Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 6

শীতে শিশুর যত্নে আট করণীয়

ডা. শাকিল মাহমুদ

আজকের সুস্থ-সবল শিশু আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতের কর্ণধার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য চাই বাড়তি যত্ন, বিশেষ করে এই শীতের সময়ে।

শীতে শিশুরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। এই সময়ে তাদের সুস্থ রাখতে করণীয় রইলো পাঠকদের জন্য—

  • শীতে শিশুদের প্রােটিন জাতীয় খাবার বেশি দিতে হবে।প্রোটিন শরীরকে গঠন করতে সাহায্য করে। শিশুর বৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে এই ধরনের খাবার বেশি খাওয়ান। যেমন: মাছ, মাংস, ডাল ইত্যাদি।
  • শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল জাতীয় খাবার খেতে দিন। বিশেষ করে শীতের রঙিন ফলমূল, শাক-সবজি খাওয়ান। গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখুন।
  • হাত ধোয়া বা গোসলের সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করান।
  • প্রতিদিন গোসল করাবেন। এতে বিভিন্ন চর্মরোগ থেকে রেহাই পাবে।
  • গোসলের পর শিশুর ত্বকে বডি অয়েল বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
  • শীতে যেহেতু আবহাওয়া শুষ্ক থাকার কারণে ধুলা-বালি বেশি হয়, তাই শিশুরা যেন বাহিরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • বাহির থেকে আসার পর শিশুর হাত-মুখ অবশ্যই কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে দিন।
  • শীতে ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, ফুটবল খেলায় উৎসাহিত করুন। কারণ, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

লেখক : চিকিৎসক, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ (সাভার)

নবজাতকের গোসল: আট বিষয় খেয়াল রাখুন

ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন

একটি শিশু পৃথিবীতে এলে পরিবারের জন্য নিয়ে আসে আনন্দের বার্তা। যে প্রথম মা হয়েছে তার মধ্যে ভীতি কাজ করে কেমন করে গোসল করাবে এই ছোট্ট শিশুটিকে।

অভিজ্ঞ মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও অনেক সময় গোসলের নিয়মে কিছু ভুল করে। যেহেতু ছোট্ট এই শিশুটির ত্বকও থাকে তার মতোই নাজুক ও সংবেদনশীল, তাই গোসলে জন্য চাই বিশেষ যত্ন ও খেয়াল। নবজাতকের গোসলের সহজ ও সঠিক নিয়মগুলো রইলো পাঠকদের জন্য।

  • যে কোনো ঋতুতেই গোসলের পানি হতে হবে ঈষদুষ্ণ অর্থাৎ খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা হবে না।
  • খুবই সাবধানে অল্প অল্প পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে।
  • খেয়াল রাখতে হবে, যাতে নাক বা কানে পানি না ঢোকে। গোসলের আগে নাক ও কানে হালকা বেবি অয়েল দিলে পানি ঢোকার ভয় থাকে না।
  • নবজাতকের নাভি ও তার চারপাশে সহজেই জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে। তাই জন্মের প্রথম দু’সপ্তাহ গোসলের পর অ্যালকোহল প্যাড দিয়ে মুছে নিতে হবে।
  • বাথ স্পঞ্জ ও মাইল্ড বেবি সোপ বা ক্লিনজার দিয়ে আলতো করে শিশুকে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  • গোসলের সঙ্গে সঙ্গেই নরম তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিন।
  • এরপর শিশুর ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
  • শিশুর ব্যবহৃত ময়েশ্চারাইজার, ক্লিনজার সবকিছুই হবে আলাদা। অনেক সময় মায়েরা নিজেদের ব্যবহৃত ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার শিশুর শরীরে ব্যবহার করে থাকে, যেটা একেবারেই ঠিক নয়।

লেখক: প্রধান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ; রিজুভা ওয়েলনেস।

মানুষ আপনাকে পাত্তা দেয় না কেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবারই আবেগীয় চাহিদা। তবে আপনি হয়তো অনেক ভালো আচরণের পরেও, অন্যের জন্য অনেক করার পরেও মানুষ আপনাকে সঠিক সম্মান বা গুরুত্বটা দেয় না।

