Thursday, May 28, 2026
spot_img
Home Blog Page 61

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘রেড’র তৃতীয় শাখার উদ্বোধন

শাশ্বতী মাথিন

বাংলাদেশের শীর্ষ সৌন্দর্যসেবা কেন্দ্র ‘রেড- বাই আফরোজা পারভীন’- এর পথ চলার ১৬ বছর হলাে। সুইট সিক্সটিন- এ পা দিয়ে ‘রেড’- উদ্বোধন করলো তাদের তৃতীয় আউটলেট। গতকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি, মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনে উদ্বােধন হয় নতুন শাখাটি।

লাল গালিচা বেছানো সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই দেখা গেল সৌন্দর্যসেবা কেন্দ্র ‘রেড’-এর স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন কথা বলছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। সাদা রঙের গোলাপে সাজানো হয়েছে সম্পূর্ণ সিঁড়ি। তিনতলা বাড়ির পুরোটা জুড়েই ‘রেড’। পাঁচ হাজার স্কয়ার ফুটের এই জায়গা জুড়ে রয়েছে সৌন্দর্যসেবার সব ধরনের ব্যবস্থা। স্কিন কেয়ার, মেকআপ, হেয়ারস্টাইল, হেয়ার কেয়ার, মেনিকিউর- পেডিকিউর, রিবন্ডিং, নেল এক্সটেনশন, আয়ুর্বেদ- সব বিভাগের জন্য রয়েছে আলাদা জায়গা। এতে ক্লাইন্টরা উন্নতমানের এসব সেবা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে নিতে পারবেন।

‘রেড’- এর যাত্রা এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রূপবিশেষজ্ঞ হওয়ার গল্প করতে গিয়ে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘আমি এ দেশে প্রথম রেড বিউটি স্যালনের মাধ্যমে ন্যুড মেকআপের চলটা শুরু করি। ২০০৯ সালে যখন প্রতিষ্ঠানটি শুরু হয়, তখন অনেকে বলেছিল ন্যুড মেকআপ চলবে না। তবে আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিলাম।’

বিকেল ৫টা ৩০-এ মডেল বারিশ হকের উপস্থাপনা দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। কেক কেটে নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আফরোজা পারভীন এবং উপস্থিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ সারির অভিনয় শিল্পী, সংগীত শিল্পী, ব্লগার, ফ্যাশন ডিজাইনার, ইনফ্রুয়েন্সার, নিউটি্রশনিস্ট সহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ। ছবি : সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ। ছবি : সংগৃহীত

বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অভিনব অংশ ছিল ফ্যাশন শো। এটি অনুষ্ঠিত হয় রেড-এর আউটলেটের চারপাশের রাস্তায়। পাশাপাশি রেড এর উদ্বোধনীয় উপলক্ষে বিকেল থেকেই শুরু হয় মেহেদি উৎসব। অতিথিরা বিনামূল্যে নিজেদের রাঙিয়ে তোলেন মেহেদির রঙে ।

উদ্বোধনী মঞ্চে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘ রেড- এর পথচলাটা শুরুই হয় ভালোবাসা দিয়ে। বাংলাদেশের ফ্যাশন ও বিউটি ইন্ডাসট্রির মানুষ, বিশেষ করে শিল্পীদের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে দুই বছর আমি ফ্রি ল্যান্সিং করি। তাদের অনুরোধে ২০০৯ সাল থেকে রেড শুরু হয়। তারা চেয়েছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান হোক। তাহলে একসঙ্গে সবাই সেবা নিতে পারবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন রেড- এর কর্ণধার আফরোজা পারভীন। ছবি : সংগৃহীত
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন রেড- এর কর্ণধার আফরোজা পারভীন। ছবি : সংগৃহীত

রেড মিডিয়ার অনেক সহযোগিতা পেয়েছে জানিয়ে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে একটি ভালো জায়গা করে নিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের শীর্ষস্থানীয় চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এর নাম আসে। বনানী ও মোহাম্মদপুরের পর এখন মিরপুরে রেড শুরু করতে পেরেছি। মিরপুরে সফলতার সঙ্গে কাজ করতে পারলে, অন্য কোথাও আবার দেখা হবে।’

উদ্বোধন উপলক্ষে ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি, মোট তিন দিন ‘রেড’, ক্লাইন্টদের ১২টি সেবা বিনামূল্যে দেবে। রেডের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

‘রেড’- মিরপুর শাখার ঠিকানা

বাড়ি – ২৭, রোড- ২, ব্লক- বি
সেকশন- ১২, পল্লবী মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

সম্পর্কের যত্ন নিচ্ছেন তো ?

শাশ্বতী মাথিন

ভালোবাসা নিয়ে কত কবিতা, কত গান। মানুষের জীবনে একটি বড় অংশ কেবল একেই কেন্দ্র করে। প্রিয় মানুষকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ, পেয়েও হারিয়ে ফেলার কষ্ট। মায়া, আবেগ- কত কি !

