Friday, May 29, 2026
spot_img
Home Blog Page 85

ঈদের আগেই দাঁতের চিকিৎসা করান

ডা. সানজিদা হোসেন পাপিয়া

রমজানের শেষ দিকে চলে এসেছি আমরা। সামনেই ঈদ। এই সময় অনেকেই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন। অনেকেই গ্রামের বাড়িতে ঈদ করার কথা ভাবছেন।

তবে, একটি দৃশ্যের কথা চিন্তা করুন তো। আপনি যাচ্ছেন, যাওয়ার পর আপনার দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হল। কিংবা ঈদের দিন আপনি প্রচণ্ড খুশি মনে, খাবার খাচ্ছেন, এমন সময় দাঁতে হঠাৎ করে প্রচণ্ড ব্যথা হতে লাগল।

আগে থেকেই হয়তো একটু একটু ব্যথা করছিল। তবে আপনি ভাবছিলেন, ঈদের পরে বাসায় ফিরে দাঁতের চিকিৎসা করাবেন। এই ভাবনা নিয়ে হয়তো আপনি গ্রামে গেছেন। তবে ঈদের সময় এই ব্যথা আপনার সম্পূর্ণ আনন্দকে নষ্ট করে দিতে পারে।

তাই কারো সামান্যতম সমস্যা থাকলেও এড়াবেন না। কারণ, এই সামান্য সমস্যাই আপনার জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এসব সমস্যা প্রতিরোধে ঈদের আগেই দাঁতের চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া ভালো। আর চিকিৎসক যেই পরামর্শ দেবেন, সেই অনুযায়ী সমাধান করে নিন। এতে আপনার ঈদ আনন্দময় হবে এবং দাঁতের জটিলতাও আগে থেকে প্রতিরোধ করা যাবে।

লেখক
কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন
ডিকেএমসি হসপিটাল লিমিডেট, নারায়ণগঞ্জ
ফোন : ০১৯৭১৬০০১১২, ০১৯৭১৬০০১১৩
চেম্বার : অনামিকা ডেন্টাল , ২/১ মধ্য বাসাবো, টেম্পুস্ট্যান্ড, ঢাকা ১২১৪
ফোন : ০১৯৩৩১৩৩৪৮৬

রঙ বাংলাদেশ- এর ঈদ আয়োজন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। রোজাতেই শুরু হয়ে গেছে উদযাপনের প্রস্তুতি। ঈদকে আরও বেশি উৎসব মুখর ও রঙিন করে তুলতে দেশের শীর্ষসারির ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিয়েছে ব্যাপক।

প্রতিবারের মতো এবারও থিমনির্ভর কালেকশন তৈরি করেছে রঙ বাংলাদেশ। পাখির রঙ থিমে তৈরি হয়েছে এবারের সকল সংগ্রহের নকশা উপাদান। পাখি প্রকৃতির অনিন্দ্য উপহার। রঙের বৈচিত্র্য আর বাহারে চোখ জুড়ায়। রঙধনুর প্রতিটি রঙই রয়েছে পাখিদের শরীরে। এতে প্রাণিত হয়েছে রঙ বাংলাদেশের ডিজাইনাররা। তাই কাপড় ক্যানভাস হয়ে উঠেছে বর্ণময়। মোটিফরা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন। পাখিদের রং অসংখ্য। এর মধ্যে থেকে বেছে নিয়ে বিন্যাস ঘটানো হয়েছে চমৎকারভাবে। এতে প্রতিটি পোশাক হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় ও উৎসবমুখী।

পোশাক নকশায় গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আবহ। পাশাপাশি সময়, প্রকৃতি, আবহাওয়া আর আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডও। এবারের ঈদ কালেকশন তৈরি করা হয়েছে আরামদায়ক কাপড়ে। ডিজাইনে বিভিন্ন ধরনের কটন, স্লাব কটন, লিনেন, হাফসিল্ক, জর্জেট, নেট, টিস্যু, সিকুয়েন্স, সাটিন, কাইজার কাপড় দিয়ে পোশাকগুলো করা হয়েছে। মূল রং হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে সাদা,কালো, মেজেন্টা, ব্লু, ফিরোজা, লাইট ব্রাউন, পার্পল, পেষ্ট, কফি, অলিভ, মাষ্টার্ড, মভ বা ফিকে লাল আর সহকারী রং হিসাবে আছে সি-গ্রীন, ব্রাউন, হলুদ,কমলা ও মেরুন।

পোশাকের নকশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, হাতের কাজ, অ্যামব্রডারি, কারচুপি, ড্রাই ও কাটিং অ্যান্ড সুইং।

ছবি : রঙ বাংলাদেশ
ছবি : রঙ বাংলাদেশ

কেবল বড়দের নয়, ঈদে ছোটদের পোশাককে সমান গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শিশুদের আকর্ষণীয় পোশাক। রয়েছে পরিবারের সবার জন্যে একই ধরনের ম্যাচিং পোশাক। সুতরাং এবার বাবা-মা, মা-মেয়ে, বাবা- ছেলে এমনকি পরিবারের সবাই একই থিমের পোশাক পড়ে উদযাপন করতে পারবে এবারের ঈদ উৎসব। এ ছাড়াও সাব ব্র্যান্ড হিসাবে থাকছে, তরুণ প্রজন্মের পছন্দকে মাথায় রেখে ওয়েস্ট রঙের পোশাক, বয়োজ্যেষ্ঠদের আপন ভুবন শ্রদ্ধাঞ্জলি আর শিশুতোষ ফ্যাশনের আনন্দময় ভুবন রঙ জুনিয়র এর ঈদ আয়োজন।

