সারাদিন বা সারা সপ্তাহ টানা কাজ করার পর সময় নিয়ে একটি ভালো গোসল শরীর ও মনকে তৃপ্ত করে। আর সেই ক্ষেত্রে ফ্লোরাল বাথ বা ফুলের নির্যাস দিয়ে গোসল করা হলে তো কথাই নেই। গরমে এটি যেমন আরাম দেবে, তেমনি ত্বকেরও উপকার করবে। ফ্লোরাল বাথের উপকার ও পদ্ধতি জানিয়েছে জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট ফেমিনা।
এই গোসল সৌন্দর্য বাড়িয়ে ত্বককে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে।
ফাঙ্গাস দূর করতে কার্যকর।
ফুলের সুবাস মানসিক প্রশান্তি আনে
এই গোসল ত্বকের ফাঙ্গাস কমাতে উপকারী। ছবি : সংগৃহীত
যেভাবে করবেন
ফ্লোরাল বাথ দুইভাবে করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে গোলাপ, বেলি, গাঁদা ফুল ভালো হবে। বাড়িতে গোলাপ ফুল দিয়ে গোসল করতে চাইলে অন্তত ১০ থেকে ১২ টি ফুল ব্যবহার করুন। আর বেলি বা গাঁদার ক্ষেত্রে আরো বেশি ব্যবহার করতে হবে।
পদ্ধতি ১
বাথটাবের ভেতর বা বালতিতে তিন থেকে চার ঘণ্টা অনেক ফুল একসঙ্গে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর সেই পানি দিয়ে গোসল করে নিন।
ফুলের সুবাস মানসিক প্রশান্তি আনে। ছবি : সংগৃহীত
পদ্ধতি ২
পানির মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফুল নিয়ে অল্প আঁচে জ্বাল দিন। এরপর সেই পানি ছেঁকে গোসলের পানিতে মেশান।
এবার ছাঁকার পর যেই ফুল বা ফুলের পাঁপড়ি তলানিতে জমে থাকে তাতে চিনি, কফি, জলপাইয়ের তেল মিশিয়ে স্ক্রাবার বানিয়ে গায়ে মাখুন।
২০ থেকে ২৫ মিনিট পর ফুলের নির্যাস মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করে নিন।
আটবার গর্ভপাত হয় ফারহানা খানের। মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েন, কোনো কাজ করতে উৎসাহ পাচ্ছিলেন না। তীব্র অবসাদ ও বিষণ্ণতা ভর করে শরীর ও মনে। একটি বুটিকসের ব্যবসা ছিল, ছিল ফ্রোজেন ফুডের ব্যবসা- বিষণ্ণতার কারণে সেসবও ছেড়ে দেন। শেষে স্বামীর আগ্রহে উজ্জ্বলায় এসে বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স শুরু করেন।
একটা/ দুটো করে ধীরে ধীরে সবগুলো কোর্স করে এখন ছোট পরিসরে একটি স্টুডিও স্যালন দিয়েছেন। ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান এসেছে তাঁর কোল জুড়ে। মানসিকভাবেও বেশ ভালোই আছেন। সংসার-সন্তান সামলাচ্ছেন, হয়েছেন উদ্যোক্তা। আয়ও হচ্ছে ভালোই। উজ্জ্বলায় তাঁর আসা এবং এখান থেকে শিখে স্বাবলম্বী হয়ে উঠার গল্প শুনবো তাঁর নিজের মুখে-
উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে ফারহানা খান। ছবি : সংগৃহীত
গর্ভপাত মানসিকভাবে ভেঙে ফেলেছিল
২০০৫- এর ডিসেম্বরে আমার বিয়ে হয়। তখন অনার্স পড়ি। আমার স্বামী সে সময় ছোট একটি চাকরি করে। শ্বশুর একজন চিকিৎসক ছিলেন। বিয়ের পর গর্ভপাতের কিছু ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আমাকে যেতে হয়।
প্রতি বছর গর্ভধারণ করতাম। তবে সেটা গর্ভপাত হয়ে যেতো। আমাকে একদম বিশ্রামে থাকতে হয়েছে অনেকদিন। এ কারণে তেমনভাবে কোনো কাজ করার উদ্যোগ নিতে পারিনি কখনো। লেখাপড়া চালিয়ে গেছি এর মধ্যে।
মাস্টার্স পাশ করার পর আমার শ্বশুড় বললেন ‘বৌমা কিছু করো’। সেখান থেকেই শুরু। স্বামীও বলতেন, ‘কিছু একটা করো’। তাদের উৎসাহতেই আমার এগিয়ে চলা। প্রথমে আমি বুটিকসের ব্যবসা শুরু করি, আমার নিজস্ব ডিজাইনে। সেটা প্রায় তিন বছর নিয়মিত করি। তখনও আমি দুবার গর্ভধারণ করি এবং একেবারে বেড রেস্টে চলে যাই। ছয় মাসও পেটে সন্তান টিকে ছিল। এরপর হতো আবার গর্ভপাত। খুব মন ভেঙে যেত। বিষণ্ণতায় চলে গেছিলাম। মা হতে পারছি না। কোনো কাজে উৎসাহ পাচ্ছি না। এই রকম করে বুটিকস বন্ধ করে দিলাম। এরপর আমার স্বামী উদ্যোগ নিল ফ্রোজেন ফুডের ব্যবসা করতে। দেড় বছর সেটা করি। সেটাও ছেড়ে দিই। এরপর আমার স্বামী জোর করে আমাকে উজ্জ্বলায় ভর্তি করল। স্বামীর আগ্রহে আমি এখানে ক্লাস করা শুরু করলাম। প্রথমে নিজের জন্যই করেছিলাম। পরে ছোট করে একটি স্টুডিও স্যালন দিই। স্বামীর আগ্রহ, উৎসাহ ও সাহসেই আমি কাজটা পুরোদমে শুরু করি।
