Saturday, September 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 66

আয়ুর্বেদ সৌন্দর্য বাড়ায় কীভাবে ?

সাদিয়া ইসলাম

সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্য – সবারই কাম্য। আর এই দুটোকে একই ঝুলিতে নিয়ে যেই চিকিৎসাশাস্ত্র কাজ করে, সেটি আয়ুর্বেদ। একে কেবল একটি কার্যক্রম বললে ভুল করা হবে। মূলত, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।

প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ভারতবর্ষের মাটিতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হয়। ‘আয়ুর্বেদ শাস্ত্র’-কে ভারতীয় উপমহাদেশের চিকিৎসা ও খাদ্যের প্রাচীন বিজ্ঞান বলা হয়। আয়ুর্বেদ শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দের সংযোগে তৈরি। একটি হলো, ‘আয়ুশ’, অর্থাৎ ‘জীবন’। দ্বিতীয়টি হলো, ‘বেদ’ অর্থাৎ ‘বিজ্ঞান’। এক কথায় একে ‘জীবনের বিজ্ঞান’ বলা চলে।

উনিশ শতকের প্রথম কয়েক দশকে পাশ্চাত্য চিকিৎসা গবেষকদের মধ্যে ভারতবর্ষের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। প্রাচ্য বিশারদগণ শক্তভাবে মত দেন, চিকিৎসাবিদ্যার এক প্রাচীন ব্যবস্থা ভারতে রয়েছে, যা অনুসন্ধানযোগ্য। পাশাপাশি এই জ্ঞান পুণরাবিষ্কারের জন্য প্রাচীন সংস্কৃত পান্ডুলিপিগুলো গবেষণা করে দেখার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

মূলত, আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ নিরাময় বা প্রতিকারের চেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রতি বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো, বিভিন্ন খাবার ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।

সুস্বাস্থ্যের জন্য আয়ুর্বেদ তো অতুলনীয়। তবে একদম রাসায়নিকমুক্তভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে সৌন্দর্য বাড়াতেও আয়ুর্বেদের অনন্য।

আয়ুর্বেদে রূপচর্চা

বর্তমান সময়ে সৌন্দর্য বাড়াতে আমরা এমন সব পন্য ব্যবহার করি, যা রাসায়নিকে ভরপুর। চটজলদি সৌন্দর্য বাড়াতে এসব পন্যের ব্যবহার করা হয় ঠিকই, তবে দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপে এর ক্ষতিকর প্রভাবও পড়ে। মূলত, আয়ুর্বেদিক রূপচর্চার উপকরণগুলো প্রাকৃতিক নানা উপাদান থেকে নেওয়া হয়। এসব উপকরণের পার্শ্বপতিক্রিয়া কম থাকে; চিকিৎসাপদ্ধতি হয় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে।

চন্দন, বুনো হলুদ, নিম, শিকাকাই, অ্যালোভেরা, জাফরান, সবুজ শাকসবজি, মশলা, বাদাম, বিভিন্ন তেল, ব্রাহ্মী, শ্বেতকূটজা, ত্রিফলা, হরীতকী, বহেড়া, দুধ, টকদই ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপকরণই ব্যবহার হয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসায়। এসব উপাদান ত্বক ও চুলের যত্নে বিভিন্নভাবে কাজ করে। কোনোটি কাজ করে প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে। কোনোটি বলিরেখা ও বয়সের ছাপ কমায়। কোনোটি আবার ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়।

যেহেতু সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য- দুটোকে পাশাপাশি নিয়েই আয়ুর্বেদ চলে, তাই প্রয়োজনে খাদ্যতালিকার পরিবর্তন করতে বলা হয়। পাশাপাশি যোগব্যায়াম, ধ্যান ইত্যাদির মাধ্যমে সমন্বয় করা হয় চিকিৎসাব্যবস্থা।

তবে একজন একটি পন্থায় উপকার পাচ্ছে বলে, সবাই একইভাবে উপকার পাবে বিষয়টি এমন না-ও হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতার সমস্যা ও অবস্থা বুঝে সার্বিকদিক বিবেচনা করেই সৌন্দর্যচিকিৎসা দেওয়া হয়।

মূলত, আয়ুর্বেদ চিকিৎসাপদ্ধতি দেহ ও মন- দুটোরই একত্রে সৌন্দর্য ও সুস্থতা চায়। তবে রপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নেওয়াই ভালো। এতে উপকারগুলো বেশি পাওয়া যাবে এবং যেকোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রতিরোধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

