Wednesday, May 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 54

বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় স্বামীর ভূমিকা, পর্ব-২

রফিক-উল-আলম

১ম পর্বের পর..

দেশি প্রেক্ষাপটে বন্ধ্যত্বের বিষয়টি যেন অঘোষিতভাবে মেয়েদের ওপরই বর্তে যায়। এতে সেই মেয়েটি ‘গোদের ওপর বিষফোড়া’র মতো তীব্র একাকিত্বে ভোগে। আর এ থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে– অহরহ বিভ্রান্তও হয়। তাই শুধু এই ডাক্তার থেকে সেই ডাক্তার, ওষুধ কেনা, গেলানো, গাদা গাদা টেস্ট– এসব করেই দায় সারা নয়; বরং ছায়া হয়ে স্ত্রীর পাশে থাকুন, মানসিক চাপ, ডিপ্রেশন থেকে তাকে দুহাত বাড়িয়ে আগলে রাখুন। দেখুন না, সেই তিনিই কত চট করে বন্ধ্যত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে দুজনের জীবনকেই মধুময় করে তুলবে।

বন্ধ্যত্বের সমস্যায় নারী-পুরুষ উভয়েরই ভূমিকা সমানে সমান। তাই যখন দুজনের একজনের যে কারোরই সমস্যা ধরা পড়ুক না কেন, নিজেদের একটা ‘টিম হিসেবে’ দেখার চেষ্টা করুন। একে অন্যকে যথাসাধ্য মানসিক সমর্থনসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে সচেষ্ট হোন। এই ‘টিম ইফোর্ট’ই আপনাদের বন্ধ্যত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধটায় জিতিয়ে দেবে।

বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার সঙ্গে ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্রেইন’ বা আর্থিক অবস্থাটা ভীষণভাবে জড়িত। কারণ, কখনও কখনও এই চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। তাই একজন স্বামীর উচিত নিজেদের সংগতি, সামর্থ্য বিচার করে দুজনে একসঙ্গে বসেই তাদের চিকিৎসা বিষয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা করে নেওয়া।

যা দেখেছি, এতে বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার বিষয়ে এ দেশের ‘ফিমেল পার্টনার’ই সবচেয়ে বেশি মাঠ দাপিয়ে বেড়ান। যেখানে এসব নিয়ে একটু কথা, একটা উইন্ডো খোলা দেখল, একটু ধোঁয়া উঠতে দেখল, অমনি বিভ্রান্ত হয়ে না জেনে না বুঝেই চোখ বন্ধ করে তারা যেন পংগপালের মতো সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েন! অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে একশ্রেণির ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নানা রকমের সরেস মূলোর প্রলোভন তো রয়েছেই; ভিন দেশ থেকেও অনেকে একই উদ্দেশ্য নিয়ে জাল বিছিয়ে চলেছে। তাই একজন স্বামীকে এ বিষয়ে সচেতনতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে, দেখতে হবে তাঁর স্ত্রী আবেগের বশে, হুজুগের বশে প্রকৃত অর্থে কোথায় ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। খোঁজখবর নিয়ে, ঘাঁটাঘাঁটি (Research) করে প্রকৃত অর্থে তাদের জন্য কোন পথটি কার্যকর, তা চিহ্নিত করে দুজনে একসঙ্গে সেই পথে এগোনো। নিজেরা তা না পারলে এর-তার কথায় কান না দিয়ে প্রফেশনাল হেল্প নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

