প্রচণ্ড গরমের দাবদাহ থেকে মুক্তি দিয়ে এক পশলা বৃষ্টির ঝাপটা যখন শরীরকে ছুঁয়ে যায়, তখন মনও হয় প্রশান্ত। তবে এই বৃষ্টির পানি কিন্তু ত্বকের ক্ষতিও ঘটাতে পারে।
এই পানিতে ধুলোবালি মেশা থাকে। আবার যেহেতু বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা একটা গরম রয়েছে- এই দুটোতে মিলে ত্বকে ফুসকুড়ি, ব্রণ, ফাঙ্গাসের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। বাদলা দিনে ত্বকের যত্নে কিছু পরামর্শ দিয়েছে জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট ফেমিনা। আসুন জানি-
বাদলা দিনে স্যাঁত স্যাঁতে ঘামে ত্বকে ময়লা বেশি আটকায়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে দিনে অন্তত তিনবার হালকা (মাইল্ড) কোনো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
ত্বকের যত্নে ক্লিনজিং ও ময়েশ্চারাইজিং অবশ্যই করতে হবে। প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার মাখুন।
ত্বক শুষ্ক হলে এগুলো পাশাপাশি ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এক্সফোলিয়েট করা জরুরি। কফির গুঁড়া নিয়ে মুখে ঘষতে পারেন। এতে মৃতকোষ দূর হবে। তৈলাক্ত হলে হট ওয়াটার ম্যাসাজ নিন। এতে ত্বক কোমল হবে।
খাদ্যাতালিকায় প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ , ও ভিটামিন সি জাতীয় (লেবু, গাজর, গ্রিন টি, পেয়ারা, শাক-সবজি ইত্যাদি) খাবার রাখুন। এতে কেবল বর্ষা নয়, সারা বছরই ত্বক ভালো থাকবে।
বর্ষাকালে পায়ের ত্বকের যত্নে পেডিকিউর অবশ্যই করতে হবে। পেডিকিউরের সময় না পেলে অন্তত ঘরে, সাবান/ শ্যাম্পু -পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন, ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এরপর স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।
ফুফুর একটি বুটিক হাউস ও একটি ছোট পার্লার ছিল। সেখানে ফুফুকে ক্রিয়েটিভ কাজ করতে দেখে খুব ভালো লাগতো আফরোজা আক্তারের। মনে হতো, বড় হয়ে সে-ও মেকআপ আর্টিস্ট হবে। হয়েছেও তাই।
বর্তমানে উজ্জ্বলা থেকে বেসিক মেকআপ ও রিবন্ডিংয়ের ওপর কোর্স করে সাভারে নিজেই একটি পার্লার দিয়েছে। মাসিক আয়ও ভালোই। এখন সে নিজেই একজন স্বাবলম্বী নারী ও উদ্যোক্তা। তার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পই রইল পাঠকদের জন্য।
স্বাবলম্বী হতে চেয়েছি সবসময়
সমাজে মেয়ে হয়ে জন্মানোর যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু অসুবিধা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বোধহয় অসুবিধাটাই থাকে। আর সেই মেয়ের জন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে হলে তো কথাই নেই। পাখির মতো যেন আর উড়া যায় না। আমার একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়ে জন্মেছে দেখে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকের কাছে আমি অপ্রিয়। সন্তানকে নিয়ে অনার্স শেষ করি। লেখাপড়া ও সন্তান- নিজ হাতে সামলাতে হয়েছে। কী যে কষ্ট ছিল! এর মধ্যেই নিজের পার্লার দিয়েছি। আসলে মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার ইচ্ছাতো ছোটবেলা থেকে ছিল। আর সবসময় চেয়েছি স্বাবলম্বী হবো।
বর্তমানে পার্লার থেকে যে টাকা আয় করছি, হয়তো এটা অনেকের জন্য কিছুই নয়। তবে এই টাকা দিয়ে আমি দুটো গরিব শিশুর পড়া খরচ চালাচ্ছি। আমার বাবা-মা কে সাহায্য করতে পারছি।
আফরোজা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
উজ্জ্বলা স্বাবলম্বী হতে শক্তি জুগিয়েছে
উজ্জ্বলার কথা আমি সর্ব প্রথম আমার বোনের কাছ থেকে শুনেছিলাম। সে-ই আমাকে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছিল উজ্জ্বলার পেজ-এ। এখান থেকে বেসিক মেকআপ ও বিউটিফিকেশনের কোর্স করেছি। এ ছাড়া ২০২৩ সালের জুন মাসে বিউটি সেক্টরে উদ্যোক্তা তৈরি করে নারীকে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভশীল করতে বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’ ও উজ্জ্বলার যৌথ উদ্যোগে সাভারে ১০ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেও প্রশিক্ষণ নিয়েছি।