সকল ক্রেতার কথা বিবেচনা করে পোশাকের মূল্যও রাখা হয়েছে ক্রয়সাধ্যের মধ্যে। এ ছাড়াও রয়েছে অনেক রকম অফার। আপনজনকে উপহার দিতে রয়েছে ১৫ শতাংশ ছাড়ে ঈদ গিফট ভাউচার। আরও রয়েছে ১২ টা বাজে অফার-প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে ১টার মধ্যে অনলাইন অর্ডারে ২জন ভাগ্যবান ক্রেতা পাবেন নিশ্চিত ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়, মোট অর্ডার মূল্যের উপর।

গরমে ঈদ ভ্রমণে ৭ বিষয় মেনে চলুন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঈদ মানে পারিবারিক মিলন মেলা; শহর ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামে ফেরা। এই ভ্রমণেও থাকে বাড়ি ফেরার এক অন্যরকম সুখ। তবে যেহেতু এবারের ঈদ খুব গরমের সময় হচ্ছে, তাই ভ্রমণে সতর্ক থাকা জরুরি। না হলে অসুস্থ হয়ে সম্পূর্ণ আনন্দটাই মাটি হয়ে যেতে পারে।

ঈদ ভ্রমণে সতর্কতার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক শাকিল মাহমুদ। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী-

১. ঈদ ভ্রমণে কখনো বাইরের খাবার ও পানীয় পান করবেন না। এ ধরনের খাবার থেকে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে।

২. বাসা থেকে নিরাপদ পানি এবং বাসায় তৈরি করা খাবার নিন। সিদ্ধ ডিম, প্রোটিন বার, গাজর, শুষ্ক ফল, বাদাম ইত্যাদি সঙ্গে রাখতে পারেন। এসব খাবার খেলে শক্তি পাবেন।

৩. ভ্রমণের সময় সাধারণত প্রবীণ ও শিশুরা বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। প্রবীণরা ভ্রমণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসাপত্র অনুসরণ করে ওষুধ নিয়ে নেবেন।

৪. যেসব প্রবীণ দীর্ঘ ভ্রমণ করছে, তাদের হাঁটু ও পায়ে পানি চলে আসতে পারে। লম্বা ভ্রমণে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পর পর দাঁড়াবেন।

৫. শিশুদের জানালার পাশে না বসানোই ভালো। এতে দুর্ঘটনা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। খেয়াল রাখতে হবে গরমে ঘেমে শিশুর যেন সর্দি-কাশি না হয়ে যায়। বার বার রুমাল দিয়ে গা মুছে দিতে হবে।

৬. গরমের সময় ভ্রমণে সুতি বা হাফ সুতির পোশাক এবং হালকা রঙের পোশাক পরুন। এতে আরাম পাবেন।

৭. ভ্রমণের সময় যেহেতু শরীরে বায়োক্যামিক্যাল মেকানিজম ঠিকমতো কাজ করে না, তাই ফুড পয়জনিং, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এসব এড়াতে এই সময় ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। ডাবের পানি, লেবুর শরবত সঙ্গে রাখুন।

ঈদ পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য ও আভিজাত্যের মিশ্রণ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

গরম পড়েছে প্রচণ্ড। গরমের দাবদাহ অস্থির করে তুলেছে জনজীবনকে। এরই মধ্যে সামনে রয়েছে ঈদ। ঈদের পোশাক নির্বাচনে আভিজাত্য বা একটি জমকালোভাব তো থাকেই। তবে এর মধ্যেও থাকা চাই স্বাচ্ছন্দ ও স্বস্তি।

আর তাই তো বিশেষজ্ঞ ফ্যাশন ডিজাইনাররা মনে করেন, গরমের সময় ঈদের পোশাকের কাপড় ও রং এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে, যেন সেটি আরাম দেয় এবং উৎসবের আমেজকেও ফুটিয়ে তোলে শতভাগ।

রঙ বাংলাদেশের স্বত্ত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, ‘এবারের ঈদে পোশাকের নকশায় গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আবহ। পাশাপাশি সময়, প্রকৃতি, আবহাওয়া আর আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডও। এবারের ঈদ কালেকশন তৈরি করা হয়েছে আরামদায়ক কাপড়ে। কাপড়ের ক্ষেত্রে কটন, স্লাব কটন, লিনেন, হাফসিল্ক , জর্জেট, নেট, টিস্যু, সিকুয়েন্স, সাটিন, কাইজার কাপড় দিয়ে পোশাকগুলো করা হয়েছে। মূল রং হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে সাদা, কালো, মেজেন্টা, ব্লু, ফিরোজা, লাইট ব্রাউন, পার্পল, পেষ্ট, কফি, অলিভ, মাষ্টার্ড, মভ বা ফিকে লাল আর সহকারী রং হিসাবে রয়েছে সি-গ্রিন, ব্রাউন, হলুদ, কমলা ও মেরুন।’

ছবি : রঙ বাংলাদেশ
ছবি : রঙ বাংলাদেশ

ঈদ বাজার ঘুরে দেখা গেল, এবারের পোশাকে রাখা হয়েছে লং-কুর্তি, রেগুলার কুর্তি, টপস্, ডাবল লেয়ারড কুর্তি, টিউনিক, শ্রাগ, কাফতান, বক্স প্লিটেড সহ বৈচিত্রময় নানা প্যাটার্নের সালোয়ার কামিজ, ডাবল লেয়ারড সালোয়ার কামিজ, প্যান্ট সহ টপস, টপস-স্কার্ট, রেট্রো, ফিউশন, এ লাইন, আংরাখা ইত্যাদি।

