Friday, May 29, 2026
spot_img
Home Blog Page 88

রোজায় ৬ স্বাস্থ্য সমস্যা ও প্রতিকার

ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু
রোজায় যেহেতু খাবার ও খাদ্যাভ্যাসের সময়ের পরিবর্তন আসে, তাই বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা যায়। তবে একটু সচেতন হয়ে কিছু বিষয় এড়িয়ে চললে সুস্থভাবে রোজা পালন সম্ভব। রোজার সময় হওয়া কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা এবং এর প্রতিকার জানানো হলো-

১. কোষ্ঠ্যকাঠিন্য
সারাদিন পানি পানের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রমাজান মাসে সকল রোজাদারই কম-বেশি কোষ্ঠ্যকাঠিন্যে ভোগে। আঁশযুক্ত খাবার কম খেলেও হতে পারে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য। এ থেকে রক্ষা পেতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার, যেমন- আটা, সিমের বিচি, ছোলা, শাক-সবজি, ফলমূল বেশি করে খান। চিনি, মিষ্টি ও ময়দা খাদ্যতালিকায় কম রাখুন। এসবের পরেও এই সমস্যা দূর না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লেক্সিটিভ জাতীয় ওষুধ খেতে হবে।

২. বদহজম ও বায়ু
খাবারের পরিমাণ বেশি হলে, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খেলে রোজাদারদের অনেক সময় পেট ফেঁপে যায়, পেটে শব্দ হয়, পায়ু পথে ঘন ঘন বায়ু বের হয়। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে এই রকম হতে পারে। আবার ডিম, ছোলা পেটে গ্যাস উৎপন্ন করে। তাই এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে এসব খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে প্রচুর পানি ও ফলের জুস পান করুন।

৩.মাথাব্যথা
ধূমপায়ী ও কফি পানকারীরা রমজান মাসে এগুলো গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। রমজানে ঘুমের পরিমাণ কম হয়। আবার ক্ষুধা ও পানিশুন্যতাও থাকে। এ কারণে দিনের শেষে-ইফতারের আগে, প্রচণ্ড মাথাব্যথা হতে পারে। সেই সঙ্গে থাকতে পারে বমি বমি ভাব। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে রোজা শুরুর সপ্তাহখানেক আগে থেকেই কফি- ধূমপান ত্যাগের অভ্যাস করতে হবে।

শেষ রাতে পরিমিত ও সুষম সেহেরি খান। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। রোজা রেখে রোদে বেশি ঘোরাঘুরি করবেন না। বাইরে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

৪. দুবর্লতা
সাধারণত দিনের শেষে, ইফতারের আগে রক্তচাপ কমে যাওয়ায় অনেকেই অতিরিক্ত দুবর্লতায় ভোগে। এটি প্রতিরোধে প্রচুর লবণ-পানি বা শরবত পান করুন। সেহেরি খেতে অবশ্যই ভুলবেন না।

৫. মানসিক অবসাদ
সারাদিন পানি ও খাবার না খাওয়া, ঘুমের পরিমাণ কম হওয়ার জন্য আপনি মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন। এ থেকে রক্ষা পেতে দুচিন্তা ও রাগ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। পাশাপাশি ত্যাগ করতে হবে ধূমপান।

৬. মাংসপেশির টান
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম লবণের পরিমাণ কমে গেলে মাংসপেশিতে টান পড়তে পারে। এটি প্রতিরোধে শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, দুধজাত খাবার ও খেজুর খাদ্যতালিকায় রাখুন।

লেখক
রেজিস্ট্রার, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইন্স

ইফতারে থাকুক স্বাস্থ্যকর ডিম-সালাদ

হেলেনা খান
সুস্থভাবে রোজা পালনের জন্য স্বাস্থ্যকর ইফতার খাওয়ার বিকল্প নেই। আর তাই ইফতারে ভাজাপোড়া খাবারের বদলে অবশ্যই থাকা চাই পুষ্টিকর কিছু। রোজা ভেঙে এমন খাবার খেতে হবে, যা দেহের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে, দেহেও শক্তি জোগায়। আর এই ক্ষেত্রে অন্যতম হলো, ডিমের সালাদ। চলুন জানি, ডিম-সালাদ তৈরির রেসিপি-

