Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 7

বিড়াল কি ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা সংকেত দিতে পারে?

রফিক- উল- আলম

বহু শতাব্দি ধরেই লোকবিশ্বাস ও পর্যবেক্ষণ রয়েছে, প্রাণীকুল বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটার আগেই তাদের আচরণের মাধ্যমে এর পূর্বাভাস দিতে পারে।

এর মধ্যে অন্যতম প্রাণী হচ্ছে- বিড়াল, কুকুর, ঘোড়া, গরু, সাপ, পাখি, মাছ ও পিঁপড়া। এর কারণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে, ​বেশিরভাগ প্রাণী মানুষের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল। আর তাই তারা পরিবেশগত অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তনও দ্রুত টের পায়। যেমন: পরিবেশের কম্পন, ভূ বা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, হাওয়া বা গন্ধের সামান্য পরিবর্তন।

আর তা তাদের নানা রকম অস্থির আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যেমন: কান খাড়া করে শোনা, ওপরের দিকে তাকিয়ে কোনো কিছু বোঝার চেষ্টা করা, হঠাৎ পলায়নপর প্রবণতা, অহেতুক ডাকাডাকি, হুট করেই দৌঁড়ে কোথাও লুকোনোর প্রচেষ্টা, অহেতুক ছুটোছুটি ইত্যাদি। এমন অস্বাভাবিক আচরণগুলো সাধারণত তাদের অন্য সময় করতে দেখা যায় না।

তাই ধারণা করা হয়, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও আপনার ঘরের আদরের পোষা বিড়ালটি বিষয়টি টের পেতে পারে। এমন কি তা ভূমিকম্প হবার কয়েক মিনিট আগে থেকে শুরু করে আরো দীর্ঘ সময় পূর্বেই এই পূর্বাভাস হয়তো পায়।

এ ক্ষেত্রে বিড়ালের তীব্র শারীরিক সংবেদনশীলতা (Acute Physical Senses), তীব্র শ্রবণশক্তি (Strong Hearing Sensation) এবং ভূ-কম্পন অনুভব (Vibration Sensitivity) ​ক্ষমতা তাদের থাবা, গোঁফ ও শরীরের লোমের সংবেদনশীলতার মাধ্যমে
তাকে মানুষের তুলনায় দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই সংকেতগুলো ধরতে সাহায়তা করে।

​ভূমিকম্প সাধারণত দুটি ধরনের তরঙ্গ তৈরি করে। Primary Wave বা অতি সুক্ষ্ম তড়ঙ্গ এবং Secondary Wave দ্বিতীয় সূক্ষ্ম তড়ঙ্গ। প্রাইমারি ওয়েভ মানুষের অনুভব করার আগেই মাটির নীচে সৃষ্ট অত্যন্ত নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তৈরি করে। ​বিড়াল এই নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির সুক্ষ্ম শব্দ তরঙ্গ আসার মুহূর্তটি অনুভব করতে পারে, যেখানে মানুষ কেবল অপেক্ষাকৃত ধীর সেই প্রাইমারি তরঙ্গ বা ভূমিকম্পের আসল ঝাঁকুনি এলে তা অনুভব করে। আর বিড়ালের নিম্ন বর্ণিত সংকেতপূর্ণ আচরণগুলো একটু মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করলেই আসন্ন ​ভূমিকম্প সম্পর্কে আগাম সতর্কতা পাওয়ার সুযোগ হয়তো রয়েছে।

​অস্বাভাবিক অস্থিরতা
বিড়াল হঠাৎ করে খুব উত্তেজিত, অস্থির বা ভীত হয়ে ওঠে, দ্রুত দৌড়াতে থাকে বা কোনো কারণ ছাড়াই লাফাতে থাকে, ঠিক যেনো বদ্ধ জায়গায় আটকানো রয়েছে এমন আচরণ করে।

