Friday, September 25, 2026
spot_img
Home Blog Page 15

কদম ফুলের গল্পে সাজলো বর্ষা—রঙ বাংলাদেশের নতুন সংগ্রহে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক 

বর্ষা এলেই যেসব ফুলের কথা প্রথম মনে পড়ে, তার মধ্যে কদম অন্যতম। বৃষ্টির ফোঁটার মতোই কদম ফুটে ওঠে প্রকৃতির আঁচলে—নিভৃতে, কোমলতায়, যেন জলভেজা দুপুরের শান্ত প্রতিচ্ছবি। তবে কদম শুধু রূপ নয়, বরং এক ঋতুর স্মারক। এটা বলে দেয়, বর্ষা এসেছে। কদমের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে হাওয়ায়, জানিয়ে দেয়, প্রকৃতি এখন ভালোবাসার মোহে ভিজে।

আর শহরের মাঝে, কংক্রিটের ভিড়ে কোথাও একটুখানি কদম দেখলেই মন চায় গ্রামে ফিরে যেতে, শালিক-ভরতি আকাশে তাকিয়ে থাকতে, কিংবা বৃষ্টিভেজা মাটির গন্ধে আবার সেই শৈশব খুঁজে নিতে। কদমফুল, যা বাংলার বর্ষার প্রতীক, ভালোবাসার এক মৌন প্রতিচ্ছবি—সে-ই ফুলকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে রঙ বাংলাদেশের পোশাকের গল্প।

বর্ষার মধ্যে রয়েছে রোমান্টিকতা, কখনো বা বিষন্ন আবহ, আবার কখনো উজ্জ্বল আনন্দের প্রতীক, তেমনি রঙ বাংলাদেশের নতুন পোশাক লাইনেও বর্ষার সেই বহুমুখী রূপ প্রতিফলিত হবে। কদমফুলের করা এই থিমে এই সংগ্রহটির মাধ্যমে রঙ বাংলাদেশ বর্ষার স্বতন্ত্র রূপটি উদযাপন করেছে, যেখানে প্রতিটি ডিজাইন, রঙ ও প্যাটার্নের মধ্যে রয়েছে কদম ফুলের চমৎকার কারুকার্য।

এই বিশেষ সংগ্রহে ব্যবহৃত কাপড়ের মধ্যে রয়েছে কটন, যা বেশ আরামদায়ক। সঙ্গে স্কিন প্রিন্টে ফুটে তোলা হয়েছে কদম ফুলের সঙ্গে সবুজের সমারোহ। কদমফুলের থিমে শাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে কটন ফেব্রিক্স। আর ডিজিটাল প্রিন্টের চমৎকার ফুলেল সৌন্দর্য।

পোশাকের ডিজাইনে কদমফুলের প্যাটার্ন, রঙের বাহুল্য এবং আবেগী নকশাগুলোর মধ্যে রঙ বাংলাদেশের ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যাবে। পরিবারের সকলে মিলে বৃষ্টিবিলাস করতে বা বাহিরে কোথাও বর্ষা উদযাপন করতে কদমফুল থিমের এই ফ্যামেলি সিরিজটি হবে আদর্শ।

নতুন সংগ্রহের প্রতি আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য রঙ বাংলাদেশের ব্র্যান্ড স্টোর এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই পোশাকগুলো পাওয়া যাবে। এই বর্ষায় কদম ফুলের সুবাসে নিজেকে সাজান নতুন এক কবিতায়, রং-এর ক্যানভাসে। বর্ষার সাজে কদমের সঙ্গে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে তাই আজই যোগাযোগ করুন রঙ বাংলাদেশের যেকোনো আউটলেটে। এ ছাড়া ঘরে বসে আরামেই কিনতে চাইলে রয়েছে অনলাইন শপিংয়ের সুবিধা ই-কমার্স সাইট www.rang-bd.com এবং ভেরিফাইড ফেসবুক
পেজ www.facebook.com/rangbangladesh যেকোনো প্রয়োজনে ফোন / হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে 01777744344 এবং 01799998877 নম্বরে।

করোনা বাড়ছে: সচেতন হোন এখনই

ডা. শাকিল মাহমুদ

করোনার প্রকোপ আবারও শুরু হয়েছে। এই লেখাটি লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় প্রায় তিনজন মারা গেছেন। দুই জন ঢাকায় এবং একজন চট্টগ্রামে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

