‘ বাধা আসবে, অতিক্রমের শক্তিও থাকতে হবে ‘
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
শিখা খাতুন সবসময় চাইতেন নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার। ছোটবেলা থেকেই কখনো অলস সময় পার করতে পছন্দ করতেন না। কোনো না কোনো কাজের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন। স্বাবলম্বী হওয়ার এই তীব্র জেদ আজ তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
ঢাকার খিলগাঁও তালতলায়, অধরা বিউটি জোন নামে তার একটি নিজস্ব পার্লার রয়েছে। পার্লারের আয় খারাপ নয়। বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে এলাকাতে তার একটি সুনামও রয়েছে। শিখা বলেন, ‘ আমার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। সেখানে আমার মামার একটি বিউটি পার্লার রয়েছে। সেখান থেকে টুকটাক কাজ শিখি আমি। এরপর অবশ্য আর এই পেশায় কাজ করার সুযোগ হয়নি। নার্সিং পেশায় চলে যাই। তবে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে কুড়িগ্রাম চলে যাওয়ার কারণে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। এক বছর পর আবার ঢাকায় আসি। যেহেতু আমি কাজ ছাড়া থাকতে পারি না, তাই আমার স্বামী বললেন, বিউটিফিকেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উজ্জ্বলা থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য। তিনি আমাকে খুব সহযোগিতা করেছেন এই প্রশিক্ষণ নিতে। এরপর ২০২১ সালের শেষের দিকে উজ্জ্বলায় ভর্তি হই। সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করে এখন স্যালন দিয়েছি।’
‘ আসলে উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছাটা আমার সবসময়ই ছিল। আমি প্রথমে সাদামাটা চলতে পছন্দ করতাম। তবে আমাদের সমাজে সবকিছুতে একটি শো অফের বিষয় রয়েছে। আমি এটা পারতাম না। আমাকে অনেক অবহেলার শিকার হতে হয়েছে এই জন্য। এই বিষয়টি আমার মধ্যে জেদ তৈরি করে। এই জেদ থেকেও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কিছু করার ইচ্ছা হয়’, বলছিলেন শিখা।
উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে তাঁর স্বামী ও উজ্জ্বলার অবদানের কথা জানিয়ে শিখা বলেন, ‘ উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন আপার কাছ থেকে অনেক মানসিক শক্তি পেয়েছি। আর উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি সাদিয়া ইসলামের অনেক ভূমিকা রয়েছে আমাকে দক্ষ বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে তৈরি করার পেছনে। আর স্বামীর সহযোগিতা তো ছিলই।’

উদ্যোক্তা হওয়ার পথটা এত সহজ ছিল না শিখার। অনেক বাঁধার সম্মুখিনও হয়েছেন। এসব বাঁধা অতিক্রম করেই আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বললেন, ‘ বিউটি আর্টিস্ট পেশাটিকে এখনো আমাদের সমাজ সহজভাবে নেয় না। একজন মেয়ে পার্লার দিবে, বিষয়টিকে খারাপভাবে চিন্তা করা হয়। যেন পার্লার মানে খারাপ ব্যবসা। যারা এই পেশার মধ্যে দিয়ে উদ্যোক্তা হয়েছেন, তারা কম-বেশি এই সমস্যার মুখোমুখি হয়। ১০০ জনের মধ্যে ১০ জন হয়তো খারাপ হতে পারে, তবে ৯০ জন তো নয় ? এই পেশায় থাকলে একজন মেয়ে যেমন চাকরির সুযোগ পায়, তেমনি নিজে কিছু করতে পারে। স্বনির্ভর হওয়ার জন্য পেশাটি খুবই উপযুক্ত।
যারা এই পেশার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের জন্য শিখা বলেন, ‘ সবার আগে ভালো কাজ জানা দরকার। সম্পূর্ণ কাজ ভালোভাবে না জেনে এবং আত্মবিশ্বাস না তৈরি করে উদ্যোক্তা হওয়া যায় না। আমার কাজ যেন ভালো হয়, মানুষ যেন আস্থা পায়, সেই বিষয়টি তৈরি করতে হবে। অন্যের নেতিবাচক কথাকে পাত্তা দিলে চলবে না। নিজের লক্ষ্যকে স্থির থাকতে হবে। বাধা আসবে, অতিক্রমের মানসিক শক্তিও থাকতে হবে।’
ভবিষ্যতে আরো দক্ষ বিউটি আর্টিস্ট হতে চান শিখা। জানান, শেখার কোনো শেষ নেই। প্রতিনিয়তই শিখছি। নিজের কাজ যেন অনেকের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারি, এটাই ইচ্ছা।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৮৬তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
https://www.facebook.com/UjjwalaBD
https://www.instagram.com/UjjwalaBD/
ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭
পুরুষের ৩ গুণ, নারীকে আকৃষ্ট করে
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
