Sunday, September 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 71

শীতের ৫ খাবার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
শীত অনেকের কাছেই মন বিষণ্ণ করা ঋতু হলেও, এই সময়ের সবজি ও ফল কম-বেশি সবারই পছন্দ। শীতকালিন খাবার কেবল যে রসনার তৃপ্তি মেটায় তা নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি নেই।

শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এমন পাঁচ খাবারের নাম জানিয়েছে পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি। আসুন জানি-

ফুলকপি

শীতের সবজি মানেই ফুলকপি। পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফোলেট, ভিটামিন বি এর পাশাপাশি ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার ফুলকপিতে যথেষ্ট পরিমাণ রয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এর জুড়ি নেই। এ ছাড়া ওজন কমাতে যারা মরিয়া হয়ে রয়েছেন, তাদের জন্যও ফুলকপি বেশ উপকারী।

মুলা

এটি ভিটামিন ও মিনারেলসে ভরপুর। একে বলা হয়, সুপার ফুড। থায়ামিন, ফোলেট, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ফাইবার- কমবেশি সবই রয়েছে মুলায়। তবে এর কটু গন্ধের কারণে অনেকের কাছে অপছন্দের হলেও পুষ্টি বিবেচনায় এটি অনন্য।

মুলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর খাদ্যতালিকায় এই খাবারটি রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া লিভারের সুস্থতার জন্য মুলা বেশ কার্যকর। ক্যানসার প্রতিরোধেও এটি সহায়ক। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে তিনদিন এই খাবারটি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

সিম

কপার, ফোলেট, ফসফরাস, ভিটামিন বি , ফাইবার, প্রোটিন রয়েছে সিমে। শীতের সবজি হিসেবে সিমের গুরুত্ব অনেক। যাদের রক্ত স্বপল্পতা রয়েছে (বিশেষত বয়োঃসন্ধিকালে মেয়েদের রক্ত স্বল্পতার ঝুঁকি বেশি), তারা শীতের সবজি হিসেবে এটি খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। এ ছাড়া সিম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

জলপাই

জলপাই হারের সুস্থতা রক্ষার্থে কার্যকর। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের পাশাপাশি ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও সোডিয়াম থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী। এটি ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

কাঁচা টমেটো

কাঁচা টমেটো সারা বছর পাওয়া যায় না। শীতে কাঁচা টমেটো সালাদ হিসেবে বা রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লাইকোপেন, সোডিয়াম, আঁশ। এটি হৃদরোগ ও ক্যানসার প্রতিরোধে উপকারী।

শীতে মেকআপের আগে ত্বক প্রস্তুত করবেন কীভাবে?

সোনিয়া খান

শীতে যেহেতু ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, আর্দ্রতা হারায়, তাই মেকআপের আগে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার করে নিতে হবে। যাদের তৈলাক্ত ত্বক, তাদের ক্ষেত্রে ঝামেলা অনেকটা কম পোহাতে হয়। তবুও ময়েশ্চারাইজার করে নেওয়া জরুরি।

শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ভালোভাবে পরিষ্কার করে অ্যালকোহল ফ্রি টোনার ইউজ করবেন। এরপর যেকোনো ফেস অয়েল মুখে মেখে দুই মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। এবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে মেকআপ শুরু করুন।

শীতের কারণে অনেকেই পানি কম পান করে। এতে শীতকালে আমাদের ত্বক পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। এতে ত্বক ভালো থাকবে। ত্বক ভালো থাকলে অল্প মেকআপেই সুন্দর লাগে। পাশাপাশি ত্বকের যত্নে একটি রুটিন মেনে চলুন।

শীতের সময় হালকা মেকআপই করুন। এখন এই ধরনের মেকআপেরই চল। আর এটি দেখতেও ভালো লাগে। অনুষ্ঠানের জন্য ভিন্নরকম লুক পেতে খুব গাঢ় লিপস্টিক ব্যবহার করলে চোখের মেকআপটা হালকা হবে। একটা কিংবা দুটো আইশ্যাডো ব্যবহার করে একটু আইলাইনার টেনে নিতে পারেন। এই ক্ষেত্রে বেইজ মেকআপটা হালকা হবে। খুব বেশি পাউডার ব্যবহার করবেন না, অতিরিক্ত পাউডার ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। মেকআপ-এ ডুই একটা ভাব রাখার চেষ্টা করুন।

