বিউটি আর্টিস্ট হয়েছি, তাই বাবা সার্টিফিকেট ছুড়ে ফেলেন
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বিউটি আর্টিস্ট পেশাটিকে এখনও আমাদের সমাজে অনেকেই স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখে না। আমার পরিবারও দেখতো না। তারা কোনোদিন চাইতো না আমি একজন বিউটি আর্টিস্ট হই। এটি যে একটি সৎ পেশা, এখান থেকেও যে স্বাবলম্বী হয়ে একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠা যায়, সেই বিষয়টি বোঝাতে আমাকে যথেষ্ট কাঠ-খড় পোহাতে হয়েছে, বলছিলেন ময়মনসিংহের রিমু’স মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালনের কর্ণধার রুখসানা রিমু।
ছোটবেলা থেকে মেকওভারের বিষয়টি ভীষণ পছন্দ ছিল রুখসানা রুমির। মানুষকে সাজাতে এবং সাজের খুঁটিনাঁটি বিষয়গুলোকে সূক্ষ্মভাবে জানতে তাঁর ছিল তীব্র আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকে ২০২১ সালে বিউটি ও গ্রুমি সেক্টরের পথ প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান উজ্জ্বলা থেকে বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স শুরু করেন।
কোর্স শেষ করে বর্তমানে ময়মনসিংহে তার নিজস্ব বিউটি পার্লার দিয়েছেন। প্রতি মাসে আয়ে করছেন প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। রিমু বলেন, ‘আমি যখন কোর্স শেষে করে বাবার কাছে গিয়ে সার্টিফিকেটটি দেখাই। তখন বাবা সেটাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। সেই অসম্মান আমাকে তীব্র জেদি করে তোলে। আমার জেদ ছিল, এই পেশায় কাজ করে সফল হয়ে মা-বাবার সামনে দাঁড়াবো, যেন তারা করে আমাকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।’

‘উজ্জ্বলা প্রত্যেকটি নারীর জীবনকে বদলে দিতে সক্ষম। এখানে কোর্স করে আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করি। আসলে একজন মেয়ে স্বাধীনভাবে নিজেকে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা করতে চাইলে, এই পেশাটি সহজেই বেছে নিতে পারে,’ বলছিলেন রিমু।
নিজে যেমন একজন সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন, তেমনি ভবিষ্যতে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের নিয়ে কাজ করে যেতে চান এই বিউটি আর্টিস্ট।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৭৪তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
https://www.facebook.com/UjjwalaBD
https://www.instagram.com/UjjwalaBD/
ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭
বাঁধনের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের হিন্দি ভার্সন
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের কন্যা ইয়াসমিন ফাইরুজ বাঁধন একসঙ্গে প্রকাশ করেছেন দুটো রবীন্দ্রসংগীত। একটি ‘মনে রবে কিনা রবে আমারে’ অপরটি ‘পুরনো সেই দিনের কথা’। তবে দুটো গানটি প্রকাশ হয়েছে হিন্দি ভাষায়।
গান দুটি একই দিনে প্রকাশ পেয়েছে ‘বাঁধন’স প্লেলিস্ট’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে থেকে। গান দুটোর সংগীতায়োজন করেছেন স্বনামধন্য মিউজিক ডিরেক্টর অজয় মিত্র। দুটো গানের লিরিক ভিডিও তৈরি করেছেন অর্পণ মিত্র।
নতুন গান প্রকাশের বিষয়ে বাঁধন বলেন, ‘শ্রোতাদের অনেক প্রশংসা পাচ্ছি। আম্মুও বেশ ভালো বলেছেন। যেহেতু আম্মু ভালো বলেছেন, এটা আমার জন্য বিশাল পাওয়া। গান দুটি করার আইডিয়া ছিল অজয় মিত্রের। তিনি আম্মারও একটা গান করেন। অজয় মিত্র যখন জানলেন আমি নতুন ইউটিউব চ্যানেল খুলেছি, তখন রবীন্দ্রনাথের দুটি গান গেয়ে চ্যানেলে দিতে বললেন।’
এ ছাড়া অজয় মিত্রের কথা ও সুরে একটি মৌলিক গান করেন বাঁধন। বাঁধন বলেন, ”এরপর রবীন্দ্রনাথের আরো দুটো গানের ইংরেজি ভার্সনে করার ইচ্ছা রয়েছে।”
স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে দিয়েছে উজ্জ্বলা
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এলাকারই এক পার্লার থেকে বিউটিফিকেশনের টুকটাক কাজ শেখে খাদিজা ইসলাম লোপা। তবে ২০০৭ সালে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সেই কাজ একদমই বন্ধ হয়ে যায়। বাবার বাড়ি ও শ্বশুড় বাড়ির মানুষ তেমন চাইতো না এই কাজটি আর করুক।
তবে তার ভেতরে ছিল তীব্র ইচ্ছা। সুযোগও হয়ে গেল। ২০২৩ সালে কক্সবাজারে বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’ ও বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং সেক্টরের পথ প্রদর্শক উজ্জ্বলার যৌথ উদ্যোগে ১০ দিন ব্যাপী একটি প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে যায় খাদিজা।
সেই কোর্স করে বর্তমানে ফ্রি ল্যান্সার মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে এখন কাজ করছে। নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেছে আরো এক ধাপ। খাদিজা বলেন, ‘মেকআপের বিষয়টি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আমি অনেক আগে শিখেছিলাম। নতুন বিষয়গুলোর সঙ্গে একদমই পরিচিত ছিলাম না। খুব ইচ্ছা করতো শিখতে। তবে চকোরিয়ায় বিয়ে হওয়ায় সেখানে ভালো কোনো শেখার জায়গাও ছিল না। আর পরিবার থেকেও সহযোগিতা পেতাম না। আমার স্বপ্ন অধরাই রয়ে যায়। ‘