কারো কাছে ভালোবাসা শুধুমাত্র মস্তিষ্ক থেকে নিঃসৃত হরমোন, যার স্থায়িত্ব বড় জোর তিন বছর। আবার কারো কাছে ভালোবাসা কেবল কামেরই বহিঃপ্রকাশ। সে যাই হোক, প্রেমের সংজ্ঞা ব্যক্তি ভেদে যতই ভিন্ন হোক না কেন, সম্পর্ক কিন্তু টিকে থাকে কেবল যত্নে। আর সেই যত্ন হতে হয়, সততা থেকে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের চাইল্ড এডোলোসেন্ট ও ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্কই দীর্ঘদিন টিকে থাকে যত্নের ভিত্তিতে। আর সেই যত্নের তিনটি মূল অংশ রয়েছে। বিশ্বাস, প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা ও পারস্পারিক আন্তরিকতা। গেইম (খেলা) করে বা প্রতারণা করে, আর যাই হোক সম্পর্ক বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’

তবে একজন ব্যক্তি বড় হলে সম্পর্ককে কীভাবে নিতে শিখবে, সেটি কিন্তু শৈশব থেকেই অনেকটা তৈরি হয়ে যায়। শৈশবে বিকাশের সময়টা অত্যন্ত ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে হলে বড় হয়ে সাধারণত মানুষটি সম্পর্ককে ঠিকঠাক ব্যবস্থাপনা করতে পারে না বা সম্পর্ক তৈরিতে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনটাই মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

সম্পর্কে মোহ, প্রতারণা ও গেইম করার ইচ্ছা থেকে হলে, এখানে যত্ন আসে না। ব্যক্তির নিজের প্রতি ও অন্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে যত্নটা স্বতস্ফূর্তভাবেই চলে আসে জানিয়ে ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে দেখতে হবে, সম্পর্কে প্রতিজ্ঞা বা দায়বদ্ধতার জায়গা রয়েছে কি না। এরপর খেয়াল করতে হবে এতে পারস্পারিক সম্মানবোধটা কতটুকু রয়েছে। সবসময় আমি কী পেলাম, চিন্তা না করে- আমি কী দিচ্ছি, কতটুকু দিচ্ছি সেটাও ভেবে দেখতে হবে। এগুলো যত্নের মধ্যই পড়ে।’

এ ছাড়া সম্পর্ক আরো যত্নশীল করার কিছু উপায় বাতলেছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট ওইকিহাউ। জানি সেগুলো –

অন্যকে শোনা ও বোঝার ক্ষমতা
অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও তাকে আবেগীয়ভাবে বুঝতে পারা, বড় গুণ। আপনার সঙ্গীর কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, বা সে আপনাকে কী বলতে চাইছে সেটি ভালোভাবে শুনতে ও বুঝতে চেষ্টা করুন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন।

আশার জায়গায় পরিষ্কার হোন
প্রত্যেক সম্পর্কেই কিছু না কিছু আশা বা এক্সপেকটেশন থাকে।তবে সেই ক্ষেত্রে নিজে পরিচ্ছন্ন হোন এবং সঙ্গীকেও পরিষ্কার রাখুন। আপনি কতটুকু পারবেন, কতটুকু পারবেন না- পরিষ্কার করুন। সেই বোঝাপোড়া অনুযায়ীই সম্পর্ক আগান। না এগোতে পারলে থেমে যান। অযথা খেলতে যাবেন না। নিজে কোনো কাজ করছেন না, তবে চাইছেন আপনার সঙ্গী সেটি করবে- এটি কিন্তু অবান্তর ভাবনা। স্বাধীনতা নিজে চাইলে, অন্যকেও সমানভাবে দিতে হবে।

গুণগত সময় দিন
প্রত্যেকটি সম্পর্ক সময় চায়। প্রতিদিন অন্তত নির্দিষ্ট একটি সময় রাখুন সঙ্গীকে দেওয়ার জন্য। আর সেটি যেন হয়, কেবল আপনাদের দুজনেরই।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

যোগাযোগের দক্ষতা
সম্পর্ক সুস্থ-স্বাভাবিক রাখতে যোগাযোগে দক্ষতা জরুরি। নিজে কী ভাবছেন, সেটি পরিষ্কারভাবে বলার চর্চা তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজন অন্যের মতামত গ্রহণ করা। পারিস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ ও বোঝাপড়াটা না থাকলে সম্পর্ককে কেবল টেনেই নিয়ে যাবেন, মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন না।

ক্ষমা করুন এবং ক্ষমা চান
মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই ক্ষমা করুন ও চান। তবে একই ভুল বার বার করে ক্ষমা চাওয়া কিন্তু মোটেই কাজের কথা নয়। তাই কখন, কাকে ছাড় দিচ্ছেন, সেই বিষয়েও বিচক্ষণতা জরুরি।

নিজেকে ভালোবাসুন
নিজেকে ভালোবাসা মানে স্বার্থপরতা নয়। নিজের প্রতি যত্নশীল হলে, সম্পর্কগুলোর প্রতিও যত্নবান হওয়া যায়। আপনি সুখি থাকলে, অন্যকেও আনন্দে রাখতে পারবেন। তাই, সবার আগে নিজেকে ভালোবাসুন।

