ঈদের পোশাক নিয়ে শিশুদের মাঝেই থাকে বেশি উচ্ছ্বাস ও আগ্রহ। ঈদে শিশুদের উল্লাস-খুশিতে থাকা, এ আনন্দ ছুঁয়ে যায় বড়দেরও। তাদের ঘিরেই যেন এই আনন্দ। তাই ঈদ এলে শুরুতেই মাথায় আসে বাড়ির ছোট্ট সোনামণিটির পোশাকের কথা এবং তা হতে হবে বিশেষ। এবারের উৎসবে শিশুদের কথা মাথায় রেখে তাই কে ক্র্যাফট-এর আয়োজনের কমতি নেই।
যেহেতু ঈদ আসতে আসতে গরম পড়ে যাবে। তাই উৎসবের দিনগুলোতে পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে আরাম ও স্বস্তিদায়ক হবে এমন পোশাক নির্বাচন করা প্রয়োজন। তাই গুরুত্ব সহকারে ফ্যাব্রিক ও রঙ বাছাই করা হয়েছে।
ছবি : কে ক্র্যাফট
আসছে ঈদকে সামনে রেখে উৎসব ভিত্তিক পোশাক আয়োজনে মেয়ে শিশুদের জন্য থাকছে সালওয়ার কামিজ, ফ্রক, কুর্তি, টপস, লেহেঙ্গা সেট, টপস সেট, স্কার্ট, পার্টি ফ্রক, টপস-কটি সেট ও পালাজো। ছোট ছেলেদের পোশাক আয়োজনে নানা রঙের পাঞ্জাবি, হাফহাতা কাটের শার্ট ও ফতুয়া। শিশুদের যা পছন্দ হবে বা ভালো লাগবে তাই প্রাধান্য পাচ্ছে এবার। এ ছাড়াও ছোট মেয়েরা বোন অথবা মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য সালওয়ার-কামিজ, কুর্তি পাবে। আবার বাবা ও ছেলের জন্য পাঞ্জাবি,শার্ট, ফতুয়া থাকবে বরাবরের মত।
ফ্লোরাল, মুঘল, জ্যামিতিক, জামদানি, কাশ্মীরি, বেলারুশ, ম্যান্ডালা, এথনিক, ছাড়াও আরও অন্যান্য মোটিফ ফুটিয়ে তুলতে পোশাকে অনেক রকম প্রিন্ট থাকছে। হাতের কাজ, কারচুপি, টাই-ডাই এর কাজ রয়েছে কমবেশি। এ ছাড়াও ডিজাইনের প্রয়োজনে নেট ফ্যাব্রিক, লেইস, বিড ও মেটালের ব্যবহার হয়েছে।
ছবি : কে ক্র্যাফট
গরমের সময়কে বিবেচনায় রেখে বৈচিত্র্যময় রঙ নির্বাচন করে কটন, জ্যাকার্ড কটন, টু-টোন, নিব কটন, জর্জেট, ভয়েল, সুইস কটন, লিনেন, মমো সিল্ক, ক্যাশমিলন, ডুপিয়ন সিল্ক, দুবাই সিল্ক, পেপার সিল্ক, ভিসকোস ফ্যাব্রিকে তৈরি করা হয়েছে এবারের পোশাক।
কে ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লার সকল শো-রুম ছাড়াও অনলাইন শপ kaykraft.com থেকে শিশুদের ঈদ আয়োজন এর পোশাক কিনতে পারেন সাশ্রয়ী মূল্যে। এ ছাড়া ফেসবুক পেজ থেকেও অর্ডার করা যাবে।
পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকেই নারীর অবদান আমাদের সমাজে অনস্বীকার্য। এই অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘নারী দিবস’। দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন করা হয়।
বেগুনি রঙকে ধরা হয় এই দিবসের প্রতীক হিসেবে। মূলত, এই রং দিয়ে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে বোঝানো হয়। নারী ঠিক সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মতো শক্তিশালী।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশ সবসময়েই নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানায় তাদের সৃজনে, ডিজাইনে ও পোশাকের আয়োজনে। কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে নারীর অবদান।
ছবি : রঙ বাংলাদেশ
