Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 9

শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী খাবেন?

লিনা আকতার

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হল রোগের বিরুদ্ধে শরীরের সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা। কারণ, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের দেহকে অসুস্থ করে তোলে। বিশেষ করে শীতকালে সর্দি, কাশি, ফ্লু , হজমের সমস্যা, ক্লান্তি, ঘনঘন সংক্রমণের ঝুঁকি ইত্যাদি বাড়তে পারে।

এই জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সঠিক পুষ্টির প্রয়োজন। যদিও এমন কোনো নির্দিষ্ট খাবার নেই যে দেহের প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করবে। তবে সমস্ত খাদ্যগোষ্ঠী থেকে বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়া নিশ্চিন্ত করতে হবে। এগুলো দেহকে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী ধরনের খাবার খাবেন-

ভিটামিন ‘সি’
ভিটামিন ‘সি’ আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেহেতু আমাদের দেহ ভিটামিন ‘সি’ তৈরি করে না, তাই খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই জন্য সাইট্রাসযুক্ত বা ভিটামিন ‘সি’যুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ করুন। যেমন: আমলকী, লেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা ইত্যাদি।

ফাইটোক্যামিকেল
যে ফল ও শাকসবজি উজ্জ্বল রঙের সেগুলো ফাইটোক্যামিকেল। যেমন: লাল, কমলা বা হলুদ, সবুজ ইত্যাদি রঙের।

টমেটো, ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি ইত্যাদি লাল জাতীয় খাবারগুলোতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো শরীরে ক্ষতিকর কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। আবার আম, গাজর, মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সবুজ শাক-সবজিতে ক্লোরোফিল নামক ফাইটোক্যামিকেল রয়েছে। সবুজের উৎস হিসেবে শীতকালে পাওয়া যায় এমন সবজিগুলো হলো, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি ইত্যাদি।

প্রোবায়োটিক
শীতকালে নড়াচড়া করা হয় না তেমন। এই কারণে অনেকেরই হজম ভালো হয় না। এই সময় প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। প্রোবায়োটিকের চমৎকার উৎস দই। এটি নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেতে পারলে হজমশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

এ ছাড়া হজম ভালো করতে ফাইবারসমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফল খেতে পারেন। এগুলোও প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

বাদাম
বিভিন্ন ধরনের বাদাম খেতে পারেন। এতে ভিটামিন ‘ই’, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে। এগুলো ঘন ঘন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ভিটামিন ‘ডি’
শীতকালে মানুষ বাইরে কম সময় কাটায়। শীতে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না-ও পাওয়া যেতে পারে। সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়। তবে এই জাতীয় খাবার খুব কমই রয়েছে। ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার হলো, ডিমের কুসুম, মাশরুম, সামুদ্রিক মাছ, ফরটিফাইড সিরিয়াল প্রভৃতি।

ভিটামিন ‘ডি’ দেহে হরমোন হিসেবেও কাজ করে। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের ক্রনিক (দীর্ঘমেয়াদে) রোগ রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন।

জিঙ্ক
শীতে অনেকেই সর্দি, কাশি, ফ্লু, ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় ভোগে। এই জন্য জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। জিঙ্কের উৎস হিসেবে খেতে পারেন বাদাম, তিসিবীজ, চিয়াবীজ, গোটা শস্য ইত্যাদি।

মসলা
শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, সর্দি, কাশির প্রকোপ কমাতে তেজপাতা, কালো মরিচ খেতে পারেন। এ ছাড়া খেতে পারেন রসুন। রসুনে অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল রয়েছে। আরও খেতে পারেন, হলুদ-দুধ কিংবা হলুদ-পানি। কারণ, হলুদে কারকিউমিন নামক উপাদান শরীরে প্রদাহ ও শীতকালীন সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

পানি বা তরল খাবার
শীতকালে ঋতু পরিবর্তনের কারণে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়। এতে দেহে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই দিনে কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করুন। এ ছাড়া পানি জাতীয় সবজি ও ফল খেতে পারেন। যেমন: শসা, কলা, টমেটো, লেবুর শরবত ইত্যাদি।

বাড়তি পরামর্শ

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যায়।
  • নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুমান।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।
  • গরম পোশাক পরুন।
  • যাদের আগে থেকে ফ্লু জাতীয় সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত গরম পানির ভাপ নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভ্যাকসিন নিতে পারেন।
  • পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকুন।

