Thursday, May 28, 2026
spot_img
Home Blog Page 77

গোট মিল্ক সোপ : কী থাকে, ব্যবহার করবেন কেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

 

বর্তমানে সারাবিশ্বে গোট মিল্ক সোপ বা ছাগলের দুধের তৈরি সাবান বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হাতে তৈরি আয়ুর্বেদ এই সাবানটি প্রাকৃতিক উপাদানে ভরপুর। এতে কোনো ডিটারজেন্ট বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হয় না।

পাশাপাশি এতে ছাগলের খাঁটি দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে, যা দূষিত পদার্থ দূর করে ত্বককে পরিষ্কার করে। এই সাবানে আরও রয়েছে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড। এটি মৃত কোষের মধ্যকার বন্ধন ভেঙে মৃতপ্রায় অংশকে তুলে ত্বককে আরেও প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল করে।

গোট মিল্ক সোপের অনেক গুণ রয়েছে জানিয়ে আয়ুর্বেদিক রূপ বিশেষজ্ঞ সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ১, বি ৬, বি ১২, সি, ডি, ই, প্রভৃতি। এ ছাড়া রয়েছে জিঙ্ক, কপার, আয়রন, সেলেনিয়াম ইত্যাদি খনিজ উপাদান। রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যামাইনো অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এনজাইম। এসব উপাদান শুধু শরীরের জন্য নয়, ত্বকের জন্যও জরুরি। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, ছাগলের দুধ খুব দ্রুত ত্বকের বাইরের আবরণ ভেদ করে গভীরে প্রবেশ করে এবং টিস্যুগুলোতে পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগায়।’

ছাগলের দুধ নিজেই এক প্রকার নমনীয়কারী অথবা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ত্বককে কোমল, মসৃণ ও নমনীয় রাখতে আর্দ্রতার বাঁধ তৈরি করে। এতে থাকা প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারিন ত্বকের আর্দ্রতা খুব ভালোভাবে বজায় রাখে। এই সাবান ক্রিমের মতো ত্বকের বহিরাবরণ ভেদ করে, খুব সহজেই আন্তঃকোষীয় ফাটলে এবং ফাঁকা স্থানে পৌঁছায়। এতে ত্বক নমনীয় থাকতে উপকার হয়।

‘অল্প বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে এই সাবান বেশ কার্যকর। এই সাবান শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (যেমন : ভিটামিন এ, সি ও ই) সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরকে ফ্রি রেডিক্যালের ধ্বংসাত্মক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি ত্বকের বহিরাবরণের মৃত কোষের আস্তরণ দূর করে এবং এর নিচে নতুন কোষের আস্তরণ তৈরি করে’- বলছিলেন আয়ুর্বেদিক রূপ বিশেষজ্ঞ সাদিয়া ইসলাম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোট মিল্ক সোপ ব্যবহারে ত্বকের ব্রণ বা ফসকুড়ি দূর হয়। এর মধ্যে থাকা মিল্ক প্রোটিন অসাধারণ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এটি ফুসকুড়ির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে এবং ত্বকে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

গোট মিল্ক সোপ নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের প্রদাহ থেকে মুক্তি মেলে। ছাগলের দুধে চর্বির অণু থাকায় এটি শক্তিশালী প্রদাহরোধী হিসেবে অন্যতম। পাশাপাশি এতে কোনো অতিরিক্ত রাসায়নিক যোগ করা হয় না। সুতরাং, যে কেউ (এমনকি স্পর্শকাতর ত্বকের মানুষ) অস্বস্তি অথবা প্রদাহের দুশ্চিন্তা ছাড়াই এটি ব্যবহার করতে পারে।

ত্বকের সংক্রমণ প্রশমনেও এই সাবানের জুরি নেই। এতে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, এই উপাদানে প্রস্তুত সাবান খুব সহজেই ত্বকের সংক্রমণ (যেমন : রোসেসিয়া, একজিমা, সোরিয়েসিস ও ডার্মাটাইটিস) দ্রুত প্রশমিত করে।