রঙ বাংলাদেশ-এর প্রতিটি আউটলেটে ও অনলাইনে নারীদের জন্যে নিয়মিত আয়োজনের মধ্যে এবারে থাকছে শাড়ি, থ্রিপিস, কামিজ, ওড়না, কুর্তি, টপস্, ব্লাউজ, মাস্ক, গহনা, মগ, ব্যাগ। এ ছাড়া আরো রয়েছে জুয়েলারি ও নানা রকম উপহার সামগ্রী।
রঙ বাংলাদেশ-এর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের যে কোনাে আউটলেটেই পাবেন চমৎকার এই নারী দিবস সংগ্রহ। তাই আজই কিনুন নিজের ও প্রিয়জনের জন্য নারী দিবসের পোশাক- হোক সে প্রেমিকা, স্ত্রী, মা, কন্যা বা অন্য কোন আপনজন।
রঙ বাংলাদেশ
রঙ বাংলাদেশ- এর ওয়েবসাইট (www.rang-bd.com), ফেসবুক পেজ অ্যাড্রেস (www.facebook.com/rangbangladesh )। অনলাইনে অর্ডার করা ‘রঙ বাংলাদেশ’ এর পণ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষায় পৌঁছে যাবে আপনার ঘরে। যেকোন প্রয়োজনে ফোন/হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে সাহায্যকারী। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ফোন করতে পারেন ০১৭৭৭৭৪৪৩৪৪ ও ০১৭৯৯৯৯৮৮৭৭ নম্বরে।
ভোজন রসিক হিসেবে বাঙালির বেশ খ্যাতি রয়েছে চিরকালই। অঞ্চলভেদে এই দেশে রয়েছে নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি। খাবার ও রান্না সেই সংস্কৃতিরই বিরাট একটা অংশ।
খাবারের একই উপাদান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রান্না হয় ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায়। রন্ধন প্রক্রিয়া ভিন্ন হওয়ার কারণে বদলে যায় খাবারের নাম। এই নামে প্রকাশ পায় এক একটা অঞ্চলের সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা।
আজকের রেসিপিতে থাকছে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ একটি রান্না আটার ডাল বা পিঠালী। এই খাবারটি বিশেষ বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে রান্না করা হয়, যা ওই অঞ্চলের ঐতিহ্য।
গাইবান্ধা কুড়িগ্রামে এই রান্নাটি এতই জনপ্রিয় যে বর্তমানে এটি হেঁসেল থেকে উঠে এসেছে হোটেলে। বিভিন্ন হোটেল রেস্তেরাঁয় বানিজ্যিক ভিত্তিতে রান্না ও পরিবেশন করা হয়। আজকে এই বিশেষ রান্নাটির রেসিপি থাকছে সাতকাহনের পাঠকদের জন্য। রেসিপিটি জানিয়েছেন গাইবান্ধার বাঙলা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের কর্ণধার সুজন প্রসাদ।
উপাদান
মাংস (গরু অথবা খাসি)- ১ কেজি
ভাতের চাল – ২ কাপ
মরিচ গুঁড়া – ২ টেবিল চামচ
আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ কুচি – ৫টি
রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
ধনিয়া – ২ চামচ
জিরা – ২ টেবিল চামচ
সাদা এলাচ – ১৫/১৬ টি
কালো এলাচ- ৮টি
দারচিনি – ১০ টি
পাঁচফোড়ন – ২ চা চামচ
গোল মরিচ – ১ টেবিল চামচ
লবঙ্গ – ১৮/২০ টি
যেভাবে মাংস রান্না করবেন
ধনে, জিরা, এলাচ, দারুচিনি, পাঁচফোড়ন, গোলমরিচ, লবঙ্গ সবগুলো মশলা কড়াইয়ে মৃদু আঁচে ভেজে নিন। এবার ব্লেডারে অথবা পাটায় সবগুলো একসঙ্গে বেটে গুঁড়া করে নিন। মশলার গুঁড়া খুব মিহি করা যাবে না। এটা এই রান্নার বিশেষত্ব। বাজারে যেসব গুঁড়া মশলা পাওয়া যায় সেগুলো এই রান্নার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না। কারণ, সেগুলো খুব মিহি হয়।