‘সম্পর্ক যেমন তৈরি হয়, তেমনি ভেঙেও যেতে পারে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টিকে অস্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কিছু নেই। মিলনের মতো, বিচ্ছেদেও জীবনেরই অংশ। সম্পর্ক কাজ না করলে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে বেরিয়ে আসাই শ্রেয়। কোনো টক্সিক সম্পর্কে থাকার চেয়ে একা চলার মানসিক শক্তিটা জরুরি,’ বলছিলেন ডা. হেলাল উদ্দিন। তবে সম্পর্ক না ভাঙ্গুক, পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও যত্নে তৈরি হোক শক্তিশালী বন্ধন। ভালোবাসা কেবল একটি দিনে সিমাবদ্ধ না থেকে, ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিদিনই।

ফুলের গহনায় সাজি ফাল্গুনে

অপরাজিতা অরু

বারো মাসে তেরো পার্বণের চল বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য। বর্ষবরণ কিংবা বসন্তবরণের আয়োজন সর্বজনীন উৎসব। আর এসব উৎসবে ফুল কিন্তু একটি বিশেষ অনুষঙ্গ। ফুল দিয়ে যেমন প্রকৃতি সাজে, তেমনি সাজাতে পারেন নিজেকেও।

ফাল্গুনের প্রথম দিন বা বর্ষবরণের দিন হয়তো শাড়ি পরেছেন? কানে গুঁজে নিন একটা জারবেরা। অথবা খোঁপায় পরতে পারেন গাঁদা ফুলের মালা অথবা গাজরা।

প্রিয়ার খোঁপায় তারার ফুল দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তারার ফুল খোঁপায় গুঁজতে না পারলেও গাজরা অথবা ফুলের মালা জড়িয়ে নিলে সাজটা হবে অনন্য।

ছবি কৃতজ্ঞতা : রেড বাই আফরোজা পারভিন
ছবি কৃতজ্ঞতা : রেড বাই আফরোজা পারভিন

ফুলের গহনা দিয়ে সাজের প্রসঙ্গে বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের স্বত্বাধিকার রূপ বিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, ‘কাঁচা ফুল বাঙালির সাজসজ্জায় ব্যবহার হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। সাজসজ্জা ছাড়াও রূপচর্চায় ব্যবহার করা হয় নানান জাতের ফুল। যদিও বাজারে এখন আর্টিফিশিয়াল ফুলের গহনার প্রচলন বেড়েছে, তার পরও কাঁচা ফুলের চাহিদা আলাদাভাবেই রয়েছে। সাজটা যেহেতু ফাল্গুনের জন্য, তাই শাড়িই হতে পারে অনন্য পোশাক। প্রকৃতির বরণে এই উৎসবে তাই মেকআপটা যেন ন্যাচারাল থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। হালকা মেকআপের সঙ্গে এলোচুলে কানে গুঁজতে পারেন গোলাপ অথবা জারবেরা। খোঁপা হলে সে ক্ষেত্রে কাঠবেলির মালা পরতে পারেন। কয়েকটি গোলাপও গুঁজে নেওয়া যেতে পারে খোঁপায়।’

চুড়ির বদলে হাতে দুটো গাঁদা ফুলের মালা পরে নেওয়া যায়। এতে ন্যাচারাল লুকটা বেড়ে যাবে। চোখের মেকআপটা রাখতে পারেন খুবই হালকা। শাড়ি ও ফুলের সঙ্গে মিলিয়ে আইশ্যাডোর দুটো প্যালেট মিলিয়ে করতে পারেন চোখের সাজ। সঙ্গে কাজল টেনে নিন। কপালে একটা টিপ পরতে ভুলবেন না। কারণ, টিপ ছাড়া সাজটা থেকে যায় অসম্পূর্ণ।

ছবি কৃতজ্ঞতা : রেড বাই আফরোজা পারভিন
ছবি কৃতজ্ঞতা : রেড বাই আফরোজা পারভিন

‘শাড়ি ছাড়াও ওয়েস্টার্ন পোশাক, লেহেঙ্গা, কুর্তি বা কামিজের সঙ্গে পরতে পারেন কাঁচা ফুল। ফুলের মুকুট বা টায়রা চল বেড়েছে কয়েক বছর ধরে। কুর্তির সঙ্গে কানে গুঁজতে পারেন যে কোনো ফুল অথবা মাথায় পরে নিন একটা টায়রা। কামিজের সঙ্গে রজনীগন্ধা বা হলুদ গাঁদার মালা পরতে পারেন হাতে, স্নিগ্ধ দেখাবে।’ এমনটাই বলছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।

বাজারে ফুলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, সাধারণত ৮০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে টায়রা বা মুকুট পাওয়া যাচ্ছে। গাজরার দাম পড়বে ৮০ থেকে শুরু করে ১২০ টাকার মধ্যে। গোলাপ কিনতে পারবেন ২০ থেকে শুরু করে ৫০ টাকার মধ্যে। গাঁদা ফুলের মালা ৪০ থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামের রয়েছে।

বিদেশি ফুল হলেও জারবেরা এখন দেশেই চাষ হচ্ছে। প্রতিটি জারবেরার দাম পড়বে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। তবে পহেলা ফাল্গুন ও ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে ফুলের দাম আরও বেশি হতে পারে। তাই এক দিন আগেই কিনে রাখতে পারেন সাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফুল। উৎসবে সাজুন আপন বৈচিত্র্যে।