‘গোট মিল্ক সোপ আমাদের ত্বকের পিএইচ (pH)–এর ভারসাম্য চমৎকারভাবে বজায় রাখে। দেখা গেছে, ছাগলের দুধে ক্যাপ্রিলিক অ্যাসিড নামের ফ্যাটি রয়েছে। এটি সাবানের পিএইচ-এর ভারসাম্য প্রায় ত্বকের প্রাকৃতিক pH–এর খুব কাছাকাছি ধরে রাখে। এতে আমাদের ত্বক সাবান থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণে পুষ্টি শোষণ করতে পারে এবং সফলভাবে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করে। ছাগলের দুধ আলফা হাইড্রক্সিল অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং নতুন কোষ বৃদ্ধিতে উদ্দীপনা জোগায় ৷ এটি ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামত করে তারুণ্য ও প্রাণবন্তভাব বজায় রাখে’- বলেন আয়ুর্বেদিক রূপ বিশেষজ্ঞ সাদিয়া ইসলাম।

বর্তমানে বাজারে এই ধরনের সাবান নিয়ে এসেছে অর্গানিক পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান আকসা। এই সাবান ত্বককে নমনীয় করে, গভীর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।

ডেঙ্গু জ্বর : কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিশেষ করে গরম ও বর্ষায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। ডেঙ্গু ভাইরাস চার ধরনের। তাই এই জ্বরও চারবার হতে পারে। তবে যারা আগেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে রোগটি হলে মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি ঘটে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এই জ্বর সাধারণত নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসা যথেষ্ট। তবে জ্বর এলে এবং কিছু লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যেমন :
• প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে
• জন্ডিস দেখা দিলে
• অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে
• প্রচণ্ড পেটে ব্যথা বা বমি হলে
• শরীরের যেকোনো অংশে রক্তপাত হলে
• প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে
• শ্বাস কষ্ট হলে বা পেট ফুলে পানি আসলে ।

লেখক : মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
অধ্যাপক এমিরিটাস, ইউজিসি অধ্যাপক
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

টক্সিক মানুষ চেনার ৮ উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

জীবনে এমন কাউকে কি দেখেছেন, যে খুব গুছিয়ে মিথ্যা বলে? সেটা আপনি ধরে ফেললে উল্টো তর্ক জুড়ে দেয় এবং ভুল শুনেছেন বা সে এই রকম কথা বলতেই পারে না- এসব বলে দ্বিধান্বিত করার চেষ্টা করে?

অথবা, এমন কেউ কি রয়েছে, যে সারাক্ষণ আপনাকে সূক্ষ্মভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে এবং আপনার আত্মবিশ্বাসকে একদম তলানিতে নিয়ে ঠেকায়? তাহলে, আপনি একজন টক্সিক বা বিষাক্ত ব্যক্তির সঙ্গে রয়েছেন। এই ধরনের মানুষ অপর ব্যক্তিকে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভীষণ নির্যাতনের মধ্যে রাখে। আর অন্যকে নির্যাতন করে, অবদমিত করে, সে মানসিক প্রশান্তি ও তৃপ্তি পায়। এসব টক্সিক ব্যক্তি চেনার আরো উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি।