নকশায় থাকছে মাড আর্ট, ওয়াটার লিলি, বেসিক রান স্টিচ, ডট ম্যান্ডালা, কাতান, আলাম, মুঘল আর্চ, অরনামেন্টেড ফ্লোরাল, প্লামেরিয়া, কাশ্মীরি মোটিফের অনুপ্রেরণায় এবারের বিভিন্ন সিরিজের পোশাক। থাকছে গ্রিক আর্চ, এরাবিক, টার্কিশ আর্ট, ইসলামিক, জ্যামিতিক, ফ্লোরাল, ট্র্যাডিশনাল, জামদানি, কাঁথা স্টিচ, ট্রাইবাল, ট্র্যাডিশনাল পেইসলে, এথনিক, তাগা, ম্যান্ডালা, মিক্সড,মোটিফের পোশাক।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফটের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবার ঈদকে সামনে রেখে শাড়ির বৈচিত্রপূর্ণ ডিজাইনের একটি বড় আয়োজন থাকছে। ছেলেদের জন্য রয়েছে রেগুলার ও ফিটেড পাঞ্জাবি। এ ছাড়াও পাওয়া যাবে শেরওয়ানি, কটি, স্মার্ট ক্যাজুয়াল শার্ট, এথনিক শার্ট, ফতুয়া ও পলো শার্ট। মেয়ে শিশুদের জন্য উৎসব ভিত্তিক পোশাকে রয়েছে – সালওয়ার কামিজ, ফ্রক, কুর্তি, টপস, পাফি পার্টি ড্রেস, লেহেঙ্গা সেট। ছেলে শিশুদের জন্য পাঞ্জাবি, শার্ট, কটি, শেরওয়ানি সহ নানা আয়োজন।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলো এনেছে ফ্যামিলি পোশাক। অর্থাৎ মা ও মেয়ের মিলিয়ে পরার মতো সালওয়ার কামিজ, কুর্তি- বাবা ও ছেলের জন্য পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি, কটি, শার্ট । এ ছাড়া যুগলদের জন্য থাকছে বিশেষ পোশাক।

পোশাক মানেই রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। আর এই রুচি ও ব্যক্তিত্বের একটি সুন্দর প্রকাশ তখনই ঘটে, যখন প্রকৃতি, আবহাওয়া ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই করে এটি নির্বাচন করা হয়। তাই তো, ঈদ পোশাক এমনভাবে নির্বাচন করুন, যা আপনার আভিজাত্যকে ফুটিয়ে তুলবে এবং আরামও দেবে।

বৈশাখে স্বাস্থ্য সচেতনায় ১০ বিষয় মেনে চলুন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

এবার পহেলা বৈশাখ ও রোজা একসঙ্গে পড়েছে। আবার রোদও তার প্রখরতার সর্বোচ্চ রূপ ধারণ করেছে। গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। তাই সবকিছু বিবেচনা করে রোজা রেখে সুস্থভাবে নববর্ষকে বরণ করে নিতে স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রয়োজন এবং সুস্থ থাকতে আগে থেকে পরিকল্পনাও জরুরি।

এই সময় সুস্থ থাকতে কিছু বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. শাকিল মাহমুদ। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী-

১. সারাদিন রোজা রেখে দেহে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। আর বৈশাখে বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ঘেমে দেহে পানিশূন্যতা বাড়তে পারে। তাই ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি পানি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমন : শসা, তরমুজ, ফলের রস, ডিটক্স পানীয়, ডাবের পানি ইত্যাদি।

২. অতিরিক্ত তেল ও চর্বি জাতীয় খাবার এড়াতে হবে। এগুলো এসিডিটি ও পানিশূন্যতা বাড়ায়। এতে উৎসব পালনে ব্যাঘাত ঘটাবে।

৩. এই সময় চা-কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় খাবার এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। এগুলো পানিশূন্যতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৪. গরমে বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করুন।

৫. সুতির পাতলা পোশাক বা শাড়ি পরুন। হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন। কালো রঙের কাপড় পরা থেকে বিরত থাকুন। এতে গরম বাড়বে।

৬. যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

৭. বেশিক্ষণ রোদে থাকা যাবে না। ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করতে হবে। আর খুব রোদে ঘর থেকে বের না হওয়াই ভালো। বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে উৎসব পালন করুন।

৮. যাদের অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তারা সঙ্গে অবশ্যই ইনহেলার রাখুন।

৯. বাইরের ধুলাবাড়ি এড়াতে মাস্ক অবশ্যই পরুন।

১০. কোন কোন জিনিস আপনার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে সেটা বুঝে ঘরের বাহিরে বের হোন।

বাঙালি ঐতিহ্যে বৈশাখের সাজ-পোশাক

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

‘রাজা সোনার রথে শীকারে চল্লেন। দুপাশে দুই রাজহস্তি চামর ঢোলাতে চল্লো, ছত্রধর রাজছত্র ধরে চল্লো, জয়ঢাক বাজতে বাজতে চল্লো, আর সর্ব্বশেষে প্রিয়সখা মাধব্য এক খোঁড়া ঘোড়ায় হট্‌হট্‌ করে চল্লেন’ — শকুন্তলা পড়তে গিয়ে এমন ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই পেয়েছেন? এবারের পহেলা বৈশাখের শাড়ির নকশায় এই ধরনের একটি দৃশ্যপট তুলে এনেছে ফ্যাশন হাউজ হরিতকী।