Communication is an integral part of any relationship। তাই তো শুধু সাংসারিক প্রয়োজনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকেই নয়, বরং স্ত্রীর সাথে গভীর, নিবিড় মানসিক যোগাযোগ রেখে নিজেদের সম্পর্কের সমঝোতা বাড়িয়ে আত্মিক বন্ধনকে আরও মজবুত করুন। নতুন ডাক্তার/ওষুধে তার আগের চেয়ে ভালো কাজ করছে কিনা, কেমন অনুভব করছে, ওষুধ ঠিকমতো খাচ্ছে কিনা, কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা– একজন সাংবাদিকের মতো তাঁর মনের অলিগলিতে ঘুরে নিজ স্ত্রীর মনের খোঁজখবর রাখুন। স্ত্রী-গৃহিণী বা কর্মজীবী যাই হোক না কেন, গৃহকর্মে তাঁকে সহায়তা করুন। দুজনের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ান। জানবেন, আপনার এটুকু মানসিক সহযোগিতায় তিনি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন।

শুধু স্ত্রীর বন্ধ্যত্ব সমস্যা রয়েছে বলে সন্তান হচ্ছে না– এ ধরনের মনোভাব মুখে আনা তো দূরের কথা, ঘুণাক্ষরে মনেও আনবেন না। Please don’t bottle up your feelings against your Wife. মনে রাখবেন, আপনার স্ত্রী এমনিতেই হালভাঙা এক নাবিক; হারিয়েছে দিশা… এই বিপন্ন বেচারীকে এসব নিয়ে একটুও বিপন্ন করা নয়, সন্তান না হওয়ার জন্য তাঁকে একবারের জন্যও ব্লেম করা নয়; ঠাট্টাচ্ছলেও পুনর্বিবাহের ইচ্ছে ব্যক্ত নয়। এমনিতেই ইনফার্টিলিটি সমস্যায় ভোগা মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি একটি খুব প্রচলিত ভীতি। আর সেই ভীতিতে না বুঝে হাওয়া দিলে আপনার সন্তান লাভের প্রত্যাশা, সেই সঙ্গে সংসারের সূর্যটাও পশ্চিমাকাশের দিকেই হেলে পড়বে।

মাতা-পিতা, ভগ্নি, ভ্রাতা, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সমাজের অহেতুক হাসি, ঠাট্টা, কৌতূহল, রোষানল থেকে স্ত্রীকে আগলে রাখুন। মনে রাখবেন, আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যে আপনি পরিবার গড়ে তুলেছেন– সেটাই এখন সর্বাগ্রে বিবেচ্য। সন্তান লাভের ক্ষেত্রে নিজের সমস্যা চিহ্নিত হলে, সৎসাহস থাকলে নির্দ্বিধায় আপনার পরিবারকে তা জানিয়ে দিন। সেটুকু সৎসাহস না থাকলে বা স্ত্রীর সমস্যা থাকলে তবে বীরদর্পে তা ঘোষণা থেকে বিরত থাকুন। বরং সব সময় সযত্নে খেয়াল রাখুন, নিজ পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন বা কোনো সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে যেন কেউ এমন বিব্রতকর প্রশ্ন না তুলে আপনার স্ত্রীকে হেয় ও বিপন্ন করতে না পারে। একান্ত সে রকম প্রশ্ন আপনার স্ত্রীর উপস্থিতিতে এমনকি অনুপস্থিতিতে কোথাও কখনও উঠলে স্মার্টলি বলুন, ‘এটা তো আমাদের পার্সোনাল প্ল্যানিং (ব্যক্তিগত পরিকল্পনা)। সন্তান নেওয়ার বিষয়টি এখনও ভাবছি না, দুজনে আরেকটু গুছিয়ে নেই।’ আপনাকে বিব্রত ও আমোদ পাওয়ার লক্ষ্যেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের প্রশ্নের অবতারণা হয়। আপনি নির্বোধ হলে সে ফাঁদে পা দেবেন; আর নিজ ও স্ত্রীর সম্মানের কথা মনে করলে এভাবেই সেসব অতি উৎসাহী মুখে ভদ্রভাবে ঝাঁটা মারবেন।

বন্ধ্যত্ব সমস্যার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সন্তানপ্রত্যাশীদের ‘ওভুলেশন ক্যালেন্ডার’ মেইনটেইন করে ‘শারীরিকভাবে মিলিত হওয়া’ অতি অত্যাবশ্যকীয়। প্রতিটি স্বামীকে এ সময় নিজ দায়িত্বতেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে, দায়সারা গোছের নয়; বরং মনে রাখতে হবে, সময়মতো একটা মধুর যৌনমিলন অচিরেই তাদের ইনফার্টিলিটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

চলবে..

