হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আশ্বিন ও কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দুর্গাপূজা পালন করা হয়। দুর্গাপূজায় এবারে সাতকাহন-এর পোশাকে রয়েছে বিশেষ ও বৈচিত্র্যময় আয়োজন।
ছবি : ফ্যাশন হাউজ সাতকাহন
সুনিপুণ শৈলীর প্রতিফলন এবারও রয়েছে সাতকাহনের দুর্গাপূজা সংগ্রহে। এবারের পূজার পোশাকে নকশার উৎস হয়েছে বাংলার চিরচেনা ‘প্রকৃতি’। পোশাকের ভেতর রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, সিঙ্গেল কামিজ। সাতকাহন-এর পোশাকে মূলত প্রাধান্য দেওয়া হয় রঙের। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রায় সব ধরনের উজ্বল রং, যেমন- লাল, সাদা, কমলা, নীল ইত্যাদির রয়েছে বর্ণিল ব্যবহার। ব্লক, স্ক্রিন- প্রিন্ট, হ্যান্ডপেইন্টিং, টাই-ডাই, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, কারচুপি ইত্যাদি ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন নান্দনিক রূপ দেওয়া হয়েছে পোশাকে।
পোশাকের মূল উপকরণ কাপড় তৈরি হয়েছে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, মিরপুর, উওরা, কুমিল্লা ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানে। নিজস্ব তাঁতে বোনা কাপড়ের বুননেও আনা হয়েছে নতুনত্ব। তাঁতের বুননে তৈরি এক্সক্লুসিভ শাড়ির পাশাপাশি হাফসিল্ক, ধুপিয়ান- এর শাড়িতে বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে।
ছবি : ফ্যাশন হাউজ সাতকাহন
দীর্ঘ ৯ বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সৃষ্টিশীল ভাবনায় বাংলার ঐতিহ্যকে প্রতিনিয়ত তুলে ধরা হচ্ছে পোশাকের নকশায়। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিশেষ পোশাক প্রদর্শনী চলছে সাতকাহনের উওরা ও বসুন্ধরা শো-রুমে। কেনা যাবে ফেসবুক থেকে https://www.facebook.com/ShatkahonSharee । এ ছাড়া সরাসরি ফোন 1717-466896 করে অর্ডার করতে পারবেন।
ভারতের অন্যতম মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল আর্টেমিস হাসপাতালের আয়োজনে ইউরো রোবটিক সার্জারির বিষয়ে একটি পারস্পারিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার বনানির একটি হোটেলে সেশনটি পরিচালনা করেন আর্টেমিস হাসপাতালের ইউরোলোজি, কিডনি প্রতিস্থাপন কর্মসূচি ও রোবটিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ড. বিক্রম বড়ুয়া কৌশিক। আর্টেমিস হাসপাতালের বাংলাদেশ কান্ট্রি হেড পূজা চ্যাটার্জি সার্বিক সেশনটি সঞ্চালন করেন।
ড. বিক্রম বড়ুয়া কৌশিক গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ইউরোলজি বিষয়ক অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি লেজার, মিনিম্যাল ইনভেসিভ ইউরোলজি ও রোবোটিক্স ইউরো সার্জারি বিষয়ে ভারতের অন্যতম এক অগ্রদূত হিসেবে বিবেচিত।
ড. কৌশিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগান্তকারী আবিষ্কার রোবটিক শল্য প্রযুক্তির কর্ম পদ্ধতি ও এর নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ অনেক জটিল ও সূক্ষ্ম ইউরোলজির অপারেশন সহজসাধ্য হয়ে গেছে রোবটিক প্রযুক্তির কল্যাণে। এই সার্জারিতে ঝুঁকি কম । রক্তপাত নেই বললেই চলে। রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এতে হাসপাতালে বেশিদিন থাকতে না হওয়ায় খরচ কম। যদিও তুলনামূলকভাবে রোবটিক সার্জারি সাধারণ সার্জারির চেয়ে ব্যয় সাপেক্ষ। কিন্তু তুল্যমূল্য বিচারে রোগীর জন্য রোবটিক সার্জারি জীবন ঝুঁকি কমিয়ে অনেকটাই স্বস্তি এনে দেয়। প্রস্টেট ক্যানসার,
