Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 12

পূজার রেসিপি: মুরগির কোরমা

ঝাল মাংস তো প্রায় সবার ঘরেই হয়, এবার পূজায় না হয় একটু ভিন্ন কিছু ট্রাই করুন। তৈরি করে নিন মুরগির কোরমা। পোলাও বা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন। রেসিপি দিয়েছেন, সংগীত শিল্পী মিথিলা ঘোষ।

উপকরণ
মুরগির মাংস- ৫০০ গ্রাম
পেঁয়াজ বেরেস্তা- ১ কাপ
টক দই- ১/২ কাপ
আদা বাটা- ১ চা চামচ
রসুন বাটা- ১ চা চামচ
গরম মসলা- এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি (পরিমাণ মতো)
কাঁচা মরিচ- ৫ থেকে ৬টি
গোলাপ জল- ১ চা চামচ (ইচ্ছা অনুযায়ী)
তেল- ৩ থেকে ৪ চা চামচ
লবণ- স্বাদমতো
ঘি- পরিমাণমতো

যেভাবে তৈরি করবেন
মুরগির টুকরোগুলো আদা বাটা, রসুন বাটা, লবণ ও টক দই দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। প্যানে তেল ও ঘি গরম করে মেরিনেট করা মুরগি হালকা ভেজে তুলে নিন।

এরপর গরম মসলা যোগ করে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করতে হবে। ভাজা মুরগি ও সব মসলা দিয়ে অল্প আঁচে ঢাকনা দিয়ে রান্না করে নিন, যতক্ষণ না মাংস সিদ্ধ হয় এবং ঝোল ঘন হয়ে আসে। মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে কাঁচা মরিচ ও গোলাপ জল ( যদি ব্যবহার করেন) দিয়ে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট রান্না করতে হবে। তৈরি হয়ে গেলো মুরগির কোরমা।

মিথিলা ঘোষ
মিথিলা ঘোষ

পূজার রেসিপি: সরিষা ইলিশ

পূজা মানেই ভরপেটে মুখরোচক খাবার খাওয়া। আর মাছে-ভাতে বাঙালির পাতে মাছ না হলে তো যেকােনো উৎসব- পার্বণই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আর তাই আজকের পূজার রেসিপি ভিন্নধর্মী সরিষা ইলিশ। রেসিপি দিয়েছেন, সংগীত শিল্পী মিথিলা ঘোষ।

উপকরণ
ইলিশ মাছের টুকরো- ৪ থেকে ৫টি
সরিষা বাটা- ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ
কাঁচা মরিচ- ৪ থেকে ৫টি
পেঁয়াজ কুঁচি- ২ থেকে ৩টি
হলুদ গুঁড়া- আধা চা চামচ
লবণ- স্বাদমতো
সরিষার তেল- ৪ টেবিল চামচ
পানি- পরিমাণমতো

যেভাবে তৈরি করবেন
ইলিশ মাছের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে লবণ ও হলুদ গুঁড়া দিয়ে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। সরিষা, কাঁচা মরিচ, সামান্য লবণ একসঙ্গে ব্ল্যান্ড করে পেস্ট তৈরি করে নিন।

এবার পেঁয়াজ কুঁচি হালকা বাদামি করে ভাজুন। ভাজা পেঁয়াজের সঙ্গে সরিষা বাটা, হলুদ গুঁড়া ও সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে যতক্ষণ তেল উপরে না ভাসে। মসলা কষানো হয়ে গেলে মাছের টুকরোগুলো দিতে হবে।

বেশি নাড়াচাড়া না করে হালকাভাবে মিশিয়ে নিন এবং ঢাকানা দিয়ে ঢেকে দিন। মাছ সিদ্ধ হয়ে এলে আস্ত কাঁচা মরিচ দিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট ঢেকে রাখুন। তেল উপরে উঠে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

মিথিলা ঘোষ
মিথিলা ঘোষ

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মেঘদূত-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়– এই স্লোগান ধারণ করে উদযাপিত হলো মেঘদূত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও লেখক-সুহৃদ মিলনমেলা ২০২৫।