৫ ধরনের মানুষকে কখনো বিশ্বাস করবেন না

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

স্বামী-স্ত্রী, বন্ধুত্ব অথবা সহকর্মী- যাই হোক না কেন, বিশ্বাস যেকোনো সম্পর্কেরই ভিত্তি। বিশ্বাস দুর্বল হলে যেকোনো সম্পর্কই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। আর একবার এটি হারালে তা আবার তৈরি করা বেশ কঠিন।

তারপরও হয়তো সম্পর্কের খাতিরে আস্থা তৈরি করার চেষ্টা করতে হয় বা সমস্যাগুলো এড়িয়ে যায় অনেকে। অবশ্য, ততদিনে দেখা যায়, শরীর ও মনের ক্ষতি হয়ে গেছে। অনেক সময় এটি আর্থিক ক্ষতির পর্যায়েও পৌঁছে। তাই একটু বিচক্ষণ হোন। নিজেকে রক্ষা করার জন্য কয়েক ধরনের মানুষকে একদমই এড়িয়ে চলুন বা প্রশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এক কথায়, বিশ্বাস করা থেকে বিরত হোন।

ভারসাম্যহীন মানুষ
যাদের মেজাজ খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়, তাদের বিশ্বাস করবেন না। হয়তো আজ আপনাকে কোনো ব্যক্তি একটি প্রতিজ্ঞা করলো, আগামীকাল সেটি ভুলে গেলো এবং লাগাতার কয়েকবার সে একই কাণ্ড ঘটাল- এই ধরনের মানুষকে বিশ্বাস করবেন না।

আবার কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যারা আপনাকে একবার সাহায্য করবে, আরেকবার সাহায্য করার কথা বলে কেটে পড়বে। তাদের খেলাতেও পা দেবেন না। এ ধরনের মানুষও শেষ পর্যন্ত ভরসার যোগ্য নয়।

বেশি ভালো
অনেকের ব্যক্তিত্ব এমনিতেই বেশ মিষ্টি হয়। তবে কেউ প্রয়োজনের বেশি ভালো হলে কিন্তু অসুবিধা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ ধরনের মানুষই পায়ে কুড়ালটা আগে মারে। তাই কেউ অনেক ভালো আচরণ করলেই গলে পড়বেন না। পর্যবেক্ষণ করুন।

যারা সহমর্মি নয়
সহমর্মিতা মানব চরিত্রের বড় গুণ। তারা অন্যকে আবেগীয়ভাবে সহযোগিতা করতে পারে। তারা জানে অন্যকে আঘাত করা বুমেরাং হয়ে তাদের জীবনেই ফিরতে পারে। তবে যারা সহমর্মি নয়, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভীষণ স্বার্থপর হয়। আর এ ধরনের মানুষ নিজের স্বার্থের জন্য আপনাকে যেকোনো ভাবেই ব্যবহার করবে।

মিথ্যে বলা
মিথ্যে বলা একটি রোগ। অনেকে কখনো কখনো অযথাই এটি করতে থাকে। বলাই বাহুল্য, এ ধরনের মানুষও আপনার বিশ্বাসের যোগ্য নয়। আর একবার যদি বুঝে যান কেউ আপনাকে প্রতারণা করছে, তাহলে পুণরায় তাকে বিশ্বাস করতেও সাবধান।

যারা সবসময় তুলনা করে
যারা সবসময় তুলনা করা বা প্রতিযোগিতাপূর্ণ মানসিকতা পোষণ করে, তারা সাধারণত ভেতরে ভেতরে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তারা আপনাকে নিচে নামানোর জন্য যেকোনো কাজই করতে পারে। তাই এ ধরনের মানুষের প্রতি আস্থা রাখতেও সতর্কতা জরুরি।

সূত্র : ব্রেইন ডোজ

বসন্ত সাজে

শাশ্বতী মাথিন

‘ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে,
ডালে ডালে ফুলে ফুলে পাতায় পাতায় রে,
আড়ালে আড়ালে কোণে কোণে।’

বসন্ত মানেই প্রকৃতিতে রঙের খেলা। শীতের শুষ্ক-রুক্ষতাকে পায়ে দলে প্রকৃতি সাজে নতুন রঙে। কোকিলের কুহু সুর আর ফুলে ফুলে প্রজাপতির মেলা বসন্তের আগমনীকে আরও সরব করে তোলে। ফাগুনের উদাসী বাতাস আর রঙের এই সমারোহ প্রভাব ফেলে মানুষের মনেও। তাই তো বসন্তের প্রথম দিনটি বরণ করে নিতে এত আয়োজন; অপেক্ষা।

যেহেতু এবার পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই সঙ্গে পড়েছে, তাই সাজ-পোশাকে দুটোরই আবেদন থাকতে পারে। কয়েক বছর ধরে বসন্ত মানেই যেন হলুদ, কমলা বা সবুজ রঙের শাড়ি। এবারে কিন্তু শাড়ির রঙে রয়েছে ভিন্নতা। বাসন্তী, কমলা বা হলুদের সঙ্গে যোগ হয়েছে চাপা সাদা, মেজেন্টা, গোলাপি, সবুজ, লাল, টিয়া, পিচ, নীল, বিস্কিট ইত্যাদি রং। ভালোবাসা দিবসের থিম রং বলতেই যেমন লালকে ধরা হতো, এবার কিন্তু এর পরিবর্তন হয়েছে। বাসন্তী ও লাল রঙের একসঙ্গে মিশেল দেখা গেছে পোশাকের ভেতর।

ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফট-এর প্রতিষ্ঠাতা খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে ভিন্নধর্মী পোশাক উপস্থাপনের চেষ্টা করি। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার ফ্লোরাল, ট্র্যাডিশনাল, মানডালা, ওরিয়েন্টাল, মিক্সড মোটিফ, মুঘল, বেলারুস, জামদানি ইত্যাদি নানা মোটিফে তৈরি করা হয়েছে পোশাক। কটন, স্লাব কটন, লিনেন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, অরগাঞ্জা, টু-টোন কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলোতে নকশা ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন, ব্লকপ্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট ও টাই-ডাই মিডিয়ার ব্যবহার হয়েছে। এগুলো পরে যে কেউ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।’

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

ফাগুনের প্রথম দিনটিতে রঙিন পোশাক পরবেন আর একটু ভিন্নভাবে সাজবেন না, তা কি হয়? পোশাকের পাশাপাশি সাজেও আনতে পারেন বৈচিত্র্য।

‘বসন্ত মানেই যেহেতু রঙিন কিছু, তাই সাজেও থাকবে রঙের ব্যবহার। তবে তা হবে পরিমিত’, বলছিলেন বিউটিফিকেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি ও রূপ বিশেষজ্ঞ সুপ্রিতী গােস্বামী। তিনি বলেন, ‘এদিন দিনের বেলায় চোখের মেকআপে হালকা রঙের ব্যবহার করাই ভালো। যেমন : হালকা গোলাপি, সবুজ, জলপাই ও বাদামি ইত্যাদি রং।’

চোখে পরতে পারেন কাজল বা টানা আইলাইনার। মাশকরা অবশ্যই থাকবে। আর সেটা হবে ডাবল লেয়ারের। এ ছাড়া চোখের ওপর কাজল টেনে হালকা ম্যাশ করে নিতে পারেন। এতে খুব কম মেকআপেই চোখ ভরাট মনে হবে।

দিনের বেলার ত্বকের বেইজ মেকআপ হবে খুব হালকা। একেবারে স্কিন টোন অনুযায়ী। একটু বিবি বা সিসি ক্রিম ব্যবহার করে কমপ্যাক্ট বুলিয়ে নিন। গালে ও চিক বোনে লাগান টিনট ব্লাশন। ঠোঁটে লাগাতে পারেন মানানসই ম্যাট বা ন্যুড লিপস্টিক। খোঁপায় একটা-দুটো জারবেরা বা গোলাপ থাকলে তো সোনায় সোহাগা। এই তো হয়ে গেল দিনের বেলার সাজ।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

তবে রাতে বেইজ মেকআপটা একটু ভারী করতে পারেন। এমনটা জানিয়ে রূপ বিশেষজ্ঞ সুপ্রিতী গোস্বামী বলেন, ‘এই সময় হালকা গ্লিটারি বা একটু গাঢ় রঙের মেকআপ করা যেতে পারে। চোখে পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে সবুজ, গোলাপি, ব্লু স্মোকি রঙের ব্যবহার থাকুক। লিপস্টিক একটু গ্লোসি হলেও চলবে। তবে যেহেতু শীত থেকে গরমের দিকে আবহাওয়া মোড় নিচ্ছে, তাই মেকআপের আগে ত্বকের যত্নটা বিশেষভাবে নিতে হবে। মেকআপের আগে অবশ্যই ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং ভালোভাবে করে নেবেন। আর সাজে পরিপূর্ণতা আনতে হাতভর্তি চুড়ি, মেটাল বা কাপড়ের গয়না এবং কপালে টিপ পরতে ভুলবেন না যেন।’

সাজ মানুষের ব্যক্তিত্ব ও রুচির পরিচায়ক। তাই বিশেষ এই দিনটিতে এমনভাবে সাজুন, যেন সেটি আপনার ব্যক্তিত্ববিরোধী না হয় এবং অন্যের চোখকেও আরাম দেয়। বসন্ত কাটুক আনন্দে।

অসম্মানের জবাব দেওয়ার কৌশলী ৮ উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
গরীব থেকে আমির, দুর্বল থেকে শক্তিশালী- সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অসম্মানের মুখোমুখি হয়। অসম্মানের জবাব দিতে গিয়ে আমরা অনেকেই মারমুখি হয়ে উঠি বা অন্যকে গালিগালাজ করে সেটার সমাধান করার চেষ্টা করি।

তবে খুব ভদ্রভাবেও এর জবাব বা প্রতিউত্তর দেওয়া যায়। এতে শাপও মরে আর লাঠিও ভাঙে না। দৃঢ়তার সঙ্গে এবং চিৎকার-চেঁচামেচিতে না করে কীভাবে অসম্মানের উত্তর দেবেন তার কিছু কৌশলী উপায় বাতলেছে ওয়ার্ডস অব উইসডম।