লেখক: পুষ্টিবিদ; রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ
সেন্টার; দিনাজপুর

প্রতিদিন হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে পাঁচ ক্ষতি

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

অফিসে যাওয়ার তাড়াহুড়ো। চুল ধুয়েছেন কিছুক্ষণ আগে। ঝটপট শুকাতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করে নিলেন। আবার হয়তো শীতের সময় বা রাতের বেলা গোসল করেছেন। চুল যেন দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং ঠাণ্ডা না লাগে, তাই ব্যবহার করে নিলেন হেয়ার ড্রায়ার।

আসলে চুল দ্রুত শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার বা চুল শুকাবার যন্ত্র অনেকেই ব্যবহার করেন। তবে জানেন কি এই যন্ত্রটির ভুলভাল ব্যবহার আপনার চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে? হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের কিছু ক্ষতির কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ানএমজি ডটকম।

চুলের শুষ্কতা
প্রতিদিন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকালে চুলের ময়েশ্চার বা আর্দ্রতা কমে যায়। চুল শুষ্ক হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এই অঙ্গটি দুর্বল হয়ে যায়।

চুল ভঙ্গুর হয়ে পড়ে
চুল দুর্বল হয়ে পড়লে এর ভঙ্গুরতা বেড়ে যায়। অর্থাৎ এটি ভেঙ্গে পড়ে। এমনকি চুল খসখসে হয়ে যায়।

ঝলমলেভাব নষ্ট হয়
উচ্চ তাপে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে চুলের কিউটকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুল মলিন ও প্রাণহীন লাগে; ঝলমলেভাব নষ্ট হয়।

মাথার তালুতে অস্বস্তি হয়
মাথার খুব কাছ থেকে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে, অতিরিক্ত তাপ থেকে মাথার তালুতে অস্বস্তি হতে পারে। অনেক সময়
চুলকানি ও খুশকি হওয়ারও আশঙ্কা বাড়ে।

তাপ থেকে ক্ষতি
হেয়ার ড্রায়ারের বেশি তাপ থেকে চুলের প্রোটিন স্ট্রাকচার ভেঙ্গে যেতে পারে। এতে আগা ফাঁটা ও চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা হয়।

দাঁত নড়ে যাওয়ার কারণ কী?

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

বয়স হলেই কি দাঁত নড়ে যায়? তাহলে তো সব প্রবীণ এটি ছাড়া থাকতেন। আবার ছোটদের দুধ দাঁত নির্দিষ্ট সময় পর নড়ে গিয়ে পড়ে যায়- এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে স্থায়ীভাবে ওঠার পর নড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়।

আসলে কিছু না কিছু অস্বাভাবিক কারণে স্থায়ী দাঁত পড়ে যায়। তবে সঠিকভাবে যত্ন নিলে বা পরিচর্যা করলে মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখা সম্ভব। দাঁত নড়ে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। চলুন জানি-

ধারক কলাতে প্রদাহ
প্রতিটি দাঁত মাড়ি ও চোয়ালের হাড়ের সাহায্যে নিজ অবস্থানে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে। সঠিক উপায়ে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করলে অথবা যাদের দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকে, তারা ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার না করলে ধীরে ধীরে ধারক কলাতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি উল্টোদিক দিয়েও ঘটতে পারে। যেমন, কোনো আক্রান্ত দাঁতের সংক্রমণ মধ্যকার মজ্জাকে নষ্ট করে চোয়ালের হাড়ের মধ্যে প্রবেশ করে। এটি থেকে প্রদাহ, সিস্ট বা টিউমার হতে পারে। এতে ধারক কলা নষ্ট হয়ে দাঁত নড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আঘাত
দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষ থেকে মুখে আঘাত পেলে দাঁত নড়ে যেতে পারে। যেমন: সড়ক দুর্ঘটনা থেকে, বাসায় ছোট শিশুরা অনেক সময় একে অপরকে আঘাত করে- এটি থেকে, খেলার সময় পড়ে গিয়ে, ক্রিকেট খেলার সময় মাউথ গার্ড ব্যবহার না করে, জোরে শক্ত কোনো কিছু কামড় দিলে ইত্যাদি কারণে দাঁত নড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হরমোনের প্রভাব
প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্যের কারণে গর্ভাবস্থা ও মেনোপোজের সময় হাড় ক্ষয় হয়ে দাঁত নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।

