সাধারণ ভাইরাস জ্বর ও করোনা—কোনটির লক্ষণ কেমন?
শাশ্বতী মাথিন
করোনার উত্তাপে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও এর তেজ চলছে পুরোদমে। এরই মধ্যে ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে ঋতু পরিবর্তন। আবহাওয়ার তারতম্যের এই সময়টায় করোনার পাশাপাশি সাধারণ ভাইরাস জ্বরেরও প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।
জ্বরটি সাধারণ-কীভাবে বোঝা যাবে, জ্বর হলে করণীয় কী—এসব বিষয়ে জানিয়েছেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক সালেহ আহমদ। তিনি বলেন, ‘দেহের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে একে জ্বর বলে। তবে এর নিচে থাকলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আসলে সাধারণ ভাইরাস জ্বর ও করোনার মধ্যে তাপমাত্রার তেমন কোনো পার্থক্য হয় না। সাধারণ ভাইরাস জ্বরে অনেক তাপমাত্রা থাকে, করোনার ক্ষেত্রে একই হয়। ভাইরাস জ্বর হলে গায়ে ব্যথা, উচ্চ তাপ, দুর্বলতা, খাওয়ায় অরুচি, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। করোনা হলেও লক্ষণগুলো প্রায় কাছাকাছি হয়। সাধারণ ভাইরাস জ্বরে তেমন জটিলতা থাকে না। তিন-চার দিন পর জ্বর কমে আসে। তবে করোনা জ্বর কমতে সময় লাগতে পারে। করোনাভাইরাসে গলাব্যথা, কাশি ও শ্বাস কষ্ট হতে পারে।’
তবে যেকোনো জ্বর হলে করোনা হয়েছে কি না নিশ্চিত করতে হবে জানিয়ে ডা. সালেহ বলেন, এ ক্ষেত্রে আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা যেতে পারে। পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে করোনা রয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। তবে ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জনের ক্ষেত্রে সঠিক ফলটি আসে। ৩০ জনের এই টেস্ট করার পরও নেগেটিভ আসতে পারে। এমন হলে বুকের এক্স-রে, বুকের সিটিস্ক্যান, রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে করোনা হয়েছে কি না।’
করোনা না হলে চিকিৎসা কীভাবে করতে হবে জানিয়ে ডা. সালেহ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ভাইরাস জ্বরের চিকিৎসা নিতে হবে।চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নাপা খেতে পারেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবে। রক্ত পরীক্ষা না করে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকুন।’
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ডা. সালেহ বলেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, অ্যান্টিঅক্মিডেন্ট, ফলমূল, সবুজ শাকসবজি খেতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ব্যায়াম করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যোগাসন, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান করা যেতে পারে। ধূমপান, মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে। দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা শেখা জরুরি।’
এই মুহূর্তে যে জ্বরই হোক প্রতিটি ক্ষেত্রে সতর্কতা হিসেবে করোনা পরীক্ষা করতে হবে। যেহেতু অনেক সময় করোনা কোনো লক্ষণ ছাড়াই হতে পারে, তাই যেকোনো জ্বর হলেই আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ তাঁর।