  •  আপনি হয়তো সব কাজই ঠিকঠাক মতো করছেন, তারপরও অনুভব করছেন, মানুষটি আপনাকে অসম্মান ও অবদমন করার চেষ্টা করছে। বা সে হয়তো কাজটি নিজে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে দোষ আপনার ঘাড়ে চাপাচ্ছে।
  • তার আচরণে আপনি সবসময় দ্বিধান্বিত থাকবেন। অর্থাৎ সে আপনাকে দ্বিধান্বিত করে রাখবে।
  • ব্যক্তিটির আচরণে মনে হবে, আপনি এমন কোনো ভুল করে ফেলেছেন, যেটা ক্ষমার অযোগ্য।
  • তার কাছে আপনি কখনো সম্পূর্ণ স্বস্তি অনুভব করবেন না।
  • তার উপস্থিতিতে নিজেকে সবসময় নিচু ও হীন অনুভব করবেন।
  • টক্সিক ব্যক্তি সারাক্ষণ অন্যের কাছে নিজের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করতে থাকে।
  • তাদের আচরণে কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না। আপনি বুঝতেই পারবেন না, তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে যাচ্ছে।
  • নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তারা যেকোনো পর্যায়ে নামতেও দ্বিধা করে না।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ জেনে নিন

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ
ডেঙ্গু প্রধানত দুই ধরনের। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভার ও হেমোরেজিক ফিভার। ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে এবং এই ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে হয়।

লক্ষণ
• ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়।

• জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়।

• শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হয় যে মনে হয় হাঁড় ভেঙে যাচ্ছে। তাই এই জ্বরের আরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’।

• জ্বর হওয়ার চার বা পাঁচদিনের সময় সারা শরীরজুড়ে লালচে দানা দেখা যায়। যাকে বলা হয় স্কিন র‍্যাশ, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে।

• রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়।

• কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এর দুই বা তিনদিন পর আবার জ্বর আসে। একে ‘বাই ফেজিক ফিভার’ বলে।

ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর

এই অবস্থাটা সবচেয়ে জটিল। এই জ্বরে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরো সমস্যা হয়। যেমন :

• শরীরে বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়। যেমন : চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সাথে, রক্ত বমি, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে এবং চোখের বাইরে রক্ত পড়তে পারে। মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেকদিন পর্যন্ত রক্ত পড়তে থাকা ইত্যাদি হতে পারে।

• এই রোগের বেলায় অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডেঙ্গু শক সিনড্রোম

ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াভহ রূপ হলো ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়। এর লক্ষণ :

• রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া।
• নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হওয়া।
• শরীরের হাত-পা ও অন্যান্য অংশ ঠান্ডা হয়ে যায়।
• প্রস্রাব কমে যায়।
• হঠাৎ করে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে।
• এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

লেখক : মেডিসিন বিশেষজ্ঞ,
অধ্যাপক এমিরিটাস, ইউজিসি অধ্যাপক
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

নিজের গুরুত্ব কীভাবে বাড়াবেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
নিজের গুরুত্ব কীভাবে বাড়াবেন- সে বিষয়ে জানার আগে, আসুন জেনে নিই, কেন এটি বাড়াবেন। গুরুত্ব বাড়লে আপনার আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদাবোধ তো বাড়বেই। এক ধরনের সুখানুভূতিও হবে। আর একজন মানুষের জীবনে চলার পথে বিষয়টি কিন্তু বেশ প্রয়োজনীয়।

যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ান
কথা দিয়ে মানুষকে তীব্র আঘাত করা যায়; আবার কথা দিয়েই বাঁচিয়ে তোলা যায়। মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করা যায় এই মাধ্যমটির মধ্য দিয়েই। আর অন্যের কাছে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করতে চাইলেও কথা দিয়েই সেটি করতে হয়। তাই কথা বলার মধ্য দিয়ে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ান। সতর্ক থাকুন, কারো সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে কোন টোনে, কীভাবে কথা বলছেন-এ বিষয়ে।

চোখের দিকে তাকান
কাউকে ভালোভাবে বোঝার জন্য এবং নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য অন্যের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে কথা বলা আবেগীয় যোগাযোগের একটি শক্তিশালী উপায়। এতে বোঝা যাবে আপনি অনেক আকর্ষণীয়, মজার ও আত্মবিশ্বাসী। আর এতে
অন্যের কাছে আপনার গুরুত্বও বাড়বে।