উজ্জলা কেবল আমার জীবন বদলে দেয়নি বরং আমাকে নতুন জীবন তৈরি করতে সাহায্য করেছে। উজ্জ্বলা আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে, নতুন করে নিজের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করতে শিখিয়েছে; শিখিয়েছে কিভাবে সব বাধা-বিপত্তি ভেঙ্গে মেয়েদের সামনে এগিয়ে যেতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন ম্যাম, আমাদের মতো অসহায় মেয়েদের জন্য অনেক অনুপ্রেরণার জায়গা। তিনি আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে পথ দেখিয়েছেন। তাঁর কথা যত শুনি, ততই মুগ্ধ হই।
ক্যাপশন : সাভারে প্রশিক্ষণ শেষে আফরোজা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে
সব থেকে মজার কথা আমার মেয়ের সাত বছর বয়স। তবে এখন থেকেই বলে, বড় হয়ে সে-ও না কি মেকআপ আর্টিস্ট হবে। আমার মতো সব অসহায় মেয়েদের বলি, ‘নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য নিজেকে চেষ্টা করতে হবে। অন্যরা তোমাকে টেনে ধরে নিচে নামাবার চেষ্টা করবে। এতে ধৈর্য হারালে চলবে না। আল্লাহ তালাকে স্মরণ করে, নিজের কাজের প্রতি সৎ থেকে এগিয়ে যেতে হবে।’
ভবিষ্যতে এতিম বাচ্চাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছে রয়েছে। আর কখনো সুযোগ পেলে উজ্জ্বলাতে ফ্যাকাল্টি টিচার হতে চাই। একজন আরো দক্ষ বিউটি আর্টিস্ট হবো এটাই প্রত্যাশা।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৬৩তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বন্ধুত্বের দিন তো প্রতিদিনই। তবুও বন্ধুদের জন্য, বন্ধুদের সঙ্গে একটা দিন বিশেষভাবে পালন করা যেতেই পারে। তাই এই সুন্দর সম্পর্ক উদযাপনের জন্য প্রতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার ফ্রেন্ডশিপ ডে উদযাপিত হয়ে আসছে।
বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা বিনিময় হতে পারে, গ্রিটিংস কার্ডে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার মেসেজ ও স্ট্যাটাস দিয়ে। পাশাপাশি প্রিয় বন্ধুটিকে অন্য কোনো বিশেষ উপহার দিতে পারলে কেমন হয়? দিতে পারেন, অর্থবহ কোনো উপহার।
আসছে বন্ধু দিবস উপলক্ষে বন্ধুকে দিতে পারেন, পছন্দের কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো উপহার। যেমন : নোট বুক, ওয়ালেট, পার্স, সুভেনির, হোম ডেকর আইটেম, জুয়েলারি, ফটো ফ্রেম অথবা এলবাম, মগ, ফ্লাওয়ার ভাস, পারসনাল কেয়ার অথবা প্রসাধনী ছাড়াও অনেক কিছু। বন্ধু বই পড়তে ভালোবাসে, হাতে তুলে দিন আপনার পছন্দের কোনো বই কিংবা তার পছন্দের লেখকের বই। এখন কে ক্র্যাফটেও মিলবে এমনই পছন্দের বইয়ের সংগ্রহ।
ছবি : কে ক্র্যাফট
আবার বিশেষ অনেক উপহারই দেওয়া যায়। মেয়ে বন্ধু হলে সুন্দর রুচিশীল কোনো পোশাক কিনে দেওয়া যেতে পারে। যেমন : সালওয়ার-কামিজ, টিউনিক, কুর্তি, টপস, শাড়ি। আর ছেলে বন্ধুর ক্ষেত্রে ফরমাল শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়া। দিনটিকে আরো বেশি স্মৃতিময় করে তুলবে বিশেষ এই উপহার।
যেকোনো উপহার সামগ্রী পেতে ঘুরে আসতে পারেন কে ক্র্যাফট এর শো-রুমে। নিজের হাতে দেওয়া সম্ভব না হলে বা কেউ দূরে থাকলে, উপহারটি কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতে পারেন বন্ধুর ঠিকানায়। এর জন্য অর্ডার করতে পারেন kaykraft.com থেকে।
শাশ্বতী মাথিন
এই বছর ডেঙ্গুতে মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং রোগীর শারীরিক অবস্থারও দ্রুত অবনতি ঘটছে। ডেঙ্গুর লক্ষণেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এডিস মশার কামড়ে হওয়া এই ভাইরাস জনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে তাই সচেতন ও সতর্ক থাকা জরুরি বলে পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।
ডেঙ্গুর পরিবর্তিত লক্ষণ