ঢাকার বেইলি রোডে মহিলা সমিতি মিলনায়তনে ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কবিকণ্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজনটি সাজানো হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এর বেস্ট সেলার সম্মাননা প্রদান করা হয় মেঘদূত প্রকাশনকে। বেস্টসেলার সম্মাননাপ্রাপ্ত তিনজন লেখক হলেন নূরুল হক, মাকসুদা বিথী ও খান আফিফা লুনা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রয়েল ট্রেডিং করপোরেশনের সিইও হাদিয়ার রহমান মীর। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে সমাজ বিনির্মাণে সৌন্দর্য ও জ্ঞানের চর্চাকে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন মানবতাবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে সৃজনশীল চর্চার বিকল্প নেই। মানুষের সৃষ্টিশীলতার বিকাশ সাধনের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে দেশপ্রেমের বিস্তার ঘটাতে পারলেই আলোকিত সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ সহজ হবে।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে মেঘদূত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। মননশীল ও শুদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে মেঘদূতের এই পথচলা আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটির আহ্বায়ক ছিলেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক গরীব নেওয়াজ। এ সময় অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব কবি ও কথাসাহিত্যিক খান আফিফা লুনা, মেঘদূত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি, কথাসাহিত্যিক ও আবৃত্তিশিল্পী তাহেরা আফরোজসহ দুই শতাধিক লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন মেঘদূতের সভাপতি ভাষাবিদ রাশেদ চৌধুরী।

পূজার সময় ত্বক ও চুলের যত্ন

সুপ্রীতি গোস্বামী

মহালয়া মানেই পুজোর কাউন্টডাউন শুরু। তার সঙ্গেই শুরু হয় নানা রকম প্রস্তুতি—ঘর গোছানো, কেনাকাটা, পুজোর কাজ—আরও কত কী! কিন্তু এই ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের যত্নটাই অনেক সময় আর হয়ে ওঠে না। পার্লারে যাওয়ার সুযোগও মেলে না। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে ঘরেই পুজোর জন্য নিজের চুল ও ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়।

ত্বকের যত্ন

১. নিয়মিত স্কিন রুটিন
পুজোর সময় প্রতিদিন ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য: মাইল্ড ক্লিনজার, টোনার ও জেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

শুষ্ক ত্বকের জন্য: হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার, হায়ালুরোনিক মিস্ট ও হাইড্রেটিং ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।

ব্রণযুক্ত ত্বকের জন্য: তৈলাক্ত ত্বকের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, তবে সব প্রোডাক্ট হতে হবে নন-কমেডোজেনিক।

২. হাত-পায়ের ট্যান দূর করতে
গোলাপ জল ও গ্লিসারিন ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে তাতে দুই থেকে তিন ফোঁটা লেবুর রস দিন। রাতে শোবার আগে হাত-পায়ে ব্যবহার করুন। (মুখে ব্যবহার করা যাবে না)।

৩. মুখে জেল্লা ফিরিয়ে আনতে প্যাক (শুষ্ক ত্বক)
টক দই ১ চা চামচ, কমলালেবুর খোসার গুঁড়া ১ চা চামচ, পাকা পেঁপে ১ চা চামচ, মধু আধা চা চামচ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এক দিন পর পর ব্যবহার করলে ভালো ফল মিলবে।

৪. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য প্যাক
বুটের বেসন ১ চা চামচ, মুলতানি মাটি ১ চা চামচ, গ্রিন টি ১ চা চামচ এবং কাঠবাদামের গুঁড়া ১ চা চামচ মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

চুলের যত্ন

৫. চুলের জন্য পুষ্টিকর হেয়ার প্যাক
টক দই আধা কাপ, ১টি কলা, ১টি ডিম, অ্যালোভেরা জেল ৩ চা চামচ, ভাতের মার আধা কাপ, ই-ভিটামিন ক্যাপসুল ২টি মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগান। ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল ঝলমলে ও নরম হবে।

৬. চুলের ফ্রিজি ভাব দূর করতে
বাদাম তেল ও নারকেল তেল ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এক ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং ফ্রিজিভাবও কমবে।

