Thursday, May 28, 2026
spot_img
Home Blog Page 78

কোরবানির পর ঘরের গন্ধ দূর করার ৭ কৌশল

অধ্যাপক রীনাত ফৌজিয়া

কোরবানি সাধারণত বাসার বাইরে করা হয়। পশু জবাই শেষে সেই জায়গাটি পরিষ্কার করা এবং গন্ধ দূর করা বেশ জরুরি। দুর্গন্ধ কমাতে ব্লিচিং পাউডারের ব্যবহার বেশ কার্যকর। আর সহজ সমাধানও বটে।

তবে বাহির থেকে মাংস ঘরে আনার পর ভাগবাটোয়ারা, কাটাকাটির কাজটি কিন্তু ঘরে থেকেই করতে হয়। আর এই ক্ষেত্রে ঘর দুর্গন্ধ হয়ে পড়ে। তবে কিছু উপায় মেনে চললে এই গন্ধ দূর করা সহজ। আসুন, জানি সেগুলো

১. মাংসের ভাগবাটোয়ারা, কাটাকাটি ইত্যাদি কাজ করতে ঘরের একটি আলাদা জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে বারান্দার একটি অংশ নেওয়া যেতে পারে। আবার নির্দিষ্ট একটি ঘর নিলে, আগে থেকে ফাঁকা ও পরিষ্কার করে রাখতে হবে।

২. কাটাকাটি, ভাগবাটোয়ারার কাজ শেষ হয়ে গেলে খুব ভালো করে জায়গাটি পরিষ্কার করে ফেলুন। খেয়াল করতে হবে কোথাও রক্ত পড়ে রয়েছে কি না। মাংসে থাকা পানি, রক্ত ইত্যাদি মেঝেতে লেগে থাকলে ভীষণ গন্ধ হবে এবং জীবাণু ছড়াবে। এ জন্য পরিষ্কার করে মুছতে হবে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

৩. ভালো হয়, পানি হালকা গরম করে এর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে মেঝে মুছে ফেললে। লেবুর রসের বদলে ভিনেগারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. রান্নাঘরে এক্সস্ট ফ্যান চালাতে হবে। এতে গন্ধ দূর হবে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

৫. ঘরে যেকোনো ধরনের দুর্গন্ধ থাকলে সুগন্ধি মোমবাতি ব্যবহার করতে পারেন। বিষয়টি বেশ কাজে লাগে।

৬. গন্ধ দূর করতে লবঙ্গ, লেবু ও কমলার খোসা এক ধরনের টোটকা ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি পাত্রে পানি ফুটিয়ে নিন। এতে লবঙ্গ দিন। লবঙ্গ কিছুটা ফুটে এলে লেবু ও কমলার খোসা দিয়ে দিতে হবে। এই পানিটা বেশ সুগন্ধি হয়। এটি ব্যবহার করে আসবাব মুছে নিতে পারেন। পাশাপাশি পানির পাত্রটি ঘরের এক কোণায় রেখে দেওয়া যেতে পারে। এতেও ঘরে সুগন্ধ ছড়াবে।

৭. অনেক সময় হাত থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাই হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পাশাপাশি লেবু-পানিও ব্যবহার করতে পারেন।

লেখক
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান,
সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশিপ বিভাগ,
গভ. ককেজ অব এপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স,
(প্রাক্তন গার্হস্থ অর্থনীতি কলেজ)
ঢাকা।

ঈদ শেষে রান্নাঘর পরিষ্কারের ৫ উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঈদ শেষে বাড়িতে সবচেয়ে অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায় যেই জায়গাটি, সেটি রান্নাঘর। অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর জীবাণু, পোকা-মাকড় উৎপাদনের অন্যতম স্থান। আর তাই এই ঘরটিকে জীবাণু থেকে রক্ষা করতে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি।

চুলার চারপাশ
চুলার চারপাশ দাগ পরিষ্কারের জন্য সিরকা ব্যবহার করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে তুলোর বলের মধ্যে সিরকা লাগিয়ে চারপাশের দাগ পরিষ্কার করে নিন।

সিংক
খাবার কাটাকাটি ও ধোয়ার পর সবচেয়ে বেশি অপরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে কিচেন সিংক। কেবল সিংকের অংশটিই নয়, নিচের ড্রেনের পাইপ পরিষ্কারেরও বিষয় থাকে। পানির সঙ্গে বেকিং সোডা মিশিয়ে রান্না ঘরের এই অংশটি পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

