Thursday, September 24, 2026
spot_img
Home Blog Page 8

দাঁত নড়ে যাওয়ার কারণ কী?

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

বয়স হলেই কি দাঁত নড়ে যায়? তাহলে তো সব প্রবীণ এটি ছাড়া থাকতেন। আবার ছোটদের দুধ দাঁত নির্দিষ্ট সময় পর নড়ে গিয়ে পড়ে যায়- এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে স্থায়ীভাবে ওঠার পর নড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়।

আসলে কিছু না কিছু অস্বাভাবিক কারণে স্থায়ী দাঁত পড়ে যায়। তবে সঠিকভাবে যত্ন নিলে বা পরিচর্যা করলে মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখা সম্ভব। দাঁত নড়ে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। চলুন জানি-

ধারক কলাতে প্রদাহ
প্রতিটি দাঁত মাড়ি ও চোয়ালের হাড়ের সাহায্যে নিজ অবস্থানে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে। সঠিক উপায়ে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করলে অথবা যাদের দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকে, তারা ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার না করলে ধীরে ধীরে ধারক কলাতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি উল্টোদিক দিয়েও ঘটতে পারে। যেমন, কোনো আক্রান্ত দাঁতের সংক্রমণ মধ্যকার মজ্জাকে নষ্ট করে চোয়ালের হাড়ের মধ্যে প্রবেশ করে। এটি থেকে প্রদাহ, সিস্ট বা টিউমার হতে পারে। এতে ধারক কলা নষ্ট হয়ে দাঁত নড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আঘাত
দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষ থেকে মুখে আঘাত পেলে দাঁত নড়ে যেতে পারে। যেমন: সড়ক দুর্ঘটনা থেকে, বাসায় ছোট শিশুরা অনেক সময় একে অপরকে আঘাত করে- এটি থেকে, খেলার সময় পড়ে গিয়ে, ক্রিকেট খেলার সময় মাউথ গার্ড ব্যবহার না করে, জোরে শক্ত কোনো কিছু কামড় দিলে ইত্যাদি কারণে দাঁত নড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হরমোনের প্রভাব
প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্যের কারণে গর্ভাবস্থা ও মেনোপোজের সময় হাড় ক্ষয় হয়ে দাঁত নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।

অসম কামড়
অনেকের অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাঁতে দাঁত ঘসা বা কামড়াবার বদভ্যাস রয়েছে। একে ব্রুকসিজম বলে। আবার অনেকের দাঁত এলোমেলো, উঁচু-নিচু বা বাঁকা। এসব ক্ষেত্রে এই অঙ্গটি পরিষ্কার রাখা কষ্টসাধ্য।

আঁকা-বাঁকা হওয়ার কারণে কোনো কোনো দাঁতে অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে দাঁত নড়তে পারে।

হাড় ক্ষয় রোগ
অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ঘনত্ব কমে হাড় ক্ষয় রোগ হয়। ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতায়ও এই সমস্যা ঘটে। এটি দেহের সব হাড়কেই দুর্বল করে। তখন চোয়ালের হাড়ও ক্ষয় হয়ে দাঁত নড়ে যায়।

ভুল চিকিৎসা থেকে
দেশে ১৩ হাজারের মতো অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসক রয়েছেন। তবে অগণিত ভুয়া চিকিৎসক অবৈধভাবে আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। ভুল চিকিৎসার কারণেও দাঁত নড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অন্যান্য রোগ
শারীরিক দীর্ঘমেয়াদে রোগ, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব, অতিরিক্ত রক্ত স্বল্পতা ইত্যাদি কারণে দাঁত নড়তে পারে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার ধূমপানও দাঁত নড়ার একটি বড় কারণ।

লেখক: রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান
রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড, পান্থপথ
০১৯১১৩৮৭২৯১