লেখক : আয়ুর্বেদ রূপ বিশেষজ্ঞ
ওউনার অ্যান্ড সিইও
সাদিয়া আয়ুর্বেদা বিউটি সলিউশনস
মিরপুর ১১ ( পূরবি সিনেমা হলের পূর্ব পাশে), টপ টেন বিল্ডিং, লিফ্ট- ৯
ফোন : ০১৭০৬-৯৯৩২৯৫

সহজেই তৈরি করুন মুগডালের হালুয়া

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বুট, সুজি, গাজর ইত্যাদির হালুয়া তো খাওয়াই হয়। তবে মুগডালের হালুয়া কি খেয়েছেন কখনো ? খুব সহজেই তৈরি করে নেওয়া যায় এই খাবারটি। অতিথি আপ্যায়নে বা মিষ্টিমুখ করতে এই হালুয়া অনন্য।

উপাদান
হলুদ মুগ ডাল – ১ কাপ
সুজি- ১ টেবিল চামচ
বেসন-১ টেবিল চামচ
পেস্তা কুচি- এক মুঠো
কাঠবাদাম কুচি- এক মুঠো
কেশর – সামান্য
এলাচ গুঁড়া- আধা চা চামচ
ঘি- পরিমাণমতো
চিনি- পরিমাণমতো
পানি- পরিমাণমতো
কাজুবাদাম কুচি- এক মুঠো
খোয়া ক্ষীর-আধা কাপ

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যেভাবে তৈরি করবেন
মুগ ডাল ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। মিক্সিতে ডাল ভালো করে মিহি করে বেটে নিন। এবার একটি কড়াইতে ঘি গরম করে সুজি ও বেসন ভাজুন। হালকা সোনালি রং হয়ে আসলে ডালবাটা দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে থাকুন। বালির মতো হয়ে এলে পানি, কেশর ও এলাচ গুঁড়া দিন। অনেক্ষণ ফুটানোর পর এতে চিনি দিতে হবে। ভালোভাবে নেড়ে আরো কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। ডাল চিনির মিশ্রণ সম্পূর্ণ শুষে নিলে নামিয়ে নেবেন। একেবারে শেষে খোয়া ক্ষীর ও বাদামকুচি দিয়ে দিন। তৈরি হয়ে গেল মুগ ডালের হালুয়া।

সূত্র : বোল্ডস্কাই

বসন্তে সুস্থ থাকতে খেতে হবে ৫ খাবার

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

শীতের রুক্ষতা ও তীব্রতা শেষে বসন্তের এই সময়টায় ভালোভাবে সূর্যের আলোর দেখে মেলে। তবে শীত থেকে গরমে যাওয়ার প্রকৃতির এই পরিবর্তনে বিভিন্ন রোগব্যাধি কিন্তু শরীরে বাসা বাঁধে। জ্বর, ঠান্ডা-কাশি, ফ্লু, ফুড পয়জনিং ইত্যাদি রোগগুলোর বিস্তার দেখা যায়। তাই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

সঠিক খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বসন্তে সুস্থ থাকতে এমন কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে জি নিউজ ও ব্যাপটিস্টহেলথ।

কমলা
কমলা ভিটামিন সি, বিভিন্ন ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। প্রতিদিন একটি কমলা খাওয়া যেমন ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করবে এবং জ্বর ও ঠাণ্ডা-কাশি প্রতিরোধেও সাহায্য করবে।

ওয়ালনাট
বাদামের রাজা ওয়ালনাটে ভিটামিন, মিনারেল, পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড, ডায়াটারি ফাইবার ও প্রোটিন রয়েছে। এটি দ্রুত শক্তি বাড়ায়। এর মধ্যে থাকে ট্রিফটোফেট। এই প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিড আমাদের দেহে মেলাটোনিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। এতে ঘুম ভালো হয়। সালাদ, ডেসার্ট, সিরিয়াল ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় ওয়ালনাট যোগ করতে পারেন।

দই
দই এক ধরনের ফারমেন্টেড খাবার। এটি বিভিন্ন রোগ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রোবায়োটিক, যা পেটের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। মোদ্দাকথা, দই আপনার স্বাস্থ্যকে ভালো ও পরিষ্কার রাখবে।

ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ মাছ
ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে। তাই আলঝাইমারে আক্রান্ত রোগীদের খাদ্যতালিকায় এই মাছ রাখতে বলা হয়। স্যামন, সারডিন, ম্যাকরেল ইত্যাদি মাছে এই ফ্যাটি এসিড রয়েছে।