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

উপাদান
# সিদ্ধ ডিম ৩ টি
# মায়োনিজ আধা কাপ
# সরিষার তেল দেড় টেবিল চামচ
# পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ
# লেবুর রস দুই চা চামচ
# ধনে পাতা ও পুদিনা পাতা কুচি আধা কাপ
# লবণ স্বাদমতো

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে ডিম সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এরপর ছুরি দিয়ে কিউব করে কুসুমসহ ডিম কাটুন। এর মধ্যে একে একে মায়োনিজ, সরিষার তেল, পেঁয়াজ কুচি, লবণ, লেবুর রস, ধনে পাতা ও পুদিনা পাতা কুচি ঢালুন। এবার উপাদানগুলো ভালোভাবে মেশান। তৈরি হয়ে গেলে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ডিম-সালাদ। গার্নিসের জন্য উপরে সামান্য ধনে পাতা ছিটিয়ে দিতে পারেন।

লেখক : রন্ধনশিল্পী

পার্লার খুলে প্রথম মাসেই আয় ২ লাখ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
এইচএসসি পাশ করার পর বিয়ে হয়ে যায় মোসাম্মদ রেশমী আক্তার রীমার। এরপর দুই সন্তান হয় তাঁর। সংসার সামলে তেমন কিছু আর করা হয়ে ওঠেনি। তবে সন্তানরা যখন বড় হতে শুরু করে, ধীরে ধীরে যখন তাদের একটি জগৎ হতে থাকে, তখন খুব একা লাগে রীমার। ভাবেন, কিছু করা দরকার। এমন কিছু করতে হবে, যাতে সময়ও কাটবে এবং আয়ও হবে।

সেই ভাবনা থেকেই উজ্জ্বলায় বিউটি আর্টিস্ট হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া। বর্তমানে ঢাকার রামপুরায় একটি স্যালন রয়েছে তাঁর। প্রথম মাসেই আয় করেছেন প্রায় ২ লাখ টাকা। নিজেকে স্বাবলম্বী করেছেন, হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তা। জানান, পার্লার শুরু করার সময় খুব স্ট্রাগল করতে হয়েছে। পছন্দমতো বাসা ভাড়া পাচ্ছিলাম না। ছয় থেকে সাত মাসের মতো শুধু পার্লারের জন্য জায়গা খুঁজেছি। এক সময় মনে হচ্ছিলো আর বোধ হয় এগোতেই পারবো না। ঠিক সেই সময় একটি ভালো জায়গা পেয়ে যাই। এখানকার বাড়িওয়ালাও খুব সাহায্য করেন পার্লারটি করতে।

‘একটা সময় কিছুই করতাম না। এটা ভীষণভাবে আহত করতো। আর আমার বাবা মারা যাওয়ার পর যেন আরো অসহায় হয়ে যাই। বাবার ভীষণ আদরের ছিলাম। খুব একা লাগতো। মনে হতো কেউ আমাকে বুঝতে পারছে না। তবে এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে আমার স্বামী বেশ সাহায্য করেন। চাকরি করার ক্ষেত্রে স্বামীর আপত্তি থাকলেও ব্যবসা করার বিষয়ে তিনি আমাকে আগ্রহ দেন। তাঁর কারণেই আজ পার্লারটি দাঁড় করাতে পেরেছি। ডিগ্রি পাশও করেছি। আর ইমিলি নামে আমার একজন ভাবী রয়েছেন, যিনি আমাকে সব অবস্থাতেই সাহায্য করেছেন,’ বলছিলেন তিনি।

