিত হয়। তখন বেশি খাবার হজমের জন্য বাড়তি রক্ত পরিসঞ্চালনের প্রয়োজন পড়ে। এতে হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন কমে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়াও প্যাপটিক আলসার, ডায়াবেটিস, এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকিও হতে পারে।’

সারাদিন রোজা রেখে, অভুক্ত থেকে ইফতারের সময় বিরিয়ানি খাওয়া একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়- জানিয়ে পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি বলেন, ‘তবে কাবাবের ক্ষত্রে সবজি ও মাংস একসঙ্গে মিশিয়ে কম মসলা ও অল্প তেল দিয়ে রান্না করলে অতটা ক্ষতি করবে না।’

অবশ্য, যাদের গরু বা খাসির মাংস খাওয়া নিষেধ, তারা এ খাবারটিও এড়িয়ে যান। মুখের স্বাদ মেটাতে এসব খাবার হয়তো খেলেন, কিন্তু পরে বিপত্তিটা ঘটবে শরীরে। আর এতে সুস্থভাবে রোজা পালনেও অসুবিধা হবে- জানান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন।

মিথ্যা বলার অভ্যাস কমাবেন কীভাবে?

অধ্যাপক সানজিদা শাহরিয়া

মানুষ কখন মিথ্যা বলে? এর কারণ খুঁজতে গেলে দেখবো, সাধারণত আত্মসম্মান হুমকির মুখে পড়লে, নিজের ইমেজ রক্ষা করতে মানুষ মিথ্যার আশ্রয় নেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মোটা দাগে তিনটি বিশেষ কারণে মিথ্যা বলে একজন ব্যক্তি।

প্রথমটি হলো, পারস্পারিক আদান-প্রদান। সামনের জন মিথ্যা বলছে, আমিও চট করে মিথ্যার মাধ্যমে একটা উত্তর দিয়ে দিলাম। এভাবে মিথ্যা বলার অভ্যস্ততা তৈরি হয়। দ্বিতীয়টি হলো, শাস্তি এড়াতে। আমি সত্যি কথা বললে অপর ব্যক্তিটি হয়তো কোনোভাবে আমাকে শাস্তি দেবে। আমি সেই শাস্তিটা নেবো না। এর জন্য আমি মিথ্যা বলছি। তৃতীয়টি হলো, ঘনিষ্টতার চাহিদা। হতে পারে, আমার কাছে ঘনিষ্ঠতা মানে বিকেলবেলা দুজনে মিলে বসে এক কাপ চা খাওয়া। তবে অপর মানুষটির কাছে ঘনিষ্ঠতা মানে, বন্ধুদের সঙ্গে ভরভরন্ত আড্ডা দেওয়া। এখন সে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় যাবে, আমার কাছে থাকবে না। তখন সে একটা মিথ্যা কথা বললো। এতে আমার সঙ্গে নকল ঘনিষ্ঠতাও বজায় রাখলো। আবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় প্রয়োজনও পূরণ হলো।

মানুষ কত বছর বয়স থেকে মিথ্যা বলা শুরু করে? গবেষণা বলছে, একটা ছয় মাসের শিশুও নকল কান্না করে মা-বাবার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে। আর চার বছর বয়সে সে পারদর্শিতা লাভ করে মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে। মজার ব্যাপার হলো, মানুষ যত মিথ্যা বলে, তার অপরাধবোধ তত কমতে থাকে। আস্তে আস্তে বেশি মিথ্যাবাদী হয়ে উঠে সে। এই জায়গাটাকে বলা হচ্ছে, প্যাথোলজিক্যাল লায়ার। ইদানিং নিউরোসাইন্স বলছে, যারা প্যাথোলজিক্যাল লায়ার, তাদের মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটারের গঠনে কিছু তারতম্য রয়েছে। এর মানে মিথ্যাকে যত চর্চা করা হবে, এটি তত আমাদের ঘিরে ধরবে। আর এটি কিন্তু নৈতিক উপদেশ দিয়ে কমানোর কোনো উপায় নেই। কারণ,ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ জানে না, সে কোথায় মিথ্যা বলছে।