চকোরিয়া হস্তশিল্প সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য খাদিজা।বিউটিফিকেশনের পাশাপাশি ব্লকের কাজ, নকশি কাঁথার কাজ বেকিং করতে পছন্দ করেন তিনি। তবে এসব কাজ করতে গিয়েও অনেক বাঁধার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বলেন, “কোর্স শেষ করে আসার পর এলাকার অনেকেই বলছে, এই বয়সে এগুলো শিখে কী করবে? এসব শেখার কী কোনো প্রয়োজন রয়েছে? বাচ্চা-কাচ্চা মানুষ করো। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে থাকো, সংসার করো। তখন তাদের আমি বলি, আমার জীবনে কখন যে কোন বিষয়টির প্রয়োজন হবে, জীবনের অবলম্বন হয়ে দাঁড়াবে, তা কী আপনারা বলতে পারবেন?’ একটা সময় এসব কথা খুব আঘাত দিত। জীবনে অনেক পিছিয়ে পড়েছি। কিন্তু এখন আর এসব কথা পাত্তা দিই না। একজন গ্রামীণ নারী হিসেবে আমি স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছি, এটা আমার জন্য অনেক বড় বিষয়।”

‘তবে আমার স্বামী আমাকে বিউটিফিকেশনের কাজ শিখতে খুব সহযোগিতা করেছেন। তাঁর সহযোগিতা না পেলে হয়তো এত দূর আশা হতো না। আর এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সরকার ও উজ্জ্বলার এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আমার মতো অনেক নারীই আজ এই প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারছে, যারা হয়তো কখনো সাহসই পায়নি নিজের পায় দাঁড়াবার’, বলছিলেন খাদিজা।
খাদিজা স্বপ্ন দেখেন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার, যেখানে একসঙ্গে বিউটি স্যালন ও বুটিকস একসঙ্গে থাকবে। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন গ্রামীণ এই নারী।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৭৩তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
https://www.facebook.com/UjjwalaBD
https://www.instagram.com/UjjwalaBD/
ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭
ঘুম কম হলে দেহে কী ঘটে ?
কানিজ ফাতেমা মিথিলা
একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষের দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গভীর ঘুমের খুবই প্রয়োজন। আপনি কি জানেন, টানা ঘুমের ঘাটতি হলে আপনার শরীর ও মনে ঠিক কী কী ঘটতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ঘুম কম হলে একদিকে যেমন রয়েছে মুটিয়ে যাওয়ার ভয়, তেমনি অন্যদিকে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার শঙ্কা।
ঘুম কম হলে আপনার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বেড়ে যাবে অ্যালার্জি, ঠান্ডা-কাশি, অ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের নানান রোগ। অপর্যাপ্ত ঘুম ব্যাঘাত ঘটায় হজম প্রক্রিয়ায়, এমনকি ঘটাতে পারে হরমোনাল ইমব্যালেন্স। আবার দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুম কম হলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এতে দীর্ঘ মেয়াদে স্মৃতিভ্রষ্ট রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ডিপ্রেশন, আত্মহত্যার প্রবণতাসহ মানসিক রোগের শঙ্কাও তৈরি হয়।