উজ্জ্বলা নারীকে স্বাবলম্বী করতে ভীষণভাবে সাহায্য করে জানিয়ে রীমা বলেন, ‘বিউটিফিকেশনের এ টু জেড উজ্জ্বলা থেকে শেখা যায়। এখানকার শিক্ষকরা কেবল শিক্ষক নয়, তারা বন্ধুর মতো হয়ে যায়। উজ্জ্বলা থেকে শিখেছি বলেই হয়তো স্যালন দেওয়ার প্রথম মাসেই এতো টাকা আয় করতে পেরেছি।’

বর্তমানে ব্রাইডাল মেকআপ থেকে শুরু করে হেয়ার রিবন্ডিং, হাইড্রা ফেসিয়াল সহ সব কাজই করা হয় রীমার তৈরি করা মিরর লাউঞ্জ মেকওভার অ্যান্ড স্পা পার্লারে। তাঁর তত্ত্বাবধায়নে কাজ করছেন আরো তিনজন নারী। বললেন, ‘একজন মেয়ের জন্য সংসার-সন্তান সামলে উদ্যোক্তা হওয়া খুবই ভালো উদ্যোগ। আর ঠিকমতো কাজ করতে পারলে মাসিক আয়ও ভালোই হয়। মেয়েদের যেহেতু সংসার সামলাতে হয়, পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারের বিষয়েও সচেতন হতে হয়, তাই এই পেশা বর্তমানে খুবই সময়োপযোগী।’

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৫৮তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

রোজায় বুক জ্বালাপোড়া কমবে ৫ উপায়ে

ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু

রমজান মাসে খাবারের ধরন বদলে যায়; তারতম্য ঘটে খাবার খাওয়ার সময়ে। আর এতে পাকস্থলির এসিডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বুকে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। রোজা শুরুর দিনগুলোতে যে কেউ এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।

আবার যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তারা এই সমস্যায় বেশি ভোগে। তবে কিছু বিষয় মেনে চললে এই সমস্যা থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়। আসুন জানি সেগুলো-

১. বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা প্রতিরোধে রমজান মাসে অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে সুষম খাবার খান।

২. ইফতার ও সেহরিতে ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে পারলেই উপকার। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।

৩. দুধ চা, কফি ইত্যাদি এসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে। এসব খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে ভেষজ চা খেতে পারেন।

৪. শোয়ার সময় একটু উঁচু বালিশে শোন। এতে কিছুটা আরাম পাবেন।

৫. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য অ্যান্টাসিড, অ্যান্টিহিসটামিন বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর, যেমন- ওমিপ্রাজল,
পেন্টোপ্রাজল ইত্যাদি ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্রহণ করা যেতে পারে। এসব বিষয় মেনে চললে সুস্থভাবে রোজা পালন সম্ভব।

লেখক
রেজিস্ট্রার, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইন্স

রমজানে তরমুজ কেন খাবেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

গোটাবিশ্বেই তরমুজ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। তবে এই রসালো ফলটির গুণাগুণ নিয়ে অনেকেই তেমন সচেতন নয়। তরমুজে রয়েছে ৮২ শতাংশ পানি। এতে আরো রয়েছে ভিটামিন ‘সি’। এটি দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুব উপকারী। রমজানে তরমুজ খাওয়ার উপকারিতার বিষয়ে জানিয়েছে বোলনিউজ ডটকম।

পানিশূন্যতা প্রতিরোধে
রমজানের সময় রোজার কারণে অনেকেরই পানি পান কম হয়। আর এতে ক্ষতি হয় দেহের। পানিশূন্যতা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা, অবসন্নতা, খিটখিটে মেজাজ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে তরমুজ অত্যন্ত কার্যকর ফল।

আর্দ্র রাখে
তরমুজের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি উপাদান রয়েছে। এগুলো দেহকে আর্দ্র রাখতে বা দেহের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে খুবই উপকারী। এতে ত্বকও ভালো থাকে।

তরমুজ পানিশূন্যতা প্রতিরোধে উপকারী। ছবি : সংগৃহীত
অন্যান্য ফলের তুলনায় তরমুজে কম ক্যালরি রয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