পুজোর পাতে
ফিচার ডেস্ক
১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করেন কবিতা বিশ্বাস। এরপর কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। পাশাপাশি রবীন্দ্র সংগীত করছেন অনেক বছর ধরে।
পূজার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘দুর্গাপূজা আমাদের কাছে ছিলো খুব আনন্দের বিষয়। বাড়িতে বান্ধবীরা আসতো, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াতাম। তবে বড় হওয়ার পর পূজা মানেই যেন দায়িত্বপালন। তবুও সব মিলিয়ে আনন্দটা কম নয়।’ নরসিংদী শহরের মেয়ে কবিতা বিশ্বাস সাতকাহন-এর জন্য জানিয়েছেন পুজোর কিছু রেসিপি।
আলুর দম
উপকরণ
সিদ্ধ করা টুকরো আলু ৪টি, জিরা ১ চিমটি, তেজপাতা ১টি, গরম মশলা আধা চা চামচ, লবণ ও চিনি স্বাদমতো, তেল পরিমাণমতো, আদা বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ২টি হলুদ গুঁড়া ১ চিমটি ও মরিচ গুঁড়া ১ চিমটি, জিরার গুঁড়া এক চা চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে আলু টুকরো করে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এবার গরম তেলে জিরা, তেজপাতা, গরম মশলা ফোঁড়ন দিয়ে আলুর টুকরোগুলো দিয়ে দিন। আলু ভাজা হয়ে গেলে লবণ, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, কাঁচা মরিচ, আদা বাটা, ভাজা জিরার গুঁড়া দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। নামানোর আগে হালকা চিনি ও ঘি দিয়ে নামিয়ে নিন।

সবজির নবরত্ন
উপকরণ
নয় ধরনের সবজি (আলু ১টি, কাঁচ কলা ১টি, ঝিঙা বড় ১টি, বেগুণ ছোট ১টি, সিম ১০০ গ্রাম, গাজর ১টি, মিষ্টি কুমড়া ১৫০ গ্রাম, ফুলকপি ১টির অর্ধেক, পেঁপে ২০০ গ্রাম), নারকেল কুচানো ১ কাপ, তেজপাতা ১টি, শুকনা মরিচ ২টি, পাঁচফোড়ন ১ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ২/৩ টি , হলুদ গুঁড়া পরিমাণ মতো, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, চিনি স্বাদমতো।
যেভাবে তৈরি করবেন
সব সবজি একটু তেল, লবণ ও হলুদ দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এবার একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তেজপাতা, পাঁচ ফোড়ন, নারকেল কুচি দিন। একে একে এর ভেতর আদা বাটা, কাঁচা মরিচ দিয়ে একটু কষিয়ে সবজিগুলো দিয়ে দিতে হবে। সবজি হয়ে এলে ভাজা জিরার গুঁড়া, চিনি ও ঘি দিয়ে একটু দমে রেখে নামান।

ছোলার ডাল
উপকরণ
ছোলার ডাল ২৫০ গ্রাম, তেজপাতা ১টি, শুকনা মরিচ ২টি, গোটা জিরা ১চিমটি, গোটা এলাচ ২টি, দারুচিনি ১টি, নারকেল কুড়োনো আধা কাপ। আদা বাটা ১ চা চামচ, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া পরিমাণ মতো, ১ টেবিল চামচ ঘি, চিনি স্বাদমতো।
যেভাবে তৈরি করবেন
ছোলার ডাল লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে রাখতে হবে। একটা পাত্রে তেল গরম করে তাতে তেজপাতা, শুকনা মরিচ, গোটা জিরা, গরম মসলা দিতে হবে। তেল একটু ঠাণ্ডা করে তাতে আধা কাপ কুড়োনো নারকেল, আদা বাটা, হলুদ গুঁড়া, কাঁচামরিচ দিয়ে কষিয়ে সিদ্ধ ডাল দিয়ে ফুটে উঠলে চিনি, ভাজা জিরার গুঁড়া, আর চিনি দিয়ে নামিয়ে নিন।

