Saturday, September 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 65

নারী দিবস কীভাবে এলো ?

অপরাজিতা অরু

নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে প্রতিবছর ৮ মার্চ পালন করা হয় নারী দিবস। এই দিবসকে কেন্দ্র করে নারীর এগিয়ে চলা, গ্রহণযোগ্যতা, সংগ্রাম ও সম্মানের স্বীকৃতির অনেক গল্প আমরা শুনি। মূল ধারার গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উঠে আসে তাদের নানা অবদানের কথা।

তবে কীভাবে এল নারী দিবস, কীভাবে উৎপত্তি হলো এই দিনের? এই দিনের প্রেক্ষাপট, গোড়াপত্তন কীসে? সেই ইতিহাস অনেকেরই অজানা। সেই গল্পটা জানতে হলে তাকাতে হবে শতাব্দিরও পেছনে।

দিনটা ছিল ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। এই দিনে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের একটি পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকেরা ন্যায্য পারিশ্রমিক ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ন্যায্য দাবি নিয়ে হাজার হাজার নারী শ্রমিক সেদিন নেমে আসে রাস্তায়। দৈনিক আটঘণ্টা শ্রমের দাবি ও পুরুষের সমান সমান মজুরি ছিল এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। এই আন্দোলনে পুলিশ চালায় দমন, নিপীড়ন ও নির্যাতন ; অনেক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনা পুরো পশ্চিম বিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। মূলত, এই আন্দোলনই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নারী দিবস প্রতিষ্ঠার গোড়াপত্তন করে।

এরপর কেটে যায় অনেকটা সময়। ১৯০৮ সালে একই দিনে অসংখ্য শ্রমজীবী নারীরা নিজেদের অধিকারের দাবিতে সমতা বিধানের লক্ষ্যে আবারো বিক্ষোভে নামে। এভাবেই শুরু হয় অধিকারের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা।

এর এক বছর পর ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে কোপেনহেগেনে আয়োজন করা হয় কর্মজীবী নারীদের এক আন্তর্জাতিক সমাবেশ। এই সমাবেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ক্লারা জেটকিন নামের একজন জার্মানি।

ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ। তিনি জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এই সমাবেশে বিশ্বের ১৭টি দেশ থেকে ১শ জন নারী প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। এই সম্মেলনে ক্লারা ভোটাধিকারসহ নারী দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সম্মেলনে উপস্থিত ১শ জন নারী প্রতিনিধিদের সকলেই এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়।

পরের বছর ১৯১১ সালে অস্ট্রিয়া, জার্মানি, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ডে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রথম পালন করা হয়।
জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে নারী দিবসকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

১৯৯৬ সালে প্রথম নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। দিবসটির প্রথম প্রতিপাদ্য ছিলো ‘অতীতকে উৎযাপন এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা’ এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয়তা অনুসারে প্রতিপাদ্য গৃহীত হয়ে আসছে।

৮ মার্চই কেনো আন্তর্জাতিক নারী দিবস ?

বিবিসির এক তথ্যমতে যখন ক্লারা জেটকিন আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ধারণাটি উত্থাপন করেন, তখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি।

১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের আগ পর্যন্ত দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা যায়নি বলেই উল্লেখ রয়েছে। একই বছর রাশিয়ার নারীরা ‘রুটি ও শান্তি’ র দাবিতে তৎকালীন রাশিয়ান সম্রাটের বিরুদ্ধে ধর্মঘট শুরু করে। রাশিয়ান সম্রাটকে বলা হয় জার। আন্দোলনের চার দিনের মাথায় ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল জার এবং তাঁর পরিবর্তে অস্থায়ী সরকার নারীদের আনুষ্ঠানিক ভোটাধিকার দিয়েছিলেন।

এ সময়ে রাশিয়ায় প্রচলিত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, নারীদের ধর্মঘট শুরু হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি, রোববার। আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে এই দিনটি ছিল ৮ মার্চ। পরে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৮ মার্চকেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেভাব পালন করা হয় অন্তর্জাতিক নারী দিবস

রাশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস সরকারি ছুটির দিন। নারী দিবসকে কেন্দ্র করে তিন থেকে চারদিন দিন এসব দেশে ফুলের বিক্রি বেড়ে হয় প্রায় দ্বিগুণ।

ইতালিতে এই দিনে নারীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় মিমোসা নামের ফুল দিয়ে। ফুলের শুভেচ্ছা জানানোর এ ঐতিহ্যের উৎপত্তি অস্পষ্ট। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এটি রোমে শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এই দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ‘লা ফেস্তা দিল্লা দিয়ান্না’ নামে পরিচিত।

চিনের অনেক স্টেটে কাউন্সিলের বিবেচনায় ৮ মার্চ নারীদের অর্ধেক দিনের সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানই এটি মানে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মার্চ মাসকে নারীর ইতিহাসের মাস বলে মনে করা হয়। প্রতিবছর আমেরিকান নারীর সম্মান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি ঘোষণাপত্র জারি করেন এই দিনে।

নারী দিবসের রং কেন বেগুনি ?