উজ্জ্বলার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফারহানা খান। ছবি : সংগৃহীত
উজ্জ্বলার পরিবেশে গেলে ভালো লাগতো
আর উজ্জ্বলা আমার মানসিক শক্তি, সাহস জোগাতে অনেক সহযোগিতা করেছে। এখানে এলে, সবার সঙ্গে ক্লাস করলে মন ভালো হয়ে যেতো। কিছুক্ষণের জন্য সবকিছু ভুলে বেশ ভালো অনুভব করতাম। বিউটিফিকেশনের প্রাথমিক পর্যায়ের সবকিছু শিখেছি প্রতিষ্ঠানটি থেকে। পেয়েছি শিক্ষককদের সহযোগিতা। উজ্জ্বলা আমাকে পুণরায় স্বাবলম্বী হওয়ার সাহস জুগিয়েছে। আমার জীবনে যেই বিরতি পড়েছিল, সেটা কাটিয়ে উঠতে ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এখানে আরেকটি বড় অবদান রয়েছে আমার বড় বোনের। সে প্রায়ই দেশের বাইরে যায় এবং খুঁজে খুঁজে খুব ভালো পন্য নিয়ে আসে আমার জন্য। যেগুলো দিয়ে আমি কাজ করি। আর আমার শ্বশুড়বাড়ি থেকে সবসময় উৎসাহ পেয়েছি কাজ করতে। এ জন্য আমি খুব কৃতজ্ঞ।
উজ্জ্বলার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফারহানা খান। ছবি : সংগৃহীত
আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি
আমার সমস্ত আশা, স্বপ্ন আমার মেয়েকে ঘিরে। নিজে সাজ শেখার পর মনে হয়, তাকেও তো গুছিয়ে রাখতে পারব। নিজের মনের মতো করে সাজাতে পারব। এই ভাবনাটা আনন্দ দেয়। আমার পরিবারের মানুষও এখন আমাকে নিয়ে খুশি। তারা বলে, ‘বিউটিফিকেশনের সেক্টরে এসে আমি ভালো করেছি।’ মেয়ে একটু বড় হলে ইচ্ছে রয়েছে বড় করে স্যালন দেওয়ার। এখন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি, আমি একজন স্বাবলম্বী, উদ্যোক্তা নারী।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৬৪তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
যোগব্যায়াম বা ইয়োগা শরীর ও মনের জন্য উপকারী- এ তো সবারই জানা। তবে বর্তমান ব্যস্ত সময়ে অনেকেরই হয়তো ব্যায়াম বা যোগব্যায়ামের কাজটি করে উঠা হয় না। জানেন কি সারাদিনে কেবল ১০ মিনিট বের করে এটি করতে পারলেও পাবেন অনেক উপকার? ১০ মিনিটের যোগব্যায়ামের কিছু উপকারের কথা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ। চলুন জেনে নিই –
মানসিক চাপ কমায়
১০ মিনিটের একটি ছোট্ট যোগব্যায়ামের সেশনও আপনার মানসিক চাপ কমাতে বেশ কার্যকর। যেহেতু এই অল্প সময়ের ভেতরেও শ্বাসপ্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম করা হয়, তাই শরীর হয়ে উঠে শিথিল। পাশাপাশি যেহেতু মস্তিস্ক ভালোভাবে অক্সিজেন পায়, তাই মানসিক চাপও কমে।
শরীর সহজে নড়াচড়া করতে পারে
পেশির জড়তা কাটিয়ে শরীর নমনীয় করতে যোগব্যায়াম বেশ উপকার। এতে শরীর সহজে নড়াচড়া করতে পারে।
পেশির শক্তি বাড়ায়
যোগব্যায়াম করলে পেশির শক্তি বাড়ে। বিশেষ করে কোমর, হাত ও পায়ের পেশি যথেষ্ট মজবুত হয়। এমনকি প্রতিদিন কেবল ১০ মিনিটের যোগব্যায়াম করেও আপনি পেতে পারেন এসব উপকার।
দেহের ভারসাম্য ঠিক রাখে
নিয়মিত যোগব্যায়াম দেহের ভারসাম্য ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করে। এতে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের ব্যথা কমতে সাহায্য হয়।
মানসিক সংযোগ বাড়ায়
যোগব্যায়াম আমাদের মানসিক সংযোগ বাড়ায়। দুশ্চিন্তা, দৈনন্দিন কাজের চাপ, মানসিক অশান্তি, বিষণ্ণতা ইত্যাদি মস্তিষ্ককে ধোঁয়াশা করে দেয়। নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে এই ধোঁয়াটে ভাব কমে চিন্তাশক্তি পরিষ্কার হয়। এমনকি কেবল ১০ মিনিটেও পাবেন এই উপকার।
শক্তি বাড়ায়
অনেকেই রয়েছেন যাদের সারাদিনই ক্লান্ত বোধ হয়। কিছুতেই যেন এই ক্লান্তি দূর হয় না। তাদের নিরাময়ের অন্যতম উপায় যোগব্যায়াম। এতে অবসাদ কমে, দেহের শক্তি বাড়ে।