পুজোর ছোঁয়া লাগুক প্রাণে – ২
শঙ্খধ্বণি, ঘণ্টার আওয়াজ, জবাফুল, ধুপ-ধুনোর গন্ধ, শরতের স্নিগ্ধতা, কাশফুল, দলবেঁধে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো- পূজার আমেজ তো এসবেই। ছবি : মনজুরুল আলম। মডেল : মৌসুমী হামিদ
পূজায় পেটপুজো
ফিচার ডেস্ক
ষষ্ঠী থেকে দশমী- প্রতিমা দর্শন, সাজপোশাকে নতুনত্বের পাশাপাশি খাবারেও আনা চাই বৈচিত্র্য। না হলে কী আর পূজা জমে? মন্দিরের প্রসাদ তো রয়েছেই, পাশাপাশি বাড়িতেও পূজার সময়টায় তৈরি হয় নানা রকম মিষ্টান্ন-সবজির আইটেম। পূজার সময় খাওয়া হয় এমন কিছু খাবারের রেসিপি জানিয়েছেন সরস্বতী সাহা।
পাবনার সাগরকান্দির গৃহিণী সরস্বতী সাহার নিজের বাড়িতেই পূজা হয়। তবে এবার ঢাকায় পালন করছেন দুর্গোৎসব। জানান, বাড়ির পূজার আনন্দই অন্য রকম। তবে ঢাকাতেও আনন্দ হয়। ঢাকায় যেকোনো সময় মণ্ডপে যাওয়া যায়; অনেক ধুমধাড়াক্কা হয়।
চলুন জেনে নিই রেসিপিগুলো :
১. কুমড়ো ছানার ছক্কা (৪ জনের জন্য)
উপকরণ
আলু ২টি (মাঝারি আকারের), কুমড়ো ২০০ গ্রাম, দুধ আধা কেজি, সিদ্ধ ছোলা এক মুঠো, চিনা বাদাম ১ মুঠো, জিরা আধা চা চামচ, তেজপাতা ২টি, লবণ স্বাদমতো, চিনি আধা চা চামচ, তেল ৩ টেবিল চামচ, হলুদের গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ, টমেটো ২টি, গরম মসলা- এলাচ ২টি, লবঙ্গ ২টি দারুচিনি ২ ইঞ্চি, ঘি ২ চা চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে একটি পাত্রে দুধ জ্বাল দিন। এবার দুধের বলক উঠলে লেবুর রস দিয়ে ছানা কেটে নিন। এবার আলু ও কুমড়ো ডুমো করে কেটে নিন। চুলায় একটি পাত্রে তেল গরম করে আলু ভেজে নিন। ভাজা হয়ে এলে আলু উঠিয়ে কুমড়ো ভেজে নিন। এবার তেলে আস্ত জিরা, তেজপাতার ফোঁড়ন দিন। টমেটো দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নিন। এবার গুঁড়া মসলা ও লবণপানিতে গুলে টমেটোর মধ্যে দিয়ে কষাতে থাকুন।
কষানো হয়ে এলে ভাজা আলু ও কুমড়ো ছেড়ে দিন। একটু নাড়াচাড়া করে ছানা, ছােলা, বাদাম দিয়ে দিন। আবার নেড়ে নিয়ে ২ কাপ পানি দিয়ে দিন। এবার হালকা আঁচে ঢেকে রাখুন। মাখা মাখা হয়ে এলে গরম মসলা গুঁড়া করে ছড়িয়ে দিন। সঙ্গে ঘি দিয়ে নেড়ে নিন। নামানোর আগে চিনি দিন।
২. কাকরোলের পুড়
উপকরণ
কাকরােল ৪টি, সরিষা ২ চা চামচ, টমেটো ১টি, হলুদের গুঁড়া এক চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ, লবণ স্বাদমতো, কাঁচামরিচ ৩টি, সয়াবিন তেল ১ টেবিল চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমেই কাকরোল দুই ভাগ করে কেটে নিন। এবার হালকা ভাঁপে সিদ্ধ করে নিন। এবার কাকঁরোল থেকে চামচ দিয়ে ভেতরের বিচির অংশটুকু আলাদা করে নিন। এবার সিদ্ধ বিচি, সরিষা, কাঁচা মরিচ এক সঙ্গে বেটে নিন। এবার কড়াইয়ে তেল গরম করে টমেটো ছেড়ে দিন।
একটু নাড়াচাড়া করে নিয়ে সরিষা বাটা, স্বাদমতো লবণ ও আধা কাপ পানি দিয়ে নাড়তে থাকুন। একটু মাখা মাখা হয়ে আসলে নামিয়ে নেন। এবার কাকরোলের ভেতর সরিষার পুরটুকো ভরে বেসনের ব্যাটারে চুবিয়ে তেলে ভেজে নিন। ভাজার সময় খেয়াল রাখবেন চুলার আঁচ যেন হালকা থাকে।
৩. নারকেল মোচার ঘণ্ট
উপকরণ