যাদের মধ্যে সেন্স অব হিউমার বা রসবোধ রয়েছে, সেসব পুরুষ নারীকে বেশি আকৃষ্ট করে। রসবোধের পাশাপাশি পুরুষের দয়ালু মনোভাবও নারীকে তার প্রতি টেনে নিয়ে আসে।
অপরদিকে যেসব পুরুষ দেখতে সুন্দর, তাদের সঙ্গে সাময়িকভাবে মেয়েরা ফ্লার্ট ( প্রেম প্রেম ভাব) করতে পছন্দ করলেও দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কে জড়াতে চায় না। জার্নাল অব পারসোনালিটি অ্যান্ড সাইকোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণার ফলাফলে এমনই তথ্য ওঠে এসেছে। পুরুষের এমন আরো গুণ, যা নারীকে আকৃষ্ট করে- সেসবের কথা জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। চলুন জেনে নিই –
দাড়ি
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাড়িওয়ালা পুরুষের প্রতি নারী তীব্র আকর্ষণবোধ করে। দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে তাদের আরো বেশি শক্তিশালী ও বুনো মনে হয়। আর এই বিষয়টিই নারীর ভালো লাগার কারণ।
উপকারী মনোভাব
দ্যা জার্নাল অব সোস্যাল সাইকোলজির প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাদের মধ্যে উপকারী মনোভাব রয়েছে, সেই সব পুরুষকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ভাবতে চায় মেয়েরা। অর্থাৎ বলা চলে, বিয়ের জন্য এ ধরনের পুরুষই অন্যতম পছন্দ মেয়েদের।
ঝুঁকি নিতে পারে যারা
কাপুরুষ বা ভীতু পুরুষ নারীর কাছে কখনোই আকর্ষণীয় ব্যক্তি নয়। যেই পুরুষের মধ্যে সাহস রয়েছে বা ঝুঁকি নেওয়ার মানসিক শক্তি রয়েছে, সাধারণত তাদের কাছেই নিজেকে সমর্পন করতে চায় মেয়েরা। তাই, এসব গুণ থাকলে আপনাকে নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় পুরুষ বলাই যায়।
শীতের ৫ খাবার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
শীত অনেকের কাছেই মন বিষণ্ণ করা ঋতু হলেও, এই সময়ের সবজি ও ফল কম-বেশি সবারই পছন্দ। শীতকালিন খাবার কেবল যে রসনার তৃপ্তি মেটায় তা নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি নেই।
শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এমন পাঁচ খাবারের নাম জানিয়েছে পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি। আসুন জানি-
ফুলকপি
শীতের সবজি মানেই ফুলকপি। পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফোলেট, ভিটামিন বি এর পাশাপাশি ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার ফুলকপিতে যথেষ্ট পরিমাণ রয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এর জুড়ি নেই। এ ছাড়া ওজন কমাতে যারা মরিয়া হয়ে রয়েছেন, তাদের জন্যও ফুলকপি বেশ উপকারী।
মুলা
এটি ভিটামিন ও মিনারেলসে ভরপুর। একে বলা হয়, সুপার ফুড। থায়ামিন, ফোলেট, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ফাইবার- কমবেশি সবই রয়েছে মুলায়। তবে এর কটু গন্ধের কারণে অনেকের কাছে অপছন্দের হলেও পুষ্টি বিবেচনায় এটি অনন্য।
মুলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর খাদ্যতালিকায় এই খাবারটি রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া লিভারের সুস্থতার জন্য মুলা বেশ কার্যকর। ক্যানসার প্রতিরোধেও এটি সহায়ক। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে তিনদিন এই খাবারটি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
সিম
কপার, ফোলেট, ফসফরাস, ভিটামিন বি , ফাইবার, প্রোটিন রয়েছে সিমে। শীতের সবজি হিসেবে সিমের গুরুত্ব অনেক। যাদের রক্ত স্বপল্পতা রয়েছে (বিশেষত বয়োঃসন্ধিকালে মেয়েদের রক্ত স্বল্পতার ঝুঁকি বেশি), তারা শীতের সবজি হিসেবে এটি খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। এ ছাড়া সিম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
জলপাই
জলপাই হারের সুস্থতা রক্ষার্থে কার্যকর। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের পাশাপাশি ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও সোডিয়াম থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী। এটি ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
কাঁচা টমেটো
কাঁচা টমেটো সারা বছর পাওয়া যায় না। শীতে কাঁচা টমেটো সালাদ হিসেবে বা রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লাইকোপেন, সোডিয়াম, আঁশ। এটি হৃদরোগ ও ক্যানসার প্রতিরোধে উপকারী।
শীতে মেকআপের আগে ত্বক প্রস্তুত করবেন কীভাবে?