শান্ত থাকুন
মনে মনে নিশ্চয়ই ভাবছেন, কেউ আমাকে অসম্মান করছে, আর আমি চুপচাপ বসে থাকবো, সেটা হয় না কি ? হ্যাঁ, বিষয়টি বেশ কঠিন। তবে, কেন শান্ত থাকার কথা বলা হচ্ছে ? কারণ, এই জটিল সময়েও আপনি যখন ধীর থাকবেন, তখন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ওই যে বলা হয়, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। বিষয়টি একদমই তাই। নিজের জাহাজের ক্যাপটেন নিজেই হোন। অন্যের কাজ, কথায় আপনি আহত হোন, রেগে যান বা আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, বিষয়টি অপরপক্ষ বুঝে গেলেই বিপদ। তারা আপনাকে আরো আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করবে। তাই শান্ত থাকুন।

শান্ত থাকা মানে কিন্তু দুর্বলতা নয়। এর মানে হলো, নিজের নিয়ন্ত্রণটা, নিজের হাতেই রয়েছে।

অসম্মান কেন করা হচ্ছে, চিন্তা করুন
প্রতিউত্তর দেওয়ার আগে সম্পূর্ণ অবস্থাটি নিয়ে স্মার্টভাবে চিন্তা করুন। কেন আপনাকে অসম্মান করা হচ্ছে? এটা কি ইচ্ছা করে অপরপক্ষ করছে? না কি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হচ্ছে? অযথা যুদ্ধে জড়ানোর আগে একটু পেছনে থেকে খেলুন। অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।

ক্যাপশন : অসম্মানের উত্তর দিতে পারেন নিরবতা দিয়ে। ছবি : সংগৃহীত
ক্যাপশন : অসম্মানের উত্তর দিতে পারেন নিরবতা দিয়ে। ছবি : সংগৃহীত

নিজের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর দিন
আপনি অন্যের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তবে আপনি তার বাজে আচরণের প্রতিউত্তরে কী প্রতিক্রিয়া জানাবেন সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না
কেউ আপনাকে অসম্মান করছে বা আপনার সম্পর্কে ভুলভাল ভাবছে, এটা কিন্তু আপনার সমস্যা নয়, তার চিন্তার প্যাটার্ন এই রকম। তাই অসম্মানকে খুব ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করতে যাবেন না। আপনি শান্ত থাকলে, যে আপনাকে অসম্মান করছে, সে নিজেই অন্যের চোখে ছোট হবে। অন্যের নেতিবাচকতার কারণে নিজের আনন্দ কেন নষ্ট করবেন?

দেয়াল তুলে দিন
নিজের মানসিক শান্তির দায়িত্বটা আসলে নিজেরই। যারা অসম্মান করে বা করছে, তাদের সঙ্গে মেলামেশা কমিয়ে দিন। মানসিকভাবে দেয়াল তুলুন। অসম্মানকে কোনোভাবেই সহ্য করার কারণ নেই। শক্ত হয়ে নিজেকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসুন, যেন তারাও এক পর্যায়ে বুঝতে পারে, তাদের আচরণ ভুল ছিল। নিজের মন ও শরীরকে নিরাপদে রাখুন।

 ক্যাপশন : সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। ছবি : সংগৃহীত
ক্যাপশন : সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। ছবি : সংগৃহীত

চুপ থাকুন
কখনো কখনো নিরবতা শব্দের চেয়ে শক্তিশালী। এর মানে কিন্তু আপনি অবস্থাকে এড়াচ্ছেন না। আপনি কেবল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিরবতার এই সময়টা আপনাকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে, ভেবেচিন্তে ও যুক্তির সঙ্গে উত্তর দেওয়া শেখাবে। আপনি কিন্তু অসম্মানের বিপক্ষে যুদ্ধ করছেন, তবে শব্দে নয়, নিরবতা দিয়ে। এর মানে আপনি নিজের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অন্যের হাতে দিচ্ছেন না।

নিজেকে তৈরি করুন
কেউ আপনাকে অসম্মান করলে, তাকে দেখিয়ে দিন আপনি কতটা যোগ্য। কথা নয়, কাজ দিয়ে, নিজের ব্যক্তিগত উন্নতির মাধ্যমে চড়টা মারুন। সর্বপোরি, নিজেকে তৈরি করুন।

হেসে উড়িয়ে দিন
আরেকটি কাজও করতে পারেন। কেউ অসম্মান করলে প্রথমে হেসে উড়িয়ে দিন। আর সেটি সম্ভব না হলে, তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলুন, ‘ আপনি ঠিক আছেন তো? মনে হচ্ছে, আপনি ঠিক নেই।’ দেখুন তো, এই কথা বলার পর কী প্রতিক্রিয়া হয় ?