ডিম
প্রবাদে রয়েছে, ‘সানডে অর মিনডে, রোজ খাও আনডে’। অর্থাৎ শনি অথবা সোম, প্রতিদিনই ডিম খাও। ঠিক তাই, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন এই খাবারটি খাওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড। এসব পুষ্টি দেহের সুস্থতা খুবই জরুরি।

সাজ-পোশাকে একুশ

অপরাজিতা অরু

‘ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ দুপুর বেলা অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়, বরকতেরই রক্ত।’

একুশ এলেই মনে পড়ে ভাষা শহীদের কথা। ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে এমন জাতি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এই ইতিহাসই মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের। এই দিনটি সারা পৃথিবীব্যাপী পালন করা হয় ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর মাধ্যমে। বাঙালির এই দিনটি পালনে থাকে নানা আয়োজন।

বাংলা বর্ণমালা, গান, কবিতা অথবা মিছিলের স্লোগানে স্মরণ করা হয় ছিনিয়ে আনা গৌরব, মুখের ভাষা। এইদিন সাজ পোশাকেও ফুটে ওঠে আমার মুখের ভাষা বাংলা, চাইলেই যা কেড়ে নেওয়া যায় না। সেই স্বাধিকারের জানান দিতে প্রতিটা বাঙালি সেজে ওঠে নিজস্ব পোশাকে, রঙে। বাজার গুলোতেও থাকে একুশকে ঘিরে একুশের থিমে সাজ পোশাকের সামগ্রী।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশের মিডিয়া এক্সিকিউটিভ নজরে হোসাইন দীপ্ত জানান, এ বছর রঙ বাংলাদেশের একুশের আয়োজনে রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কামিজ, ওড়না টি-শার্ট, স্কার্ট ছাড়াও ফ্যামিলি সেট।

ছবি : রঙ বাংলাদেশ
ছবি : রঙ বাংলাদেশ

সুতি, হাফসিল্ক, ভয়েল কাপড়ের জমিনে স্কিনপ্রিন্ট, অ্যামব্রয়েডারি ও ব্লকের কাজে নকশা করা পোশাকে একুশ চেতনার নানা সমাহার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবার।

গ্রিক মিথলোজরি ফোর এলিমেন্টেস-এর মাটি বা আর্থ, ভাষার অনুষঙ্গ অক্ষর, কলম ও দৈনিক পত্রিকার থিম দিয়ে সাজানো হয়েছে একুশের থিম। মূল রঙ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সাদা কালো ও ছাই রঙ। তিনি আরো জানান, ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ বছর লাল রঙেরও ব্যবহার করা হয়েছে। যেগুলো পোশাকের দাম থাকছে সব ধরনের ক্রেতাদের হাতের নাগালে। রঙ বাঙলাদেশের পোশাক ১ হাজার ৫শ থেকে শুরু করে ৬ হাজার পর্যন্ত দামের রয়েছে। চাহিদা ও সাধ্য অনুযায়ী ক্রেতারা কিনছেন একুশের পোশাক।

দেশীয় ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফটের সহকারি জেনারেল ম্যানেজার নাসির আহমেদ বলেন, ‘বাঙালির যেকোনো উৎসবে প্রথম পছন্দ শাড়ি ও পাঞ্জাবি। তাই কে ক্র্যাফটের এবারের একুশের আয়োজনে থাকছে শাড়ি পাঞ্জাবি সহ, সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, শার্ট ছাড়াও নানা পোশাক। শিশুদের জন্যে রয়েছে আলাদা পোশাক। মা বাবার সঙ্গে সন্তানের মিল রেখেও রয়েছে ফ্যামিলি সেট।’

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

সুতি লিলেন, সিল্ক এসব কাপড়ে বর্ণমালা, শব্দ, ফুলেল ও জ্যামিক নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, ব্লক টাইডাই ও হাতের কাজ ও স্কিন প্রিন্টের মাধ্যমে জানিয়ে নাসির আরও জানান, রঙের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে, সাদা, কালো ও ধুসর। এসব পোশাক ক্রেতারা কিনতে পারছেন ১ হাজার থেকে শুরু করে ৩ হাজারের মধ্যে।