মূত্রনালির ক্যানসার, কিডনি ক্যানসার, ব্ল্যাডার ক্যানসারের জন্যও এই রোবোটিক প্রযুক্তি দারুণ কার্যকরী।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল ভ্যালু ট্রাভেল আলাইন্স (এমভিটি) সদস্যদের জন্যই মূলত এই সেশনটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এমভিটি আল্যায়েন্সের নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য মুরাদ হোসেন, রুনা লায়লা, ফিরোজুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাহাদাৎ রশীদ, মো. রফিক – উল – আলম, মারুফ আজাদ, শ্রী রবীন লাল, মুশফিকুর রহমান, ইঞ্জি. মো. মিরাজ হোসাইন সহ চিকিৎসক ও হেলথ কেয়ার পেশাজীবি এবং এমভিটি এলায়েন্সের ঢাকা ও চট্টগ্রামের সদস্যগণ।
বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াজ লিমিটেড (বিটিআই) ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বিটিআই–দ্য ডেইলি স্টার স্টেলার উইমেন ২০২৩’-এ লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন তাহেরা আফরোজ।
গত ১৪ অক্টোবর ঢাকায় বিটিআইর সেলিব্রেশন পয়েন্টে এই সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। নারীর ক্ষমতায়নকে উদ্বুদ্ধ করতে চলতি বছরে ‘স্টেলার উইমেন’ নির্বাচন শুরু করে বিটিআই ও ডেইলি স্টার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১২টি ক্যাটাগরিতে ১২ জন নারীকে দেশ ও সমাজে তাদের কাজের মাধ্যমে ভূমিকা রাখার জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর মাসে ‘লেখালেখি’ বিভাগে পাঁচজনকে মনোনীত করা হয়। লেখালেখিতে অসামান্য অবদানের জন্য সার্টিফিকেট পান কবি ও কথাসাহিত্যিক, আবৃত্তিশিল্পী তাহেরা আফরোজ ।
তাহেরা আফরোজ এক যুগের বেশি সময় ধরে লেখালেখির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তাঁর প্রথম বই প্রকাশ হয় ২০১৭ সালে। তাঁর কবিতার বই তিনটি– জলতরঙ্গ, এই শহরের রূপকথা, মৃত্যু ক্ষুধা ও প্রেম। গল্পের বই– ঘুণপোকা, হাওয়াই মিঠাই ও সম্পাদিত গল্পগ্রন্থ রিলেরেস। তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস তিনটি। আদিভৌতিক উপন্যাস রোজগার্ডেন, সমকালীন উপন্যাস সুরের আগুন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস বকুল ফুল। তাঁর কলাম সংকলণ দুটো– বইয়ের মানুষের কথা ও নারী দিগন্ত। গীতিকার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে তাঁর লেখা একটি গান অবমুক্ত হয়েছে এই বছর নারী দিবসে। এ ছাড়াও মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকার প্রধান সম্পাদক তিনি।
২৪তম বিসিএস কর্মকর্তা তাহেরা আফরোজ বর্তমানে গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি মেঘদূত লেখক পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
পূজার সেকালের সাজ বলতেই মা, ঠাকুমা, পিসিমাদের ছবি ভেসে ওঠে চোখের সামনে। পুজায় সব সময় কলকাতার বনেদি সাজের একটা ছোঁয়া থাকত তাদের ভেতর।