কলার মোচা ১টি (মাঝারি আকারের), নারকেল বাটা ১ কাপ, আলু ২টি (মাঝারি আকারের), জিরা বাটা ২ টেবিল, আদা বাটা ১ চা–চামচ, এলাচি ৪টি, দারুচিনি ৭ টুকরা, তেল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, গরম মসলার গুঁড়া ১ চা–চামচ, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা–চামচ, মরিচের গুঁড়া ৩ চা–চামচ, হলুদের গুঁড়া ২ চা–চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ ও জল আধা কাপ।
যেভাবে তৈরি করবেন
কলার মোচা বেছে কুচিয়ে নিতে হবে। এরপর জলে সিদ্ধ করে জল ফেলে হাত দিয়ে চটকে নিতে হবে। এবার কড়াইতে তেল গরম করে সব মসলা কষিয়ে নিন। এরপর নারকেল বাটা দিয়ে আবার অনেকক্ষণ কষাতে হবে।
আরেকটি কড়াইয়ে আলাদা করে আলু ভেজে রাখুন। আলু ভাজা হয়ে এলে তা নারকেল বাটার মধ্যে দিয়ে কিছু সময় কষাতে হবে। আলু কিছুটা নরম হয়ে এলে মোচা দিয়ে দিন। ১০ মিনিট নাড়াচাড়া করে আধা কাপ জল দিতে হবে। জল শুকিয়ে এলে ভাজা জিরার গুঁড়া, গরমমসলার গুঁড়া ও একটু চিনি দিয়ে নেড়েচেড়ে নিতে হবে। নামানোর আগে ঘি ঢালুন।
৪. ছানার ডালনা
উপকরণ
২ দুধ লিটার, লেবুর রস ৩ টেবিল চামচ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, চিনি ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ১ কাপ, জিরা ১ টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ ১টি, তেজপাতা ২ টি, শুকনো মরিচ ২টি, আলু মাঝারি আকারের ২টি, কাশ্মীরী মরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ,
জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, এলাচ ২টি , আদা বাটা ১চা চামচ, টমেটো কুচি ১ টি, লবণ ও চিনি স্বাদমতো।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমেই দুধ ফুটিয়ে নিয়ে লেবুর রস দিয়ে আবার নেড়ে নিন। দুধ কেটে ছানা আলাদা হয়ে এলে নামিয়ে নিন। এরপর একটি কাপড়ে রেখে ছানাটা ছেঁকে আলাদা করতে হবে। এবার ৩০ মিনিট এই কাপড়ে বেঁধে ছানা ঝুলিয়ে রাখুন।
ছানাটা একটি পাত্রে নিয়ে লবণ, চিনি, ময়দা, ১ টেবিল চামচ তেল এবং এক টেবিল চামচ ভাজা মশলা দিয়ে মাখিয়ে রাখতে হবে। মাখানো হয়ে এলে বরফি আকারে কেটে নিন। এবার কড়াইয়ে তেল গরম করে ছানা গুলো ভাজুন। একই কড়াইয়ে তেল গরম করে তেজপাতা, শুকনো মরিচ দিন। মশলা ফুটতে থাকলে এতে আলু এবং লবণ দিয়ে নেড়ে নাড়তে থাকুন। আলু ভাজা ভাজা করে নিতে হবে।
এবার ছোট একটি বাটিতে কাশ্মীরী মরিচের গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া এবং আদা বাটা নিন। এতে ২ টেবিল চামচ পানি দিন। ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এটা আলুর সঙ্গে দিয়ে দিন। নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না পর্যন্ত তেল মশলার ওপরে উঠে আসে। এবার টমেটো দিন। টমেটো নরম হয়ে এলে দেড় কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ঝোল ফুটে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এবার আলু সিদ্ধ হয়ে ঝোল ঘন হয়ে এলে এতে ছানা দিয়ে ঢেকে ৫ থেকে ৭ মিনিট রাখুন।
৫. আমড়ার চাটনি
উপকরণ