অন্যকে সম্মান দিন
নিজেকে অন্যের কাছে সম্মানিত করতে চাইলে, অপরকে সম্মান দিতে শিখুন। ধরুন, একটি রেস্টুরেন্টে খেতে গেলেন। ওয়েটারকে ‘তুই’ সম্বোধন করছেন বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন। ভাবুন তো, এতে আপনাকে যে দেখছে বা শুনছে, তার কাছে আপনার সম্মান বাড়ছে, না কি কমছে? কোনো মানুষ আপনার চেয়ে যত ছোট কাজ করুক বা যত বড় কাজই করুক না কেন, সম্মান দিয়ে কথা বলুন। নিজেও সম্মান পাবেন।

নাম ধরে সম্বোধন করুন
কাউকে নাম ধরে ডাকার অর্থ হলো, তাকে আপনি মনে রাখছেন; বিশেষভাবে চিন্তা করছেন ও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে সেও আপনাকে গুরুত্ব দেবে।

মেরুদণ্ড সোজা রাখুন
কথা বলার সময় সঠিক অঙ্গবিন্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারো সঙ্গে আলাপচারিতার ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড অবশ্যই সোজা রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলুন।

দক্ষ হয়ে উঠুন
যেই কাজটি করছেন তাতে অবশ্যই দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। এমনভাবে নিজেকে তৈরি করতে হবে, যেন এই কাজটি করার আগে মানুষ একবার হলেও আপনার কথা চিন্তা করে।

সৎ থাকুন
সর্বোপরি যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে সৎ থাকুন। কথা দিয়ে কথা রাখুন। যেই কাজটি আপনার পক্ষে করা সম্ভব নয়, সেটি বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ করে দিন। সৎ মানুষের গুরুত্ব সবসময়ই বেশি।

ঈদে যেভাবে সাজবেন রূপ বিশেষজ্ঞ শারমিন কচি

আলেয়া শারমিন কচি

ঈদের আগের চাঁদ রাতটা আমার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক রাত পর্যন্ত আমার নিজস্ব বিউটি স্যালনে থাকতে হয়। ক্লাইন্ট থাকে। বেশ রাত পর্যন্ত কাজ করি। তবে কোরবানির ঈদে যেহেতু কাজ একটু বেশি থাকে, তাই আগের দিনই মিষ্টান্ন রান্না করে ফেলি।

ঈদের দিনটিতে কিছুটা হলেও নিজের মতো উপভোগের চেষ্টা করি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রস্তুত হয়ে নিই। ঘরের ছেলেরা নামাজের জন্য বের হলে, গোসল সেরে তৈরি হয়ে নিই। নতুন পোশাক পরে নিজেকে সাজাই। সকালে খুব বেশি মেকআপ নিই না। চুলকে খুব ভালো করে বাঁধি। এবারের ঈদে চুল উঁচু করে বেঁধে খোপা করতে পারি। চুলকে পনি টেল বা ফোল্ড করে পাঞ্চও করে নিতে পারি।

রোজার ঈদে সকালে সাধারণত শাড়ি পরি। তবে কোরবানির ঈদে একটু ব্যতিক্রম হয়। এবার কাফতান বা কুর্তি পরবো। এতে কাজ করতে সুবিধা হবে। গরমও কম লাগবে। স্বস্তি পাবো। সাদা আমার পছন্দের রং। ঈদের সকালে সাদা রঙের পোশাক গায়ে জড়াবো।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সকালে খুব হালকা করে সাজবো। একদম ন্যাচারাল। প্রথমে মুখ ডাবল ক্লিন করে ময়েশ্চারাইজার দেবো। এরপর টোনার দিয়ে ফেস পাউডার ব্যবহার করবো। যেহেতু কোথায় যাবো না এবং আমার সূর্যের আলোতে বের হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই সানব্লক এড়িয়ে যাবো। পাশাপাশি ফাউন্ডেশনও ব্যবহার করবো না। ফেস পাউডার দেওয়ার পর চিকবোনে টিনট ব্লাশ ব্যবহার করবো। চোখে হালকা বাদামি একটি শেড দেবো। এতে ডার্ক সার্কেল থাকলেও দেখা যায় না।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