ছবি : হরিতকী
ছবি : হরিতকী

হরিতকীর সহকারী প্রতিষ্ঠাতা অনিক কুণ্ডু বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে আমরা ট্রেডিশনাল মোটিফের পোশাক আনার চেষ্টা করেছি। পোশাকে তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতি, এই উপমহাদেশের ঐতিহ্য। মোটিফ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কুলাচিত্র, রাজাদের সুসজ্জিত রাজহস্তী, জয়ঢাক, হাতিশালের চামর, রাজ প্রহরী, রিক্সা প্রিন্ট ইত্যাদি।’

ছবি : হরিতকী
ছবি : হরিতকী

আসলে বাঙালির কাছে পহেলা বৈশাখ এক ভিন্ন স্বতন্ত্রতা নিয়ে আসে। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সব কিছু ছাপিয়ে এ দিনটি হয়ে উঠে আপামর বাঙালির। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রথম দিনটিতে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি থাকে না।

চারদিকে গানের উৎসব, শোভাযাত্রা, মিঠাই-মণ্ডা পান্তা ভাতের আয়োজন- সব মিলিয়ে ঘোরাঘুরি, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া চলে দিনমান। এই দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে সাজ-পোশাকেও আসে ভিন্নতা। আর তাই ফ্যাশন হাউজগুলোতে তাদের শাড়ি ও পোশাকের নকশায় ‘বাংলা’-কেই তুলে ধরার চেষ্টা থাকে শতভাগ।

‘বৈশাখ শুনলেই মনে আসে নানা রঙের খেলা। বৈশাখের রঙের প্রতীক হিসেবে সাদা ও লালকে ধরা হয়। তবে এখন সাদা লালের পাশাপাশি পোশাকগুলোতে যোগ হয়েছে নানা রঙের মিশ্রণ। ইট, সবুজ, নীল, গোলাপি, মেরুণ, টিয়া, হলুদ, কমলা ইত্যাদি রঙের সমন্বয়ে তৈরি হয় পোশাক,’ বলছিলেন ফেসবুককেন্দ্রিক ফ্যাশন পেজ নীলপদ্ম বুটিকসের স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার তাজমিন নাসরিন।

ছবি : নীলপদ্ম বুটিকস
ছবি : নীলপদ্ম বুটিকস

ফ্যাশন ডিজাইনার তাজমিন নাসরিন জানান, বৈশাখে যেহেতু গরম থাকে, তাই পোশাকগুলো নির্বাচন করা হয় আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে। এমন পোশাক তৈরি হয়, যেগুলো আরামদায়ক হবে। এই ক্ষেত্রে সুতি, হাফ সিল্ক, সিল্ক ধরনের কাপড়গুলো বেছে নেওয়া হয়। আর এই ধরনের পোশাক পরলেই আরাম পাওয়া যাবে।

ছবি : নীলপদ্ম বুটিকস
ছবি : নীলপদ্ম বুটিকস

পোশাক নির্বাচনের পর নববর্ষের দিনতে নিজেকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করতে চলে আসে সাজের কথা। ‘তবে গরমের কারণে সাজটা যত হালকা হয়, ততই ভালো,’ বলেন রূপায়ণ বিউটি পার্লারের কর্ণধার শিউলি আকতার।

সাজে চুলের ক্ষেত্রে হাতখোঁপা করতে পারেন। সামনের কিছু চুল ছাড়া রাখা যেতে পারে আবার টুইস্ট করেও বেঁধে নিতে পারেন। তবে পেছনে সুন্দর করে হাত খোঁপা করলেই ভালো দেখাবে। একদম ছেড়েও রাখতে পারেন। এ ছাড়া সাইড বেণিও করা যেতে পারে। চুলের সাজে অনত্যম অনুষঙ্গ ফুল। চুলে ফুল অবশ্যই থাকবে।

মডেল: রিনি মণ্ডল, ছবি : মো. শাহাদৎ হোসেন পিয়াস, পেইজ : চিত্রমঞ্চ
মডেল: রিনি মণ্ডল, ছবি : মো. শাহাদৎ হোসেন পিয়াস, পেইজ : চিত্রমঞ্চ

‘মুখের সাজটা ন্যাচারাল হলেই ভালো। মুখ ধুয়ে প্রথমে ময়েশ্চারাইজার, প্রাইমার দিন। এরপর কনসিলার ব্যবহার করুন। এবার স্কিন টোন বুঝে ভালো ব্র্যান্ডের ফাউন্ডেশন লাগান। এর ওপর লুজ পাউডার বুলিয়ে নিন। মুখের যেই জায়গাগুলো প্রমিনেন্ট করতে চান, সেখানে কন্টোর করে নিন। গালে ব্লাশন দিন,’ বলেন রূপবিশেষজ্ঞ শিউলি আকতার।

যেহেতু সারাদিন বাইরে ঘোরাঘুরি করা হয় এই দিনে, তাই লিপস্টিকের ক্ষেত্রে নুড রং ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন— ইট, গোলপি, বেবি পিংক, হালকা ম্যাজেন্টা ইত্যাদি। অনেকে আবার লাল রঙও ব্যবহার করে। লিপস্টিকের রং যাই থাকুক না কেন দেখতে হবে, এটি যেন পোশাকের সঙ্গে মানানসই হয়।

মডেল: রিনি মণ্ডল, ছবি : মো. শাহাদৎ হোসেন পিয়াস, পেইজ : চিত্রমঞ্চ
মডেল: রিনি মণ্ডল, ছবি : মো. শাহাদৎ হোসেন পিয়াস, পেইজ : চিত্রমঞ্চ