ভালো ঘুম
ভালো ঘুমের জন্য যোগব্যায়াম খুবই উপকারী। নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে ঘুম দ্রুত আসে এবং ঘুমের মানও বাড়ে।
ব্যথা কমে
নিয়মিত যোগব্যায়াম দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা কমাতে কার্যকর। এতে কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে থাকা ইত্যাদি সমস্যার সমাধান হয়।
শ্বাস- প্রশ্বাস ভালো করে
যোগব্যায়ামের সময় গভীর ও ভাসাম্যপূর্ণ শ্বাস নেওয়া হয়। এতে শ্বাসকষ্ট, ছোট শ্বাস, মানসিক চাপের কারণে দম নেওয়ার সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসে। মাত্র ১০ মিনিটেই যোগব্যায়ামের ভেতরেই রয়েছে এই উপকার।
সঠিক অঙ্গবিন্যাস
যোগব্যায়াম দেহের সঠিক অঙ্গবিন্যাসে উপকারী। শরীরের অঙ্গবিন্যাস সঠিক হলে দেহ নমনীয় হয় এবং অনেক সমস্যা থেকে রেহাই মেলে।
মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন কন্যা কণ্ঠশিল্পী ইয়াসমিন ফায়রুজ বাঁধনের মৌলিক গান ‘ও সাধের পঙ্খিরে’- এর মিউজিক ভিডিও।
গানটি নিয়ে শিল্পী বাঁধন বলেন, ‘আমার কণ্ঠে শ্রোতারা আধুনিক গান বেশি শুনেছে। তবে এই গানটি ফোক বা বাউল ধাঁচের। এক যুগ পরে এ ধরনের গান করলাম। গানের কথা ও সুর বেশ ভালো।’ শ্রোতারা গানটি পছন্দ করবেন এই আশাই করেন বাঁধন।
‘ও সাধের পঙ্খিরে’ গানটির সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন রেজওয়ান শেখ। গানটি লিখেছেন জহুরুল ইসলাম জনি। গানটি প্রকাশ হয়েছে, জনি মিউজিক স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেল থেকে।
সংগীত শিল্পী বাঁধন নিয়মিত গান করে যাচ্ছেন। তিনি বিশিষ্ট উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পী অনিল কুমার সাহার কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছেন। তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘প্রতিচ্ছবি’ প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। ইমপ্রেস অডিওভিশন থেকে প্রকাশিত এই অ্যালবামটি ছিল মা (সাবিনা ইয়াসমিন) ও মেয়ের যৌথ আয়োজন। এরপর ২০০৯ সালে ‘ফাল্গুণ হাওয়া’ নামে একটি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। থার্ড অ্যালবাম ছিল ‘রাগ-অনুরাগ’। ২০১৭ সালে মায়ের সঙ্গে আরেকটি অ্যালবাম প্রকাশ হয়। ইউটিউবে নিয়মিত গান প্রকাশ হচ্ছে তাঁর। এ ছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে গান করছেন।
বৃষ্টির সঙ্গে খিচুড়ির সম্পর্ক যেন চিরন্তন। বৃষ্টির দিনে বাঙালির ঘরে খিচুড়ি রান্না হবে না, তা কি হয়? আর এর সঙ্গে কষা খাসির মাংস থাকলে তো সোনায় সোহাগা। আজকে সাতকাহনের রান্নায় থাকছে এই দুটি লোভনীয় রেসিপি।
খিচুড়ি তৈরির উপকরণ
চিনিগুঁড়া চাল – ৫০০ গ্রাম
মুসুর ডাল – ৫০০ গ্রাম
সরিষার তেল – ১ কাপ
পেঁয়াজ কুচি – ১ কাপ (৩ টা বড়)
রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ
আদাবাটা – ২ টেবিল চামচ
কাঁচা মরিচ – ১০ থেকে ১২ টি অথবা স্বাদ মতো
লবণ – পরিমাণ মতো
হলুদ – পরিমাণ মতো
সাদা এলাচ – ৪ টি
দারুচিনি কাঠি – ২ ইঞ্চি সমান ২টি
তেজপাতা – ৪ টি
লং – ৪ থেকে ৫ টি
চিনি – সিকি চা চামচ
ঘি – ১ টেবিল চামচ
মরিচের গুঁড়া – স্বাদ মতো
কিশমিশ – ১০ গ্রাম
জিড়া গুঁড়া – ২ টেবিল চামচ
গোটা জিড়া – সামান্য পরিমাণ
গোটা শুকনা মরিচ – ৪ টি
পানি – ২ কেজি ( গরম )
যেভাবে তৈরি করবেন
১) প্রথমে চাল ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে রাখতে হবে।
২) ডাল ভিজিয়ে রাখতে হবে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। এরপর পানি ঝড়িয়ে রাখুন।
৩) তেল গরম করে তাতে গোটা জিড়া, শুকনো মরিচ, তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, লং দিন। এই মশলাগুলো একটু গরম হয়ে গন্ধ ছাড়লে এতে পেঁয়াজ দিয়ে হালকা বাদামি করে ভাজুন।