বেগুনিকেই কেনো এই দিবসের রং হিসেবে নির্ধারণ করা হলো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা রয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আইডব্লিডি ডটকমের কাছে।

আইডব্লিউডি’র ব্যাখ্যা অনুসারে বেগুনি, সবুজ ও সাদা হল আন্তর্জাতিক নারী দিবসের রঙ। সাদা ও সবুজের সংমিশ্রণে তৈরী হয় বেগুনি। এটি ন্যায়বিচার ও সম্মানের প্রতীক। সবুজ আশার প্রতিনিধিত্ব করে আর বিশুদ্ধতার প্রতিনিধিত্ব করে সাদা।
ওয়েবসাইট অনুসারে, ১৯০৮ সালে যুক্তরাজ্যের ‘উইমেন্স সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইউনিয়ন (ডব্লিউএসপিইউ) এই রঙগুলোকেই নির্দিষ্ট করেছিলো। যদিও এই ধারণা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

২০১৮ সালে নারী দিবসের থিম কালার হিসেবে স্থান করে নেয় বেগুনি। আন্তার্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্যান্টন বেগুনিকে নারী দিবসের রঙ হিসেবে ঘোষণা দেয়। বেগুনি রং দিয়ে বোঝানো হয় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে। আর নারীরা হবে ইতিবাচক অর্থে ঠিক অতিবেগুনি রশ্মির মতোই শক্তিশালী, অপ্রতিরোধ্য।

শেষকথা, নারী দিবসের রং, দিন তারিখ নিয়ে নানা মতভেদ থাকলেও বিশ্ব জুড়ে উৎযাপিত হোক এই দিনটি। নারী অধিকারের গোড়াপত্তনের ইতিহাস হোক আফগানিস্তান, ইরান, ইউক্রেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশের নারীদের সংগ্রামের পাথেয়। এসব দেশের নারীরা তাদের নিজ নিজ দেশে যুদ্ধ, সহিংসতা ও সরকারি নীতি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করে গেছেন এবং এখনও করছেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, অপুষ্টি, দারিদ্র্য ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হলো নারী। এইসব ভুক্তভোগী নারীর অধিকার আদায়ে শক্তি হোক এই দিবস।

বাংলাদেশের বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতনসহ মানসিক শারীরিক যেকোনো নিপীড়নের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার সাহস হোক নারী দিবসের প্রেক্ষাপট।

তেহরানের ২২ বছরের তরুণী মাহসা আমিনিরা পোশাকের স্বাধীনতা পাক, বাকস্বাধীনতা হোক নারীর স্বতন্ত্র অধিকার। মৃত্যুর প্রতিবাদে একজন নারী আরেকজন নারীর পাশে দাঁড়াক। বিক্ষোভে মিছিলে পুরুষও পাশে দাঁড়াক- নারীর অধিকারের দাবি তুলুক। সুন্দর একটা পৃথিবী তখনই তৈরি হবে, যখন নিশ্চিত হবে সমতা বিধান। এই লক্ষ্যে এগিয়ে যাক নারী। সফল হোক পৃথিবী প্রতিটা জায়গার নারীর সংগ্রাম।

পোশাকে নারী দিবস

অপরাজিতা অরু

নারী-পুরুষের সমতা, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে প্রতিবছর ৮ মার্চ পালন করা হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ২০১৮ সাল থেকে নারী দিবসের থিম রং হিসেবে স্থান নেয় বেগুনি। লিঙ্গসমতা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি ঐতিহাসিকভাবেই কাজ করে আসছে।

এই রঙকে কেন্দ্র করে ৮ ই মার্চ বা পুরো মার্চ মাস জুড়ে নারীর পোশাকে বেগুনি রঙের প্রাধান্য দেখা যায়। বেগুনিই যেন নারীর চিন্তাশক্তির বার্তা হয়ে ধ্বণিত হয়। দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোতেও দেখা মেলে পোশাকের বৈচিত্র্য।

এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ৮ মার্চকে কেন্দ্র করে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোও সেজে উঠেছে বিশেষ আয়োজনে। এসব ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব ডিজাইনে আলাদা আলাদা থিমে তৈরি করেছে বিশেষ বার্তাবাহক পোশাক।

দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বালাদেশের মিডিয়া এক্সিকিউটিভ নজরে হোসাইন দিপ্ত জানান, নারী দিবসকে কেন্দ্র করে রঙ বাংলাদেশ- এর আয়োজনে থাকছে বৈচিত্র্যময় সব পোশাক। শাড়ি, কুর্তি, টপস, ব্লাউস ও মাস্ক যেগুলোতে রয়েছে বেগুনি রঙের আধিক্য। এই রঙের সঙ্গে সাদা ও নীলের মিশ্রণে থাকছে বিভিন্ন নকশা করা পোশাক।