চোখের সাজের শুরুতে আই ব্রু কালার পেনসিল দিয়ে শার্প করে নিন। এরপর শাড়ি বা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে মানানসই শ্যাড ব্যবহার করুন। শাড়ি লাল-সাদা হলে চোখের পাতায় ব্রাউন বা রেডিস রঙের ছোঁয়া আনতে পারেন। আবার স্মোকি করেও চোখ সাজানো যায়। সাজের পর অবশ্যই সেটিংস স্প্রে ব্যবহার করতে হবে। সাজটিতে যেন সম্পূর্ণ বাঙালিয়ানা থাকে। এমনটাই পরামর্শ দেন রূপবিশেষজ্ঞ শিউলি আকতার।

 

মিতা হক কেবল শিক্ষক নন, একজন গুরু

শাশ্বতী মাথিন

মিতা হককে প্রথম দেখেছিলাম, একুশে টেলিভিশনের পর্দায়। সালটা হবে ২০০০ বা ২০০১। গাইছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূজা পর্যায়ের গান- ‘যদি জানতেম আমার কীসেরও ব্যথা, তোমায় জানাতাম।’ তাঁর কণ্ঠের তীক্ষ্ণতা, মাধুর্য আমার ১৩ বছরের মনকে এতোটাই আপ্লুত করেছিল, টেলিভিশনের সামনে ঝিম ধরে বসে গিয়েছিলাম।

মনে হচ্ছিল, আহা! এই মানুষটার কাছে যাওয়ার যদি সুযোগ পেতাম। তাঁর কাছে যদি গান শিখতে পারতাম! তখন আমি অবশ্য ছায়ানটের ছাত্রী। তবে মিতা হকের কাছে ব্যক্তিগতভাবে শেখার লোভ সামলাতে পারিনি।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পাঠকদের আগেই জানিয়ে রাখছি, এই লেখায় বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিতা হকের সঙ্গে আমার স্মৃতিগুলোই রোমন্থন করব। একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানের বাইরে গিয়েও কীভাবে গুরু বা মা হয়ে উঠতে পারেন, সেই গল্পই জানাবো।

টেলিভিশনে গান শোনার পর থেকে মিতা হক সম্পর্কে জানার আগ্রহটা বাড়লো। জানলাম, মিতা হকের জন্ম হয়েছে ১৯৬২ সালে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি জগতে আরেক পুরোধা সাংবাদিক, শিল্পী, সংগীত গুরু ও সংস্কৃতজন ওয়াহিদুল হকের ভাতিজি তিনি। মিতা হক প্রথমে চাচা ওয়াহিদুল হকের কাছে গান শেখেন। পরে গান শেখেন ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খান ও সন্‌জীদা খাতুনের কাছে। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সর্বোচ্চ গ্রেডের তালিকাভুক্ত শিল্পীদের মধ্য একজন।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

এরপর পার হয়ে গেল কয়েকটা বছর। এইচএসসি পরীক্ষার আগে বা পরপরই তাঁর বনানির বাসায় ব্যক্তিগতভাবে গান শেখা শুরু করি। শুরু হলো, মিতা হকের হাত ধরে আমার সংগীত জীবনের যাত্রা।

মিতা হককে ‘আপা’ বলেই সম্বোধন করতাম। তাঁর একটি অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল। মুখের দিকে তাকালেই যেন তিনি বুঝে যেতেন, কতটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে একটা মানুষ। মুখে তাকে কিছুই বলার প্রয়োজন পড়তো না। অন্তত আমার ক্ষেত্রে তো নয়-ই।

এইচএসসির সময়টায় আমার জীবনে একটি ভীষণ ক্রাইসিস যায়। ভীষণভাবে মুষড়ে পড়েছিলাম। মিতা আপার বাসায় গান শিখতে গেলাম। আপা মুখে একটা কথাও বললেন না। কোনো সান্ত্বনা বাক্যও দিলেন না, বকাঝকা তো নয়-ই। শুধু শেখালেন, রবীন্দ্রনাথের পূজা পর্যায়ের গান-
‘এই কথাটা ধরে রাখিস– মুক্তি তোরে পেতেই হবে।
যে পথ গেছে পারের পানে, সে পথে তোর যেতেই হবে ॥

অভয় মনে কণ্ঠ ছাড়ি, গান গেয়ে তুই দিবি পাড়ি,
খুশি হয়ে ঝড়ের হাওয়ায়, ঢেউ যে তোরে খেতেই হবে।

পাকের ঘোরে ঘোরায় যদি, ছুটি তোরে পেতেই হবে।
চলার পথে কাঁটা থাকে, দ’লে তোমায় যেতেই হবে।

সুখের আশা আঁকড়ে লয়ে, মরিসনে তুই ভয়ে ভয়ে,
জীবনকে তোর ভ’রে নিতে মরণ-আঘাত খেতেই হবে।’

গান শেখার একটি নিয়ম রয়েছে। সুর শেখার আগে অন্তত গানটাকে কয়েকবার পাঠ করতে হয়; গানের বাণী বা
কথাগুলোকে অনুধাবন করতে হয়। এতে এর বোধটাকে ভেতরে ধারণ করা যায়। এভাবেই আসলে ঠিকঠাক শব্দ চয়ন ও ভাবের মাধ্যমে একটি গান অন্যের অন্তরে পৌঁছে।

মিতা আপার এই শেখানো গানটিকে পাঠ করতে গিয়ে বুঝেছিলাম, কেন সেদিন তিনি আমাকে এটি শিখিয়েছিলেন। সেই সময় থেকে আজ অবধি এই গানটি হয়ে উঠেছে আমার জীবনিশক্তি, প্রেরণা। এখনো ভেবে অবাক হই, যেখানে মানুষের ক্রাইসিসের বেশিরভাগ মানুষই তিরষ্কার করে, ছোট করে, উপহাস করে সেখানে কীভাবে তিনি বুঝেছিলেন, আমার এখন ঠিক এই গানটিই প্রয়োজন! আপা বলেছিলেন, ‘তুই গানটাকে ছাড়িস না। অনেক বড় হবি।’