বর্তমানে করোনার নতুন যে দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে, সেগুলো হলো, এক্সএফজি ও এক্সএফসি। তবে আতঙ্কিত না হলে সতর্ক ও সচেতন হওয়াটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। আর এই জন্য আবারও লক্ষণ ও প্রতিরোধ জানার বিকল্প নেই।

লক্ষণ

  • গলাব্যথা
  • শরীর ব্যথা
  • জয়েন্ট ব্যথা
  • শ্বাসকষ্ট
  • নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলো থাকতে পারে। তবে জ্বর ও কাশি না-ও থাকতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়

প্রতিরোধগুলো অনেকটা আগের মতোই। যেমন:

  • বাইরে গেলে মাস্ক পরা
  • জনসমাবেশ এড়িয়ে চলা
  • সাবান পানি থেকে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার চেষ্টা করা।
  • ময়লা হাত দিয়ে নাক- মুখ-চোখ স্পর্শ না করা।
  • পরিবারে প্রবীণ, শিশু, সন্তানসম্ভবা নারী বা অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি (যেমন: কিডনি, হার্ট, লিভারে রোগ) থাকলে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া। এগুলো পাওয়া যাবে লেবু, মাল্টা, কমলা, পেয়ারা, মরিচ, আমলকী ইত্যাদিতে। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জিংক ট্যাবলেটও খাওয়া যেতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

প্রচণ্ড শরীর ব্যথা, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট, শরীরে অস্বস্তি ইত্যাদি হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

মোদ্দাকথা, এই ভাইরাস সারাবার জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। তাই প্রতিরোধই অন্যতম উপায়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিন, সুস্থ থাকুন।

লেখক : চিকিৎসক, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ (সাভার)

ডায়াবেটিস: লক্ষণ ও ক্ষতি

ডা. হালিদা হানুম আখতার

আজ আমরা ডায়াবেটিস নিয়ে কথা বলবো। এই কথা বলতে গিয়ে আমি প্রথমে যেটি বলতে চাই, সেটি হলো, আমাদের রক্তের কী কাজ এবং এই রক্তের সঙ্গে ডায়াবেটিসের কী সম্পর্ক।

রক্তের কাজ কী? এর কাজ হলো, আমাদের দেহে নিয়মিত শক্তির জোগান দেওয়া। এ ছাড়া, বায়ু প্রবাহকে দেহের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া, অক্সিজেন নিয়ে আসা, তাপ নিয়ন্ত্রণ করা, দেহের মধ্যে যেসব অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বা বর্জ্য রয়েছে, সেগুলো বের করে দিতে সাহায্য করা। এগুলো রক্তের মূল কাজ।

রক্তের সঙ্গে ডায়াবেটিসের কী সম্পর্ক? এটি জানতে হবে। কারণ, ডায়াবেটিস হলে রক্তের মধ্যে মাপতে হয়। তাহলে এই তরলটির মধ্যে কী রয়েছে, যার জন্য আমরা বলি ডায়াবেটিস?

আমরা যেই খাবার খাই, সেগুলো রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কোষে গিয়ে পৌঁছায়। সেই অঙ্গগুলো তখন কাজ করতে থাকে।
আমরা বিভিন্ন ধরনের খাবার খাই। এর মধ্যে শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট একটি প্রধান খাদ্য।

আমাদের দেশে অনেক ভাত বা রুটি খাওয়া হয়। এসব খাবার শর্করার মধ্যে পড়ে। একে রূপান্তর করলে চিনি বা সুগার জাতীয় খাবারে পরিণত হয়। কোষের ভেতর গিয়ে এটি শক্তির উৎস হয়ে যায়। কারণ, শর্করা একেবারে না খেলে আবার দেখা যাবে দেহের কোষ কাজ করতে পারছে না। সুতরাং শর্করা জাতীয় খাবার রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কোষে যায় এবং কোষ দিয়ে যেসব অঙ্গ তৈরি তাদের কাজ করতে সহায়তা করে।

মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে এই জাতীয় খাবারের একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। শর্করা যথেষ্ট না হলে, মস্তিষ্ক কাজ করে না। স্নায়ুগুলো সঠিকভাবে কাজ করা থেকে বিরত থাকে।