প্রকৃতিতে শুধু কি মানুষই মিথ্যা বলে? দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির পাখি, মাছ, কাঠবিড়ালীও আচরণগতভাবে কিছু মিথ্যা কাজ করে দেখায়।

মিথ্যা কমাতে সচেতনতার উপায় কী? এর একমাত্র উপায় হলো, নিজের চোখে আয়না ধরা। লেখক মার্ক টোয়েন বলেছেন, ‘সত্যি বলার অভ্যাস থাকলে, তোমাকে কিছু মনে রাখতে হবে না।’ আমি যেই মিথ্যাটি বলছি, সেটি কেউ না জানলেও আমি তো জানি। নিজের দায়ভার নিজেকেই নিতে হবে। আজ দায়ভার না নিলে আগামীকাল কোনো কোনো জায়গায় আটকে তো যাবোই, বড় ধরনের বিপদে পড়ারও আশঙ্কা থাকবে।

লেখক
চিকিৎসক, কাউন্সেলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার,
ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি

ইয়াংকের ঈদ আয়োজন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ফ্যাশনে অভিনব ও আধুনিক পোশাক তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর সবচেয়ে বড় প্রকাশ ঘটে ঈদকে কেন্দ্র করে। এই পোশাকে সবচেয়ে বড় ধারক ও বাহক হচ্ছে তরুণ প্রজম্ম। তাই তরুণদের জন্য এবারের ঈদে ইয়াংকের রয়েছে বিশেষ আয়োজন।

রয়েছে রুচিশীল ও ট্রেন্ডি পোশাক, যার প্যাটার্নে আনা হয়েছে ওয়েস্টার্ন স্টাইলের সঙ্গে দেশি ঘরানার ফিউশন। স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে জর্জেট, লিনেন, কটন, মসলিন, অরগাঞ্জা ফ্যাব্রিক। ফ্লোরাল, জিওম্যাট্রিক ছাড়াও মিক্সড মোটিফে তৈরি হয়েছে নানা পোশাক। নকশা ফুটিয়ে তুলতে মিডিয়া হিসেবে কারচুপি, অ্যামব্রয়ডারি ছাড়াও সিকুইনের ব্যবহার হয়েছে।

 ছবি : ইয়াংকে
ছবি : ইয়াংকে

এবারের ঈদে ইয়াংকের আয়োজনে আরো থাকছে কুর্তি, এ লাইন টপস, স্ট্রেইট কাট টপস, বেলন স্লিভ টপস, টিউনিক, কোট গাউন, কাফটান, পঞ্চ, শার্ট, পলো ছাড়াও টপস-স্কার্ট সেট, টপস-পালাজো সেট, পার্টি ওয়্যার ও বিভিন্ন প্যাটার্নের বটম ওয়্যার। ছেলেদের পোশাকে থাকছে প্রিন্ট ও প্যাটার্নবেস শার্ট, রেগুলার ও স্লিম ফিট পাঞ্জাবি, পলো; টি-শার্ট রয়েছে নানা রং ও ডিজাইনে।

পোশাকগুলো তৈরি হয়েছে গরমের উপযোগী করে। এবারের আয়োজনে শুভ্র ও প্রশান্তিদায়ক হালকা শেডের রঙের পাশাপাশি উজ্জ্বল সব রঙ থাকছে। এসব কালেকশন পাওয়া যাচ্ছে ইয়াংকে’র সোবহানবাগ শাখা ছাড়াও কে ক্র্যাফট- এর সব শোরুমে। কে ক্র্যাফট-এর সহযোগী ব্র্যান্ড হিসেবে ইয়াংকের পোশাক ঘরে বসে সহজেই কিনতে পারেন অনলাইন স্টোর kaykraft.com থেকে। এ ছাড়া ফেসবুক পেজ থেকে অর্ডারও করা যাবে।

রোজা রাখলে দেহের কী উপকার?