একুশের সাজ

‘একুশ আমার অহংকার’ এ কথাকে জানান দিতে বাঙালি এদিন সেজে ওঠে সাদা-কালো রঙের। সাজপোশাকে এ যেনো বর্ণমালারই আরেক রুপ। এ যেন জানান দেওয়া একুশের চেতনার সাথে বাঙালির অনুভূতি কত তীব্র। বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি পার্লারের বিউটি এক্সপার্ট শারমিন কচি বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কালো ও সাদা রঙেরই আধিক্যই দেখা যায়। একুশ এমন একটা অনুভূতি, যা আরো দুইশ বছর পরেও একই রকম থাকবে। বর্ণমালা ও মুখের ভাষার গৌরব এতটাই আমাদের সঙ্গে মিশে রয়েছে, যুগযুগ ধরে একুশ একই রকম থাকবে। তরুণ প্রজন্ম তাদের মনে ও সাজ-পোশাকে ৫২’ কে ধারণ করবে। বার বার ফিরে যেতে চাইবে।

এ দিন সাজে বর্ণমালার বিন্যাস রয়েছে পুরো জমিনে- এমন একটা শাড়ি পরতে পারেন। সঙ্গে একরঙা ব্লাউজ। মেকাপটা নো মেকাপ লুক রাখলে আপনাকে ওইদিনের জন্য পারফেক্ট দেখাবে। চোখে লম্বা করে কাজল টেনে নিন। চুলের লম্বা বিনুনি। অথবা একটা সাধারণ খোপা করতে পারেন। হালকা সাজের সঙ্গে হালকা রঙের একটা লিপস্টিক পরে নিন। নেলপলিশ ব্যবহার করলে শাড়ি অথবা ব্লাউজের সঙ্গে মিলিয়ে পরুন।’

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

একুশে সাদা কিংবা কালো যে রঙেরই শাড়ি পরুন না কেনো শাড়িটা এক রঙা হলে, ব্লাউজ পরবেন ফুলেল নকশা অথবা বর্ণমালার বিন্যাসে বিস্তৃত। বিউটি এক্সপার্ট শারমিন কচি আরো বলেন, ‘কুর্তির পরলে চুলটা খোলা রাখুন অথবা দুই বিনুনি করে নিতে পারেন। জ্যামিতিক ফ্লোরাল অথবা দৈনিক পত্রিকার মোটিফে অনেক কুর্তি পেয়ে যাবেন বাজারে। এগুলো জিন্সপ্যান্ট অথবা সালোয়ারের সঙ্গে পরে ফেলতে পারেন। কাজল টেনে নিন। কপালে ছোট একটা টিপ পরতে ভুলবেন না। সালোয়ার কামিজের সঙ্গে হাতে পরে নিতে পারেন অ্যান্টিকের গহনা। চুল বিনুনি করলে অথবা খোলা রাখলে সুন্দর দেখাবে। মোদ্দাকথা, এ দিন মেকআপটা হালকা করলেই ভালো মানাবে।’

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘রেড’র তৃতীয় শাখার উদ্বোধন

শাশ্বতী মাথিন

বাংলাদেশের শীর্ষ সৌন্দর্যসেবা কেন্দ্র ‘রেড- বাই আফরোজা পারভীন’- এর পথ চলার ১৬ বছর হলাে। সুইট সিক্সটিন- এ পা দিয়ে ‘রেড’- উদ্বোধন করলো তাদের তৃতীয় আউটলেট। গতকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি, মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনে উদ্বােধন হয় নতুন শাখাটি।

লাল গালিচা বেছানো সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই দেখা গেল সৌন্দর্যসেবা কেন্দ্র ‘রেড’-এর স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন কথা বলছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। সাদা রঙের গোলাপে সাজানো হয়েছে সম্পূর্ণ সিঁড়ি। তিনতলা বাড়ির পুরোটা জুড়েই ‘রেড’। পাঁচ হাজার স্কয়ার ফুটের এই জায়গা জুড়ে রয়েছে সৌন্দর্যসেবার সব ধরনের ব্যবস্থা। স্কিন কেয়ার, মেকআপ, হেয়ারস্টাইল, হেয়ার কেয়ার, মেনিকিউর- পেডিকিউর, রিবন্ডিং, নেল এক্সটেনশন, আয়ুর্বেদ- সব বিভাগের জন্য রয়েছে আলাদা জায়গা। এতে ক্লাইন্টরা উন্নতমানের এসব সেবা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে নিতে পারবেন।