রফিক-উল-আলম
রফিক-উল-আলম

লেখক : ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলর ;
ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা

১ম পর্বের লিংক :

বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় স্বামীর ভূমিকা, পর্ব-১

ঈদ-উল-আজহার নতুন কালেকশন নিয়ে ‘কে ক্র্যাফট’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

পরিবার-স্বজন নিয়ে ঈদ-উল-আজহা উৎসবকে আরো প্রাণবন্ত করতে বৈচিত্র্যময় পোশাকের বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে কে ক্র্যাফট।

যেহেতু ঈদের প্রথম দিনটি অনেকের ব্যস্ততার মধ্যে কাটে, তাই ঈদের সকাল, বিকেল ও সন্ধ্যায় কাঙ্ক্ষিত বা উপযোগী পোশাক নির্বাচনে ক্যাজুয়াল কিংবা এক্সক্লুসিভ সবই মিলবে এবারের আয়োজন থেকে।

মেয়েদের জন্য সালোয়ার কামিজ এবং কুর্তিতে ফ্রক স্টাইল, এ লাইন ও রেগুলার শেপ ছাড়াও স্ট্রেইট কাট, রাফল, প্লিটেড, বক্স প্লিটেড স্টাইল থাকবে। নিজস্ব ডিজাইনের শাড়িতে মোটিফের ব্যবহার, কালার কম্বিনেশন এবং ভ্যালু অ্যাডিশনে নানা মিডিয়ার ব্যবহার সকলের দৃষ্টি কাড়বে।

ছেলেদের জন্য রয়েছে পছন্দের ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফটের রেগুলার ও ফিটেড পাঞ্জাবি। এ ছাড়াও পাওয়া যাবে স্মার্ট ক্যাজুয়াল শার্ট, এথনিক শার্ট ও ফতুয়া।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

ঈদের আনন্দটা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করবে শিশুরাই, তাই তাদের জন্যও উৎসব ভিত্তিক পোশাক থাকবে। শিশুদের পোশাকে প্যাটার্ন, ফ্যাব্রিক ও রঙের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেয়ে শিশুদের জন্য থাকছে – সালোয়ার কামিজ সেট, টপস-স্কার্ট সেট, টপস-পালাজো সেট, ফ্রক, কুর্তি, টপ। ছেলে শিশুদের জন্য পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়াসহ নানা আয়োজন।

ফ্যামিলি পোশাক থাকবে বরাবরের মতো। অর্থাৎ মা ও মেয়ের মিলিয়ে পরার মতো সালোয়ার কামিজ, কুর্তি; বাবা ও ছেলের জন্য পাঞ্জাবি।

মেরুন, ম্যাজেন্টা, অরেঞ্জ, গ্রিন, ব্রাউন, নেভি ব্লুর মতো উজ্জ্বল রঙ তো রয়েছেই। পাশাপাশি গরমের কথা মাথায় রেখে হওয়াইট, অফ-হওয়াইট, স্কাই, ল্যাভেন্ডার, রয়্যাল ব্লু, আইস ব্লু , লাইট পিঙ্ক, চেরি রেড, নিওন লাইম, ব্রোঞ্জ গ্রিন, পার্সিয়া ভায়োলেট রঙে থাকবে বেশিরভাগ পোশাক।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

বর্ষাকাল হলেও গরম থাকবে এবারের ঈদে, তাই আবহাওয়াকে মাথায় রেখেই ব্যবহার হয়েছে কটন, জ্যাকার্ড কটন, সুইস কটন, জর্জেট, লিনেন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, অরগানজা, ডুয়েল-টোন, নিব কটন, ভয়েল ফ্যাব্রিক।