সূত্র : স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল হেলথলাইন
কথার এগিয়ে যাওয়ার কথা
শাশ্বতী মাথিন
জন্মের পর থেকে যখন বুঝতে শিখলেন, তিনি নারীও নন, পুরুষও নন; তখন থেকে এক ভিন্ন লড়াই শুরু হয় ইভান আহমেদ কথার জীবনে। আর সেটি ছিল নিজের ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া পরিচয়কে ছাপিয়ে সবকিছুতে প্রথম হওয়ার লড়াই।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথম হিজড়া নৃত্যশিল্পী হিসেবে বিজয়ী হন তিনি। ২০২১ সালে ৫০ কিলো ম্যারাথন দৌড়ে পাস করেন। ২০০৯ সালে তাঁর এক ঘণ্টার নাটক জমা হয় বিবিসি ওয়ার্ল্ডে। এই বছর বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদ লাভ করেন।
তিনি একাধারে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাকটিভিস্ট, মানবাধিকারকর্মী, নৃত্যশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, লেখক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি সম্প্রতি উজ্জ্বলা থেকে বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন।

‘ বনফুল ভাসমান বিউটি পার্লার ‘ নামে তাঁর নিজের একটি বিউটি স্যালন রয়েছে। এখান থেকে ট্রান্সজেন্ডারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছেন। কথা বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের জীবনেই চড়াই-উতরাইয়ের গল্প রয়েছে। তবে একজন ট্রান্সজেন্ডারের ক্ষেত্রে এই গল্পটি যেন ভিন্ন রকম। প্রথমে তাঁর নিজের দেহকে স্বীকার করে নেওয়ার লড়াই। এর পর সমাজে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। সেটাই আসলে করে যাচ্ছি।’
১৯৯৫ সালে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের জন্য সংগঠন নারীপক্ষ-এর নেত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অধিকার, আন্দোলন ও মানবাধিকার বিষয়ে ধারণা নেন কথা। এরপর ১৯৯৭ সালে কান্দাপট্টি ইংলিশ রোড পাড়া উচ্ছেদ নিয়ে আন্দোলনে নেমে পড়েন। আর পেছনে ফিরে তাকাননি। শুরু হয় তাঁর অধিকার আন্দোলন।

১৯৯৯ সালে নারায়ণগঞ্জের যৌনপল্লি উচ্ছেদ নিয়ে ৮৬টি সংগঠন মিলে তৈরি হয় একটি মানবাধিকার নেটওয়ার্ক– সংহতি। বর্তমানে সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিমুহূর্তে চাই আমার কমিউনিটির মানুষ যেন অবহেলা বা বৈষম্যের শিকার না হয়ে সমাজে অন্য সাধারণ মানুষের মতো সম্মানের সঙ্গে কাজ করে যেতে পারে। আর এই জন্য আমার সকল কাজ।’
‘অনাথ শিশুদের জন্য আমার একটি স্কুল রয়েছে। কথা কলা কেন্দ্র নামে। সেখানে যৌনকর্মীদের শিশু, হিজড়া শিশু, ভিক্ষা করে সেই শিশু, বাসায় কাজ করে সেই শিশু এবং গৃহকর্মীদের শিশুরা লেখাপড়া করে। বনফুল নামে আমার যে বিউটি স্যালনটি রয়েছে, সেখান থেকে মাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। এটাও আমার জন্য বেশ আনন্দের,’ বলছিলেন কথা।