আটার ডালের প্রধান দুই উপকরণ হলো মাংস ও চালের গুঁড়া। আটা তৈরির জন্য ভাতের চাল দশ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। দশ মিনিট পরে চালটা ছেঁকে ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে নিন। খেয়াল রাখতে হবে আটা যেনো একেবারে মিহি হয়ে না যায়।
কড়াইয়ে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিন। বেরেস্তার জন্য আর্ধেকটা পেঁয়াজ তুলে নিয়ে কড়াইয়ে আদা রসুন বাটা এক চামচ করে দিয়ে দিন। এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া, এক টেবিল চামচ মরিচ গুঁড়া, দুই টেবিল চামচ গুঁড়া মশলা এবং পরিমাণ মত লবণ দিয়ে মশলা কষিয়ে এর মধ্যে মাংসটা ঢেলে দিতে হবে। মাংসটা ভালোভাবে কষিয়ে রান্না করে নিন। এরপর এই অবস্থায় নামিয়ে রাখুন।
আটার ডাল তৈরির উপাদান
তেজপাতা – ৪টি
তেল – ১ কাপ
কাঁচা মরিচ বাটা – ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা- ১ চা চামচ
রসুন বাটা- ১ চামচ
হলুদ- ১ চা চামচ
গুড়ো মসলা – ১ চা চামচ
আস্ত কাঁচা মরিচ – ৫টি
লবণ- স্বাদমতো
আটার ডাল যেভাবে তৈরি করবেন
মাংস ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে এই পর্যায়ে চুলায় একটি পাত্রে দুই লিটার পরিমাণ পানি দিয়ে দিন। পানিতে সব উপকরণগুলো দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ঢেকে দিন। পানি ভালোভাবে ফুটে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পানি ফুটে উঠলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন মাঝারি পর্যায়ে রাখুন।
এবার চালের গুঁড়া এক হাত দিয়ে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে দিন পানিতে অন্যহাতে নাড়তে থাকুন ক্রমাগত। এই কাজটি করতে হবে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে। না হলে আটা/চালের গুঁড়া দলা পেকে যাবে। অল্প অল্প করে সবটা আটা ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে গেলে ভালোভাবে নেড়ে দশমিনিট ধরে কষিয়ে নিন। দশ মিনিট পরে পানি এবং আটার মিশ্রণটি খানিকটা ঘন হয়ে যাবে। তাই এবার খানিকটা গরম পানি ঢেলে দিন, যেনো ঘনত্বটা ডাল রান্নার চেয়ে সামান্য বেশি গাঢ় হয়। এবার আরো পাঁচ মিনিট রান্না করুন। এই পর্যায়ে খেয়াল রাখতে হবে কড়াইয়ে যেনো লেগে না যায়।
পাঁচ মিনিট পরে এবার শেষ বারের মতাে আরো দুইকাপ গরম পানি দিয়ে দিন ঝোলের জন্য। এবারে এর মধ্যে দিয়ে দিন কষিয়ে রাখা মাংস। এবার আটার ডালের জন্য করে রাখা বিশেষ মসলা গুঁড়া দিয়ে দিন দুই টেবিল চামচ। এভাবে হালকা আঁচে রান্না করুন আরো পাঁচ মিনিট। এবার তুলে রাখা পেঁয়াজ বেরেস্তাগুলো দিয়ে দিন তৈরি হয়ে যাওয়া আটার ডালের মধ্যে।
এই রান্নাটির স্বকীয়তা হচ্ছে শুধুমাত্র আদা ও রসুন বাটা ছাড়া রান্নাতে যত মশলা ব্যবহার করা হয় তার কোনোটাই মিহি করে গুঁড়া করা যাবে না।
