সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
সৌন্দর্যবোধের চর্চায় চুল সব সময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনজুড়ে ছিল। সাহিত্যেও ঠাঁই নিয়েছে দীঘল, ঘন-কালো চুলের মাদকতা। দেহের এই অঙ্গ মুখের সৌন্দর্যকে অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। আর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও সুন্দর চুল প্রায় সবারই পছন্দ।
তবে চুলকে সুন্দর রাখতে এর যত্ন নিতে হয় ষোলোআনা। দেহের এই অঙ্গের যত্নে বহুকাল আগে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে তেল। কিছু তেল রয়েছে, যেগুলো চুলকে সুস্থ রাখতে বেশ কার্যকর। চুলের জন্য উপকারী এমন কিছুর কথা চলুন জানি–
কোকোনাট অয়েল বা নারকেল তেল
- চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নারকেল তেল অন্যতম। এটি চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই তেল প্রোটিনের ক্ষয় কমাতে পারে। এতে চুল মজবুত হয় এবং কম পড়ে।
- এটিতে থাকা ফ্যাটি এসিড চুলের ময়েশ্চার বা আর্দ্রতা ধরে রাখে।
- নারকেল তেলের মধ্যে থাকা অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান খুশকির সঙ্গে লড়াই করে এবং স্ক্যাল্পের বিভিন্ন সংক্রমণ কমায়।
- তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে ফলিকল ভালোভাবে তৈরিতে সহযোগিতা হয়। এটি চুলের জন্য জরুরি। এই তেল কিউটকলকে নরম রাখে।
- তাপ, দূষণ ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নারকেল তেল ব্যবহার করলে এসব ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
ক্যাস্টর অয়েল বা রেড়ির তেল
- ক্যাস্টর অয়েলকে রেড়ি গাছের তেল বা ভেন্নার তেলও বলা হয়। এই তেলে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ফ্যাটি এসিড ও পুষ্টি। এটি শুষ্ক চুলকে বেশ ভালোভাবে আর্দ্র ও কোমল করে।
- এটি চুল পড়া ও আগা ফাটা প্রতিরোধে উপকারী।
- ক্যাস্টর অয়েলে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। এসব উপাদান একত্রে খুশকির সঙ্গে লড়াই করে, চুলকে নরম রাখে এবং স্ক্যাল্পের প্রদাহ কমায়।
- এটি স্ক্যাল্পের পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে। কেমিক্যালের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে চুলকে পুনরুদ্ধার করে।
- এই তেলের নিয়মিত ব্যবহারে চুল হয় স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে। এটি দেহের এই অঙ্গটিকে ঘন ও মজবুত করতে কার্যকর। এই তেল চুলের জট বা কুঞ্চিত ভাব কমায়।

অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল
- চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এই তেলও উপকারী। জলপাইয়ের তেলের মধ্যে থাকা অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান খুশকি থেকে চুলকে সুরক্ষা দেয়।
- এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এসব উপাদান খসখসে ভাব ও শুষ্কতা দূর করে এবং চুল নরম রাখে।
- জলপাইয়ের তেল ব্যবহারে চুলে এক ধরনের সুরক্ষা দেয়াল তৈরি হয়। এতে তাপ ও পরিবেশগত ক্ষতি থেকে এই অঙ্গ রক্ষা পায়।
- এই তেলও চুলের বাইরের কিউটিকলকে নরম করে। এতে চুল আরও ঝলমলে হয়।
- এর মধ্যেও রয়েছে ফ্যাটি এসিড। এটি চুলকে আর্দ্র রাখতে বেশ উপকারী। এই তেল ব্যবহারে চুলের ভঙ্গুরতা প্রতিরোধ হয় এবং চুল পড়া কমে। এটি আগা ফেটে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দেয়।
মেথির তেল
- মেথির তেলে রয়েছে প্রোটিন ও আয়রন। এগুলো চুলের বৃদ্ধির জন্য ভালো।
- এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান ছত্রাকের সঙ্গে লড়াই করে। এতে খুশকি কমে।
- এই তেল ব্যবহারে চুলের ফলিকল মজবুত হয়। এতে চুল পড়া কমে। পাশাপাশি সাদা হওয়া প্রতিরোধ হয়।
- শুষ্কতা ও চুলকানি দূর করে এই তেল স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।
- এটি আর্দ্রতা রক্ষা ও কন্ডিশনের কাজ একত্রে করে। এতে চুল কোমল ও ঝলমলে হয়।