‘রেড’- এর যাত্রা এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রূপবিশেষজ্ঞ হওয়ার গল্প করতে গিয়ে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘আমি এ দেশে প্রথম রেড বিউটি স্যালনের মাধ্যমে ন্যুড মেকআপের চলটা শুরু করি। ২০০৯ সালে যখন প্রতিষ্ঠানটি শুরু হয়, তখন অনেকে বলেছিল ন্যুড মেকআপ চলবে না। তবে আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিলাম।’

বিকেল ৫টা ৩০-এ মডেল বারিশ হকের উপস্থাপনা দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। কেক কেটে নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আফরোজা পারভীন এবং উপস্থিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ সারির অভিনয় শিল্পী, সংগীত শিল্পী, ব্লগার, ফ্যাশন ডিজাইনার, ইনফ্রুয়েন্সার, নিউটি্রশনিস্ট সহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ। ছবি : সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ। ছবি : সংগৃহীত

বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অভিনব অংশ ছিল ফ্যাশন শো। এটি অনুষ্ঠিত হয় রেড-এর আউটলেটের চারপাশের রাস্তায়। পাশাপাশি রেড এর উদ্বোধনীয় উপলক্ষে বিকেল থেকেই শুরু হয় মেহেদি উৎসব। অতিথিরা বিনামূল্যে নিজেদের রাঙিয়ে তোলেন মেহেদির রঙে ।

উদ্বোধনী মঞ্চে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘ রেড- এর পথচলাটা শুরুই হয় ভালোবাসা দিয়ে। বাংলাদেশের ফ্যাশন ও বিউটি ইন্ডাসট্রির মানুষ, বিশেষ করে শিল্পীদের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে দুই বছর আমি ফ্রি ল্যান্সিং করি। তাদের অনুরোধে ২০০৯ সাল থেকে রেড শুরু হয়। তারা চেয়েছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান হোক। তাহলে একসঙ্গে সবাই সেবা নিতে পারবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন রেড- এর কর্ণধার আফরোজা পারভীন। ছবি : সংগৃহীত
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন রেড- এর কর্ণধার আফরোজা পারভীন। ছবি : সংগৃহীত

রেড মিডিয়ার অনেক সহযোগিতা পেয়েছে জানিয়ে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে একটি ভালো জায়গা করে নিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের শীর্ষস্থানীয় চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এর নাম আসে। বনানী ও মোহাম্মদপুরের পর এখন মিরপুরে রেড শুরু করতে পেরেছি। মিরপুরে সফলতার সঙ্গে কাজ করতে পারলে, অন্য কোথাও আবার দেখা হবে।’

উদ্বোধন উপলক্ষে ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি, মোট তিন দিন ‘রেড’, ক্লাইন্টদের ১২টি সেবা বিনামূল্যে দেবে। রেডের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

‘রেড’- মিরপুর শাখার ঠিকানা

বাড়ি – ২৭, রোড- ২, ব্লক- বি
সেকশন- ১২, পল্লবী মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

সম্পর্কের যত্ন নিচ্ছেন তো ?

শাশ্বতী মাথিন

ভালোবাসা নিয়ে কত কবিতা, কত গান। মানুষের জীবনে একটি বড় অংশ কেবল একেই কেন্দ্র করে। প্রিয় মানুষকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ, পেয়েও হারিয়ে ফেলার কষ্ট। মায়া, আবেগ- কত কি !

কারো কাছে ভালোবাসা শুধুমাত্র মস্তিষ্ক থেকে নিঃসৃত হরমোন, যার স্থায়িত্ব বড় জোর তিন বছর। আবার কারো কাছে ভালোবাসা কেবল কামেরই বহিঃপ্রকাশ। সে যাই হোক, প্রেমের সংজ্ঞা ব্যক্তি ভেদে যতই ভিন্ন হোক না কেন, সম্পর্ক কিন্তু টিকে থাকে কেবল যত্নে। আর সেই যত্ন হতে হয়, সততা থেকে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের চাইল্ড এডোলোসেন্ট ও ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্কই দীর্ঘদিন টিকে থাকে যত্নের ভিত্তিতে। আর সেই যত্নের তিনটি মূল অংশ রয়েছে। বিশ্বাস, প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা ও পারস্পারিক আন্তরিকতা। গেইম (খেলা) করে বা প্রতারণা করে, আর যাই হোক সম্পর্ক বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’