বিশ্বায়নের কারণে মা-ঠাকুরমাদের টিভি দেখে অনুসরণের সুযোগ তখন সবে শুরু। তাই তারা পরিচিত হতেন মটকা, গরদ কিংবা বালুচুরি শাড়ির সঙ্গে। এসবের পাশে থাকত দেশীয় জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁত, রাজশাহী সিল্ক ইত্যাদি।
পূজার সকালে অঞ্জলি দিতে বা দশমীতে দেবী দুর্গাকে বরণ করতে তাঁরা ব্যবহার করতেন গরদ কিংবা মটকার ঘিয়ে অথবা সাদা রঙের লাল পেড়ে শাড়ি। এক পেঁচে শাড়ির সঙ্গে পরতেন বনেদি সোনার গয়না, বড় কানপাশা, মোব চেইন, হাতে মগর মুখ বালা। সঙ্গে থাকত পায়ে আলতা, কপালে লাল বড় টিপ, মাথায় খোঁপা আর সিঁথিভর্তি সিঁদুর; ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক, চোখে হালকা কাজল।
তাদের সময় মেকআপ প্রসাধনীর এত ব্যবহার ছিল না। সেই তথাকথিত তিব্বত বা ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী অথবা নিভিয়া ক্রিমের সঙ্গে যে কোনো ট্যালকম পাউডারের ব্যবহারই ছিল তাদের একমাত্র পছন্দ।
এ ছাড়া অন্যান্য সময় প্রতিমা দর্শনে বের হলে দেশীয় টাঙ্গাইল, জামদানি, বালুচুরি বা রাজশাহী সিল্কই থাকতে দেখা যেত তাদের পরনে। সাধারণ কুচি করে আঁচল ছেড়ে, আঁটসাঁট খোঁপা অথবা বেণি করে সেই ট্র্যাডিশনাল সাজেই সাজতেন তারা।
সময়ের পরিবর্তনে সাজ ও প্রসাধনীর পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন মিডিয়ার সহজ প্রবাহের মাধ্যমে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি তখনকার যুগের মানুষ জানতে পারে বহির্বিশ্বের রূপচর্চা ও ফ্যাশন সম্পর্কে। বাংলাদের বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে সেই সময় আসে আমূল পরিবর্তন।
পূজার সাজ মানেই সেই সময় নজর কাড়ে; কারচুপির শাড়ি, কুন্দনের শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের সিল্ক ও জর্জেট শাড়ি। সঙ্গে কারচুপির সালোয়ারও যুক্ত হয়। দেখা যায়, দেবীর বরণে বা দশমীতে ট্র্যাডিশনাল লাল-সাদা থাকলেও গরদ ও মটকা শাড়ির ব্যবহার কমতে থাকে; ব্যবহার হয় সাদা-লাল সুতি, সিল্ক, জর্জেটসহ বিভিন্ন শাড়ি। সাজেও আসে পরিবর্তন। ব্যবহার হয় বেজ মেকআপ, আর কালার কারেকশন হিসেবে হলুদ প্যানকেক বা প্যান স্টিক। গায়ের রঙের শেড থেকে এক বা দুই শেড বাড়িয়ে ব্যবহার করা হতো এই প্যানকেক অথবা প্যান স্টিক। এর ওপর কমপ্যাক্ট পাউডার দিয়ে সেট করে গালে গোলাপি অথবা ব্রাউন ব্লাশন ব্যবহার করা হতো। ঠোঁটে ব্যবহার হতো সেমিগ্লসি লিপস্টিক, চোখে কাজল, চুলে খোঁপা, তাতে বাহারি গাজরা। সে সময় সোনার গয়নার চল কম হতে দেখা যায়। ব্রোঞ্জ বা ইমিটিশনের গয়নার ব্যবহারই বেশি থাকত ৷
রাতের সাজে থাকত ভিন্নতা। বেজ মেকআপ, প্যানকেক বা প্যান স্টিক ব্যবহারে একটু ভারী করা হতো দিনের তুলনায়। পরনে ভারী পোশাকের সঙ্গে মানানসই আইশ্যাডো, গ্লিটার আইশ্যাডো, চোখ আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার হতো আইলাইনার ও মাশকারা ৷
তখনকার সময় চুল ছোট করে কেটে ছেড়ে রাখতেই বেশি দেখা যেত। তখন মেকআপে কন্টেরিং খুব গাঢ় ব্যবহার হলেও হাইলাইটারের ব্যবহার দেখা যেত না। তবে কপালে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে পাথরের টিপ থাকত–– লম্বা গোল বা চৌক ধরনের এবং সিঁদুর তখন বেশি লম্বা টানা করে পরা হতো না।