​পালানোর চেষ্টা
তারা ভীত হয়ে দরজা বা জানালা দিয়ে পালাতে বা খাটের নীচে বা ঘরের কোণায় লুকানোর চেষ্টা করে।

​মিউ মিউ চিৎকার
কখনো তারা উচ্চস্বরে বা অস্বাভাবিকভাবে মিউ মিউ করতে থাকে। কখনো তার মনিবের পায়ে বেশি বেশি গা ঘষে বা তার কাছে নিরাপত্তা খোঁজে।

​একদৃষ্টিতে তাকানো
আবার কেউ কেউ কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, যেন অদৃশ্য কিছু দেখতে পাচ্ছে।

​যদিও বিড়ালসহ অনেক পোষা প্রাণীদের এমন আগাম সংকেত দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন স্টাডিজ বা গবেষণায় অনেকাংশেই পরীক্ষিত ও বহুল প্রচলিত। তবুও বিজ্ঞানীরা এটি এখনও সঠিকভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত এটি পর্যবেক্ষণ-ভিত্তিক তত্ত্ব হিসেবে আক্ষায়িত।

লেখক: রফিক-উল-আলম
রফিক-উল-আলম

 

লেখক: অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাক্টিভিস্ট ও স্বেচ্ছাসেবী ‘ পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অফ অ্যানিম্যালস’ (PETA)
সহায়তায়: ০১৬৮৪৩৪২৪৪৯

মেঘদূত প্রকাশন আয়োজিত লেখক-প্রকাশক প্রীতি সম্মিলন উদযাপিত

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সাহিত্য ও সাহিত্যিকের কল্যাণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- এই শ্লোগানকে ধারণ করে উদযাপিত হলো মেঘদূত প্রকাশন আয়োজিত লেখক-প্রকাশক প্রীতি সম্মিলন-২০২৫।

গত ২২ নভেম্বর, শনিবার রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে এই নান্দনিক আয়োজন করা হয়। অর্ধশতাধিক লেখকের উপস্থিতি এই আয়োজনে লেখকরা স্বরচিত কবিতাপাঠ এবং লেখক পরিচিতি পাঠ করেন।

বক্তব্য রাখেন কবি ও কথাসাহিত্যিক প্রফেসর পারভিন সেলিনা আক্তার, কবি ও কথাসাহিত্যিক খান আফিফা লুনা এবং বাংলা বানান ও উচ্চারণ গবেষক রাশেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, মোহাম্মদ জামাল হুসেন। সংগীত পরিবেশন করেন কন্ঠশিল্পী লুৎফুন নাহার পাখি এবং তাপস ইকবাল।

অনুষ্ঠানটির আহ্বায়ক ছিলেন কবি ডা.আতিয়ার রহমান। আহ্বায়ক তার বক্তব্যে সমাজ বিনির্মাণে সৌন্দর্য ও জ্ঞানের চর্চাকে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যহীন মানবতাবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে সৃজনশীল চর্চার বিকল্প নেই। মানুষের সৃষ্টিশীলতার বিকাশ সাধনের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে দেশপ্রেমের বিস্তার ঘটাতে পারলেই আলোকিত সুন্দর সমাজ গড়া সহজ হবে।’

আগত অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে মেঘদূত প্রকাশনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। সৃজনশীল ও লেখক বান্ধব প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে মেঘদূত প্রকাশন বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে সকলে আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক নাশিদ নওয়াজেশ এবং কবি ও আবৃত্তিশিল্পী সঞ্চিতা নাসরীন।

শীতে স্যুপ খাওয়ার পাঁচ উপকার

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

স্যুপ ভীষণ সুস্বাদু একটি খাবারের নাম। বিভিন্ন সবজি ও মাংস দিয়ে তৈরি এই তরলটি যেমন সহজে রান্না করা যায়, তেমনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

শীতের সন্ধ্যা বা রাতে ধোঁয়া ওঠা একবাটি স্যুপ যে কাউকে একটি উষ্ণ অনুভূতি দিতে যথার্থ। শীতে স্যুপ খাওয়ার কিছু উপকারের কথা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