এরপর কাজল পরবো। আমার খুব ভালো লাগে ব্লাশন ও হাইলাইটার। চিকবোনে, ব্লাশন এলাকাতে হাইলাইট করবো। এ ক্ষেত্রে নুড হাইলাইটার আমার প্রথম পছন্দ। সকালে ন্যুড রঙের ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করবো।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাতের সাজটা একটু ভারী হবে। সাধারণত ঈদের রাতে একটু গাঢ় রঙের পোশাক পরতে পছন্দ করি। এবার কালো ও মেরুন রঙের মিশ্রণে শাড়ি পরবো। এরপর সারাদিনের কাজ শেষে হয়তো একটু বাইরে বের হবো বা বাসায় অতিথি আসতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

তো নিজেকে তৈরি করবো। আবারও গোসল করে নেবো। ত্বকে ময়েশ্চারাইজার দিয়ে টোনার লাগাবো। এরপর ত্বকের টোনের সঙ্গে মিলিয়ে খুব হালকা একটি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবো। ফেস পাউডার দিবো। ব্লাশন লাগাবো। চোখে গাঢ় করে কাজল দেবো। আইলিডকে স্মোকি করার চিন্তা রয়েছে। যেহেতু সকালে হালকা সেজেছি, তাই রাতে একটু ভারী করে সাজবো। চুল ছেড়ে দেবো। নিচে চুলে একটু বাউন্স করে নেবো। এভাবেই নিজেকে সাজাবো ঈদের দিন।

– রূপ বিশেষজ্ঞ, বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ার

ঈদের রেসিপি : রেজালার ভিন্ন রেসিপি

নাফিসা ইসলাম লিপি
খাসির মাংসের হোক অথবা গরুর মাংসের, ঈদের খাবারে একবেলা হলেও রেজালা চাই। মাখো মাখো, ঝোল ঝোল- ধরনের এই খাবারটি রসনার বাসনার তৃপ্তি মেটাতে যথাযথ। রেজালার ভিন্ন একটি রেসিপি রইলো পাঠকদের জন্য-

উপাদান
মাংস – ৫ কেজি
তেল – ৫০০ গ্রাম
আদা বাটা – ১০০ গ্রাম
রসুন বাটা – ১০০ গ্রাম
পেঁয়াজ – ১ কেজি
শুকনো মরিচ বাটা – ১০০ গ্রাম
টক দই- ২০০ গ্রাম
হলুদ গুঁড়া – ৫ গ্রাম
দারুচিনি – ২৫ গ্রাম
এলাচ – ১০ গ্রাম
গোল মরিচ গুঁড়া – ১০ গ্রাম
জায়ফল গুঁড়া – ২ টা
জয়ত্রী – সামান্য
তেজপাতা – ৫ থেকে ৭টি
জিরা – ৫০ গ্রাম

যেভাবে তৈরি করবেন
মাংসের সঙ্গে তেল সহ সব মসলা মাখিয়ে নিন। শেষে টকদই মাখুন। চুলায় বসিয়ে রান্না করে একদম শেষে জিরা, গোল মরিচ গুঁড়া, এলাচ গুঁড়া, দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে দিন। দমে রেখে কিছুক্ষণ পর নামিয়ে পরিবেশন করুন।

লেখক
রন্ধনশিল্পী

ঈদের রেসিপি : জালি কাবাব

নাফিসা ইসলাম লিপি
জালি কাবাব বেশ মুখরোচক একটি খাবার। আর এটি তৈরি করাও বেশ সহজ। ঈদের সময় অতিথি আপ্যায়নে ঝটপট তৈরি করতে পারেন এই কাবাবটি। রইলো রেসিপি-