শীতকালে চেষ্টা করবেন ময়েশ্চারাইজারযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে। লিকুইড ফাউন্ডেশন, হাইলাইটার, ব্লাশন ব্যবহার করা যেতে পারে। খুবই অল্প লুজপাউডার/ডাস্ট পাউডার দিয়ে ফেসটাকে সেট করবেন, যেনো এদিক সেদিক ছড়িয়ে না যায়। পাউডার বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।

ময়েশ্চারাইজার এর ক্ষেত্রে বর্তমানে এমব্রেলিসের ময়েশ্চারাইজার অধিকাংশ আর্টিস্টদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। যেটা সব ধরনের ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এই ক্ষেত্রে শুষ্ক ত্বকে একটু বেশি পরিমাণে এবং তৈলাক্ত ত্বকে একটু কম পরিমাণে ব্যবহার করতে হয়।

এ ছাড়া শুষ্ক ত্বকে সিটাফিল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। সব ধরনের ত্বকের জন্য নিভিয়া সফ্ট ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

লেখক : রূপ বিশেষজ্ঞ

অণুলিখন
অপরাজিতা অরু

শিশুর অ্যাজমা : কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন ?

ডা. সজল আশফাক

শিশুর হাঁপানি বা অ্যাজমা অভিভাবকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হলেও বর্তমানে সে অবস্থার অনেকটা পরিবর্তন ঘটেছে। কারণ, হাঁপানি নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি এবং সেইসঙ্গে আধুনিক পরিকল্পিত চিকিৎসা ব্যবস্থা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অভিভাবকদের অনেকটা স্বস্তি দিতে সমর্থ হয়েছে।

সাধারণত হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে গেলে বুকের মধ্যে বাঁশির মতো চিঁ চিঁ শব্দ হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় হুইজ।
সে ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবকই শিশুর হাঁপানি রয়েছে কি না, সেটি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। প্রকৃতপক্ষে হাঁপানি রোগীদের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রেই ‘হুইজ’ থাকে না বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস হেলথ সায়েন্স সেন্টারের শিশু বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক টেড নিকার।

উপসর্গ
• কাশি হচ্ছে হাঁপানির সবচেয়ে পরিলক্ষিত উপসর্গ। এই কাশির প্রকোপ রাতেই বেশি দেখা দেয়।

• এ ছাড়া বুক চেপে ধরার অনুভূতির কথা বলতে পারে শিশু। সঙ্গে কিছুটা শ্বাসকষ্টও থাকে।

• খেলাধুলা করতে গেলে কিংবা চলাফেরা করতে যাওয়ার সময় শিশু পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে।

হাঁপানি বেড়ে গেলে কী হয়?
• শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে ব্যবহৃত বাতাস চলাচলের পথ সরু হয়ে যায়।

• ফুসফুসে বাতাস চলাচলের পথ এ সময় প্রদাহযুক্ত হয়ে ফুলে ওঠে।

• বাতাস চলাচলের কাজে ব্যবহৃত ফুসফুসের নালির মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং সেখানে আঠালো পদার্থের নিঃসরণ ঘটে। এটি স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসকে ব্যাহত করে।

হাঁপানি সম্পর্কে প্রশিক্ষিত বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে খুব সহজেই শিশুর হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে হাঁপানি কখনো কখনো তীব্র আকার ধারণ করে শিশুর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

যেসব উপসর্গ দেখলে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নেবেন :
• শিশুর তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে। শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুর ‘কলার বোন’ এবং পাঁজরের হাড় যদি ভেসে উঠলে।

• শ্বাসকষ্টের কারণে শিশু কথা বলতে ব্যর্থ হলে বা কথা বলতে অসুবিধা হলে।

• শিশু বসে উপুড় হয়ে শ্বাসকষ্ট উপশমের চেষ্টা করলে।

• প্রতি শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাঁশির মতো চিঁ চিঁ শব্দ হলে।

• শিশু দাঁড়াতে গিয়ে শ্বাসকষ্টের কারণে বসে পড়লে আবার ভালোভাবে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকলে।