হাড়ি-পাতিল, বাসন-পত্র পরিষ্কার
মাংস কাটাকাটি, রান্না ও খাওয়া শেষে হাড়ি-পাতিল, বাসন-পত্রের অবস্থা যে বারোটা বাজে, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এগুলো পরিষ্কারে গরম পানির মধ্যে লেবুর রস ও হলুদ মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

ফ্রিজ পরিষ্কার
কোরবানির ঈদে মাংস কাটাকাটি, বিলি ইত্যাদি নিয়ে বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। সময়ের অভাবে অনেকে চাপাচাপি করে ফ্রিজে মাংস রেখে দেন। এতে দুর্গন্ধে ও অযথা ময়লায় ভরে ওঠে। ঈদ শেষে একটু সময় করে, রেফ্রিজারেটরের ভেতরটা পরিষ্কার করে নিন। এরপর মাংস ও অন্যান্য খাবার গুছিয়ে রাখুন।

ফুলের ব্যবহার
রান্নাঘর ও খাবারের ঘরকে সুগন্ধিযুক্ত করতে রাখতে পারেন সুগন্ধি ফুল। ফুলের গন্ধে মনও যেমন ভালো থাকবে, তেমনি ঘরের সৌন্দর্যও বাড়বে।

সূত্র : কিচেন সলিউশন

ঈদে স্বাস্থ্যকর খাবারে ৩ পরামর্শ

নিশাত শারমিন নিশি

প্রতিটি মুসলমানের কাছে ঈদ খুব বিশেষ একটি দিন। ঈদ-উল- আজহা মানেই পরিবারের খাবার টেবিলে বিভিন্ন ধরনের মাংসের রেসিপির বাহার। এ ক্ষেত্রে নিজের বাড়িতে তো বটেই, অন্য কোথাও গেলেও মাংসের আইটেমই পাতে ওঠে সবার আগে।

তবে হঠাৎ করে এসব বাড়তি ভারি খাবারে রয়েছে নানা রকম স্বাস্থ্যঝুঁকি। অতিরিক্ত গরু ও খাসির মাংস কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বাড়িয়ে দিতে লাল মাংস (গরু, খাসি) যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। আবার যাদের রক্তে ইউরিক এসিড বেশি বা যাদের বাতের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এগুলো গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা থাকে। আর ঈদে একটু আনন্দ করতে গিয়ে যেন অসুস্থতা বেড়ে না যায়, সে ক্ষেত্রে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা।

১. রান্নার ক্ষেত্রে মাংসের আকার একটু ছোট করে নিন। এ ক্ষেত্রে অনেক আইটেম গ্রহণ করলেও পরিমাণ অল্প থাকায় সমস্যা কম হবে।

২. গরু বা খাসির মাংসে যেহেতু প্রচুর পরিমাণ চর্বি থাকে, তাই বাড়তি চর্বির লেয়ার বাদ দিয়ে রান্না করুন। এগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

৩. যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে, তাদের মাংস বেশি খেলে সমস্যা বাড়ে। যেহেতু এই সময় পরিবারে সবজি রান্না কম হয়, অথবা অনেকে এই সময় সবজি গ্রহণও তেমন পছন্দ করে না, তাই কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে মাংসের রেসিপিতে আনতে পারেন পরিবর্তন। মাংসের সঙ্গে দিতে পারেন সবজি। যেমন : টমেটো দিয়ে মাংস রান্না, কাঁচা পেঁপে দিয়ে মাংস রান্না, বাঁধাকপি আচারি মাংস, বেলপেপার দিয়ে রান্না মাংস ইত্যাদি।

লেখক
প্রধান পুষ্টিবিদ ও বিভাগীয় প্রধান
পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ঈদে কিডনি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর খাবার কেমন হবে?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঈদ মানেই খাবার টেবিলে ভুরিভোজের সমারোহ। আর এবার যেহেতু কোরবানির ঈদ, তাই বিরিয়ানি, তেহারি, বিভিন্ন ধরনের কাবাব ইত্যাদি মাংসের রেসিপি থাকবে বেশি। তবে এসব লাল মাংস (গরু, খাসি), মিষ্টান্ন খাওয়া কিন্তু ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এসব খাবার খেতে হবে খুব সতর্কতার সঙ্গে।

ঈদের সময় রোগীদের খাবার-দাবারের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ ও বিভাগীয় প্রধান নিশাত শারমিন নিশি।

কিডনি রোগী

কিডনি রোগীদের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণে সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা থাকে। আর মাংস যেহেতু প্রোটিন, তাই এটি গ্রহণে কিডনি রোগীর নানা ধরনের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ক্রিয়েটিনিন বাড়তে পারে।