কম ক্যালরি থাকে
অন্যান্য ফলের তুলনায় তরমুজে অনেক কম ক্যালরি রয়েছে। এক কাপ তরমুজে ৪৬ ক্যালরি থাকে। অবশ্য, তরমুজের মিষ্টতা নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় পড়ে। তবে এতে থাকা চিনি তেমন ক্ষতিকর নয়। এক কাপ তরমুজে নয় গ্রাম চিনি রয়েছে। তাই এতে ওজন বেড়ে যাওয়ার তেমন ভয় নেই।

পুষ্টিগুণে ভরপুর
তরমুজে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও গুরুত্বপূর্ণ এমাইনো এসিড। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ক্যারোটিনয়েড। যেমন : বেটা কেরোটিন, লাইকোপেন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্ষতিকর ফ্রি রেডকেল থেকে দেহকে রক্ষা করে। এ ছাড়া তরমুজ হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

 খাবার ভালোভাবে হজম হতে সাহায্য করে তরমুজ। ছবি : সংগৃহীত
খাবার ভালোভাবে হজম হতে সাহায্য করে তরমুজ। ছবি : সংগৃহীত

চোখের যত্নে
এই ফলটির মধ্যে থাকা লাইকোপেন চোখকে অক্সিডেটিভ ডেমেজ ও প্রদাহ থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি বার্ধক্যের কারণে হওয়া চোখের সমস্যা- এএমডি প্রতিরোধে উপকারী।

হজম ভালো করে
তরমুজ পানি ও আঁশের মেলবন্ধনে তৈরি ফল। পানি ও আঁশ দুটোই হজম ভালোভাবে হওয়ার জন্য জরুরি। তাই রোজায় হজমের সমস্যা সমাধানে ইফতার ও সেহরির খাদ্যতালিকায় অনায়াসেই রাখতে পারেন এই মিষ্টি, উপদেয় ফলটি।

রোজা নষ্ট হবে না যে ২০ ব্যবস্থাপত্রে

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

মুসলিমের জন্য রমজানের এক মাস রোজা রাখা ফরজ। এ সময় একজন মুসলমানকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে কোনো খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় গ্রহণ এবং মুখে ওষুধপত্র খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হয়।

তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ ও ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করতেই হয়। না হলে রোগীর স্বাস্থ্য বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। আবার রোজা রাখা অবস্থায় অনেক রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার বা অপারেশনও জরুরি হয়ে পড়তে পারে।

এই সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা, ইসলামী আলেম-ওলামাদের সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, রোজা থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকটি পন্থায় ওষুধ সেবন করলে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে রোজা ঠিক থাকবে বা রোজা নষ্ট হবে না।

১. রোজা রাখা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ নেওয়া যাবে।

২. হৃদরোগীর বেলায় বুকে ব্যথা হলে নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে বা ট্যাবলেট জিহ্বার নিচে নিতে পারবেন।

৩. নারী রোগীর তলপেটে পরীক্ষার জন্য যোনিদ্বার দিয়ে ডাক্তার বা নার্স হাতের আঙ্গুল অথবা কোনো ডিভাইস প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে না। এমনকি চিকিৎসার জন্য যোনিপথে পেসারি বা কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে।

৪. মূত্রথলি পরীক্ষা বা এক্স-রে করার জন্য রোগীর প্রস্রাবের দ্বার দিয়ে ক্যাথেটার অথবা অন্য কোনো যন্ত্র প্রবেশ করালে অথবা রেডিও-ওপেক ডাই প্রবেশ করালে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৫. দাঁত তোলা, ড্রিলিং করা বা মেসওয়াক বা ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা যাবে, তাতে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে যেন এগুলো করার সময় পাকস্থলীতে থু থু বা টুথপেস্ট প্রবেশ না করে।

৬. রোগীর চামড়া, মাংস, অস্থিসন্ধি ও শিরায় ইনজেকশন দেওয়া যাবে। কিন্তু স্যালাইন, ডেক্সট্রোজ, প্রোটিন জাতীয় জিনিস ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না।