‘সাধারণত এই জ্বরের প্রধান লক্ষণ- তীব্র জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, তীব্র শরীর ব্যথা, র্যাশ বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাল লাল দানা হওয়া। এ ছাড়া দাঁতের মাড়ির গোঁড়ায়, মাসিকের রাস্তায়, প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তায় রক্তপাত হতে পারে’- বলছিলেন হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক সালেহ আহমদ।
এই রোগে রক্তে অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট নামক উপাদান কমে যায়। তাই দেহের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বাঁধে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ডেঙ্গুর লক্ষণের পরিবর্তনের বিষয়ে ডা. সালেহ আহমদ বলেন, ‘বর্তমানে যেই লক্ষণগুলো ডেঙ্গুতে প্রকাশ পাচ্ছে, সেগুলো হলো- তীব্র মাথাব্যথা, তীব্র পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানা, শারীরিক দুর্বলতা। এমনকি জ্বর না থাকলেও এসব লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।’
প্রতিরোধ
ডেঙ্গু হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। মশারির ভেতর থাকতে হবে। চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। চৌবাচ্চা, টায়ার, পানির টব, বালতি ইত্যাদিতে জমাট পানি রাখা যাবে না। দেহের যেকোনো সমস্যায় একজন রেজিস্ট্রার চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, বলে পরামর্শ তাঁর।
মোদ্দা কথা, ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আর রোগ হয়ে গেলে লক্ষণগুলো দিকে খেয়াল রেখে, দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ রেজিস্ট্রার চিকিৎকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আমাদের ত্বকের উপরিভাগে বাতাস চলাচলের জন্য ছোট কিছু ছিদ্র থাকে। ইংরেজি পরিভাষায় এর নাম ‘পোর’। এগুলো সাধারণত বাইরে থেকে দেখা যায় না। তবে যাদের তৈলাক্ত ত্বক, ত্বক থেকে অতিরিক্ত সেবাম বের হয়, যারা বেশি মেকআপ করে বা মানসিক চাপে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এগুলো বড় হয়ে যায়। এতে সৌন্দর্যহানী ঘটে।
এই পোর ছোট করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী উপাদান হলো, এসেন্স। এসেন্স পোরকে মিনিমাইজ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অ্যাপল স্টেম সেল, নিয়াসিনামাইড, অ্যালোভেরা ইত্যাদিও পোর মিনিমাইজার হিসেবে উপকারী।
ত্বকের পোর ছোট করতে এসেন্স ও অন্যান্য উপাদানের গুরুত্বের বিষয়ে শিওরসেল মেডিকেল বিডি- এর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন বলেন, ‘যারা ত্বকের যত্ন বা স্কিন কেয়ার রুটিনে একটু বাড়তি কিছু যোগ করতে চান, তাদের জন্য আদর্শ উপাদান হলো, এসেন্স। ত্বকের যত্নের রুটিনে এসেন্স এখন অনেকেরই পছন্দের শীর্ষে। এতে থাকা উপাদান বা অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো হাইলি কনসানট্রেটেড ফর্মুলায় থাকে। তবে খুব লো মলিকুলার ওয়েটে, খুব পাতলা ও ওয়াটারবেস হিসেবে পাওয়া যায়। এসব উপাদান ওয়াটারবেজ হওয়ার কারণে খুব সহজে ত্বকে মিশে যায়। এগুলো ত্বকের পানি ধরে রাখে এবং ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে। আমাদের আবহাওয়ায় যেহেতু হিউমিডিটি বেশি, তাই এগুলো বেশ উপকারী। সারা বছর ধরেই এসেন্স ব্যবহার করা যায়।’
এ ছাড়া অ্যালোভেরার গুণাগুণ তো প্রায় সবারই জানা। একই সঙ্গে এটি ময়েশ্চারাইজার ও ত্বকের প্রদাহ দূরীকরণে কাজ করে। নিয়াসিনামাইড তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি টনিক। এ ছাড়া এটি ত্বক উজ্জ্বল করতে উপকারী। পাশাপাশি এটি সেবাম নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। ল্যাকটিক এসিড এক ধরনের এক্সফোলিয়েটর। সেই সঙ্গে ত্বক উজ্জ্বল করে। যে উপাদানটি সবচেয়ে বেশি টনিকের মতো কাজ করে, সেটি হলো, অ্যাপল স্টেম এসট্র্যাক্ট। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা ও কোলাজেন বাড়ায়। ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে- জানান ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন।