• কোনো কিছু পান না করতে পারলে বা খেতে না চাইলে।

• ইনহেলার ব্যবহারের ১৫ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে।

যেহেতু হাঁপানির কারণে মৃত্যু হওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়, কাজেই হাঁপানির তীব্রতা বাড়লে শিশুকে দ্রুত হাঁপানির চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে এমন হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

লেখক : নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ

পোশাকে বিজয়ের উৎসব

অপরাজিতা অরু

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে করেছে গৌরবান্বিত। আমরা পেয়েছি লাল সবুজের একটি পতাকা। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ।

১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র সারা দেশ সেজে ওঠে লাল সবুজের রঙে। পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বাঙালি মেতে ওঠে প্রাণের আয়োজনে। এর অনেকটাই ফুটে ওঠে পোশাকে। তাই বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউজগুলোতে থাকছে বিজয়ের রঙে বর্ণিল সব পোশাক।

ছবি : কে ক্র্যাফট

ফ্যাশন আর স্টাইলের সঙ্গে বিজয়ের থিমকে মাথায় রেখে পোশাকে আধিক্য পেয়েছে লাল সবুজের। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ছাড়াও থাকছে শীতের পোশাকও। যেগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাঁথা, বালাদেশের পতাকা মানচিত্র, বঙ্গবন্ধুর ছবি সহ দেশীয় নানান চিত্র ফুটে উঠেছে। লাল সবুজ ছাড়াও কমলা, হলুদ সহ নানা রঙের পোশাক তৈরি করছে হাউজগুলো। দেশী কাপড় ও ঐতিহ্যের বাহক বিভিন্ন চিত্র যেনো দেশপ্রেমেরই একটা অংশ।

ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফট এর সহকারী সাধারণ ব্যবস্থাপক নাসির আহমেদ জানালেন, ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফটের এবারের বিজয় ২০২৩ আয়োজন থাকছে, প্রধানত রাগ, ডুডলিং, জিওমেট্রিক, জামদানি, ট্র্যাডিশনাল সহ নানা মোটিফের অনুপ্রেরণায়। এ ছাড়াও থাকছে বাংলাদেশের পতাকা এবং মানচিত্র নিয়ে করা নানা পোশাক। শাড়ি, পাঞ্জাবি, কুর্তি, থ্রিপিস ছাড়াও শীতের চাদরে শোভা পেয়েছে ডিজাইনগুলো।দেশীয় কাপড়ে তৈরি করা এসব পোশাকের দাম থাকছে ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

বাজার ঘুরে দেখা গেলো, কটন, কোটা কটন, লিনেন, নিট ও তাঁতের মতো আরামদায়ক ফ্যাব্রিকে তৈরি পোশাকগুলোতে নকশা ফুটিয়ে তুলতে , হাতের কাজ, অ্যামব্রয়ডারি ও স্ক্রিনপ্রিন্ট করা হয়েছে। রং হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, গ্রিন, অফ- হোয়াইট, বোটল গ্রিন, ফরেস্ট গ্রিন, পেইল গ্রিন, রেড, অরেঞ্জ। তবে অন্যান্য রঙের সমন্বয়ও থাকছে।

শিশু থেকে তরুণ-তরুণী ও বয়োবৃদ্ধ সবাই দেশীয় চেতনার ছোঁয়ায় পোশাকে রাঙিয়ে তোলেন নিজেদের। শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি যেটাই হোক সবুজ জমিনের একটি পোশাক শুধু বিজয়েই নয়, সারা বছরের পরিধেয় হোক। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দেশপ্রেম জড়িয়ে থাকুক বছর জুড়ে।

আফরোজা পারভীনের ছোঁয়ায় নতুন ‘সকাল’

শাশ্বতী মাথিন

মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ ২০২৩–এর দ্বিতীয় রানারআপ ইয়াসিন আহমেদ সকালকে বিউটিফিকেশনের মাধ্যমে নতুনভাবে রূপান্তর করেছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিউটি আর্টিস্ট ও রেড বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী আফরোজা পারভীন। এই লুকে আফরোজা পারভীন মডেল সকালকে দিয়েছেন সম্পূর্ণ নারীরূপ।