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর লেখাপড়ার চাপে, পারিবারিক ঝামেলায় গানটা আর হয়ে উঠছিল না। এরপর তো সাংবাদিকতার চাকরি, সন্তান। কিন্তু কোথায় যেন গান না করতে পারার একটি তীব্র যন্ত্রণা কাজ করছিল মনে।

মিতা আপার কথাগুলো বার বার মনে পড়ছিল। ততদিনে গলায়ও জং ধরে গেছে। ছোটবেলার মতো আর সুর-তাল-লয়ে ঠিকঠাকমতো গাইতে পারি না; জড়তাও চলে এসেছে। গানটা আবার করবার জন্য ছটফট করছি।

১২ বছর পর আপাকে ফোন করলাম। বললাম, ‘মাথিন বলছি আপা।’ তিনি নামটা শুনেই চিনে গেলেন। খুব অবাক হয়েছিলাম সেদিন। এতো বড় সংগীত শিল্পী, কত আগে তাঁর ছাত্রী ছিলাম, কিন্তু আজও আমায় মনে রেখেছেন! বললাম, ‘গানটাকে আবার করব। বললেন, চলে আয়।’ শুরু হল, আবারও নতুন করে আপার কাছে গান শেখা।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

একদিনের কথা। সেই সময়টায় এনটিভিতে চাকরি করি।সামনেই বড় অনুষ্ঠান। বিকেল পাঁচটায় অফিস শেষ করে দৌড়াতে দৌড়াতে রিহার্সেলের জন্য আপার বাসায় গেছি। রিহার্সেলের এক পর্যায়ে আপা বললেন, ‘মাথিন, তোর জন্য টেবিলে খাবার রাখা থাকবে। অফিস থেকে যখনই আসবি খেয়ে নিস।’ পরে আরেকজন বড় আপার কাছ থেকে শুনেছিলাম, বাসার গৃহকর্মী টেবিল থেকে খাবার উঠাতে চাইলে, আমার জন্যই মিতা আপা রেখে দিতে বলতেন।

সেদিন আবারও অবাক হয়েছিলাম, এতো বড় একজন মানুষ; যাকে এক নামে বাংলাদেশের সবাই চেনে, তিনি কেবল আমার জন্য তাঁর টেবিলে খাবার রেখে দিচ্ছেন। এ তো কেবল মা-ই করতে পারে। আর আরো বিস্মিত হয়েছিলাম এই দেখে, তাঁর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো অহংবোধ ছিল না। কতদিন কতবার যে আপার বাসার টেবিলে খেয়েছি, তার কোনো হিসেব নেই। সেই ঋণ কখনোই শোধ করা যাবে না। তিনি কেবল দিতেই জানতেন। নিতেন না কখনো। রিহার্সেলের সময় বলতেন, ‘মাথিন যখন গান গায়, মনটা ভালো হয়ে যায়।’

 

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কোভিডের সময় আমার খুব জ্বর এলো। ফোন দিয়ে বললেন, ‘তাড়াতাড়ি কোভিড টেস্ট কর। আমি কান্তাকে (আমাদের একজন ডাক্তার আপা) বলছি, সে সব ঠিক করে দেবে।’ এই যে এতো আন্তরিকতা এটি সব শিক্ষকরা করেন না বা করা হয়তো সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে যিনি করেন, কেবল তিনিই হয়ে উঠতে পারেন, প্রকৃত গুরু।

আপার কাছে যে সবসময় আদরই পেয়েছি, তা কিন্তু নয়। বকাও খেয়েছি অনেকবার। গান ঠিকঠাকমতো না গাইতে পারলে, রেওয়াজটা না করলে ভীষণ রেগে যেতেন। তাঁর রাগও ছিল আগুনচড়া। ভয়ে ভয়ে থাকতাম আপা যেন কখনো রেগে না যায়। আসলে একে ভয় বললেও ভুল হবে। তাঁকে নিজের কোনো কাজ দিয়ে কষ্ট দিতে চাইতাম না।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মিতা হক, ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক পান। ২০১৭ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কার দেওয়া হয়। একই বছর রবীন্দ্র সঙ্গীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ‘চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা’ দেওয়া হয়। ২০২০ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে একুশে পদক পান। এই দিনগুলো ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

আজ ১১ এপ্রিল, আমার সংগীত গুরু, বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিতা হকের প্রয়াণ দিবস। জীবনের প্রতিটা মুর্হূতে তাঁকে ভীষণভাবে মনে করি। এখনো কোথাও গান গাইতে গেলে বা বাসায় রেওয়াজ করতে বসলে, তাঁর মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠে। মনে হয়, তিনি শুনছেন। গানটাকে ভালোভাবে গাইলে তিনি খুশি হবেন।

মাঝে মাঝে মনে হয়, মিতা আপা কি সত্যিই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন বা যেতে পারেন বা যাওয়া যায়? হয়তো তাঁর শরীরী অবয়বটুকু নেই আমাদের কাছে। কিন্তু তাঁর স্মৃতি, আদর্শতো এখনও রয়েছে শিক্ষার্থীদের ভেতর। তখনই মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের গানের সেই বাণী-

‘তোমারও অসীমে প্রাণমন লয়ে
যত দূরে আমি ধাই
কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু, কোথাও বিচ্ছেদ নাই।’