সময় যেন ঘুরেফিরে আবার আগের জায়গায় গিয়ে পৌঁছে গেছে, আবারও সেই ট্র্যাডিশনাল ধারা ফিরে আসছে। আবার চাহিদার শীর্ষে সেই জামদানি, সিল্ক, মসলিনসহ নানান দেশীয় শাড়ি। বর্তমান অবস্থায় মেকআপ প্রসাধনীতে অনেক ভ্যারাইটি থাকা সত্ত্বেও মানুষ সেই প্রসাধনী ব্যবহার করেই মা-ঠাকুমাদের মতো ন্যাচারাল লুকেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপনিও এবারের পূজায় সাজতে পারেন সেই হালকা ও বনেদি সাজে। প্রথমে ত্বকের ধরন অনুযায়ী কারেক্ট খুব হালকাভাবে দিয়ে, এতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সেই টোনে ফাউন্ডেশন ও ওয়াটার প্রুফ সেটিং পাউডার দিয়ে সেট করুন। আই ব্রো চুলের চেয়ে এক বা দু শেড হালকা বাদামি ফিলার দিয়ে ফিল করে নিন। ম্যাট আইশ্যাডো অথবা লাইট সিমারি আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।
দিনের বেলায় ম্যাটটাই ব্যবহার করা হয় বেশি এবং চোখে কাজল আর রাতে হলে কালজ আইলাইনারের সঙ্গে থাকে একটু ন্যাচারাল সিমার। ব্লাশনেও খুব ন্যাচারাল টোনের প্রাধান্য দেওয়া হয়। যেমন : পিচ, লাইট পিংক, লাইট ব্রাউন। তারপর হাইলাইটার।
যারা একটু সাদা টোনের, তারা সিলভার বা পিচ সিলভারের মিশ্রণে হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি যারা একটু গাঢ় টোনের, তারা গোল্ডেন বা গোল্ডেন ব্রাউন হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন। লিপস্টিপ হিসেবে দিনের বেলায় হালকা রঙের সেমিম্যাট অথবা ম্যাট লিপস্টিপ ব্যবহার করা যেতে পারে এবং রাতে একটু গ্লোসি গাঢ় রং ব্যবহার করুন। ব্রাউন বা স্মোকি আই সব পোশাকের সঙ্গেই মানানসই। সেটি দেবীবরণে সাদা–লাল শাড়িতে হোক কিংবা রাতের পার্টি শাড়িতে। আবার কালো, সবুজ, সাদা, হলুদ, লাল, মেরুন ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায় এই সাজ।
সাজের পরিপূর্ণতা আসে চুলেই। বর্তমান যুগে যেমন হেয়ার স্টাইলে এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন এবং যুক্ত হয়েছে অনেক নতুন নতুন স্টাইল। তাই বন্ধ-গলা ব্লাউজে চুল ব্লোড্রার করে ছেড়ে দিলেই বেশ মানানসই লাগে। আবার সামনে হালকা পাফ করে ট্র্যাডিশনাল হেয়ার বানও করতে পারেন। তবে বরণের সময় বা দশমীতে সাদা-লাল শাড়ির সঙ্গে গোল গলা ব্লাউজেও এই ট্র্যাডিশনাল বান বেশ মানাবে। সঙ্গে থাকতে পারে শুভ্র বেলি অথবা কাঠ বেলির গাজরা।
আবার পার্টি শাড়ি অথবা যে কোনো পোশাকের সঙ্গে পনিটেইল করে কার্ল করলেও খুব সুন্দর মানায় এবং স্মার্ট দেখায়। অথবা একদম ঘাড়ের কাছে নিচু করে খোঁপাও করে নেওয়া যেতে পারে। এটিও বেশ মানায়। আর অল্প বয়সী বা টিনএজরা চাইলেই পার্টি ড্রেস অথবা শাড়ির সঙ্গে চুল স্ট্রেট করে ঘুরতে পারে অনায়াসে।
বাড়তি টিপস
১. মেকআপের আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং করে নেবেন।
২. মেকআপ করার আগে সুন্দর করে ফেস ডাবল ক্লিনজিং করে নিন।
৩. অয়েলি স্কিন হলে ম্যাট ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।
৪. শুষ্ক ত্বকে অয়েল বেজ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হবে।
পুজোর দিন চুলকে একটি সুন্দর লুক দিতে কিন্তু আগে থেকে যত্ন নেওয়াটা ভীষণ জরুরি। তাহলে পুজোর দিনগুলোতে যেকোনো স্টাইলে, যেকোনোভাবেই নিজেকে উপস্থাপন সহজ হয়।
১. চুলকে আকর্ষণীয় করতে প্রথমেই প্রয়োজন মানানসই একটি হেয়ারকাট। পুজাের আগেই সেরে নিন এটি।