বর্তমানে বাজারে এসেন্স সমৃদ্ধ পোর মিনিমাইজার পন্য নিয়ে এসেছে বিউটি প্রোডাক্ট প্রতিষ্ঠান রিজুভা। এ ছাড়া পন্যটিতে রয়েছে অ্যাপল স্টেম সেল, নিয়াসিনামাইড, অ্যালোভেরা। পোর মিনিমাইজ করতে এই পন্যটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রিজুভার পোর মিনিমাইজার এসেন্সের ব্যবহার
ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে এসেন্স ব্যবহার করতে হবে। ত্বক তৈলাক্ত হলে, বাড়তি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলেও হয়তো চলবে। তবে যাদের ত্বক শুষ্ক ও স্বাভাবিক, যারা মনে করেন ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে, তারা এই এসেন্সের ওপর ব্যবহার করতে পারেন। ময়েশ্চারাইজার, সিরামের উপকারিতা বাড়িয়ে দেয় এটি উপাদান।
এসেন্সের পর আপনি সরাসরি সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন। অথবা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যায়। নাইট কেয়ার রুটিনে এসেন্সের ওপর নাইট ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার বা সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যে রাতে রেটিনয়েল বা স্লিপিং মাস্ক ব্যবহার করবেন, সে সময় এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
ক্লাস ওয়ান থেকে টু-তে উঠার সময় বাবা মারা যায় জেসমিন আরা মমর। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, মানসিক কষ্ট, সংসারকে এগিয়ে নেওয়ার লড়াই দেখতে দেখতে একটা সময় ভীষণভাবে মনে হয়, নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে; লেখাপড়া, কাজ সবকিছুতেই ভালো করা লাগবে।
বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক শেষ করেছেন। স্নাতকোত্তরে ভর্তি হবেন। পাশাপাশি বিউটি ফিকেশনের ওপর বিভিন্ন কোর্স করে ফ্রিল্যান্সিং করছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করেই তার মাসিক আয় হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এটি তাকে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সাহায্য করছে। এই মেয়েটির অদম্য মানসিক শক্তি ও জীবনে লড়াইয়ে গল্পই জানবো তার মুখ থেকে-
মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে
ছোটবেলা থেকে জীবনে প্রতিবন্ধকতাগুলো দেখেছি। এক সময় ভীষণ জেদ চেপে যায়। তখন থেকেই জানি, নিজের পায়ে দাঁড়ানো, পায়ের মাটি শক্ত করা একজন নারীর জন্য কতটা জরুরি। জীবনে যত বাধা এসছে, সেগুলো আমাকে আরো শক্ত করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আমার জেদ ছিল, সবভাবেই ভালো করতে হবে- লেখাপড়া হোক, কাজ হোক, যেকোনো কিছুতেই। এ জন্য আমি লেখাপড়াকে ঠিক রেখেছি। আর বিউটিফিকেশনের কাজটাকে ভালোবেসে মনোযোগ দিয়েছি।
যেখানে প্রশিক্ষণ
২০২৩ সালের জুন মাসে বিউটি সেক্টরে উদ্যোক্তা তৈরি করে নারীকে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভশীল করতে বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’ ও বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং সেক্টরের পথ প্রদর্শক উজ্জ্বলার যৌথ উদ্যোগে সাভারে ১০ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রশিক্ষণ নেন উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা ও রেড বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী বিউটি আর্টিস্ট আফরোজা পারভীন। সেখানে বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স করি।
এর আগে ২০১৫ সালে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে তিন দিনের একটি বিউটিফিকেশন কোর্স হয়। সেখানেও প্রশিক্ষণ নেন আফরোজা পারভীন ম্যাম। তার কাছে কাজ শিখেছি। বর্তমানে লেখাপড়ার পাশাপাশি ফ্রি ল্যান্সিংটা বেশ ভালোভাবে করে যাচ্ছি। বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার একটি আলাদা পরিচয় রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
বিউটিফিকেশনকে কেন পেশা হিসেবে চিন্তা করি?
আসলে এই চিন্তাটা আসে আসে কৈশোর থেকে। আমার ও আমার মায়ের গায়ের রং একটু গাঢ়। যখনই এলাকার কোনো পার্লারে সাজতে যেতাম, কয়েক শেড ফর্সা করে দেওয়ার চেষ্টা করতো। বললেও তারা শুনতো না। বিষয়টি আমাদের পছন্দ হতো না। তখন মনে হলো সাজ শেখাটা জরুরি। আবার একে তো পেশা হিসেবেও নেওয়া যায়। তাহলে একেই ভালোভাবে শিখি। সেই ভাবনা থেকেই শিখতে শুরা করা।
আর বিউটিফিকেশনকে সম্পূর্ণ পেশা হিসেবে তৈরি করতে যেই মানুষটি উৎসাহ দিয়েছেন তিনি আফরোজা পারভীন ম্যাম। আমি তাকে খুব অনুকরণ করি। আমার বিউটিফিকেশনের ধারণায় আমূল পরিবর্তন, নিয়ে এসেছেন তিনি। মেকআপের প্রতি যে ভালোবাসা তার শতভাগ অবদান আফরোজা পারভীন ম্যামের। কোর্সগুলোতে মেডাম সবটা ঢেলে শিখিয়েছিলেন। শুরুর দিকে যা যা দরকার, তার সবটাই তিনি শেখান। এসব কোর্স করে শিখেছিলাম, অল্প প্রোডাক্ট দিয়ে কীভাবে গর্জিয়াসভাবে সাজা যায়।
যেহেতু আমি শিক্ষার্থী, আর আমার কাছে ব্যবসার জন্য মূলধন তেমন ছিল না, তাই একটু একটু করে টাকা দিয়ে প্রোডাক্ট কিনে, সেগুলো দিয়ে সাজিয়ে টাকা আয় করে আরো প্রোডাক্ট কিনেছি। এই বিষয়টিও তিনিই শিখিয়েছেন। আজ যতটা কাজ জানি তার সম্পূর্ণ ক্রেডিট উজ্জ্বলার।
ভবিষ্যতে মেকআপ স্টুডিও করার ইচ্ছা। এখনতো কাজটি আমার পার্টটাইম করছি। পরে একে ফুলটাইম নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৬২তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে। ডেঙ্গু হলে সবচেয়ে জটিল যে সময়টি আসে, তা হলো প্লাটিলেট কমে যাওয়া। প্লাটিলেট কমে গিয়ে র্যাশ বা ত্বকের লাল ছোপ ছোপ দাগের পাশাপাশি বিশেষ ধরনের রক্তক্ষরণ দেখা দিলে তাকে হেমোরেজিক ডেঙ্গু বলে।
অনেকের ধারণা, প্লাটিলেট বাড়াতে পেঁপে পাতার রস খাওয়া ভালো। তবে আসলেই কি তাই? রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস খেলে প্লাটিলেট বাড়বে, এমন কোনো তথ্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। ডেঙ্গু হলে প্লাটিলেট একটি নির্দিষ্ট সময় পর এমনিতেই বাড়ে। বিশেষ করে সেটি ষষ্ঠ বা সপ্তম দিন থেকে।’
ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল
ডেঙ্গুতে অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয় জানিয়ে ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘এই সময় বরং পেঁপে পাতার রস খেলে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’ ডেঙ্গু হলে যেকোনো অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা গ্রহণ থেকে দূরে থাকুন। এই সময় আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকার পরামর্শ তাঁর।
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু একটি ভয়াবহ রোগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জ্বর কয়েক ধরনের। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে হেমোরেজিক ডেঙ্গু ফিবার।
হেমোরেজিক ছাড়াও সাধারণ ডেঙ্গুতে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডায়াবেটিস রোগীর ডেঙ্গু হলে জটিলতা বাড়ে। তাই, ডায়াবেটিস রোগীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ সতর্ক হতে হবে।
ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের রেসিডেন্ট ইন কার্ডিওলজি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্জয় শীল জানান, ডেঙ্গু জ্বরে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যেহেতু যেকোনো অসুস্থতাই ঝুঁকিপূর্ণ, তাই এই ক্ষেত্রে জটিলতাও বেশি। আসলে ডায়াবেটিস রোগীর দেহের বাইরে বা দেহের অভ্যন্তরে অন্যান্যদের তুলনায় সংক্রমণ বেশি হয়। কারণ, রক্তে অতিরিক্ত সুগার থাকলে সেখানে ব্যকটেরিয়া ও অন্যান্য অরগানিজমগুলো খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে এবং সমস্যা জটিল হয়ে ওঠে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর জন্য কখনো কখনো ডেঙ্গু প্রাণঘাতী হতে পারে।
সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে জরুরি হলো, যেকোনোভাবেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জানিয়ে ডা. সঞ্জয় শীল বলেন, ‘বয়স, ওজন ও উচ্চতা অনুযায়ী আপনার চিকিৎসক শর্করার গ্রহণের যে টার্গেট (লক্ষ্য) নির্ধারণ করে দেবেন, সেটি মেনে চলুন। যারা ডায়াবেটিসের জন্য মুখের ওষুধ (মেটফরমিন) খাচ্ছেন, তারা সেটি বন্ধ করে ইনসুলিন নিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে মেটফরমিন খেলে রোগীর এসিডোসিস হতে পারে, যেটি প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ইনসুলিন ব্যবহার করতে হবে। ইনসুলিন ব্যবহার করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করাই ভালো।
এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসা-বাড়ি, আশপাশ পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। দীর্ঘদিনের জমানো পানি ফেলে দিন। রাতে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাবেন। এই সমটায় ফুল হাতা বা ফুল স্লিভ পোশাক পরুন। মশা নিয়ন্ত্রণে স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন- জানান তিনি।
বয়স বাড়তে থাকলে চুল পাকা বা সাদা হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই চুল পেকে যাওয়া স্বাভাবিক নয় এবং বিষয়টি অস্বস্তিরও। কিছু উপায় রয়েছে যেগুলো মেনে চললে এই সমস্যা রোধ করা সম্ভব। চুল পাকা ধীর করার কিছু উপায় জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
যেসব খাবারে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে, সেগুলো বেশি করে খান। যেমন : ফল, সবজি, লিন প্রোটিন। এগুলো চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অকালে চুল পাকা প্রতিরোধে উপকারী।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন
গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে অকালে চুল পাকার সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই সমস্যা প্রতিরোধে সিগারেট ছাড়তেই হবে।
মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা
দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ চুল পাকার সমস্যা বাড়ায়। তাই মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বেশ জরুরি। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, ধ্যান, সখের কাজের চর্চা ইত্যাদি করতে পারেন।
সূর্য থেকে চুলকে রক্ষা
সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মি চুলের ক্ষতি করে এবং চুল পাকার সমস্যা বাড়ায়। তাই এমন পন্য ব্যবহার করুন, যেগুলো সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেবে।
হালকা ধরনের পন্য ব্যবহার
হালকা (মাইল্ড) ধরনের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এতে চুল দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। এ ছাড়া স্ট্রেইটনার বা আয়রন জাতীয় জিনিস দিয়ে বেশি স্টাইল না করাই ভালো। এগুলো বেশি ব্যবহারেও ক্ষতি হয়।
সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ই, বি১২, বায়োটিন ইত্যাদি সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। এসব উপাদান চুলের জন্য উপকারী।
ডেঙ্গু এখন আমাদের দেশে নতুন কোনো অসুখ নয়। এই রোগের প্রকোপ আবারও বাড়ছে। এই রোগের লক্ষণ, ধরন, প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে অনেক আলাপ হলেও জনসচেতনতা বাড়েনি তেমন। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক কমেনি। এই রোগ নিয়ন্ত্রণেও আসেনি।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ- এই কথা আগেই জেনে গেছি। ভাইরাসটি ছড়ায় মূলত এডিস ইজিপ্টি বলে এক ধরনের মশার মাধ্যমে। এই মশারা আগে পুরোনো বদ্ধ পানিতে বাস করলেও এখন এদের ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ময়লা পানিতেও এদের জন্ম হচ্ছে।
ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল
ডেঙ্গুর লক্ষণ
জ্বর
ডেঙ্গু রোগীর জ্বর সাধারণত হয় আকস্মিক ও ধারাবাহিক (continuous fever) ধরনের। অনেকে মনে করেন ডেঙ্গুতে বোধ হয় উচ্চ মাত্রার জ্বর হয়। কথাটি আংশিক সত্য। ডেঙ্গুতে উচ্চ মাত্রার, নিম্ন মাত্রার, গায়ে গায়ে জ্বর, এমনকি জ্বর নাও থাকতে পারে।
জ্বর সাধারণত পাঁচ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়।
মাঝে দুই দিন জ্বরবিহীন থাকতে পারে এবং আবার ফিরে আসতে পারে। একে বলে ’স্যাডল ব্যাক ফিভার’।
মাথাব্যথা
• চোখ এবং চোখের কোটরে ব্যথা
• হাড়ে ও মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা
• শরীরে লাল দাগ বা র্যাশ। রক্তে প্লেটিলেট বা অনুচক্রিকা কমে গিয়ে এটা হয়।
• শরীর অস্বাভাবিক দুর্বলতা
• বমি, পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানাও কোনো কোনো সময় হতে পারে
• বিশেষ কোনো লক্ষণ ছাড়াও হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
লক্ষণভেদে ডেঙ্গুকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করি।
১. ডেঙ্গু ফিভার
২. হেমোরেজিক ডেঙ্গু
হেমোরেজিক ডেঙ্গুর দুই রকম পরিণতি হতে পারে। সাধারণ হেমোরেজিক ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। সাধারণ ডেঙ্গু ফিভার নিয়ে ভয়ের তেমন কারণ নেই। এটা সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বরের মতো নিজে নিজে ঠিক হয়ে যায়। সাধারণ ডেঙ্গু ফিভারেও প্লেটিলেট কমে যেতে পারে এবং র্যাশ বা ত্বকে ছোপ ছোপ লাল দাগ হতে পারে।
প্লেটিলেট কমে গিয়ে র্যাশ বা ত্বকের লাল ছোপ ছোপ দাগের পাশাপাশি বিশেষ ধরনের রক্তক্ষরণ দেখা দিলে তাকে হেমোরেজিক ডেঙ্গু বলে। এই বিশেষ ধরনের রক্তক্ষরণ বলতে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, রক্ত বমি হওয়া ইত্যাদি বোঝায়। সাধারণ হেমোরেজিক ডেঙ্গু নিয়েও আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কারণ নেই।
ডেঙ্গু জ্বরে ভাইরাসের অ্যান্টিজেনের কারণে শরীরের ইমিউন সিস্টেমের বিশেষ প্রতিক্রিয়ায় রক্তনালির ছিদ্র বড় হয়ে যায়। তখন রক্তনালি থেকে রক্তরস বা প্লাজমা বেরিয়ে আসে। একে বলে প্লাজমা লিকেজ। এই অবস্থায় প্রেশার কমে যায়, পালস দুর্বল হয়ে যায়, ফুসফুস ও পেটে পানি জমে ইত্যাদি। সেইসঙ্গে রক্তের হেমাটোক্রিট বা কোষীয় অংশের অনুপাত বেড়ে যায়। এ অবস্থাটিই মূলত ডেঙ্গুর জটিল অবস্থা।
তবে সবচেয়ে জটিল অবস্থা হলো ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। প্লাজমা লিকেজের কারণে ডেঙ্গু রোগীর যখন প্রেশার কমে যায়, নাড়ির গতি বেড়ে যায় ও নাড়ি দুর্বল হয়ে যায়, রোগী অচেতন হয়ে যায় বা অস্থির হয়ে যায়, তখন একে বলে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। এই অবস্থায় রোগীকে আইসিইউতে নিতে হয়। ডেঙ্গুর জটিলতা হিসেবে মস্তিষ্কে ইনফেকশন (এনসেফালোপ্যাথি), জিবিএসসহ জটিল স্নায়ুরোগ ও লিভার ফেইলিউরও হতে পারে। তবে এগুলো খুবই বিরল।
ছবি : সংগৃহীত
চিকিৎসা
জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামলই যথেষ্ট। এসপিরিন, ব্যথার ওষুধ নিষেধ। এগুলো রক্তক্ষরণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেবে।
অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজে আসে না। সুতরাং অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
রুচি অনুযায়ী খাবার খাবেন। তবে প্রচুর তাজা ফলের রস, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ইত্যাদি খাবেন। বাজারের প্রিজারভেটিভ দেওয়া জুস খাবেন না। প্রতিদিন আড়াই থেকে চার লিটার তরল খেতে হবে এই সময়।
বাচ্চাদের ঘন ঘন তরল খেতে দেবেন। প্রতিদিন প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১০০ মিলি তরল দিতে হবে। খেতে না পারলে শিরায় স্যালাইন দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন পানিশূন্য না হয়ে পড়ে।
প্লেটিলেট নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হবেন না। এক লাখের নিচে প্লেটিলেট কমে যাওয়া একটি রোগ লক্ষণ মাত্র। সাধারণত ২০ হাজারের নিচে না নামলে রক্তক্ষরণ হয় না, প্লেটিলেটও ভরতে হয় না। হাতের কাছে ডোনার রাখলেই হবে। এই সময় প্রতিদিন একবার প্লেটিলেটের মাত্রা দেখে নেবেন। অধিকাংশ রোগীরই প্লেটিলেট দেওয়া লাগে না। প্লেটিলেট কমে গিয়ে নিজে নিজেই আবার বাড়তে শুরু করে। একবার বাড়তে শুরু করলে তখন আর প্রতিদিন প্লেটিলেট পরীক্ষা করবার প্রয়োজন নেই। আমরা অজ্ঞতাবশত ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে সব মনোযোগ দিয়ে ফেলি এই প্লেটিলেট কাউন্টেই।
ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের জন্য প্লেটিলেট কমে যাওয়া খুব জরুরি কোনো শর্ত নয়। আসল শর্ত হলো প্লাজমা লিকেজের লক্ষণগুলো। হিমাটোক্রিট বেড়ে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, নাড়ির গতি দ্রুত ও দুর্বল হয়ে যাওয়া—এগুলোই হলো ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের প্রধান শর্ত।
ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের চিকিৎসা আইসিইউতে করতে হবে। এটি বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া। রোগীকে পুরোপুরি অবজারভেশনে রাখতে হয়। এখানেও মূল চিকিৎসা স্যালাইন। সক্রিয় রক্তক্ষরণ থাকলে প্লেটিলেট এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে রক্তের ভলিউম বাড়ানোর জন্য পুরো রক্তও দিতে হতে পারে।
প্রতিরোধ
মশার বাসস্থান ধ্বংস করাই হলো প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। বদ্ধ পানির আধারগুলো নষ্ট করে ফেলতে হবে। ফ্রিজের পানি, এসির পানি, টবের পানি পরিষ্কার করতে হবে নিয়মিত।
দিনে মশারি খাটিয়ে ঘুমাতে হবে।
অ্যারোসল ও অন্যান্য মশক নিধনকারী ব্যবস্থা অবলম্বন করুন।