Sunday, September 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 89

মায়ের জন্য চিঠি

ডা. মমতাজ রহমান

মা, তোমায় নিয়ে লিখতে গেলে, দুচোখ বেয়ে নিমেষে জল গড়িয়ে পড়ে। কত বছর ‘মা’ ডাকতে পারি না। পিপাসিত ব্যথাভরা হৃদয় আমার অনাথ আশ্রয়হীন। প্রচণ্ড ঝড়ে ডানাভাঙা পাখিটির মতো এই ডাল থেকে ওই ডালে আশ্রয় খুঁজে। আর যে ডালে পা রাখি, সেই ডালটি ভেঙ্গে যায়।

তোমার বুকের মানিকটি পথে হারিয়ে আজ কাঁদছে। শুধু একবার বুকে জড়িয়ে নাও, মা। এভাবে আমার পৃথিবীকে অন্ধকার করে তুমি চলে গেলে, কে দেবে ফিরিয়ে আমার জীবনের আলো?

আমি তো তোমায় নিয়ে লিখতে চাইনি কবিতা। অশান্ত হৃদয়ে পাথর চাপা দিয়ে তৃষিত চাতকির মতো শুধু এদিকে-ওদিকে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কে আমার ঘুম ভাঙালো? আবার এই রক্তমাখা বুকে আগুণ জ্বালালো?

তুমি বিনা আমার পৃথিবী রংহীন। শুধু তোমার চরণ যুগলে একটু ঠাই চাই মা। পৃথিবীর সব কাগজ আর কালি আনলেও যে হবে না শেষ আমার এ লেখা। এক পৃথিবী ভলোবাসা যে মায়ের পায়ের নিচে, সেই মাকে আমি কেমন করে ভুলে থাকবো বলো?

রত্নগর্ভা বলতো তোমায় সকলে। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তাইতো সুদূর রাশিয়ার পথে পাড়ি জমালাম তোমার আশীষ নিয়ে। বঞ্চিত বুকের কষ্টগুলোকেও বরফচাপা দিয়ে এসেছি। বলিনি কোনোদিন, তুমি কষ্ট পাবে তাই।

তোমার জঠরে থেকে যে আমি মর্টার আর মেশিন গানের তাণ্ডবলীলা শুনেছি মা। আর, তুমি তখন হায়নাদের হাত থেকে তোমার আর আমার প্রাণ বাঁচানো নিয়ে ছুটছো নিরন্তর। গণমানুষের বিভিষিকাময় সে তাণ্ডবলীলার মাঝে বিভৎস আর বোবাকান্না যে আমিও শুনেছি মা। বাবা আমাদের প্রাণ বাচাতে যুদ্ধরত। আর, বলেছিল যুদ্ধ করবে, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত। যখন দেশ স্বাধীন হলো, জন্মদিলে, চিরদুখিনীকে কোলে তুলে দিয়ে বাবাকে বললে, ‘তোমার মানিক, তোমায় দিলাম।’

তোমাদের প্রথম ভালোবাসা, সেই আমি, তোমাদের অনেক সাধনার ধন। কিছুই দিতে পারিনি মা গো। তোমার একধার দুধ আর একফোঁটা ঘামের মূল্য দেবার সাধ্য কি রয়েছে আমার? আর যে পারছি না লিখতে বুক ফেটে যায়। তোমার চিরবিদায়ের ছবিখানি মোর কলমের পথ করেছে রূদ্ধ।

বুকের রক্তে লিখলাম তোমায় নিয়ে। ভলো থেকো আমার জননী তুমি ওপারেতে। চলে গেছো আমায় ছেড়ে।
নিষ্ঠুর পৃথিবীর বুকে ভালোবাসার যে বড়ই অভাব মা গো, ওগো মা, মা, মা।

লেখক :
কনসালটেন্ট সনোলজিস্ট,
ল্যাব এইড ক্যান্সার হসপিটাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার।

বিউটি আর্টিস্ট হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

‘আমার কাজ দেখে যখন একজন মানুষ আস্থা পায় এবং প্রসংশা করে, তখন মনে হয়, পেরেছি ও পারছি। আমি জীবনে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম, প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিলাম। তবে একজন নারী হিসেবে অনেক সময় চাকরি- সন্তান একসঙ্গে সামলানো কঠিন। তাই এই ব্যাবসাটি আমাকে দুটো সমানভাবে করতেই সাহায্য করেছে’- কথাগুলো বলছিলেন বিউটি আর্টিস্ট মাহবুবা আক্তার রুনি।

উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে মাহবুবা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে মাহবুবা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

মাহবুবা আক্তার রুনি বউটি আর্টিস্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উজ্জ্বলা থেকে কোর্স কমপ্লিট করে দিনাজপুর শহরে একটি স্যালন খুলেছেন। প্রথম মাসেই বেশ ভালো ইনকাম হয় তার। মাহবুবা বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ছিলাম। তবে কিছু জটিলতার কারণে সেই চাকরি আর করা হয়ে উঠেনি। তখন মনে হলো, কী করা যায়, যেটি থেকে আয় হবে। এ সময় ফেসবুকে উজ্জ্বলার পেজ দেখলাম। উজ্জ্বলায় যোগাযোগ করলাম। আর ছোটবেলা থেকে যেহেতু আমার মেকআপের প্রতি একটি ঝোঁক ছিল, তাই মনে হলো এই কাজটি করতে পারবো।’

উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি সোনিয়া খানের সঙ্গে মাহবুবা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি সোনিয়া খানের সঙ্গে মাহবুবা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

উজ্জ্বলার সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল, এখানে হোস্টেল রয়েছে। আমি দিনাজপুর থেকে এসে হোস্টেলে থেকে কোর্সগুলো করেছি। জায়গাটি নিরাপদ। তাই আমার পরিবার থেকেও সম্মতি দেয়- জানান মাহবুবা আক্তার।

উজ্জ্বলাতে ২০২২ সাল থেকে কোর্স করা শুরু করেন মাহবুবা। কোর্সের ফাঁকে ফাঁকেই ফ্রি ল্যান্সিং করেও আয় করতেন তিনি। বলেন, ‘উজ্জ্বলা খুব সুন্দর করে বেসিক নলেজটা দেয়। আমাকে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা করার পেছনে উজ্জ্বলার ভূমিকা এ টু জেড।’

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ভবিষ্যতে মাহবুবা আক্তার চান, যেই সার্ভিসগুলো এখনো তার শহরে আসেনি, সেগুলো তার পার্লারে শুরু করতে।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৬০তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

একা মা মনের যত্ন যেভাবে নেবেন

অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া

সিঙ্গেল মাদার বা একা মা যে একটি আত্মপরিচয় হতে পারে, তা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসচেতনতায় আসেনি। ঢাকা সিটি করপোরেশনের উপাত্ত অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ বিবাহবিচ্ছেদে স্ত্রী আবেদন করছেন। ২০১৮ সালে ঢাকা শহরে ডিভোর্সের হার প্রতি ঘণ্টায় একটি। প্রশ্ন হলো, ডিভোর্সের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব কী কী?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ৫৪ শতাংশ একা মা বিষণ্ণতার ভেতর দিয়ে যান, ২৪ শতাংশ দুশ্চিন্তায়, ৯ শতাংশ সামাজিক ভীতিতে আর ৬ শতাংশ বেশি মাত্রায় ডিসঅর্ডারে ভোগেন।

আবার যে মা এই সমস্যায় ভুগছেন না, তাঁদের মধ্যেও দেখা গেছে ৬৮ শতাংশ কাজের চাপ, ৬৭ শতাংশ অর্থনৈতিক চাপ এবং ৩৫ শতাংশকে সামাজিক অসম্মানের বোঝা ঘাড়ে নিতে হচ্ছে। এ গবেষণায় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, ২১ দশমিক ২০ শতাংশ নারী সেপারেশন নিয়েছেন স্বামীর পরকীয়া, পুনর্বিবাহের কারণে; শারীরিক নির্যাতনের কারণে ৩৪ দশমিক ৬০ শতাংশ নারীর ডিভোর্স হয়েছে এবং ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ নারীর জীবনে একাকিত্বের কারণ বৈধব্য। এই একা মায়েদের মাত্র ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ গৃহবধূ, বাকি
৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ চাকরিজীবী; অর্থাৎ অর্থনৈতিক মুক্তি মাকে স্বাবলম্বী করেছে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত এবং স্বামী থেকে আলাদা থাকেন এ রকম নারীর সংখ্যা ৯ দশমিক ১ শতাংশ হলেও ২০১৮ সালে এটা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশে। কিন্তু করোনা অতিমারি-পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা আকাশচুম্বী হয়েছে।