২. চুলকে প্রাণবন্ত করতে সপ্তাহে দুদিন ঘরে করে ফেলুন হেয়ার স্পা। হেয়ার স্পা করতে লাগবে – দুধ চার থেকে পাঁচ চা চামচ, ডিম একটি, কলা একটি , নারকেল তেল দুই চা চামচ , অ্যালোভেরা জেল এক চা চামচ, ভিটামিন ই ক্যাপসুল একটি ( চুলের দৈর্ঘ্য বেশি হলে পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে পারেন।)
সবগুলো উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে রেখে দিতে হবে আধা ঘণ্টা। এরপর চুলে লাগিয়ে অপেক্ষা করতে হবে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট। পরে হালকা ধাঁচের কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
৩. চুল হালকা শুকানোর পর স্ট্রাকচার অনুযায়ী হেয়ার সিরাম ব্যবহার করুন। রং করা চুলে কালার প্রটেকটিভ সিরাম ব্যবহার করতে হবে।
৪. চুলে সপ্তাহে অন্তত দুদিন অয়েল ম্যাসাজ করুন। এই ক্ষেত্রে আমন্ড অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল, রোজমেরি অ্যাসেন্সিয়াল অয়েল ও নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।
একটি বাটিতে গরম পানি নিয়ে, অন্য একটি বাটিতে সব তেল সমপরিমাণে মিশিয়ে এতে রোজমেরি আসেন্সিয়াল অয়েল দুফোঁটা মিশিয়ে গরম পানির বাটিতে বসিয়ে হালকা গরম করে নিয়ে আঙ্গুলের ডগা দিয়ে মাথার স্কাল্পে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এটি করতে হবে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এতে মাথার স্কেল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, চুল পড়া কমবে। নতুন চুল গজাতেও সাহায্য হবে। পাশাপাশি রুক্ষ চুল নরম করতে সাহায্য করবে এই পদ্ধতি।
৫. যাদের রিবন্ডিং হেয়ার তাদের জন্য বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। অ্যালোভেরা জেল, নারকেল তেল ও ভিটামিন ই ক্যাপসুল একসঙ্গে মিশিয়ে সম্পূর্ণ চুলে ম্যাসাজ করে রেখে দিতে হবে ২০ মিনিট। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলে জেল্লা আসবে। সপ্তাহে অন্তত চার দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
স্তন ক্যানসার সচেতনতার মাধ্যমে প্রাণঘাতী এই রোগ থেকে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
আজ মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, আইইডিসিআর (পুরাতন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংলগ্ন) নতুন মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব এএফএম সরওয়ার কামাল, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, বারডেমের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী, জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির অধাপক ডা. হালিদা হানুম আক্তার, বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী, প্রশিকার চেয়ারম্যান কবি রোকেয়া ইসলাম, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন মুসারাত জাহান সৌরভ, আইইডিইআর এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাকির হাবিব এবং ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সমন্বয়কারী (যোগাযোগ) ইকবাল মাহমুদ, সমন্বয়কারী (অর্থ) মাহবুব শওকত, সমন্বয়কারী (মিডিয়া) জান্নাতুল ফেরদৌস মানু।