অসম কামড়
অনেকের অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাঁতে দাঁত ঘসা বা কামড়াবার বদভ্যাস রয়েছে। একে ব্রুকসিজম বলে। আবার অনেকের দাঁত এলোমেলো, উঁচু-নিচু বা বাঁকা। এসব ক্ষেত্রে এই অঙ্গটি পরিষ্কার রাখা কষ্টসাধ্য।

আঁকা-বাঁকা হওয়ার কারণে কোনো কোনো দাঁতে অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে দাঁত নড়তে পারে।

হাড় ক্ষয় রোগ
অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ঘনত্ব কমে হাড় ক্ষয় রোগ হয়। ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতায়ও এই সমস্যা ঘটে। এটি দেহের সব হাড়কেই দুর্বল করে। তখন চোয়ালের হাড়ও ক্ষয় হয়ে দাঁত নড়ে যায়।

ভুল চিকিৎসা থেকে
দেশে ১৩ হাজারের মতো অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসক রয়েছেন। তবে অগণিত ভুয়া চিকিৎসক অবৈধভাবে আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। ভুল চিকিৎসার কারণেও দাঁত নড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অন্যান্য রোগ
শারীরিক দীর্ঘমেয়াদে রোগ, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব, অতিরিক্ত রক্ত স্বল্পতা ইত্যাদি কারণে দাঁত নড়তে পারে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার ধূমপানও দাঁত নড়ার একটি বড় কারণ।

লেখক: রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান
রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড, পান্থপথ
০১৯১১৩৮৭২৯১

সন্তানপ্রত্যাশীরা ওজন কমাতে চার বিষয় মনে রাখুন

রফিক-উল-আলম

‘ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলিং অ্যান্ড গাইডেন্স বা বন্ধ্যত্বরোধে পরামর্শ’ সেশনে বসে প্রায় প্রতিদিনই অনেককে তাদের ‘ওয়েট ম্যানেজমেন্ট’ বা ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে হয়।

আর বলা মাত্রই প্রায় প্রত্যেকেই একেবারে গালভরে বলে ওঠে, ‘ওজন কমাতে চেষ্টা করছি স্যার, খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছি।’ কেউবা পরম আত্মতুষ্টির সঙ্গে গাল ফুলিয়ে বলে, ‘আমি ডায়েট করছি, স্যার।’ কী করে বোঝাই ওদের, ‘ডায়েট’ মানেই না খেয়ে থাকা নয়? ‘ওয়েট ম্যানেজমেন্ট’ মানেই ইউটিউব ঘেঁটে নানা টোটকা-টিপস নিয়ে ‘জিরো ফিগারে’ যাওয়া নয়।

মনের গভীরে ঢুকিয়ে রাখতে হবে ডায়েট ও ওজন নিয়ন্ত্রণ আসলে শারীরিক, অভ্যাসগত ও মানসিক প্রক্রিয়া। সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট জীবনযাপন অনুসরণ করে বয়স, উচ্চতা ও লিঙ্গভেদে একটি প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যকর ওজনে পৌঁছানো যায়। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত চর্চার মাধ্যমে তা মেনে চলাই হলো ওয়েট ম্যানেজমেন্ট বা প্রকৃত ডায়েট।

যারা সন্তানপ্রত্যাশী বা ইনফার্টিলিটিতে ভুগছেন, সবার জন্যই এই ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

তাই বলব, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে একেবারে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ না করে বা মনগড়া কিছু পন্থা অবলম্বন না করে বা ইন্টারনেট ও চ্যাটজিপিটির বিদ্যা না ফলিয়ে বরং সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের সহায়তা নিন। জানবেন, না বুঝে নিজে নিজে কেরামতির কারণেই হয়তো আজও আপনি ঝুলছেন; কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছেন না।

অনেক সময় দেখা যায়, নিজে নিজে ভুলভাল ডায়েট চার্ট অনুসরণ করার কারণে গর্ভধারণ করলেও শিশুর হার্টবিট পাওয়া যায় না, ব্লাইটেড ওভামসহ নানাভাবে গর্ভপাত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