ছবি : রঙ বাংলাদেশ
ছবি : রঙ বাংলাদেশ

আমরা সবসময়ই পোশাকের দাম ক্রেতার ক্রয়সাধ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু বর্তমান সময়ের ওপর নির্ভর করে এবারে পোশাকের দাম ১ হাজার ৫শ থেকে শুরু হচ্ছে জানিয়ে হোসাইন দিপ্ত বলেন, আমরা সবসময়ই বিশ্বাস করি সমাজের এগিয়ে যাওয়ায় পেছনে নারীর ভূমিকা অনেক। বর্তমানে নানা ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীও সমানতালে এগিয়ে চলছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা পুরুষকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এটি আনন্দের ও গর্বের।’

দেশীয় ফ্যাশন হাউজ ট্রিভো’র স্বত্ত্বাধিকার আঁখি ভদ্র বলেন, ‘এ বছর প্রায় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে চলছে নারী দিবসের প্রস্তুতি। ট্রিভো’র ক্রেতারা আগে থেকেই নারী দিবসের জন্য বিশেষ শাড়ির জন্য আগ্রহ দেখিয়েছেন। সে আগ্রহ থেকেই শুরু করা হয় বেগুনি রঙের শাড়ি তৈরির কাজ। নিজস্ব ডিজাইনে সিল্ক, হাফসিল্ক ও সুতি কাপড়ের ওপর নকশা ছাড়াও মোমবাটিকের কাজ করা হয়েছে। সুতি শাড়িগুলোর দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ টাকার মধ্যে। সিল্ক বাটিকগুলো ২ হাজার ২শ থেকে ৩ হাজারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো পাওয়া যাবে ট্রিভোর শোরুমে। অনলাইন থেকেও চাইলে অর্ডার করা যাবে।’

পোশাকের রঙ-কে আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাক নারী। একদিনের সাজ-পোশাক, উৎসব কিংবা দিবস উৎযাপন হয়ে উঠুক সারা বছরের চলার অনুপ্রেরণা।

অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থা : কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

ডা. হালিদা হানুম আখতার
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ নারী গর্ভধারণ করে। সংখ্যাটা অনেক। তবে এই গর্ভটা কাঙ্ক্ষিত না কি অনাকাঙ্ক্ষিত- এমন প্রশ্ন করা হলে, প্রায় ৪৮ শতাংশ নারী বা ৩০ লাখের মধ্যে অর্ধেক নারীই বলবে, এটি সে চায় না।
এর অনেক কারণ হতে পারে। যেমন : কোলের সন্তান খুব ছোট, এর মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান নিতে অনাগ্রহী; মায়ের বয়স কম, তাই সন্তান নিতে চাইছে না; বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকার কারণে সন্তান নিতে অনাগ্রহী; অথবা একজন মায়ের হয়তো ৩৫ বছর হয়ে গিয়েছে, তাঁর পরের গর্ভটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই সন্তান চান না। এসব বিভিন্ন কারণে একজন মায়ের কাছে তাঁর গর্ভটা আকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। তাই সংখ্যাটা খুবই বিপদজনক।
অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থা কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
আমি একটি জিনিসকে না চাইলে বা আমার পেটে যে গর্ভটি রয়েছে, সেটি না চাইলে, এর জটিলতা বা ঝুঁকিগুলো কী হতে পারে?
আমি এই গর্ভ চাইবো না, তাই গর্ভপাতের জন্য এগিয়ে যাবো। এমন একজন সেবাদানকারীকে চাইবো, যিনি গর্ভপাত করে দেবেন। আবার সবার হাতে এতো টাকা থাকে না যে চিকিৎসক বা নার্সের কাছে যাবেন। অথবা প্রশিক্ষিত কোনো মানুষের কাছে যাবেন। আরেকটি বিষয় হতে পারে, ব্যক্তিটি জানেই না, কার কাছে, কোথায় ও কখন যেতে হবে। এই জ্ঞানের অভাবের জন্য বিরাট জটিলতার সম্মুখিন হয়। তখন হয়তো সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়, এমন কারো কাছে যায়। অনেকে তো গাছ, পাতা, শিকড় ইত্যাদি দিয়ে অ্যাবোরশন বা গর্ভপাত করায়।
এতে কী হয়? গাছের ডগা জরায়ুতে ঢুকিয়ে দেওয়া হলে, দেখা যাচ্ছে, জায়গাটি ফুটো হয়ে যাচ্ছে। এতে ভীষণ ব্যথা হবে। এরপর ইনফেকশন ও সেপটিক হয়ে যাবে। এতে নারী মৃত্যু হয়ে যেতে পারে। বিষয়গুলো নিয়ে এ দেশে অনেক গবেষণা রয়েছে। এগুলো এখন অনেকটা কমে এলেও মাতৃমৃত্যুর গবেষণার সংখ্যা দেখলে, দেখা যাবে, সাত শতাংশ মৃত্যু এখনও গর্ভপাতের জটিলতার জন্য হয়।
প্রতিরোধ ও প্রতিকার