এ উপলক্ষ্যে আজ সোমবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে রেড বিউটি স্টুডিও ও স্যালনে এক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়।

আফরোজা পারভীন সকালকে সাজিয়েছেন চারভাবে। চারটি লুক তিনি তৈরি করেছেন। একজন ট্রান্সজেন্ডার নারীকে নতুন করে সম্পূর্ণ নারীরূপে সাজানোর বিষয়ে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশে সকালকে দেখে আমার মনে হয়েছে ওর মধ্যে বোল্ডনেস রয়েছে, বিউটি রয়েছে। আর যে নারীসত্তাকে আমরা দেখতে চাই, সেই খাঁটি নারীসত্তা রয়েছে সকালের মধ্যে। অথচ এটা প্রকাশ করা তার জন্য কঠিন। জীবনের যে যুদ্ধ আমরা সবাই করি, সেও করে। পাশাপাশি নারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার আলাদা একটা লড়াই তাকে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এটাই আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে। এ জন্যই আমি চেয়েছি সকালকে নতুন সকালে রূপান্তর করতে।’

‘এটা বলা যেতে পারে সকালের নারীত্বের উদযাপন। এ ক্ষেত্রে আমার নিরীক্ষা করার ইচ্ছা বেশি কাজ করেছে। তবে আমি অবশ্যই মাথায় রেখেছি নারী হয়ে ওঠার পথে সকালের সংগ্রাম ও ঐকান্তিকতা। তাই সকালকে নতুন রূপে, যথার্থ নারী হিসেবে তুলে ধরার কাজটা অনেকখানি সহজ হয়েছে মনে করি,’ বলেন আফরোজা পারভীন।

আফরোজা পারভীন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গভীর অভিনিবেশে সকালকে দিয়েছেন এক নতুন রূপ। সাজানোর পর নিজের চেহারা দেখে অভিভূত সকাল। বলেছেন, ‘আমি না হাসলেও আমার ঠোঁটগুলো হাসছিল। আমাকে মনে হচ্ছিল একজন রাজকন্যা।’

ইয়াসিন আহমেদ সকাল । ছবি : সংগৃহীত
ইয়াসিন আহমেদ সকাল । ছবি : সংগৃহীত

তাঁর ভেতরের নারীত্বকে এত সুন্দর করে প্রকাশ করা জন্য আফরোজা পারভীনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সকাল বলছেন, ‘তার স্পর্শ আমাকে আমার মায়ের স্পর্শ মনে করিয়ে দিয়েছে। যে সকালের স্বপ্ন আমি ছোটবেলা থেকে দেখেছি, সেই সকাল হয়ে উঠতে পেরেছি আফরোজা পারভীনের কল্যাণে। তার ছোঁয়ায় নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি।’

শিল্পী হিসেবে আফরোজা পারভীন মনে করেন, সকালের মতো আরও সকালকে তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনের তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

ইয়াসিন আহমেদ সকাল । ছবি : সংগৃহীত
ইয়াসিন আহমেদ সকাল । ছবি : সংগৃহীত

সকালের পথচলা

বাংলাদেশের সমাজে একজন ট্রান্সজেন্ডারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে নিজের সত্তাকে প্রকাশ করার যুদ্ধটা কঠিন। কেউ কেউ সেটা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। ইয়াসিন আহমেদ সকাল তাদেরই একজন। সকাল মডেলিং করেন। পাশাপাশি তিনি শান্ত-মরিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজিতে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়ছেন। তিনি সব সময়েই চেয়েছেন তার ভেতরের নারীসত্তার প্রকাশ। তবে সেটা একটা সময় পর্যন্ত সম্ভব হয়নি বলতেই হবে। সমাজের অন্যদের বোঝানো যতটা কঠিন, নিজের পরিবারের সদস্যের বোঝানো কম কঠিন নয়। এরপরও দুরূহ এক পথ তিনি পার করে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। এই জন্যই আজকে দেখা মিলেছে এক নতুন সকালের।

এ ক্ষেত্রে কাজ করেছে সকালের অদমনীয় মনোভাব, সাহস আর ইচ্ছা। এ বছর অনুষ্ঠিত মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ ২০২৩–এ তিনি দ্বিতীয় রানারআপ। এই প্রতিযোগিতা থেকে তার অর্জন আর অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। সেখানেই তাকে চোখে পড়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ আফরোজার পারভীনের। তিনিই সকালকে নতুন সকালে রূপান্তরের ইচ্ছা পোষণ করেন।