  • স্যুপ বিভিন্ন সবজি ও মাংস দিয়ে তৈরি করা হয় বলে এর মধ্যে ভিটামিন, জিংক, বেটা কেরোটিন, অ্যান্ট-অক্সিডেন্ট ইত্যাদি থাকে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • সবজি ও ফল দেহের জন্য উপকারী খাবার। স্যুপের মধ্যে এগুলো দেওয়া হয়। তাই এসব খাবার খেতে বাড়তি আয়োজন করা লাগে না।
  • স্যুপ যেহেতু তরল, তাই এটি দেহের পানিশূন্যতা প্রতিরোধেও উপকারী।
  • এই খাবারটি দ্রুত হজম হয়। তাই পেটের জন্য ভালো।
  • শীতের দিনে ঠান্ডা-কাশি প্রচলিত সমস্যা। এই সময় একবাটি উষ্ণ স্যুপ খাওয়া গলার জন্যও আরামদায়ক।

শীতে ঠান্ডা-কাশি: প্রতিরোধে করণীয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

শীতে ঠান্ডা-কাশি বেশ প্রচলিত সমস্যা। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তারা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। শীতে ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধে কিছু করণীয় বিষয় জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওল্ডফোর্থ ওয়ার্ড পেডিয়াট্রিস।

  • ভারাসাম্যপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর খাবার এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজে দেবে। খাদ্যতালিকায় রাখুন লেবু, মাল্টা, কমলা ও শাক-সবজি। এ ছাড়া বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ খেতে পারেন। এগুলো শক্তি বাড়াতে কাজ করবে।
  • হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে, নাক ও মুখে হাত দেওয়ার আগে ও পরে।
  • ফ্লু প্রতিরোধে এখন বিভিন্ন ভ্যাকসিন রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
  • ব্যায়াম করুন। বাইরে যেতে না পারলেও ঘরে ব্যায়াম করতে পারেন।
  • দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মানসিক চাপ প্রতিরোধে ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। প্রয়োজনে কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান। ঘুম শরীরকে চাঙা রাখতে কাজ করবে।

 

রঙ বাংলাদেশের পোশাকে ‘বিজয় উৎসব’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ডিসেম্বর- বিজয়ের মাস। বাংলার আকাশে ভেসে ওঠে রক্তে লেখা এক গৌরবগাথা, যা আমাদের জাতিসত্তার মূলে স্থায়ী হয়ে রয়েছে স্বাধীনতার অমর চিহ্ন হয়ে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের রক্তে অর্জিত এই পতাকার লাল ও সবুজ রং আজও আমাদের হৃদয়ের গভীরে অনন্ত প্রেরণার প্রতীক। এই চেতনায় সবসময়েই বলিয়ান রঙ বাংলাদেশ আয়োজন করেছে ‘বিজয় উৎসব’।

এই আয়োজনের মূল থিম বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা। এই তিন প্রতীকের মধ্যে নিহিত রয়েছে আমাদের অস্তিত্ব, সংগ্রাম ও স্বপ্ন। এই তিন প্রতীকের গল্পকেই রঙ বাংলাদেশ তুলে ধরেছে নকশা, রং ও ফ্যাব্রিকের মেলবন্ধনে। এতে প্রতিফলিত হয়েছে স্বাধীনতার আবেগ ও আধুনিকতার সংযোগ।

এবারের ব্যবহৃত ফেব্রিক্সে এসেছে আরাম ও নান্দনিকতার সুষম মেলবন্ধন- কটন, হাইব্রিড কটন, জ্যাকার্ড কটন ও হাফসিল্ক। এই কাপড়গুলো শুধু পোশাক নয়, যেন একেকটি ইতিহাসবাহী চিহ্ন। এখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলন ঘটেছে অনবদ্যভাবে।