তবে, চিনির পরিমাণ রক্তে বেশি হলে, স্বাভাবিক রেঞ্জ থেকে বেড়ে গেলে, একে আমরা ডায়াবেটিস বলি। আরেকটি অঙ্গ রয়েছে, পেনক্রিয়াস। এই পেনক্রিয়াসের মাধ্যমে ইনসুলিন নামের যে তরল পদার্থ রয়েছে, সেটি বের হয়ে আসে। পেনক্রিয়াস এটি তৈরি করে এবং সে রক্তের মধ্যে একে দিয়ে দেয়। ইনসুলিনের কাজ হলো, রক্তের মধ্যে শর্করার একটি ভারসাম্য রাখা। একটি পরিমাণ রাখা যেটি ক্ষতিকর নয় এবং রক্তের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কোষের মধ্যে শর্করা পরিচালনা করতে সাহায্য করে। সুতরাং পেনক্রিয়াস যে অঙ্গটি, এবং এর থেকে যে ইনসুলিন বের হয়ে আসে, এর সঙ্গে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এখন ডায়াবেটিস হলো কি না, আমরা কীভাবে বুঝবো? এর মধ্যে একটি বিজ্ঞানসম্মত পরিমাপ করার বিষয় রয়েছে। রক্তের মধ্যে চিনি কতখানি, সেটিকে আমরা মাপতে পারি। এখন প্রশ্ন হতে পারে, স্বাভাবিক চিনিটা কী? সেটা দেখা যায়, চার থেকে পাঁচ বা পাঁচ দশমিক পাঁচ মিলিমল পর্যন্ত। এটা স্বভাবিক। একে ডায়াবেটিস বলবো না। এই পরিমাপটা হলো, খাওয়ার আগে। খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে হবে সাত মিলিমল। এই স্বাভাবিক থেকে বেশি হয়ে গেলে, একে আমরা ডায়াবেটিস বলবো। অল্প বাড়লে একে প্রি ডায়াবেটিস বলা হয়। আর বেশি হলে তখন আমরা ডায়াবেটিস বলি।

এখন প্রশ্ন আসে, কীভাবে বুঝবে ডায়াবেটিস হয়েছে? লক্ষণগুলো কী হবে? লক্ষণ হলো, রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। সাধারণভাবে হয়তো আপনি রাতে প্রস্রাব করেন না। তবে ডায়াবেটিস যখন হবে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাবে। আপনাকে বাথরুমে যেতে হবে। আরেকটি হলো, পিপাসা বেশি লাগে। স্বাভাবিকভাবে যা অভ্যাস ছিলো, এর চেয়ে বেশি পিপাসা লাগে। একটু বেশি হলে দেহের ওজন কমে আসে। ক্ষুধাও অনেক সময় বেশি লাগে। খালি খেতে ইচ্ছে করে।

আর এটি যেহেতু বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে, চোখে ঝাপসা দেখতে পারেন। আরেকটি হলো, হাত-পা ক্লান্ত হয়ে যায়। হাত-পা দুর্বল লাগে। অনেক সময় দেখা যায়, চামড়া শুকিয়ে গেছে। এগুলো খুব সাধারণ উপসর্গ। তবে আমাদের বিষয়গুলো জানা থাকা দরকার।

বেশি সতর্ক করা হয় যেসব বিষয়গুলোতে সেগুলো হলো, ক্ষুধা বেশি লাগা, পিপাসা বেশি লাগা এবং রাতে বাথরুমে যাওয়া। এসব একটু সাবধান হওয়ার মতো লক্ষণ। এখন আপনি হয়তো বলবেন, এসব তো হতেই পারে। হওয়া স্বাভাবিক। তবে সমস্যা হলো, বেশিদিন ধরে এই ডায়াবেটিসের অবস্থান আপনার দেহে থাকলে, বড় বড় জটিলতা হয়। সেগুলো কী হতে পারে? একটি হলো, কিডনি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিডনি প্রস্রাবকে ফিল্টার করে দেহের বর্জ্যগুলো বের করে দেয়। এই অঙ্গটির অনেক জরুরি কাজ রয়েছে আমাদের দেহে। তবে ডায়াবেটিস হলে কিডনির ক্ষতি হয়। এর কার্যক্ষমতাকে কমিয়ে নিয়ে আসে। আমরা ইংরেজিতে বলি, কিডনি ডেমেজ হয়ে যায়।

আরেকটি হলো, আমাদের যে স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে, একে ডায়াবেটিস আক্রান্ত করে। এটি হলে নিউরোপ্যাথি হবে। হাত-পা জ্বালাপোড়া করবে বা চিন্তাশক্তি কমে আসবে। ডায়াবেটিস ডিমেনসিয়ারও বড় কারণ। তখন আমরা সুস্থভাবে চিন্তা করতে পারি না। মস্তিষ্ক বা স্নায়ুর কার্যক্রম কমে যায়। আরেকটি দেখেছি যে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসে। এর জন্য অনেক সময় দেখবেন, যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে এদের একটি ক্ষত হলে সেটি সহজে সারতে চায় না। অনেক সময় দেখা যায়, পায়ে ক্ষত হয়েছে, কিছুতেই সারছে না।

