Friday, September 25, 2026
spot_img
Home Blog Page 14

বর্ষার দিনে পুদিনা পাতার চা পান করবেন কেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বাইরে ঝুম বৃষ্টি। কখনো থামছে, আবার খানিকবাদেই হয়তাে কালো মেঘ আকাশ ঘন করে এসে হাজির; আবার বৃষ্টি। এমন দৃশ্য বর্ষার দিনে হরহামেশার। তবে এমন আবহাওয়া চা প্রেমীদের তেষ্টাটা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় হয়তো।

আর তা পুদিনা পাতার চা হলেতো কথাই নেই। স্বাদের যেমন ভিন্নতা আসে, পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত উপকারও হয়। বর্ষার দিনে পুদিনা পাতার চা পানের কিছু উপকারিতা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্যা হেলথ সাইট ও এনডিটিভি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
পুদিনার মধ্যে রয়েছে মেনথল। এটি নাক বন্ধ থাকা প্রতিরোধ করে নাসারন্ধ্রকে পরিষ্কার করে এবং সহজে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সাহায্য করে। এ ছাড়া পুদিনার মধ্যে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও প্রদাহরোধী উপাদান বর্ষায় হওয়া সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর প্রতিরোধে উপকারী।

হজম ভালো করে
পুদিনা পাতার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পাইথোনিউট্রিয়েন্টস। পুদিনা পাতার চা পাকস্থলী ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি পানে হজমের সমস্যা, পেট ফোলাভাব ও গ্যাস কমতেও উপকার হয়।

বিষণ্ণতা কমায়
সাধারণত প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় আচরণ আমাদের মনেও প্রভাব ফেলে। বর্ষার মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়া অনেক সময় অবসাদ বা বিষণ্ণতা তৈরি করতে পারে। পুদিনার গন্ধ এবং এর মধ্যে থাকা রিফ্রেশিং উপাদান কিছুক্ষণের জন্য হলেও মনকে চাঙা করে বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।

বর্ষার দিনের খাবার: কী খাবেন ও এড়াবেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বর্ষায় ঠান্ডা-কাশি, জ্বর ও পানিবাহিত রোগ ইত্যাদি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই এই সময় খাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন সতর্কতা মেনে চলতে হয়, তেমনি পুষ্টিকর খাবারও খেতে হয়।

বর্ষায় খাবার-দাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ জানিয়েছেন পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি। চলুন জানি-

  • বর্ষায় বাহিরের খোলা খাবার খাওয়ার বেলায় সাবধানতা মেনে চলতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, ভ্যানে যেসব খাবার বিক্রি করা হয় (বিশেষ করে সবজি) সেগুলোতে অণুজীব বা ব্যকটেরিয়া তৈরি হয়। এসব শাক-সবজি কিনলে অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া ভালো। আধাসিদ্ধ খাওয়া যাবে না।
  • এই সময় যেহেতু আবহাওয়ায় একটি পরিবর্তন আসে, তাই অনেকের গলাব্যথা, গা ম্যাজ ম্যাজ করা ইত্যাদি ঝামেলা হতে দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে আদার রস, আদার চা, মসলার চা ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সকালে তুলসি পাতা আদার রস খাওয়া যায়।
  • আবহাওয়া ভেজা ভেজা থাকার কারণে অনেকে আবার দেখা যায়, পানিও কম খায় এই সময়। পানিশূন্যতা প্রতিরোধে স্যুপ জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। তবে ভালো হয়, বাসার তৈরি স্যুপ খেতে পারলে। এটি সবজি, মুরগির মাংস, ডিম দিয়ে তৈরি করা যায়। স্যুপে সেলেনিয়াম থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।
  • এ ছাড়া এই সময়ে ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের ভাইরাস জ্বর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই সময়ে যেই ফলগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো খাদ্যতালিকায় রাখুন। বিশেষ করে জাম্বুরা, পেয়ারা, আমড়া ইত্যাদি ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় ফলগুলো খাওয়া জরুরি।

বর্ষাকালে ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধে করণীয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

আবহাওয়ার উঠা-নামা, আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়া, ঘর ও বাহিরে একটি স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থা ইত্যাদি কারণে বর্ষায় সাধারণত কমন কোল্ড বা সাধারণ ঠান্ডা-কাশির সমস্যা দেখা যায়। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কিছু উপায় বাতলেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট কন্টিনেন্টাল হসপিটাল।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান

বর্ষায় এসব ঠান্ডা-কাশি-জ্বর প্রতিরোধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবার বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় যোগ করুন ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার। যেমন: আমড়া, আমলকী, লেবু, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা ইত্যাদি।

শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ যেন ভালোভাবে দূর হয়ে যেতে পারে তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। দিনে অন্তত ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান জরুরি। সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমান। এতে শরীরের কোষগুলো পুণর্গঠন হতে সাহায্য হবে।

মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়মিত ধ্যান ও যোগ ব্যায়ামের অভ্যাস করতে পারেন। কারণ, মানসিক চাপ শারীরিক সমস্যার বড় কারণ।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
বাহির থেকে ঘরে এসে অবশ্যই হাত ও পা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। নোংরা বা ময়লা হাতে নাক-মুখ- চোখ ধরবেন না। জীবাণু দূর করার জন্য কেবল হাতের তালু নয়, কনুই পর্যন্ত সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

কাপড় নির্বাচনে সতর্ক হোন
বর্ষায় যেহেতু পোশাক দ্রুত ভিজে যায়, তাই এমন কাপড় পরুন, যা ভিজলেও দ্রুত শুকিয়ে যাবে। পাশাপাশি বাহিরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে রাখুন রেইনকোট। আর এমন প্রয়োজনে প্লাটিকের জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। এতে জুতা ভিজলেও পানি দ্রুত সরে যাবে।

ভেষজ পানীয় পান
এই সময়টায় সুস্থ থাকতে নিয়মিত পান করতে পারেন ভেষজ পানীয়। যেমন: লেবু-মধু-পানি। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে কয়েক টুকরো লেবুর রস মিশিয়ে এতে যোগ করতে পারেন এক চামচ মধু।

পাশাপাশি খেতে পারেন হলদু-দুধ। এক গ্লাস হালকা গরম দুধে কয়েক চিমটি হলদু মিশিয়ে খেতে পারেন। হলুদে থাকা প্রধাহরোধী উপদান ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধ করবে।

এ ছাড়া খেতে পারেন মসলা চা। লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা সব একত্রে ফুটিয়ে সেই পানি পান করতে পারেন।

ব্যায়াম
ব্যায়াম যে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে তা তো সবারই জানা। তবে বর্ষায় যেহেতু বাহিরে ব্যায়াম করাটা কঠিন, তাই ঘরেই করতে পারবেন এমন কিছু বিষয় শিখে নিন। এই ক্ষেত্রে যোগব্যায়াম, পেশি স্ট্র্যাচেনিং ইত্যাদি করুন। ভালো লাগলে গান ছেড়ে একটু নেচেও নিতে পারেন। এতে ব্যায়ামের কাজ হবে।

সর্বপোরি, বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যগত কিছু বিষয় মেনে চলে নিজের যত্ন নিলে ফিট থাকতে পারবেন এই সময়টায়।

বন্ধুত্বের গল্প হোক ফ্যাশনে, ‘রঙ বাংলাদেশ’- এর আয়োজনে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বন্ধুত্ব মানে চুপচাপ পাশে বসে থাকার মতো এক সম্পর্ক—যেখানে না বললেও সব বলা হয়ে যায়। বন্ধুত্ব হলো এমন এক বোঝাপড়া, যেখানে ব্যস্ত সময়ের মাঝেও একটি ছোট্ট বার্তা—“কেমন আছিস?”—অথচ তার ওজন পুরো পৃথিবীর সমান।

এই মজবুত বন্ধনকে আরো দৃঢ় করতেই ‘রঙ বাংলাদেশ’- এর বন্ধু দিবস আয়োজন। এই দিবসে রঙ বাংলাদেশ জানাতে চায় কৃতজ্ঞতা সেইসব মানুষকে, যারা রঙহীন দিনগুলোতেও রঙের ছোঁয়া দিতে জানে। যাদের জন্য মন খারাপের দিনেও ভালো লাগার মতো কিছু থাকে।

রঙ বাংলাদেশ বিশ্বাস করে—একটি ভালো পণ্য যেমন দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের মতোই জীবনকে সহজ করে, ঠিক তেমনি একটি গভীর সম্পর্কও জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
বন্ধুত্ব মানে সব কিছুর পরেও ভালোবাসা বেঁচে থাকা। বন্ধুত্ব মানে—রঙ বাংলাদেশ! বিশ্বাসের মতো, অনুভবের মতো, আপন একজনের মতো পাশে থাকা। আর তাই বন্ধুদিবসে বন্ধুর সঙ্গে আদান প্রদান হোক রঙ বাংলাদেশ এর বিশেষ উপহার সামগ্রীও!