সোনিয়া খান
শীতে যেহেতু ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, আর্দ্রতা হারায়, তাই মেকআপের আগে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার করে নিতে হবে। যাদের তৈলাক্ত ত্বক, তাদের ক্ষেত্রে ঝামেলা অনেকটা কম পোহাতে হয়। তবুও ময়েশ্চারাইজার করে নেওয়া জরুরি।
শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ভালোভাবে পরিষ্কার করে অ্যালকোহল ফ্রি টোনার ইউজ করবেন। এরপর যেকোনো ফেস অয়েল মুখে মেখে দুই মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। এবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে মেকআপ শুরু করুন।
শীতের কারণে অনেকেই পানি কম পান করে। এতে শীতকালে আমাদের ত্বক পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। এতে ত্বক ভালো থাকবে। ত্বক ভালো থাকলে অল্প মেকআপেই সুন্দর লাগে। পাশাপাশি ত্বকের যত্নে একটি রুটিন মেনে চলুন।
শীতের সময় হালকা মেকআপই করুন। এখন এই ধরনের মেকআপেরই চল। আর এটি দেখতেও ভালো লাগে। অনুষ্ঠানের জন্য ভিন্নরকম লুক পেতে খুব গাঢ় লিপস্টিক ব্যবহার করলে চোখের মেকআপটা হালকা হবে। একটা কিংবা দুটো আইশ্যাডো ব্যবহার করে একটু আইলাইনার টেনে নিতে পারেন। এই ক্ষেত্রে বেইজ মেকআপটা হালকা হবে। খুব বেশি পাউডার ব্যবহার করবেন না, অতিরিক্ত পাউডার ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। মেকআপ-এ ডুই একটা ভাব রাখার চেষ্টা করুন।
শীতকালে চেষ্টা করবেন ময়েশ্চারাইজারযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে। লিকুইড ফাউন্ডেশন, হাইলাইটার, ব্লাশন ব্যবহার করা যেতে পারে। খুবই অল্প লুজপাউডার/ডাস্ট পাউডার দিয়ে ফেসটাকে সেট করবেন, যেনো এদিক সেদিক ছড়িয়ে না যায়। পাউডার বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।
ময়েশ্চারাইজার এর ক্ষেত্রে বর্তমানে এমব্রেলিসের ময়েশ্চারাইজার অধিকাংশ আর্টিস্টদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। যেটা সব ধরনের ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এই ক্ষেত্রে শুষ্ক ত্বকে একটু বেশি পরিমাণে এবং তৈলাক্ত ত্বকে একটু কম পরিমাণে ব্যবহার করতে হয়।
এ ছাড়া শুষ্ক ত্বকে সিটাফিল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। সব ধরনের ত্বকের জন্য নিভিয়া সফ্ট ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
লেখক : রূপ বিশেষজ্ঞ
অণুলিখন
অপরাজিতা অরু
শিশুর অ্যাজমা : কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন ?
ডা. সজল আশফাক
শিশুর হাঁপানি বা অ্যাজমা অভিভাবকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হলেও বর্তমানে সে অবস্থার অনেকটা পরিবর্তন ঘটেছে। কারণ, হাঁপানি নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি এবং সেইসঙ্গে আধুনিক পরিকল্পিত চিকিৎসা ব্যবস্থা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অভিভাবকদের অনেকটা স্বস্তি দিতে সমর্থ হয়েছে।
সাধারণত হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে গেলে বুকের মধ্যে বাঁশির মতো চিঁ চিঁ শব্দ হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় হুইজ।
সে ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবকই শিশুর হাঁপানি রয়েছে কি না, সেটি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। প্রকৃতপক্ষে হাঁপানি রোগীদের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রেই ‘হুইজ’ থাকে না বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস হেলথ সায়েন্স সেন্টারের শিশু বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক টেড নিকার।
উপসর্গ
• কাশি হচ্ছে হাঁপানির সবচেয়ে পরিলক্ষিত উপসর্গ। এই কাশির প্রকোপ রাতেই বেশি দেখা দেয়।
• এ ছাড়া বুক চেপে ধরার অনুভূতির কথা বলতে পারে শিশু। সঙ্গে কিছুটা শ্বাসকষ্টও থাকে।
• খেলাধুলা করতে গেলে কিংবা চলাফেরা করতে যাওয়ার সময় শিশু পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে।
হাঁপানি বেড়ে গেলে কী হয়?
• শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে ব্যবহৃত বাতাস চলাচলের পথ সরু হয়ে যায়।
• ফুসফুসে বাতাস চলাচলের পথ এ সময় প্রদাহযুক্ত হয়ে ফুলে ওঠে।
• বাতাস চলাচলের কাজে ব্যবহৃত ফুসফুসের নালির মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং সেখানে আঠালো পদার্থের নিঃসরণ ঘটে। এটি স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসকে ব্যাহত করে।
হাঁপানি সম্পর্কে প্রশিক্ষিত বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে খুব সহজেই শিশুর হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে হাঁপানি কখনো কখনো তীব্র আকার ধারণ করে শিশুর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
যেসব উপসর্গ দেখলে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নেবেন :
• শিশুর তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে। শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুর ‘কলার বোন’ এবং পাঁজরের হাড় যদি ভেসে উঠলে।
• শ্বাসকষ্টের কারণে শিশু কথা বলতে ব্যর্থ হলে বা কথা বলতে অসুবিধা হলে।
• শিশু বসে উপুড় হয়ে শ্বাসকষ্ট উপশমের চেষ্টা করলে।
• প্রতি শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাঁশির মতো চিঁ চিঁ শব্দ হলে।
• শিশু দাঁড়াতে গিয়ে শ্বাসকষ্টের কারণে বসে পড়লে আবার ভালোভাবে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকলে।
• কোনো কিছু পান না করতে পারলে বা খেতে না চাইলে।
• ইনহেলার ব্যবহারের ১৫ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে।
যেহেতু হাঁপানির কারণে মৃত্যু হওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়, কাজেই হাঁপানির তীব্রতা বাড়লে শিশুকে দ্রুত হাঁপানির চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে এমন হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
লেখক : নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ
পোশাকে বিজয়ের উৎসব
অপরাজিতা অরু
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে করেছে গৌরবান্বিত। আমরা পেয়েছি লাল সবুজের একটি পতাকা। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র সারা দেশ সেজে ওঠে লাল সবুজের রঙে। পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বাঙালি মেতে ওঠে প্রাণের আয়োজনে। এর অনেকটাই ফুটে ওঠে পোশাকে। তাই বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউজগুলোতে থাকছে বিজয়ের রঙে বর্ণিল সব পোশাক।

ফ্যাশন আর স্টাইলের সঙ্গে বিজয়ের থিমকে মাথায় রেখে পোশাকে আধিক্য পেয়েছে লাল সবুজের। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ছাড়াও থাকছে শীতের পোশাকও। যেগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাঁথা, বালাদেশের পতাকা মানচিত্র, বঙ্গবন্ধুর ছবি সহ দেশীয় নানান চিত্র ফুটে উঠেছে। লাল সবুজ ছাড়াও কমলা, হলুদ সহ নানা রঙের পোশাক তৈরি করছে হাউজগুলো। দেশী কাপড় ও ঐতিহ্যের বাহক বিভিন্ন চিত্র যেনো দেশপ্রেমেরই একটা অংশ।
ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফট এর সহকারী সাধারণ ব্যবস্থাপক নাসির আহমেদ জানালেন, ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফটের এবারের বিজয় ২০২৩ আয়োজন থাকছে, প্রধানত রাগ, ডুডলিং, জিওমেট্রিক, জামদানি, ট্র্যাডিশনাল সহ নানা মোটিফের অনুপ্রেরণায়। এ ছাড়াও থাকছে বাংলাদেশের পতাকা এবং মানচিত্র নিয়ে করা নানা পোশাক। শাড়ি, পাঞ্জাবি, কুর্তি, থ্রিপিস ছাড়াও শীতের চাদরে শোভা পেয়েছে ডিজাইনগুলো।দেশীয় কাপড়ে তৈরি করা এসব পোশাকের দাম থাকছে ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাজার ঘুরে দেখা গেলো, কটন, কোটা কটন, লিনেন, নিট ও তাঁতের মতো আরামদায়ক ফ্যাব্রিকে তৈরি পোশাকগুলোতে নকশা ফুটিয়ে তুলতে , হাতের কাজ, অ্যামব্রয়ডারি ও স্ক্রিনপ্রিন্ট করা হয়েছে। রং হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, গ্রিন, অফ- হোয়াইট, বোটল গ্রিন, ফরেস্ট গ্রিন, পেইল গ্রিন, রেড, অরেঞ্জ। তবে অন্যান্য রঙের সমন্বয়ও থাকছে।