এভাবে ঘরেই সামান্য যত্ন নিলে পুজোর দিনগুলোতে আপনার আপনার ত্বক ও চুল দুটোই সুন্দর থাকবে।

লেখক: রূপ বিশেষজ্ঞ

গানে গানে রবিরশ্মির ২৭তম বর্ষপূতি উদযাপন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সংগীত সংগঠন ‘রবিরশ্মি’ তার ২৭তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘অভয় বাজে হৃদয় মাঝে’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার, বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, মহাদেব ঘোষ (দেশবরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও পরিচালক, রবিরশ্মি)। অনুষ্ঠানে সম্মাননা জানানো হয়, দেশবরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী এ. এম. এম মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না-কে।

১ম দিন
অনুষ্ঠানের প্রথম দিন অর্থাৎ ১২ সেপ্টেম্বর, একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী এ. এম. এম মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না। এই দিন গীতি আলেখ্য ‘প্রেমের জোয়ারে ভাসাবে দোঁহারে’ পরিবেশন করে রবিরশ্মির শিল্পীবৃন্দ। গীতি আলেখ্যর পরিচালনায় ছিলেন রবিরশ্মির পরিচালক মহাদেব ঘোষ। নৃত্য পরিবেশন করেন রাধিকা তাসাল্লুম রিয়ন্তী ও আবিদ হাসান রাতুল। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন মো. জাবেদ হোসেন। আবৃত্তি করেন, বেলায়েত হোসেন ( বাচিক শিল্পী ও পরিচালক, অবলোকন)।

দু’দিনব্যাপি এই অনুষ্ঠানে একক গান পরিবেশন করেন রবিরশ্মির ঢাকা ও চট্টগ্রামের সদস্যবৃন্দ। প্রথম দিন একক গান পরিবেশন করেন- সুকুমার চক্রবর্তী, দিলীপ কুমার দাস, শাশ্বতী মাথিন, হ্যাপি পাল, ভারতী চাকি, সুস্মিতা হোসেন, মনীষা চক্রবর্তী, জাহানজীব সারোয়ার শিমুল, মেজবাহুল আযম মঞ্জু, মিথিলা ঘোষ, নিতা চক্রবর্তী, সুমা চন্দ, ময়না রানী দাস, রুমা সাহা, শম্পা ভৌমিক, মৃত্তিকা দেবনাথ।

২য় দিন
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১৩ সেপ্টেম্বর, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সঞ্জীত গোপ ( অন্যতম উপদেষ্টা, রবিরশ্মি)।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন গীতি আলেখ্য ‘আমরা নূতন যৌবনেরই দূত’ পরিবেশন করে রবিরশ্মির ক্ষুদে শিল্পীবৃন্দ। পরিচালনা করেন মিথিলা ঘোষ।

দ্বিতীয় দিন একক গান পরিবেশন করেন- সুব্রত চৌধুরী, বিষ্মুপদ দাস, স্বপন চক্রবর্তী, বিকাশ হালদার, জনি ঘোষ, প্রণব সিকদার, ডা. নওশাদ খান, মনামী চক্রবর্তী, বনশ্রী পাল শান্তা, জয়া গাঙ্গুলী, ইপা বড়ুয়া, প্রতিভা রানী, অর্চনা রায়, অরুণা সরকার, শাজনাজ পারভীন পাপড়ি, দেবযানী মিত্র, মৌসুমী দাসগুপ্তা, অনিমা গোস্বামী, মাকসুদা জামিল তুলি, অনামিকা ত্রিপুরা, চম্পা বিশ্বাস, রুম্পি চৌধুরী, প্রিয়াঙ্কা বড়ুয়া মলি, প্রনিধি মজুমদার।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন, লিপি রানী ঘোষ ও শাশ্বতী মাথিন। অনুষ্ঠানে যন্ত্রাণুসঙ্গে ছিলেন- তবলা ও অক্টোপ্যাডে মোহাম্মদ ফারুক ও গৌতম সরকার, মন্দিরায় জে. এ. বাতেন, কি বোর্ডে রবিনস্ চৌধুরী, এস্রাজে অশোক কুমার সরকার, সেতারে মো. ফিরোজ খান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, মোখলেস আলম (বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সভাপতি রবিরশ্মি)।

