শিশুর সর্দি-কাশি, মাথা ও শরীর ব্যথা, নাক বন্ধ থাকা ইত্যাদি বেশ অস্বস্তির। আর অভিভাবক হিসেবে আপনার জন্যও বিষয়গুলো আরামদায়ক নয়। তবে কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো পালন করলে শিশুকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া যাবে।
অবস্থা খারাপ হলে চিকিৎসকের কাছে তো যাবেনই, তবে তার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপায়ও মেনে দেখুন। শিশুর সর্দি-কাশি কমাতে কয়েকটি ঘরোয়া উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন ও ওয়েবএমডি।
বেশি করে তরল খাওয়ান
শিশুর সর্দি-কাশিতে তাকে বেশি করে তরল জাতীয় খাবার খাওয়ান। পানি, দুধ, স্যুপ, ভেষজ চা ইত্যাদি। তবে বাইরের চিনিযুক্ত জুস এড়িয়ে চলুন।
মধু খাওয়ান
শিশুর বয়স এক বছরের বেশি হলে তাকে মধু খাওয়াতে পারেন। এতে গলাব্যথা ও কফ কমবে। তবে এর কম বয়সের শিশুদের মধু খাওয়ানো যাবে না। কারণ, মধুর মধ্যে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। এটি শিশুর বটুলিজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, প্যারালাইসিস, বমি বা বমি বমিভাব ইত্যাদি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশ্রাম দিন
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী। এটি শিশুর শরীরকে নিরাময় হতে সাহায্য করে। পাশাপাশি তাকে জড়িয়ে থাকুন। মা-বাবার স্পর্শ শিশুকে শিথিল করে এবং অস্বস্তি কমায়।
ধূমপানযুক্ত স্থান থেকে দূরে রাখুন
ধূমপান যেমন প্রত্যক্ষ ক্ষতি করে, তেমনি পরোক্ষ সমস্যাও ঘটায়। ধূমপানকারী তার আশেপাশের ব্যক্তিদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। একে প্যাসিভ স্মোকিং বা পরোক্ষ ধূমপান বলা হচ্ছে।
ধূমপানকারীর কাছ থেকে বা যেসব এলাকায় ধূমপান হচ্ছে, সেখান থেকে শিশুকে দূরে রাখুন।
অক্টোবর জুড়ে চলছে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মারা যায় ছয় হাজারের মতো।
স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির কারণ দুইটি। একটি পরিবর্তনযোগ্য; অপরটি অপরিবর্তনযোগ্য। পরিবর্তন যোগ্য বিষয়গুলো হলো- ভারসাম্যহীন জীবনযাপনের ধরন, খাদ্যাভ্যাস, মদ্যপান ইত্যাদি। এগুলো জীবনযাপনের ধরন বদলে ঠিক করা যায়। তাই একে পরিবর্তনযোগ্য কারণ বলা হচ্ছে।
আর অপরিবর্তনযোগ্য বিষয়গুলো হলো-বায়োলজিক্যালভাবে নারী হওয়া, বয়স বাড়া (বাংলাদেশে ৩৫ বছরের পর নারীর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে), বংশগতভাবে কারো স্তন ক্যানসার থাকলে (বিশেষ করে মায়ের দিকের), অল্প বয়সে ঋতুস্রাব হওয়া এবং দেরিতে মেনোপজ হওয়া। এগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই অপরিবর্তনযোগ্য কারণ।
স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। আর তাই এর লক্ষণ ও প্রতিরোধের বিষয়ে জানতে হবে। স্তন ক্যানসারের লক্ষণের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘ক্যানসার হলে স্তনের ভেতর চাকা বা পিণ্ড দেখা দিতে পারে, বগলের নিচে ল্যাম্পের মতো হওয়ার আশঙ্কা থাকে, চামড়া কুঁচকে যায় বা মসৃণতা কমে যায় এবং স্তনের বোটা দিয়ে রক্তমিশ্রিত তরল বের হতে পারে।’
স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, প্রচুর শাক-সবজি ও ফল-মূল খেতে হবে। কায়িক পরিশ্রম, হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করা জরুরি। শিশুকে বুকের দুধ পান করান। যতটা সম্ভব রেডিয়েশন থেকে দূরে থাকুন। ধূমপান, মদ্যপান ও তামাক জাতীয় দ্রর্ব্য বর্জন করুন।
নারীকে স্তন ক্যানসার থেকে সুরক্ষিত রাখতে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি স্ক্রিন টেস্টের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে বলে পরামর্শ তাঁর।
বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের উদ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশে, ১০ অক্টোবর স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ এই কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য। ঢাকা ও সারাদেশের জেলা-উপজেলায় গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা ও সহজ বাংলায় প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ ইতোমধ্যে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
এই বছর ফোরামের ৫৩টি সংগঠন যৌথভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর বাইরে বিভিন্ন সংগঠন এককভাবে কর্মসূচি পালন করছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সঞ্চালনায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের পাঁচজন সদস্য ছাড়াও ফোরামের বিভিন্ন সদস্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. জাকির হোসেন, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, নারী অধিকার সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জন হপকিন’স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রখ্যাত প্রজনন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাশহুদা খাতুন শেফালী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল হাকিম, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম ও সদ্য সাবেক চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ, ইকবাল মাহমুদ, ডা. আবু জামিল ফয়সাল ও সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা গোল্ডেন সিটির প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মোশাররফ হোসেন ও পাস্ট প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আফতাবুজ্জামান এবং স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অলাভজনক বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ছবি: সংগৃহীত
সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন ২০১৩ সালে ফোরাম গঠন ও স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
এ বছরের প্রতিপাদ্য “জেনে নিন, জেগে উঠুন। স্ক্রিনিং জীবন বাঁচায়।” নির্ধারণ সম্পর্কে ডা. রাসকিন জানান, গত বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সচেতনতা কার্যক্রমের পরে মানুষ তথ্য পাচ্ছে, কিন্তু প্রতিরোধ ও স্ক্রিনিং সেবা গ্রহণে সেই মাত্রায় তৎপর হচ্ছে না। তাই জানা, জেগে উঠা অর্থাৎ তৎপর হওয়া ও স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসা জরুরি।
স্তন ক্যানসার সচেতনতায় এবার কীভাবে কাজ হবে তার ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. রাসকিন জানান, সারা মাস নানা কর্মসূচি পালিত হওয়ার পাশাপাশি ৩০ থেকে ৩১ অক্টোবর ঢাকা-রাজশাহী-খুলনা গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা আয়োজিত হবে। গোলাপি সাজে সজ্জিত একটি বাসে করে একদল স্বেচ্ছাসেবক ছোট-বড় প্রায় ১৫টি স্পটে আলোচনা সভা, পথসভা ও লিফলেট বিতরণসহ সচেতনতা কার্যক্রম আয়োজন করবে। এ ছাড়া ধানমন্ডি ৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালে অভাবনীয় স্বল্প খরচে স্তন ক্যানসার অপারেশন ও কেমোথেরাপির পাশাপাশি অতি দরিদ্রদের জন্য মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় স্তন ক্যানসার অপারেশনের বিশেষ ব্যবস্থা চালু থাকবে।
আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি প্রতীকী গোলাপি শোভাযাত্রা আশেপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এতে কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্ট, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতাল, প্রশিকা, ওয়াইডাব্লিউসিএ, ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি-বাংলাদেশ, পল্লীমা মহিলা পরিষদ, জামালপুর সমিতি-ঢাকা, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা গোল্ডেন সিটি, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা মেগা সিটি, ইনার হুইল ক্লাব অব গুলশান লেক সিটি, খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল-দিনাজপুর সহ ফোরামের বিভিন্ন সদস্য সংগঠন অংশ নেয়।