তবে বিষয়গুলোতে একটু সচেতন হলেই প্রতিরোধ করা যায়।
যেমন –

  • এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং সঠিক তথ্য জানতে হবে।
  • জটিলতাগুলো বুঝতে হবে।
  • মাসিক নিয়ন্ত্রণ ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • সঠিক সময়ে, সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার জ্ঞান থাকতে হবে। কী ধরনের সেবাদানকারীর কাছে গেলে সে সঠিক ব্যবস্থাপনা পাবে এবং সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে পারবে সেটা জানা জরুরি।
  • ১৯৬৫ সাল থেকে বাংলাদেশে পরিবার-পরিকল্পনা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে সাতটির বেশি এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। আপনি পরিবার- পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য ক্লিনিক যেতে পারেন। কমিউনিটি লেভেল থেকে শুরু করে, থানা ও জেলা পর্যায় যেখানেই যান না কেন, সরকারি পর্যায়ে পরিবার -পরিকল্পনা ক্লিনিক পাবেন। এনজিওরা এই পদ্ধতি দিচ্ছে। সোস্যাল মার্কেটিং কোম্পানির মাধ্যমে যেকোনো ফার্মেসিতে বা দোকানেও এই পদ্ধতি পেতে পারেন।
  • খাওয়ার বড়ি ব্যবহার করতে পারেন। প্যাকেটের গায়ের মধ্যেই লেখা থাকে ব্যবহারবিধি।
    সুতরাং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পরিবার- পরিকল্পনা পদ্ধতি জীবন বাঁচানো প্রযুক্তি। এটা ব্যবহার না করলে এই ধরনের গর্ভ হবে। এটি থেকে মুক্তি পেতে ভুল ব্যবস্থাপনার কাছে চলে যাবেন। এতে শারীরিক ক্ষতি, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিষয়টিতে সচেতন হওয়া খুবই জরুরি।

লেখক :
রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

‘মানুষের কথার আঘাতে থেমে গেলে চলবে না’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

করোনার সময়টা খুব কঠিন ছিল সাবিহা আফরিনের। সবিহার স্বামী গ্রাফিক্স ডিজাইনার। দুজনেই ঢাকায় থাকতেন। তবে সে সময় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, স্বামীর কাজ কমে যায়। অর্থনৈতিক অবস্থাটা এতোই সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে যে চুয়াডাঙায় চলে যেতে হয়।

তখন থেকেই ভাবছিলেন, অর্থনৈতিক স্বচ্ছ্বলতা কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় ? এই সময় অনলাইন ও অফলাইনের মাধ্যমে পোশাকের ব্যবসা শুরু করেন সাবিহা। বর্তমানে তার শো রুম জান্নাত-ই কালেকশন থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো আয় হয়। পাশাপাশি ২০২৩ সালে জয়িতা ফাউন্ডেশন ও উজ্জ্বলার যৌথ উদ্যোগে করা ১০দিনব্যাপী একটি বিউটিফিকেশন কোর্স অংশ নেন তিনি। শো রুমের পাশাপাশি স্কিন কেয়ার সেকশনও চালাচ্ছেন। এখান থেকেও ভালোই আয় হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে এখন পরিবারকে সহযোগিতা তো করছেনই, হয়ে উঠেছেন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা।

“পোশাকের ব্যবসা শুরু করার সময় খুব কাছের আত্মীয়দের কাছ থেকে অনেক তীক্ত কথা শুনেছি। একজন আত্মীয় বলেছিলেন, ‘বাসায় বাসায় এখন কাপড় বেঁচতে আসছো?’ তখন আমি উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমি একদিন শো রুম করবো এবং একদিন আপনি সেখানে আসবেন। তখন আমি আপনাকে সবচেয়ে সেরা পন্যটি দেবো।’ এখন তা-ই হয়েছে। তবে সে সময় বিষয়গুলো খুব আহত করেছিল। তখন আমার স্বামী মানসিকভাবে সহযোগিতা করে,” বলছিলেন সাবিহা আফরিন।

উজ্জ্বলা ও জয়িতা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে করা এই কোর্সটির কথা আমি জেনেছিলাম ফেসবুকের মাধ্যমে। ২০২৩ সালে মে মাসের ২৭ তারিখ থেকে জুন মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত এই কোর্সটি হয়। বহুদিন ধরে ভাবছিলাম, একটি ব্যবসা তো রয়েছে, তবে এর পাশাপাশি কী করা যায়, যার স্থায়িত্ব থাকবে। এই ভাবনা থেকেই উজ্জ্বলার কোর্সটি করা। এটি করে অনেক উপকৃত হয়েছি।

