শারদ উৎসবে রঙ বাংলাদেশ
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে নীল আকাশে, কাশফুল দুলছে হাওয়ার দোলায়, ঢাকের তালে তালে জেগে উঠছে শহর ও গ্রাম—এসে গেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব, শারদীয় দুর্গাপূজা।
এই পূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির জীবনের রঙ, আবেগ ও ঐতিহ্যের উৎস। হাসিমুখের ভিড়, রঙিন শাড়ির ঝলক, পাঞ্জাবির আভিজাত্য আর নতুন পোশাকের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রতিটি পোশাকের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে পূজার গন্ধ, প্রতিটি রঙে ফুটে ওঠে দেবীর শক্তি ও সৌন্দর্য।
রঙ বাংলাদেশ এই উৎসবের আবহ নিয়ে এসেছে শারদ উৎসব কালেকশনে; যেখানে মিশে রয়েছে ঐতিহ্যের শিকড়, লোকজ শিল্প, শৈল্পিক কারুকাজ ও আধুনিক ফ্যাশনের রুচিশীলতা। এই শারদীয়ায় রঙ বাংলাদেশ সাজিয়েছে বিশেষ কালেকশন, যার প্রতিটি প্রোডাক্টই একটি গল্প। বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণা—নকশী পিঠা, নামাবলি, দুর্গাপূজার মণ্ডপ ও চক্র দর্শন—নিয়ে এসেছে এক অনন্য থিম-ভিত্তিক সংগ্রহ। প্রতিটি থিম শুধু নকশার মধ্যেই নয়, রঙের খেলায়, কাপড়ের বুননে আর কারুকাজের সূক্ষ্মতায় প্রাণ পেয়েছে।
প্রেরণায় নকশী পিঠা- নকশীপিঠা বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির এক মিষ্টি ও মনকাড়া অধ্যায়। উৎসবের সকালে মায়ের হাতের ঘ্রাণমাখা এই পিঠা শুধু খাবার নয়, শিল্পের এক প্রাণবন্ত প্রকাশ। সেই পিঠার জ্যামিতিক নকশা, রেখার খেলা এবং রঙের ছন্দই হয়ে উঠেছে রঙ বাংলাদেশ-এর এবারের পোশাক আয়োজনের প্রেরণা।
প্রেরণায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ- দূর্গাপূজার মণ্ডপ বাঙালির ধর্মীয় চেতনা আর নান্দনিকতার এক বিস্ময়কর মিলনমঞ্চ। এটি শুধু দেবীর আবাহনের স্থান নয়—শিল্প, স্থাপত্য আর লোকজ সংস্কৃতির রূপায়ণেরও কেন্দ্র। কাঠ, কাপড়, বাঁশ, থার্মোকল কিংবা ধাতব উপাদানে তৈরি থিমমণ্ডপগুলো প্রতি বছরই নতুন এক গল্প বলে, নতুন এক অনুভূতি সৃষ্টি করে। সেই গল্প, সেই রঙ ও সেই কারুকাজই রঙ বাংলাদেশ-এর এবারের আয়োজনকে দিয়েছে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের পোশাকগুলোয় ধরা পড়েছে সেই উৎসবের আলো, সেই শিল্পের ছন্দ।
প্রেরণায় চক্র দর্শন- চক্র দর্শন হলো প্রাচীন ভারতীয় ধারণা, যেখানে শরীরের সাতটি শক্তিকেন্দ্র বা চক্রের কথা বলা হয়েছে। শরীরের এই সাতটি চক্র মানসিক, শারীরিক ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্যের প্রতীক। সেই ভাবনা থেকেই রঙ বাংলাদেশের এই আয়োজন- যেখানে রঙ, বুনন ও অলংকারে প্রকাশ পায় সেই চেতনার জাগরণ। এই আয়োজনের পোশাকে নিজেকে সাজান এমন এক সৌন্দর্যে, যা আসে ভেতর থেকে-নির্মল, ভারসাম্যপূর্ণ, পূর্ণতা ছোঁয়া এক রূপে।
প্রেরণায় নামাবলী- নামাবলী কেবল একটি পোশাক নয়—এটি ভক্তি, শুদ্ধতা ও আত্মিক নিবেদনকে বহন করে। পূজার সময় ঠাকুরকর্তা বা পূজারী গলায় যে নামাবলী পরেন, সেটিই পূজার মূল আচার-অনুষ্ঠানের প্রতীক। তার গায়ে থাকে ঈশ্বরের হরেক রকম নাম- যেন ঈশ্বরকে ডাকার এক নীরব, ধারাবাহিক প্রার্থনা। রঙ বাংলাদেশ এই নামাবলীর ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছে বিশেষ কালেকশন- যেখানে বুননে, নকশায় আর রঙে ধরা পড়ে ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার ছাপ। এই পোশাক শুধু সাজ নয়, বরং হয়ে উঠুক একটি নিবেদন—আত্মার গভীর প্রার্থনা।
শিশু, তরুণ-তরুণী, বাবা-মা ও প্রবীণ—সব বয়সী সবার জন্য একই থিমে তৈরি পোশাক রয়েছে এই কালেকশনে। পরিবারের সবাই একসাথে মিলিয়ে পরতে পারবেন থিমভিত্তিক ডিজাইন, যা দেবে মিলেমিশে থাকার আনন্দ ও উৎসবের একাত্মতা।
পোশাক ডিজাইনে লালের দীপ্তি, খয়েরির গভীরতা, আকাশীর স্বচ্ছতা, গেরুয়ার উষ্ণতা, কমলা রঙের উচ্ছ্বাস আর সাদার নির্মলতা—সব রঙ মিলেমিশে যেন পূজোর সকাল, দুপুর আর সন্ধ্যার পুরো গল্প বলে দেয় প্রতিটি পোশাকে।