আগামীকাল, ১০ অক্টোবর, শুক্রবার, স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস। ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের উদ্যোগে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
সকাল দশটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতীকী গোলাপি শোভাযাত্রা হবে এবং সকাল সাড়ে দশটায় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠানে ফোরামের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নিবেন।
বর্তমানে এই ফোরামে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় পঞ্চাশটি অলাভজনক সংগঠন অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও ক্যানসার রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, জনস্বাস্থ্য ও নারীস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আক্তার, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম, অধ্যাপক মালিহা রশিদ ও অধ্যাপক সাবেরা খাতুন, ক্যানসার সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোজাহেরুল হক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৩ হাজার নারী নতুন করে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। মারা যায় ছয় হাজার। সচেনতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের অভাবে স্তন ক্যানসার দেরিতে ধরা পড়ায় মৃত্যুর হার কমছে না। এসব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সবাই মিলে কাজ করার আহ্ববান জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের সমন্বয়করা।
জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে কখন যে গরম পড়ছে, আর কখন বৃষ্টি তা এখন বলাই মুশকিল। গরম পড়লে যত্নটা একরকম হলেও বৃষ্টির সময়টায় ত্বক যেন বাড়তি কিছু চায়। বৃষ্টির দিনে ত্বকের যত্নে কিছু পরামর্শ জানিয়েছে সিম্পল স্কিন কেয়ার ডট ইন।
দিনে অন্তত দুই থেকে তিন বার মুখ ধোয়া
যেকোনো ত্বক ভালো রাখতে চাইলে মুখ ধোয়ার বিকল্প নেই। এই সময়টায় দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার মাইল্ড বা ত্বকের জন্য সহনীয় এমন ফেস ওয়াস দিয়ে মুখ ধুতে হবে। এতে ধুলো ময়লা ও তৈলাক্তভাব কমবে।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
বৃষ্টির দিনে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ত্বক কিছুটা শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই এই সময় ময়েশ্চারাইজার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য পানিযুক্ত ও শুষ্ক ত্বকের জন্য তেলযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
মৃতকোষ দূর করা
ত্বক এক্সফোলিয়েট করা বা ত্বকের মৃতকোষ দূর করা এই সময়ে বেশ জরুরি। কারণ, বৃষ্টির দিনে স্যাঁতে স্যাঁতে আবহাওয়ার কারণে মৃতকোষের সংখ্যা বাড়ে। এ ক্ষেত্রে কফির সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ত্বকে এক থেকে দুই মিনিট ঘষলেও এই সমস্যা কমবে। ত্বক প্রাণবন্ত হবে।
মেকআপ কম ব্যবহার করুন
এই সময়টায় অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহার না করাই ভালো। এই সময় যেহেতু ঘাম ও বৃষ্টির পানির বিষয় রয়েছে, তাই ভারি ফাউন্ডেশন বা ক্রিমের ব্যবহারে ত্বকে রোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে পরে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। আর ভারি মেকআপ ব্যবহার করতে হলে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে।
উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি বর্তমান সময়ের প্রচলিত অন্যতম মানসিক সমস্যা। কেবল বড়রাই নয়, শিশুরাও ভোগে উদ্বেগে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব বিষয় এড়িয়ে যান অভিভাবকরা।
ছোটবেলার এই মানসিক ট্রমা পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিটিকে আবেগীয়ভাবে ভারসাম্যহীন করে তুলতে পারে। তাই শুরুতেই এসব বিষয় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শিশুর উদ্বেগের কিছু লক্ষণ জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ভয়
খেয়াল করুন, শিশুটি কি কোনো কারণে ভয় পাচ্ছে? বা অভিভাবক হিসেবে আপনার কোনো ম্যানিপুলেটিভ আচরণ কি শিশুটিকে অতিরিক্ত ভীত করে তুলছে? ভয় একটি স্বাভাবিক আবেগ। তবে দীর্ঘদিন বা অনেকটা সময়ের জন্য মানুষ এর ভেতরে থাকলে উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি তৈরি হতে পারে। এটি পরবর্তী সময়ে জটিল মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আচরণের পরিবর্তন
সাধারণত উদ্বেগে ভুগলে শিশুর আচরণে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন: অন্যদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা, নিজেকে গুটিয়ে রাখা, বিরক্ত হওয়া ইত্যাদি। এসব দেখলে শিশুটির সঙ্গে কথা বলুন, সে কোনো সমস্যায় ভুগছে কি না, বোঝার চেষ্টা করুন।
খাবার খাওয়া বা ঘুমে অনিহা
উদ্বেগ থেকে অনেক সময় খাবার খাওয়া বা ঘুমে অনিহা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়গুলো ঘটতে থাকলে একটু খেয়াল করুন। কোন বিষয়টি শিশুটিকে যন্ত্রণা বা কষ্ট দিচ্ছে বুঝুন।
লেখা-পড়ায় ভালো না করা
হঠাৎ করে লেখা-পড়ায় অমনোযোগী হওয়া, স্কুলে ভালো না করা, নিজের কাজে অনিহা ইত্যাদিও উদ্বেগের লক্ষণ। সাধারণত শিশুরা লেখাপড়া না করতে চাইলে অভিভাবকরা মনে করে সন্তানটি হয়তো ফাঁকি দিচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্যরকম কারণও থাকতে পারে। হয়তো শিশুটি বুলিং বা কোনো ধরনের অ্যাবিউজের শিকার হচ্ছে, যেটা অভিভাবক হিসেবে আপনি জানতেনই না। তাই লেখাপড়া না করলে হুট করে শিশুর উপরে রেগে না গিয়ে ভেতরের কারণ জানার চেষ্টা করুন। শিশুটিকে সময় দিন।
এখনকার পূজা মানেই ঐতিহ্যে আধুনিকতার ছোঁয়া। মহালয়ার সুর বেজে ওঠার পরেই শুরু হয়ে যায় পূজার উত্তেজনা। দিন গুনতে গুনতে আসে সেই তিন দিন—অষ্টমী থেকে বিজয়া। শুধু পোশাক নয়, পুজোর আনন্দে নারীদের অন্যতম আকর্ষণ হলো সাজগোজ, যা নিয়ে তাদের চিন্তার শেষ নেই।
চুলের স্টাইল
অষ্টমীর সকালে হালকা খোঁপা বা খোলা চুলে ফুল গুঁজে নেওয়া যেতে পারে। তবে অষ্টমীর অঞ্জলিতে মানানসই হবে ক্লাসিক খোঁপা, সাদা রজনীগন্ধা বা গাঁদার মালা দিয়ে সাজানো। সন্ধ্যায় ফ্রন্ট ব্রেইড বা ওয়েভি লুক এনে দিতে পারে একেবারে ট্রেন্ডি আবহ।
মেকআপ
দিনের বেলায় রাখতে পারেন ন্যাচারাল লুক—হালকা ফাউন্ডেশন, চোখে টানা কাজল আর লিপ টিন্ট। অষ্টমীর সন্ধ্যায় বা নবমীর রাতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন লাল লিপস্টিক, গ্লিটার আইশ্যাডো। এতে মুহূর্তেই উৎসবের আবহ ফুটে উঠবে।
তবে অবশ্যই ভুলবেন না—বেস মেকআপ হালকা রাখলে গরমে বা ভিড়ে অস্বস্তি কম হবে। দিনের বেলায় অবশ্যই বেস মেকআপের আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন। আর ফাউন্ডেশন অবশ্যই ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ব্যবহার করবেন—যেমন অয়েলি ত্বকের জন্য ম্যাট টাচ আর ড্রাই টু কম্বিনেশন ত্বকের জন্য লিকুইড বা ক্রিম বেস ফাউন্ডেশন।
দশমী মানেই সিঁদুর খেলা। সেদিনের জন্য সাদা-লাল কম্বিনেশনের শাড়ির সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল ওয়ান বান হেয়ার স্টাইল প্রথম পছন্দ হতে পারে, সঙ্গে কাঠবেলীর গাজরা। হালকা বেস মেকআপের সঙ্গে লাল টিপ আর টানা কাজল বেশ মানানসই।
অলঙ্কার
অষ্টমীতে থাকতে পারে অক্সিডাইজড গয়না, মাটির বা কড়ির গয়না—ভীষণ স্নিগ্ধ লাগে। নবমীতে ডায়মন্ড কাট, মুক্তো বা স্টোনের গয়না বেশ ভালো মানায়, কেননা নবমী মানেই উৎসবের রঙিন মুহূর্ত। দশমীতে শাঁখা-পলা, সোনার ঝুমকা, অক্সিডাইজড গয়না, কাঁটাই-এর গয়না, হালকা কুন্দনের হার বা টেম্পল জুয়েলারি বেশ মানানসই। যেহেতু এখন সবাই সাজে ফিউশন পছন্দ করছে, তাই ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে সাজ গুছিয়ে নিতে পারেন।
ফাইনাল টাচ বা শেষ স্পর্শ
সাজের শেষে রাখতে পারেন পছন্দের কোনো আতর বা হালকা পারফিউম।