সন্তানপ্রত্যাশীরা ওজন কমাতে চার বিষয় মনে রাখুন

রফিক-উল-আলম

‘ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলিং অ্যান্ড গাইডেন্স বা বন্ধ্যত্বরোধে পরামর্শ’ সেশনে বসে প্রায় প্রতিদিনই অনেককে তাদের ‘ওয়েট ম্যানেজমেন্ট’ বা ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে হয়।

আর বলা মাত্রই প্রায় প্রত্যেকেই একেবারে গালভরে বলে ওঠে, ‘ওজন কমাতে চেষ্টা করছি স্যার, খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছি।’ কেউবা পরম আত্মতুষ্টির সঙ্গে গাল ফুলিয়ে বলে, ‘আমি ডায়েট করছি, স্যার।’ কী করে বোঝাই ওদের, ‘ডায়েট’ মানেই না খেয়ে থাকা নয়? ‘ওয়েট ম্যানেজমেন্ট’ মানেই ইউটিউব ঘেঁটে নানা টোটকা-টিপস নিয়ে ‘জিরো ফিগারে’ যাওয়া নয়।

মনের গভীরে ঢুকিয়ে রাখতে হবে ডায়েট ও ওজন নিয়ন্ত্রণ আসলে শারীরিক, অভ্যাসগত ও মানসিক প্রক্রিয়া। সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট জীবনযাপন অনুসরণ করে বয়স, উচ্চতা ও লিঙ্গভেদে একটি প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যকর ওজনে পৌঁছানো যায়। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত চর্চার মাধ্যমে তা মেনে চলাই হলো ওয়েট ম্যানেজমেন্ট বা প্রকৃত ডায়েট।

যারা সন্তানপ্রত্যাশী বা ইনফার্টিলিটিতে ভুগছেন, সবার জন্যই এই ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

তাই বলব, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে একেবারে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ না করে বা মনগড়া কিছু পন্থা অবলম্বন না করে বা ইন্টারনেট ও চ্যাটজিপিটির বিদ্যা না ফলিয়ে বরং সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের সহায়তা নিন। জানবেন, না বুঝে নিজে নিজে কেরামতির কারণেই হয়তো আজও আপনি ঝুলছেন; কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছেন না।

অনেক সময় দেখা যায়, নিজে নিজে ভুলভাল ডায়েট চার্ট অনুসরণ করার কারণে গর্ভধারণ করলেও শিশুর হার্টবিট পাওয়া যায় না, ব্লাইটেড ওভামসহ নানাভাবে গর্ভপাত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

তাই সন্তানপ্রত্যাশীদের ওজন কমাতে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা। আসুন, জানি সেগুলো–

১. নিজের আদর্শ বিএমআই (বডিমাস ইনডেক্স) সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকেই শুধু নিজের ওজন কমানো বা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়ে থাকে। ব্যক্তি হিসেবে সে কম ওজনে, নাকি বেশি ওজনে রয়েছে– কিছুই বোঝে না। অথচ দুটোই ক্ষতিকর, গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অন্তরায়।

২. সবচেয়ে বড় ব্যাপার, সাধারণত যারা খাওয়া কমিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, তারা বেশির ভাগই নিজেদের নিউট্রিয়েন্ট রিকুয়ারমেন্টস (Nutrient Requirements) বা পুষ্টির চাহিদার দিকে একটুও খেয়াল করেন না। অথচ নিজের শরীরের জন্য, ডিম বড় হ্ওয়ার (ম্যাচিউরেশন) জন্য, ডিম্বস্ফুটনের (ওভ্যুলেশন) জন্য দেহে ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়োডিন, আয়রন, জিংক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’, ভিটামিন ‘বি- ৬’, ভিটামিন ‘বি-১২’, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন ও ফাইবারসহ নানা মিনারেল বা খনিজ পদার্থের প্রয়ােজন।