বিভিন্ন উৎসব আয়োজনে খাবারে থাকে মাংসের নানা পদ। মাংস ছাড়া যেকোনো উৎসবের খাওয়াটা যেনো জমে না। তাই আজকে থাকছে মাংসের একটি বিশেষ রেসিপি শাহী মালাই কোফতা। বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন এই বিশেষ খাবারটি।
এই রান্নাটি দুইটি ধাপে শেষ করতে হবে। প্রথমে কোফতা তৈরি করে নিতে হবে। এরপর সেগুলো রান্না করতে হবে বিশেষভাবে তৈরি মশলা দিয়ে।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে বেসন খুব হালকা আঁচে নেড়েচেড়ে ভেজে নিতে হবে। ভাজার সময় অনবরত নাড়তে থাকুন, না হলে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছুক্ষণ পর বেসনের রং হালকা পরিবর্তন হলে নামিয়ে নিন।
এবার বেসনসহ সবগুলো উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। অথবা পাটায় বেটে নিতে পারেন। এতে কোফতার কিমাটা আঠালো হয়, ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। ব্লেন্ড করা মিশ্রণটি হাতের তালুতে নিয়ে ছোট ছোট বল বানিয়ে নিন। চুলায় ডুবো তেলে হালকা লালচে করে ভেজে নিন তুলে নিন।
শাহী মালাই কোফতা। ছবি : সংগৃহীত
মালাই কোফতা তৈরির উপকরণ
টকদই – ১/৪ কাপ
পেঁয়াজ বেরেস্তা – ১/৪ কাপ
কাঁচা মরিচ – ৩টা
কাজু বাদাম- ১২/১৫ টি
মরিচ গুঁড়া – আধা চা চামচ
ধনিয়া গুঁড়া- ১ চা চামচ
জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ
লবণ- ১ চা চামচ
চিনি- ১ চা চামচ
আদা রসুন বাটা – আধা চা চামচ
মালাই ক্রিম- চার টেবিল চামচ
চুলায় মৃদু আঁচে ১/৩ কাপ তেল কড়াইয়ে গরম করে নিন। তেলের সঙ্গে এক চা চামচ ঘি দিয়ে দিন। গরম তেলের মধ্যে দিয়ে দিন একটা তেজপাতা, দুইটা গরম মসলা, সাদা এলাচ তিন থেকে চারটি। এই সময় খেয়াল রাখতে হবে চুলার আঁচ অবশ্যই হালকা অবস্থায় থাকে।
তেল গরম হয়ে গেলে মালাই কোফতার জন্য মিশিয়ে রাখা মসলার মিশ্রণটি তেলের মধ্যে দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন।
মশলা থেকে তেলগুলো উপরে উঠে এলে বুঝবেন কষানো হয়ে গেছে। এবার আগে থেকে ভেজে রাখা কোফতাগুলো মশলার মধ্যে দিয়ে দিন। নেড়েচেড়ে ঢেকে দিন এভাবে রান্না করুন পাঁচ থেকে সাত মিনিট। এরপর নেড়ে নিয়ে দুইকাপ পরিমাণ পানি দিয়ে দিন। ঢাকনা খোলা অবস্থায় কিছুক্ষণ রান্না করুন পানি কিছুটা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। যতটা ঝোল রাখতে চান সেই পর্যায়ে পানি শুকিয়ে এলে এর মধ্যে তিনটা কাঁচা মরিচ এবং ১/৪ চামর শাহী গরম মসলা দিয়ে মিশিয়ে নিন। এ পর্যায়ে চুলা বন্ধ করে পাঁচ মিনিটের জন্য ঢেঁকে দিন। পাঁচ মিনিট পরে একটা পাত্রে ঢেলে কোফতার ওপরে মালাই ক্রিম দিয়ে দিন।
মালাইক্রিম দোকানে কিনতে পাওয়া যায় অথবা দুধের সর তুলে বাড়িতেও ব্লেন্ড করে ক্রিম বানিয়ে নিতে পারেন।
সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্য – সবারই কাম্য। আর এই দুটোকে একই ঝুলিতে নিয়ে যেই চিকিৎসাশাস্ত্র কাজ করে, সেটি আয়ুর্বেদ। একে কেবল একটি কার্যক্রম বললে ভুল করা হবে। মূলত, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ভারতবর্ষের মাটিতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হয়। ‘আয়ুর্বেদ শাস্ত্র’-কে ভারতীয় উপমহাদেশের চিকিৎসা ও খাদ্যের প্রাচীন বিজ্ঞান বলা হয়। আয়ুর্বেদ শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দের সংযোগে তৈরি। একটি হলো, ‘আয়ুশ’, অর্থাৎ ‘জীবন’। দ্বিতীয়টি হলো, ‘বেদ’ অর্থাৎ ‘বিজ্ঞান’। এক কথায় একে ‘জীবনের বিজ্ঞান’ বলা চলে।
উনিশ শতকের প্রথম কয়েক দশকে পাশ্চাত্য চিকিৎসা গবেষকদের মধ্যে ভারতবর্ষের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। প্রাচ্য বিশারদগণ শক্তভাবে মত দেন, চিকিৎসাবিদ্যার এক প্রাচীন ব্যবস্থা ভারতে রয়েছে, যা অনুসন্ধানযোগ্য। পাশাপাশি এই জ্ঞান পুণরাবিষ্কারের জন্য প্রাচীন সংস্কৃত পান্ডুলিপিগুলো গবেষণা করে দেখার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মূলত, আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ নিরাময় বা প্রতিকারের চেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রতি বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো, বিভিন্ন খাবার ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।
সুস্বাস্থ্যের জন্য আয়ুর্বেদ তো অতুলনীয়। তবে একদম রাসায়নিকমুক্তভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে সৌন্দর্য বাড়াতেও আয়ুর্বেদের অনন্য।
আয়ুর্বেদে রূপচর্চা
বর্তমান সময়ে সৌন্দর্য বাড়াতে আমরা এমন সব পন্য ব্যবহার করি, যা রাসায়নিকে ভরপুর। চটজলদি সৌন্দর্য বাড়াতে এসব পন্যের ব্যবহার করা হয় ঠিকই, তবে দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপে এর ক্ষতিকর প্রভাবও পড়ে। মূলত, আয়ুর্বেদিক রূপচর্চার উপকরণগুলো প্রাকৃতিক নানা উপাদান থেকে নেওয়া হয়। এসব উপকরণের পার্শ্বপতিক্রিয়া কম থাকে; চিকিৎসাপদ্ধতি হয় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে।
চন্দন, বুনো হলুদ, নিম, শিকাকাই, অ্যালোভেরা, জাফরান, সবুজ শাকসবজি, মশলা, বাদাম, বিভিন্ন তেল, ব্রাহ্মী, শ্বেতকূটজা, ত্রিফলা, হরীতকী, বহেড়া, দুধ, টকদই ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপকরণই ব্যবহার হয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসায়। এসব উপাদান ত্বক ও চুলের যত্নে বিভিন্নভাবে কাজ করে। কোনোটি কাজ করে প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে। কোনোটি বলিরেখা ও বয়সের ছাপ কমায়। কোনোটি আবার ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়।
যেহেতু সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য- দুটোকে পাশাপাশি নিয়েই আয়ুর্বেদ চলে, তাই প্রয়োজনে খাদ্যতালিকার পরিবর্তন করতে বলা হয়। পাশাপাশি যোগব্যায়াম, ধ্যান ইত্যাদির মাধ্যমে সমন্বয় করা হয় চিকিৎসাব্যবস্থা।