সুস্থ ত্বক পেতে প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়

অপরাজিতা অরু

সারাদিন কর্মক্ষম থাকতে চান ? তাহলে সকালে নাস্তার পর একগ্লাস গাজরের মিল্কশেক পান করুন। সকালে এই পানীয়টি পান, পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা আপনাকে রাখবে কর্মক্ষম ও প্রফুল্ল।

প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের জুস বাড়াবে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। গাজরে রয়েছে ক্ষণিজ, পটাসিয়াম ও ফসফরাস। এগুলো হাড় গঠন ও মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

গাজর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ডায়েটরি ফাইবারে পরিপূর্ণ একটি সবজি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফসফরাসের মত পুষ্টি উপাদান ত্বক শুকিয়ে যাওয়া এবং ত্বককে দাগ পড়া থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়াও স্কিন টোনকে উন্নত করে এসব উপাদান। নিয়মিত গাজর খাওয়ার অভ্যাস চুল পড়া কমাতেও কার্যকরী।

গাজরে থাকা পটাশিয়াম কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। এতে ক্যালরি ও সুগারের উপাদান খুবই কম। এ ছাড়া ডায়াবেটিস প্রতিরোধে যেসব ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজন সেসব উপাদানে ভরপুর এই সবজি। এটি এমন একটি সবজি ওজন কমাতেও যার জুড়ি মেলা ভার।

ক্যারট মিল্কশেক তৈরিতে যেসব উপাদান প্রয়োজন

গাজর কুচি – দুই কাপ
গরুর দুধ – ২৫০ গ্রাম
মধু – ৪ টেবিল চামচ
সাদা এলাচ – ৪ টি
খেজুর – দুইটি (পানিতে আধঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা)

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে দুধ ফুটিয়ে নিন। এবার গাজর কুচি, দুধ, মধু খেজুর ও এলাচ সবকিছু একসঙ্গে একটি ব্ল্যান্ডারে অথবা জুসারে ব্ল্যান্ড করে নিন। এবার গ্লাসে ঢেলে পছন্দ মত বাদাম কুচি কিসমিস দিয়ে পরিবেশন করুন।

খেজুর ও মধুর পরিবর্তে প্রয়োজন মত চিনিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য চিনি বাদ দেওয়াটাই ভালো। হালকা গরম অবস্থায় ক্যারট মিল্ক শেক পান করুন।

সূত্র : ডিঙডিগুল ফুড কোর্ট ও জয়শ্রি’স কিচেন

যোনিস্বাস্থ্য ভালো রাখবেন কীভাবে?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারী তার সৌন্দর্য নিয়ে যতটা সচেতন থাকে, ঠিক ততটাই অবহেলা করে তার স্বাস্থ্যকে। বিশেষ করে নারী অঙ্গগুলোর স্বাস্থ্যকে। এতে স্তন, জরায়ু, যোনি ইত্যাদির মতো স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি।

যৌনিতে যেহেতু পানি বা অন্যান্য জিনিসের স্পর্শ বেশি হয়, এই জন্য এই অঙ্গটি সহজেই সংক্রমিত হয়ে পড়ে। তাই এর সঠিক যত্ন নেওয়াটা জরুরি। যৌনিস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু পরামর্শ জানিয়েছে মোরল্যান্ড ডটকম।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা
কম ক্ষার রয়েছে এই ধরনের সাবান ও হালকা গরম পানি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত একবার যৌনি ধোন। ধোয়ার পর ভালোভাবে জায়গাটি পরিষ্কার করুন, যেন কোনোভাবেই ভেজা না থাকে।

প্রত্যেকবার টয়লেট ব্যবহারের পর অবশ্যই ভালোভাবে জায়গাটিকে পরিষ্কার করবেন।

সহবাসের পর পরিচ্ছন্নতা
অনেকেই সহবাসের সময় লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে এমন ধরনের ব্যবহার করুন, যেন যৌনির ক্ষতি না হয়। এ ছাড়া সহবাসের পর দ্রুত যৌনাঙ্গ ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। না হলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।

পিরিয়ডের সময়ের যত্ন
পিরিয়ডের সময় অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর পর প্যাড পরিবর্তন করুন। যৌনির সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে প্রোবায়োটিকস জাতীয় খাবার খান। প্রোবায়োটিকস দইয়ের মধ্যে পাবেন। এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। ব্যথা হলে গরম পানির স্যাঁক নিন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

পিউবিক হেয়ার
পিউবিক হেয়ার বা যৌনির চুল সেইভ বা ওয়্যাক্স করে পরিষ্কার রাখাটা জরুরি। নোংরা পিউবিক হেয়ারের কারণেও যৌনিতে বিভিন্ন সংক্রমণ হয়।

‘সৎ সাহস থাকলে সবাই সফল হতে পারে’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
মেয়েটির গায়ের রং কালো ছিল। ছোটবেলায় মা ছাড়া এমন কোনো মানুষ ছিল না, যারা গায়ের রং কালো বলে, তাকে উপহাস করেনি। যত সবার উপহাস বেড়েছে, তত ত্বকের যত্ন ও সাজসজ্জার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে তার। সেই আগ্রহ বাড়তে বাড়তে এক সময় বিউটিফিকেশন পেশায় আসার ইচ্ছা তৈরি হয়।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বিউটিফিকেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উজ্জ্বলা থেকে কোর্স করে বর্তমানে নিজেই একটি স্যালন খুলেছেন। পাশাপাশি নারীদের জন্য তৈরি একটি জিমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক তিনি। গায়ের রং, দেহের আকৃতির প্রতিবন্ধকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি চলছেন উদ্দ্যম গতিতে। যার কথা বলছি, তিনি বরিশালের মেয়ে সামিয়ারা ইসলাম স্বর্ণা। একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর পথচলার গল্পই রইল পাঠকদের জন্য।