কাঁথা, জামদানি, জিওমেট্রিক, টামজারা, ট্র্যাডিশনাল, মুঘলিও আর্ট, ইজিপসিয়ান মোটিফের অনুপ্রেরণায় করা হয়েছে এবারের পোশাক। নকশা ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার হয়েছে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি,কারচুপি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট।

কে ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লার সকল শো-রুম ছাড়াও অনলাইন শপ kaykraft.com থেকে ঈদ আয়োজন এর পোশাক পাওয়া যাবে সাশ্রয়ী মূল্যে। এ ছাড়াও ফেসবুক পেজ থেকেও অর্ডার করা যাবে।

গরমে খান কাঁচা আম

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঋতুভেদে এমনকিছু ফল রয়েছে, যা দেহের সুস্বাস্থ্যে খুব উপকারী। গ্রীষ্মকালের এমনই একটি ফল কাঁচা আম। গরমে দেহের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাঁচা আম দারুণ কার্যকর। গরমে এই খাবারটি খাওয়ার কিছু উপকারের কথা জানিয়েছেন পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি।

  • গরমে ঘাম হয়ে দেহের ইলেকট্রোলাইটস ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। কাঁচা আম খাওয়া ঘাম কম হতে সাহায্য করে।
  • কাঁচা আমে থাকা ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • ঘা-পাঁচড়া, ঘামাচি প্রতিরোধেও উপকারী এটি।

বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় স্বামীর ভূমিকা, পর্ব-১

রফিক-উল-আলম

‘এ আবার কী কথা, বউটার বাচ্চা হয় না, তাতে আমার কী-ই বা করার রয়েছে?’ আমাদের দেশের একশ্রেণির পুরুষের মাঝে প্রায়ই এমন মনোভাব দেখা যায়। এ দেশের একশ্রেণির স্বামীদের ভেতর এমন মনোভাব রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসে রয়েছে।

এদের বেশির ভাগেরই ‘ইনফার্টিলিটি সমস্যা’ সম্পর্কে মোটেই ধারণা নেই, এমনকি এ ক্ষেত্রে তাদের করণীয় সম্পর্কেও নেই বিন্দুমাত্র সচেতনতা। একশ্রেণির পুরুষ রয়েছেন; যারা মনে করেন, বিছানায় তিনি এক দাপুটে স্বামী। সুতরাং সন্তান না হওয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো দায় থাকতেই পারে না– অনেক সাধের বিয়ে করা ‘বউ’টাই এর জন্য একমাত্র দায়ী। যদিও পরে দেখা যাচ্ছে, নানা রকম স্পার্মজনিত সমস্যাসহ এদের ভেতর অনেকেই সেক্সচুয়াল ডিসফাংশনে-প্রিম্যাচিউরড্ ইজাকুলেশন-সঙ্গমপূর্ণতা প্রাপ্তির আগেই বীর্যোস্খলন, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা ED-পুরুষাঙ্গের উত্থান বা সম্ভোগযোগ্য সবল না হওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এগুলোও সন্তান না হওয়ার পেছনের অন্তরায়। অথচ এরাই নির্দ্বিধায় স্ত্রী’কে একতরফাভাবে নিরন্তর গিনিপিগ বানিয়ে চলেছেন– এতে পারিবারিক, সামাজিকভাবে এমনকি নিজ সংসারেও নারী হন হেয়; নিত্য মানসিক পীড়নে হন ক্ষতবিক্ষত!