অন্যকথায় বলতে গেলে, তেমনভাবে পাত্তা পান না আপনি বা শ্রদ্ধাটা দেওয়া হয় না আপনাকে। এর কারণ কী? চলুন জানি—

  • আপনি হয়তো বেশি হাসেন, নিরব কম থাকেন। এই ধরনের বিষয় সাধারণত আপনাকে অন্যের কাছে গুরুত্বহীন করে দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ গম্ভীর লোকজনকে বাড়তি সমীহ করে।
  • আপনি হয়তো রহস্য করতে জানেন না। মনের কথা বা নিজের ব্যক্তিগত কথা অন্যদের কাছে বেশি বলে ফেলেন।
  • আপনাকে অসম্মান করে মানুষ হয়তো সহজেই পার পেয়ে যায়। আর আপনি বার বারই সেটা সহ্য করেন।
  • অন্যের কথা ও মতামতকে সবসময়ই বেশি গুরুত্ব দেন। আর তাই নিজের গুরুত্ব হারান।
  • আপনি হয়তো অন্যের সঙ্গে খুবই বিনয়ী। আসলে বেশি নরম হওয়াও এক ধরনের বিপদ।
  • নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে আপনি ঘটনার বেশি বিশ্লেষণ দেন। আসলে যে সঠিক তার বেশি প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না।
  • আপনি কাকে কতটুকু সুযোগ দেবেন সেই সীমারেখা টানতে জানেন না।
  • আপনি সবকিছুতেই ‘হ্যাঁ’ বলেন। কষ্ট হলেও অন্যকে ভালো রাখতে চান সবসময়। তবে, কখনো কখনো অবস্থা অনুযায়ী ‘না’ বলাও জরুরি।
  • আপনি একা থাকতে ভয় পান। তাই আজে-বাজে মানুষও আপনার সঙ্গী হয়ে যায়। আর এসব ভণ্ড বন্ধুরা একসময় অবমূল্যায়ন করতে শুরু করে আপনাকে। আসলে একা থাকার অভ্যাস সবসময় দুর্বলতা নয়। এটাও শক্তি।
  • আপনার স্বভাবে হয়তো একটি ঘ্যান ঘ্যান করার প্রবণতা রয়েছে, যা অন্যকে বিরক্ত করে। এই জন্যও আপনার কথাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

সূত্র: অল অ্যাবাউট বুকস

শীতে সুস্থ থাকতে নয় করণীয়

ডা. শাকিল মাহমুদ

শীতে পরিবেশের তাপমাত্রা উঠানামা করে। মানবদেহের তাপমাত্রাও উঠানামা হয়। এতে মানবদেহের বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়ার বিঘ্ন ঘটে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

সাধারণত শিশু, সন্তানসম্ভবা নারী, প্রবীণরা শীতে বেশি আক্রান্ত হয়। এই সময়ের প্রচলিত অসুখ হলো— ঠান্ডা-কাশি, গলাব্যথা, অ্যাজমা, অ্যালার্জি, নিউমোনিয়া, সিওপিডি ইত্যাদি। শীতে সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

  • ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন: মাল্টা, লেবু, কমলা ইত্যাদি।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শীতে ব্যায়াম করতে হবে। বাইরে না যেতে পারলেও ঘরে করা যায় এমন ব্যায়াম করুন।
  • এই সময় ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে। ত্বকের সমস্যা এড়াতে ময়েশ্চারাইজার, জলপাইয়ের তেল ও নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।
  • এ ছাড়া ভিটামিন ‘ই’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘কে’ ত্বকের জন্য উপকারী। এই ধরনের ভিটামিন জাতীয় খাবার বেশি করে খান। যেমন: কাঠবাদাম, ব্রকলি, আমলকী, পেয়ারা, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি।
  • শীতে জয়েন্টব্যথা বাড়তে পারে। তাই শীতের শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
  • শীতে ধুলা-বালি থেকে বাঁচতে মাস্ক পরুন। এ ছাড়া ঘর পরিষ্কারের সময়ও মাস্ক ব্যবহার করুন।
  • ঠান্ডা-কাশি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন।
  • শীতের সবজিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী। এগুলো খেতে হবে। যেমন: গাজর, শসা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি।
  • বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী। তাই অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।