রবিরশ্মির দু’দিনের ২৭তম এই বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান শেষ হয় রবিরশ্মির পরিচালক মহাদেব ঘোষের সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা ও পরিচালনায়ও ছিলেন তিনি।

শরতে ‘কে ক্র্যাফট’ এর আয়োজন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বর্ষার সমাপ্তিতে আবির্ভূত হয় শরৎকাল। বর্ষার বিদায়ে আকাশ যেন সাজে হালকা মেজাজের সাদা মেঘের পোশাকে। নির্মল-শান্ত একটা পরিবেশ নিয়ে শরতের আগমন ঘটে। প্রকৃতি সাজে অপরূপ সাজে।

প্রতি বছরই শরতের পোশাকের বিশেষ আয়োজন করে আসছে ‘কে ক্র্যাফট’। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি, প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যকে পোশাকে তুলে ধরার প্রচেষ্টায় প্রতিবারের মতোই শরৎ উপলক্ষে থাকছে নীল-সাদা সাথে আরও নানান রঙের সম্মিলন।

ফ্লোরাল, জামদানি, ট্র্যাডিশনালসহ নানা মোটিফে তৈরি করা এবারের পোশাক সারিতে রয়েছে- শাড়ি, সালওয়ার কামিজ, কুর্তি, টপস, টিউনিক এবং ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট।

উষ্ণতায় আরাম আর স্বস্তিতে থাকাকে প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া হয়েছে- কটন, জ্যাকার্ড কটন, ভয়েল, হাফ সিল্ক ফ্যাব্রিক। চলতি ফ্যাশন ট্রেন্ড এবং ফিউশন ধর্মী কাট ও প্যাটার্নে মিডিয়া হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, টাই-ডাই ও হাতের কাজ।

শুভ্র কাশবন, সাদা মেঘের ভেলা আর প্রশান্ত নীল আকাশের অনুপ্রেরণায় সাদা ও নীল রঙ ছাড়াও নেওয়া হয়েছে আকাশী, অফ-হোয়াইট, ল্যাভেন্ডার, ভায়োলেট, পেইল পিঙ্ক, নীলের নানান শেড।

কে ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট,কুমিল্লার সকল শো-রুম ছাড়াও অনলাইন শপ www.kaykraft.com থেকে শরৎ আয়োজনের পোশাক কিনতে পারেন সাশ্রয়ী মূল্যে। এ ছাড়াও ফেসবুক পেজ থেকেও অর্ডার করা যাবে।

থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে কম খান আট খাবার

লিনা আকতার

আমাদের বিপাকসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে থাইরয়েড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে উপকারী।

উচ্চ ক্যালরিযুক্ত ও উচ্চ কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে এসব খাবার কম খাওয়া ভালো। কারণ, এতে ক্যালরি বেড়ে ওজন বাড়তে পারে। এতে থাইরয়েড ফাংশন বাধাগ্রস্ত হয়।

উচ্চ ক্যালরিযুক্ত ও উচ্চ কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে আলু, কচু, চিপস, চানাচুর, সিংগারা, পুরি ইত্যাদি।

গ্লুটেনযুক্ত খাবার
থাইরয়েড হরমোন ভারসাম্যহীন হলে ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া গ্লুটেনযুক্ত খাবার ইমিউন সিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই গ্লুটেনযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে গমের তৈরি খাবার বাদ দিয়ে চিড়া, খই, চালের তৈরি খাবার, কাওনের চালের খাবার, চিয়াসিড খান। আর বাইরের খাবার খেতে চাইলে প্যাকেটের গায়ে গ্লুটেন ফ্রি দেখে নিতে হবে।

সয়া ও সয়াপ্রোডাক্ট
সয়া, সয়াসস, সয়ামিল্ক, টফু,সয়াবিন খাদ্য তালিকায় বর্জন করতে হবে।