তাই তো সন্তানপ্রত্যাশী পুরুষকে বলব, সর্বাগ্রে এই দুটো বিষয়কে মাথায় গেঁথে রাখুন-

১. সন্তান না হওয়ার পেছনে শুধু আপনার স্ত্রী নন, বরং আপনারও এমন অনেক সমস্যা থাকতে পারে; যা আপনাদের সন্তান না হওয়ার পেছনের অন্তরায় হতে পারে। তাই আপনার সমস্যা চিহ্নিতকরণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার সিমেন টেস্টসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইনভেস্টিগেশনে কোনো গাফিলতি না করে নির্দ্বিধায় করিয়ে ফেলুন।

২. স্ত্রীর সমস্যা চিহ্নিত হলে সে ক্ষেত্রে সমস্ত চিন্তা-চেতনায়, মন-মনন তাঁর পাশে আরও নিবিড়ভাবে থাকুন। তার পুরো ইনফার্টিলিটি জার্নিতে তাঁর হাতটি ধরে রাখুন। জেনে রাখুন, ‘Holding Hands Can Relieve Pain.’ মনে রাখবেন, আবেগীয় সহযোগিতাসহ আপনার সব ধরনের সহায়তা আপনার স্ত্রীকে আরও দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

এই কথাগুলো অন্তরে ধারণ করে রাখুন–

মাতৃত্ব মেয়েদের মজ্জাগত। প্রত্যেক নারীই মাতৃত্বের এই আস্বাদ নিতে পাগলপারা হয়ে থাকেন। তাই সন্তান নেওয়ার কথা ভাবার পর যখন দেখেন, তাদের সন্তান হচ্ছে না বা সন্তান ধারণে সমস্যা ধরা পড়ে, তখন তারা ভীষণ দিশেহারা হয়ে পড়েন। একদিকে নিজের সন্তান লাভের উদগ্র বাসনা; অন্যদিকে পরিবার, সমাজের বক্র চাহনি। আর এ ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে আপনজন, সবচেয়ে নিরাপদ– নিভৃত কোণ কিন্তু স্বামী– এই আপনিই। তাই সেই হতভাগিনীর সকল আস্থা-ভরসা-বিশ্বাসের স্থানটি যেন সামান্যতম টলে না ওঠে, তা যে আপনাকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। মনে রাখবেন, সন্তানপ্রত্যাশী এক নারীর ‘ইনফার্টিলিটি জার্নি’টা এক ‘রোলার কোস্টার’; প্রতিনিয়ত তা তাঁকে হতাশা, ব্যর্থতা, দুঃখ, বেদনা, ভয়, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, গ্লানি, মর্ম যাতনায় দুমড়েমুচড়ে ছিন্ন ভিন্ন করে প্রতিটি মুহূর্ত এক নিদারুণ ঘূর্ণিপাকে আছড়ে ফেলছে। ভেবেছেন কি, এরপরও আপনি আপনার নাশতা, জলখাবার, জামা, জুতা সব হাতের কাছেই এগোনো পাচ্ছেন? আর সন্তান না হওয়ার গঞ্জনাটা যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে আপনার দিক থেকেও একটিবারের জন্যও না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখুন; স্ত্রীকে আবেগিক সাপোর্ট দিয়ে আগলে রাখুন।