একজন একা মাকে মনে রাখতে হবে, তিনি ও সন্তান—দুটো বিচ্ছিন্ন সত্তা। সন্তানকে উজাড় করে সব দিতে গিয়ে তিনি কি নিজেকে বঞ্চিত করছেন? মনে রাখতে হবে, নিজের যত্ন নেওয়া মানে স্বার্থপরতা নয়।

মনের যত্ন যেভাবে নেবেন

# শিশুদের নিয়ে মাঝে মাঝে ঘুরতে যাওয়া খুবই জরুরি। এতে তারা ভিন্ন পরিবেশে কীভাবে চলতে হয়, সেটা শিখতে পারবে। বেড়াতে যাওয়া মানে টাকা নষ্ট নয়।

# ধীরে ধীরে শিশুরা যখন বড় হতে থাকবে, তখন মা এম্পটি নেস্ট সিনড্রোমে ভুগতে পারেন; অর্থাৎ তখন মায়ের নিঃসঙ্গতা বাড়তে পারে। কাজেই একা মাকে আগে থেকে বুঝতে হবে, নির্দিষ্ট সময়ের পরে তাঁর জীবনে শিশুরা আর থাকবে না। সেই জীবন কেমন হবে, তার পরিকল্পনা আগেই করে রাখা ভালো।

# মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনায় খাবার, শরীরচর্চা, কাউন্সেলিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। একা মা জানেন, তাঁর পাশে কেউ নেই।

# মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সন্তানের ভূমিকা রয়েছে। সন্তানদের এটা শেখানো প্রয়োজন যে মায়ের যখন প্রয়োজন হবে, মমতার হাত যেন তারা বাড়ায়।

# কারো ওপর নিজের ভালো থাকার দায়িত্ব না দিয়ে মায়েরা কীভাবে নিজে নিজেকে ভালো রাখতে পারেন, সে বিষয়ে ভাবতে হবে।

# প্রথম কথায় সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেবেন না। যত দিন প্রয়োজন, ভোগ করার পর আপনি মারা গেলে সন্তান সেগুলো এমনিতেই পাবে। নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহারের জন্য কিছু টাকা ব্যাংকে রাখুন। এ ছাড়া আলাদা করে দুটো ভাগে টাকাপয়সা রাখবেন। একটি ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য, অন্যটি বেড়ানোর জন্য।

# একা মায়ের নিরাপত্তা, সেবা, মানসিক স্বাস্থ্য, একাকিত্ব দূরীকরণ—এই সব কটির মিলিত প্যাকেজ হচ্ছে নিজেকে সেবামূলক কাজে জড়িত করা। এটা অনেকটা নিজের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। আজ আমি সমাজকে দিচ্ছি। ভবিষ্যতে যেদিন প্রয়োজন হবে, কেউ না কেউ সেটা আমাকে ফিরিয়ে দেবে।

লেখক : চিকিৎসক ও কাউন্সেলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, ঢাকা

৩ শারীরিক ভঙ্গী, দ্রুতই মানুষকে আকৃষ্ট করে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
কখনো কি ভেবে দেখেছেন কেন একজন বিশেষ মানুষ আপনাকে খুব আকৃষ্ট করে? তার ভেতর কী এমন রয়েছে, যার জন্য আপনি মোহগ্রস্তের মতো হয়ে পড়েন? এটি হওয়ার অন্যতম কারণ মানুষটির শারীরিক অঙ্গ-ভঙ্গী।

হয়তো তার হাসি, কথা বলার ধরন, হাত বা কাঁধ নাড়ানো ইত্যাদি কোনো একটি বিষয় সবার মাঝে তাকে আলাদা করে তোলে। এমনই কিছু শারীরিক ভঙ্গির কথা জানিয়েছে লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট ইন্ডিয়া পোর্ট। এগুলো একটু খেয়াল করলে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন সবার থেকে আলাদা ও আকর্ষণীয়।