৪) পেঁয়াজ বাদামি হয়ে এলে এতে পানি ঝড়ানো শুকনো ডাল দিয়ে হালকা ভেজে নিতে হবে।
৫) ডাল ভাজা হয়ে আসলে, পানি ঝড়ানো চাল দিয়ে হালকা ভেজে নিয়ে বাকি সব মশলা দিয়ে কষিয়ে নিন ৷
৬) ডাল, চাল ও মশলা কষানো হয়ে গেলে ফুটানো গরম পানি দিয়ে কাঁচা মরিচ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে চেড়ে চুলার আঁচ বাড়িয়ে ১৫ মিনিট রাখুন।
৭) মাঝে মাঝে ঢাকনা সরিয়ে নেড়ে দিন। পানি টেনে আসলে কিশমিশ, ঘি ও চিনি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে আঁচ কমিয়ে দমে রাখতে হবে ৫ মিনিট।
৮) এরপর পানি শুকিয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ৩০ মিনিট রেখে গরম গরম পরিবেশন করুন।
কষা খাসির মাংস তৈরির উপকরণ
খাসির সিনার মাংস – ১ কেজি
মিষ্টি দই – হাফ চামচ
সরিষার তেল – ১ কাপ
পেঁয়াজ কুঁচি – ৫ টি ( মাঝারি আকারের )
রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ
আদা বাটা – ৩ টেবিল চামচ
জিরা বাটা – দেড় টেবিল চামচ
ধনিয়া বাটা / গুঁড়া – ১ চা চামচ
বড় এলাচ – ৪ টি
ছোট এলাচ – ৩ টি
লং – ৪ থেকে ৫ টি
দারুচিনি কাঠি – ২ ইঞ্চি মতো (৩ টা)
তেজপাতা – ৪ টি
গোল মরিচ গুঁড়া – সিকি চা চামচ
মাখন – ২ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ বেরেস্তা – ১ কাপ
লবণ – স্বাদ মতো
হলুদ – স্বাদ মতো
শুকনো মরিচ গুঁড়া – স্বাদ মতো
যেভাবে তৈরি করবেন
১) মাংস ভালো করে ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিন।
২) পানি ঝড়ানো মাংসে হাফ চামচ মিষ্টি দই, গোল মরিচ গুঁড়া, লবণ দিয়ে মাখিয়ে ম্যারিনেট করে সারারাত ফ্রিজে রাখুন।
৩) কড়াইতে তেল গরম করে সব গোটা মশলা দিয়ে হালকা ভেজে নিয়ে পেঁয়াজ দিতে হবে। হালকা নরম হয়ে এলে ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে পানি ছাড়া না পর্যন্ত অল্প আঁচে দিয়ে নাড়তে হবে ; ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মতো।
৪) পানি ছেড়ে দিলে বাকি বাটা ও শুকনো মশলা দিয়ে এবার মধ্যম থেকে নিম্ন আঁচে ঢাকা দিয়ে মাঝে মাঝে আস্তে আস্তে নেড়ে কষাতে হবে ; ২০ থেকে ২৫ মিনিট মতো।
৫) পানি শুকিয়ে গেলে গরম পানি অল্প করে দেওয়া যেতে পারে। তবে ঠান্ডা পানি একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না। এতে স্বাদ ও রং নষ্ট হয়।
৬) পানি শুকিয়ে মাংসের ওপর তেল ভাসলে মাখন ও অর্ধেক পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে, আরও পাঁচ থেকে ১০ মিনিট।
৭) এরপর আঁচ বন্ধ করে ওপর দিয়ে বাকি পেঁয়াজ বেরেস্তা ছড়িয়ে ৩০ মিনিট দমে রাখুন। এবার খিচুড়ির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন খাসির কষা মাংস।
এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলো মেকওভার স্যালন ‘প্রিটি লেডি বাই সোনিয়া খান’। গতকাল, ১০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, ঢাকার নিকেতনে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য, বিশেষজ্ঞ বিউটি আর্টিস্ট ও বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং সেক্টরের পথ প্রদর্শক উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন এবং উজ্জ্বলার চেয়ারম্যান আদিত্য সোম। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেলিব্রেটি ও মডেলরা। অতিথিরা ‘প্রিটি লেডি বাই সোনিয়া খান’- এর সাফল্য ও সমৃদ্ধ কামনা করে।
বিউটি এক্সপার্ট সোনিয়া খান জানান, প্রতিষ্ঠানটি ছোট আকারে অনেকদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে বড়ভাবে এই প্রথম আমাদের আগমন ঘটলো। বিউটি সেক্টরে একটি ভিন্ন কিছু আনতে চাই আমরা এবং বাংলাদেশের বিউটি সেক্টরকে আরো এগিয়ে নিতে চাই।