২০২৩ সালে জয়িতা ফাউন্ডেশন ও উজ্জলার উদ্যোগে একটি প্রশিক্ষণের সুযোগ হয় জানিয়ে কথা বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণের একটি ব্যাচ ছিল কেবল ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিদের নিয়ে। সরকার ও উজ্জ্বলার এই যৌথ উদ্যোকে প্রশংসা জানাই। এই প্রশিক্ষণ আমার জীবনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আমি এখান থেকে কাজের কৌশল শিখেছি। ভবিষ্যতে আমার স্যালন থেকে আরও ট্রান্সজেন্ডারকে প্রশিক্ষণ দেবো এবং তাদের উন্নয়নে আরও কাজ করব– এটাই আশা।’
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৭২তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
https://www.facebook.com/UjjwalaBD
https://www.instagram.com/UjjwalaBD/
ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭
পূজায় মিষ্টান্ন বুন্দিয়ার পায়েস
সুপ্রিতী গােস্বামী
মিষ্টান্ন ছাড়া যেকোনো উৎসব-পার্বন কল্পনাই করা যায় না। পোলাও চালের পায়েস তো অনেক খেয়েছেন, তবে বুন্দিয়া দিয়ে তৈরি পায়েস কি কখনো চেখে দেখেছেন? এবারে সাতকাহনের পাঠকদের জন্য রইল এই ভিন্নধর্মী মিষ্টান্ন বুন্দিয়ার পায়েস।
উপকরণ
শুকনো বুন্দিয়া- ২৫০ গ্রাম
দুই – ২ কেজি
চিনি – ১৫০ গ্রাম
ছোট এলাচ – ৪ টা ( এলাচের ফলগুলো বের করে চিনি দিয়ে মিহি করে পিষে নিতে হবে)
ঘি- ১ চামচ
কাজু- হাফ কাপ
কিসমিস – ১০ গ্রাম
তেজপাতা – ২ টি
খোয়া ক্ষীর – ১০ গ্রাম
যেভাবে রান্না করবেন
দুধ জ্বাল দিয়ে শুকিয়ে ১ কেজির মতো করতে হবে। জ্বাল দেওয়ার সময় তেজপাতা ও চিনি দিন। দুধ একটু ঘন হয়ে এলে ড্রাই ফ্রুটসগুলো দিয়ে নাড়াচাড়া করে, শুকনো বুন্দিয়া, এলাচ গুঁড়া, খোয়া ক্ষীর ও ঘি দিতে হবে।
এবার আঁচ কমিয়ে পাঁচ মিনিট রেখে নামিয়ে গরম গরম লুচির সঙ্গে পরিবেশন করুন বুন্দিয়ার পায়েস।
লেখক : রূপবিশেষজ্ঞ ও রন্ধনশিল্পী
পুজোর খাবারে ভিন্নধর্মী ২ নিরামিষ
সুপ্রিতী গােস্বামী
পুজোর খাবার মানেই একটু জমপেশ ও ভিন্নধর্মী আয়োজন। পুজোর আয়োজন চলবে, আর নিরামিষ রান্না হবে না তা কী হয় ? তাই, পাঠকদের জন্য রইল নিরামিষের দুইটি ভিন্নধর্মী রেসিপি।
১. মােচার পােলাও কাটারিভোগ চাল দিয়ে
উপকরণ
কাটারিভোগ চাল – ২৫০ গ্রাম
মােচা – ১ টি মাঝারি আকারের
ছোট মটর ডাল – ৫০ গ্রাম
ছোট মটর ডাল – ১ কাপ
আলু – ৬ থেকে ৭ টি
ঘি – ২ চা চামচ
লবণ – স্বাদ মতো
হলুদ – সামান্য
তেজপাতা- ২টি
সয়াবিন তেল পরিমাণমতো
দারুচিনির কাঠি – ২ টি
গোটা জিরা – সামান্য
আদা বাটা – ২ চা চামচ
জিরা বাটা – ২ চা চামচ
ভাজা মসলা ( জিরা, গরম মসলা, লবঙ্গ, ছোট এলাচ ও বড় এলাচ) – ১ চা চামচ
কিসমিস -১০ গ্রাম
শুকনো মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ

যেভাবে রান্না করবেন
প্রথমে ডাল ভিজেয়ে মিহি করে বেটে নিতে হবে। অন্যদিকে চাল ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিন। মোচা বেছে, কেটে লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। আলুগুলোকে ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে।
এবার বেটে রাখা ডালে লবণ ও হলুদ দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে ছোট ছোট বড়া ভেজে নিন। এরপর কড়াইয়ে তেল দিয়ে এতে, গোটা জিরা, তেজপাতা, ছোট এলাচ ফোঁড়ন দিয়ে ভাজুন। একটু ভাজা হলেই এতে আলু দিয়ে লাল করে ভেজে নিন। হয়ে আসলে এতে মোচা দিয়ে আবার ভাজতে হবে। মোচার জল শুকিয়ে গেলে বাটা মসলা, লবণ, হলুদ, শুকনো মরিচ গুঁড়া দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। কষতে কষতে তেল উঠে এলে চাল দিয়ে হালকা ভেজে পানি দিয়ে ঢেকে দিন।
পানি অল্প থাকতেই এতে ভেজে রাখা বড়া, কিসমিস, সামান্য চিনি দিয়ে আঁচ কমিয়ে দিয়ে দমে রাখুন। নামানোর আগে ঘি দিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম মোচা দিয়ে কাটারিভোগ চালের পোলাও।
২. পনিরের চপ
উপকরণ
পনির – ২০০ গ্রাম
বেসন – ১ কাপ
লবণ – পরিমাণ মতো
গরম মসলা গুঁড়া- সিকি চা চামচ
জিরা গুঁড়া- সামান্য
শুকনো মরিচ গুঁড়া- স্বাদ মতো
আমচুর পাউডার- সামান্য
চালের গুঁড়া- ২ চা চামচ
ময়দা- সামান্য
বেকিং পাউডার – সামান্য

যেভাবে রান্না করবেন
পনিরগুলোকে পছন্দমতো আকারে পাতলা করে কেটে নিন। সব উপকরণ সামান্য তেল দিয়ে পানি দিয়ে ফাটিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন।
এরপর কড়াইয়ে তেল দিয়ে সম্পূর্ণ আঁচে গরম করে নিন। ধোঁয়া উঠতে থাকলে আঁচ একদম কমিয়ে কেটে রাখা পনিরগুলো ব্যাটারে ডুবিয়ে তেলে ছেড়ে মধ্যম আঁচে ভাজুন। পনির বাদামি হয়ে এলে কড়াই থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন, ভাত অথবা পোলাওয়ের সঙ্গে ৷
লেখক : রূপ বিশেষজ্ঞ ও রন্ধনশিল্পী
পূজায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা
শাশ্বতী মাথিন
পূজা দোরগোড়ায়। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার পর্ব চলছে এখন। হয়তো গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন, পিসির জন্য একটা শাড়ি বা বড় দিদির জন্য একটা টপস কেনা বাদ পড়ে গেছে। অথবা কয়েক দিন আগে মার্কেটে দেখে এসেছেন একটা সুন্দর নকশার হাফ সিল্ক শাড়ি। তাড়াহুড়ায় সেটা কেনা হয়নি। আজ মনে হলো, সেটি কিনে নিই।
আসলে যে কোনো উৎসবে শেষ মুহূর্তে কেনাকাটাগুলো এমনই। তাই আপনাদের সুবিধার্থে সাতকাহন জানাচ্ছে পূজার বাজারে কী রয়েছে এবার।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পূজাকে ঘিরে রয়েছে আরামদায়ক, সময় উপযোগী ও উৎসবধর্মী পোশাকের আয়োজন। মেয়েদের জন্য থাকছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টপস, টিউনিক, কটি, ওড়না, ওয়ান পিস, টু পিস, স্কার্ট ও অন্যান্য বোটম-ওয়্যার। পোশাকের নকশায় রয়েছে ফ্লোরাল, ওয়াটার লিলি, ট্রাইবাল, আলাম, ইক্কত, মুঘল, ট্র্যাডিশনাল, দুর্গার ফটোচিত্র ও মিক্সড মোটিফের ব্যবহার। প্যাটার্নে ভিন্নতা এনে ক্ল্যাসিক লুকের সঙ্গে রেট্রো লুকের কম্বিনেশনে আনা হয়েছে।
ফ্যাশন হাউস কে-ক্র্যাফটের স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘পোশাকের জন্য ফেব্রিক নির্বাচনে উৎসবভিত্তিক পরিবেশে স্বস্তিতে থাকাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকছে কটন, হ্যান্ডলুম কটন, সুইস কটন, লিনেন, হাফ সিল্ক, জর্জেট, সিল্ক, মম সিল্ক, ডুপিয়ন সিল্ক, কাতান, এলেক্স, অরগাঞ্জা ফেব্রিক। মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার হয়েছে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন-ব্লকপ্রিন্ট ও কারচুপির কাজ।’
পূজার পোশাকে রঙের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে রেড, পিঙ্ক, চেরি পিঙ্ক, পাউডার পিঙ্ক, মেরুন, মেজেন্টা, হোয়াইট, অফ-হোয়াইট, ক্রিম, ব্রিক রেড, অরেঞ্জ, স্যালমন অরেঞ্জ, টেন ব্রাউন, মেরি গোল্ড, ল্যাভেন্ডার, নেভি, কোরা, কোরাল রেড, ক্রিমসন রেড, হলুদ, গেরুয়া ইত্যাদি।

রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার সৌমিক দাস জানান, জন্মলগ্ন থেকেই ক্রেতার পছন্দ, সন্তুষ্টি ও স্বাছন্দ্য ধরে রাখাই রঙ বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। দুর্গোৎসব বাংলার সংস্কৃতির একটি বৃহত্তম অংশ। একসময় দুর্গাপূজার কেনাকাটার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা হতো। এই বিষয়টি থেকে বেরিয়ে আসতে যে কয়টি ফ্যাশন হাউস পোশাকশিল্পের নান্দনিক সব সৃষ্টি দিয়ে নির্ভরতা কমিয়েছে, এর মধ্যে রঙ বাংলাদেশ অন্যতম। রঙ বাংলাদেশে এবার আয়োজনে থাকছে অনিন্দ্যসুন্দর সব শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, উত্তরীয়, ব্যাগ, গহনাসহ পোশাক ও অ্যাক্সেসরিজের বিশাল সম্ভার। পাবেন বাবা-ছেলে, মা-মেয়ের ম্যাচিং পোশাক, কাপল প্যাকেজ; ডুয়েট প্যাকেজ আর পরিবারের সকলের জন্য একই ডিজাইনের ফ্যামিলি প্যাকেজ।

ফ্যাশন হাউস হরিতকীর ফ্যাশন ডিজাইনার অনিক কুণ্ডু বলেন, ‘দুর্গাপূজায় সব সময় আমরা একটু ভিন্নতা আনার চেষ্টা করি। এবার অনেক শাড়িতে নকশার ক্ষেত্রে আঁচলে ও পাড়ে দুর্গার অবয়ব আনা হয়েছে। ওড়নাতেও আনা হয়েছে একই ধরনের নকশা। এ ছাড়া বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির মুখাবয়বের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে পোশাকে।’

দুর্গাপূজার পোশাকে এবার ছেলেদের জন্য রয়েছে রেগুলার ও ফিটেড পাঞ্জাবি। এ ছাড়া রয়েছে কাট বেইসড একরঙা পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির সঙ্গে পরার জন্য কালেকশনে রয়েছে কাতান, সিল্ক ও কটন কাপড়ে হালকা ও ভারী প্রিন্ট করা কটি। আরও পাওয়া যাচ্ছে স্মার্ট ক্যাজুয়াল শার্ট, অ্যাথনিক শার্ট, ফতুয়া, পলো শার্ট ও টি-শার্ট।
মেয়েশিশুদের জন্য উৎসবভিত্তিক পোশাকে থাকছে সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক, কুর্তি, টপস, লেহেঙ্গা সেট ও অন্যান্য পোশাকের সেট। ছেলেশিশুদের জন্য পাঞ্জাবি, শার্ট, কটি, ফতুয়া, পোলো শার্ট, টি-শার্টসহ নানা আয়োজন।

তাহলে আর দেরি কেন? জলদি জলদি সেরে নিন পূজার কেনাকাটা, আর উৎসবের মুহূর্তগুলো করুন আনন্দঘন।