 

উজ্জ্বলার ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি উদযাপন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা। হাঁটি হাঁটি পা করে গত ৯ এপ্রিল, প্রতিষ্ঠানটি ছয় বছরে পদার্পন করলো। এই উপলক্ষে, গতকাল রবিবার, বিকেল ৫ টায়, উজ্জ্বলার ঢাকা শাখায় একটি বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার শৈবাল সাহা; তিনি উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। উপস্থিত ছিলেন উজ্জ্বলার চেয়ারম্যান আদিত্য সোম ও উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন। এ ছাড়া আরো ছিলেন, উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি বিজনেস ডেভলপমেন্ট স্পেশালিস্ট জেবা পারভীন, বিউটি আর্টিস্ট আলেয়া শারমিন কচি, বিউটি আর্টিস্ট সাদিয়া ইসলাম, বিউটি আর্টিস্ট সোনিয়া খান, বিউটি আর্টিস্ট ইকরা আহসান চৌধুরী, বিউটি আর্টিস্ট রেড রাসেল সহ উজ্জ্বলার কর্মীবৃন্দ। কেক কাটা, ইফতার, সম্মানিত অতিথিদের বক্তব্য ও ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে পালিত হয় অনুষ্ঠান।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

উজ্জ্বলার চেয়ারম্যান আদিত্য সোম বলেন, ‘উজ্জ্বলার পার করা এই ছয় বছর, আমার কাছে ৬০ বছরের মতো। এই পথ চলাটা তো শান্তির অবশ্যই ছিল, তবে বেশ কঠিনও ছিল। এই ছয় বছরে আমরা প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়তে পেরেছি। এতো পরিশ্রমের পর এটাই আমাদের অর্জন। আসলে প্রতিষ্ঠানটি লাভ-ক্ষতির চিন্তা করে শুরু করা হয়নি। তবে উজ্জ্বলায় পা রাখার পর, শিক্ষার্থীরা যখন শ্রদ্ধা ও সৌহার্দপূর্ণ দৃষ্টিতে অভিবাদন জানায়, তখন মনে হয়, যেই কাজটি করেছি, তার একটি সুফল পাচ্ছি। বিষয়টি অন্যরকম আনন্দ দেয়; আরো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।’

ছবি : সংগৃহীত

উজ্জ্বলা মূলত শুরু হয় বিউটি ও গ্রুমিং এডুকেশন দিয়ে মানুষকে স্বাবলম্বী করতে। তবে গত এক বছরে আমরা আরো কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। পাঁচ বছর পার করার পর আমাদের মনে হলো, বিভিন্ন ওইং দাড় করানো দরকার, যা শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করবে। এই লক্ষ্যে উজ্জ্বলা ট্রাস্ট গঠন করেছি। এখানে সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। পাশাপাশি তৈরি করেছি ‘উজ্জ্বলা কেয়ার’। এখান থেকে আন্তর্জাতিক মানের সৌন্দর্য প্রসাধনী পণ্য তৈরি করছি। তবে এর বিক্রি হচ্ছে একেবারে দেশীয় মূল্যে। এটি থেকে বিউটি সেক্টরে যারা কাজ করে, তারা সুলভমূল্যে পণ্য পাবে- জানান উজ্জ্বলার চেয়ারম্যান আদিত্য সোম।

উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের বিউটি সেক্টরের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব আফরোজা পারভীন বলেন, ‘উজ্জ্বলা আসলে একটি সামাজিক উদ্যোগ। এটি বিউটি ও গ্রুমিং সেক্টরে নারী ও পুরুষকে সমান তালে প্রশিক্ষণ দেয় এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সহযোগিতা করে। উজ্জ্বলার বিভিন্ন কোর্স করার মাধ্যমে নারীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারছে এবং দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। উজ্জ্বলা যখন শুরু হয় তখন চার থেকে পাঁচজন কর্মী ছিল। আজ সেখানে ২৫ জনের মতো কর্মী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ছয় বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। উজ্জ্বলা এভাবেই নারী ও তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চায়।’

ছবি : সংগৃহীত

নতুন প্রজন্মের নারীরা যেন বিশ্বমানের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং-এ নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে, সেই চিন্তা থেকে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে উজ্জ্বলা। নারীকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব বিস্তারিত শেখায় প্রতিষ্ঠানটি। দেশের সেরা বিউটি আর্টিস্টরা এসব প্রশিক্ষণের ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে থাকছেন। উজ্জ্বলার বিভিন্ন কোর্স করার মাধ্যমে নারীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারছে ও দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তরুণ শক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।

দেশীয় পণ্য নিয়ে হার-ই-ট্রেডের ৬ষ্ঠ অফলাইন মেলা

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

হার-ই-ট্রেডের যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালে, কোভিডের সময়। মূলত কোভিডের সময় অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে এবং নারী উদ্যোক্তাদের সাহায্য করার মানসিকতা থেকে শুরু এই ফেসবুক পেজটি। ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে। বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে এর।

এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি থেকে গত ৭ ও ৮ এপ্রিল ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ৬০ জন উদ্যোক্তার পণ্য নিয়ে হয়ে গেল প্রদর্শনী ও মেলা। ‘উৎসবে এবার দুই ধরন—ঈদ ও বর্ষবরণ’ এই শিরোনামে ‘হার-ই-ট্রেড’ এবার ষষ্ঠবারের মতো অফলাইন মেলার আয়োজন করল।

নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে তৈরি এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সভাপতি ওয়ারেছা খানম প্রীতি জানান, ঈদ ও বর্ষবরণ উপলক্ষে এই ধরনের মেলার আয়োজন আমরা আগেও করেছি। ব্যাপক সাড়া পাই মানুষের। আমরা চাই, কেবল দেশীয় পণ্য নিয়ে নিজেদের দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে। একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি রয়েছে, যারা এই ঐতিহ্যের সঙ্গে থাকে। আমরা তাদেরই ক্রেতা ও সহযোগী হিসেবে পাচ্ছি। তারা জানে, হার-ই-ট্রেড মানেই দেশীয় পণ্যের আয়োজন।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মেলা ঘুরে দেখা গেল, দেশীয় কাপড়ে তৈরি পোশাক থেকে শুরু করে হোম ডেকর, গহনা ও খাবার-দাবারের স্টল রয়েছে এখানে। দর্শনার্থী ও ক্রেতার ভিড়ও রয়েছে বেশ।

বিভিন্ন ধরনের টিপ ও হাতে তৈরি গহনা নিয়ে কাজ করেন নওরিন আক্তার। তাঁর উদ্যোগের নাম ‘সারানা’। জানালেন, যেহেতু এখন করোনার ভয় অনেকটা কমেছে, মানুষ উৎসব উদযাপন করছে। আমরাও ভাবলাম মেলা করি। টিপের বিষয়টি হলো, অনলাইনে কেনা যায়, তবে সামনাসামনি দেখে কিনলে সাইজটা অনেক সময় বুঝতে সুবিধা হয়। মেলায় মানুষ দেখেশুনে কিনতে পারে। আবার যারা আমার পেজের নিয়মিত গ্রাহক, তারা মেলায় আসছে। আমাদের সামনাসামনি দেখা হচ্ছে, এটা একটি বড় বিষয়।

আমি যখন একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছি, তখন বৃহৎ পরিসরে দ্রুতই যাওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে নওরিন আক্তার বলেন, ‘সেই ক্ষেত্রে হার-ই-ট্রেডের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ক্ষুদ্র উদ্যেক্তাদের জন্য সহযোগী হিসেবে কাজ করে। একই ছাতার নিচে অনেক উদ্যোক্তা তাদের পণ্য নিয়ে জমাট হতে পারে। আর ক্রেতারাও নিজের পছন্দসই জিনিসটি দেখে কিনতে পারে।’

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দেশীয় শাড়ি ও পোশাক নিয়ে কাজ করছেন আঁখি ভদ্র। তাঁর উদ্যোগ ‘ট্রিভো’। মেলায় ক্রেতাদের উৎসাহ নিয়ে জানান, হার-ই-ট্রেডের মেলা খুব জমজমাট হয়। কারণ, সবাই জানে প্রত্যেক উদ্যোক্তাই ভালো এবং সবাই এখানে তাদের মানসম্পন্ন পণ্যগুলো নিয়েই আসে। এখানে এলে প্রতিযোগিতাটা সব সময় হয় নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার। এটা খুবই ভালো বিষয়।

‘সামনে বাজেট আসছে। নিরাপদ শহর, ঋণ সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রণোদনার গল্প আমরা শুনি। অনেক সময় দেখা যায়, সেগুলো ঠিক মেলে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যারা নারী উন্নয়ন নিয়ে ভাবছে, তারা উদ্যোক্তাদের আরেকটু সহযোগিতা করবে, প্রশিক্ষণ দেবে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে—এমনটাই আশা রাখি,’ বলছিলেন তিনি।

মেলার উদ্বোধনী দিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট নাজনীন আহমেদ এবং প্রখ্যাত অভিনেতা, লেখক ও শিল্পী আফজাল হোসেন ও তার সহধর্মিণী তাজীন হালিম। সমাপনী দিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। মেলা চলেছে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস : সবার জন্য স্বাস্থ্য

ডা. শাকিল মাহমুদ

ভালো স্বাস্থ্যই সুস্থ ও সতেজ জীবনের চাবিকাঠি। এ কথা আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি। সুস্বাস্থ্য থাকলে যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব। শুধু টাকা থাকলেই যথেষ্ট নয়; সুস্বাস্থ্য থাকলে আমরা সম্পদের সদ্বব্যবহার করতে পারি। স্বাস্থ্য বলতে একজন মানুষের শারীরিক, সামাজিক ও মানসিক অবস্থাকে বোঝায়।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা এমন একটি বিষয়, যার উপর দেশের মানব সম্পদ অনেকাংশে নির্ভরশীল। নাগরিকের সুস্বাস্থ্যের অভাবে দেশের উৎপাদনশীলতা কমে; কমে যায় উন্নয়নের গতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের গুরুত্ব এখানেই।

আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। প্রতি বছর ৭ এপ্রিল, একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হয়। ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘হেলথ ফল অল’। অর্থাৎ, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’।

পৃথিবীর বহু দেশ এই দিনটি পালন করে। মূলত, বিশ্বব্যাপী জন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এই দিনটি পালিত হয়। ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রসংঘ অর্থনীতি ও সমাজ পরিষদ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সম্মেলন ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ বলে নির্ধারিত হয়।

এই দিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৫০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার ৭৫তম বার্ষিকী পালন করবে। পৃথিবীর বহু দেশে এই দিনটি পালন করা হয়। ৭ এপ্রিল ২০২৩, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৭৫ তম বার্ষিকী পালন করছে।

এই বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে আসুন আমরা একে অপরের স্বাস্থ্য সচেতনা বৃদ্ধি করতে, একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর বিশ্ব গড়তে কাজ করি।

লেখক
চিকিৎসক, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ( সাভার)

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.