তবে একজন একটি পন্থায় উপকার পাচ্ছে বলে, সবাই একইভাবে উপকার পাবে বিষয়টি এমন না-ও হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতার সমস্যা ও অবস্থা বুঝে সার্বিকদিক বিবেচনা করেই সৌন্দর্যচিকিৎসা দেওয়া হয়।
মূলত, আয়ুর্বেদ চিকিৎসাপদ্ধতি দেহ ও মন- দুটোরই একত্রে সৌন্দর্য ও সুস্থতা চায়। তবে রপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নেওয়াই ভালো। এতে উপকারগুলো বেশি পাওয়া যাবে এবং যেকোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রতিরোধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
লেখক :আয়ুর্বেদ রূপ বিশেষজ্ঞ ওউনার অ্যান্ড সিইও সাদিয়া আয়ুর্বেদা বিউটি সলিউশনস মিরপুর ১১ ( পূরবি সিনেমা হলের পূর্ব পাশে), টপ টেন বিল্ডিং, লিফ্ট- ৯ ফোন : ০১৭০৬-৯৯৩২৯৫
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বুট, সুজি, গাজর ইত্যাদির হালুয়া তো খাওয়াই হয়। তবে মুগডালের হালুয়া কি খেয়েছেন কখনো ? খুব সহজেই তৈরি করে নেওয়া যায় এই খাবারটি। অতিথি আপ্যায়নে বা মিষ্টিমুখ করতে এই হালুয়া অনন্য।
উপাদান
হলুদ মুগ ডাল – ১ কাপ
সুজি- ১ টেবিল চামচ
বেসন-১ টেবিল চামচ
পেস্তা কুচি- এক মুঠো
কাঠবাদাম কুচি- এক মুঠো
কেশর – সামান্য
এলাচ গুঁড়া- আধা চা চামচ
ঘি- পরিমাণমতো
চিনি- পরিমাণমতো
পানি- পরিমাণমতো
কাজুবাদাম কুচি- এক মুঠো
খোয়া ক্ষীর-আধা কাপ
যেভাবে তৈরি করবেন
মুগ ডাল ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। মিক্সিতে ডাল ভালো করে মিহি করে বেটে নিন। এবার একটি কড়াইতে ঘি গরম করে সুজি ও বেসন ভাজুন। হালকা সোনালি রং হয়ে আসলে ডালবাটা দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে থাকুন। বালির মতো হয়ে এলে পানি, কেশর ও এলাচ গুঁড়া দিন। অনেক্ষণ ফুটানোর পর এতে চিনি দিতে হবে। ভালোভাবে নেড়ে আরো কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। ডাল চিনির মিশ্রণ সম্পূর্ণ শুষে নিলে নামিয়ে নেবেন। একেবারে শেষে খোয়া ক্ষীর ও বাদামকুচি দিয়ে দিন। তৈরি হয়ে গেল মুগ ডালের হালুয়া।
শীতের রুক্ষতা ও তীব্রতা শেষে বসন্তের এই সময়টায় ভালোভাবে সূর্যের আলোর দেখে মেলে। তবে শীত থেকে গরমে যাওয়ার প্রকৃতির এই পরিবর্তনে বিভিন্ন রোগব্যাধি কিন্তু শরীরে বাসা বাঁধে। জ্বর, ঠান্ডা-কাশি, ফ্লু, ফুড পয়জনিং ইত্যাদি রোগগুলোর বিস্তার দেখা যায়। তাই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
সঠিক খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বসন্তে সুস্থ থাকতে এমন কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে জি নিউজ ও ব্যাপটিস্টহেলথ।
কমলা
কমলা ভিটামিন সি, বিভিন্ন ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। প্রতিদিন একটি কমলা খাওয়া যেমন ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করবে এবং জ্বর ও ঠাণ্ডা-কাশি প্রতিরোধেও সাহায্য করবে।
ওয়ালনাট