পোশাকের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট ও ডিজিটাল প্রিন্ট। এখানে একদিকে বাংলাদেশের মানচিত্র ফুটে উঠেছে শিল্পীর নিপুণ হাতে, অন্যদিকে জাতীয় সংগীতের পঙ্‌ক্তিগুলো যেন বাতাসে বাজে রঙিন ছন্দে। আর পতাকার লাল সূর্যের বৃত্ত ছড়িয়ে দিয়েছে বিজয়ের আগুনে দীপ্ত শক্তির প্রতীকী ইঙ্গিত। এই আয়োজনের প্রতিটি পোশাক যেন একেকটি ক্যানভাস। এখানে ইতিহাস কথা বলে রঙে, দেশপ্রেম মিশে যায় নকশায়, আর বিজয়ের গান গেয়ে ওঠে প্রতিটি ফ্যাব্রিকের বুননে।

এবারের বিজয় উৎসবের আয়োজনে থাকছে শিশু, তরুণ ও প্রবীণের জন্য নানারকম পোশাক। পাঞ্জাবি, শাড়ি, কামিজ, স্ট্রিচ ড্রেস(থ্রিপিস), শাল, মগ, উত্তরীয় ও বিজয় স্পেশাল সুভিনির সামগ্রী। সবগুলোতেই ডিজাইন, রং ও উপাদানের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও নবযাত্রার গল্প।

এ ছাড়াও এবারের আয়োজনে রয়েছে পরিবারের সকল সদস্যের জন্য ফ্যামিলি ম্যাচিং পোশাক। বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে, কাপল ও ডুয়েট ডিজাইন। এতে একসঙ্গে পরার মাধ্যমে সম্পূর্ণ পরিবার একই রঙে ও অনুভবে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করতে পারে।

পাশাপাশি কর্পোরেট অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরাও রঙ বাংলাদেশের বিশেষ কালেকশন থেকে নিজেদের জন্য ম্যাচিং পোশাক অর্ডার করতে পারবেন।

বিজয় উৎসবের এই অনন্য আয়োজনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে রঙ বাংলাদেশের ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সকল আউটলেটেই।

এ ছাড়াও অনলাইনে ঘরে বসে অর্ডার করা যাবে www.rang-bd.com ওয়েবসাইটে অথবা যেকোনো প্রয়োজনে ইনবক্স করতে পারেন আমাদের ভ্যারিফাইড ফেসবুকে পেজ facebook.com/rangbangladesh অথবা ০১৭৭৭৭৪৪৩৪৪ / ০১৭৯৯৯৯৮৮৭৭ নাম্বারে।

ভূমিকম্পের ‘ট্রমা’ নিরাময়ে করণীয়

রফিক- উল- আলম

কয়েকদিনের বার বার ভূমিকম্পের কারণে দেশবাসী, বিশেষ করে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার অনেকেই রীতিমতাে ট্রমাটাইজড বা আতঙ্কিত। বিশেষ করে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় এই আতঙ্ক বেশি।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র একটা প্যানিক সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই আতঙ্কিত হওয়াটা বড়ই স্বাভাবিক। তবে এমন অস্থিরতার মাঝেও যে সবার মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবতে হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নিজের ও পরিবারের আতঙ্ক কাটিয়ে কীভাবে মনে শক্তি ও শান্তি বজায় রাখবেন, সেটি নিয়েই আমাদের আলোচনা।

সঠিক তথ্য গ্রহণ
ভূমিকম্পের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস (যেমন সরকারি সংস্থা) থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানুন। গুজব বা ভিত্তিহীন সংবাদ থেকে দূরে থাকুন। অতিরিক্ত বা উদ্বেগ বাড়ায় অপ্রয়োজনীয় এমন সংবাদ দেখা বা শোনা থেকে বিরত থাকুন।