তবে একজন ব্যক্তি বড় হলে সম্পর্ককে কীভাবে নিতে শিখবে, সেটি কিন্তু শৈশব থেকেই অনেকটা তৈরি হয়ে যায়। শৈশবে বিকাশের সময়টা অত্যন্ত ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে হলে বড় হয়ে সাধারণত মানুষটি সম্পর্ককে ঠিকঠাক ব্যবস্থাপনা করতে পারে না বা সম্পর্ক তৈরিতে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনটাই মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

সম্পর্কে মোহ, প্রতারণা ও গেইম করার ইচ্ছা থেকে হলে, এখানে যত্ন আসে না। ব্যক্তির নিজের প্রতি ও অন্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে যত্নটা স্বতস্ফূর্তভাবেই চলে আসে জানিয়ে ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে দেখতে হবে, সম্পর্কে প্রতিজ্ঞা বা দায়বদ্ধতার জায়গা রয়েছে কি না। এরপর খেয়াল করতে হবে এতে পারস্পারিক সম্মানবোধটা কতটুকু রয়েছে। সবসময় আমি কী পেলাম, চিন্তা না করে- আমি কী দিচ্ছি, কতটুকু দিচ্ছি সেটাও ভেবে দেখতে হবে। এগুলো যত্নের মধ্যই পড়ে।’

এ ছাড়া সম্পর্ক আরো যত্নশীল করার কিছু উপায় বাতলেছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট ওইকিহাউ। জানি সেগুলো –

অন্যকে শোনা ও বোঝার ক্ষমতা
অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও তাকে আবেগীয়ভাবে বুঝতে পারা, বড় গুণ। আপনার সঙ্গীর কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, বা সে আপনাকে কী বলতে চাইছে সেটি ভালোভাবে শুনতে ও বুঝতে চেষ্টা করুন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন।

আশার জায়গায় পরিষ্কার হোন
প্রত্যেক সম্পর্কেই কিছু না কিছু আশা বা এক্সপেকটেশন থাকে।তবে সেই ক্ষেত্রে নিজে পরিচ্ছন্ন হোন এবং সঙ্গীকেও পরিষ্কার রাখুন। আপনি কতটুকু পারবেন, কতটুকু পারবেন না- পরিষ্কার করুন। সেই বোঝাপোড়া অনুযায়ীই সম্পর্ক আগান। না এগোতে পারলে থেমে যান। অযথা খেলতে যাবেন না। নিজে কোনো কাজ করছেন না, তবে চাইছেন আপনার সঙ্গী সেটি করবে- এটি কিন্তু অবান্তর ভাবনা। স্বাধীনতা নিজে চাইলে, অন্যকেও সমানভাবে দিতে হবে।

গুণগত সময় দিন
প্রত্যেকটি সম্পর্ক সময় চায়। প্রতিদিন অন্তত নির্দিষ্ট একটি সময় রাখুন সঙ্গীকে দেওয়ার জন্য। আর সেটি যেন হয়, কেবল আপনাদের দুজনেরই।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

যোগাযোগের দক্ষতা
সম্পর্ক সুস্থ-স্বাভাবিক রাখতে যোগাযোগে দক্ষতা জরুরি। নিজে কী ভাবছেন, সেটি পরিষ্কারভাবে বলার চর্চা তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজন অন্যের মতামত গ্রহণ করা। পারিস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ ও বোঝাপড়াটা না থাকলে সম্পর্ককে কেবল টেনেই নিয়ে যাবেন, মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন না।

ক্ষমা করুন এবং ক্ষমা চান
মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই ক্ষমা করুন ও চান। তবে একই ভুল বার বার করে ক্ষমা চাওয়া কিন্তু মোটেই কাজের কথা নয়। তাই কখন, কাকে ছাড় দিচ্ছেন, সেই বিষয়েও বিচক্ষণতা জরুরি।

নিজেকে ভালোবাসুন
নিজেকে ভালোবাসা মানে স্বার্থপরতা নয়। নিজের প্রতি যত্নশীল হলে, সম্পর্কগুলোর প্রতিও যত্নবান হওয়া যায়। আপনি সুখি থাকলে, অন্যকেও আনন্দে রাখতে পারবেন। তাই, সবার আগে নিজেকে ভালোবাসুন।