“কোর্সটি শুরু করার সময় খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম, পারবো কি না, বা কতটুকু পারবো। সবকিছু আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে কোর্স শেষে মনে হয়েছে নিজেকে নতুন করে জানতে পেরেছি। কোর্সের সময় উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন ম্যামের কথাগুলো খুব ভালো লাগে। তিনি বলেছিলেন, ‘নিজেকে পরিবর্তন করতে পারলে, আশপাশের বদলও আশা করতে পারবে। প্রথমে তোমার নিজেকে বদলাতে হবে।’ তখন আমার মনে হয়েছিল আমি পারবো। কথাগুলো আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছিল”, বলেন সাবিহা।

 

ক্যাপশন : উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে সাবিহা আফরিন। ছবি : সংগৃহীত
ক্যাপশন : উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে সাবিহা আফরিন। ছবি : সংগৃহীত

উজ্জ্বলা থেকে কোর্স করে বর্তমানে ত্বক পরিচর্যার ওপর কাজ করছেন সাবিহা। ‘এই ধরনের কোর্স করলে নারীরা ঘরে থেকে অনেক কাজ করতে পারে। সংসারের হাল ধরার পাশাপাশি আয় উপার্জনও হয়’, মন্তব্য করেন সাবিহা।

ভবিষ্যতে ইচ্ছে রয়েছে চুয়াডাঙায় আলাদা করে একটি স্কিন কেয়ার সেন্টার দেওয়ার জানিয়ে সাবিহা বলেন, ‘ আমি নারীদের জন্য কাজ করতে চাই। এ বিষয়ে আরো অভিজ্ঞ হয়ে অন্যান্য নারীদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমরা অনেক সময় অন্যের কথা শুনে থেমে যাই। এটা করা যাবে না। নারীকে এগিয়ে যেতে হবে।’

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৯৩তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

ঈদে সবার আগে শিশুর পোশাক

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঈদের পোশাক নিয়ে শিশুদের মাঝেই থাকে বেশি উচ্ছ্বাস ও আগ্রহ। ঈদে শিশুদের উল্লাস-খুশিতে থাকা, এ আনন্দ ছুঁয়ে যায় বড়দেরও। তাদের ঘিরেই যেন এই আনন্দ। তাই ঈদ এলে শুরুতেই মাথায় আসে বাড়ির ছোট্ট সোনামণিটির পোশাকের কথা এবং তা হতে হবে বিশেষ। এবারের উৎসবে শিশুদের কথা মাথায় রেখে তাই কে ক্র্যাফট-এর আয়োজনের কমতি নেই।

যেহেতু ঈদ আসতে আসতে গরম পড়ে যাবে। তাই উৎসবের দিনগুলোতে পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে আরাম ও স্বস্তিদায়ক হবে এমন পোশাক নির্বাচন করা প্রয়োজন। তাই গুরুত্ব সহকারে ফ্যাব্রিক ও রঙ বাছাই করা হয়েছে।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

আসছে ঈদকে সামনে রেখে উৎসব ভিত্তিক পোশাক আয়োজনে মেয়ে শিশুদের জন্য থাকছে সালওয়ার কামিজ, ফ্রক, কুর্তি, টপস, লেহেঙ্গা সেট, টপস সেট, স্কার্ট, পার্টি ফ্রক, টপস-কটি সেট ও পালাজো। ছোট ছেলেদের পোশাক আয়োজনে নানা রঙের পাঞ্জাবি, হাফহাতা কাটের শার্ট ও ফতুয়া। শিশুদের যা পছন্দ হবে বা ভালো লাগবে তাই প্রাধান্য পাচ্ছে এবার। এ ছাড়াও ছোট মেয়েরা বোন অথবা মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য সালওয়ার-কামিজ, কুর্তি পাবে। আবার বাবা ও ছেলের জন্য পাঞ্জাবি,শার্ট, ফতুয়া থাকবে বরাবরের মত।

ফ্লোরাল, মুঘল, জ্যামিতিক, জামদানি, কাশ্মীরি, বেলারুশ, ম্যান্ডালা, এথনিক, ছাড়াও আরও অন্যান্য মোটিফ ফুটিয়ে তুলতে পোশাকে অনেক রকম প্রিন্ট থাকছে। হাতের কাজ, কারচুপি, টাই-ডাই এর কাজ রয়েছে কমবেশি। এ ছাড়াও ডিজাইনের প্রয়োজনে নেট ফ্যাব্রিক, লেইস, বিড ও মেটালের ব্যবহার হয়েছে।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