# সারাদিনের খাদ্যতালিকায় যেকোনো একটি মাংসের আইটেমই যথেষ্ট। তবে তা অবশ্যই হতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।

# গরু, খাসির মাংস খেতে চাইলে, একে ছোট ছোট টুকরো করেে যেকোনো সবজির সঙ্গে মিশিয়ে একটি তরকারি তৈরি করা যেতে পারে।

# এ ছাড়া কোনো একবেলা দুই টুকরো মাংসের বেশি খাওয়া হলে, পরের বেলায় প্রোটিন সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে।

# খাবারের তালিকায় প্রতিদিন ডিম রাখা ভালো। হবে কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে মাংস ও ডিম একসঙ্গে রাখা জরুরি নয়।

# অবশ্যই প্রোটিনের সঙ্গে সঙ্গে লবণের পরিমাণের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। খাবারে বাড়তি লবণ ও মশলার ব্যবহার যত কম, ততই ভালো।

ইউরিক এসিডে আক্রান্ত রোগী

রক্তে ইউরিক এসিড বেশি থাকলে ঈদের খাবার-দাবারে সতর্ক হতে হবে। যাদের এ ধরনের সমস্যা থাকে, তারা গরু বা খাসির মাংসের পরিবর্তনে মুরগি বা মাছের আইটেম খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

ক্ষতিকর কোলেস্টেরলে আক্রান্ত হলে

কোলেস্টেরল ভালোও হয়। আবার খারাপও হয়। যাদের দেহে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তারা অনেক হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি রোগের ঝুঁকিতে থাকে। এ ধরনের রোগীরাও লাল মাংস খেতে সতর্ক হবেন।

অনেকেই গরু-খাসির মাংসে বাড়তি চর্বির লেয়ার পছন্দ করে। যাদের দেহে ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত চর্বি রয়েছে, তারা এগুলো এড়িয়ে যান। এই ধরনের ভারি খাবারগুলো উচ্চরক্তচাপ এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী

ডায়াবেটিস রোগীদের মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর ঈদ মানে মিষ্টান্ন থাকবে টেবিলে। তবে যতই লোভে পরুন না কেন, এ ধরনের খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। এর পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, মিষ্টি ফল খেতে পারেন। যেমন : কাঠাল, তরমুজ, আম ইত্যাদি।

 

শেষ মুহূর্তে ঈদের পোশাক

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
ঈদ- উল- আজহা দোরগোড়ায়। এই ঈদে সাধারণত কোরবানির পশু কেনা নিয়ে এতো ব্যস্ত থাকে অনেকে, পোশাক কেনাকাটার দিকটাতে তেমন মনোযোগী হয় না। তবু ঈদ বলে কথা! টুকটাক কেনাকাটা তো করতেই হয়।

শেষ মুহূর্তে ঈদের পোশাকে মেয়েদের জন্য পাবেন ফিউশন, এ লাইন, আংরাখা, রেট্রো, কাট বেইসড সহ বৈচিত্র্যময় নানা প্যাটার্নের সালোয়ার কামিজ। রয়েছে টপস্, টিউনিক, শ্রাগ, কাফটান, ডাবল লেয়ারড সালোয়ার কামিজ, ডাবল লেয়ারড কুর্তি, লং-কুর্তি, রেগুলার কুর্তি, প্যান্ট সহ টপস, টপস-স্কার্ট, টপস-পালাজো সেট, বিভিন্ন প্যাটার্নের প্যান্ট ইত্যাদি।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

ঈদকে সামনে রেখে ফ্যাশন ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফট-এর রয়েছে বৈচিত্র্যময় আয়োজন। কে ক্র্যাফট-এর স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ জানান, এবার বিভিন্ন মোটিফের বিচিত্র ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে পোশাকে। অরনামেন্টেড ফ্লোরাল, ফ্লোরাল, ট্র্যাডিশনাল, হেরিটেজ, কাঁথা স্টিচ, ট্রাইবাল, জিওমেট্রিক, মডার্ন, ফোক, জামদানি, মুঘলিও আর্ট, কুইলট, কাশ্মীরি মোটিফের অনুপ্রেরণায় করা হয়েছে এবারের পোশাক। রঙ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মেরুন, রেড, ক্রিমসন রেড, পেস্ট, ব্ল্যাক, টারকুইস, নেভি, অরেঞ্জ, পিচ, আপ্রিকট, কোরাল পিঙ্ক, লাইট পিঙ্ক, অ্যাশ, অলিভ, গ্রিন, অ্যাকুয়া গ্রিন, ভায়োলেট, ল্যাভেন্ডার, ব্রাউন, হওয়াইট, অফ- হওয়াইট, সিলভার, ইন্ডিগো, ম্যাজেন্টা, মাস্টার্ড ইয়েলো সহ বিভিন্ন রঙ।