‘সম্পর্ক যেমন তৈরি হয়, তেমনি ভেঙেও যেতে পারে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টিকে অস্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কিছু নেই। মিলনের মতো, বিচ্ছেদেও জীবনেরই অংশ। সম্পর্ক কাজ না করলে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে বেরিয়ে আসাই শ্রেয়। কোনো টক্সিক সম্পর্কে থাকার চেয়ে একা চলার মানসিক শক্তিটা জরুরি,’ বলছিলেন ডা. হেলাল উদ্দিন। তবে সম্পর্ক না ভাঙ্গুক, পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও যত্নে তৈরি হোক শক্তিশালী বন্ধন। ভালোবাসা কেবল একটি দিনে সিমাবদ্ধ না থেকে, ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিদিনই।

ফুলের গহনায় সাজি ফাল্গুনে

অপরাজিতা অরু

বারো মাসে তেরো পার্বণের চল বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য। বর্ষবরণ কিংবা বসন্তবরণের আয়োজন সর্বজনীন উৎসব। আর এসব উৎসবে ফুল কিন্তু একটি বিশেষ অনুষঙ্গ। ফুল দিয়ে যেমন প্রকৃতি সাজে, তেমনি সাজাতে পারেন নিজেকেও।

ফাল্গুনের প্রথম দিন বা বর্ষবরণের দিন হয়তো শাড়ি পরেছেন? কানে গুঁজে নিন একটা জারবেরা। অথবা খোঁপায় পরতে পারেন গাঁদা ফুলের মালা অথবা গাজরা।

প্রিয়ার খোঁপায় তারার ফুল দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তারার ফুল খোঁপায় গুঁজতে না পারলেও গাজরা অথবা ফুলের মালা জড়িয়ে নিলে সাজটা হবে অনন্য।

ছবি কৃতজ্ঞতা : রেড বাই আফরোজা পারভিন
ছবি কৃতজ্ঞতা : রেড বাই আফরোজা পারভিন

ফুলের গহনা দিয়ে সাজের প্রসঙ্গে বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের স্বত্বাধিকার রূপ বিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, ‘কাঁচা ফুল বাঙালির সাজসজ্জায় ব্যবহার হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। সাজসজ্জা ছাড়াও রূপচর্চায় ব্যবহার করা হয় নানান জাতের ফুল। যদিও বাজারে এখন আর্টিফিশিয়াল ফুলের গহনার প্রচলন বেড়েছে, তার পরও কাঁচা ফুলের চাহিদা আলাদাভাবেই রয়েছে। সাজটা যেহেতু ফাল্গুনের জন্য, তাই শাড়িই হতে পারে অনন্য পোশাক। প্রকৃতির বরণে এই উৎসবে তাই মেকআপটা যেন ন্যাচারাল থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। হালকা মেকআপের সঙ্গে এলোচুলে কানে গুঁজতে পারেন গোলাপ অথবা জারবেরা। খোঁপা হলে সে ক্ষেত্রে কাঠবেলির মালা পরতে পারেন। কয়েকটি গোলাপও গুঁজে নেওয়া যেতে পারে খোঁপায়।’

চুড়ির বদলে হাতে দুটো গাঁদা ফুলের মালা পরে নেওয়া যায়। এতে ন্যাচারাল লুকটা বেড়ে যাবে। চোখের মেকআপটা রাখতে পারেন খুবই হালকা। শাড়ি ও ফুলের সঙ্গে মিলিয়ে আইশ্যাডোর দুটো প্যালেট মিলিয়ে করতে পারেন চোখের সাজ। সঙ্গে কাজল টেনে নিন। কপালে একটা টিপ পরতে ভুলবেন না। কারণ, টিপ ছাড়া সাজটা থেকে যায় অসম্পূর্ণ।

ছবি কৃতজ্ঞতা : রেড বাই আফরোজা পারভিন
ছবি কৃতজ্ঞতা : রেড বাই আফরোজা পারভিন

‘শাড়ি ছাড়াও ওয়েস্টার্ন পোশাক, লেহেঙ্গা, কুর্তি বা কামিজের সঙ্গে পরতে পারেন কাঁচা ফুল। ফুলের মুকুট বা টায়রা চল বেড়েছে কয়েক বছর ধরে। কুর্তির সঙ্গে কানে গুঁজতে পারেন যে কোনো ফুল অথবা মাথায় পরে নিন একটা টায়রা। কামিজের সঙ্গে রজনীগন্ধা বা হলুদ গাঁদার মালা পরতে পারেন হাতে, স্নিগ্ধ দেখাবে।’ এমনটাই বলছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।