গরমের সময়কে বিবেচনায় রেখে বৈচিত্র্যময় রঙ নির্বাচন করে কটন, জ্যাকার্ড কটন, টু-টোন, নিব কটন, জর্জেট, ভয়েল, সুইস কটন, লিনেন, মমো সিল্ক, ক্যাশমিলন, ডুপিয়ন সিল্ক, দুবাই সিল্ক, পেপার সিল্ক, ভিসকোস ফ্যাব্রিকে তৈরি করা হয়েছে এবারের পোশাক।

কে ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লার সকল শো-রুম ছাড়াও অনলাইন শপ kaykraft.com থেকে শিশুদের ঈদ আয়োজন এর পোশাক কিনতে পারেন সাশ্রয়ী মূল্যে। এ ছাড়া ফেসবুক পেজ থেকেও অর্ডার করা যাবে।

নারী দিবসে রঙ বাংলাদেশ- এর পোশাক

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকেই নারীর অবদান আমাদের সমাজে অনস্বীকার্য। এই অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘নারী দিবস’। দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন করা হয়।

বেগুনি রঙকে ধরা হয় এই দিবসের প্রতীক হিসেবে। মূলত, এই রং দিয়ে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে বোঝানো হয়। নারী ঠিক সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মতো শক্তিশালী।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশ সবসময়েই নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানায় তাদের সৃজনে, ডিজাইনে ও পোশাকের আয়োজনে। কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে নারীর অবদান।

 ছবি : রঙ বাংলাদেশ
ছবি : রঙ বাংলাদেশ

রঙ বাংলাদেশ-এর প্রতিটি আউটলেটে ও অনলাইনে নারীদের জন্যে নিয়মিত আয়োজনের মধ্যে এবারে থাকছে শাড়ি, থ্রিপিস, কামিজ, ওড়না, কুর্তি, টপস্, ব্লাউজ, মাস্ক, গহনা, মগ, ব্যাগ। এ ছাড়া আরো রয়েছে জুয়েলারি ও নানা রকম উপহার সামগ্রী।

রঙ বাংলাদেশ-এর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের যে কোনাে আউটলেটেই পাবেন চমৎকার এই নারী দিবস সংগ্রহ। তাই আজই কিনুন নিজের ও প্রিয়জনের জন্য নারী দিবসের পোশাক- হোক সে প্রেমিকা, স্ত্রী, মা, কন্যা বা অন্য কোন আপনজন।

রঙ বাংলাদেশ
রঙ বাংলাদেশ

রঙ বাংলাদেশ- এর ওয়েবসাইট (www.rang-bd.com), ফেসবুক পেজ অ্যাড্রেস (www.facebook.com/rangbangladesh )। অনলাইনে অর্ডার করা ‘রঙ বাংলাদেশ’ এর পণ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষায় পৌঁছে যাবে আপনার ঘরে। যেকোন প্রয়োজনে ফোন/হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে সাহায্যকারী। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ফোন করতে পারেন ০১৭৭৭৭৪৪৩৪৪ ও ০১৭৯৯৯৯৮৮৭৭ নম্বরে।

গাইবান্ধার বিশেষ রান্না আটার পিঠালী

অপরাজিতা অরু

ভোজন রসিক হিসেবে বাঙালির বেশ খ্যাতি রয়েছে চিরকালই। অঞ্চলভেদে এই দেশে রয়েছে নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি। খাবার ও রান্না সেই সংস্কৃতিরই বিরাট একটা অংশ।

খাবারের একই উপাদান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রান্না হয় ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায়। রন্ধন প্রক্রিয়া ভিন্ন হওয়ার কারণে বদলে যায় খাবারের নাম। এই নামে প্রকাশ পায় এক একটা অঞ্চলের সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা।

আজকের রেসিপিতে থাকছে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ একটি রান্না আটার ডাল বা পিঠালী। এই খাবারটি বিশেষ বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে রান্না করা হয়, যা ওই অঞ্চলের ঐতিহ্য।

গাইবান্ধা কুড়িগ্রামে এই রান্নাটি এতই জনপ্রিয় যে বর্তমানে এটি হেঁসেল থেকে উঠে এসেছে হোটেলে। বিভিন্ন হোটেল রেস্তেরাঁয় বানিজ্যিক ভিত্তিতে রান্না ও পরিবেশন করা হয়। আজকে এই বিশেষ রান্নাটির রেসিপি থাকছে সাতকাহনের পাঠকদের জন্য। রেসিপিটি জানিয়েছেন গাইবান্ধার বাঙলা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের কর্ণধার সুজন প্রসাদ।

উপাদান

মাংস (গরু অথবা খাসি)- ১ কেজি
ভাতের চাল – ২ কাপ
মরিচ গুঁড়া – ২ টেবিল চামচ
আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ কুচি – ৫টি
রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
ধনিয়া – ২ চামচ
জিরা – ২ টেবিল চামচ
সাদা এলাচ – ১৫/১৬ টি
কালো এলাচ- ৮টি
দারচিনি – ১০ টি
পাঁচফোড়ন – ২ চা চামচ
গোল মরিচ – ১ টেবিল চামচ
লবঙ্গ – ১৮/২০ টি

যেভাবে মাংস রান্না করবেন

ধনে, জিরা, এলাচ, দারুচিনি, পাঁচফোড়ন, গোলমরিচ, লবঙ্গ সবগুলো মশলা কড়াইয়ে মৃদু আঁচে ভেজে নিন। এবার ব্লেডারে অথবা পাটায় সবগুলো একসঙ্গে বেটে গুঁড়া করে নিন। মশলার গুঁড়া খুব মিহি করা যাবে না। এটা এই রান্নার বিশেষত্ব। বাজারে যেসব গুঁড়া মশলা পাওয়া যায় সেগুলো এই রান্নার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না। কারণ, সেগুলো খুব মিহি হয়।

আটার ডালের প্রধান দুই উপকরণ হলো মাংস ও চালের গুঁড়া। আটা তৈরির জন্য ভাতের চাল দশ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। দশ মিনিট পরে চালটা ছেঁকে ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে নিন। খেয়াল রাখতে হবে আটা যেনো একেবারে মিহি হয়ে না যায়।

কড়াইয়ে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিন। বেরেস্তার জন্য আর্ধেকটা পেঁয়াজ তুলে নিয়ে কড়াইয়ে আদা রসুন বাটা এক চামচ করে দিয়ে দিন। এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া, এক টেবিল চামচ মরিচ গুঁড়া, দুই টেবিল চামচ গুঁড়া মশলা এবং পরিমাণ মত লবণ দিয়ে মশলা কষিয়ে এর মধ্যে মাংসটা ঢেলে দিতে হবে। মাংসটা ভালোভাবে কষিয়ে রান্না করে নিন। এরপর এই অবস্থায় নামিয়ে রাখুন।

আটার ডাল তৈরির উপাদান

তেজপাতা – ৪টি
তেল – ১ কাপ
কাঁচা মরিচ বাটা – ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা- ১ চা চামচ
রসুন বাটা- ১ চামচ
হলুদ- ১ চা চামচ
গুড়ো মসলা – ১ চা চামচ
আস্ত কাঁচা মরিচ – ৫টি
লবণ- স্বাদমতো

আটার ডাল যেভাবে তৈরি করবেন

মাংস ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে এই পর্যায়ে চুলায় একটি পাত্রে দুই লিটার পরিমাণ পানি দিয়ে দিন। পানিতে সব উপকরণগুলো দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ঢেকে দিন। পানি ভালোভাবে ফুটে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পানি ফুটে উঠলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন মাঝারি পর্যায়ে রাখুন।

এবার চালের গুঁড়া এক হাত দিয়ে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে দিন পানিতে অন্যহাতে নাড়তে থাকুন ক্রমাগত। এই কাজটি করতে হবে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে। না হলে আটা/চালের গুঁড়া দলা পেকে যাবে। অল্প অল্প করে সবটা আটা ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে গেলে ভালোভাবে নেড়ে দশমিনিট ধরে কষিয়ে নিন। দশ মিনিট পরে পানি এবং আটার মিশ্রণটি খানিকটা ঘন হয়ে যাবে। তাই এবার খানিকটা গরম পানি ঢেলে দিন, যেনো ঘনত্বটা ডাল রান্নার চেয়ে সামান্য বেশি গাঢ় হয়। এবার আরো পাঁচ মিনিট রান্না করুন। এই পর্যায়ে খেয়াল রাখতে হবে কড়াইয়ে যেনো লেগে না যায়।

পাঁচ মিনিট পরে এবার শেষ বারের মতাে আরো দুইকাপ গরম পানি দিয়ে দিন ঝোলের জন্য। এবারে এর মধ্যে দিয়ে দিন কষিয়ে রাখা মাংস। এবার আটার ডালের জন্য করে রাখা বিশেষ মসলা গুঁড়া দিয়ে দিন দুই টেবিল চামচ। এভাবে হালকা আঁচে রান্না করুন আরো পাঁচ মিনিট। এবার তুলে রাখা পেঁয়াজ বেরেস্তাগুলো দিয়ে দিন তৈরি হয়ে যাওয়া আটার ডালের মধ্যে।

এই রান্নাটির স্বকীয়তা হচ্ছে শুধুমাত্র আদা ও রসুন বাটা ছাড়া রান্নাতে যত মশলা ব্যবহার করা হয় তার কোনোটাই মিহি করে গুঁড়া করা যাবে না।

রেসিপি : শাহী মালাই কোফতা

অপরাজিতা অরু

বিভিন্ন উৎসব আয়োজনে খাবারে থাকে মাংসের নানা পদ। মাংস ছাড়া যেকোনো উৎসবের খাওয়াটা যেনো জমে না। তাই আজকে থাকছে মাংসের একটি বিশেষ রেসিপি শাহী মালাই কোফতা। বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন এই বিশেষ খাবারটি।