উপাদান
মাংস কিমা – ৫০০ গ্রাম
টমেটো সস – ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা – ১ চা চামচ
রসুন বাটা – আধা চা চামচ
হলুদ গুঁড়া -১/৪ চা চামচ
এলাচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
দারুচিনি গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
গোল মরিচ গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
পেঁয়াজ কুচি – ২ টেবিল চামচ
কাঁচা মরিচ কুচি – ১ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
জিরা গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ
ধনে পাতা কুচি -১ টেবিল চামচ
পাউরুটি – ১ পিস
ডিম -১ টি
লবণ – পরিমাণ মতো
বিস্কুটের গুঁড়া- ২ টেবিল চামচ

যেভাবে তৈরি করবেন

সব উপাদান একসঙ্গে মাখিয়ে, কাবাবের আকার গড়ে, বিস্কুটের গুঁড়ায় গড়িয়ে, পানি মিশ্রিত ডিমে চুবিয়ে ডুবো তেলে ভাজতে হবে।

লেখক
রন্ধনশিল্পী

ঈদের রেসিপি : হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি

নাফিসা ইসলাম লিপি

বিরিয়ানির কথা শুনলেই অনেকের জিভে জল চলে আসে। আর সেটা হায়দ্রাবাদি হলে তো কথাই নেই ! ঈদের এই উৎসব-আনন্দে খাবারের টেবিলে থাকুক হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি।

উপাদান
খাসির মাংস – ১ কেজি
বাসমতি চাল – আধা কেজি
আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা – আধা টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়া – ১ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া – আধা চা চামচ
লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ
গরম মসলা গুঁড়া – ১ টেবিল চামচ
কাঁচা মরিচ কুঁচি – ৪টি
লবণ – স্বাদ মতো
পেঁপের পেস্ট – ১ টেবিল চামচ
তেজপাতা – ১ থেকে ২টি
পুদিনি পাতা – ১ থেকে ২টি
পেঁয়াজ বেরেস্তা – ২ কাপ
পেঁয়াজ বেরেস্তা- ১ টেবিল চামচ
তেল – পরিমাণ মতো
ঘি- পরিমাণ মতো
টক দই- আধা কাপ
আস্ত গরম মসলা- প্রতিটি ৬ পিস

যেভাবে তৈরি করবেন

১. মাংসের পানি ঝড়িয়ে এতে আদা বাটা, রসুন বাটা, গরম মসলা গুঁড়া, লেবুর রস, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, লবণ, টক দই, পেঁপে বাটা, পুদিনা পাতা কুঁচি ও ধনে পাতা কুঁচি, ১ টেবিল চামচ বেরেস্তা দিয়ে ১২ ঘণ্টা মাখিয়ে রাখুন।

২. এবার একটি প্যানে আধা কাপ তেল দিয়ে ২ কাপ পেঁয়াজ বেরেস্তা করে রাখুন।

৩. চাল ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে আধা সিদ্ধ করে নিন।

৪. এবার পাতিলে তেল দিয়ে আস্ত গরম মশলা ফোঁড়ন দিয়ে এতে মাংস পাঁচ মিনিট কষিয়ে নিন। এরপর এতে সিদ্ধ করা ভাত, ঘি, জাফরান, পুদিনা পাতা ও ধনে পাতা কুচি দিন। আবার এর ওপর সিদ্ধ করা ভাত, ঘি, জাফরান, পুদিনা পাতা ধনে পাতা কুচি ও বেরেস্তা দিয়ে ৪০ মিনিট দমে রাখুন। দমে রাখার সময় মুখ আটা দিয়ে বন্ধ করে নিতে হবে। এবার নামিয়ে পরিবেশন করুন।