তাই সন্তানপ্রত্যাশীদের ওজন কমাতে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা। আসুন, জানি সেগুলো–

১. নিজের আদর্শ বিএমআই (বডিমাস ইনডেক্স) সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকেই শুধু নিজের ওজন কমানো বা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়ে থাকে। ব্যক্তি হিসেবে সে কম ওজনে, নাকি বেশি ওজনে রয়েছে– কিছুই বোঝে না। অথচ দুটোই ক্ষতিকর, গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অন্তরায়।

২. সবচেয়ে বড় ব্যাপার, সাধারণত যারা খাওয়া কমিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, তারা বেশির ভাগই নিজেদের নিউট্রিয়েন্ট রিকুয়ারমেন্টস (Nutrient Requirements) বা পুষ্টির চাহিদার দিকে একটুও খেয়াল করেন না। অথচ নিজের শরীরের জন্য, ডিম বড় হ্ওয়ার (ম্যাচিউরেশন) জন্য, ডিম্বস্ফুটনের (ওভ্যুলেশন) জন্য দেহে ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়োডিন, আয়রন, জিংক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’, ভিটামিন ‘বি- ৬’, ভিটামিন ‘বি-১২’, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন ও ফাইবারসহ নানা মিনারেল বা খনিজ পদার্থের প্রয়ােজন।

কখনও কি ভেবেছেন, প্রতিদিন যা খাচ্ছেন তার মধ্যে এসব পুষ্টিগত উপাদান রয়েছে কিনা? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, একদমই নেই। অর্থাৎ ওজন কমাতে গিয়ে অনেকে নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ থেকে বহুদূরে চলে যাচ্ছেন, বরং নিজের ক্ষতি করছেন।

৩. কাউকে কাউকে দেখি, নিজেদের নিয়মে ওজন কমাতে গিয়ে বীভৎস চেহারা বানিয়ে ফেলেছেন। অর্থাৎ এটিও শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত করারই ফল। এতে আপনার শরীর ভেঙে পড়ছে।

৪. কেউ বা ইউটিউব বা অনলাইনে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট ও ওজন কমানোর ওষুধসহ বিভিন্ন জিনিস খেয়ে থাকেন। মনে রাখতে হবে, এসব সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ ওজন কমিয়ে দিলেও তা এক বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকি। এগুলো সাধারণত অন্য ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে কি ওজন কমানোর জন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যাবে না? নিশ্চয় যাবে। ওজন কমানোর জন্য উপযুক্ত ফুড সাপ্লিমেন্টও পাওয়া যায়। তবে এগুলো শুধু সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের পরামর্শ ও সহায়তা নিয়েই গ্রহণ করতে হবে।

সন্তানপ্রত্যাশীদের ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিলে একদিকে যেমন নিয়ম অনুযায়ী ওজন কমিয়ে গর্ভধারণ করার পথ সুগম হয়, তেমনি যারা শুধু সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ওজন কমাতে চান, তারাও তাদের রূপ ও ত্বকের লাবণ্য বজায় রেখে দিব্যি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে পারেন।

লেখক: কনসালট্যান্ট; আইভিএফ অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলর;
ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা
ফোন: ০১৬৮৪৩৪২৪৪৯

মানসিক চাপ থেকে পাঁচ ক্ষতি

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বর্তমান জীবনের ব্যস্ততা, টিকে থাকার লড়াই ও বস্তুবাদী সমাজের গতি কখনোই সম্পূর্ণভাবে চাপহীন বা ঝামেলামুক্ত হতে দেয় না। এখানে বেশিরভাগ মানুষই ইঁদুর দৌড়ে ব্যস্ত। আর এসব থেকে তৈরি হয় ভীষণ মানসিক চাপ; কখনো সেটা আসে নিরবে, কখনো সরবে।

এই চাপ দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাঁধিয়ে দেয় জটিল রোগ। মানসিক চাপের কারণে হওয়া দেহ ও মনের পাঁচ ক্ষতির কথা জানিয়েছে ‘লাইফ লেসনস বাই বো’।

দুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত চিন্তা
মানসিক চাপের সময় দেহ ‘সারভাইভাল মুড’- এ চলে যায়। অর্থাৎ কেবল নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার বা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে লড়তে থাকে। এই কারণে দেহ করটিলস ও অ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।