বাদামের রাজা ওয়ালনাটে ভিটামিন, মিনারেল, পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড, ডায়াটারি ফাইবার ও প্রোটিন রয়েছে। এটি দ্রুত শক্তি বাড়ায়। এর মধ্যে থাকে ট্রিফটোফেট। এই প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিড আমাদের দেহে মেলাটোনিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। এতে ঘুম ভালো হয়। সালাদ, ডেসার্ট, সিরিয়াল ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় ওয়ালনাট যোগ করতে পারেন।
দই
দই এক ধরনের ফারমেন্টেড খাবার। এটি বিভিন্ন রোগ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রোবায়োটিক, যা পেটের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। মোদ্দাকথা, দই আপনার স্বাস্থ্যকে ভালো ও পরিষ্কার রাখবে।
ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ মাছ
ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে। তাই আলঝাইমারে আক্রান্ত রোগীদের খাদ্যতালিকায় এই মাছ রাখতে বলা হয়। স্যামন, সারডিন, ম্যাকরেল ইত্যাদি মাছে এই ফ্যাটি এসিড রয়েছে।
ডিম
প্রবাদে রয়েছে, ‘সানডে অর মিনডে, রোজ খাও আনডে’। অর্থাৎ শনি অথবা সোম, প্রতিদিনই ডিম খাও। ঠিক তাই, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন এই খাবারটি খাওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড। এসব পুষ্টি দেহের সুস্থতা খুবই জরুরি।
একুশ এলেই মনে পড়ে ভাষা শহীদের কথা। ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে এমন জাতি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এই ইতিহাসই মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের। এই দিনটি সারা পৃথিবীব্যাপী পালন করা হয় ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর মাধ্যমে। বাঙালির এই দিনটি পালনে থাকে নানা আয়োজন।
বাংলা বর্ণমালা, গান, কবিতা অথবা মিছিলের স্লোগানে স্মরণ করা হয় ছিনিয়ে আনা গৌরব, মুখের ভাষা। এইদিন সাজ পোশাকেও ফুটে ওঠে আমার মুখের ভাষা বাংলা, চাইলেই যা কেড়ে নেওয়া যায় না। সেই স্বাধিকারের জানান দিতে প্রতিটা বাঙালি সেজে ওঠে নিজস্ব পোশাকে, রঙে। বাজার গুলোতেও থাকে একুশকে ঘিরে একুশের থিমে সাজ পোশাকের সামগ্রী।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশের মিডিয়া এক্সিকিউটিভ নজরে হোসাইন দীপ্ত জানান, এ বছর রঙ বাংলাদেশের একুশের আয়োজনে রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কামিজ, ওড়না টি-শার্ট, স্কার্ট ছাড়াও ফ্যামিলি সেট।
ছবি : রঙ বাংলাদেশ
সুতি, হাফসিল্ক, ভয়েল কাপড়ের জমিনে স্কিনপ্রিন্ট, অ্যামব্রয়েডারি ও ব্লকের কাজে নকশা করা পোশাকে একুশ চেতনার নানা সমাহার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবার।
গ্রিক মিথলোজরি ফোর এলিমেন্টেস-এর মাটি বা আর্থ, ভাষার অনুষঙ্গ অক্ষর, কলম ও দৈনিক পত্রিকার থিম দিয়ে সাজানো হয়েছে একুশের থিম। মূল রঙ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সাদা কালো ও ছাই রঙ। তিনি আরো জানান, ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ বছর লাল রঙেরও ব্যবহার করা হয়েছে। যেগুলো পোশাকের দাম থাকছে সব ধরনের ক্রেতাদের হাতের নাগালে। রঙ বাঙলাদেশের পোশাক ১ হাজার ৫শ থেকে শুরু করে ৬ হাজার পর্যন্ত দামের রয়েছে। চাহিদা ও সাধ্য অনুযায়ী ক্রেতারা কিনছেন একুশের পোশাক।