এবারের ঈদ পোশাকের ডিজাইন ও থিম প্রসঙ্গে রঙ বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস বলেন, ‘ঈদ পোশাকের নকশায় গুরুত্ব পেয়েছে একাধিক পাখির রং এবং পাখির বিভিন্ন মোটিফ। এর সঙ্গে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আবহর সঙ্গে সময়, প্রকৃতি, আবহাওয়া আর আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডের সমন্বয়।’

ছবি : রঙ বাংলাদেশ
ছবি : রঙ বাংলাদেশ

উৎসবভিত্তিক পরিবেশে স্বস্তিকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাকের ফ্যাব্রিক হিসেবে পাবেন- কটন, জর্জেট, লিনেন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, জয়শ্রী সিল্ক, ডুপিয়ন সিল্ক, সুইস কটন, মসলিন, হ্যান্ডলুম কটন, টু-টোন, সাটিন ইত্যাদি। এ ছাড়া শাড়ির নকশায়ও রয়েছে বৈচিত্র্য। পোশাকগুলোতে নকশা ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, অ্যামব্রয়ডারি, কারচুপি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, সিকুইন ওয়ার্ক, ডিজিটাল প্রিন্ট এবং টাই-ডাই মিডিয়ার ব্যবহার হয়েছে।

ছেলেদের জন্য পাবেন রেগুলার ও ফিটেড পাঞ্জাবি। এ ছাড়াও রয়েছে কাট বেইসড এক রঙা পাঞ্জাবি। সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নিতে পারেন কাতান, সিল্ক ও কটন কাপড়ে হালকা ও ভারী প্রিন্ট করা কটি। পাওয়া যাবে শেরওয়ানি, স্মার্ট ক্যাজুয়াল শার্ট, এথনিক শার্ট, ফতুয়া, পলো শার্ট ও টি শার্ট।

ঈদে ঘরে বৈচিত্র্য আনুন ৫ উপায়ে

অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া

ঈদ আমাদের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ উৎসব। এই সময় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সমাগম হয় বাড়িতে। ঈদে ঘরের সাজ-সজ্জায় একটু পরিবর্তন আসলে কিন্তু ভালোই হয়। ঘর সাজালে, নতুন পরিবেশ তৈরি হয়; সব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তবে এই জন্য খুব যে ঝক্কি পোহাতে হবে, তা কিন্তু নয়। সামান্য কিছু পরিবর্তনেই ঘর হয়ে উঠতে পারে বৈচিত্র্যময়।

১. কীভাবে শুরু করব?
ঘরকে সাজিয়ে তোলার আগের কাজটা হলো, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। অপরিষ্কার ঘরকে সাজালেও সুন্দর করে তোলা যায় না।

# শুরুতে ঝুলঝাড়ু দিয়ে ঘরের ঝুল পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

# ফ্যানের ব্লেডে ময়লা থাকলে, পরিষ্কার করে নিন।

# বুক শেলফে বই এলোমেলো থাকলে গোছাতে হবে।

# মেঝের টাইলসে ময়লা থাকলে পরিষ্কার করে নিন।

২. বৈচিত্র্য আনার উপায়—

# সাধারণত ঈদে বা এই রকম কোনো বিশেষ দিনে ব্যবহার করার জন্য কুশন কভার, টেবিল কভার, বিছানার চাদর, পর্দা ইত্যাদি আলাদা এক সেট তুলে রাখা হয়। ঈদের কয়েকদিন আগেই এগুলো বের করে দেখতে হবে ঠিকঠাক রয়েছে কি না, কোনো রকম ময়লা দাগ পড়েছে কি না, পোকার উপদ্রব হলো কি না। প্রয়োজনে এগুলো ধুয়ে, আয়রন করে ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে।

# খুব ভালো হয় ঘরের রঙ বদলে ফেলা গেলে। এবারের ঈদুল আযহায় তাপমাত্রা যথেষ্ট বেশি থাকবে। তাই হালকা রঙকে প্রাধান্য দিলে ভালো হয়। শিল্পকলার ভাষায় রঙকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়- উষ্ণ ও শীতল। যেসব রঙে লাল ও হলুদের প্রভাব রয়েছে, সেগুলো উষ্ণ। আর নীলের প্রভাব রয়েছে এমনগুলো শীতল। এই ধরনের রং মনে প্রশান্তি আনে। তাই ঘরের বেশিরভাগ অংশে শীতল রং ব্যবহার করে, ছোট অংশে উষ্ণ রং ব্যবহার করতে পারেন। যেমন- কুশন কভার, টেবিলক্লথ, এমনকি কার্পেটও উষ্ণ রঙের হতে পারে।