প্রতিটি পোশাক যেন শরতের কাশফুলের মতো—নরম, স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত। ফ্যাব্রিকসে রয়েছে উৎসবের আরাম ও আভিজাত্যের নিখুঁত সমন্বয়—সফট সিল্কের মসৃণ পরশে উৎসবের রাজসিকতা, লিনেনের হাওয়ায় শরতের স্নিগ্ধতা, জ্যাকার্ড কটনের বুননে ঐতিহ্যের গভীরতা, কটনের সরলতায় সারাদিনের স্বস্তি আর ভয়েলের স্বচ্ছতায় মায়াবী সৌন্দর্য। ডিজাইনে মিলেছে স্ক্রিন প্রিন্টের নিখুঁত রেখা, ব্লক প্রিন্টের হাতে গড়া শিল্প, ডিজিটাল প্রিন্টের প্রাণবন্ত রঙ, সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির কারুকাজ এবং কাট-অ্যান্ড-স্যুর আধুনিক ফিনিশিং। প্রতিটি পোশাকই যেন এক টুকরো শিল্প, যা আপনার উৎসবকে দেবে ঐতিহ্যের গর্ব আর নতুনত্বের উজ্জ্বলতা।
শারদীয় উৎসব মানেই শুধু নতুন পোশাক নয়—এটি প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সময়। এই আনন্দকে আরও রঙিন করে তুলতে রঙ বাংলাদেশ এনেছে নিশ্চিত উপহার অফার। প্রতিটি কেনাকাটায়ই থাকছে নিশ্চিত উপহার।
যেখানেই থাকুন, উৎসবের রঙ আপনার হাতের নাগালে। রঙ বাংলাদেশের এই এক্সক্লুসিভ শারদীয় কালেকশন এখন সাজানো রয়েছে দেশের ১৯টি আউটলেটে। প্রতিটি আউটলেটেই পাবেন থিমভিত্তিক সম্পূর্ণ ফ্যামিলি কালেকশন—সব বয়সী সবার জন্য ম্যাচিং পোশাকের দারুণ সমাহার।
যারা বাইরে যেতে চান না বা ব্যস্ততার কারণে আউটলেটে যেতে পারছেন না, তাদের জন্য রয়েছে অনলাইন শপিংয়ের সুবিধা। ঘরে বসেই ব্রাউজ করুন www.rang-bd.com বা রঙ বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, অর্ডার করুন আপনার পছন্দের পোশাক, আর আমরা পৌঁছে দেব সেটি আপনার দরজায়। উৎসবের আনন্দ ও কেনাকাটার স্বাচ্ছন্দ্য—দুটোই এখন আপনার হাতে।
রঙ বাংলাদেশ বিশ্বাস করে—প্রতিটি উৎসব শুধু আনন্দ নয়, এটি এক জীবন্ত স্মৃতি, যা বেঁচে থাকে পোশাকের রঙ, নকশা ও ঐতিহ্যে। এবারের শারদীয় কালেকশন সেই স্মৃতিরই এক রঙিন অধ্যায়, যা আপনাকে উৎসবের ভিড়ে করে তুলবে অনন্য।
মন ভালো রাখতে খেতে হবে যেসব খাবার
লিনা আকতার
খাদ্যের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যা খাই, তা মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, বয়সজনিত সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগ ইত্যাদি কারণে মানসিক চাপ হতে পারে।
আর তাই শরীরে কর্টিসল, অ্যাড্রোনালিন ও নরডেনালাইন নামে কয়েকটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। এই হরমোনগুল ঘুম, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও সাইক্রোসিসহ বেশ কয়েকটি বিপাকীয় সমস্যা তৈরি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে আরো খারাপ করে তোলে। এ ছাড়া মানসিক চাপ অন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রকেও বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে।
শরীরে দুটি প্রধান নিউরোট্রাসমিটার- সেরোটোটিন ও ডোপামিন উভয়ই মেজাজ বর্ধক। এগুলো অন্ত্রে উৎপাদিত হয়। এ ছাড়াও স্ট্রেসের কারণে শরীরে স্বাভাবিক ভারসাম্য (হোমিওস্টাসিস) হারিয়ে যেকোনো ধরনের মানসিক অবস্থা সৃষ্টি করে।
মানসিক চাপ ও ক্ষুধার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। র্দীঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে নির্দিষ্ট ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার বেশি উৎপাদন করে, যা ক্ষুধা বাড়াতে পারে। এতে আপনি অতৃপ্তি বোধ করতে পারেন। এতে পরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যাবে। তাতে অ্যানোরেক্টিক প্রভাব সৃষ্টি হয়, যা ক্ষুধার অনুভূতি কমিয়ে দেয় এবং কম খাবার গ্রহণে উদ্ধুদ্ধ করে।
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট
আমাদের মস্তিষ্ক প্রতিদিনের শক্তি ও অন্যান্য পুষ্টি শতাংশ গ্রহণ করে শর্করা থেকে। তবে খাওয়ার জন্য জটিল শর্করা বা কার্বোহাইডট বেছে নিতে হবে। কারণ এটি শরীরে ট্রিপটোফ্যানের শোষণ বাড়িয়ে দেয়। এতে সেরোটোনিন উৎপাদন বেড়ে যায় এবং মন-মেজাজ ঠিক রাখতে সহায়তা করে। শর্করা সঙ্গে পর্যাপ্ত আঁশ খেলে পুষ্টি শোষণ নিশ্চিত হবে, তেমনি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে।
জটিল শর্করাজাতীয় খাবার: গোটা শস্য- লাল আটা, ওটস, বালি, মসুর ডাল, ছোলা, সয়াবিন ইত্যাদি। ফল ও সবজি: গাজর, মটর, পেয়াজ, ব্রকলি ইত্যাদি।
প্রোটিন
প্রোটিন শরীরকে টাইরোসিন নামক একটি নির্দিষ্ট ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড সরবরাহ করে। পরে টাইরোসিন আরো ভেঙে ডোপামিন নামক আরো একটি নিউরোট্রাসমিটার তৈরি করে। ডোপামিন আমাদের মস্তিষ্কের অনুপ্রেরণা ও আনন্দের অনুভূতি তৈরিতে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করে। টাইরোসিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে মস্তিষ্ক ডোপামিন সংশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়।
টাইরোসিন সমৃদ্ধ খাবার স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকরেল, ঘাস খাওয়নো গবাদি পশুর মাংস, ডিম, কম চর্বিযুক্ত দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি খাবার।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার
স্মৃতিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের খাবারের মধ্যে ভিটামিন এ, ই, সি, সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ই আলঝেইমার ও ডিমেনসিয়ার রোগ বিলম্বিত করে। এ ছাড়াও ভিটামিন সি কর্টিসল ও স্ট্রেস হরমোন কমায়। এ জন্য খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন রঙ্গিন শাকসবজি যেমন- গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পালংশাক, বেরিজাতীয় খাবার, লেবু, আমড়া ইত্যাদি রাখতে হবে।
ওমেগা ৩
সুস্থ স্নায়ুকোষ তৈরির জন্য মস্তিষ্কের ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড প্রয়োজন। এটি বিষণ্ণতা ও মানসিক অসুস্থতা কমায়। এটি সেরোটোনিন উৎপন্নকারী জিনকে চালু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করে। সেরোটোনিন হরমোন মন মেজাজ ভালো রাখতে ভূমিকা পালন করে। এ জন্য ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডকে অ্যান্টিডিপ্রেশনও বলা হয়।
ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড উৎস হিসাবে খেতে হবে তৈলাক্ত মাছ, আখরোট, বিভিন্ন রকমের বীজজাতীয় খাবার যেমন- চিয়াবীজ, তিসিবীজ ইত্যাদি।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের মধ্যে ফলিক অ্যাসিড থাকে। এটি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, আতঙ্ক ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি দেয়। এ ছাড়া ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের মধ্যে ভিটামিন বি৫- কে অ্যান্টিস্ট্রেস ভিটামিন বলা হয়। এ জন্য খেতে হবে গাঢ় রঙ্গের সবুজ শাক-সবজি, গোটা শস্য, মাছ, মাংস, চিনাবাদাম ইত্যাদি।
এল-থেনাইন
এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন। এটি মস্তিষ্ককে আলফা তরঙ্গ বাড়ায়। এতে মানসিক চাপ কমে। এ জন্য খেতে হবে চা। বিশেষ করে কালো ও সবুজ চা।
গাট হেলথ
হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শোষণকৃত হজম পুষ্টি মস্তিকে পৌঁছায়। তাই গাট হেলথ ঠিক না থাকলে এটি মানসিক স্বাস্থের ওপর প্রভাব পড়ে। এই জন্য খাদ্যতালিকায় প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে দই অন্যতম।
লেখক: পুষ্টিবিদ; রায়হান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের দাবি গণস্বাস্থ্যের চিকিৎসকদের
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
অধূমপায়ীদের সুরক্ষায় দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের গুরুত্ব: চিকিৎসকদের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাস ও কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক বাতিলের দাবি জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ও গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
গতকাল ১৯ আগস্ট ২০২৫, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ধানমন্ডি ৬ নম্বর রোডস্থ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের এটিএম হায়দার বীর উত্তম মিলনায়তনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ডিপার্টমেন্ট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এবং রিসার্চ ইন্সটিটিউট।
বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাস এবং তামাক নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তি WHO FCTC-এর আর্টিকেল ৫.৩ লঙ্ঘন করে তামাক কোম্পানির সঙ্গে সরকারের বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
সেমিনারে বক্তারা জানান, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানির কোনো মতামত নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এটি WHO FCTC-এর আর্টিকেল ৫.৩-এর সরাসরি লঙ্ঘন এবং দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই সরকারকে অবিলম্বে স্টেকহোল্ডার মিটিংয়ের নামে তামাক কোম্পানির মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুমোদনের আহ্বান জানানো হয়।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, ‘বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ তামাকজনিত রোগে প্রাণ হারাচ্ছেন এবং আরও ৪ লাখ মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ অবস্থায় বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন আর বিলম্ব করা মানে জনস্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করা।
তিনি আরও জানান, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার স্টেকহোল্ডার মিটিংয়ের নামে তামাক কোম্পানির মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা WHO FCTC-এর আর্টিকেল ৫.৩-এর প্রকাশ্য লঙ্ঘন। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, সরকার যেন দ্রুত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত সংশোধনী উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন করে।
সভাপতির বক্তব্যে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ৪শ ৪২ জন মানুষ তামাকজনিত কারণে অকালে মারা যাচ্ছেন। এই প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধে আইন সংশোধনে বিলম্ব অগ্রহণযোগ্য এবং এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ WHO FCTC-এর প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ হয়েও বর্তমানে তামাক কোম্পানির মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জনস্বার্থবিরোধী। তামাক কোম্পানির একমাত্র লক্ষ্য মুনাফা, জনস্বাস্থ্য নয়। তাই এদের কোনো মতামত গ্রহণ করা মানেই জনস্বার্থকে উপেক্ষা করা।
সেমিনারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সংশোধনী বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়— ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান (DSA) বিলুপ্ত করে শতভাগ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহন ধূমপানমুক্ত করা; তামাক বিক্রয়স্থলে প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির CSR কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেটসহ সকল ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস থেকে কিশোর ও তরুণদের রক্ষা করা; স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা এবং খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন ও খোলা তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি নিষিদ্ধ করা।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজের অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. খোরশেদ আলম, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সাঈদ-উজ-জামান, অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক, অধ্যাপক আকরাম হোসেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার, সিনিয়র কমিউনিকেশনস অফিসার আবু জাফরসহ বিভিন্ন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় সেমিনারটি আয়োজন করে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল।