সাধারণত বন্ধ্যত্বের সমস্যা নিয়ে আমরা যারা কাজ করি, ইনফার্টিলিটি গাইডেন্স তথা চিকিৎসার জন্য আমাদের কাছে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে একসঙ্গেই থাকতে হবে, বলে দেওয়া হয়। কিন্তু ‘ও তো খুব ব্যস্ত, অফিসের জন্য আসতে পারেনি’– এমন হেনতেন গালভরা গল্প আমাদের হরদম বিহ্বল করে! ডাক্তারের আপয়েন্টমেন্টে, চিকিৎসায়, কাউন্সেলিং, গাইডেন্সে স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী প্রবরটি থাকলে একদিকে যেমন স্ত্রীটি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে না, স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে; ঠিক তেমনি স্বামীর সমস্যা, মনোভাব ইত্যাদি চিকিৎসা বা কাউন্সেলিংয়ের জন্যও অতি অপরিহার্য। তাই স্ত্রীকে একা একা যুদ্ধ ক্ষেত্রের দিকে ঠেলে দেওয়া অবুঝ স্বামীদের বলব– আরেকবার মাথায় রাখুন, সন্তানের বিষয়টি স্ত্রীর একার নয়। আর আপনি শুধু একাই অফিস বা ব্যবসা নিয়ে ব্যাপৃত নন, আরও অনেকেই এসব করেও স্ত্রীর প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গেই আসছেন। সবার আগে আপনার ‘প্রায়োরিটি’ নির্ধারণ করুন, আপনার সন্তান প্রয়োজন কিনা? যদি মন বলে ‘না’, তবে শুধু শুধু স্ত্রীকেই বা একাকী ঠেলে দেওয়া কেন! বরং আপনার প্রিয় মাতা, ভগ্নি, ভ্রাতা, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সমাজকে সদর্পে আপনার ইচ্ছাটি ঘোষণা দিয়ে দিন। এতে করে অন্তত সেই বেচারী দায়মুক্ত হবেন। আর যদি সত্যিকার অর্থে আপনারও সন্তান লাভের ইচ্ছা থেকে থাকে, ওসব খোঁড়া যুক্তি শিকেয় তুলে ‘মানিক-জোর’ হয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিটি পদেক্ষেপে স্ত্রীর সঙ্গে, তাঁর পাশেই থাকুন।

চলবে…

রফিক - উল - আলম
রফিক – উল – আলম

লেখক : ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলর ;
ইম্পালস হাসপাতাল, ঢাকা

গরমে আরামের কুর্তি ‘কে ক্র্যাফট’- এ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
অস্বস্তিকর গরমে কোন পোশাকটি বেছে নেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবনা থেকেই যায়। গ্রীষ্মপ্রধান আমাদের দেশে তীব্র গরমে স্মার্ট লুকের পাশাপাশি আরাম বা স্বস্তিতে থাকা যাবে এমন পোশাকই হওয়া চাই।

আর ঠিকঠিকমতো এমন পোশাক বেছে নিতে পারলে অফিস কিংবা ক্যাম্পাস- যেকোনো জায়গায় নিয়মিত পরা যায়। আর এ ক্ষেত্রে কুর্তি বা টপ হতে পারে অসাধারণ পছন্দ। আরামদায়ক হওয়ার পাশাপাশি স্টাইলিশ লুকের জন্য কিশোরী থেকে তরুণী- সবার কাছে কুর্তি এখন বেশ জনপ্রিয়।

গরমে ভীষণভাবে আরাম দেবে এ ধরনের কুর্তি পাওয়া যাচ্ছে কে ক্র্যাফট-এ। একইসঙ্গে ফ্যাশনেবল ও বহুমাত্রিক চিন্তায় কে ক্র্যাফট নিয়ে এসেছে মানানসই নতুন ডিজাইনের কুর্তি ও টপ। উইভিং ডিজাইনের কটন, ক্রেপ সিল্ক, জর্জেট, লিনেন, ডুয়েল টোনের কাপড়ে ফ্লোরাল, জিওমেট্রিক, পেসলে, ট্রাইবাল, এথনিক মোটিফের সুনিপুণ ব্যবহার হয়েছে এসব দৃষ্টি নন্দন কুর্তি ও টপসে।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

গলায়, হাতা অথবা বটম লাইনে থাকছে বৈচিত্র্য। স্ট্রেইট, এ-লাইন, ফ্লেয়ার্ড প্যাটার্ন-এর লং ও শর্ট কুর্তিতে মিডিয়া হিসেবে রয়েছে এমব্রয়ডারি। এ ছাড়া বেশি ভারি নয়, এমন ধরনের কুর্তিও রয়েছে, যা স্বাচ্ছন্দে বেছে নিতে পারেন ক্রেতারা। আর রঙের কথা ভাবতে গেলে লাইট শেডের মধ্যে সি-গ্রিন, স্যালমন, ব্রিক রেড, অনিয়ন রেড, ইয়েলো, পাওডার পিঙ্ক, মউভ পিঙ্ক, কোরাল পিঙ্ক, হোয়াইট, ব্রাউন ছাড়াও চকোলেট, মেরুন রঙ থেকে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