# এ ছাড়া প্রকৃতির শীতল ছোঁয়া আনার জন্য ঘরের ভেতর কিছু গাছ নিয়ে আসতে পারেন। মানি প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা- এ ধরনের ইনডোর প্ল্যান্টগুলো ঘরের সৌন্দর্য বাড়াবে।

৩. একটু অন্যরকম কিছু—

# ঘরের সাজে বৈচিত্র্য আনতে, দামী জিনিস ব্যবহার করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বুদ্ধি খাটিয়ে একটু অন্যরকম কিছু করুন। এই ক্ষেত্রে দেশীয় বা ঐতিহ্যবাহী পন্য ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে তো মাটির তৈরি, বাঁশের তৈরি নানা ধরনের ঘর সাজানোর উপাদান কিনতে পাওয়া যায়। যেগুলো দামে সস্তা। ঈদ উপলক্ষে এই ধরনের কিছু জিনিস কিনে ঘরে সাজানো যেতে পারে।

# আর খরচ বাড়াতে না চাইলে, নিজেদের হাতে তৈরি জিনিস ব্যবহার করা যায়। নিজেরাই কারুশিল্প তৈরি করে ঘরকে নতুন করে সাজিয়ে ফেলতে পারি। ঈদ উপলক্ষে একটা দেয়াল অথবা বাসগৃহের একটা কর্নার সাজিয়ে তোলা যায়। বিভিন্ন রঙের কাগজ কেটে ফুল বা বিভিন্ন মোটিফ তৈরি করে সেই জায়গাটিকে সাজাতে পারেন। ঈদ মুবারক লেখা কার্ড তৈরি করে সাজানো যেতে পারে। এখন খুব কম দামে নানা রঙের মরিচ বাতি পাওয়া যায়। ঈদ উপলক্ষে না হয় সেরকম কিছু বাতি কিনেই কর্নারটি সাজিয়ে ফেলুন। আর এই ক্ষেত্রে বাড়ির ছেলেমেয়েদের কাজে লাগিয়ে দিতে পারেন। সবাই মিলে দায়িত্ব ভাগ করে নিলে আনন্দ হবে, নতুনত্বও আসবে।

# এ ছাড়া ফেলে দেবার মত জিনিস (প্লাস্টিক, পুরোনো গহনা, কলম ইত্যাদি) দিয়েও অনেক শিল্পকর্ম তৈরি করা যায়। আজকাল কোনো কিছুই ফেলনা নয়। একটু মাথা খাটিয়ে এসব জিনিস দিয়ে নানা ধরনের শোপিস তৈরি করে ফেলা যায়। এবারে ঈদ উপলক্ষে এসব জিনিস দিয়ে ঘর সাজিয়ে একটু বৈচিত্র্য আনতেই পারি।

৪. ফুলের ব্যবহার—

# বাড়িতে একটা আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে, ফুল ঘরে রাখা খুব কার্যকর। গোলাপ, জুঁই, রজনীগন্ধা এসব ফুলের গন্ধ খুব সুন্দর, ঘরকে সুগন্ধিযুক্ত করে তোলে। অনেকে সুগন্ধি মোমবাতি ব্যবহার করেন। এগুলোও বেশ মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে।

৫. ঘর সাজানোয় কিছু পরিবর্তন—

ঘরে যেসব আসবাবপত্র বা অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে সেগুলো একটু এদিক ওদিক করে নিয়ে নতুনভাবে সাজালে নতুনত্বের সৃষ্টি হয়। ঈদ উপলক্ষে আমরা এ কাজটা করতে পারি। অল্প কিছু পরিবর্তনের ফলে ঘরকে অনেক সুন্দর মনে হয় আর মনও খুব ভালো হয়ে ওঠে।

এভাবে সহজ কিছু কৌশলের সাহায্যে এই ঈদের আগেই আমরা ঘরে বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে পারি।

লেখক
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান,
সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশিপ বিভাগ,
গভ. ককেজ অব এপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স,
(প্রাক্তন গার্হস্থ অর্থনীতি কলেজ)
ঢাকা।