সেই ক্ষতটা বাড়তে বাড়তে অনেক সময় উপরে উঠে যায়। পা
কেটে ফেলতে হয়। এরকমও আমরা ডায়াবেটিসে অনেক দেখেছি। তখন এই জটিলতাগুলো বাড়ে। বেশিদিন ধরে ডায়াবেটিস অপ্রতিরোধ্য অবস্থায় থাকলে বিভিন্ন বড় অঙ্গ, যেগুলো দেহের মূল কাজগুলো করে, সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়।
এগুলো নষ্ট হলে একজন মানুষ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

আরেকটি হলো, চোখে কম দেখে। চোখের যে শক্তি সেটি কমে আসে। কর্নিয়াকে খুব আক্রান্ত করে ডায়াবেটিস হলে। অনেক সময় রেটিনোপ্যথি হয়। চোখের টিস্যু থেকে পানি কমে যাওয়াতে দৃষ্টিটা কমে আসে। কোনো জিনিসের দিকে তাকালে ফোকাস করতে পারে না।

চোখে দেখতে না পারলে কী হয়? ব্যক্তির কার্যক্ষমতা কমে আসে। আরেকটি বিষয় আমরা জানি, নারীর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে, তার অনেক জটিলতা হয়। এই জন্য একজন মা গর্ভাবস্থায় থাকলে আমরা ডায়াবেটিস টেস্ট করি। তার ডায়াবেটিস রয়েছে কি না, ব্লাড সুগার স্বাভাবিক কি না, দেখতে হয়। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডায়াবেটিস হলে তার প্রি একলামসিয়া হতে পারে। শিশু বড় হয়ে যেতে পারে। শিশুর আকার মায়ের পেলভিস থেকে বড় হলে প্রসব করার সময় জটিলতা তৈরি হয়। তখন সিজারের দরকার হতে পারে।

আরেকটি বিষয় দেখেছি, ডায়াবেটিস থাকলে সন্তান পেটে বড় হয়ে যায়, পরিপূর্ণ সময়ের আগে প্রসব হয়। ৪০ সপ্তাহে হয়তো ডেলিভারি হওয়ার কথা, সেটি দেখা গেলো ৩৫ সপ্তাহে হচ্ছে। শিশু অপরিপক্ব থাকে, মায়ের জন্য কষ্ট হয়।

আরেকটি বিষয় দেখেছি, মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে, মরা বাচ্চা জন্ম নেয়। আগে হয়তো অল্প ডায়াবেটিস রয়েছে, তবে গর্ভ হওয়ার কারণে বেড়ে গেলো, তাতে যেসব মা ও গর্ভস্থ সন্তান দুজনের জন্যই বিরাট জটিলতা হয়। তো এই জন্য ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সের পরে আমাদের ডায়াবেটিসের পরীক্ষা করা দরকার। আমি সুস্থ রয়েছি কি না জানা প্রয়োজন।

আমি একটি বিষয় সবাইকে আবারও বলতে চাই, বাংলাদেশে এই রোগের প্রকোপ কতখানি। ২০০৯ সালে যে সমীক্ষা হয়েছে ওখানে দেখা গেছে, ১৩ লাখের কাছাকাছি ডায়াবেটিসে মৃত্যু হয়েছে। ডায়াবেটিস টাইপ-টু এর কারণে। আরেকটি হলো, সারাদেশে ৭১ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছে। তারা জানে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তবে ডায়াবেটিস দেহে রয়েছে কি না বা নির্ণয় করা হয়নি, এমন সংখ্যা প্রায় ৩৭ লাখের মতো। আর আরেকটি হলো, প্রতি বছর ১৩ লাখের মতো মানুষের ডায়াবেটিসে মৃত্যু হয়। সুতরাং এটি বিরাট ধ্বংসকারী একটি রোগ। এটি মানুষের জীবনকে ক্ষয় করে দেয়। তার পরিবারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ডায়াবেটিস হওয়ার পর দেহের অন্যান্য অঙ্গগুলো আক্রান্ত হলে খরচের পরিমাণ বাড়ে। সুতরাং আমি বলবো, এটি একটি শরীর ধ্বংসকারী রোগ, যার বিষয়ে আমাদের খুবই সচেতন থাকতে হবে। একে আমাদের এড়িয়ে গেলে হবে না। রুটিন ডায়াবেটিস চেকআপ করতে হবে। ৩৫ বছরের পরে এটি খুব জরুরি। ৩৫ বছরের আগে যে ডায়াবেটিস হয় না, তা নয়। তবে এরপরে এর প্রকোপটা বাড়ে। তাই ডায়াবেটিসের নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