লেখক : চিকিৎসক, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ (সাভার)

অ্যাডিনোমায়োসিস: কী খাবেন, কী খাবেন না

নিশাত শারমিন নিশি

জরায়ুর ভেতরের একটি স্তর হলো এন্ডোমেট্রিয়াম। অ্যাডিনোমায়োসিস হলে এই এন্ডোমেট্রিয়ামের কোষগুলো জরায়ুর পেশিতে— যাকে বলা হয় মায়োমেট্রিয়াম— সেখানে অস্বাভাবিকভাবে ঢুকে পড়ে।

এই সমস্যার নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে ভারী বা বড় জরায়ু, দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা, পিরিয়ডের সময় বেশি রক্তপাত হওয়া, পিরিয়ড বেশিদিন চলা, যৌনমিলনে ব্যথা অনুভব হওয়া ইত্যাদি অ্যাডিনোমায়োসিসের লক্ষণ।

সাধারণত এ ধরনের গাইনিগত সমস্যায় কিছু খাবার কম খাওয়া বা একেবারে এড়িয়ে যাওয়া ভালো। পাশাপাশি এই রোগে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে অনেক ধরনের অসুবিধা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

যেসব খাবার এড়িয়ে যাবেন

  •  প্রক্রিয়াজাত খাবার;
  • ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার;
  • চা-কফি;
  • ফ্রিজে রাখা অনেক দিনের বাসি খাবার;
  • ভাজা-পোড়া।

যেসব খাবার খেতে পারেন

  • জিরা পানি, তুলসী পানি ইত্যাদি ডিটক্স ওয়াটার;
  • ওটসের খিচুড়ি বা রুটি খেতে পারেন;
  • চিড়ার পোহা খাওয়া যেতে পারে;
  • স্ন্যাক্স হিসেবে সালাদ রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মৌসুমি ফলের সালাদ উপকারী। এগুলো বরাবারই স্বাস্থ্যকর;
  • গরমের সময় ডাবের পানি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে;
  • মুগডালের স্প্রাউট খেতে পারেন, তবে সেদ্ধ করে খাওয়া ভালো;
  • অনেকের প্রশ্ন থাকে দুধ খাবেন কিনা? আসলে দুধ খাওয়াতে সরাসরি কোনো নিষেধ নেই। তবে কম খাওয়া ভালো। মাঝেমধ্যে বাদামের দুধ, নারকেল দুধও খেতে পারেন। তবে রোস্টেড বাদাম, ক্যানে থাকা বাদাম এড়িয়ে যেতে হবে।

লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ; পপুলার মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল

বয়ঃসন্ধিকালে ত্বক ও চুলের যত্নে দুই ভুল

ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন

সাধারণত ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সকেই আমরা বয়ঃসন্ধি বলি। ত্বক ও চুলের যত্নে বয়ঃসন্ধিকাল বেশ ভালো সময়। শৈশবে শিশুর ত্বক ও চুলের যত্ন সাধারণত মা বা পরিবারের অন্য় সদস্যরা নেন। তবে একজন মানুষ কৈশোরে পা দিলে সে নিজেকে বুঝতে ও জানতে শুরু করে।

এই সময় থেকেই ত্বক ও চুলের যত্ন সঠিকভাবে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে সেগুলো সুস্থ, সুন্দর ও রোগমুক্ত থাকে। সবচেয়ে বড় বিষয়, প্রিম্যাচিউর অ্যাজিং— অর্থাৎ বয়সের আগেই ত্বক ও চুল বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

বয়ঃসন্ধি ছেলেমেয়েরা ত্বক ও চুলের যত্নে সাধারণত দুই ধরনের ভুল করে। একটি হলো, যত্নে অনীহা; অন্যটি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া।