আপনি কি আবেগীয়ভাবে পরিপক্ব? নিজেকে পাঁচটি প্রশ্ন করুন
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
আপনি কি আবেগীয়ভাবে পরিপক্ব? হ্যাঁ, আপনি হয়তো একা অনেক বিষয়ই সামলাচ্ছেন, অনেক চড়াই-উৎড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তবে এর মানে এই নয় যে আপনি আবেগীয়ভাবে পরিপক্ব হয়েছেন।
আবেগীয় পরিপক্বতা এমন একটি বিষয়, যা মানুষ নিরবতার সঙ্গে পছন্দ বা গ্রহণ করে এবং দৈনন্দিন জীবনে সেটার অভ্যাস বজায় রাখে। কয়েকটি প্রশ্ন করে নিজের কাছ থেকেই জেনে নিন, আপনি কতটা পরিপক্ব।
সব তর্কে আপনি আর জিততে চান না
এখন কি আর তর্কে জড়াতে ইচ্ছে করে না আপনার? কখনো কখনো যে যা ভাবে তাকে সেভাবেই ভাবতে দেন। এক কথায় বলা চলে অন্যের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে নিজের শক্তি বাঁচান। বিষয়টি এমন হলে আপনি আবেগীয়ভাবে পরিপক্ব হচ্ছেন।
কাউকে পাওয়ার জন্য আর দৌড়ান না
মানুষের জীবনে হয়তো এক একটা সময় আসে যখন প্রিয় মানুষটিকে পাওয়ার জন্য সে দৌড়াতে থাকে। সে ভুল করুক আর না করুক সঙ্গীর মান-অভিমান ভাঙানোর জন্য উঠে-পড়ে লাগে। তবে আপনি কি এই অধ্যায়টা পার হয়ে গেছেন? এখন কি নিজেকে আর অন্যের কাছে ছোট করতে ইচ্ছে করে না আপনার? নিজের মানসিক শান্তিটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন? তাহলে আপনি পরিপক্বতার দিকে এগোচ্ছেন।
আপনার ভুলগুলো আপনি বুঝতে পারছেন
আবেগীয়ভাবে পরিপক্বতার একটি বড় দিক হলো নিজের ভুল নিজে দেখতে পাওয়া। অনেকেই রয়েছেন যারা ভুল করার পরও অন্যকে আক্রমণ করতে থাকে। বিষয়টি থেকে বের হয়ে আসতে পারলে শুভ কামনা আপনার জন্য। নিজের ভুল নিজে ধরে সেখানে দুঃখ প্রকাশ করাও একটা বড় গুণ।
প্রিয় মানুষের সফলতায় আপনি খুশি হন
আবেগীয়ভাবে পরিপক্ব হওয়ার এটি একটি বড় লক্ষণ। অন্যের সাফল্য যে ঈর্ষাপরায়ণতা না নিয়ে দেখতে পারে, সে নিঃসন্দেহে পরিপক্ব মনের মানুষ।
যেসব মানুষ নিজেকে বদলাতে চায় না, তাদের জন্য আপনি সময় নষ্ট করেন না
যে যেমন আপনি তাকে সেভাবেই গ্রহণ করছেন। কারো কাছে আপনি হয়তো এখন আর আশা করেন না। আপনি এখন জানেন, মানুষ নিজে থেকে বদলাতে না চাইলে তাকে বদলানো যায় না। তাই আপনি এখন নিজের সমৃদ্ধি নিয়েই চিন্তা করেন। বিষয়টি এমন হলে আপনি ঠিক পথেই এগোচ্ছেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
অধূমপায়ীদের সুরক্ষায় দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন শীর্ষক সেমিনার
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
‘অধূমপায়ীদের সুরক্ষায় দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের গুরুত্ব: চিকিৎসকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল ১৯ আগস্ট ২০২৫, মঙ্গলবার সকাল ৯টায়, ধানমন্ডি ৬ নম্বর রোডস্থ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের এটিএম হায়দার বীর উত্তম মিলনায়তনে (৬ষ্ঠ তলা) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ডিপার্টমেন্ট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এবং রিসার্চ ইন্সটিটিউট।
তামাকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও গণস্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ আলোচনায় অংশ নিবেন।
‘ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ’ -এর সহযোগিতায় সেমিনারটি আয়োজন করেছে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতাল।