এনএইচআরডিএফ- এর সঙ্গে উজ্জ্বলার চুক্তি স্বাক্ষর

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট ফান্ড (এনএইচআরডিএফ)- এর অর্থায়নে ও ন্যাশনাল স্কিল ডেভলপমেন্ট অথোরিটি (এনএসডিএ)- এর তত্ত্বাবধানে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং সেক্টরের পথ প্রদর্শক উজ্জ্বলা।

বিউটি ও গ্রুমিং সেক্টরে উদ্যোক্তা তৈরি করে নারীকে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভশীল করতে আজ ২৫ জুন, রবিবার ঢাকার এনএইচআরডিএফ- এর কনফারেন্স রুমে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির মাধ্যমে বিউটি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করবে উজ্জ্বলা।

উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের স্বনামধন্য মেকআপ আর্টিস্ট আফরোজা পারভীন বলেন, ‘এই উদ্যোগে অংশ নিতে ২৫৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘উজ্জ্বলা’ একটি। নারী ক্ষমতায়নে এতো চমৎকার একটি প্রকল্পে, উজ্জ্বলার ওপর আস্থা রেখে, পাশে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য এনএইচআরডিএফ-কে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

এর আগে বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’- এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিউটি প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে কাজ করেছে উজ্জ্বলা, জানিয়ে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘নারীকে স্বাবলম্বী করে, তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে নিতে আমরা বদ্ধপরিকর। নারীর ক্ষমতায়ন আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সিনিয়র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পরিচালক, জাতীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন তহবিল ; জনাব আরদাশির কবির, প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন এবং পরিচালক, জাতীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন তহবিল ; জনাব তাহসিনাহ আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার এবং পরিচালক, জাতীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন তহবিল ; জনাব মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, প্রতিনিধি, ন্যাশনাল কো-অরডিনেশন কমিনিটি ওয়ার্কার্স এডুকেশন (এনসিসিডাব্লিউই) এবং পরিচালক, জাতীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন তহবিল।

উপস্থিত ছিলেন, জনাব কবিরুল ইজদানী খান, অতিরিক্ত সচিব, বাজেট ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ; জনাব মো. গোলাম মোস্তফা, অতিরিক্ত সচিব, প্রবিধি, বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ; জনাব রেহেনা পারভিন, অতিরিক্ত সচিব, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ; জনাব সিরাজুন নূর চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ; জনাব সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ; জনাব ফাতেমা রহিম ভীনা, অতিরিক্ত সচিব, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং এক্সিকিউটিভ প্রজেক্ট ডিরেক্টর (ইপিডি), এসআইপি ; জনাব আবু দাইয়ান মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, যুগ্ম সচিব, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ; উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন। আরো ছিলেন, এসআইপি প্রকল্পের ডিইপিডি গণ এবং এসআইপি প্রকল্পের পরামর্শক গণ।

শিশুর ঈদ পোশাকে কী থাকছে এবার?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঈদ বা যেকোনো উৎসবে আনন্দ ভাগ করে নিতে, সবার আগে মাথায় আসে পরিবারের ছোট সোনামনিটির কথা। অন্য সদস্যদের জন্য কিছু কেনা হোক বা না হোক শিশুর জন্য পোশাক কেনা চাই-ই। কারণ, ঈদে শিশুর আনন্দ-ই সবার আগে।

এবারের ঈদ- উল- আজহায় শিশুদের পোশাকের ধরন, কাপড় ও রঙের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের জন্য রয়েছে, সালওয়ার কামিজ, ফ্রক, কুর্তি, টপস, লেহেঙ্গা। ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি, শার্ট, কটি, পোলো শার্ট, টি শার্ট, শেরওয়ানি সহ বিভিন্ন পোশাকের আয়োজন।

ছবি কৃতজ্ঞতা : কে ক্র্যাফট
ছবি কৃতজ্ঞতা : কে ক্র্যাফট

‘মোটিফ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে- ফ্লোরাল, ট্র্যাডিশনাল, জামদানি, আলাম, কাঁথা স্টিচ, এথনিক, তাগা, আর্ট ওয়ার্ক, টার্কিশ আর্ট, ডট ম্যান্ডালা, ফরেস্ট প্রিন্ট ইত্যাদি। পোশাকে নকশা ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, অ্যামব্রয়ডারি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যবহার হয়েছে’- বললেন ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফট- এর স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান।

যেহেতু এবার ঈদ গরমের সময় পড়েছে, তাই পোশাক তৈরি করা হয়েছে পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই করে। পোশাককে স্বস্তিদায়ক করতে ফ্রেবিক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ডিজাইন্ড কটন, হ্যান্ডলুম কটন, লিনেন, ডুপিওন সিল্ক, হাফ সিল্ক, কটন, জর্জেট, সিল্ক ইত্যাদি।