ঈদের রেসিপি: চিকেন গ্রেভি

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঈদের আনন্দ মানেই মুখোরোচক খাবারের সমাহার। তবে যেহেতু কোরবানির ঈদে একটু কাজ থাকে বেশি, তাই দ্রুত তৈরি করে নিতে পারবেন এমন একটি রেসিপি জানানো হলো সাতকাহনের পাঠকদের জন্য। সহজে চিকেন গ্রেভি তৈরির এই রেসিপি জানিয়েছেন আমেনা আক্তার।

উপকরণ

এখানে দুইভাবে পেস্ট তৈরি করা হয়েছে। আলাদা আলাদা পেস্টের জন্য উপকরণগুলো দেওয়া রইলো।

পেস্ট-১ তৈরির জন্য

  • টমেটো কুচি- ২ কাপ
  • আদা ছোট টুকরো করে কাটা – ৫ থেকে ৬টি
  • রসুন কোয়া- ৫ থেকে ৬টি
  • ধনে পাতা- আধা কাপ
  • পুদিনা পাতা- সামান্য

পেস্ট তৈরির সব উপকরণ একত্রে ব্ল্যান্ডারে ব্ল্যান্ড করে নিতে হবে এবং আলাদা করে রাখতে হবে।

পেস্ট-২ তৈরির জন্য

  • দই- ১ কাপ
  • ক্যাশোনাট- ১০ থেকে ১৫টি
  • কাঠ বাদাম- ৫ থেকে ৭টি

পেস্ট তৈরির সব উপকরণ একত্রে ব্ল্যান্ডারে ব্ল্যান্ড করে নিন এবং আলাদা করে রাখুন।

রান্নার জন্য উপকরণ

  • মুরগির মাংস- ১ কেজি
  • সয়াবিন তেল- ৪ টেবিল চামচ
  • জিরা- ১ চা চামচ
  • পেঁয়াজ- ৪টি কুচি করে কাটা
  • লবঙ্গ- ৪ থেকে ৫টি
  • দারুচিনি- ১টি
  • কালো গুঁড়া মরিচ- ১ চা চামচ
  • তেজপাতা- ২টি
  • লাল মরিচ গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ
  • জিরা গুঁড়া- ১/২ টেবিল চামচ
  • হলুদ গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
  • গরম মসলা গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ
  • রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ
  • লবণ- স্বাদমতো

যেভাবে তৈরি করবেন

চুলায় কড়াই বসিয়ে তেল গরম করে নিন। এবার রান্নার জন্য রাখা উপাদানগুলো একে একে ঢালুন। নেড়েচেড়ে ভুনা করে নিন। এবার এতে মাংস ছেড়ে দিন। ভালো করে নেড়েছেড়ে ছয় থেকে সাত মিনিট রান্না করুন। এবার পেস্ট-১ (উপরে উল্লেখিত উপকরণ দিয়ে তৈরি) দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে সামান্য পানি ঢালুন। অনেকটা মাখা মাখা হয়ে তেল উপরে উঠে আসলে পেস্ট-২ ব্যবহার করুন। রান্না হয়ে এলে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেলো চিকেন গ্রেভি।

রেসিপি দিয়েছেন আমেনা আক্তার।
রেসিপি দিয়েছেন আমেনা আক্তার।

ঈদের রেসিপি: বিশেষ মসলা ছাড়াই শামি কাবাব

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

কাবাব দেখলে জিভে জল আসে না, এমন মানুষ মেলা দুষ্কর। তবে রান্নার ঝামেলার জন্য অনেকেই এটি তৈরি করা এড়িয়ে যান।

তবে এই ঈদে তেমন ঝামেলা ছাড়াই ঘরের মসলা দিয়ে, অর্থাৎ বাইরের বিশেষ মসলা ব্যবহার না করে সহজেই তৈরি করে নিতে পারেন শামি কাবাব। কাবারের রেসিপি দিয়েছেন আমেনা আক্তার।