আমড়া ৪টি, খেজুর ৮টি, কিসমিশ ৫০ গ্রাম, চিনি ২০০ গ্রাম, পাঁচফোড়ন দেড় চা চামচ, লবণ স্বাদমেতা, তেল ১ টেবিল চামচ, হলুদের গুড়া ১ চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ।
যেভাবে তৈরি করবেন
আমড়া প্রথমে সিদ্ধ করে নরম করে নিন। এবার চুলায় কড়াই গরম করে তেল দিয়ে আধা চা চামচ পাঁচফোড়ন বাগার দিন। বাকি পাচফোঁড়ন কড়াইয়ে টেলে নিয়ে বেটে রাখুন। এবার পাঁচফোড়নের বাগারে একে একে আমড়া, খেজুর, কিসমিস দিয়ে দিন। একটু নেড়ে নিয়ে আড়াই কাপ পানি দিয়ে দিন। একটু বলক এলে চিনি ঢেলে দিন। এবার মাখো মাখো হয়ে এলে ওপরে পাঁচফোড়নের গুঁড়া দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা পালনে ৬ পরামর্শ
শাশ্বতী মাথিন
শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টার আওয়াজ, ধুপ-ধুনোর গন্ধ, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দেখা- পূজার আনন্দতো এতেই। তবে এবার যেহেতু করোনার মতো এক বৈশ্বিক মহামারি পার করছে গোটাবিশ্ব, তাই যেকোনো উৎসবেও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। না হলে উৎসব পরিণত হতে পারে দুর্যোগে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা পালনের কিছু পরামর্শ জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের রেজিস্ট্রার ডা. মধুসূদন মণ্ডল। আসুন জানি সেগুলো :
১. যেকোনো ধরনের ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। অঞ্জলির সময় যেহেতু অনেক ভিড় হয়, তাই সামাজিক দূরত্ব মেনে এ কাজটি করতে হবে। প্রয়োজনে অঞ্জলি দেয়ার সময় রো অ্যান্ড কলাম (row and column) পদ্ধতিতে পূজারিদের বসা বা দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে সঠিক সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা যাবে।
২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে যেন মণ্ডপে ভিড়-ভাট্টা বেশি না হয়। মণ্ডপের ব্যবস্থাপনা এভাবে করতে হবে যেন দূরত্ব বজায় রেখে পূজা করা যায় বা প্রতিমা দর্শন করা যায়।
৩. পূজা মণ্ডপের আশেপাশে সাধারণত অনেক দোকান-পাট বসে, মেলা জমে। এবার যেহেতু করোনাকাল, তাই এ ধরনের পরিবেশ এড়িয়ে যাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
৪. বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন; সঙ্গে রাখুন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। যেহেতু বৃষ্টি হচ্ছে, তাই সঙ্গে ছাতা নেয়া জরুরি। বাইরের পানি পান না করে, ঘর থেকে পানি নিয়ে যেতে পারেন।
৫. বাইরে গেলে শিশু ও প্রবীণদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা নিন। বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন। পূজা মণ্ডপে কম সময় অবস্থান করাই ভালো। কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যাগে রাখতে পারেন আগে থেকেই। যেমন : প্যারাসিটামল, উচ্চরক্তচাপের ওষুধ, বমির ওষুধ ইত্যাদি।
৬. পূজায় মিষ্টি মুখ ও বাইরের খাবারে ভুড়িভোজ স্বাভাবিক বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে, এবারের জন্য বিষয়গুলো পরিহার করা সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। নিজে নিয়ম মেনে চলুন, অন্যকেও নিয়ম মানতে উৎসাহিত করুন।
পুজোর ছোঁয়া লাগুক প্রাণে..