সফল প্রশিক্ষক হতে চান ওয়াজিহা

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

একটা সময় পারিবারিকভাবে একটু আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় ওয়াজিহা সাবাকে। তখন ভীষণ রকম জেদ তৈরি হয় নিজের ভেতর। নিজেকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে তোলার একটি তীব্র স্পৃহা তৈরি হয় মনে। সেই থেকে শুরু। প্রথমে রান্নার ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এরপর ব্লক-বাটিক ও পরবর্তী সময়ে বিউটিফেকেশনের ওপর কোর্স করেন।

বর্তমানে নিজের একটি ( অনলাইন-অফলাইন ) বুটিক হাউজ রয়েছে তাঁর। সেখান থেকে মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়। এ ছাড়া অ্যাসিস্টেন্ট ট্রেইনার হিসেবে কাজ করছেন স্কিল সেট ট্রেনিং ইন্সটিউটে। তিনি টনি খান ইন্সটিটিউট (চট্টগ্রাম)- এর কো ফাউন্ডারদের একজন। ওয়াজিহা বিউটিফিকেশনের ওপর একটি ট্রেনিং সেন্টার শুরু করতে যাচ্ছেন। সেটিরও কাজ চলছে।

‘জীবনটা সহজ ছিল না। আর্থিক সমস্যার কারণে একটা সময় ভীষণ হতাশ লাগতো। সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতাম এবং সেই অনুযায়ী পরিশ্রম করি। এরপর আমার মায়ের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেই। বর্তমানে তো নিজের বুটিক রয়েছেই, পাশাপাশি অন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। স্বাবলম্বী হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি,’ বলেন ওয়াজিহা।

ওয়াজিহা সাবা। ছবি : সংগৃহীত
ওয়াজিহা সাবা। ছবি : সংগৃহীত

২০২৩ সালে উজ্জ্বলা ও জয়িতা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে হওয়া চট্টগ্রামে একটি কোর্সে অংশ নেন ওয়াজিহা। বলেন, ‘এই কোর্সটি থেকে বিউটিফিকেশনের ওপর আমি অনেক জেনেছি। এই ধরনের কোর্স নারীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে অনেক সহায়ক। এখন বিউটিফিকেশনের ওপর আরো শিখছি আমি।’

বঙ্গবন্ধু জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতা ২০২৩- এর কুকিং ট্রেডে
জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেন ওয়াজিহা। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সারাদেশ থেকে নির্বাচিত হন সাত জন। এর মধ্যে ওয়াজিহা অন্যতম। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমি একজন সফল প্রশিক্ষক হতে চাই এবং নারী ও যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে চাই। আমার উদ্দেশ্য বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে বিভিন্ন উদ্যোগে তাদের সহয়াতা করা’৷

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৮৫তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

উজ্জ্বলা আমার পথচলাকে মসৃণ করে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

‘ আমরা ছিলাম চার বোন। চার মেয়ে হওয়াতে অনেকের কাছেই বেশ ছোট হতে হতো বাবাকে। সেগুলো ভালো লাগতো না। জেদ ছিল নিজে কিছু করার। সমাজকে দেখিয়ে দেবো মেয়েরাও মা-বাবার ভরসার জায়গা হতে পারে’, বলছিলেন চট্টগ্রামের মেয়ে শিউলি চৌধুরি।

শিউলি চৌধুরি ২০২২ সালে উজ্জ্বলায় বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স করে। তাঁর কাজ শেখার হাতেখড়ি শুরু হয় উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স করে বর্তমানে শিউলি নিজেই একটি পার্লার দিয়েছেন। মাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে সেখান থেকে। এখন শিউলি নিজের খরচ তো চালানই, মা-বাবার সংসারেও কিছু খরচ দেন।

শিউলি বলেন, “সারা জীবন শুধু শুনে এসেছি আমি একটা মেয়ে, আমি কোনোদিন ছেলের মতো করে পরিবারের পাশে থাকতে পারব না। আমার বাবাও মনে করেছে আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। বিষয়গুলো আমাকে খুব আহত করতো। তবে আমার স্বামী আমাকে বিশ্বাস করেছিল। সে বলতো, ‘আমি পারব’। আমি কিন্তু এখন পারছি।”