শিশু থেকে তরুণ-তরুণী ও বয়োবৃদ্ধ সবাই দেশীয় চেতনার ছোঁয়ায় পোশাকে রাঙিয়ে তোলেন নিজেদের। শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি যেটাই হোক সবুজ জমিনের একটি পোশাক শুধু বিজয়েই নয়, সারা বছরের পরিধেয় হোক। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দেশপ্রেম জড়িয়ে থাকুক বছর জুড়ে।
আফরোজা পারভীনের ছোঁয়ায় নতুন ‘সকাল’
শাশ্বতী মাথিন
মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ ২০২৩–এর দ্বিতীয় রানারআপ ইয়াসিন আহমেদ সকালকে বিউটিফিকেশনের মাধ্যমে নতুনভাবে রূপান্তর করেছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিউটি আর্টিস্ট ও রেড বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী আফরোজা পারভীন। এই লুকে আফরোজা পারভীন মডেল সকালকে দিয়েছেন সম্পূর্ণ নারীরূপ।
এ উপলক্ষ্যে আজ সোমবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে রেড বিউটি স্টুডিও ও স্যালনে এক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়।
আফরোজা পারভীন সকালকে সাজিয়েছেন চারভাবে। চারটি লুক তিনি তৈরি করেছেন। একজন ট্রান্সজেন্ডার নারীকে নতুন করে সম্পূর্ণ নারীরূপে সাজানোর বিষয়ে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশে সকালকে দেখে আমার মনে হয়েছে ওর মধ্যে বোল্ডনেস রয়েছে, বিউটি রয়েছে। আর যে নারীসত্তাকে আমরা দেখতে চাই, সেই খাঁটি নারীসত্তা রয়েছে সকালের মধ্যে। অথচ এটা প্রকাশ করা তার জন্য কঠিন। জীবনের যে যুদ্ধ আমরা সবাই করি, সেও করে। পাশাপাশি নারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার আলাদা একটা লড়াই তাকে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এটাই আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে। এ জন্যই আমি চেয়েছি সকালকে নতুন সকালে রূপান্তর করতে।’
‘এটা বলা যেতে পারে সকালের নারীত্বের উদযাপন। এ ক্ষেত্রে আমার নিরীক্ষা করার ইচ্ছা বেশি কাজ করেছে। তবে আমি অবশ্যই মাথায় রেখেছি নারী হয়ে ওঠার পথে সকালের সংগ্রাম ও ঐকান্তিকতা। তাই সকালকে নতুন রূপে, যথার্থ নারী হিসেবে তুলে ধরার কাজটা অনেকখানি সহজ হয়েছে মনে করি,’ বলেন আফরোজা পারভীন।
আফরোজা পারভীন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গভীর অভিনিবেশে সকালকে দিয়েছেন এক নতুন রূপ। সাজানোর পর নিজের চেহারা দেখে অভিভূত সকাল। বলেছেন, ‘আমি না হাসলেও আমার ঠোঁটগুলো হাসছিল। আমাকে মনে হচ্ছিল একজন রাজকন্যা।’

তাঁর ভেতরের নারীত্বকে এত সুন্দর করে প্রকাশ করা জন্য আফরোজা পারভীনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সকাল বলছেন, ‘তার স্পর্শ আমাকে আমার মায়ের স্পর্শ মনে করিয়ে দিয়েছে। যে সকালের স্বপ্ন আমি ছোটবেলা থেকে দেখেছি, সেই সকাল হয়ে উঠতে পেরেছি আফরোজা পারভীনের কল্যাণে। তার ছোঁয়ায় নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি।’
শিল্পী হিসেবে আফরোজা পারভীন মনে করেন, সকালের মতো আরও সকালকে তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনের তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

সকালের পথচলা