দীর্ঘদিন ধরে বিউটি সেক্টরে কাজ করছেন সোনিয়া খান। তিনি দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মেকআপের ওপর বিভিন্ন কোর্স করেছেন। বর্তমানে তিনি উজ্জ্বলার একজন ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা. মো. ফরিদ রায়হান
এই বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি।হাসপাতালগুলোতে এই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। এমন সময় সতর্কতার বিকল্প নেই। তবে সতর্ক থাকতে হলে জানতে হবে ডেঙ্গু সম্পর্কে।
১. ডেঙ্গু কী
ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণে এই রোগ হয়। সংক্রমিত এডিস (এডিস ইজিপ্টাই) মশার কামড়ে এটি মানুষের দেহে ছড়ায়। রোগটি সাধারণ থেকে জটিল অবস্থায় চলে যেতে পারে।
২. জ্বরের তারতম্য
সাধারণত ডেঙ্গুতে উচ্চ মাত্রায় জ্বর থাকে। জ্বর ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এটি থাকে দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত। তবে এখন ডেঙ্গুর লক্ষণে একটু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার জ্বর না হয়েও অন্যান্য লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।
৩. তীব্র মাথাব্যথা
সাধারণত ডেঙ্গুতে তীব্র মাথাব্যথা হয়। বিশেষ করে রোগী সামনে ও চোখের পেছনে ব্যথার কথা বলে। এটি তীব্র হয় এবং সবসময় থাকে।
৪. চোখের পেছনে ব্যথা
এই জ্বরে চোখের পেছনে তীব্র অস্বস্তি ও ব্যথা অনুভূত হয়। কেউ চাপ দিয়ে ধরে রয়েছে, এমনটা মনে হতে পারে। চোখের নড়াচড়া ব্যথা বাড়িয়ে দেয়।
ছবি : সংগৃহীত
৫. জয়েন্ট ও পেশি ব্যথা
ডেঙ্গু জ্বরে তীব্র জয়েন্ট ও পেশি ব্যথা থাকে। এই জন্য একে ‘ব্রেকবোন ফিভার’ বলে। ব্যথা দেহের বিভিন্ন জয়েন্ট ও পেশিকে দুর্বল করে তোলে।
৬. অবসন্ন ভাব
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা মাঝে মাঝে অসম্ভব অবসন্নতা ও দুর্বলতায় ভোগে। এটি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। এমনটি রোগ সেরে যাওয়ার পরও এই দুর্বলতা কাটতে সময় লাগে।
৭. বমি ও বমি বমি ভাব
অনেকেরই এই সময় বমি বমি ভাব ও বমি হয়। সঙ্গে থাকে অরুচি ও ক্ষুধামান্দ্য। যেহেতু এই কারণে পানি ও তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ কম হয়, তাই দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
ছবি : সংগৃহীত
৮. ত্বকের র্যাশ
ডেঙ্গুতে ত্বকে র্যাশ একটি প্রচলিত সমস্যা। সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দেহে চুলকানিসহ র্যাশ ও ফুসকুড়ি হয়। প্রথমে এটি মুখ, গলা ও বুকে শুরু হয়। আস্তে আস্তে সারা দেহে ছড়ায়।
৯. রক্তক্ষরণ
ডেঙ্গুতে দাঁতের মাড়ির গোঁড়ায়, মাসিকের রাস্তায়, প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তায় রক্তপাত হতে পারে। এটি ডেঙ্গুর জটিল অবস্থা। ডেঙ্গু হলে এবং এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়তে পারে।
১০. সচেতনতা বাড়ানোর উপায়
ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে সচেতন ও সতর্ক থাকাই অন্যতম উপায়। মানুষকে বেশি করে জানাতে হবে ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায় এবং এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা কী। সচেতন করার জন্য বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে ওয়ার্কশপ, সেমিনার করা যেতে পারে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিয়ম সভার আয়োজন করা যায়। পাশাপাশি পোস্টার, লিফলেট ও ক্ষুদ্র পুস্তিকা তৈরির মাধ্যমে মানুষকে এ বিষয়ে আরো জানাতে হবে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পত্র-পত্রিকা, লোকাল রেডিও, টেলিভিশনে ডেঙ্গুর প্রতিরোধ সম্পর্কে আরো আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
১১. আবদ্ধ জায়গার পানি পরিষ্কার