আরামদায়ক, ফ্যাশনেবল ও সাধ্যের মধ্যে থাকছে নতুন ডিজাইনের এসব কুর্তি ও টপ। মিলবে ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। ইতিমধ্যে নতুন এসব কালেকশন কে ক্র্যাফটের প্রতিটি শো-রুমে পৌঁছে গেছে। এ ছাড়াও অনলাইন শপ www.kaykraft.com থেকে অর্ডার করা যাবে।

ঈদে রঙ বাংলাদেশ-এর পণ্যে ৫০% মূল্যছাড়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

উৎসবের আনন্দে ঈদ উদযাপিত হয় সব সময়েই। সেই আনন্দে অনন্য মাত্রা যোগ করে নতুন পোশাক। কোরবানির পশু কেনায় ব্যস্ত সময় পার করলেও ঈদের বন্ধে নতুন পোশাক পরে আনন্দ উদযাপন করা আমাদের ঈদ উৎসবের অংশই হয়ে গেছে।

কোরবানির ঈদ যেহেতু আমাদের ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হয়, তাই পোশাকেও সেই ভাবটা থাকা প্রয়োজন। আর এ কথা মাথায় রেখেই দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশ এবারের ঈদ উল আযহাতে নিয়ে এসেছে সকলের জন্যে ঈদ উপযোগী পোশাক।

 ছবি : রঙ বাংলাদেশ

ছবি : রঙ বাংলাদেশ

রঙ বাংলাদেশ সব সময়েই সময়, স্থান, কাল, পাত্র বিবেচনায় পোশাক তৈরি করে। ঈদ আয়োজনের পোশাকে এবার থাকছে শাড়ি, ব্লাউজ, কামিজ, ফ্রক, সালোয়ার কামিজ (থ্রি পিস), টপস, টিউনিক, পাঞ্জাবি, পায়জামা, শার্ট, টি-শার্ট। এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ব্যাগ, সিরামিক মগ, উত্তরীও। পোশাকের সঙ্গে রয়েছে মানানসই বিভিন্ন প্রকার মেটাল ও কাঠের তৈরি জুয়েলারি।

থিমভিত্তিক কালেকশনের পোশাক রঙ বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্য। মূল থিম ক্লাসিক্যাল ফোর উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে প্রতিটি পোশাকের মধ্যেই। তবে যেহেতু গ্রীষ্মকাল শেষে বর্ষার প্রারম্ভে ঈদ, তাই পোশাক ডিজাইনে সচেতনভাবেই রাখা রয়েছে ফোর এলিমেন্টসের ওয়াটার বা পানি থিম। পাশাপাশি আলপনা ও জিওমেট্রিক থিমেও পোশাক ডিজাইন করা হয়েছে, যা এনেছে আলাদা বৈচিত্র্যময়তা।

পোশাক তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে উন্নতমানের কটন, স্লাব কটন, লিলেন, হাফ সিল্ক, জরজেট ফেব্রিক্সের বিভিন্ন কম্বিনেশন এবং সেই সঙ্গে ভ্যালু এড করা হয়েছে বিভিন্ন প্রকার স্কিনপ্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, কারচুপি, এম্বয়ডারি, প্যাচওয়ার্ক ও কাট অ্যান্ড স্যু এর মাধ্যমে। ক্রেতাসাধারণের জন্যে সেলাইবিহীন থ্রিপিস রয়েছে। পাশাপাশি শাড়ির সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ ব্লাউজ বা পেটিকোট তৈরি করেও নিতে পারবেন রঙ বাংলাদেশ- এর যেকোনো আউটলেট থেকে।