হাসি হোক প্রাণবন্ত
আচ্ছা ভাবুন তো, কেউ মুখ-চোখ কুঁচকে আপনাকে একটা মেকি হাসি দিলেন। ভালো লাগবে? সেই মানুষটার প্রতি আগ্রহ বোধ করবেন? নিশ্চয়ই না। আসলে প্রাণবন্ত হাসি হলো, এমন একটি গুণ, যা এক মুহূর্তে অন্যের কাছে আকৃষ্ট করে তোলে। তাই, হাসুন প্রাণ খুলে।

চোখের সংযোগ
‘চোখ যে মনের কথা বলে’- প্রবাদটি নিশ্চয়ই সবারই শোনা। আসলেও তাই। নিজেকে বিশেষ করে তুলতে হলে চোখের সংযোগ খুব জরুরি। যার সঙ্গে কথা বলছেন, সরাসরি তার চোখের দিকে তাকান। এতে সেই মানুষটি আপনার প্রতি আকর্ষণ বোধ করবে। অথবা ভ্যাবাচ্যাকাও খেয়ে যেতে পারে !

মাথা নাড়ান
কারো কথা শোনার সময় আপনি যখন মাথা নাড়াবেন, তখন অপরপ্রান্তের মানুষটি বুঝবে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। আর যখনই একজন মানুষ মন খুলে কথা বলতে পারবে, তখনই সে আপনাকে আরো আপন মনে করবে। কারো জন্য খুব ভালো শ্রোতা হয়ে উঠার বিষয়টি কিন্তু আপনাকে বুদ্ধিদীপ্ত ও আরো আকর্ষণীয় করবে।

সামসুন নাহারের কবিতা ‘মা’

মা আমার স্নেহময়ী মা
তোমার কথা স্মরী দিবা রাত,
কত যত্নে রেখেছিলে গর্ভে দশ মাস।
পৃথিবীর আলো দেখাবে বলে
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে,
নানা যন্ত্রণা সয়ে লালন করেছো মোরে।

দুঃখ কষ্টের ছোয়া যেন না লাগে গায়ে
সুখ নিদ্রা ত্যাগ করে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে,
আগলে রেখেছো আমাকে বিপদ এলে ধেয়ে।

লেখাপড়া শিখিয়েছো, শিখিয়েছো
বড়দের সম্মান করতে আদর, স্নেহ
দিতে ছোটদের।

কল্যাণ অকল্যাণ সবই তোমার থেকে শেখা।
দেশকেে ভালবাসতে, মানুষকে ভালবাসতে।
তুমি শিখিয়েছো স্রষ্টার ইবাদত করতে।

তোমার দেয়া শিক্ষা যেন ভুলে না যাই
তোমাকে যেন ভালবাসি চিরকাল
এই দোয়াই চাই তোমার কাছে

তুমি ভালো থেকো, আমার মনের মাঝে
উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে
বেঁচে থাকো তুমি অনন্ত কাল ধরে।

মাহবুবা হকের কবিতা ‘মায়েদের বলছি’

মা দিবসে মায়েদের বলছি;
একটুখানি শোনেন,
মা হবার সার্টিফিকেটটা কি
রিনিউ করেছেন?

দিনে দশবার, মাসে শতবার,
বছরের হিসেব নাই
মা হবার সার্টিফিকেটটা কিন্তু
রিনিউ করা চাই।

কবে কোন দিন মা হয়েছিলেন
কে রেখেছে মনে?
আদর সোহাগ দেবেন কত
সেই হিসেবটাই গুণে।

মরণ ঘর যে ঘুরে আসলেন
জন্ম দেবার কালে
শোনে না কেউ আর এই গল্প
বস্তাপঁচা বলে।

নগদ নগদ হিসেবে এখন
দেবেন বেশি, নেবেন কম
অকাতরে বিলিয়ে দিবেন
ভালবাসা, আর কঠিন শ্রম।

লেখক : কবি ও সাহিত্যিক

আমিনুল ইসলাম তুহিনের কবিতা ‘লাভ ইউ মাদার’