শিউলি চৌধুরি। ছবি : সংগৃহীত
শিউলি চৌধুরি। ছবি : সংগৃহীত

শিউলি পরিবারের বড় মেয়ে ছিলেন। বাবাকে সাহায্য করবেন, এই চিন্তা থেকে তার বিউটিফিকেশন পেশায় আসা। শিউলি জানান, আসলে ছোটবেলা থেকেই আমি সাজতে ও সাজাতে পছন্দ করতাম। তাই যখন মনে হলো, পরিবারের জন্য আমার কিছু করতে হবে, বিউটিফিকেশনকেই পেশা হিসেবে বেছে নিই। এতে আমার পছন্দের কাজটিও করা হবে, আর টাকাও আয় হবে- এমনটাই ছিল ভাবনা।

‘উজ্জ্বলা আমার পথ চলাকে আরো মসৃণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে কেবল যে বিউটিফিকেশন শিখেছি, তা নয়। আফরোজা পারভীন ম্যামের কাছ থেকে শিখেছি, কীভাবে মানসিক শক্তি ধরে রাখতে হয়, বলছিলেন শিউলি।

শিউলি চৌধুরি। ছবি : সংগৃহীত
শিউলি চৌধুরি। ছবি : সংগৃহীত

নিজেকে যেমন স্বাবলম্বী করেছেন, ভবিষ্যতে নিজের কাজ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আরো নারীকে স্বাবলম্বী করতে চান শিউলি। বলেন, ‘মেয়েরা এগিয়ে যাক; স্বাবলম্বী হওয়ার পথে মেয়েদের যে স্বপ্ন, তা পূরণ হোক এবং পরিবারের একজন শক্তিশালী আয়ক্ষম ব্যক্তি হয়ে উঠুক, এটাই আমার চাওয়া’।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৮৪তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

বিউটিফিকেশনের কাজে জীবন বদলেছে নিশার

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
আর্থিক অস্বচ্ছলতা বেশ ভুগিয়েছে রাজশাহীর মেয়ে শ্রাবণী আক্তার নিশাকে। ২০১৩ সালে তিনি বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স করেন স্থানীয় একটি পার্লারে। সেই কাজ শিখে বাড়িতে ছোট একটি পার্লার দেন। সেখানকার সামান্য আয় দিয়ে বাবা ও নিজের পরিবার চালাতেন।

এরপর উজ্জ্বলা ও জয়িতার যৌথ উদ্যোগে বিউটিফিকেশনের ওপর ১০ দিনব্যাপী রাজশাহীতে একটি কোর্স করেন। সেই কোর্স করে বর্তমানে তিনি আরো দক্ষ হয়ে উঠেছেন। আগে যেখানে ১০ হাজার টাকা আয় হতো, সেখানে এখন অনায়াসে ২০ হাজার টাকা আয় হয়। বিউটি আর্টিস্ট হয়ে শ্রাবণী আক্তার নিশার স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প রইলো পাঠকদের জন্য।

বিউটিফিকেশনে কাজ করে জীবন বদলেছে

আমার মা-বাবা খুব অসুস্থ। তাই তাদের পরিবারের খরচ আমাকেই চালাতে হতো। আমার ভাইয়ের পড়ার সম্পূর্ণ খরচ আমিই বহন করি। পাশাপাশি আমার নিজের সংসারের ব্যয়ভারের অনেকটাই আমার উপর। অস্বচ্ছ্বলতার কারণে ভীষণ হিমশিম লাগতো। শুধু মনে হচ্ছিল, এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া দরকার। এরপর বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্সগুলো করলাম। আমার জীবন এখন অনেকটাই বদলে গেছে।