এসব হরমোন আমাদের আবেগকে ভারসাম্যহীন করে। এতে দুশ্চিন্তা, বাড়তি চিন্তা, আত্ম সন্দেহ, অযথা বিরক্তি, অবসাদ ইত্যাদি ঘটে। মূলত, মানসিক চাপের কারণে চিন্তাশক্তি পরিষ্কার থাকে না; মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে ইমপালসিভ আচরণ বা হঠাৎ ভুলভাল কিছু করে ফেলে।

ব্যথা ও অবসাদ
মানসিক চাপ যে শুধু মনের ক্ষতি করে, সেটা একদমই নয়। এর বেশ বাজে প্রভাব পড়ে আমাদের সম্পূর্ণ দেহে। অতিরিক্ত চাপের কারণে কাঁধের পেশি আঁটসাঁট হওয়া, ছোট শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যা ঘটে। আর চাপ দীর্ঘমেয়াদে হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ক্লান্তি, অবসাদ, হাঁসফাঁস লাগা, হজমে সমস্যা ও ঘুমে অসুবিধা হয়। এমনকি সারারাত ঘুমের পরও সকালে উঠে ক্লান্ত লাগতে পারে।

আবেগীয় বিচ্ছিন্নতা
খুব চাপের মধ্যে থাকলে অনেক সময় মানুষ আবেগীয়ভাবে নিরব বা মৌন হয়ে পড়ে। আগে যেসব কাজে আগ্রহ লাগতো, সেগুলো করায় অনিহা চলে আসে। এমনকি পছন্দের মানুষের কাছ থেকে নিজেকে একা করে ফেলার প্রবণতাও অস্বাভাবিক নয়। আসলে অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে উদ্বেগ, অবসাদ ও বিষণ্ণতার মতো সমস্যাগুলো ঘটে।

আচরণগত পরিবর্তন
চাপ সহ্য করার বিষয়টি ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে অনেকের মধ্যেই অ্যাভোয়েড করার প্রবণতা বা এড়িয়ে যাওয়া বা পালানোর ইচ্ছা তৈরি হয়। যেমন: পরিকল্পনা করে সেটা পালন না করা, ফোন কল না ধরা, কাজে গড়িমসি করা ইত্যাদি।

আবার অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশিক্ষণ থাকা বা বেশি খাওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়। এসব কাজ শুরুতে কিছুটা স্বস্তি দিলেও পরবর্তী সময়ে অবস্থাকে আরো খারাপ করে তুলতে পারে।

নিঃশেষিত বোধ করা ও আনন্দ কমে যাওয়া
প্রতিদিনই চাপের মধ্যে থাকলে এটি কাজের গতিকে নষ্ট করে দেয়। অনুপ্রাণিত হওয়ার বদলে কেবল টিকে থাকার জন্য মানুষ কাজ করে যায়। এই অবস্থা ধীরে ধীরে মানসিক শান্তি ও আনন্দকে নষ্ট করে; স্বস্তি কমে যায়।

এসব ক্ষতি থেকে বাঁচতে এবং মানসিক চাপ কমাতে প্রথম পদক্ষেপ হলো, সচেতন হওয়া। নিজের মনের যত্ন নেওয়া। আপনার শরীর ও মন খুব চাপের মধ্যে পড়ছে মনে হলে নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিন। কোনো কিছু থেকে ডিসট্র্যাক্ট হওয়া বা বিক্ষিপ্ত হওয়া বা পালানোর বদলে নিজেকে সময় দিন। ‘মি টাইম’ বা ‘নিজের সময়’ কাটান। ব্যায়াম করুন, চিন্তাগুলো লিখে ফেলুন। এ ছাড়া ধ্যান, বিশ্বস্ত কারো সঙ্গে কথা বলা, প্রকৃতির কাছে যাওয়া, প্রার্থনা ইত্যাদিও বেশ কাজে দিতে পারে এই সময়টায়।

শীতে ত্বকের যত্নে এড়িয়ে চলুন পাঁচ বিষয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

শীত মানেই ত্বকের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার সময়। না হলে, ত্বক হয়ে পড়বে শুষ্ক, মলিন ও প্রাণহীন। শীতে অনেকেই এমন কিছু কাজ করে, যা দেহের জন্য সঠিক নয়। এসব বিষয় এড়িয়ে গেলে ত্বক অনেকটাই সুস্থ থাকবে।