শঙ্খধ্বণি, ঘণ্টার আওয়াজ, জবাফুল, ধুপ-ধুনোর গন্ধ, শরতের স্নিগ্ধতা, কাশফুল, দলবেঁধে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো- পূজার আমেজ তো এসবেই।
রোদ-বৃষ্টির দিনে পুজোর সাজ
শাশ্বতী মাথিন
আগের দিনই হয়তো হয়ে গেল বৃষ্টি, আবার পরেরদিনই হয়তো রোদ উঠে গরমের তীব্রতায় ঘেমে-নেয়ে অস্থির অবস্থা। এমন আবহাওয়ার ভেতরই শুরু হতে যাচ্ছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া, নিজেকে অপরূপ করে সাজানোর পাশাপাশি প্রিয় মানুষের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো-এটাই তো পূজার আনন্দ।
পুজোর বাঁধভাঙা এই পাঁচ দিনের উৎসবে কীভাবে নিজেকে সাজাবেন, এ বিষয়ে জানিয়েছে রেড বিউটি স্যালুনের কর্ণধার আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, ’যেহেতু এই বৃষ্টি, এই গরম- তাই সাজের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।’
সাজের বেজটা হালকা রঙের হবে এবং ওয়াটার প্রুফ হলে ভালো হয়, জানিয়ে সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘মাশকারা, আইলাইনার, কাজল ওয়াটার প্রুফ ব্যবহার করতে হবে। অনেক রঙের ব্যবহার না করাই ভালো। চোখের সাজের ক্ষেত্রে হালকা টোন ব্যবহার করা যেতে পারে। গ্লিটারেরও ব্যবহার করতে পারেন। বৃষ্টি-বাদলের এই দিনে গ্লোসি ব্যবহার না করে, ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। এতে লিপস্টিক ছড়াবে কম।’
চুলের ক্ষেত্রে না ছেড়ে বেঁধে নিলে চলাচলে সুবিধা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, খুব ফ্যান্সি করে চুল না বেঁধে হাত খোপা করতে পারেন। এতে একটি ট্রেডিশনাল লুক আসবে। খোঁপায় জড়াতে পারেন ফুল।
রাতের অনুষ্ঠানে চোখে ডার্ক মেকআপ করলে লিপস্টিকের রঙ হালকা ব্যবহার করাই ভালো। কপালে টিপ পড়লে লিপস্টিক গাঢ় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এতে দেখতে বেশি ভালো লাগবে। আর টিপ পরলে এবং চোখের সাজ হালকা করলে মাঝামাঝি কোনো টোনের লিপস্টিক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি।
অমৃতা প্রীতম-এর কবিতা, পর্ব ২ : ঈদিপাস
লাইনের একপাশে রাখা আমার সকল পাপ
আর অন্যপাশে শাস্তি।
ভেবেছিলাম মায়ের দুধের ঘ্রাণ তার দুধের মতোই ভীষণ পবিত্র হবে,
কিন্তু প্রথমবারের মতো যখন আমি আমার মায়ের দুধ চাখলাম
সেই থেকে আজ অবধি আমার জিভ কলুষিত।
আমার ঠোঁট থেকে প্রথমবারের মতো অস্ফুট স্বরে যেসব কথা বের হয়েছে,
সেসবই আজ পরিণত হয়েছে নির্জলা মিথ্যায়।
রাত গভীরে মায়ের যে গর্ভ ছিল আমার একান্ত আপন,
তা আজ মিলিয়ে গেছে অন্ধকারের বুকে।
দিনের আলো কালসাপের মতো আমার দেহে এমনভাবে ছোবল মেরেছে
যে তার বিষ আমার শরীরের শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের চোখের অচেনা চাহনি দিয়ে আমি নিজের সেই চিরচেনা দৃষ্টিকে খুঁজে বেড়াই,
যে দৃষ্টি নিজেই নিজের চোখে চোখ মেলাতে আজ লজ্জা পায়।
যে দৃষ্টি স্বপ্ন দেখতে ভয় পায় আর
যে দৃষ্টি স্বপ্ন দেখতে ভয় পায় না,
সেই দৃষ্টি আমার দিকে তাকাতে অক্ষম।
হয়তো আমাকে আজীবনই অচেনা মৃতদেহের মাংসস্তূপের ভিড়ে সে ভালোবাসা খুঁজে পেতে হাতড়ে বেড়াতে হবে,
যে ভালোবাসার কথা আমি জীবনের শুরুতে শুনেছিলাম।
বৈধ ও নিষিদ্ধ সেসব মৃতদেহের ভেতর আমাকে সেই ভালোবাসার অমৃত ও নিরন্তর ডালপালা ছড়ানোর স্বাদ
খুঁজে পেতে হবে।
কী করে এমন অভিশাপ আমার কাঁধে বোঝার মতোন চেপে বসল?