শ্রাবণী আক্তার নিশা। ছবি : সংগৃহীত
শ্রাবণী আক্তার নিশা। ছবি : সংগৃহীত

রিবন্ডিংয়ের প্রচুর ক্লাইন্ট পাই

২০২৩ সালের জুলাই মাসে রাজশাহীতে উজ্জ্বলা ও জয়িতা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বিনামূল্যে একটি বিউটিফিকেশন কোর্স করানো হয়। এটা ছিল আমার কাছে সুবর্ণসুযোগ। আমি এখানে অংশ নিই। আগে যতটুকু কাজ পারতাম, এই কয়েকদিনের কোর্সে আরো দক্ষ হয়ে উঠি। হেয়ার রিবন্ডিং
এখন খুব ভালোভাবে পারি। কোর্স শেষ হওয়ার পর আমার কাছে ২৩টি রিবন্ডিং করিয়েছি। খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি।

সবসময় স্বাবলম্বী হতে চেয়েছি
আমি সবসময় চেয়েছি নিজেকে স্বাবলম্বী করতে। আমার মনে হতো মেয়ে সন্তান হয়েছি তো কী হয়েছে বাবার পরিবারকে আমি সাহায্য করবো। আর আমার এই স্বপ্নকে শক্তিতে রূপ দিয়েছে উজ্জ্বলা। বর্তমানে নিজেকে গর্ব করে স্বাবলম্বী একজন নারী বলতে পারি। ভবিষ্যতে নিজের পার্লারটিকে আরো বড় পরিসরে আনতে চাই। ভবিষ্যতে একজন সফল উদ্যোক্তা হবো, এটাই স্বপ্ন দেখি।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৮৩তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

মানসিক শক্তি বাড়িয়েছিল উজ্জ্বলা

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

২০০৯ সালে বিয়ে হয় হামিদা ইয়াসমিনের। সংসার তেমন সুখের ছিল না। একরাতে স্বামী তাকে মেরে বাসায় ফেলে রেখে চলে যায়। অজ্ঞান অবস্থায় প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে। এরপর ২০১৬ সালে ডিভোর্স হয়ে যায় হামিদার। একটি সন্তান রয়েছে। তাও স্বামী রেখে দেয়।

এমনই এক চরম বিপদগ্রস্ত অবস্থায় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, স্বনির্ভর হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে হামিদা। উজ্জ্বলা থেকে পারসোনাল গ্রুমিং ও হেয়ার ট্রিটমেন্টের কোর্স করে। বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি বিউটি হেলথ- নিয়ে কাজ করছে সে। উজ্জ্বলা কেয়ারের বিভিন্ন পন্যের ( শ্যাম্পু, বডি ওয়েল ইত্যাদি) সেলস পারসন হিসেবেও কাজ করছে। উজ্জ্বলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমানে স্বাবলম্বী হয়েছেন এই নারী।

‘ জীবনটা শুরু থেকেই খুব কষ্টের ছিল। ভীষণরকম বিষণ্ণতায় পড়ে গিয়েছিলাম। ডিভোর্সের পর সন্তান ছাড়া হয়ে কী করবো দিশা পাচ্ছিলাম না। এখন অনেকটাই ঠিকঠাক আছি। আমি আমার স্বামীকে দেখাতে চাই, তাকে ছাড়াও সফলতা অর্জন করা যায়। আমি তাঁর ওপর নির্ভরশীল নই- বলছিলেন, হামিদা।

 হামিদা ইয়াসমিন। ছবি : সংগৃহীত

হামিদা ইয়াসমিন। ছবি : সংগৃহীত

উজ্জ্বলা আমার জীবনকে বদলে দেওয়ার জন্য ৯০ ভাগ সহযোগিতা করেছে জানিয়ে হামিদা বলেন, ‘ উজ্জ্বলার কথা আমি প্রথম জানতে পারি একজন সহকর্মীর মাধ্যমে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির কক্সবাজার শাখায় ২০১১ সালে প্রশিক্ষণ নিই। উজ্জ্বলার পারসোনাল গ্রুমিংয়ের ক্লাসটি আমার আত্মশক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিল। আবারও নতুনভাবে কাজ করার শক্তি পেয়েছিলাম। এখন অনেকটাই স্বনির্ভর হতে পেরেছি।’

ভবিষ্যতে বিউটি পার্লারের ব্যবসা করে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে হামিদার। জানালেন, আমার স্বপ্ন উদ্যোক্তা হওয়ার। আমি মানুষকে দেখিয়ে দিতে চাই, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও একজন নারী আত্মশক্তি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৮২তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.