 ছবি : রঙ বাংলাদেশ

ছবি : রঙ বাংলাদেশ

এই সময়ে ঈদ বাজেটে স্বস্তি আনতে রয়েছে বিশেষ অফারও, নির্দিষ্ট বৈচিত্র্যময় পণ্যে ৫০% মূল্যছাড় । এ ছাড়াও রয়েছে রঙস্বজন মেম্বারশিপ কার্ডে সকল পণ্যে শর্তহীন ১৫% মূল্যছাড়।

রঙ বাংলাদেশ এর ঢাকা ও ঢাকার বাহিরের ২০টি আউটলেটেই পাওয়া যাবে ঈদ উল আযহা সংগ্রহ। ভিড় এড়িয়ে ঘরে বসে কেনাকাটার জন্য রয়েছে ই-কমার্স সাইট www.rang-bd.com এবং ফেসবুক পেজ www.facebook.com/rangbangladesh. যেকোন প্রয়োজনে ফোন / হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে সাহায্যকারী 01777744344 এবং 01799998877 নম্বরে।

রেসিপি : গরমে উপকারী ছোলার ছাতুর শরবত

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ছাতু সবসময়ই বেশ উপদেয় একটি খাবার। আর এই তীব্র গরমে ছোলার ছাতুর শরবত খাওয়া দেহকে যেমন আরাম দেবে, তেমনি পানিশূন্যতা প্রতিরোধেও সাহায্য করবে। ছোলার ছাতুর শরবতের এই রেসিপিটি জানিয়েছেন রিজুভা ওয়েলনেসের জেষ্ঠ্য পুষ্টিবিদ মিলুপা আকতার।

উপাদান
পানি – ১ গ্লাস
ছোলার ছাতু – ২ টেবিল চামচ
লেবুর রস – একটির অর্ধেক
বিট লবণ- পরিমাণ মতো
পুদিনা পাতা – ২ থেকে ৩ টি
চিনি বা গুড় – ১ চা চামচ

প্রণালী

এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই টেবিল চামচ ছোলার ছাতু দিয়ে এতে অর্ধেক লেবুর রস, বিট লবণ, পুদিনা পাতা, চিনি বা গুঁড় মিশিয়ে তৈরি করে ফেলুন ছোলার ছাতুর শরবত।

 

গরমে জ্বর : কী খেলে উপকার ?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

গরমে জ্বর হলে পটাশিয়ামসম্বৃদ্ধ খাবার খান। যেমন : কলা, মটরশুটি, মুসরের ডাল, শুষ্ক ফল। খেতে পারেন ডাবের। প্রতিদিন অন্তত একটি করে ডাব খাদ্যতালিকায় রাখুন। এ ছাড়া গরমে জ্বর হলে খাওয়া ভালো এমন কিছু খাবারের পরামর্শ দিয়েছেন রিজুভা ওয়েলনেসের জেষ্ঠ্য পুষ্টিবিদ মিলুপা আকতার। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী-

  •  লাল, হলুদ ও সবুজ শাক-সবজি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করুন। যেমন : পাকা পেঁপে, তরমুজ, গাজর, বাঙি ইত্যাদি।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার খান। যেমন : লেবু, কমলালেবু, আমলকি, পেয়ারা ইত্যাদি।
  • প্রচুর পরিমাণে প্রোটিনজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। যেমন : চিকেন স্যুপ, পাতলা মুসরের ডাল, কাঁঠাল বা সিমের বিচি, মাছের পাতলা ঝোল, ডিম ইত্যাদি।
  • প্রতিদিন অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন। পাশাপাশি আখের রস ও ফলের রস খাওয়া যেতে পারে।
  • মৌসুমি ফল খেতে হবে। পাশাপাশি সালাদের মধ্যে শসা, গাজর রাখতে পারেন। সবজিতে থাকবে লাউ, ঝিঙা, চাল কুমড়া, চিচিঙ্গা ইত্যাদি।
  • গরমে ছাতুর শরবত খুব উপকারী খাবার। জ্বর হলে এটি খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি লেবুর শরবত পান করুন।
- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.