বাজারে ফুলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, সাধারণত ৮০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে টায়রা বা মুকুট পাওয়া যাচ্ছে। গাজরার দাম পড়বে ৮০ থেকে শুরু করে ১২০ টাকার মধ্যে। গোলাপ কিনতে পারবেন ২০ থেকে শুরু করে ৫০ টাকার মধ্যে। গাঁদা ফুলের মালা ৪০ থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামের রয়েছে।

বিদেশি ফুল হলেও জারবেরা এখন দেশেই চাষ হচ্ছে। প্রতিটি জারবেরার দাম পড়বে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। তবে পহেলা ফাল্গুন ও ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে ফুলের দাম আরও বেশি হতে পারে। তাই এক দিন আগেই কিনে রাখতে পারেন সাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফুল। উৎসবে সাজুন আপন বৈচিত্র্যে।

৫ ধরনের মানুষকে কখনো বিশ্বাস করবেন না

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

স্বামী-স্ত্রী, বন্ধুত্ব অথবা সহকর্মী- যাই হোক না কেন, বিশ্বাস যেকোনো সম্পর্কেরই ভিত্তি। বিশ্বাস দুর্বল হলে যেকোনো সম্পর্কই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। আর একবার এটি হারালে তা আবার তৈরি করা বেশ কঠিন।

তারপরও হয়তো সম্পর্কের খাতিরে আস্থা তৈরি করার চেষ্টা করতে হয় বা সমস্যাগুলো এড়িয়ে যায় অনেকে। অবশ্য, ততদিনে দেখা যায়, শরীর ও মনের ক্ষতি হয়ে গেছে। অনেক সময় এটি আর্থিক ক্ষতির পর্যায়েও পৌঁছে। তাই একটু বিচক্ষণ হোন। নিজেকে রক্ষা করার জন্য কয়েক ধরনের মানুষকে একদমই এড়িয়ে চলুন বা প্রশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এক কথায়, বিশ্বাস করা থেকে বিরত হোন।

ভারসাম্যহীন মানুষ
যাদের মেজাজ খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়, তাদের বিশ্বাস করবেন না। হয়তো আজ আপনাকে কোনো ব্যক্তি একটি প্রতিজ্ঞা করলো, আগামীকাল সেটি ভুলে গেলো এবং লাগাতার কয়েকবার সে একই কাণ্ড ঘটাল- এই ধরনের মানুষকে বিশ্বাস করবেন না।

আবার কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যারা আপনাকে একবার সাহায্য করবে, আরেকবার সাহায্য করার কথা বলে কেটে পড়বে। তাদের খেলাতেও পা দেবেন না। এ ধরনের মানুষও শেষ পর্যন্ত ভরসার যোগ্য নয়।

বেশি ভালো
অনেকের ব্যক্তিত্ব এমনিতেই বেশ মিষ্টি হয়। তবে কেউ প্রয়োজনের বেশি ভালো হলে কিন্তু অসুবিধা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ ধরনের মানুষই পায়ে কুড়ালটা আগে মারে। তাই কেউ অনেক ভালো আচরণ করলেই গলে পড়বেন না। পর্যবেক্ষণ করুন।

যারা সহমর্মি নয়
সহমর্মিতা মানব চরিত্রের বড় গুণ। তারা অন্যকে আবেগীয়ভাবে সহযোগিতা করতে পারে। তারা জানে অন্যকে আঘাত করা বুমেরাং হয়ে তাদের জীবনেই ফিরতে পারে। তবে যারা সহমর্মি নয়, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভীষণ স্বার্থপর হয়। আর এ ধরনের মানুষ নিজের স্বার্থের জন্য আপনাকে যেকোনো ভাবেই ব্যবহার করবে।

মিথ্যে বলা
মিথ্যে বলা একটি রোগ। অনেকে কখনো কখনো অযথাই এটি করতে থাকে। বলাই বাহুল্য, এ ধরনের মানুষও আপনার বিশ্বাসের যোগ্য নয়। আর একবার যদি বুঝে যান কেউ আপনাকে প্রতারণা করছে, তাহলে পুণরায় তাকে বিশ্বাস করতেও সাবধান।

যারা সবসময় তুলনা করে
যারা সবসময় তুলনা করা বা প্রতিযোগিতাপূর্ণ মানসিকতা পোষণ করে, তারা সাধারণত ভেতরে ভেতরে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তারা আপনাকে নিচে নামানোর জন্য যেকোনো কাজই করতে পারে। তাই এ ধরনের মানুষের প্রতি আস্থা রাখতেও সতর্কতা জরুরি।

সূত্র : ব্রেইন ডোজ

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.