দেশীয় ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফটের সহকারি জেনারেল ম্যানেজার নাসির আহমেদ বলেন, ‘বাঙালির যেকোনো উৎসবে প্রথম পছন্দ শাড়ি ও পাঞ্জাবি। তাই কে ক্র্যাফটের এবারের একুশের আয়োজনে থাকছে শাড়ি পাঞ্জাবি সহ, সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, শার্ট ছাড়াও নানা পোশাক। শিশুদের জন্যে রয়েছে আলাদা পোশাক। মা বাবার সঙ্গে সন্তানের মিল রেখেও রয়েছে ফ্যামিলি সেট।’
ছবি : কে ক্র্যাফট
সুতি লিলেন, সিল্ক এসব কাপড়ে বর্ণমালা, শব্দ, ফুলেল ও জ্যামিক নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, ব্লক টাইডাই ও হাতের কাজ ও স্কিন প্রিন্টের মাধ্যমে জানিয়ে নাসির আরও জানান, রঙের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে, সাদা, কালো ও ধুসর। এসব পোশাক ক্রেতারা কিনতে পারছেন ১ হাজার থেকে শুরু করে ৩ হাজারের মধ্যে।
একুশের সাজ
‘একুশ আমার অহংকার’ এ কথাকে জানান দিতে বাঙালি এদিন সেজে ওঠে সাদা-কালো রঙের। সাজপোশাকে এ যেনো বর্ণমালারই আরেক রুপ। এ যেন জানান দেওয়া একুশের চেতনার সাথে বাঙালির অনুভূতি কত তীব্র। বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি পার্লারের বিউটি এক্সপার্ট শারমিন কচি বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কালো ও সাদা রঙেরই আধিক্যই দেখা যায়। একুশ এমন একটা অনুভূতি, যা আরো দুইশ বছর পরেও একই রকম থাকবে। বর্ণমালা ও মুখের ভাষার গৌরব এতটাই আমাদের সঙ্গে মিশে রয়েছে, যুগযুগ ধরে একুশ একই রকম থাকবে। তরুণ প্রজন্ম তাদের মনে ও সাজ-পোশাকে ৫২’ কে ধারণ করবে। বার বার ফিরে যেতে চাইবে।
এ দিন সাজে বর্ণমালার বিন্যাস রয়েছে পুরো জমিনে- এমন একটা শাড়ি পরতে পারেন। সঙ্গে একরঙা ব্লাউজ। মেকাপটা নো মেকাপ লুক রাখলে আপনাকে ওইদিনের জন্য পারফেক্ট দেখাবে। চোখে লম্বা করে কাজল টেনে নিন। চুলের লম্বা বিনুনি। অথবা একটা সাধারণ খোপা করতে পারেন। হালকা সাজের সঙ্গে হালকা রঙের একটা লিপস্টিক পরে নিন। নেলপলিশ ব্যবহার করলে শাড়ি অথবা ব্লাউজের সঙ্গে মিলিয়ে পরুন।’
ছবি : কে ক্র্যাফট
একুশে সাদা কিংবা কালো যে রঙেরই শাড়ি পরুন না কেনো শাড়িটা এক রঙা হলে, ব্লাউজ পরবেন ফুলেল নকশা অথবা বর্ণমালার বিন্যাসে বিস্তৃত। বিউটি এক্সপার্ট শারমিন কচি আরো বলেন, ‘কুর্তির পরলে চুলটা খোলা রাখুন অথবা দুই বিনুনি করে নিতে পারেন। জ্যামিতিক ফ্লোরাল অথবা দৈনিক পত্রিকার মোটিফে অনেক কুর্তি পেয়ে যাবেন বাজারে। এগুলো জিন্সপ্যান্ট অথবা সালোয়ারের সঙ্গে পরে ফেলতে পারেন। কাজল টেনে নিন। কপালে ছোট একটা টিপ পরতে ভুলবেন না। সালোয়ার কামিজের সঙ্গে হাতে পরে নিতে পারেন অ্যান্টিকের গহনা। চুল বিনুনি করলে অথবা খোলা রাখলে সুন্দর দেখাবে। মোদ্দাকথা, এ দিন মেকআপটা হালকা করলেই ভালো মানাবে।’