ছবি কৃতজ্ঞতা : কে ক্র্যাফট
ছবি কৃতজ্ঞতা : কে ক্র্যাফট

বাজার ঘুরে শিশুর পোশাকে দেখা গেছে, অলিভ, গ্রিন, অফ-হওয়াইট, ইন্ডিগো, অ্যাকুয়া গ্রিন, ল্যাভেন্ডার, ব্রাউন, মেরুন, গোল্ডেন, অর্কিড, রেড, ভায়োলেট, ক্রিমসন রেড, পেস্ট, নেভি,অরেঞ্জ, পিচ, লাইট পিঙ্ক, ম্যাজেন্টা, টারকুইস, ইয়েলো ইত্যাদি রঙের প্রাধান্য।

ছবি কৃতজ্ঞতা : রঙ বাংলাদেশ
ছবি কৃতজ্ঞতা : রঙ বাংলাদেশ

রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, ‘শিশুর জন্য তো সিঙ্গেল পোশাক রয়েছেই, পাশাপাশি বাবা-ছেলের পরার জন্য একই নকশার পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি, কটি, শার্ট থাকছে। মা-মেয়ের জন্য থাকছে ডুয়েট পোশাক – সালোয়ার কামিজ, কুর্তি ইত্যাদি। উৎসবে আনন্দ বাড়াতে এই ধরনের পোশাকও বেছে নেওয়া যেতে পারে।’

ছবি কৃতজ্ঞতা : রঙ বাংলাদেশ
ছবি কৃতজ্ঞতা : রঙ বাংলাদেশ

শিশুর পোশাকটা আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে মানানসই হওয়া চাই। নকশার কারুকাজ তো থাকবেই, পাশাপাশি আরামটাকেও প্রাধান্য দিতে হবে। আর এই আরামের কথা মাথায় রেখেই এবারের শিশুদের ঈদের পোশাকগুলো দেখা গেছে বাজারে।

গরমে ঈদ, মেকআপ ভালো রাখার ৭ উপায়

শাশ্বতী মাথিন
ঈদে একটু জমকালো সাজ না হলে কি চলে? তবে যেহেতু এখন আবহাওয়ায় গরম-বৃষ্টির মিশ্রণ চলছে, তাই সঠিকভাবে না সাজলে, সেটা লম্বা সময় ভালো রাখা কঠিন।

গরমে ঈদের সময় মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ভালো রাখার কৌশল জানিয়েছে ‘প্রিটি লেডি বাই সোনিয়া খান’- এর স্বত্বাধিকারী রূপ বিশেষজ্ঞ সোনিয়া খান। তাঁর পরামর্শ মতে,

১. মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ঠিকঠাক রাখতে প্রস্তুতি অনেক জরুরি। মেকআপের আগে প্রস্তুতি হিসেবে সিটিএমএল অর্থাৎ ক্লিনিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে। পাশাপাশি ঠোঁটের যত্নে ব্যবহার করতে হবে লিপবাম। এগুলো প্রাথমিক পর্যায়।

২. মেকআপ লম্বা সময় ধরে রাখতে, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য প্রথমে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। ঘাম যেন বেশি না হয় বা তেলের নিঃসরণ যেন বেড়ে না যায়, এ জন্য মুখে একটু বরফ ঘষে নেওয়া জরুরি। এরপর অ্যালকোহল ফ্রি টোনার ব্যবহার করুন। এবার জেল বেজড বা ওয়াটার বেইজ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এই ধরনের ময়েশ্চারাইজার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো।

 

মডেল : বিউটি এক্সপার্ট সোনিয়া খান। ছবি : সংগৃহীত
মডেল : বিউটি এক্সপার্ট সোনিয়া খান। ছবি : সংগৃহীত

২. দিনের বেলার মেকআপ হলে, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পর সানব্লক ব্যবহার করে নিতে পারেন। আর বিকেল বা রাতের অনুষ্ঠান হলে সানব্লক এড়িয়ে যাওয়া যায়।

৩. শুষ্ক ত্বকে প্রথমে মুখ সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। অবশ্য অতিরিক্ত শুষ্ক হলে গরমের সময় একটু আরাম পাওয়া যায়। এরপরও ত্বক বেশি খসখসে লাগলে, যেকোনো ফেইস ওয়েল দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করে নিন। এক থেকে দুই মিনিট রাখার পর বেশি তৈলাক্ত হয়ে রয়েছে মনে হলে টিস্যু দিয়ে
একটু একটু চাপ দিয়ে দিয়ে মুছে নিন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