ঠিক তেমনি ভূমিকম্প সংক্রান্ত খবর, ছবি বা ভিডিও বারবার দেখা থেকে বিরত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের বিষয়, বিশেষ করে ধ্বংসাত্মক দৃশ্য দেখা কমিয়ে দিন। কারণ, এগুলো আপনার ট্রমা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার উপাদান হিসেবে কাজ করবে।

করণীয় সম্পর্কে জানুন
ভূমিকম্প চলাকালীন ও পরবর্তী আপদকালীন সময়ে আপনার করণীয় কী, সে বিষয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসুন। পরিবারসহ সবাই মিলে বারবার আলোচনা ও অনুশীলন করুন। এই দুর্যোগকালীন সময়ে ঠিক কী করতে হবে, জানলে আতঙ্ক অনেকাংশেই কমে যাবে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অনুশীলন করুন
হঠাৎ ভয় বা দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এ ছাড়াও ইয়োগা ও মেডিটেশন চর্চা করুন। এগুলো আপনার মন ও নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করতে এবং মনোযোগ বাস্তবতায় ফেরাতে সহায়ক হবে।

দৈনন্দিন রুটিন ঠিক রাখুন
যতোটা সম্ভব প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম, যেমন- ঘুমের নিয়ম ও খাদ্যাভ্যাস ঠিকঠাক রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাভাবিক দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড আপনার মানসিক স্থিরতা ঠিক রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।

ঘরের আসবাবের নিরাপত্তা বিধান
ঘরের ভারী আসবাবপত্র দেয়ালের সঙ্গে ভালোভাবে আটকে রাখুন, যাতে কম্পনের সময় তা পড়ে না যায়। সেই সঙ্গে ভূমিকম্পকালীন ঘর থেকে বের হওয়ার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা সরিয়ে চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন করুন। এমন ছোট প্রস্তুতিগুলো আপনার মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়িয়ে দিবে।

অনুভূতি শেয়ার করুন
আপনার ভয়, উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ইত্যাদি অনুভূতিগুলো পরিবার, কাছের মানুষ ও বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। তাদের সঙ্গে কথা বলুন। এতে আপনার মনের চাপ অনেকাংশে কমে যাবে।

সামাজিকতা বাড়ান
কাছাকাছি থাকা বন্ধু, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সময় কাটান। এই ধরনের সামাজিকতা আপনার মনের চাপ অনেকাংশে কমাবে।

শিশু ও প্রবীণের প্রতি মনোযোগ দিন
পরিবারের ছোট শিশু ও প্রবীণের দিকে মনোযোগ দিন। তাদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করুন। পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের প্রাথমিক ধারণা দিয়ে রাখুন, যা আপদকালীন সময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন সহায়ক হবে, ঠিক তেমন এই দায়িত্ববোধ আপনাকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের সহায়তা নিন
ভূমিকম্প বিষয়ে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা, ঘুমের সমস্যা বা আতঙ্ক আপনার দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করলে এবং মনের ওপর খুব বেশি চাপ সৃষ্টি করলে, দেরি না করে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নিন।

পরিশেষে আবারো বলবো, শরীরের মতো করেই নিজের মনের যত্ন নিন। জানবেন, এমন ক্রান্তিকালে ভয় পাওয়া খুবই স্বাভাবিক, তবে সেটি যেন আতঙ্ক হয়ে আপনার স্বাভাবিক জীবন থামিয়ে না দেয়। তাইতো এই বিষয়ে মানসিক প্রস্তুতি রাখুন। মনের এই প্রস্তুতি আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুভূতি বাড়িয়ে আপনাকে ট্রমা মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে, ভূমিকম্প বিষয়ে সচেতন হোন, আতঙ্কিত নয়।

লেখক: সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর ও হেলথকেয়ার অ্যাক্টিভিস্ট
ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা;
সহায়তায় : ০১৬৮৪৩৪২৪৪৯

চতুর্থ সমাজভিত্তিক ক্যানসার সেবা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