0

মাথার ওপর নড়েন চড়েন
পাঁচফোড়নের ঝাঁজ,
বিটকেল আর খিটকেল দুই
প্যাঁচ পাকানো কাজ।

সকাল সাঁঝে চেঁচামেচি
গ্যালো গ্যালো রব,
পাগলা দাশু বকবকানি
মাথায় ওঠে সব।

অঙ্ক খাতায় লালকালি আর
if but-এতে ভুল,
মাইয়া মাথায় গোবর দিয়ে
ড্রেসিং করেন চুল।

“তোর একদিন নয়তো আমার”
তাতে হলোই কী,
বেগুনপোড়ায় উচ্ছে দিলো
পান্তাভাতে ঘি।

দিন রাত ওই তুর্কি নাচন
রং মাখা দুই হাত,
শান্তিতে যে নাক ডাকাব
নেই তো দুপুর রাত।

নামেও যেমন কাজেও তেমন
বাঘা তেঁতুল মেয়ে,
খিলখিলিয়ে উঠছে হেসে
“লাভ ইউ মাদার” গেয়ে।

লেখক :
কবি, লেখক, গবেষক, তথ্যচিত্র পরিচালক

মায়ের স্পর্শ শিশুর জন্য কতটা জরুরি?

ফারজানা ফাতেমা (রুমী)

ছোটবেলায় ব্যথা পেলে মা হাত বুলিয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গেই যেন ভালো হয়ে যেতো। একদম ছোট্ট শিশুদের দেখা যায় চিৎকার করে কাঁদছে, তবে মায়ের কোলে গেলেই শান্ত। মায়ের কাছে ঘুমানোর জন্য পিঠাপিঠি ভাইবোনের মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ বেঁধে যায়। আজকে তাই মায়ের স্পর্শ সম্পর্কে গবেষণা কী বলে, তা জানতে চেষ্টা করবো।

একজন মায়ের স্পর্শ শুধুমাত্র স্নেহের একটি রূপই নয়, এটি শিশুদের মানসিক বুদ্ধিমত্তাকেও বৃদ্ধি করে। কারণ, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু অন্যান্য মানুষের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করবে, তার ওপর এটি প্রভাব ফেলে।

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ পেডিয়াট্রিক্স (AAP) শিশু জন্মের প্রথম ১ ঘন্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নাম দিয়েছে। সুস্থ নবজাতককে মায়ের ত্বকের সঙ্গে রাখতে হবে। এই সময়ে, বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রথম রাউন্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। গোল্ডেন আওয়ারে এবং আগামী দিনে স্কিন-টু-স্কিন কন্টাক্ট (SSC) মা ও শিশু উভয়ের জন্যই উপকারী।

স্পর্শ একটি অবিচ্ছেদ্য ইন্দ্রিয়। এটি আমাদের বিশ্বকে অনুভব করতে সহায়তা করে। বিজ্ঞান লেখক লিডিয়া ডেনওয়ার্থ বলেন, ‘স্পর্শ হলো জরায়ুতে উদ্ভূত প্রথম ইন্দ্রিয় এবং এটি জন্মের সময় সবচেয়ে শক্তিশালী ইন্দ্রিয়।’

এটি হলো প্রথম ইন্দ্রিয়, যা নবজাতকের জন্মের সাত দশমিক পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে বিকাশ লাভ করে। আপনার শিশু প্রথমে তাদের ঠোঁট ও নাকের স্পর্শ অনুভব করতে পারে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত মনোবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মনোবিজ্ঞানী ইতাবিলিয়ানা হাদিউইজোজো বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে মায়ের স্পর্শের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সেরিব্রাল কর্টেক্সের ওপর জেনস ব্রাউয়ার, অ্যানেট স্কিমার এবং তাদের সহকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত গবেষণার একটি সেট প্রমাণ করেছে যে মায়ের কাছ থেকে শারীরিক স্পর্শ অনুভব করার সময় শিশুর ‘সামাজিক মস্তিষ্ক’ আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করে। এটি স্নায়ু তন্তু ও স্পর্শকাতর অনুষঙ্গের মাধ্যমে সন্তানের মস্তিষ্কে পৌঁছাবে। এইভাবে একটি হরমোন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা শিশুর ‘সামাজিক মস্তিষ্ক’-কে প্রভাবিত করে।