কখনও কি ভেবেছেন, প্রতিদিন যা খাচ্ছেন তার মধ্যে এসব পুষ্টিগত উপাদান রয়েছে কিনা? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, একদমই নেই। অর্থাৎ ওজন কমাতে গিয়ে অনেকে নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ থেকে বহুদূরে চলে যাচ্ছেন, বরং নিজের ক্ষতি করছেন।

৩. কাউকে কাউকে দেখি, নিজেদের নিয়মে ওজন কমাতে গিয়ে বীভৎস চেহারা বানিয়ে ফেলেছেন। অর্থাৎ এটিও শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত করারই ফল। এতে আপনার শরীর ভেঙে পড়ছে।

৪. কেউ বা ইউটিউব বা অনলাইনে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট ও ওজন কমানোর ওষুধসহ বিভিন্ন জিনিস খেয়ে থাকেন। মনে রাখতে হবে, এসব সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ ওজন কমিয়ে দিলেও তা এক বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকি। এগুলো সাধারণত অন্য ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে কি ওজন কমানোর জন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যাবে না? নিশ্চয় যাবে। ওজন কমানোর জন্য উপযুক্ত ফুড সাপ্লিমেন্টও পাওয়া যায়। তবে এগুলো শুধু সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের পরামর্শ ও সহায়তা নিয়েই গ্রহণ করতে হবে।

সন্তানপ্রত্যাশীদের ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিলে একদিকে যেমন নিয়ম অনুযায়ী ওজন কমিয়ে গর্ভধারণ করার পথ সুগম হয়, তেমনি যারা শুধু সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ওজন কমাতে চান, তারাও তাদের রূপ ও ত্বকের লাবণ্য বজায় রেখে দিব্যি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে পারেন।

লেখক: কনসালট্যান্ট; আইভিএফ অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলর;
ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা
ফোন: ০১৬৮৪৩৪২৪৪৯

মানসিক চাপ থেকে পাঁচ ক্ষতি

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বর্তমান জীবনের ব্যস্ততা, টিকে থাকার লড়াই ও বস্তুবাদী সমাজের গতি কখনোই সম্পূর্ণভাবে চাপহীন বা ঝামেলামুক্ত হতে দেয় না। এখানে বেশিরভাগ মানুষই ইঁদুর দৌড়ে ব্যস্ত। আর এসব থেকে তৈরি হয় ভীষণ মানসিক চাপ; কখনো সেটা আসে নিরবে, কখনো সরবে।

এই চাপ দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাঁধিয়ে দেয় জটিল রোগ। মানসিক চাপের কারণে হওয়া দেহ ও মনের পাঁচ ক্ষতির কথা জানিয়েছে ‘লাইফ লেসনস বাই বো’।

দুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত চিন্তা
মানসিক চাপের সময় দেহ ‘সারভাইভাল মুড’- এ চলে যায়। অর্থাৎ কেবল নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার বা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে লড়তে থাকে। এই কারণে দেহ করটিলস ও অ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।

এসব হরমোন আমাদের আবেগকে ভারসাম্যহীন করে। এতে দুশ্চিন্তা, বাড়তি চিন্তা, আত্ম সন্দেহ, অযথা বিরক্তি, অবসাদ ইত্যাদি ঘটে। মূলত, মানসিক চাপের কারণে চিন্তাশক্তি পরিষ্কার থাকে না; মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে ইমপালসিভ আচরণ বা হঠাৎ ভুলভাল কিছু করে ফেলে।

ব্যথা ও অবসাদ
মানসিক চাপ যে শুধু মনের ক্ষতি করে, সেটা একদমই নয়। এর বেশ বাজে প্রভাব পড়ে আমাদের সম্পূর্ণ দেহে। অতিরিক্ত চাপের কারণে কাঁধের পেশি আঁটসাঁট হওয়া, ছোট শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যা ঘটে। আর চাপ দীর্ঘমেয়াদে হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ক্লান্তি, অবসাদ, হাঁসফাঁস লাগা, হজমে সমস্যা ও ঘুমে অসুবিধা হয়। এমনকি সারারাত ঘুমের পরও সকালে উঠে ক্লান্ত লাগতে পারে।

আবেগীয় বিচ্ছিন্নতা
খুব চাপের মধ্যে থাকলে অনেক সময় মানুষ আবেগীয়ভাবে নিরব বা মৌন হয়ে পড়ে। আগে যেসব কাজে আগ্রহ লাগতো, সেগুলো করায় অনিহা চলে আসে। এমনকি পছন্দের মানুষের কাছ থেকে নিজেকে একা করে ফেলার প্রবণতাও অস্বাভাবিক নয়। আসলে অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে উদ্বেগ, অবসাদ ও বিষণ্ণতার মতো সমস্যাগুলো ঘটে।

আচরণগত পরিবর্তন
চাপ সহ্য করার বিষয়টি ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে অনেকের মধ্যেই অ্যাভোয়েড করার প্রবণতা বা এড়িয়ে যাওয়া বা পালানোর ইচ্ছা তৈরি হয়। যেমন: পরিকল্পনা করে সেটা পালন না করা, ফোন কল না ধরা, কাজে গড়িমসি করা ইত্যাদি।

আবার অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশিক্ষণ থাকা বা বেশি খাওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়। এসব কাজ শুরুতে কিছুটা স্বস্তি দিলেও পরবর্তী সময়ে অবস্থাকে আরো খারাপ করে তুলতে পারে।

নিঃশেষিত বোধ করা ও আনন্দ কমে যাওয়া
প্রতিদিনই চাপের মধ্যে থাকলে এটি কাজের গতিকে নষ্ট করে দেয়। অনুপ্রাণিত হওয়ার বদলে কেবল টিকে থাকার জন্য মানুষ কাজ করে যায়। এই অবস্থা ধীরে ধীরে মানসিক শান্তি ও আনন্দকে নষ্ট করে; স্বস্তি কমে যায়।

এসব ক্ষতি থেকে বাঁচতে এবং মানসিক চাপ কমাতে প্রথম পদক্ষেপ হলো, সচেতন হওয়া। নিজের মনের যত্ন নেওয়া। আপনার শরীর ও মন খুব চাপের মধ্যে পড়ছে মনে হলে নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিন। কোনো কিছু থেকে ডিসট্র্যাক্ট হওয়া বা বিক্ষিপ্ত হওয়া বা পালানোর বদলে নিজেকে সময় দিন। ‘মি টাইম’ বা ‘নিজের সময়’ কাটান। ব্যায়াম করুন, চিন্তাগুলো লিখে ফেলুন। এ ছাড়া ধ্যান, বিশ্বস্ত কারো সঙ্গে কথা বলা, প্রকৃতির কাছে যাওয়া, প্রার্থনা ইত্যাদিও বেশ কাজে দিতে পারে এই সময়টায়।

শীতে ত্বকের যত্নে এড়িয়ে চলুন পাঁচ বিষয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

শীত মানেই ত্বকের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার সময়। না হলে, ত্বক হয়ে পড়বে শুষ্ক, মলিন ও প্রাণহীন। শীতে অনেকেই এমন কিছু কাজ করে, যা দেহের জন্য সঠিক নয়। এসব বিষয় এড়িয়ে গেলে ত্বক অনেকটাই সুস্থ থাকবে।

শীতে ত্বকের যত্নে এড়িয়ে যাওয়া ভালো এমন কিছু বিষয়ের কথা জানিয়েছে বি বিউটিফুল। চলুন জানি-

পানি কম পান করা
শীত আসলে অনেকেরই পানি পানের প্রতি একটা অনীহা চলে আসে। এটা ত্বকের জন্য তো বটেই, সারা শরীরের জন্যও ক্ষতিকর। তাই, গরমের দিনের মতো শীতেও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।

খাদ্যাভ্যাসে অসচেতনতা
শীতে অনেকেই তেল-চর্বি দিয়ে রান্না করা ভারী খাবারগুলো খেতে পছন্দ করে। তবে এতে কিন্তু ত্বকের ওপর বাজে প্রভাব পড়ে। এর বদলে স্বাস্থ্যকর চর্বি খান। যেমন: ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার (মাছ, বাদাম ও বীজ ইত্যাদি)।

ফ্যাস প্যাক ব্যবহার না করা
শীতের সময়টায় অনেকেই ফেস প্যাক ব্যবহার করে না। এই সময় এমন ফেস প্যাক ব্যবহার করুন, যা ত্বককে আরাম দেবে। মধু, অ্যালোভেরা ও ওটমিলের তৈরি মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। এসব উপাদান ত্বককে নরম করে।

অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল
শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল আরামের। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার ত্বকের প্রাকৃতিক তেলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল ভালো।

সম্পূর্ণ শরীরের ত্বকের যত্ন না নেওয়া
অনেকে কেবল মুখেরই যত্ন নেয়। সম্পূর্ণ শরীরের ত্বকের প্রতি অবহেলা করে। এটা সঠিক নয়। সম্পূর্ণ দেহের ত্বকের যত্নও জরুরি। এই ক্ষেত্রে লোশন, বডি ওয়েল ইত্যাদি হতে পারে সেরা পছন্দ।

ছাতু খাওয়ার ভালো-মন্দ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ভাজা ডাল ও শস্যদানার মিহি গুঁড়া হলো ছাতু। এটি অনেকটা ময়দার মতো। সাধারণত এটি তৈরি করা হয় যব, ভাজা ছোলা ও অন্যান্য শস্যদানাকে গুঁড়া করে।

ছাতুতে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ প্রোটিন, আঁশ ও কমপ্লেক্স কার্বােহাইড্রেট ইত্যাদি। এটি খাওয়ার উপকারী দিক যেমন আছে, তেমনি রয়েছে কিছু অসুবিধাও। ছাতু খাওয়ার ভালো-মন্দের বিষয়ে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

পুষ্টিগুণে ভরপুর
ছাতু পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি। তাই ছাতু খেলে এসব উপাদানগুলোর উপকারও আপনি পেয়ে যাবেন।

হজমের জন্য ভালো
ছাতুতে থাকা আঁশ হজমের জন্য ভালো। এটি কোষ্টকাঠিন্য ও এসিডিটি কমায়, পেট পরিষ্কার রাখে। তাই খাদ্যতালিকায় এই খাবারটি রাখতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ছাতু হলো লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স জাতীয় খাবার। এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর জন্য উপকারী। এটি রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণ করে; পাশাপাশি রক্তচাপ ঠিকঠাক রাখে এবং কোলেস্টেরল কমায়।

ওজন কমায়
আপনি ওজন কমাতে চাইলে খালি পেটে ছাতু খাওয়া শুরু করতে পারেন। এটি অনেকক্ষণ পেট ভরা অনুভূত করায়; পাশাপাশি মেটাবলিজম বাড়ায় এবং দেহের ক্যালরি পোড়ায়।

ছাতু খাওয়ার ক্ষতিকর দিক
তবে আপনি অতিরিক্ত ছাতু খেয়ে ফেললে সেটি হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে পাকস্থলীতে গ্যাস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই পরিমিত পরিমাণে ছাতু খান। আবার যাদের গল ব্লাডারে পাথরের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও ছাতু এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। না হলে, সমস্যা বাড়তে পারে।

মোদ্দাকথা, যেকোনো খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন এবং দেহের অবস্থা বুঝে গ্রহণ করুন।

‘সেলফ লাভ’ কী? চর্চা করবেন যেভাবে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

কখনও কি নিজের গায়ে আলতো করে ছুঁয়ে বা নিজেকে জড়িয়ে ধরে বলেছেন, ‘আমি আমাকে ভালোবাসি?’ অন্যকে তো ভালোবাসা হয়ই, তবে সেই প্রেমটা কি নিজেকে কখনও করেছেন? করে থাকলে বেশ ভালো। নিজেকে ভালোবাসা বা সেলফ লাভ খুবই জরুরি।

সেলফ লাভ বা আত্মপ্রেম বা নিজের প্রতি ভালোবাসা এমন একটি বিষয়, যা আসে এক্সসেপ্ট বা গ্রহণ করার মাধ্যমে। নিজের ভালোটা বোঝা, গুরুত্ব জানা, নিজের প্রতি দয়ালু হওয়া এবং নিজেকে সহযোগিতা করা, এমনকি কঠিন মুহূর্তেও বলা ‘আমি আমার সঙ্গে রয়েছি’। এসবই সেলফ লাভের অংশ।

আসলে আমাদের সমাজে নিজের প্রতি ভালোবাসাকে অনেকে স্বার্থপরতা ভাবে। তবে দুটো বিষয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য রয়েছে। সেলফ লাভ হলো অন্যের ক্ষতি না করে নিজের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। আরেকটু খোলাসা করে বললে, নিজেকে ক্ষমা করা, নিজের সঙ্গে ইতিবাচক কথা বলা, নিজের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের প্রয়োজনগুলো বোঝা ইত্যাদি।

সেলফ লাভের চর্চা যেভাবে করবেন

নিজের যত্ন নিন
বেশ সচেতন হয়ে নিজের শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান, নিজের চিন্তাগুলো লিখে ফেলা ইত্যাদি সহযোগিতা করবে।

দেয়াল তৈরি করুন
‘না’ বলতে শিখুন। যেসব বিষয় আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, নিজের শক্তি ক্ষয় করে সেখানে ‘না’ বলুন। মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এই দেয়াল তোলাটা জরুরি।

নিজেকে দয়া করুন
নিজের প্রতি দয়াবান হন, বিশেষ করে কোনো ভুল করে ফেললে তখন। ইচ্ছাকৃত ভুল সঠিক নয়। তবে অজান্তে ত্রুটি হয়ে গেলে নিজেকে ক্ষমা করুন। আত্মসমালোচনা অবশ্যই ভালো। তবে সেটি মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

নেতিবাচক কথা বলা বন্ধ করুন
অনেকেই নিজের সঙ্গে সারাক্ষণ নেতিবাচক কথা বলে। ‘আমি পারব না’, ‘আমাকে দিয়ে হবে না’ ইত্যাদি কথা আপনারই ক্ষতি করবে। এর বদলে নিজের সঙ্গে ইতিবাচক কথা বলুন। নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলুন।

নিজেকে জানুন ও গ্রহণ করুন
নিজের সঙ্গে সময় কাটান; নিজেকে গভীরভাবে জানুন। আবেগগুলো বোঝার চেষ্টা করুন। কোন বিষয়ে আপনি রেগে যাচ্ছেন বা কষ্ট পাচ্ছেন বা আনন্দিত হচ্ছেন, ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। সে অনুযায়ী নিজেকে সামলান। প্রয়োজন হলে কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন।

নিজেকে সমৃদ্ধ করুন
এমন কাজে যুক্ত হন, যা আপনাকে সমৃদ্ধ করবে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নের কোর্স করতে পারেন। এমন কিছু করুন, যা আপনার দক্ষতা বাড়াবে এবং টাকাও আয় হবে।

ছোট অর্জনও উদযাপন করুন
ছোট ছোট অর্জনও উদযাপন করুন। আপনি যে কাজই করেন না কেন, এর ছোট সফলতাকেও মূল্যায়ন করা জরুরি। এভাবে একটু একটু করেই মানুষ বড় অর্জনের দিকে এগোয়। পিঠ চাপড়ে নিজেকে বলুন, ‘বাহ্, তুমি তো পারছ’– এটুকু স্বীকারোক্তিই আপনাকে সাহায্য করবে বড় পথ পার হওয়ার জন্য।

সূত্র: ওয়ান্ডারমাইন্ড

শরীরের ওজনের সঙ্গে বন্ধত্যের সম্পর্ক কী?

রফিক- উল- আলম

ওজনের সঙ্গে আবার সন্তান হওয়া-না হওয়ার সম্পর্ক কী? প্রায়শই আমার চেম্বারে বন্ধ্যত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে আসা একশ্রেণির রোগীদের কাছ থেকে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হই।

অনেকেই তাদের সন্তান হতে সমস্যা হওয়ার ক্ষেত্রে ওজনের বিষয়টি কেনো যেনো মেনে নিতে পারে না। মূলত, এই বিষয়ে অজ্ঞতা ও অসচেতনা থেকেই এমন ধারণার উৎপত্তি। অথচ বন্ধ্যত্ব বা ইনফার্টিলিটির সঙ্গে ওজনের এক নিবিড় ও নীরব সম্পর্ক রয়েছে। যদিও প্রায়শই এটি উপেক্ষিত হয়।

কম ওজন (Under Weight) যেমন সন্তান না হওয়া বিলম্বিত করে, ঠিক তেমনি অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতা (Over Weight – Obesity) একটি বিরাট প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। আর তা শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং নারী-পুরুষ উভয়ের বেলাতেই।

কোনো বৈজ্ঞানিক বিদ্যা জাহির না করে সকলের বোঝার জন্য খুব সহজ ভাষায় ছোট্ট করেই বলবো, ফার্টিলিটি বা গর্ভধারণের জন্য যেসব প্রয়োজনীয় হরমোনগুলো রয়েছে, সেগুলো কম ওজন বা অতিরিক্ত ওজনের মেয়েদের বেলায় অনেক সময় ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এতে সন্তান ধারণের অতি পূর্বশর্ত ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফুটনে বাধার সৃষ্টি হয়। ডেকে আনে বন্ধ্যত্ব।

অতিরিক্ত ওজন ডিম্বাণুর গুণগত মান কমিয়ে দেয়, ডিম্ব প্রতিস্থাপিত ঘটাতে (Implantation) ব্যর্থ হয়, এমনকি ক্রুটিপূর্ণ গর্ভধারণ ডেকে আনাসহ গর্ভপাতের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর যাদের পিসিওএস ও পিসিওডি রয়েছে, তাদের জন্য তো অতিরিক্ত ওজন সন্তান না হবার পেছনের এক ভয়ঙ্কর খলনায়ক। আইভিএফ বা টেস্টটিউব বেবির সফলতার ক্ষেত্রেও এটি একটি প্রতিবন্ধকতা।

অন্যদিকে স্থূলতা পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন (Testosterone) হরমোনের মাত্রা কমায় এবং শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমিয়ে দেয়। এ ছাড়াও অতিরিক্ত ওজনের কারণে যৌন মিলনের আগ্রহ বা ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়ে মেল ইনফার্টিলিটির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সামান্য বেশি ওজনও যে কারো (বিশেষ করে মেয়েদের) গর্ভধারণ হওয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। আর এর নজির তো প্রতিনিয়তই আমরা অনেক পাই। সুতরাং সন্তান প্রত্যাশীদের বলবো, নির্ঝঞ্জাটে গর্ভধারণ করতে চাইলে সকলকেই ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা দরকার। আর এই জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্যভ্যাস। প্রয়োজন ফাস্ট ফুড, চিনি ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করা।

নিয়মিত শরীরচর্চা, দৈনিক হাঁটা, যোগ বা হালকা ব্যায়াম নারী-পুরুষের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। মনে রাখতে হবে, বন্ধ্যত্ব একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা। কোনো অভিশাপ নয়। ওজন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বন্ধ্যত্ব দেখা দিলে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সঠিক সময়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান খুব সহজেই করা যায়।

লেখক:
কন্সালট্যান্ট; আইভিএফ অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলর;
ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা
ফোন: ০১৬৮৪৩৪২৪৪৯

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.