গ্লোবোকনের তথ্য তুলে ধরে ডা. রাসকিন বলেন, ‘প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১৩ হাজার নারী নতুন করে নিরব ঘাতক স্তন ক্যানসার আক্রান্ত হন। মারা যান প্রায় আট হাজার। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, নারীদের সংকোচবোধ আর দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কারণে এত বেশি মৃত্যু হয়ে থাকে।
ছবি : সংগৃহীত
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সার্বিকভাবে ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল ও ব্যয়বহুল। স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ, প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় ও ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের কোনো জাতীয় কর্মকৌশল, কর্মপরিকল্পনা ও কর্মসূচি নেই। এ বাস্তবতায়, ২০১৩ সালে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ নিয়ে কাজ শুরু করে স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম। গত দশ বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফোরামের উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ও সুরক্ষা, সূচনায় নির্ণয় ও স্ক্রিনিং এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সবার সচেতনতা তৈরি করতে এবারেও সড়ক শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে সংগঠনটি।
যাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় স্তন ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফোরাম এর সচেতনতা মূলক কর্মসূচি বিস্তৃতভাবে প্রচার ও প্রসার হয়েছে, এমন ১০ জন মিডিয়া কর্মীকে সম্মাননা (কৃতজ্ঞতা) স্মারক প্রদান করা হয়।
জীবনটা সহজ ছিল না তাঁর। জীবনের প্রথম লড়াটাই ছিল নিজেকে নিজের গ্রহণ করার। এর পর সমাজ তাঁকে কতটা গ্রহণ করবে, সেটাও। সমাজে সম্মানের সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা আর নিজের অধিকারগুলো আদায় করার এই লড়াইটা শুরু হয়েছে বয়ঃসন্ধি থেকে, চলছে আজ অবধি।
যাঁর কথা বলছি, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নারী মৃত্তিকা রেই। বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (এনএইচআরডিএফ) অর্থায়নে ও ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এনএসডিএ) তত্ত্বাবধানে ও বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং সেক্টরের পথপ্রদর্শক উজ্জ্বলার যৌথ উদ্যোগে একটি কোর্স করে বিউটি আর্টিস্ট হয়েছেন তিনি। সঙ্গে করছেন আরো কিছু কোর্স। বিউটিফিকেশনের কাজ করে যাচ্ছেন ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে। নিজেকে তো স্বাবলম্বী করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেনই, পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডার সমাজের মানুষকেও সম্মান নিয়ে বাঁচার যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
মৃত্তিকা রায়ের জীবনসংগ্রাম এবং বিউটি আর্টিস্ট হয়ে ওঠার গল্পই শুনব তাঁর মুখে-
নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলতে ইচ্ছা হতো