আমন্ড অয়েল বা কাঠবাদামের তেল
- কাঠবাদামের তেল চুলকে আর্দ্র করতে দারুণভাবে কাজ করে। চুলকে নরম ও মসৃণ করতে শ্যাম্পু করার আগে এই তেল ব্যবহার করত পারেন।
- এই তেলের মধ্যে রয়েছে বায়োটিন (ভিটামিন ‘বি৭’), ভিটামিন ই ও ম্যাগনেসিয়াম। এগুলো চুলকে শক্ত করে, ফলিকল পুনরুদ্ধার করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে।
- নিয়মিত এই তেলের ব্যবহারে কিউটিকল মসৃণ হয় এবং শুষ্কতা দূর হয়। এটি চুলের ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে; চুল ঝরঝরে হয়।
- কাঠবাদামের তেলে থাকা অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান স্ক্যাল্পের শুষ্কতা ও চুলকানি ভাব কমায়।
- এটি ক্ষতিগ্রস্ত চুল পুনর্গঠনে সাহায্য করে; গোড়া থেকে মজবুত করে। এটি সান ড্যামেজ বা সূর্যের আলোর কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে চুলকে সুরক্ষা দেয়।
অ্যালোভেরার তেল
- অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ভিটামিন, মিনারেলস ও অ্যামাইনো এসিড। এসব উপাদান চুলের ফলিকলের যত্ন নেয় এবং ভঙ্গুরতা কমায়; চুল পড়া প্রতিরোধ হয়।
- এই তেলের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ও স্যালিসাইলিক এসিড। এগুলো প্রদাহ কমায় এবং চুলকানি প্রতিরোধ করে।
- এই তেল মাথার স্ক্যাল্প থেকে মৃত কোষ দূর করে, খসখসে ভাব কমায় এবং খুশকি প্রতিরোধ করে।
- এটি স্ক্যাল্পের পিএইচের ভারসাম্য রক্ষা করে। এতে চুলের বৃদ্ধি ভালোভাবে হয়।
- অ্যালোভেরার মধ্যে থাকা এনজাইম চুলকে আলতোভাবে পরিষ্কার করে। এই তেল ব্যবহারে মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এতে বৃদ্ধি ভালো হয়।
আমলা অয়েল বা আমলকীর তেল
- আমলার তেলে থাকা পুষ্টিগুণ চুলকে গোড়া থেকে শক্ত করে, পড়া কমায়। এই তেল ব্যবহারে চুল ঘন হয়।
- এর মধ্যেও রয়েছে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এগুলো সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। মৃতকোষ কমায় এবং খুশকি দূর করতে কার্যকর।
- আমলকীর তেল প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে খুব ভালো। এটি মলিনতা কমিয়ে চুলকে স্বাস্থ্যােজ্জ্বল রাখে।
- এটিতে থাকা উচ্চ পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘সি’ অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সঙ্গে লড়াই করে এবং মেলানিন তৈরিতে সহায়তা করে। এতে চুল দেরিতে পাকে।
- পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব থেকে চুলকে সুরক্ষা দেয়।

এখানে আলোচনা করা প্রত্যকটি তেলের রয়েছে নিজস্ব গুণ। এগুলো আলাদা করে ব্যবহার করা এবং জোগাড় করা একটু কষ্টসাধ্যই বটে। তবে এই ঝামেলাপূর্ণ বিষয়টি সহজ করে দিয়েছে বিউটি কেয়ার প্রোডাক্ট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ‘উজ্জ্বলা কেয়ার’। উপরে উল্লেখিত এই সাতটি তেলের প্রতিটির সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘উজ্জ্বলা কেয়ার অ্যান্টি হেয়ারফল হারবাল হেয়ার অয়েল’।
এই তেলটি ক্লিক্যালই পরীক্ষিত। এটি চুলকে ঘন, কালো ও মজবুত করতে সাহায্য করে। মাত্র চার সপ্তাহ ব্যবহারে চুল পড়া অনেকটাই কমে যায়। এ ছাড়া চুলের মলিনতা ও ভঙ্গুরতা প্রতিরোধেও সুরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করে এই তেল। তাই, চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, চুল পড়া কমাতে এবং সব তেলের গুণাগুণ একত্রে পেতে আপনিও ব্যবহার করতে পারেন উজ্জ্বলা কেয়ারের এই পন্যটি।