বাংলাদেশের সমাজে একজন ট্রান্সজেন্ডারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে নিজের সত্তাকে প্রকাশ করার যুদ্ধটা কঠিন। কেউ কেউ সেটা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। ইয়াসিন আহমেদ সকাল তাদেরই একজন। সকাল মডেলিং করেন। পাশাপাশি তিনি শান্ত-মরিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজিতে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়ছেন। তিনি সব সময়েই চেয়েছেন তার ভেতরের নারীসত্তার প্রকাশ। তবে সেটা একটা সময় পর্যন্ত সম্ভব হয়নি বলতেই হবে। সমাজের অন্যদের বোঝানো যতটা কঠিন, নিজের পরিবারের সদস্যের বোঝানো কম কঠিন নয়। এরপরও দুরূহ এক পথ তিনি পার করে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। এই জন্যই আজকে দেখা মিলেছে এক নতুন সকালের।
এ ক্ষেত্রে কাজ করেছে সকালের অদমনীয় মনোভাব, সাহস আর ইচ্ছা। এ বছর অনুষ্ঠিত মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ ২০২৩–এ তিনি দ্বিতীয় রানারআপ। এই প্রতিযোগিতা থেকে তার অর্জন আর অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। সেখানেই তাকে চোখে পড়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ আফরোজার পারভীনের। তিনিই সকালকে নতুন সকালে রূপান্তরের ইচ্ছা পোষণ করেন।
উজ্জ্বলা আমার পথচলাকে মসৃণ করে
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
‘ আমরা ছিলাম চার বোন। চার মেয়ে হওয়াতে অনেকের কাছেই বেশ ছোট হতে হতো বাবাকে। সেগুলো ভালো লাগতো না। জেদ ছিল নিজে কিছু করার। সমাজকে দেখিয়ে দেবো মেয়েরাও মা-বাবার ভরসার জায়গা হতে পারে’, বলছিলেন চট্টগ্রামের মেয়ে শিউলি চৌধুরি।
শিউলি চৌধুরি ২০২২ সালে উজ্জ্বলায় বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স করে। তাঁর কাজ শেখার হাতেখড়ি শুরু হয় উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স করে বর্তমানে শিউলি নিজেই একটি পার্লার দিয়েছেন। মাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে সেখান থেকে। এখন শিউলি নিজের খরচ তো চালানই, মা-বাবার সংসারেও কিছু খরচ দেন।
শিউলি বলেন, “সারা জীবন শুধু শুনে এসেছি আমি একটা মেয়ে, আমি কোনোদিন ছেলের মতো করে পরিবারের পাশে থাকতে পারব না। আমার বাবাও মনে করেছে আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। বিষয়গুলো আমাকে খুব আহত করতো। তবে আমার স্বামী আমাকে বিশ্বাস করেছিল। সে বলতো, ‘আমি পারব’। আমি কিন্তু এখন পারছি।”

শিউলি পরিবারের বড় মেয়ে ছিলেন। বাবাকে সাহায্য করবেন, এই চিন্তা থেকে তার বিউটিফিকেশন পেশায় আসা। শিউলি জানান, আসলে ছোটবেলা থেকেই আমি সাজতে ও সাজাতে পছন্দ করতাম। তাই যখন মনে হলো, পরিবারের জন্য আমার কিছু করতে হবে, বিউটিফিকেশনকেই পেশা হিসেবে বেছে নিই। এতে আমার পছন্দের কাজটিও করা হবে, আর টাকাও আয় হবে- এমনটাই ছিল ভাবনা।
‘উজ্জ্বলা আমার পথ চলাকে আরো মসৃণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে কেবল যে বিউটিফিকেশন শিখেছি, তা নয়। আফরোজা পারভীন ম্যামের কাছ থেকে শিখেছি, কীভাবে মানসিক শক্তি ধরে রাখতে হয়, বলছিলেন শিউলি।

নিজেকে যেমন স্বাবলম্বী করেছেন, ভবিষ্যতে নিজের কাজ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আরো নারীকে স্বাবলম্বী করতে চান শিউলি। বলেন, ‘মেয়েরা এগিয়ে যাক; স্বাবলম্বী হওয়ার পথে মেয়েদের যে স্বপ্ন, তা পূরণ হোক এবং পরিবারের একজন শক্তিশালী আয়ক্ষম ব্যক্তি হয়ে উঠুক, এটাই আমার চাওয়া’।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৮৪তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
https://www.facebook.com/UjjwalaBD
https://www.instagram.com/UjjwalaBD/
ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭