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

রোজা রাখার উদ্দেশ্য শরীরকে দুর্বল করে অকর্মণ্য করা নয়, বরং শরীরকে সামান্য কিছু কষ্ট দিয়ে দৈহিক ও আত্মিক উৎকর্ষ সাধন। শুধু তা-ই নয়, অনেক রোগের বেলায় রোজায় ক্ষতি না হয়ে বরং বহু রোগব্যাধির প্রতিরোধক এবং আরোগ্যমূলক চিকিৎসালাভে সহায়ক হয়। রোজায় স্বাস্থ্যের সমস্যার চেয়ে বরং স্বাস্থ্যের উপকারই বেশি হয়।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী

রোজা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রোগীদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ ও রহমতস্বরূপ। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা সঠিক নিয়মে রোজা রাখলে নানা রকম উপকার পেতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হলো- খাদ্য নিয়ন্ত্রণ। আর রোজা রাখা হতে পারে এর অন্যতম উপায়। এতে সহজেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ ও সুন্দরভাবে করা যায়। যারা ইনসুলিনের ওপর নির্ভাশীল নন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা হতে পারে আদর্শ চিকিৎসা ব্যবস্থা। যারা ইনসুলিন নেন, তাদের ক্ষেত্রেও রোজা অবস্থায় ওষুধের মাত্রা কমাতে সহায়ক। শুধু রক্তের গ্লুকোজই নয়, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণেও রোজা মোক্ষম। এর সঙ্গে সঙ্গে রোজা ডায়াবেটিক রোগীকে সংযম, পরিমিতিবোধ ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। এটি ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় অপরিহার্য।

রক্তের কোলেস্টেরল

যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, রোজা তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। রোজা ভালো কোলেস্টেরলকে (এইচডিএল) বাড়াতে এবং মন্দ কোলেস্টেরলকে (এলডিএল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে উপকারী।

অতিরিক্ত ওজন

যারা স্থূলতায় ভুগছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজা ওজন কমানোর জন্য এক সহজ ও সুবর্ণ সুযোগ। ওজন কমে যাওয়ার বিভিন্ন রোগ থেকে বেঁচে থাকা যায়। যেমন : উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, বাতের ব্যথা, অস্টিও আর্থ্রাইটিস, গাউট ইত্যাদি। আবার ওজন কমাতে পারলে কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে আসে।

হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ

রোজার মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ হওয়ার ফলে যারা হৃদরোগ অথবা উচ্চ রক্তচাপে ভোগে, তাদের জন্য রোজা অত্যন্ত উপকারী। এতে শরীরের, বিশেষ করে রক্তনালির চর্বি কমে যায়। রক্তনালির এথরোসক্লোরোসিস কমাতে সাহায্য করে।

পেপটিক আলসার

এক সময় ধারণা ছিল, পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন না, তাঁদের ঘন ঘন খাবার খেতে হবে। অনেকক্ষণ পেট খালি রাখা যাবে না। অনেকে মনে করে, রোজা পেপটিক আলসারের ক্ষতি করে এবং এসিডের মাত্রা বাড়ায়। প্রকৃতপক্ষে এসব ধারণা ঠিক নয়। রোজায় নিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়ার কারণে এসিডের মাত্রা কমে যায়। তাই সঠিকভাবে রোজা রাখলে এবং সঠিক খাবার দিয়ে সেহরি ও ইফতার করলে রোজা বরং আলসারের উপশম করে। এ ছাড়া রোজা গ্যাস্ট্রাইটিস, আইবিএস ইত্যাদি রোগেও উপকারী।

শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রোগী

যারা এসব রোগে ভোগেন, তাদেরও রোজা রাখতে কোনো অসুবিধা নেই। রোজায় এ ধরনের রোগ সাধারণত বৃদ্ধি পায় না। বরং চিন্তামুক্ত থাকায় এবং আল্লাহর প্রতি সরাসরি আত্মসমপর্ণের কারণে এ রোগের প্রকোপ কমই থাকে। প্রয়োজনে রাত্রে একবার বা দুবার ওষুধ খেয়ে নেবেন। এ ধরনের ওষুধ বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। এতে রোজার কোনো ক্ষতি করবে না।

লেখক
সাবেক চেয়ারম্যান ও ডিন
মেডিসিন অনুষদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

রমজানে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য ও বদহজম

ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু

রোজায় অনেকেই কোষ্ঠ্যকাঠিন্য ও বদহজমের সমস্যায় ভোগে। সারাদিন পানি পানের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রমজান মাসে সকল রোজাদারই কম-বেশি এই সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। আঁশযুক্ত খাবার কম খেলেও হতে পারে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য।

আবার খাবারের পরিমাণ বেশি হলে, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খেলে রোজাদারদের অনেক সময় পেট ফেঁপে যায়, পেটে শব্দ হয়, পায়ু পথে ঘন ঘন বায়ু বের হয়। খাবার ঠিকমত হজম না হলে এই রকম হতে পারে। আবার ডিম, ছোলা পেটে গ্যাস উৎপন্ন করে।

যা করবেন

# পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। পানিশূন্যতা প্রতিরোধে
ইফতারে রাখতে পারেন ফলের জুস। তবে বাজারের প্যাকেটজাত জুস গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। এগুলো উপকারের চেয়ে অপকারই করে বেশি।

# আঁশযুক্ত খাবার, যেমন- আটা, সিমের বিচি, ছোলা, শাকসবজি, ফলমূল বেশি করে খান। চিনি, মিষ্টি ও কেক, পেস্ট্রি, চকলেট কম খেতে হবে।

# খেঁজুর রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়। এতে প্রচুর আঁশ থাকায় কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর হয়।

# ডিম, ছোলা কম পরিমাণে খান।

# তেল-মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন। ভাজাপোড়াকে না বলুন।

# নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস করুন।

লেখক
রেজিস্ট্রার, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইন্স

সেহরিতে ফলের কিউব সালাদ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সেহরিতে স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন ফলের সালাদ। বিভিন্ন ফলে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল রোজার সময় দেহের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে। এই সালাদ দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু।

উপাদান
# তরমুজ আধা কেজি
# বড় কলা ২টি
# আনারস ১টি
# বড় আপেল ১টি
# মার্শম্যালো বা চিনির নরম গোলা ১/৪ কাপ
( এ ছাড়া চাইলে পছন্দের ফলও নিতে পারেন।)

গার্নিসের জন্য
# পুদিনা পাতা
# বাদাম (কুচি করা)
# দারুচিনি গুঁড়া

যেভাবে তৈরি করবেন
ফলগুলোকে কেটে কিউব আকৃতির করে নিন। প্রত্যেকটি কিউব হবে দুই দশমিক পাঁচ সেন্টি মিটার। প্রথমে কাটতে একটু অসুবিধা হলেও এই আকৃতি খাবারটিকে সুন্দর করবে। এবার নরম টেক্সচার আনার জন্য এতে মার্শম্যালো যোগ করুন।

এরপর টুকরোগুলো পাশাপাশি সাজান। নিচের অংশ হয়ে গেলে একইভাবে উপরের অংশ সাজিয়ে নিন। সবশেষে গার্নিসের জন্য ওপরে ছড়িয়ে দিন পুদিনা পাতা, বাদাম কুচি ও দারুচিনি গুঁড়া। এবার পরিবেশন করুন।