এই দিবসের আয়োজন রয়েছে রঙ বাংলাদেশের ১৯টি আউটলেটেই। এ ছাড়াও ঘরে বসে কেনাকাটার জন্য রয়েছে ই-কমার্স সাইট www.rang-bd.com এবং ফেসবুক পেজ www.facebook.com/rangbangladesh. সারাদেশের যেকোনো প্রান্তে অনলাইন অর্ডারে থাকছে ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধাসহ হোম ডেলিভারি সুবিধা। ফোন/হোয়াটসঅ্যাপ 01777744344 নাম্বারে রয়েছে কাস্টমার সার্ভিস সাহায্যকারী এবং 01799998877 নম্বরে বিক্রয় প্রতিনিধি।

বিশ্ব যোগব্যায়াম দিবস: যোগব্যায়াম করবেন কেন?

সায়মা সাফীজ সুমী

বিশ্ব যোগব্যায়াম দিবস আজ। এবার যোগব্যায়াম দিবসের প্রতিপাদ্য ‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্যের জন্য যোগব্যায়াম’। মূলত, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং আধ্যাত্মিক সংযোগ ঘটায় এই ব্যায়াম। যোগব্যায়াম কেন করা জরুরি এই বিষয়ে রইলো আজকের আলোচনা।

  •  ইয়োগা বা যোগব্যায়াম করলে আমাদের কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ হয়। এতে মানসিক চাপ কমে।
  • যেহেতু ইয়োগা করলে মানসিক চাপ কমে, তাই দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজ প্রশান্ত মনে করা যায়।
  •  বিষন্নতা বা ডিপ্রেশন কমাতে ইয়োগার কিছু আসন ও প্রাণায়াম ভালো কাজ করে।
  • যোগব্যায়াম ও মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন আমাদের মানসিক ও শারীরিক শক্তির মাত্রা বাড়াতে পারে। এটি এন্ডোরফিন (ক্যামিক্যাল) নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এবং আমাদের মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
  • যারা নিয়মিত ইয়োগা-মেডিটেশন করেন তারা দৈনন্দিন জীবনে অনেক ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে পারেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারেন।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ‘প্রশান্তি’;
প্রশান্তি একটি মেডিটেশন ও ইয়োগা সেন্টার।

মাসিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

ডা. হালিদা হানুম আখতার

আজ আবারও আমি মাতৃমৃত্যুর কথা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। যখন নিরাপদ মাতৃত্ব কথা চিন্তা করবো, তখন মাতৃমৃত্যুর কথা এসেই যাবে।

২০১৬ সালে আমাদের যে মেটারনাল মর্টালিটি সার্ভে হয়েছিল, এর তথ্য নিলে দেখা যাবে কী কী কারণে একজন মা-কে তার গর্ভের কারণে মারা যেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় যে কারণ, সেটা হলো অতিরিক্ত রক্তপাত। এটি ২৯ শতাংশ। আরেকটি হলো, একলামসিয়া বা খিঁচুনি। আবার তার আগের কোনো রোগ থাকলে যেমন ডায়াবেটিস বা হার্টের কোনো রোগ বা কিডনির কোনো রোগ থাকলে গর্ভাবস্থায় জটিলতা হতে পারে।

তবে আরেকটি বিষয় রয়েছে, যেটি নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করবো। এটি হলো, গর্ভপাতের জটিলতা। গর্ভপাত অনেক সময় এতো জটিল হয়ে যায়, এতে মাকে মারা যেতে হয়। এটি সাত শতাংশ। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ২০১০-এ যে সমীক্ষাটা করা হলো, এতে দেখা গেছে, এক শতাংশ মারা গেছে। তবে পরে সেটি বেড়ে গিয়ে সাত শতাংশ হয়েছে। এর মানে ১০০টি মা মারা গেলে সাতটি মা মারা যাচ্ছে গর্ভপাতের জটিলতায়।