যত্নে অনীহা


বয়ঃসন্ধিকালে অনেকে মনে করে, এই সময় ত্বক ও চুলের যত্নের প্রয়োজন নেই। এক ধরনের উদাসীনতা দেখা যায় তাদের ভেতর। সেই সঙ্গে তাদের জীবনযাপনও থাকে অনিয়ন্ত্রিত। সঠিক পুষ্টিকর খাবার না খেয়ে সাধারণত জাঙ্কফুড, ফাস্টফুড বা ভাজাপোড়া-জাতীয় খাবারে তারা অভ্যস্ত থাকে। তার ওপর রয়েছে ঠিকমতো না খাওয়া, ঘুমের ত্রুটি ইত্যাদি। এখন শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি। এসবের প্রভাব তাদের শরীরের সঙ্গে ত্বক ও চুলেও পড়ে।

অনেকে আবার এতো উদাসীন, নিয়ম করে চুলের যত্নটাও নেয় না। আঁচড়ানো, পরিষ্কার করা, সুন্দর করে মুছে বাতাসে শুকানো— সেটিও তারা করে না বা জানে না। এতে চুল পড়া থেকে শুরু করে মাথার ত্বকে সমস্যা বা উকুন ইত্য়াদি হতে দেখা যায়।

অনেকে এই বয়সে চিরুনি ও তোয়ালেও একসঙ্গে ব্যবহার করে। এতে চুলের সমস্যা থেকেই যায়।


প্রয়োজনের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া

কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই বয়সের ছেলেমেয়েরা ত্বকের যত্নে একটু বেশি উৎসাহী। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিত্য়নতুন পণ্য, চলতি মেকআপ ট্রেন্ড সম্পর্কে জানা যায় খুব সহজে। এতে বিভিন্ন পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয় তারা এবং কিছু না বুঝেই সেগুলো কিনে ব্যবহার করতে শুরু করে। ত্বক ও চুলের ধরন না বুঝে এগুলো ব্যবহারের কারণে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আবার দেখা যায়, সঠিক বয়সের আগেই এমন কিছু পণ্য মাখছে, যেগুলো ত্বকের জন্য় ক্ষতিকর।

অনেকের আবার এই বয়সে মেকআপের প্রতিও ঝোঁক থাকে। তারা মেকআপ বেশি করে। এতে ত্বকের সমস্যা হয়। চিন্তার বিষয় হলো, মেকআপ করার পর তারা ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করে না।

হেয়ার স্টাইলিংয়ে অনেকেই ব্লো ড্রাইসহ নানাভাবে চুল হিট করতে চায়। তবে বুঝতে হবে, অতিরিক্ত ঠান্ডা ও অতিরিক্ত গরম–দুটোই চুলের টেক্সারের জন্য ক্ষতির। অনেকে রং করে ও রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে। এসবও চুলের জন্য সমস্যার।

লেখক: প্রধান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ; রিজুভা ওয়েলনেস।

আইএফএসডি ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ: করিম মিয়ার চায়ের দোকান

আশিকুর রহমান

জীবনের প্রতিটি সংগ্রামই একেকটি গল্প। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে প্রতিদিন পথচলা বনানী ২৫ নম্বর রোডের করিম মিয়ার গল্পও তেমনই এক অনুপ্রেরণা।

সংসারের হাল ধরতে তিনি বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলেন নিজের একটি ছোট দোকান দিয়ে নতুনভাবে শুরু করতে। তবে সুযোগ না থাকায় তাঁর সেই স্বপ্নটি বারবার থেমে যাচ্ছিল।

আজ সেই স্বপ্নটিই বাস্তবে রূপ নিল আইএফএসডি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে। গ্রোওয়েল প্রকল্পের আওতায় গত ২১ নভেম্বর করিম মিয়ার হাতে একটি নতুন চায়ের দোকান (ভ্যান) তুলে দিয়ে তাঁর জীবনে নতুন আলো যোগ করলাে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু একটি দোকান নয়—এটি হলো তাঁর পরিবারকে নিরাপত্তা, স্থিতি ও মর্যাদার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নতুন দরজা।

ছবি: আইএফএসডি ফাউন্ডেশন
ছবি: আইএফএসডি ফাউন্ডেশন

উদ্বোধনী মুহূর্তে করিম মিয়ার চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার অশ্রু, আর চারপাশে উপস্থিত সবার মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। উপস্থিত ছিলেন আইএফএসডি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মো. ফাহাদ উজ্জামান খান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. মুসলিম উদ্দিন, মহা-সচিব মো. মেহেদী হাসান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার বিজয়, ট্রেজারার মো. আলাউদ্দিন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. ইদ্রিস, তানিজা হোসাইন, সাইমন, আশিক। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে।