৪. মেকআপ দীর্ঘক্ষণ টিকিয়ে রাখতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রাইমার ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বক হলে তেল নিয়ন্ত্রণ করবে এমন ধরনের বা ম্যাট প্রাইমার ব্যবহার করতে হবে। আর শুষ্ক ত্বকে ওয়েল বেজ প্রাইমার ব্যবহার করুন।

মডেল : বিউটি এক্সপার্ট সোনিয়া খান। ছবি : সংগৃহীত
মডেল : বিউটি এক্সপার্ট সোনিয়া খান। ছবি : সংগৃহীত

৫. যেহেতু গরম, ত্বক অনেক ঘামবে, তাই প্রাইমারের পর প্রয়োজন হলে কালার কারেকটিং করা যেতে পারে। আর প্রয়োজন না হল- ঘাম হবে না, ওয়াটার প্রুফ ও দীর্ঘক্ষণ থাকবে- এমন ফুল কাভারেজ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হবে।

৬. মেকআপের বেসকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করতে ম্যাজিক ড্রপ ব্যবহার করুন। এই ড্রপ মেকআপ লম্বা সময় ধরে ঠিকঠাক রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি ফাউন্ডেশনের আগে মুখে ব্যবহার করতে নিতে হবে।

৭. যেহেতু গরমকাল, অনেক ঘাম হবে- তাই ঘর থেকে বের হলে সঙ্গে একটি পাউডার পাফ রেখে দিন। ঘাম হচ্ছে দেখলে মুখে হালকা করে চেপে চেপে নিন। সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

মডেল : বিউটি এক্সপার্ট সোনিয়া খান। ছবি : সংগৃহীত
মডেল : বিউটি এক্সপার্ট সোনিয়া খান। ছবি : সংগৃহীত

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফওজিয়া ইয়াসমিনকে মেঘদূতের সম্মাননা

শাশ্বতী মাথিন

সংগীতজীবনের ৬৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের অন্যতম কিংবদন্তি শিল্পী ফওজিয়া ইয়াসমিনকে সম্মাননা দিয়েছে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মেঘদূত। এই উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জুন) শিল্পীর জন্মদিনে ঢাকার কাঁটাবন ক্যাফেতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

লেখক রাশেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্পীকে শুভেচ্ছা স্মারক, উপহার, উত্তরীয় ও মানপত্র প্রদান করেন মেঘদূতের সদস্যরা। বাকশিল্পী মুনমুন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া। মানপত্র পাঠ করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক খান আফিফা লুনা। স্বাগত বক্তব্য দেন মেঘদূতের সাধারণ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক তাহেরা আফরোজ।

 

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

শিল্পীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ‘রূপবান’ খ্যাত চিত্রনায়িকা সুজাতা আজিম। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করে শোনান মেঘদূত লেখক পর্ষদের সদস্য মাহবুবা হক, দীপন সরকার ও কামরুল ইসলাম চৌধুরী।

ষাট ও সত্তর দশকে ফওজিয়া ইয়াসমিনের গাওয়া বিভিন্ন গান নিয়ে হাজির হন এই যুগের শিল্পীরা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীর কন্যা রীনাত ফওজিয়া, বাঁধন ইয়াসমিন, তাপস ইকবাল, লুৎফুন নাহার পাখি, সাফিকা নাসরিন মিমি, রাবেয়া বসরী, এরশাদুর রহমান ও শিশু শিল্পী সামারা।

ষাটের দশকে আধুনিক বাংলা গানের জগতে দাপটের সঙ্গে যারা রাজত্ব করে বেড়িয়েছেন, তাদের মধ্যে ফওজিয়া ইয়াসমিন অন্যতম। আজ পুতুলের গায়ে হলুদ- কাল পুতুলের বিয়ে, মন তো নয় আর আয়না, এই ক্ষণ চলে যায় যাক না, মধু রাতি বুঝি চলে যায়, তুমি আসবে ভালোবাসবে, ও পাখি পরান খুলে গেয়ে যা, একি জ্বালা হইলো রে আমার, চলো না কোথাও ঘুরে আসি, যা যারে যা পাখি ইত্যাদি অনবদ্য গানগুলো তাঁর কণ্ঠ থেকেই শ্রোতার কানে পৌঁছেছে।

 

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ফওজিয়া ইয়াসমিন ২০০৬ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বার্ষিক গুণীজন সংবর্ধনা পান এবং ১৯৮৭ সালে অলক্ত সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার পান। তিনি প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নিলুফার ইয়াসমিন ও সাবিনা ইয়াসমিনের বড় বোন।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.