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা যেসব জায়গায় জন্মায়, সেগুলো পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখা বেশ জরুরি। বাসা-বাড়ি, অফিস ও এলাকার চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। পরিত্যক্ত টায়ার, গাছের টব, বদ্ধ জলাশয়- কোনো বদ্ধ জায়গা যেখানে পানি দীর্ঘদিন আটকে থাকে সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে। আগে ডেঙ্গু পরিষ্কার পানিতে জন্মালেও এখন ময়লা পানিতেও এই মশার বিস্তার দেখা যাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
১২. এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা ও কতৃপক্ষকে সহযোগিতা
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এগিয়ে আসতে হবে। সম্ভব হলে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন দল গঠন করে এই বিষয়টি তদারকি করা গেলে ভালো। ডেঙ্গু নিরোধে স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বাস্থ্যবিভাগকে সহযোগিতা করুন। এলাকার কতৃপক্ষকে মশানিরোধক ওষুধ ব্যবহারে আরো উৎসাহী হতে হবে। যেসব জায়গায় ডেঙ্গুর লাভা বেশি ছড়ায় এবং যেসব এলাকা ডেঙ্গুর জন্য বেশি ঝুঁকিপ্রবণ, সেখানে নিয়মিত মশানিরোধ ওষুধ ব্যবহার করা জরুরি।
১৩. ব্যক্তিগত সুরক্ষা
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে ঘুমাবার আগে অবশ্যই মশারি টাঙান। ফুল হাতা জামা পরুন। মশা নিরোধক ওষুধ/ ক্রিম গায়ে মাখুন। সম্ভব হলে ঘরে জানালায় নেট লাগিয়ে নিন। এতে মশা কম প্রবেশ করবে।
১৪. পাঠ্য বইয়ে ‘ডেঙ্গু’ বিষয়টির অন্তর্ভুক্তি
স্কুল ও কলেজের পাঠ্য পুস্তকে ডেঙ্গু সম্পর্কিত একটি অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্তি করা যেতে পারে। এতে একজন শিশু ছোট বয়স থেকে বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবে। এ ছাড়া অফিসের বিভিন্ন দেয়ালে ডেঙ্গু নিয়ে প্রবন্ধ, প্রতিবেদন টাঙিয়ে রাখা যায়। এতে কর্মীরা সচেতন ও সতর্ক হবে।
১৫. দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা
ডেঙ্গু রোধে দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা ভীষণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন, প্রতিরোধ, চিকিৎসার বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী কাজ করতে হবে। না হলে প্রতি বছর বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হবে এবং মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি, এনজিও ইত্যাদি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধে সবার এগিয়ে আসার বিকল্প নেই।
১৬. রোগ ব্যবস্থাপনা
ডেঙ্গু জ্বরে কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। রোগের লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে এবং দেহের তরলের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
১৭. বিশ্রাম
ডেঙ্গুতে রোগী অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দেহে পানিশূন্যতা দেখা যায়। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং খাবারে তরলের পরিমাণ বাড়ান। এ ক্ষেত্রে মুরগির স্যুপ, স্যালাইন, ডাবের পানি ইত্যাদি খাওয়ানো যেতে পারে।
১৮. ওষুধ
সাধারণত ব্যথা ও জ্বর কমাতে চিকিৎসকরা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিয়ে থাকে। তবে নন-স্ট্যারেয়েডাল অ্যান্টি- ইনফ্লামেটোরি ওষুধ যেমন, এনএসএআইডিএস ও অ্যাসপিরিন রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
১৯. সবসময় পর্যবেক্ষণ
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে সবসময় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। রক্তচাপ, প্লাটিলেট কাউন্ট, হেমাটোক্রিটের মাত্রার বাড়া-কমা বা তারতম্যের বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।
২০. হাসপাতালে কখন নেবেন?