লাইনের একপাশে রাখা আমার সকল পাপ
অন্যপাশে শাস্তি।
অনুবাদ : কানিজ ফাতেমা মিথিলা
অমৃতা প্রীতম : বিংশ শতকের প্রথম পাঞ্জাবি নারী কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। অথচ গুগল বা ইউটিউবে তার নাম সার্চ করলে যতটা না তার কাজ বা জীবন সম্পর্কে জানা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি জানা যায় আরেক বিখ্যাত কবি সাহির লুধিয়ানভির সঙ্গে তার প্রেমের বিষয়ে। যদিও সাহিরের প্রতি আবেগ কখনই গোপন করেননি অমৃতা; বরং সমাজের রীতিনীতি, প্রথা উপেক্ষা করে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা এই নারী নিজের প্রেমের কথা জোরের সঙ্গে প্রকাশ করে এসেছেন আজীবন।
তবে কেবল সাহিরের সঙ্গে সম্পর্ক দিয়ে বা কয়েকটা প্রেমের কবিতা দিয়ে বিচার করলে অমৃতাকে চেনা যাবে না। জানা যাবে না, কী অসাধারণ সব লেখনী তার কলম থেকে বেরিয়ে এসেছে।
১৯১৯ সালের ৩১ আগস্ট ভারতের পাঞ্জাবে (তৎকালীন পাকিস্তানের মান্দি বাহাউদ্দিন নামক স্থানে) অমৃতা প্রীতমের জন্ম। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, লোকগান, জীবনী, আত্মজীবনীসহ শতাধিক বই লিখেছেন। ভারত-পাকিস্তান ভাগের নির্মমতা নিয়ে লেখা তার কবিতা ‘আজ আখ্যা ওয়ারিশ শাহ নু’ এবং উপন্যাস ‘পিঞ্জর’ পাঠকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পায়। পিঞ্জর উপন্যাস নিয়ে পরবর্তীকালে ২০০৩ সালে পুরস্কারজয়ী সিনেমা নির্মিত হয়।
১৯৫৬ সালে প্রথম নারী হিসেবে পান সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার। এরপর পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন অসংখ্য বিদেশি পুরস্কারও। তার লেখা বই বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর দিল্লিতে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে ঘুমের ঘোরে মারা যান অমৃতা প্রীতম।
নো ব্রা ডে
ফারাহ জাবিন শাম্মী
অক্টোবর মাস স্তন ক্যানসার সচেতনার মাস। আর ১৩ অক্টোবর সারাবিশ্বে পালিত হয় ‘নো ব্রা ডে’। বিষয়টি মোটেও ফিসফিস করার মতো নয়। নো ব্রা মানে এটি নয় যে ব্রা খুলে অশ্লীলতা প্রদর্শন করা। ‘নো ব্রা ডে’র আহ্বান হলো, আপনি মাসে অন্তত একবার বক্ষবন্ধনী খুলে নিজ হাতে স্তন পরীক্ষা করুন।
সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর অসংখ্য নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সাধারণত ৪০ এর বেশি বয়সী নারীদের এ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। মরণব্যাধি স্তন ক্যানসারের লক্ষণসমূহ সম্পর্কে নারীদের সচেতন করতেই পালন করা হয় ‘নো ব্রা ডে’।
এই দিনটিতে বিশেষভাবে সকল নারীদের স্তন পরীক্ষা করানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়। এর প্রতীকী রূপে দিনটিকে বলা হয়ে থাকে নো ব্রা ডে। এই দিনে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী, সারভাইভারসহ সবাইকে আহ্বান করা হয় সারা দিন ব্রা বা অন্তর্বাস না পরেই স্বাভাবিক কাজকর্মে অংশ নিতে।
আর কেউ যদি সেটা করতে না চায় তাহলে অন্তত পার্পল রঙের পোশাক পরে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারেন।বিশ্বে প্রতি আট জন নারীর মধ্যে এক জন নারী জীবনে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। আর ক্যানসারের শেষ পরিণতি মৃত্যু- এ তো আর অজানা নয়। এ ছাড়াও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সারাক্ষণ ব্রা পরে থাকাও স্তন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। তাই এ দিনে প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ ব্রা পরার ব্যাপারে নিরোৎসাহিত করা হয়।
নারীর শরীর মানেই আকর্ষণীয় কিছু? এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে, সচেতন করতে হবে এবং তাকে সুস্থভাবে বাঁচতে দিতে হবে।