আইএফএসডি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে জানান, একজন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে কোটি টাকার প্রয়োজন নেই—প্রয়োজন শুধু আন্তরিকতা, সদিচ্ছাও একটি সুযোগ। করিম মিয়ার এই চায়ের দোকান হয়তো ছোট, তবে এর ভেতরে রয়েছে একটি পরিবারের নতুন জীবনের আশা।

ছবি: আইএফএসডি ফাউন্ডেশন
ছবি: আইএফএসডি ফাউন্ডেশন

মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে ভবিষ্যতেও সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা।

পিসিওস হলে খেতে পারেন পাঁচ ধরনের খাবার

লিনা আকতার

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো পিসিওস। এটি একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা, যা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নারীকে প্রভাবিত করে।

ধারণা করা হয়, সন্তান ধারণ ও প্রজনন বয়সের ১০জন নারীর মধ্যে একজনের পিসিওস রয়েছে। সাধারণত এই সমস্যায় প্রজনন হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে উর্বরতা সংক্রান্ত বিষয়, অনিয়মিত মাসিক, ডিম্বাশয়ে সিস্ট, ব্রণ, ওজন বৃদ্ধি, অবাঞ্চিতস্থানে অতিরিক্ত চুল গজানো, চুল পড়া, বন্ধ্যত্ব, মেজাজের পরিবর্তন ইত্যাদিসহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়।

পিসিওস কীভাবে হয়?
গবেষকরা এখনও পর্যন্ত এর সঠিক কারণ চিহ্নিত করতে পারেনি। আমরা যা জানি তা হলো, পিসিওস প্রতিটি ব্যক্তিকে আলাদাভাবে প্রভাবিত করে। প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে কিছুটা উপকার হতে পারে। সেই সঙ্গে সঠিক পুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

পিসিওস সঠিকভাবে চিকিৎসা করা না হলে এবং খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে, টাইপ-টু ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও বন্ধ্যত্বের মতো দীর্ঘমেয়াদে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

পিসিওস হলে খাওয়া উপকারী এমন পাঁচ ধরনের খাবারের কথা চলুন জানি-

প্রোটিন
চর্বিহীন প্রোটিন ও তৈলাক্ত মাছ খেতে হবে। যেমন: ইলিশ, পাঙ্গাস, রুই, টুনা, স্যামন, সারদিন ইত্যাদি। এ ছাড়া বাড়িতে চাষ করা ও অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়া মুরগির মাংস, ডিম খাওয়া ভালো।

উদ্ভিদভিত্তিক উৎস
সয়াবিন, টফু, ডাল ইত্যাদি খেতে পারেন।

স্বাস্থ্যকর চর্বি
বিভিন্ন প্রকার বাদাম খাওয়া যেতে পারে। যেমন: আখরোট, পেস্তা বাদাম, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম ইত্যাদি। পাশাপাশি বীজ জাতীয় খাবার খেতে পারেন। যেমন: তিসিবীজ, কুমড়ো বীজ, সূর্যমুখী বীজ ইত্যাদি। পাশাপাশি জলপাই তেল, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি উপকার করবে।

প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক
প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক পেতে রসুন, পেঁয়াজ, বিটরুট, বাঁধাকপি, স্যুরক্রট, কিমচি, অ্যাসপারাগাস, দই, পান্তাভাত ইত্যাদি গ্রহণ করতে পারেন।

কম জিআই ডায়েট
কম জিআই ডায়েট রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে। এটি পিসিওসের লক্ষণগুলাে কমাতে উপকারী। কম জিআইযুক্ত খাবার ইনসুলিনের মাত্রা এবং অ্যান্ড্রোজনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে। যেমন: গোটা শস্য, স্টার্চবিহীন সবজি ইত্যাদি।

লেখক: পুষ্টিবিদ;
রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

 

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.