৭. যে কেউ রক্ত অন্যকে দিতে পারবেন। আবার জরুরি প্রয়োজনে নিজেও নিতে পারবেন।

৮. কোনো রোগী অক্সিজেন অথবা অজ্ঞানকারী গ্যাস (এনেসথেসিয়া) নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৯. চর্মের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে যায় এমন মলম, ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে।

১০. পরীক্ষার জন্য ব্যক্তির শরীর থেকে রক্ত নেওয়া যাবে।

১১. হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী হার্টের এনজিওগ্রাম এবং কার্ডিয়াক ক্যাথেটার করা যাবে।

১২. রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বা চিকিৎসার অংশ হিসেবে অ্যান্ডোস্কপি করলে রোজা ভাঙবে না।

১৩. মুখ পরিষ্কারের জন্য মাউথওয়াশ বা গড়গড়া বা মুখে স্প্রে জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যাবে, তবে যেন পাকস্থলীতে কোনো কিছু না যায়।

১৪. জরায়ু পরীক্ষার জন্য শরীরে হিস্টেরোস্কপি করা যাবে। এমনকি জরায়ুতে কোনো যন্ত্রপাতি বা অন্যকিছু পরীক্ষার জন্য প্রবেশ করালে রোজায় কোনো সমস্যা হবে না।

১৫. লিভার বায়োপসি অথবা অন্য কোনো অঙ্গের বায়োপসি করলে রোজা নষ্ট হবে না।

১৬. নাকে স্প্রে বা হাঁপানি রোগীর বেলায় ইনহেলার জাতীয় কিছু নিলে কোনো সমস্যা নেই।

১৭. রোগীর পায়ুপথে ইনজেকশন অথবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আঙ্গুল বা অন্য কোনো যন্ত্র প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে না।

১৮. জরুরি কোনো অপারেশন প্রয়োজন হলে রোজা রাখা অবস্থায় করা যাবে।

১৯. কিডনি অকেজো হলে রোগীর ডায়ালাইসিস করলে রোজা ভাঙবে না।

২০. পাকস্থলী পরীক্ষার জন্য গ্যাস্ট্রোস্কপি করা যাবে। তবে কোনো তরল প্রবেশ করানো যাবে না।

এই মতামতগুলো বিশ্বের ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। তাই আমাদের দেশে চিকিৎসকরা এই মতামত দিলে রোগীরা যেমন সচেতন হবে, তেমনি সঠিক নিয়মে রোজা পালন করতে পারবে।

লেখক
সাবেক চেয়ারম্যান ও ডিন
মেডিসিন অনুষদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

রোজায় দাঁত ও মুখের যত্নে জরুরি ৩ পরামর্শ

ডা. সানজিদা হোসেন পাপিয়া

রোজার সময় খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে একটি বড় পরিবর্তন আসে। রমজানে যেহেতু অনেকটা সময় না খেয়ে থাকতে হয় এবং খাবার খাওয়ার সময়েরও একটি পরিবর্তন হয়, তাই মুখ ও দাঁতের যত্নে সচেতন হওয়া জরুরি।

# রোজায় দাঁত ব্রাশ করার সময়ের পরিবর্তন হয়। আমরা সাধারণত দুইবেলা দাঁত ব্রাশ করতে বলি- সকালবেলা নাস্তার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। তবে রোজার সময় এই পদ্ধতির একটু পরিবর্তন আসে। এই সময়েও দুইবেলা দাঁত ব্রাশ করতে বলা হয়। তবে পরিবর্তন আসে সময়সূচিতে। রোজার সময় ইফতারের পর ও সেহরির আগ মুর্হূতে দাঁত ব্রাশ করে নেওয়া ভালো।

# এই সময় অনেকে দাঁত ব্রাশ করতে অস্বস্তিবোধ করে। এ ক্ষেত্রে মেসওয়াক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বিজ্ঞান সম্মত। টুথপেস্ট-ব্রাশের বদলে এটিও ব্যবহার করতে পারেন।

# পাশাপাশি রোজা ভাঙার পর ইফতার থেকে সেহরির আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। এতে মুখের দুর্গন্ধ ও অন্যান্য জটিলতা কমে।