আমি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী। আমার দেহের অঙ্গগুলো পুরুষের। কিন্তু আমার মন-মস্তিষ্ক একজন নারীর। আমার আগ্রহ মেয়েলি বিষয়ে। আমার খুব সাজতে ভালো লাগত, নারীর মতো পোশাকে আগ্রহ পেতাম। ভাবনাগুলোও আমার একজন নারীর মতো। এটা প্রকৃতগত বিষয়। অনেকের কাছে বিষয়টি শুনতে অবাক, আশ্চর্য লাগলেও, এটাই প্রকৃতগত, হরমোনগত।
ছোটবেলা থেকেই আমার থাইরয়েড হরমোনে কিছু সমস্যা ছিল। বয়ঃসন্ধির সময় দেহের যে পরিবর্তনগুলো আসে, সেগুলো আসতে কিছুটা দেরি হচ্ছিল আমার। তখন থেকেই বুঝতে পারছিলাম, আমি নারীদের কাজে বেশি আগ্রহ পাই। নিজের পুরুষাঙ্গটিকে একটি বোঝা মনে হতো। মনে হতো, এটা কেটে ফেলি। শরীর পুরুষের কিন্তু মনটি নারীর–– এটা যে কী এক ভয়ানক ও তীব্র যন্ত্রণার, সেটা বোঝানো কঠিন। কখনো কখনো মনে হতো আত্মহত্যা করি।
মৃত্তিকা রেই। ছবি : সংগৃহীত
ছোটবেলায় প্রায় প্রতি সপ্তাহে আমার চলাফেরা নিয়ে এলাকায় সালিশ বসত। আমার মা ভাবতেন, আমি বখে গেছি। বাজে লোকের সঙ্গে মিশছি। একবার মা ছোট ভাইকে দিয়ে আমাকে মার পর্যন্ত খাওয়ান। এক পর্যায়ে আমার থাইরয়েডের চিকিৎসক বললেন, মানসিক চিকিৎসক দেখাতে। প্রথমে আমি ঢাকা মেডিকেলে যাই। তবে সংকোচের কারণে চিকিৎসকদের কিছু বলতে পারছিলাম না। দীর্ঘদিন আমাকে মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ার ওষুধ খেতে হয়। অনেক জায়গা ঘুরে শেষ পর্যন্ত আসি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে। সেখানে দেখানোর এক পর্যায়ে একজন নারী চিকিৎসক বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং বলেন, ‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নারী।’ তাঁর মাধ্যমে আমি প্রথম জানলাম এ বিষয়ে। তিনি বললেন, ‘সারা বিশ্বে এই রকম অনেক নারী রয়েছে। এটা একদমই প্রকৃতগত বিষয়। মানুষের এখানে হাত নেই। আর এটা যে খুব অস্বাভাবিক, তাও নয়।’ তিনিই প্রথম বোঝালেন, ‘তোমার যেভাবে নিজেকে রাখতে ভালো লাগে, তুমি সেভাবেই থাকো।’
এর মধ্যে পরিবারের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে আমি বাসা ছেড়ে বেরিয়ে যাই। এইচএসসি পাসের পর অনার্সে ভর্তি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আমায় নিয়ে বাজে মন্তব্য করত। লেখাপড়াও ছেড়ে দিই। একা একটা মানুষ নিজের সঙ্গে তো লড়ছিলামই; এর সঙ্গে যুক্ত হলো অর্থনৈতিক সংগ্রাম।
মৃত্তিকা রেই । ছবি : সংগৃহীত
যা কিছু শিল্প, সব ভালো লাগে
আমি ব্লগ লিখি ট্রান্সজেন্ডার সমাজের মানুষ নিয়ে; তাদের অধিকার, ভালো-মন্দের বিষয় নিয়ে। ছোটবেলা থেকেই আমার ভেতর ভীষণ একটা শিল্পীসত্তা ছিল। গান পছন্দ করতাম। গান গাইতে ভালোবাসতাম। এখনো মাঝে মাঝে গাই। রং-তুলি, ছবি তোলা, নিজে সাজা, কাউকে সাজানো, অর্থাৎ যা কিছু আর্ট (শিল্প) তার সবই আমার ভালো লাগে। সেই শিল্পীসত্তাকেই এখন কাজে লাগাচ্ছি বিউটি আর্টিস্ট হয়ে। ২০২৩ সালেই এনএইচআরডিএফের অর্থায়নে ও ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এনএসডিএ) তত্ত্বাবধানে ও ‘উজ্জ্বলা’র যৌথ উদ্যোগে বিউটিফিকেশনের ওপর বিনামূল্যে একটি কোর্সে ভর্তি হই। কাজ শেখার প্রতি আমার আগ্রহ দেখে উজ্জ্বলার সহপ্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন ম্যাম আমাকে বাংলাদেশ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন ও উজ্জ্বলার যৌথ উদ্যোগে হওয়া আরেকটি কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন। দুটো কোর্সই সরকারি। আমার প্রশিক্ষণ এখনো চলছে। আমি মনের ক্ষুধা থেকে শিখছি, কারণ, এটা আমার মনের ক্ষুধাও মেটায়। আমার প্রশিক্ষণ এখনো চলছে। তবে এর পাশপাশি বিউটিফিকেশনের ওপর ফ্রি ল্যান্সিং শুরু করে দিয়েছি। ক্লাইন্টও পাচ্ছি।