সূত্র: এনডিটিভি, ইউএনবি

রোজায় মুখের শুষ্কতা রোধে

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ
আমাদের মুখের লালার স্বাভাবিক কিছু কাজকর্ম থাকে। যেমন : দাঁত পরিষ্কার রাখা, জীবাণু প্রতিহত করা, মুখ পিচ্ছিল রেখে কথা বলতে সাহায্য করা এবং ঘর্ষণজনিত ক্ষুদ্র ক্ষত দাঁতকে থেকে রক্ষা করা।

তবে রোজার সময় সারাদিন পানি পান না করা এবং খাবার না চিবানোর কারণে মুখে লালা নিঃসরণ কমে যায়। এতে মুখ হয়ে পড়ে শুষ্ক; লালার স্বাভাবিক কাজকর্ম হয় ব্যাহত। এই শুষ্ক অবস্থা মুখে রোগ তৈরির অনুকূল। তবে একটু সচেতন হলে কিন্তু মুখ ও দাঁতের এসব সমস্যা এড়ানো যায়।

মুখের শুষ্কতা রোধে করণীয়

# ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত তরল পান করতে হবে।
# বাজারজাত কোমল পানীয় বা কৃত্রিম ফলের জুস পরিহার করুন।
# লেবুর শরবত, মৌসুমী ফলের জুস (যেমন : কাঁচা আম, মালটা, বেল, আনারস, তরমুজ ইত্যাদির জুস) তৈরি করে খেতে পারেন। এতে দেহে পানীয়র চাহিদা পূরণ হবে।
# পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন ইসুপগুলের ভুসি। তবে এসব পানীয় চিনিমুক্ত রাখাই শ্রেয়।
# এই সময় মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার যত কম খাওয়া যায় তত ভালো। এ ধরনের খাবার মুখ ও দাঁতের রোগ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

রোজায় যেহেতু খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হয়, তাই সুস্থ থাকতে সচেতনতার বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও পানীয় পানের মাধ্যমে মুখ ও দাঁতকে সুস্থ রাখা জরুরি।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা, রাজ ডেন্টাল সেন্টার
কলাবাগান, ঢাকা।
মহাসচিব, বিএফডিএস।

সেহরিতে রাখতে পারেন চিকেন কাবাব

হেলেনা খান
সারাদিন রোজা রাখার জন্য সেহরির খাবারটা হওয়া চাই স্বাস্থ্যকর। এ সময় এমন খাবার খাওয়া জরুরি, যা দেহের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে এবং সারাদিন রোজা রাখার জন্য শক্তি জোগাবে। আর এ ক্ষেত্রে সেহরিতে রাখা যেতে পারে চিকেন কাবাব।

উপাদান
# মুরগির মাংসের টুকরো ৩০০ গ্রাম
# পেঁয়াজ ৫০ গ্রাম
# টমেটো ৫০ গ্রাম
# ধনে পাতা ৩০ গ্রাম
# সবুজ ক্যাপসিকাম ৫০ গ্রাম
# মরিচ ২০ গ্রাম
# লবণ স্বাদমতো
# তেল পরিমাণমতো
# লাল মরিচের গুঁড়া ৫ গ্রাম
# মসলা গুঁড়া ৫ গ্রাম
# আদা ও রসুন বাটা ৫ গ্রাম
# জিরার গুঁড়া ৫ গ্রাম
# লেবুর রস ১০ এমএল

যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে ক্যাপসিকাম ছাড়া সব উপাদান ব্ল্যান্ডারে দিয়ে ভালোভাবে ব্ল্যান্ড করে নিন। এবার মাংসগুলোকে ছোট ছোট বলের আকৃতি করুন। এরপর একটি একটি করে কাঠের কাঠিতে ঢুকান।

একটি কাঁচের থালায় ক্যাপিসাম কেটে রাখুন। এর পাশে কাবাবের কাঠি রাখুন। এবার ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আট থেকে ১০ মিনিট বেক করুন। তৈরি হয়ে গেলো চিকেন কাবাব। সেহরিতে ভাত বা রুটির সঙ্গে খেতে পারেন এই কাবাব।

লেখক : রন্ধনশিল্পী

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.