দেহের বিভিন্ন জায়গায় রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দিলে, রক্তচাপ, প্লাটিলেট কাউন্ট, হেমাটোক্রিটের মাত্রা কমে গেলে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতালে সাধারণত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার মধ্য দিয়ে, দেহে তরলের পরিমাণ বাড়িয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সর্বোপরি ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।
লেখক :
ডা. মো. ফরিদ রায়হান
নিউরো ও স্পাইনাল সার্জন
কনসালট্যান্ট, নিউরোসার্জারি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
শাশ্বতী মাথিন
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরে শোকে এতটাই মুষড়ে পড়েছিলেন তিনি, সিদ্ধান্ত নেন আজন্ম কালো রঙের পোশাক পরার। এর পর থেকে নিজের কর্মজগতে, মিডিয়ায় ইন্টারভিউ দেওয়ার সময়, যেখানেই যাক না কেন– কেউ কখনো তাকে কালো পোশাক ছাড়া দেখেনি।
যার কথা বলছি, তিনি বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য প্রথিতযশা ও পথিকৃৎ আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক চঞ্চল মাহমুদ। তাঁর হাতে ক্যামেরা যেন জাদুর ছড়ি। প্রাণহীন কালো ক্যামেরা তাঁর ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। কেবল আলোকচিত্রী নয়, বাংলাদেশের আলোকচিত্র শিল্পীদের অন্যতম শিক্ষকও তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘চঞ্চল মাহমুদ ফটোগ্রাফি স্কুল’ থেকে প্রায় ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফটোগ্রাফি শিখে বের হয়েছে।
গত ১০ জুলাই বিকেল ৪টায় এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে যাই তাঁর গ্রিন রোডের বাসায়। এক দারুণ আলাপচারিতায় জমে ওঠে আড্ডা। কথোপকথনে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী দেশের আর্থিক ও সামাজিক পরিবর্তন, বাংলাদেশের ফটোগ্রাফির অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট।
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তীব্র কষ্ট আর চোখের কোণে বোবাকান্না নিয়ে বললেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুব কাছাকাছি পেয়েছি। কখনো ভাবতে পারিনি, তাঁকে এভাবে হত্যা করা হবে। ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। তাঁর দেওয়া পতাকা, অটোগ্রাফ এখনো রেখে দিয়েছি কাছে। বঙ্গবন্ধু আমাদের কাছে একটি তীব্র আবেগের নাম। তাঁর চলে যাওয়ার পর দেশের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার এক বিরাট পরিবর্তন হলো। এই ক্ষতির জের এখনো এই দেশ টানছে।’
স্ত্রী রায়না মাহমুদের সঙ্গে চঞ্চল মাহমুদ।
কয়েকবার হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়েছেন চঞ্চল মাহমুদ। রয়েছে ডায়াবেটিস। লাইফ সাপোর্ট থেকে ফিরে এসেছেন বছরখানেক আগে। স্ত্রী রায়না মাহমুদও লড়ছেন ক্যানসারের সঙ্গে। শারীরিক অসুস্থতা চঞ্চল মাহমুদকে কিছুটা ভোগালেও মানসিকভাবে এখনো রয়েছেন সেই তারুণ্যদীপ্ত, দৃঢ়চেতা মানুষটি। কথা বলার সময় মনে হচ্ছিল, যেন এক আলোকদ্যুতি ছিটকে বের হচ্ছে তাঁর চেহারার ভেতর দিয়ে। বললেন, ‘লাইফ সাপোর্টে থাকার সময় সবাই ভেবেছিল, এই বুঝি চলে যাব। কোথায় কবর দেওয়া হবে, এটাও ঠিকঠাক। এরই মাঝে আল্লাহতায়ালা কীভাবে যেন ফিরিয়ে নিয়ে এলো। স্বামী-স্ত্রী দুজন অসুস্থ হয়ে যাওয়াতে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে যেতে হয়েছে সেই সময়। এখনো যেতে হচ্ছে।’
চঞ্চল মাহমুদ
আড্ডার এক ফাঁকে ট্রে-তে করে চা-বিস্কুট-কেক নিয়ে হাজির হলেন রায়না মাহমুদ (চঞ্চল মাহমুদের স্ত্রী)। ভীষণ অতিথিপরায়ণ এই মানুষটির সঙ্গে কথা বলে মনেই হচ্ছিল না, তিনি আমায় প্রথম দেখেছেন। আবার শুরু হলো আলাপচারিতা। কথা বলছি আর ঘুরে ঘুরে দেখছি তাঁর বাসা।
সদর দরজার সামনে, শুরুতেই স্বামী-স্ত্রীর বিশাল এক ছবি টাঙানো। মজা করে চঞ্চল মাহমুদ বললেন, ”অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ দেখেছ? এই আদলে আমাদের এই ছবি।”
স্ত্রী রায়না মাহমুদের সঙ্গে চঞ্চল মাহমুদ।
চঞ্চল মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স, মাস্টার্স করেছেন। এরপর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেন। ডিপ্লোমা করেন অস্ট্রেলিয়া থেকে এবং ফেলোশিপ করেন জাপান থেকে। অসংখ্য জাতীয় দৈনিক ও ম্যাগাজিনে কাজ করেন তিনি। তৈরি করেন নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস। ৫৫ বছরের ক্যারিয়ারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১১ সালে তাঁকে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অনারারি ফেলোশিপ প্রদান করে।
আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুরুল আলম বেগ (এম এ বেগ) ছিলেন তাঁর ফটোগ্রাফির গুরু। গুরুর কথা বলতে গিয়ে জানালেন, বাংলাদেশের ফটোগ্রাফির জগৎকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই মানুষটি।
তরুণ চঞ্চল মাহমুদ।
বাংলাদেশের ফটোগ্রাফির অতীত ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথোপকথনের সময় চঞ্চল মাহমুদ বললেন, ” এ দেশে এই সেক্টরটি সবচেয়ে আলোচিত, তবে অবহেলিত। আমাদের ছবি ছাপা হয়, কিন্তু নাম প্রকাশ করা হয় না। নিচে লিখে দেওয়া হয় ‘সংগৃহীত’। একটু ঘাঁটলেই তো যিনি ছবিটি তুলেছেন, তাঁর নাম বেরিয়ে আসে। এখনকার জেনারেশনের অনেকে ড. নওয়াজেশ আহমেদ, নইবুদ্দিন আহমেদ, গোলাম কাসেমের নামই তো জানে না! আসলে কী জানো, একটি ছবি হাজারখানেক কথার চেয়ে অনেক শক্তিশালী! তবে আমরা এখনো এর পুরোপুরি কদর করা শিখিনি। বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা মেধাবী। তারা তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু পেলে এই সেক্টরে আরো ভালো কাজ করতে পারবে এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।’
ছবি তোলার পাশাপাশি পেইন্টিং, সংগীত, ভ্রমণ, আড্ডা, লং ড্রাইভ তাঁর ভীষণ পছন্দের। বলছিলেন, ‘ফটোগ্রাফির পাশাপাশি একটা সময় এগুলো করতে খুব ভালোবাসতাম। এখন অবশ্য অসুস্থতার কারণে কিছু বিষয় হয়ে ওঠে না। তবে প্রচুর গান শুনি। আর প্রতিদিন সিনেমা দেখি। আসলে শিল্পীর একটি নিজস্ব চোখ থাকতে হয়। আর এটিই তাঁকে সবার চেয়ে আলাদা করে তোলে। আর এই দেখার চোখ তৈরি করতে হয় মানুষ ও জগৎকে গভীরভাবে জানার মাধ্যমে।’
সঙ্গীতের ভেতর থাকতে ভালোবাসেন চঞ্চল ।
একটু ক্ষোভ নিয়ে আলাপচারিতার আরেক পর্যায়ে বললেন, ‘অসুস্থতার পর অনেক মানুষ দেখেছি। অনেক লোকের চেহারা চিনেছি। খুব কম সংখ্যক মানুষই ভালোবেসে আসলে পাশে থাকে। না হলে সব নিজের সুবিধা ও স্বার্থ আদায়ের জন্য তোয়াজ করতে ব্যস্ত। যারা আমার রিসেপশনে এসে বসে থাকত কাজের জন্য, তারা অনেকে সেই কৃতজ্ঞতাটুকুও প্রকাশ করে না। আবার অনেকেই রয়েছে, যারা এখনো ভীষণভাবে ভালোবাসে। সবকিছুর পরে বলব, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।’
আমাদের আড্ডা এতটাই জমে উঠেছিল, কথা বলতে বলতে কখন যে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল, টেরই পাইনি। এবার আমার বিদায়ের পালা। কদমবুসি করে বেরিয়ে এলাম তাঁর বাসা থেকে। পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল, চঞ্চল মাহমুদদের শিল্পীসত্তা বেঁচে থাক আজীবন। পেছনে না হেঁটে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরো এগিয়ে যাক বাংলাদেশের ফটোগ্রাফি জগৎ।
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
ডেঙ্গুতে অনেক ধরনের লক্ষণের ভেতর র ্যাশ একটি। তবে একে পার্শ্ব লক্ষণ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। র ্যাশ কয়েকভাবে প্রকাশ পায়। প্রথম দিকে মুখ, গলা ও বুকের ওপরের দিকে লাল হয়। এর পরে হাত ও পা লালচে হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একে ম্যাকুলোপ্যাপুলার র ্যাশ বলে। এটি সারা দেহে ছড়ায়। এ ক্ষেত্রে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হতে দেখা যায়।
হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে পেটেকিয়াল র ্যাশ হয়। এ সময় চামড়ার তলায় গাঢ় লাল, পরে কালচে হতে দেখা যায়। হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে ত্বকের নিচের রক্তপাত হওয়ার কারণে এই বিষয়টি ঘটে। ডেঙ্গুতে র ্যাশ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি।
করণীয়
ডেঙ্গুর প্রভাব সারতে থাকলে র ্যাশও কমে আসে। বেশি চুলকানি ও জ্বালাপোড়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশারি টাঙানো জরুরি। চারপাশ পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
ফুল স্লিভ পোশাক পরুন। বেশিদিন কোনো পাত্রে বা বাথটাবে পানি জমিয়ে রাখবেন না। এতে মশা জন্মায়।
পাশাপাশি মসকিউটো রিপেলেন্ট ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।