আমি যা, উজ্জ্বলা সেটা হতে সাহায্য করেছে
যেহেতু আমি মনেপ্রাণে একজন নারী, তাই নারীর সাজ ও গ্রুমিংয়ের যেই বিষয়–– সবটাই আমি পেয়েছি উজ্জ্বলার মাধ্যমে। উজ্জ্বলা আমাকে আমি হতে সাহায্য করছে। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উজ্জ্বলার করা এসব যৌথ উদ্যোগের কারণে আমি বা আমার মতো অনেকেই বিনামূল্যে এসব আন্তর্জাতিক মানের কোর্স করতে পারছে। এটা খুবই আশার বিষয়।
ভবিষ্যতে, আমি নিজেকে অনেক স্বাবলম্বী হিসেবে দেখতে চাই। ট্রান্সজেন্ডার নারী হওয়ার কারণে সমাজে যে হেয়প্রতিপন্ন হতে হয় আমাদের, সেই জায়গাটি থেকে বেরিয়ে এসে বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে স্বনামে প্রতিষ্ঠিত হবো, এটাই এখন একমাত্র চাওয়া।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৭১তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রঙ বাংলাদেশ আয়োজন করেছে শারদ উৎসব।
দুর্গাপূজার ষষ্ঠী থেকে দশমী, কুমারী পূজা থেকে সিঁদুর খেলা, ধুনুচি নাচ থেকে প্রসাদ বিতরণ, প্রতিদিন সন্ধ্যা আর সকালের অঞ্জলি থেকে ভাসান- প্রতিটি উপলক্ষ্যকে বর্ণময় আর আনন্দময় করতে পারেন এবার রঙ বাংলাদেশ- এর পোশাকে।
এবারের পূজায় পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে লাল, হলুদ, মেরুন, গেরুয়া ও সাদা। তৈরি করা হয়েছে অনিন্দ্য সুন্দর সব শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, আনস্টিজ ড্রেস, স্কার্ট, ওড়না, পাঞ্জাবি, ধুতি, টি-শার্ট, শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া, উত্তরীয়, ব্যাগ, গহনাসহ পোশাক ও এক্সেসরিজের বিশাল সম্ভার। পাবেন বাবা-ছেলে, মা-মেয়ের ম্যাচিং পোশাক, কাপল প্যাকেজ, ডুয়েট প্যাকেজ আর পরিবারের সকলের জন্য একই ডিজাইনের ফ্যামিলি প্যাকেজ।
ক্রেতাদের ব্যবহার যোগ্য পেপার সিল্ক, হাফ সিল্ক, লিলেন ও নানাধরনের সুতির আরামদায়ক পোশাক তৈরি করা হয়েছে। রঙ বাংলাদেশ সারা বছরই ক্রেতার সন্তুষ্টির জন্যে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করে থাকে। এবারের পূজাকে আরও আনন্দময় করতে রঙ বাংলাদেশ দিয়েছে বিশেষ ঘোষণা। সকল কেনাকাটায় ক্রেতারা পাবেন নিশ্চিত উপহার।
ছবি : রঙ বাংলাদেশ
আউটলেট ও অনলাইনে প্রতিটি কেনাকাটার সঙ্গেই উপহার পাবেন ক্রেতা। সারাদেশে ২২টি আউটলেট ও অনলাইন-ওয়েবসাইট www.rang-bd.com কিংবা ফেসবুক পেজ rang bangladesh রঙ বাংলাদেশ-এ থাকবে এই অফার।
শারদীয় উৎসবে সবার বাজেট বিবেচনায় রেখে পোশাকের মূল্য রাখা হয়েছে ক্রয়সাধ্যের মধ্যেই। রঙ বাংলাদেশ-এর যেকোনো আউটলেট পাবেন রঙ বাংলাদেশ এর পূজার সকল আয়োজন। আউটলেট ছাড়াও ঘরে বসে কেনাকাটার সুবিধা উপভোগ করতে ঘুরে আসুন রঙ বাংলাদেশ এর ই-কমার্স ওয়েবসাইট www.rang-bd.com এবং rang bangladesh রঙ বাংলাদেশ ফেসবুক পেজে। অর্ডার করলেই হোম ডেলিভারি সার্ভিস এর মাধ্যমে পণ্যটি পৌঁছে যাবে আপনার ঘরে নিরাপদে। যেকোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৭৭৭৪৪৩৪৪ ও ০১৭৯৯৯৯৮৮৭৭ এই হোয়াট্সআপ নাম্বারে।