সর্বোপরি রোজার সময় দাঁত ও মুখের যত্নে বিশেষ সতর্কতা নিতে হবে। এটি সুস্থভাবে রোজা পালনে সাহায্য করবে।

লেখক
কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন
ডিকেএমসি হসপিটাল লিমিডেট, নারায়ণগঞ্জ
ফোন : ০১৯৭১৬০০১১২, ০১৯৭১৬০০১১৩
চেম্বার : অনামিকা ডেন্টাল , ২/১ মধ্য বাসাবো, টেম্পুস্ট্যান্ড, ঢাকা ১২১৪
ফোন : ০১৯৩৩১৩৩৪৮৬

রোজা রেখেও দাঁতের যেসব চিকিৎসা করা যায়

ডা. সানজিদা হোসেন পাপিয়া

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য রমজান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এ সময় রোজা পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহ্-এর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করে। কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো রোজা ভেঙে দিতে পারে। এর মধ্যে মুখ বা দাঁতের রক্তক্ষরণ অন্যতম।

আর এই জন্য অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে, রোজা রেখে দাঁতের কোন কোন চিকিৎসাগুলো করা যাবে। এর উত্তরই জানাবো আজকের লেখায়।

রোজা রেখে দাঁত তোলার বিষয়টি না করাই ভালো। সে ক্ষেত্রে রক্ত গড়িয়ে পড়ার একটি ব্যাপার থাকে। এটি রোজা ভাঙার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খুব সমস্যা হলে ইফতারের পর রোজা ভেঙে দাঁত তুলতে পারেন। তবে কারো রুট ক্যানেল করার প্রয়োজন পড়লে, রোজা রাখা অবস্থাতেই করা যাবে। এতে তেমন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।

তবে মাড়ি দিয়ে রক্তক্ষরণ, দাঁত ব্যথা, মাড়িতে পুঁজ ইত্যাদি সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

লেখক
কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন
ডিকেএমসি হসপিটাল লিমিডেট, নারায়ণগঞ্জ
ফোন : ০১৯৭১৬০০১১২, ০১৯৭১৬০০১১৩
চেম্বার : অনামিকা ডেন্টাল , ২/১ মধ্য বাসাবো, টেম্পুস্ট্যান্ড, ঢাকা ১২১৪
ফোন : ০১৯৩৩১৩৩৪৮৬

নবজাতকের বমির কারণ, সমাধানের উপায়

ডা. আবু সাঈদ শিমুল

শিশুর বমি নিয়ে বাবা-মা প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এটা তেমন গুরুতর নয়। শিশুর পেট ভরে যাওয়ার পরও তাকে জোর করে বেশি দুধ খাইয়ে দেন অনেক মা। এ জন্য সে বমি করে।

আবার তারা যেহেতু মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না, তাই কিছু হলেই কান্না করে। গরম বা শীত লাগুক, মশা কামড়াক- যাই হোক না কেন তার বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ হলো কান্না। তবে মায়েরা সব কান্নাকেই শিশুর ক্ষুধা লেগেছে মনে করে। এতে জোর করে মুখের ভেতর স্তন পুরে দেয়। এর ফলাফল হলো বমি। অনেক সময় দেখা যায়, মায়ের দুধ খাওয়ানোর পর বাড়ির অন্য লোকজন শিশুকে আদর করছে। বেশি আদর করতে গিয়ে কেউ কেউ ঝাঁকাঝাঁকি শুরু করে। এতে শিশু বমি করে দেয়। এ জন্য বুকের দুধ খাওয়া শেষ হলে তাকে খাড়া কোলে রেখে পেটের বাতাস বের করে দিতে হবে এবং ধীরে ধীরে বিছানায় শুইয়ে দিতে হবে।

জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যে শিশু পরিমাণে কম, পানির মতো ফেনা ফেনা বমি করে। এর কারণ নবজাতকের পেটে মায়ের পেটে থাকাকালীন সময়ের পানি থাকে। আর তা অনেক সময় জন্মের পরপর বমি করে বের করে দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক-দুইবার বমি করার পর এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। মায়ের দুধ খাওয়ানোর পর কোলে নিয়ে ঢেঁকুর তোলার সময় সুস্থ শিশুও কিছুটা দুধ বমি করে ফেলে। এটি গাল বেয়ে পড়ে যায়। এটি আসলে বমি নয়। শিশু মায়ের বুকের দুধ টানার সময় বাতাসও খেয়ে ফেলে, এই বাতাস পেট থেকে বের করার সময় কিছুটা দুধ তুলে ফেলে। এটি স্বাভাবিক ব্যাপার।

অনেক সময় নবজাতক কোনো কারণে অতিরিক্ত কান্না করলে বমি করে ফেলে। এ ক্ষেত্রে শিশুর কান্না থামানোর চেষ্টা করতে হবে এবং কান্নার কারণ খুঁজতে হবে। এ ছাড়া পেটে গ্যাস জমে পেটব্যথা হলেও শিশু কান্না করে। এ সময় তাকে খাড়া কোলে রাখলে সামান্য বমি করে ফেলবে। এতে পেট থেকে বাতাস মুখ ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হয়ে যাবে এবং কিছুটা শান্ত থাকবে। এ ক্ষেত্রে সিমেথিকন ড্রপ ডাক্তারের পরামর্শে খাওয়ালে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়।

আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, কৌটা বা অন্য যে কোনো দুধ দেওয়ার পর শিশু বারবার বমি করছে। তাই ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ দিতে হবে।

কখন ভয়ের কারণ

  •  নবজাতক মায়ের দুধ না টানতে চাইলে বা অল্প টেনে বারবার বমি করলে, বমি লাল (রক্ত মেশানো) বা হলুদ (পিত্তরস মেশানো) বর্ণের হলে, সেই সঙ্গে শিশু নেতিয়ে পড়লে, জ্বর দেখা দিলে বা শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কম/ বেশি হলে, পেট ফেঁপে ওঠলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • এ ছাড়া কোনো কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মস্তিষ্কের চাপ বেড়ে গেলে, জন্মের পর শিশু না কাঁদলে, নবজাতকের ইনফেকশন বা নিওনেটাল সেপসিস কিংবা মস্তিষ্কে ইনফেকশন হলে, মেটাবলিক ডিসঅর্ডার হলেও নবজাতকের বমি হতে পারে।
  • সংখ্যায় খুব অল্প হলেও নবজাতকের পেটের অন্ত্রে কোনো জন্মগত ত্রুটির কারণে অন্ত্রের পথ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে শিশু খাওয়ার পরপরই বমি করে দেয়। এই সকল ক্ষেত্রেই তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখাতে হবে।

লেখক
শিশু বিশেষজ্ঞ
মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

রোজায় মাংসপেশিতে টান হলে করণীয়

ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু

রোজার সময় অনেকের মাংসপেশিতে টান লাগতে পারে। এই সময় অনেকেই মাংসপেশিতে ব্যথার সমস্যায় ভোগে। এটা খুবই স্বাভাবিক। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। টান বা ব্যথা আপনা আপনি সেরে যায়।

সাধারণত শরীরে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে মাংসপেশিতে টান হয়। তাই খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। শাকসবজি, ফলমূল, দুধ ও দুধজাত খাবারে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম বেশি থাকে। কলা ও ডাবের পানিতে পটাশিয়াম থাকে। খেঁজুরেও এসব খাদ্য উপাদান পাওয়া যায়। এ ধরনের খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।

মাংসপেশিতে টান লাগলে যে মাংসে টান লেগেছে তা শক্ত করুন। যেমন: পায়ের কাফ মাসলে টান লাগলে পায়ের পাতা উপরের দিকে তুলে মাংসপেশি শক্ত করুন। এবার হালকা ম্যাসেজ করুন। কিছুক্ষণ পর টান ছেড়ে দিবে। তবে ঘন ঘন এই সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক
রেজিস্ট্রার, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইন্স

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.