যেসব শিশু মায়ের স্পর্শে বেড়ে ওঠে, তাদের অন্যদের মানসিক অবস্থা বোঝার ক্ষমতা বেশি থাকে, যারা খুব কমই মায়ের কাছ থেকে এটি পায় তাদের তুলনায়। গবেষক অ্যানেট স্কিমারও জার্নালে বলেছেন, মায়ের স্পর্শের উপকারিতা স্থায়ী। শিশুদের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় দুই বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত।

ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি, মন্ট্রিল, কানাডার গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, মায়ের স্পর্শ সময়ের আগে জন্মানো অপরিপক্ক/ প্রিম্যাচিউর শিশুদের জন্যও উপকারী। এটি ব্যথা উপশম হিসেবে কাজ করতে পারে এবং তাদের বিকাশকে অপ্টিমাইজ করতে সাহায্য করতে পারে।

অতএব, আপনি মা হলে বেশি বেশি আপনার সন্তানকে স্পর্শ করুন, জড়িয়ে ধরুন। আর আপনার যে কোনো শারীরিক, মানসিক সমস্যায় আপনার মাকে জড়িয়ে ধরুন। দেখবেন অক্সিটোসিন হরমোন যাদুর মতো আপনাকে কতটা প্রশান্তি এনে দিবে। মায়ের ভালবাসায় শিক্ত থাকুক পৃথিবীর সকল সন্তান। সুখে থাকুক সকল মায়েরা। ‘মা’ দিবসের শুভেচ্ছা সকল মায়েদের।

লেখক :
মনোবিজ্ঞানী, মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইডার। আজীবন সদস্য- বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতি।
প্রতিষ্ঠাতা- সোনারতরী শিশু কিশোর

রুদ্র হকের কবিতা ‘নিমজ্জন’

0

আমিতো ডুবে যাচ্ছিরে
ওপরে জ্বলজ্বল জ্বলে যাচ্ছে সূর্যটা
হাওয়ায় উড়ে ফিরছে হাওয়া
মেঘের অধিক ছায়া ফেলছে চিল

সমস্ত জলে একা-
একা একা স্টিমার ফিরছে দূর হতে

আর সকল ঘূর্ণন
সবুজ গাছে, বুড়ো ঘুঘুর কান্নাসমেত
কেবল এইখানে ঘুরে ঘুরে মরে যাচ্ছে

অতলের খুব কাছে এসে
বার্তা আসে..

এর’চে তন্দ্রার ভিতর যে দুপুর
মরে যেতে বসেছিল
তার সাথে রঙিন পতঙ্গের মতো
দলবেঁধে উড়ে যাওয়া
ভালো ছিল…

ঘোলা শব্দের ভিতর কলহধ্বনির মতো
শুনতে পাই

মা ডাকছে…হাবিব! হাবিব!

লেখক : কবি ও সাংবাদিক

সোমা তাহেরা চৌধুরীর কবিতা ‘মাগো আমার মা’

ধ্রুবতারাটি তুমি মাগো, পথের দিশা দাও,
মাগো তুমি আমার মাঝে নিত্য জেগে রও।
সকল তারার জায়গা বদল রাত্রি অমানিশা,
স্থির তুমি একই স্থানে, নাবিক যে পায় দিশা।

খুব কষ্টে আঁধারে তুমি সন্ধ্যাতারার আলো
দুঃখের কালো অন্ধকারে প্রদীপখানি জ্বালো।
সুখের দিনে আড়ালে তুমি শুকতারাটি হয়ে
দিনের আলোর মাঝে রাখো নিজেরে লুকিয়ে।

মনে পড়ে শিশু বেলাতে ছোট্ট দুইটি হাতে
আপনের চেয়ে আপন তোমায় চেয়েছি ছুঁয়ে যেতে।
তোমার কাছেই কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারণ,
গভীর মমতাময়ী মাগো তুমিই আপনজন।
সুখ-দুঃখ বেদনাভারে তোমার আঁচল ছায়া
শান্তি পরশ দেয় বুলিয়ে জুড়িয়ে সকল জ্বালা।

মাগো, তুমি আমার দৃষ্টি থেকে আড়াল হয়ো না,
মাগো, তুমি আমার কাছে থেকে দূরে যেয়ো না।

লেখক : কথা সাহিত্যিক, শিক্ষক ও সমাজসেবক

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.