এই রান্নাটি দুইটি ধাপে শেষ করতে হবে। প্রথমে কোফতা তৈরি করে নিতে হবে। এরপর সেগুলো রান্না করতে হবে বিশেষভাবে তৈরি মশলা দিয়ে।

কোফতা তৈরির জন্য যা যা লাগবে

চর্বিযুক্ত মাংসের কিমা – ১ কেজি
বেসন – আড়াই কাপ বেসন
আদা ও রসুন বাটা – ১ টেবি চামচ
মরিচ গুঁড়া- আধা টেবিল চামচ
জিরা গুঁড়া – আধা টেবিল চামচ
ধনে গুঁড়া – আধা টেবিল চামচ
গরম মশলা গুঁড়া – ১/৪ চামচ
হলুদ গুঁড়া- সামান্য
কাঁচা মরিচ – ৪টি
লবণ- স্বাদ মতো

যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে বেসন খুব হালকা আঁচে নেড়েচেড়ে ভেজে নিতে হবে। ভাজার সময় অনবরত নাড়তে থাকুন, না হলে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছুক্ষণ পর বেসনের রং হালকা পরিবর্তন হলে নামিয়ে নিন।

এবার বেসনসহ সবগুলো উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। অথবা পাটায় বেটে নিতে পারেন। এতে কোফতার কিমাটা আঠালো হয়, ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। ব্লেন্ড করা মিশ্রণটি হাতের তালুতে নিয়ে ছোট ছোট বল বানিয়ে নিন। চুলায় ডুবো তেলে হালকা লালচে করে ভেজে নিন তুলে নিন।

শাহী মালাই কোফতা। ছবি : সংগৃহীত
শাহী মালাই কোফতা। ছবি : সংগৃহীত

মালাই কোফতা তৈরির উপকরণ

টকদই – ১/৪ কাপ
পেঁয়াজ বেরেস্তা – ১/৪ কাপ
কাঁচা মরিচ – ৩টা
কাজু বাদাম- ১২/১৫ টি
মরিচ গুঁড়া – আধা চা চামচ
ধনিয়া গুঁড়া- ১ চা চামচ
জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ
লবণ- ১ চা চামচ
চিনি- ১ চা চামচ
আদা রসুন বাটা – আধা চা চামচ
মালাই ক্রিম- চার টেবিল চামচ

শাহী মালাই কোফতা। ছবি : সংগৃহীত
শাহী মালাই কোফতা। ছবি : সংগৃহীত

মালাই কোফতা তৈরি করবেন যেভাবে

মালাই ক্রিম বাদে বাকি উপকরণগুলো একসঙ্গে নিয়ে দশ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। দশ মিনিট পরে মিক্সিং জারে সবগুলো উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে মালাই কোফতা রান্নার জন্য স্পেশাল মসলা।

চুলায় মৃদু আঁচে ১/৩ কাপ তেল কড়াইয়ে গরম করে নিন। তেলের সঙ্গে এক চা চামচ ঘি দিয়ে দিন। গরম তেলের মধ্যে দিয়ে দিন একটা তেজপাতা, দুইটা গরম মসলা, সাদা এলাচ তিন থেকে চারটি। এই সময় খেয়াল রাখতে হবে চুলার আঁচ অবশ্যই হালকা অবস্থায় থাকে।

তেল গরম হয়ে গেলে মালাই কোফতার জন্য মিশিয়ে রাখা মসলার মিশ্রণটি তেলের মধ্যে দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন।

মশলা থেকে তেলগুলো উপরে উঠে এলে বুঝবেন কষানো হয়ে গেছে। এবার আগে থেকে ভেজে রাখা কোফতাগুলো মশলার মধ্যে দিয়ে দিন। নেড়েচেড়ে ঢেকে দিন এভাবে রান্না করুন পাঁচ থেকে সাত মিনিট। এরপর নেড়ে নিয়ে দুইকাপ পরিমাণ পানি দিয়ে দিন। ঢাকনা খোলা অবস্থায় কিছুক্ষণ রান্না করুন পানি কিছুটা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। যতটা ঝোল রাখতে চান সেই পর্যায়ে পানি শুকিয়ে এলে এর মধ্যে তিনটা কাঁচা মরিচ এবং ১/৪ চামর শাহী গরম মসলা দিয়ে মিশিয়ে নিন। এ পর্যায়ে চুলা বন্ধ করে পাঁচ মিনিটের জন্য ঢেঁকে দিন। পাঁচ মিনিট পরে একটা পাত্রে ঢেলে কোফতার ওপরে মালাই ক্রিম দিয়ে দিন।

মালাইক্রিম দোকানে কিনতে পাওয়া যায় অথবা দুধের সর তুলে বাড়িতেও ব্লেন্ড করে ক্রিম বানিয়ে নিতে পারেন।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.