উপকরণ

মাংস সিদ্ধ করার জন্য

  • গরুর মাংস- ২৫০ গ্রাম
  • বুটের ডাল- ৪/৫ কাপ
  • আদা বাটা- ১ টেবিল চামচ
  • রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ
  • জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ
  • লাল মরিচের গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ
  • গরম মসলার গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ
  • লবণ- স্বাদমতো
  • সয়াবিন তেল- তিন টেবিল চামচ ( মাংস সিদ্ধ করার সময় ব্যবহারের জন্য)

কাবাবের মিশ্রণ তৈরি করার জন্য বা কাবাব মাখার জন্য

  • পেঁয়াজ কুচি- হাফ কাপের একটু বেশি
  • কাঁচা মরিচ কুচি- ১ চা চামচ
  • ধনে পাতা- ২ টেবিল চামচ
  • গরম মসলার গুঁড়া- ১ চা চামচ
  • ডিম- ২টি

কাবাব ভাজার জন্য

  • টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়া- ৪/৫টি
  • সয়াবিন তেল- দুই থেকে তিন কাপ

যেভাবে তৈরি করবেন

মাংস ছোট ছোট টুকরো করে হাড়-চর্বি ছাড়া কেটে নিতে হবে। বুটের ডাল আগে থেকে ভিজিয়ে রাখুন। অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ভেজান।

এবার সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে মাংসকে চুলায় বসিয়ে দিন। নাড়াচাড়া করুন। তেল উঠে এলে দুই কাপ পরিমাণ পানি দিন। অল্প আঁচে জ্বাল দিয়ে মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ করুন। সম্পর্ণ প্রক্রিয়াটি হতে প্রায় এক ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।

এবার মাংস চুলা থেকে নামিয়ে একটি পাত্রে রাখুন। ঠান্ডা হলে ব্ল্যান্ডারে দিয়ে ব্ল্যান্ড করে নিন। চাইলে পাটায় বেটেও ভালোভাবে মিহি করতে পারেন। এবার এর মধ্যে পেঁয়াজ কুচি (চাইলে পেঁয়াজ আগে থেকে ভেজে রাখতে পারেন), ধনে পাতা কুচি, মরিচ কুচি, গরম মসলার গুঁড়া, ডিম একত্রে দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন। এবার মাংসের মিশ্রণটিকে হাত দিয়ে একটু একটু করে ছিড়ে একটি একটি করে কাবাবের আকৃতির করুন। এবার বিস্কুটের গুঁড়ার মধ্যে কাবাব মাখান। এপিঠ- ওপিঠ করে ভালোভাবে মাখাতে হবে।

এবার কড়াই বা ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে ভাজুন। তবে ভাজার আগে তেল ও কড়াই ভালোভাবে গরম করে নেবেন। এতে সুবিধা হবে। চুলার আঁচ মাঝারি রাখবেন। কাবাবগুলো বাদামি রং হয়ে এলে তেল থেকে তুলে পোলাও বা রুটির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

রেসিপি দিয়েছেন আমেনা আক্তার।
রেসিপি দিয়েছেন আমেনা আক্তার।

ঈদের ছুটিতে ‘হোমস্টে’ হতে পারে ভিন্ন স্বাদের অবকাশের ঠিকানা

রফিক – উল – আলম

‘হোমস্টে’ দেশের পর্যটন জগতে এক নতুন সংযোজন – দুর্দান্ত একটি আইডিয়া। হোমস্টে শব্দটির সঙ্গে যেনো জড়িয়ে রয়েছে আদুরে ও ঘরোয়া একটি আমেজ।

কোথাও বেড়াতে গেলে আমরা সবাই সাধারণত হোটেল, মোটেল বা সেই অঞ্চলে আমাদের কোনো আত্মীয় স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের বাড়িতে উঠি। তবে যেখানে এই দুইয়ের কোনোটারই ভালো কোনো বন্দোবস্ত নেই বা আপনি যদি এই দুইয়ের কোনোটিতেই ঠিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করে একটু ভিন্ন স্বাদ নিতে চান, তাহলে থাকতে পারেন হোমস্টেতে। হোমস্টে উদ্যোগ হয়েছে আসলে এমন মানুষের কথা চিন্তা করেই।

এই ক্ষেত্রে আপনি যে এলাকায় ঘুরতে চান, সেই এলাকার একটি হোস্ট ফ্যামিলি সেখানে আপনার বা আপনার পরিবারের প্রয়োজনমতো একটি বা দুটি রুম আপনাদের থাকার জন্য ছেড়ে দিয়ে থাকে। তাদের ঘরোয়া আতিথেয়তায় আপনার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাসহ স্থানীয়ভাবে সকল ঘোরাফেরার ব্যবস্থা করবে। আপনার আগ্রহ থাকলে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তথা এই অঞ্চলের সংস্কৃতি বা জনজীবনকে নিবিড় করে চেনার, জানার সুযোগ করে দেয় এই হোস্ট ফ্যামিলিই। অর্থাৎ যেখানে আপনি হোমস্টে করবেন তাঁরাই।

