সুপ্রীতি গোস্বামী
মহালয়া মানেই পুজোর কাউন্টডাউন শুরু। তার সঙ্গেই শুরু হয় নানা রকম প্রস্তুতি—ঘর গোছানো, কেনাকাটা, পুজোর কাজ—আরও কত কী! কিন্তু এই ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের যত্নটাই অনেক সময় আর হয়ে ওঠে না। পার্লারে যাওয়ার সুযোগও মেলে না। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে ঘরেই পুজোর জন্য নিজের চুল ও ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়।
ত্বকের যত্ন
১. নিয়মিত স্কিন রুটিন
পুজোর সময় প্রতিদিন ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য: মাইল্ড ক্লিনজার, টোনার ও জেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
শুষ্ক ত্বকের জন্য: হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার, হায়ালুরোনিক মিস্ট ও হাইড্রেটিং ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
ব্রণযুক্ত ত্বকের জন্য: তৈলাক্ত ত্বকের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, তবে সব প্রোডাক্ট হতে হবে নন-কমেডোজেনিক।
২. হাত-পায়ের ট্যান দূর করতে
গোলাপ জল ও গ্লিসারিন ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে তাতে দুই থেকে তিন ফোঁটা লেবুর রস দিন। রাতে শোবার আগে হাত-পায়ে ব্যবহার করুন। (মুখে ব্যবহার করা যাবে না)।
৩. মুখে জেল্লা ফিরিয়ে আনতে প্যাক (শুষ্ক ত্বক)
টক দই ১ চা চামচ, কমলালেবুর খোসার গুঁড়া ১ চা চামচ, পাকা পেঁপে ১ চা চামচ, মধু আধা চা চামচ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এক দিন পর পর ব্যবহার করলে ভালো ফল মিলবে।
৪. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য প্যাক
বুটের বেসন ১ চা চামচ, মুলতানি মাটি ১ চা চামচ, গ্রিন টি ১ চা চামচ এবং কাঠবাদামের গুঁড়া ১ চা চামচ মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন।
চুলের যত্ন
৫. চুলের জন্য পুষ্টিকর হেয়ার প্যাক
টক দই আধা কাপ, ১টি কলা, ১টি ডিম, অ্যালোভেরা জেল ৩ চা চামচ, ভাতের মার আধা কাপ, ই-ভিটামিন ক্যাপসুল ২টি মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগান। ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল ঝলমলে ও নরম হবে।
৬. চুলের ফ্রিজি ভাব দূর করতে
বাদাম তেল ও নারকেল তেল ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এক ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং ফ্রিজিভাবও কমবে।
এভাবে ঘরেই সামান্য যত্ন নিলে পুজোর দিনগুলোতে আপনার আপনার ত্বক ও চুল দুটোই সুন্দর থাকবে।
লেখক: রূপ বিশেষজ্ঞ