সামিয়ারা ইসলাম স্বর্ণা। ছবি : সংগৃহীত
সামিয়ারা ইসলাম স্বর্ণা। ছবি : সংগৃহীত

বিউটিফিকেশনের সব আধুনিক প্রশিক্ষণ উজ্জ্বলায় পাই

যেহেতু সাজসজ্জার প্রতি আমার একটি আগ্রহ ছিল, তাই অনেকদিন ধরেই একটা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান খুঁজছিলাম, যেখানে আমি বিউটিফিকেশনের সব আধুনিক প্রশিক্ষণ নিতে পারি। খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ উজ্জলার বিজ্ঞাপন সামনে আসে। উজ্জলার কথা আমি ফেইসবুক অ্যাডের মাধ্যমে জেনেছি।

উজ্জলায় আসার আগ পর্যন্ত আমি আসলে কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম, আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব কি না। তবে যেদিন প্রথম উজ্জলার ক্লাস করতে আসি, মনে হয়, আমি আর একা নই, আমার পরিবার খুঁজে পেয়েছি। সবার এতো সহযোগিতা পেয়েছি, আমার লক্ষ্যে পৌঁছানোর মনোবল আরো দৃঢ় হয়েছে। আমার সব সুবিধা-অসুবিধায় আমি উজ্জলাকে পেয়েছি। উজ্জ্বলা আমাকে নতুন করে হাসতে শিখিয়েছে।

মায়ের মৃত্যুতে ভীষণ অসহায় হয়ে পড়ি

আমার আম্মু ২০০৭ সালে মারা গেছেন। এরপর থেকে আসলে জীবনে ট্রেজিডি অনেক হয়েছে। প্রত্যেকটা ঘটনার পর পরই মনে হতো এর থেকে মরে যাওয়া ভালো। এস. এস. সি পরীক্ষার পর একটু একটু করে সাহস আসতে শুরু করে। তখন ভাবতে শুরু করি, জীবনে এমন কিছু করতে হবে যেন আমার মত যে মেয়েরা একা, যাদের পাশে কেউ নেই, তাদের পাশে দাঁড়াব। আমি একজন সফল নারী হবই।

এরপর জীবনে অনেক কিছু ঘটে গেছে, তবে আমি কখনও দমে যাইনি। প্রত্যেকটা ঘটনা আমাকে আরও একটু শক্ত করেছে। আমি মনে করি, এতগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেই হয়ত আজ আমি এতটা বাস্তববাদী। এখন আর আমার মধ্যে কোনো ভয় কাজ করে না। মানুষ হিসেবে কিছু অনুভূতি মাঝে মাঝে মানসিক যন্ত্রণা দিলেও জিমে একঘণ্টা ওয়ার্কআউট করলে সব ভুলে যাই। আজকের আমি অতীতের অনেক মনভাঙা মানসিক যন্ত্রণার সমষ্টি। এখন রয়েছে সামনে চলার জেদ। নিজে ভালো থাকতে চাই, আর অন্য মেয়েদের ভালো রাখতে চাই।

সামিয়ারা ইসলাম স্বর্ণা। ছবি : সংগৃহীত
সামিয়ারা ইসলাম স্বর্ণা। ছবি : সংগৃহীত

নারীকে সৌন্দর্যের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিতে হবে

বর্তমানে পার্লারের পাশাপাশি আমি একটি লেডিস জিমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক। বরিশালে আমার এই জিমটির নাম, ফিটনেস স্টুডিও বাই সামিয়ারা। আমাদের সমাজে মেয়েদের সৌন্দর্য নিয়ে সবাই যতটা আগ্রহ প্রকাশ করে, তার অর্ধেকও মেয়েদের সুস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন নয়। মেয়েদের হরমোনের সমস্যার কারণে অনেক সময় ওজন বেড়ে যায়।আবার পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন তো অনেক সময় মেয়েদের আত্মঘাতী করে তোলে। এসব সমস্যা সমাধানে সঠিক কাউন্সিলিং ও ওয়ার্কআউটের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। অনেক মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে ওয়ার্কআউট করতে স্বস্তিবোধ করে না, আবার পরিবারও অনুমতি দেয় না। তাদের কথা চিন্তা করে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য জিমটি শুরু করেছি। পার্লারের কাজও চলছে।

সামিয়ারা ইসলাম স্বর্ণা। ছবি : সংগৃহীত
সামিয়ারা ইসলাম স্বর্ণা। ছবি : সংগৃহীত

মেয়েদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে কাজ করতে চাই

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তো অনেক কিছুই রয়েছে। এর মধ্যে নিজের ব্যবসাকে সততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং জীবনে আরো সফল হওয়া অন্যতম। তবে সমাজের অন্য মেয়েদের সাহসী ও আত্মনির্ভরশীল হতে যেন অনুপ্রেরণা দিতে পারি এমন কিছু করতে চাই। অনেকই নিজে কিছু করতে পারছে না বলে বিভিন্ন অন্যায় মেনে নেয়। এমন কিছু করতে চাই, যাতে আমাকে দেখে তারাও অনুভব করতে পারে মেয়েরা দুর্বল না, হোক সে একা। আমি মনে করি সৎ সাহস, দূরদর্শিতা ও দক্ষতা থাকলে সবাই সফল হতে পারে।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিল ৯২তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.