গ্রামে নিজের বাড়ি নেই, ভরা আম মৌসুমে নিজে বাগান নেই, শহর থেকে দূরে একটু নিরিবিলিতে নিজের থাকার জায়গা নেই – অথচ খুব সাধ, আমের দেশে গ্রীষ্ম ঋতুতে গিয়ে নিজ হাতে পাড়ি, কিনি এবং প্রিয়জনদের জন্য নিয়ে আসি। এই আক্ষেপ দূর করতে “ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি ভ্যালী” দায়িত্ব নিয়েছে এমন মানুষের আক্ষেপ দূর করে তাদের লালিত স্বপ্নের পথে এগিয়ে দিতে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আমের রাজ্য রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে এমনি হোমস্টে সুবিধা দিচ্ছেন “ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি ভ্যালী” র স্বত্তাধিকারী আশিক আহমেদ ফারুক ও সুমী দম্পতি। তাদের ভাষায় “শুধু ইচ্ছেটুকু নিয়েই চলে আসুন। এরপর থাকুন আমাদের ছায়া নিবিড় ঘরোয়া পরিবেশে আমাদের অতিথি হয়েই। আপনার জন্য বাড়তি দুমুঠো চাল ফেলে দেবো হাঁড়িতে অর্থাৎ আপানার সকালের নাস্তা, দুপুর, রাতের তিনবেলা খাবার হবে ঘরোয়া আয়োজনেই। চাইলে আপনার পছন্দের ম্যেনু অনুযায়ীই। এরপর ঘুরে-ফিরে নিজ হাতে চাঁপাইয়ের ঐতিহ্যবাহী আম বাগানে ঘুরে ফিরে দেখা। আম কেনা, নিজ হাতে ছিলে খাওয়া। সেই সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুপ্রাচীন পুরাকৃত্তিগুলো যেমন- অবিভক্ত বাংলার রাজধানী, গৌড়ের অপূর্ব কারুকাজমন্ডিত ছোট সোনা মসজিদ ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর মাজার, ঐতিহাসিক খানিদিঘি মসজিদ বা চামচিকা মসজিদ, টলটলে শীতল জলের খানিদিঘি, তোহাখানা/মসজিদ ও মাজার, সুপ্রাচীন দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা, ধনাইচকের মসজিদ দেখতে পারবেন।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফ্যামিলি এন্ড ফ্রেন্ডস ভ্যালীর এই দম্পতি আরো জানান, তাদের এই পরিসেবা গেস্ট রিসিভ করা থেকে শুরু করে, থাকা-খাওয়া,ঘুরোঘুরি, আম কেনা থেকে শুরু করে একেবারে অতিথিকে তাঁদের গন্তব্যের উদ্দেশে তুলে দেওয়া পর্যন্ত থাকছে।

তবে প্রাথমিকভাবে তারা শুধুমাত্র একটি পূর্ণ ফ্যামিলি বা দম্পতি বা দু/চার/ছয় জনের বন্ধুদের একটি গ্রুপ এমন ভ্রমণ পিপাসুদের জন্যই অফার দিচ্ছে। এতে একটি পরিবার, একটি দম্পতি বা একদল বন্ধু তাদের নিজেদের মতো করেই হোমস্টে সময়টুকু আনন্দময় ও উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

“ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি ভ্যালী” তে যেমন রয়েছে এসিসহ ডাবল রুম, কিডস রুম, ডাইনিং রুম, ফুলে ফুলে ভরা উঠোন, সবুজে ছাওয়া বাগিচা। তেমনি রয়েছে শত বছরের কারুকার্যমন্ডিতয় খাট-পালং, আলমারি সহযোগে ঐতিহ্যপ্রেমীদের জন্য এন্টিক বেড রুমের সুবিধা।

আমের পাশাপাশি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘কালাই রুটি’, শতাব্দী প্রাচীন শিবগঞ্জের চমচমসহ উদর পূর্তি এবং চোখ ও মন ভরিয়ে নিতে ”ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি ভ্যালী” হয়ে উঠুক, এমন রাজ্যে আপনার আপন নিবাস – হোম স্টেয়িং ফ্যাসিলিটি। একটু ভিন জায়গায় ভিন্ন স্বাদে আপনার ঘরোয়া পরিবেশ ও নিরাপদে থাকা ও ভ্রমণ হয়ে উঠুক আনন্দময়।

তবে হুট করেই চলে যাবেন না যেনো, কেনোনা অগ্রিম বুকিং +880 1712-221009 ছাড়া সেখানে জায়গা মেলা ভার।

লেখক: ট্রাভেলার ও ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলর

কোরবানি ঈদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ছয় পরামর্শ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

কোরবানির ঈদ এলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার আলোচনাটা অবধারিতভাবে চলে আসে। যদিও বাইরে, যেখানে কোরবানি দেওয়া হয়, সেখানে সিটি কর্পোরেশনই দায়িত্ব পালন করে।

এরপর তো মাংস বাসায় আনা। বাসায় এনে আবার ভাগ-বাটোয়ারা করা। এগুলো যেসব জায়গায় করা হয়, সেটি ময়লা হয়ে যায়। সেসব জায়গা আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হয়। কাজেই এসব বিষয়ে আমাদের সবারই কিছু চিন্তা-ভাবনা থাকে।

কোরবানি ঈদে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কিছু পরামর্শ জানিয়েছেন রীনাত ফৌজিয়া। তিনি গভর্মেন্ট কলেজ অব অ্যাপলাইড হিউম্যান সাইন্সের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এনট্রাপ্রেনরশিপ বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর পরামর্শ অনুসারে-

  • মাংস ভাগ-বাটোয়ারার ক্ষেত্রে সাধারণত বাসায় বড় জায়গা নিয়ে কাজটা করা ভালো। এগুলো সাধারণ ডাইনিং রুম বা বারান্দায় করলেই সুবিধা হবে। সবচেয়ে ভালো হয় একটি বড় প্লাস্টিক বিছিয়ে রেখে, এরপর কাজ করলে। অথবা পাটি বিছিয়েও কাজ করা যেতে পারে। কাজ হয়ে গেলে প্লাস্টিকটা উঠিয়ে ডিটার্জেন্ট মেশানো পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুতে হবে। সম্ভব হলে ডিটার্জেন্ট মেশানো পানি মিশিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করে নেওয়া যেতে পারে। এতে মাংস-রক্ত ইত্যাদির গন্ধ কমবে। জায়গাটা পরিষ্কার থাকবে।
  •  আরেকটি বিষয় হলো, মাংস নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক সময় হাতে গন্ধ লেগে থাকে। এটি অনেক সময় অস্বস্তি তৈরি করে। এই ক্ষেত্রে মাংসের গন্ধ দূর করার জন্য হাতে লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা বাসায় বেকিং সোডা থাকলে, সেটিও হাতের গন্ধ দূর করার জন্য ব্যবহার করা যায়।
  • কোরবানির মাংস যখন রান্নার জন্য প্রস্তুত করা হয়, তখন অনেক হাড় আলাদা করে ফেলা হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, উচ্ছিষ্ট যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না। মাংস কাটার পর এসব ময়লাগুলো প্যাকেটবন্দি করে ফেলা প্রয়োজন। খোলা অবস্থায় ফেলা যাবে না।
  • রান্না বা কাটাকাটির জন্য যেসব জিনিস ব্যবহার করা হয়, যেমন রান্না করার পাত্র, মাংস কাটার জন্য কাটিং বোর্ড, ছুরি-কাচি ইত্যাদি ব্যবহারের আগে ও পরে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে ব্যবহারের পরে।
  • যারা শহরে থাকেন, উঁচু দালানে- তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লিফ্ট ব্যবহার করতে হয়। কোরবানি হওয়ার পর বাইরে থেকে মাংসটা নিয়ে আসার সময় অনেকেই বালতি বা বড় বড় ব্যাগ ব্যবহার করে। যেভাবেই মাংস আনা হোক না কেন, খেয়াল রাখতে হবে যেন রক্ত বা পানি উপচে না পরে। এতে অন্যের অসুবিধা হয়। সুনাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি খেয়াল করা আমাদের দায়িত্ব।
  • সব কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর রান্নাঘর, খাবারঘর ও বারান্দায় গন্ধ দূর করার জন্য অ্যায়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার ঘরোয়া টোটকা হিসেবে লেবু, লবঙ্গ ও পানি একসঙ্গে ফুটিয়ে নিলে সেই পানি দিয়ে কাপড় ভিজিয়ে ফেলে ঘরের বিভিন্ন জায়গা মুছলে গন্ধটা দূর হয়।
- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.