ক্যাফেইন
চা, কফি না খাওয়াই ভালো। তবে পরিমিত পরিমাণে ভেষজ চা যেমন- তুলসি, দারুচিনি চা, গ্রিন টি খেতে পারেন। কারণ ক্যাফেইনের কারণে দেহে পানিশূন্যতা হতে পারে।

প্রসেস খাবার
কেক, বিস্কুট, নুডুলস ইত্যাদি বর্জন করুন। কারণ, এগুলোতে চিনি ও লবণ দুটোই বেশি যার জন্য ওজন বাড়তে পারে এবং হরমোন ভারসাম্যহীন হতে পারে।

রিফাইন কার্বোহাইড্রেট
সাদা চিনি, সাদা ভাত, সাদা ময়দা, সাদা পাউরুটি ইত্যাদি খাওয়া কমাতে হবে। কারণ, এগুলো দ্রুত সুগার বাড়ায়। এতে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে। এতে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ে; হরমোন পরিবর্তন হয়।

মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
চকলেট, ক্যান্ডি, কেক, আইসক্রিম, এগুলো খাবার শরীরে ইনসুলিন লেভেল বাড়িয়ে শরীরে ফ্যাটস্টোর হতে সাহায্য করে।

ট্রান্সফ্যাট
ডুবো তেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড, শিঙ্গারা, পুরি বর্জন করতে হবে। মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে এবং যে কোনো বোতলজাত পানীয় এবং সফট ড্রিংকস গ্রহণ করা যাবে না।

লেখক: পুষ্টিবিদ; রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে যা খাবেন

লিনা আকতার

থাইরয়েড হল এমন একটি এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি, যা আমাদের বিপাকসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই হরমোন তৈরির জন্য গ্রন্থিটির প্রয়োজনীয় পরিমাণে আয়োডিন দরকার হয়।

সারা বিশ্বে ২০ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি আটজনে একজন থাইরয়েড সমস্যায় ভোগে। এই জন্য নারীদের বন্ধ্যত্ব বা সন্তান ধারণে বেশ জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।

কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো থাইরয়েড নিয়ন্ত্রেণ উপকারী। আসুন জানি সেগুলো-

প্রোটিন
প্রোটিন ব্লাড সুগার স্থির করতে সাহায্য করে এবং মেটাবলিজম বুস্ট করতেও উপকারী। এ ছাড়া এটি অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত রাখে। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য হয়।কুসুমসহ ডিম, মাছ বা মাংস, বাদাম, ডাল, ছোলা, শিম প্রভৃতি ভালো প্রোটিনের উৎস।

হেলদি ফ্যাট বা স্বাস্থ্যকর চর্বি
হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে ও বন্ধ্যত্ব নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর চর্বি খুব জরুরি। স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস হল নারিকেল তেল, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, তিসি, অ্যাভোক্যাডো। এই ক্ষেত্রে ঘরে বানানো নারিকেল তেল দিয়ে রান্না করে খেতে হবে। যারা নারিকেল তেল খেতে পারেন না তারা নারিকেল কোরানো খেতে পারেন। এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি থাইরয়েড ফাংশনে বেশ ভালো কাজ করে।

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে যথেষ্ট পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট, পলিফেনল ও ফাইট্রোনিউট্রেয়েন্ট থাকে। এগুলো থাইরয়েড উৎপাদনে ভালো সহায়ক। এই তেল সালাদে ব্যবহার করে খাওয়া যেতে পারে।

তিসি
এটি ওমেগা থ্রি- এর একটি ভালো উৎস। এটি সালাদে ছড়িয়ে বা আটায় মিশিয়ে রুটি বানিয়ে খেলে বেশ ভালো ওমেগা থ্রি পাওয়া যায়। এগুলোতে স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘ই’-ও থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ‘ই’ স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে ভালো কাজ করে। এটি থাইরয়েডের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এ ছাড়া থাইরয়েড হরমোনে কিছু ভিটামিন ও মিনারেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন-আয়োডিন।