গর্ভপাতকে ইংরেজিতে আমরা অনেক সময় অ্যাবরশন বলি। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে গর্ভপাত কেন হচ্ছে? কেন একটি নারীকে গর্ভপাত করাতে হচ্ছে? আমরা যেটি বুঝি, একটি মা গর্ভধারণ করেছে, তবে এই সন্তানটি সে চাচ্ছে না। এই না চাওয়াটা যেকোনো কারণে হতে পারে। তার ব্যক্তিগত কারণে হতে পারে। সে হয়তো লেখাপড়া করছে, এখন সন্তান নেওয়ার সময় নয় বা তার বয়স খুব কম, আরো দেরি করে বাচ্চা নিতে চায়- এইরকম। এসব অবস্থায় তখন তারা বিভিন্ন জায়গায় যায় এই গর্ভকে বাদ দেওয়ার জন্য।

এখন কীভাবে বুঝবে একজন নারী গর্ভধারণ করেছে? সে জানে তার মাসিকটা বন্ধ হয়ে যাবে। সে ঐ সময় গর্ভটা না চাইলে তার জন্য এটি একটি চিন্তার বিষয়। তখন বিষয়টি সেই নারীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তার টাকা-পয়সা থাকলে সে কোনো ক্লিনিকে গিয়ে ব্যবস্থাটা নিয়ে নেয়। তবে যে দরিদ্র, যার কাছে তথ্য নেই, যার কাছে শিক্ষা না থাকার কারণে সে জানে না যে কোথায় যেতে হবে, তার জন্য সেটি একটি জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

আমি কাজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, গ্রামের মানুষ অনেক সময় এই ক্ষেত্রে কবিরাজের কাছে যায় বা যারা গাছ-পালা নিয়ে সেবা দেয়, তাদের কাছে যায়। তখন তারা হয়তো গাছের শিকড় দিলো, বা গাছের শিকড় থেকে বের করা এমন একটি ওষুধ দিলো, যেটা ব্যবহার করলে, খেলে বা সেই কাঠিটি তার শরীরে ঢুকালে গর্ভপাত হয়ে যাবে। এই রকম একটি অবস্থা তখন হয়ে যায়। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিষয়টি না করলে জটিলতা বেশি হয়। এই জটিলতার কারণে মা-কে মারা যেতে হয়।

জটিলতাটা কী হতে পারে? সংক্রমণ, সেপটিসিমিয়া ও সেপটিক হতে পারে। ভীষণ জ্বর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সময় ভালো চিকিৎসা না হলে সে মারা যেতে পারে।

অনেক সময় কাঠি ঢুকিয়ে দেয় জরায়ুতে। যারা কাজটি করে তারা তো আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়। তখন কাঠিটি দিয়ে জরায়ু ফুটো হয়ে যায়। তখন পেরিটোনাইটিস হয়ে যায়। ভীষণ জটিল একটি অবস্থা হয়ে, সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় আমরা দেখি, টিটিনাস হয়ে যায়। তখন রোগীর মৃত্যু হয়। এই অবস্থাটি আমরা চাই না।

গবেষণায় দেখেছি, যত নারী গর্ভধারণ করছে, তার ৪৮ শতাংশ বলছে আমি এটি চাচ্ছি না। তো অনেক কারণেই নারীর মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এখন আলোচনার বিষয় হলো, কী করতে হবে? আপনারা জানেন, আমাদের খুব নামকরা একটি পরিবার-পরিকল্পনা প্রোগরাম রয়েছে। আমাদের এখন ৬০ শতাংশ দম্পতি পরিবার-পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তবে এরপরও দেখা গেছে, এই পদ্ধতি যাদের গ্রহণ করা বেশি দরকার, এমন ১০ শতাংশ এটি নিচ্ছে না। তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি হচ্ছে।

তাহলে আমি একটু বলতে চাই, এটি সবারই জানা দরকার, আমাদের মাসিক নিয়ন্ত্রণ বলে একটি প্রোগরাম রয়েছে। ১৯৭৪ সাল থেকে আমরা অল্প করে এটি শুরু করেছি, পরে ১৯৭৬ সালে এটি আরেকটু বিস্মৃত হয়েছে। ১৯৭৯ সালে সরকার একে সরকারি প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছে। যারা প্যারামেডিকেল ছিলো তাদের এমআর-এর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এমআর কী? এটি হলো, মাসিক নিয়ন্ত্রণের একটি ব্যবস্থা। একটি ছোট প্লাস্টিক সিরিঞ্জের মাধ্যমে পাতলা স্ট্র দিয়ে টানা হয়, তখন ভেতরে যে তরল পদার্থটি রয়েছে, সেটি বের হয়ে আসে। মাসিক বন্ধ হওয়ার আট বা নয় সপ্তাহের মধ্যে এটি আমাদের করা সম্ভব। সরকার একে পরিবার-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রচলন করেন। প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক প্যারামেডিক এই ব্যবস্থা দিয়ে আসছে। যদিও আমরা দেখছি গত ১০ বছরে এই ব্যবস্থা দেওয়ার সংখ্যাটা কমে এসেছে, এর জন্য গর্ভপাতের জটিলতার সংখ্যাটা বেড়েছে। আমরা জানি, এমআর বা মিন্সট্রুয়াল রেগুলোশনের সংখ্যা কমে যাওয়াতে গর্ভপাতের জটিলতার কারণে মৃত্যু বাড়ছে। তো আমি জনগণের জানার জন্য বলছি, আপনি সরকারি যেকোনো জায়গায় গিয়ে বলবেন, ‘আমি এমআর করতে চাই’। তাহলে তারা এমআর-এর ব্যবস্থা করে দেবে।

২০১৪ সালে সরকার আরেকটি নতুন পদ্ধতি এনেছে। সেটি হলো, খাওয়ার বড়ি। এই বড়ির মাধ্যমেও মাসিক নিয়ন্ত্রণ করানো যায়। তবে সেটি নয় সপ্তাহ পর্যন্ত করানো যায়। ফামের্সিতে গেলেও বলতে পারেন, ‘আমার মাসিক বন্ধ রয়েছে, এটি আমার চালু করতে চাই।

এই জন্য কী ওষুধ রয়েছে?’ তখন তারা আপনাকে ওষুধ দেবে। ওষুধের বক্সে সব লেখা থাকে কীভাবে খেতে হবে বা কী করতে হবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। এই ওষুধ আসার পরে অনেক সহজ হয়েছে।

সুতরাং এসব বিষয় জেনে নিজের মতো ব্যবস্থাপনা নিতে পারলে ভালো। আমাদের দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এটি দিচ্ছে। যেমন, মেরিস্টোপ নামে আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা এই সেবা দেয়। তাদের যত ক্লিনিক রয়েছে, এখান থেকেই সেবা দেয়। প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান এই সেবা দিচ্ছে। তাই কবিরাজ বা উল্টোপাল্টা কারো কাছে না গিয়ে আপনারা সঠিক প্রতিষ্ঠানে গেলে জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে না। নারী মারা যাবে না। আমরা মনে করি, এটি নারী ক্ষমতায়নেরও একটি বিরাট বড় বিষয়। আমি আপনাদের আবারও বলছি, এটি সরকারের অনুমতি করা একটি পদ্ধতি। একে আমরা মিস্টুয়াল রেগুলেশন বা মাসিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বলি।

সুতরাং নিজের জীবনকে সুন্দর রাখার জন্য, নিজের জীবন যেন বিপথগামী না হয় বা জটিলতার মধ্যে না পড়ে, এর জন্য আমার মনে হয়, এই মাসিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার জানা দরকার। প্রয়োজনে ব্যবস্থাপনা নিতে হবে।

আমার এটি বলার উদ্দেশ্য হলো, এই মাসিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটা আমি অনেক আগে শিখেছি এবং শিখে মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি ও ট্রেনিং সেন্টারে প্রথম চিকিৎসক হিসেবে এমআর শুরু করি। এরপর এটি সরকার পর্যায়ে যায়। ধীরে ধীরে এর বিস্মৃতি বাড়ে। এটি যে কত নারীকে বাঁচিয়েছে এবং মাতৃত্বকে কত নিরাপদ করেছে এটি বলার কোনো শেষ নেই। তাই বিষয়টি জানিয়ে আমি আপনাদের সচেতন করতে চাই।

লেখক: রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.