লেখক : রন্ধনশিল্পী

ঈদে গরুর মাংসের স্বাস্থ্যকর ২ রেসিপি

নিশাত শারমিন নিশি

লাল মাংস বা রেড মিটের অন্যতম উৎস গরুর মাংস। এ ধরনের মাংস অতিরিক্ত খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কোলেস্টেরল ইত্যাদি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে যেহেতু এটি ঈদ-উল- আজহা বা কোরবানির ঈদ, তাই এ ধরনের মাংস খাওয়া হয় প্রত্যেক ঘরেই।

সাধারণভাবে মাংস রান্না না করে, একটু ভিন্নভাবে প্রস্তুত করা হলে কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমে। গরুর মাংসের স্বাস্থ্যকর দুই রেসিপি রইলো পাঠকদের জন্য-

১. বিফ-ভেজ কাবাব

উপাদান

সিদ্ধ করা গরুর মাংস – তিন টুকরা ( ৯০ গ্রাম )
সিদ্ধ কাঁচা কলা – অর্ধেক
সিদ্ধ আলু – অর্ধেক
সিদ্ধ পটল – ৩ টা ( খোসা ও বিচি ফেলে)
সিদ্ধ কাঁচা পেঁপে – আধা কাপ
ধনে পাতা – পরিমাণ মতো
কাঁচামরিচ কুচি -পরিমাণ মতো
পেঁয়াজ বেরেস্তা – আধা কাপ
জিরার গুঁড়া- পরিমাণ মতো
গোলমরিচের গুঁড়া – সামান্য
চালের গুঁড়া – পরিমাণ মতো,
লবণ – স্বাদমতো
তেল – ১ টেবিল চামচ

যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে সকল সিদ্ধ করা সবজিকে ম্যাশ করে পরিমাণ মতো লবণ, জিরার গুড়া, কাঁচামরিচ কুচি ও ধনেপাতা দিয়ে নিতে হবে। এরপর সেদ্ধ করা গরুর মাংস হালকা বেটে মিহি করে নিন। বাটা গরুর মাংসের সঙ্গে ম্যাশ করা সব সবজি উপাদানগুলো একত্রে মিশিয়ে পেঁয়াজ বেরেস্তা ও গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে ছোট ছোট কাবাব তৈরি করে নিন।

কিছুক্ষণ চালের গুঁড়া দিয়ে ফ্রিজে রেখে এরপর ফ্রাইপ্যানে তেল ব্রাশ করে তাতে ভেজে নিলেই খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

২. বিফ-লেটুস র‌্যাপ্‌

উপকরণ

গরুর মাংস – ৬০ গ্রাম
মাশরুম – হাফ কাপ
লেটুস পাতা – চারটি
রেড বেলপেপার- হাফ
হলুদ বেলপেপার – হাফ
সবুজ বেলপেপার – হাফ
টমেটো কুচি – পরিমাণ মতো
কাঁচা মরিচ – পরিমাণ মতো
পেঁয়াজ – পরিমাণ মতো
লবণ- পরিমাণ মতো
লেবুর রস -পরিমাণ মতো
অলিভ অয়েল-পরিমাণ মতো

যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে গরুর মাংস ও মাশরুম সিদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর এগুলোকে ছোট ছোট টুকরা করে নিন। ফ্রাই প্যানে এক চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে এতে একে একে পেঁয়াজকুচি, টমেটো কুচি, লাল, হলুদ ও সবুজ ক্যাপসিকাম দিয়ে হালকা হালকা করে নাড়তে হবে। এর মধ্যেই লবণ যোগ করুন।

একটু নরম হয়ে গেলে সিদ্ধ করা গরুর মাংস ও মাশরুম দিয়ে আবারো একটু হালকা ভেজে নিন। নামানোর আগে কাঁচামরিচ দিয়ে পাত্রে ঢেলে নিতে হবে। এরপর হালকা লেবুর রস দিয়ে মেখে নিয়ে লেটুস পাতায় র‌্যাপ করে নিলেই খাওয়ার জন্য উপযুক্ত।

লেখক
নিশাত শারমিন নিশি
প্রধান পুষ্টিবিদ ও বিভাগীয় প্রধান
পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.