রফিক- উল- আলম
বহু শতাব্দি ধরেই লোকবিশ্বাস ও পর্যবেক্ষণ রয়েছে, প্রাণীকুল বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটার আগেই তাদের আচরণের মাধ্যমে এর পূর্বাভাস দিতে পারে।
এর মধ্যে অন্যতম প্রাণী হচ্ছে- বিড়াল, কুকুর, ঘোড়া, গরু, সাপ, পাখি, মাছ ও পিঁপড়া। এর কারণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে, বেশিরভাগ প্রাণী মানুষের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল। আর তাই তারা পরিবেশগত অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তনও দ্রুত টের পায়। যেমন: পরিবেশের কম্পন, ভূ বা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, হাওয়া বা গন্ধের সামান্য পরিবর্তন।
আর তা তাদের নানা রকম অস্থির আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যেমন: কান খাড়া করে শোনা, ওপরের দিকে তাকিয়ে কোনো কিছু বোঝার চেষ্টা করা, হঠাৎ পলায়নপর প্রবণতা, অহেতুক ডাকাডাকি, হুট করেই দৌঁড়ে কোথাও লুকোনোর প্রচেষ্টা, অহেতুক ছুটোছুটি ইত্যাদি। এমন অস্বাভাবিক আচরণগুলো সাধারণত তাদের অন্য সময় করতে দেখা যায় না।
তাই ধারণা করা হয়, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও আপনার ঘরের আদরের পোষা বিড়ালটি বিষয়টি টের পেতে পারে। এমন কি তা ভূমিকম্প হবার কয়েক মিনিট আগে থেকে শুরু করে আরো দীর্ঘ সময় পূর্বেই এই পূর্বাভাস হয়তো পায়।
এ ক্ষেত্রে বিড়ালের তীব্র শারীরিক সংবেদনশীলতা (Acute Physical Senses), তীব্র শ্রবণশক্তি (Strong Hearing Sensation) এবং ভূ-কম্পন অনুভব (Vibration Sensitivity) ক্ষমতা তাদের থাবা, গোঁফ ও শরীরের লোমের সংবেদনশীলতার মাধ্যমে
তাকে মানুষের তুলনায় দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই সংকেতগুলো ধরতে সাহায়তা করে।
ভূমিকম্প সাধারণত দুটি ধরনের তরঙ্গ তৈরি করে। Primary Wave বা অতি সুক্ষ্ম তড়ঙ্গ এবং Secondary Wave দ্বিতীয় সূক্ষ্ম তড়ঙ্গ। প্রাইমারি ওয়েভ মানুষের অনুভব করার আগেই মাটির নীচে সৃষ্ট অত্যন্ত নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তৈরি করে। বিড়াল এই নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির সুক্ষ্ম শব্দ তরঙ্গ আসার মুহূর্তটি অনুভব করতে পারে, যেখানে মানুষ কেবল অপেক্ষাকৃত ধীর সেই প্রাইমারি তরঙ্গ বা ভূমিকম্পের আসল ঝাঁকুনি এলে তা অনুভব করে। আর বিড়ালের নিম্ন বর্ণিত সংকেতপূর্ণ আচরণগুলো একটু মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করলেই আসন্ন ভূমিকম্প সম্পর্কে আগাম সতর্কতা পাওয়ার সুযোগ হয়তো রয়েছে।
অস্বাভাবিক অস্থিরতা
বিড়াল হঠাৎ করে খুব উত্তেজিত, অস্থির বা ভীত হয়ে ওঠে, দ্রুত দৌড়াতে থাকে বা কোনো কারণ ছাড়াই লাফাতে থাকে, ঠিক যেনো বদ্ধ জায়গায় আটকানো রয়েছে এমন আচরণ করে।
পালানোর চেষ্টা
তারা ভীত হয়ে দরজা বা জানালা দিয়ে পালাতে বা খাটের নীচে বা ঘরের কোণায় লুকানোর চেষ্টা করে।
মিউ মিউ চিৎকার
কখনো তারা উচ্চস্বরে বা অস্বাভাবিকভাবে মিউ মিউ করতে থাকে। কখনো তার মনিবের পায়ে বেশি বেশি গা ঘষে বা তার কাছে নিরাপত্তা খোঁজে।
একদৃষ্টিতে তাকানো
আবার কেউ কেউ কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, যেন অদৃশ্য কিছু দেখতে পাচ্ছে।
যদিও বিড়ালসহ অনেক পোষা প্রাণীদের এমন আগাম সংকেত দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন স্টাডিজ বা গবেষণায় অনেকাংশেই পরীক্ষিত ও বহুল প্রচলিত। তবুও বিজ্ঞানীরা এটি এখনও সঠিকভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত এটি পর্যবেক্ষণ-ভিত্তিক তত্ত্ব হিসেবে আক্ষায়িত।

লেখক: অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাক্টিভিস্ট ও স্বেচ্ছাসেবী ‘ পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অফ অ্যানিম্যালস’ (PETA)
সহায়তায়: ০১৬৮৪৩৪২৪৪৯