আয়োডিন
থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল হচ্ছে আয়োডিন। আর এটি পেতে রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করতে হবে। তবে এই লবণের গুণাগুণ পেতে হলে তাপমাত্রার মধ্যে বা চুলার পাশে রাখা যাবে না। এ ছাড়া দুধ, চিজ, পেয়াজ, রসুন, ভুট্টা, আনারস, টমেটো, স্ট্রবেরি, সামুদ্রিক মাছ ( যেমন: স্যামন ,সারডিন , হেরিং প্রভৃতি) ইত্যাদিতে আয়োডিন পাওয়া যায়।

সামুদ্রিক শৈবালে বেশ ভালো আয়োডিন রয়েছে। আমাদের দেশে এই খাবারটি নেই বলেই চলে। তাই সবার জন্য পাওয়া কঠিন ।

টাইরোসিনযুক্ত খাবার
এমাইনো এসিড আয়েডিনের সঙ্গে যৌথভাবে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে কাজ করে থাকে। টাইরোসিন কমে গেলে থাইরয়েডের পরিমাণ কমে যায়। এই জন্য উচ্চ টাইরোসিনযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন। যেমন: লাল মাংস, টার্কি মুরগির বুকের মাংস, স্যামন মাছ, কলা, মিষ্টি কুমড়ার বিচি ইত্যাদি।

জিংক
জিংক ছোট ছেলে-মেয়েদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, ক্ষুধা বৃদ্ধি এবং পেশি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি থাইরয়েডে হরমোন সংশ্লেষণেও উপকারী। জিংক পেতে খেতে হবে ডিম, দুধ, পনির, লাল মাংস, তরমুজের বীচি, রসুন, বাদাম, তিল প্রভৃতি। ১০০ গ্রাম তিল থেকে আট গ্রাম জিংক পাওয়া যায়।

সেলেনিয়াম
এটি থাইরয়েড ফাংশনে লিভারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সেলেনিয়ামের ভালো উৎস হল ব্রাজিল নাটস। এ ছাড়া লাল চালে, চিংড়ি, টুনাফিস, সরিষা ইলিশ মাছ, শসা ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘এ’
থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন ও নিঃসরণে সাহায্য করে। পাশাপাশি টি-থ্রিকে টি-ফোরে রূপান্তরে কার্যকরী। এর উৎস হল গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকাপেঁপে, ডিম, হলুদ ও সবুজ শাকসবজি।

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’
ক্যালসিয়াম ও ভিটমিন ‘ডি’-এর অভাবে রক্ত শরীর থেকে চামড়ায় যেতে বিঘ্ন ঘটে। এতে হাতে-পায়ে প্রচুর ব্যথা হয়। তাই থাইরয়েড হরমোনে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-এর ভূমিকা অপরিহার্য।

ভিটামিন ‘ডি’ পেতে হলে নিয়মিত সকাল ১০ টা থেকে দুপুর দুইটার মধ্যে কমপক্ষে আধা-ঘণ্টা রোদে থাকতে হবে। যাদের রোদে যাওয়ার সুযোগ নেই তারা তৈলাক্ত মাছ, গরুর কলিজা, ডিম, পনির, তিল, সবুজ শাকসবজি, কমলালেবু থেকে পেতে পারেন। এ ছাড়া ভিটামিন ‘ডি’ ফলিকলের পরিমাণ বাড়ায়। এটি মেয়েদের পিরিয়ড নিয়মিত করে।

ভিটামিন ‘বি১২’
থাইরয়েড রোগীদের রক্তস্বল্পতা, অন্ত্রনালীর সমস্যা, বিভিন্ন স্নায়ুবিক সমস্যায় ভিটামিন ‘বি১২’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভিটামিন ‘বি১২’- এর উৎস হল ডিম, ডাল, মাংস ও মাছ।

ডোপামিন সমৃদ্ধ খাবার
থাইরয়েডে মন ভালো রাখা খুব জরুরি। হতাশ হওয়া যাবে না। এ জন্য ডোপামিন (মন ভালো করার হরমোন) সম্বৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমন: বাদাম, আখরোট, কালো চকোলেট, শসা, টমেটো, কমলা, ব্লুবেরি, টকদই, রসুন, বাদামি প্রভৃতি।

লেখক: পুষ্টিবিদ; রায়হান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.