চতুর্থ সমাজভিত্তিক ক্যানসার সেবা সম্মেলন এবং কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ, ২২ নভেম্বর, শনিবার বিকেল ৩টায়, ঢাকার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনের থ্রি-ডি হলে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয় ছিলো, ক্যানসার সেবায় সামাজিক সম্পৃক্তি বৃদ্ধি, সমাজভিত্তিক ক্যানসার সেবার প্রতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তৎপরতা বৃদ্ধি, সমাজভিত্তিক ক্যানসার স্ক্রিনিং ও নিবন্ধন, ক্যানসার সেবা প্রাপ্তিতে পরিবারের দায়িত্ব, সমাজভিত্তিক প্রশমন সেবা, সমাজভিত্তিক ক্যানসার সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। পাশাপাশি ক্যানসার রোগীদের খাবার ও পুষ্টির গুরুত্ব, জীবন জয়ের গল্প, সমাজভিত্তিক ক্যানসার সেবার নানা উদ্যোগ ইত্যাদি।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক এম এ হাই, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি ড. আবু মুহম্মদ জাকির হোসেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল ও ডা. আরিফ মাহমুদ, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী ও অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, ক্যানসার প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার, নারী অধিকার সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. হালিদা হানুম আখতার, প্রশমন সেবার পথিকৃৎ অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক ও লেখক আসিফ হাসান নবী, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, পুষ্টিবিদ ইশরাত জাহান, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম, কৃষিবিদ ও নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের নেতা ড. মো. জয়নুল আবেদীন, স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য মাশহুদা খাতুন শেফালী, ক্যানসার প্রতিরোধ কর্মী মোসাররত সৌরভ, ক্যানসার জয়ী যোদ্ধা ফারজানা আলী লাবনী প্রমুখ।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন ও জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির।

জীবনকে ‘রিস্টার্ট’ করুন সাত উপায়ে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি আসে, যা আবেগীয়ভাবে ভীষণরকম ভেঙে দেয় মানুষকে। হোক সেটা প্রিয়জনের মৃত্যু, সম্পর্কে বিচ্ছেদ, অর্থনৈতিক ছন্দপতন অথবা টানা কাজ করার ক্লান্তি ইত্যাদি।

তবে সব পার করেই মানুষকে সামনে এগিয়ে চলতে হয়, জীবনকে নতুনভাবে শুরু করতে হয়। আর এভাবেই প্রকৃতি তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। জীবনকে রিস্টার্ট করতে বা পুনরায় নতুন গতিতে আনতে কিছু ছোট ছোট অভ্যাসের কথা জানিয়েছে ফেসবুকভিত্তিক পেইজ মিস ম্যাচিউর। চলুন জানি-

  • সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠুন। সকালবেলা ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠলে দৈনন্দিন কাজগুলো আগেভাগেই করে ফেলা যায়। এতে চাপ কমে।
  • নিজের কাজে ফোকাস করুন। কাজের ফলাফল ভালো আসতে শুরু করলে নিজের কাছেও শান্তি লাগবে।
  • নিজেকে সুখী রাখার চেষ্টা করুন। যেসব চিন্তা আপনাকে কষ্ট দেয়, সেগুলো বার বার মনের মধ্যে চর্চা করবেন না। যেসব কাজ আপনাকে সুখী রাখে সেগুলোই করুন।
  • সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনায় বিশ্বাস রাখুন। সবকিছু সবসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কিছু বিষয় প্রকৃতি বা সৃষ্টিকর্তার হাতে ছেড়ে দিতে হয়। এটি মাথায় রেখে সামনে আগান।
  • বেশি আড্ডা দেওয়া বা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মেশা কমিয়ে নিজেকে সময় দিন। বন্ধুচক্র ছোট রাখুন। আপনার আশেপাশে দুই-চারজন মানুষ থাকুক, তবে তারা আপনাকে বুঝতে পারুক। এটাই জরুরি।
  • কথা কম বলুন। কাজ বেশি করুন।
  • লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যান এবং কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।
- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.