শীতে ত্বকের যত্নে এড়িয়ে যাওয়া ভালো এমন কিছু বিষয়ের কথা জানিয়েছে বি বিউটিফুল। চলুন জানি-

পানি কম পান করা
শীত আসলে অনেকেরই পানি পানের প্রতি একটা অনীহা চলে আসে। এটা ত্বকের জন্য তো বটেই, সারা শরীরের জন্যও ক্ষতিকর। তাই, গরমের দিনের মতো শীতেও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।

খাদ্যাভ্যাসে অসচেতনতা
শীতে অনেকেই তেল-চর্বি দিয়ে রান্না করা ভারী খাবারগুলো খেতে পছন্দ করে। তবে এতে কিন্তু ত্বকের ওপর বাজে প্রভাব পড়ে। এর বদলে স্বাস্থ্যকর চর্বি খান। যেমন: ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার (মাছ, বাদাম ও বীজ ইত্যাদি)।

ফ্যাস প্যাক ব্যবহার না করা
শীতের সময়টায় অনেকেই ফেস প্যাক ব্যবহার করে না। এই সময় এমন ফেস প্যাক ব্যবহার করুন, যা ত্বককে আরাম দেবে। মধু, অ্যালোভেরা ও ওটমিলের তৈরি মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। এসব উপাদান ত্বককে নরম করে।

অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল
শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল আরামের। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার ত্বকের প্রাকৃতিক তেলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল ভালো।

সম্পূর্ণ শরীরের ত্বকের যত্ন না নেওয়া
অনেকে কেবল মুখেরই যত্ন নেয়। সম্পূর্ণ শরীরের ত্বকের প্রতি অবহেলা করে। এটা সঠিক নয়। সম্পূর্ণ দেহের ত্বকের যত্নও জরুরি। এই ক্ষেত্রে লোশন, বডি ওয়েল ইত্যাদি হতে পারে সেরা পছন্দ।

ছাতু খাওয়ার ভালো-মন্দ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ভাজা ডাল ও শস্যদানার মিহি গুঁড়া হলো ছাতু। এটি অনেকটা ময়দার মতো। সাধারণত এটি তৈরি করা হয় যব, ভাজা ছোলা ও অন্যান্য শস্যদানাকে গুঁড়া করে।

ছাতুতে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ প্রোটিন, আঁশ ও কমপ্লেক্স কার্বােহাইড্রেট ইত্যাদি। এটি খাওয়ার উপকারী দিক যেমন আছে, তেমনি রয়েছে কিছু অসুবিধাও। ছাতু খাওয়ার ভালো-মন্দের বিষয়ে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

পুষ্টিগুণে ভরপুর
ছাতু পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি। তাই ছাতু খেলে এসব উপাদানগুলোর উপকারও আপনি পেয়ে যাবেন।

হজমের জন্য ভালো
ছাতুতে থাকা আঁশ হজমের জন্য ভালো। এটি কোষ্টকাঠিন্য ও এসিডিটি কমায়, পেট পরিষ্কার রাখে। তাই খাদ্যতালিকায় এই খাবারটি রাখতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ছাতু হলো লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স জাতীয় খাবার। এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর জন্য উপকারী। এটি রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণ করে; পাশাপাশি রক্তচাপ ঠিকঠাক রাখে এবং কোলেস্টেরল কমায়।

ওজন কমায়
আপনি ওজন কমাতে চাইলে খালি পেটে ছাতু খাওয়া শুরু করতে পারেন। এটি অনেকক্ষণ পেট ভরা অনুভূত করায়; পাশাপাশি মেটাবলিজম বাড়ায় এবং দেহের ক্যালরি পোড়ায়।

ছাতু খাওয়ার ক্ষতিকর দিক
তবে আপনি অতিরিক্ত ছাতু খেয়ে ফেললে সেটি হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে পাকস্থলীতে গ্যাস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই পরিমিত পরিমাণে ছাতু খান। আবার যাদের গল ব্লাডারে পাথরের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও ছাতু এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। না হলে, সমস্যা বাড়তে পারে।

মোদ্দাকথা, যেকোনো খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন এবং দেহের অবস্থা বুঝে গ্রহণ করুন।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.