বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের কী জানা জরুরি ও কেন ?
ডা. হালিদা হানুম আখতার
বাংলাদেশে সম্পূর্ণ জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশ, কিশোর-কিশোরী। কিশোর-কিশোরী বলতে আমরা কত বছর বয়স বুঝি ? ১০ থেকে শুরু করে ১৪ বছর- একটি পর্যায়। আবার ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত আরেকটি পর্যায়। তবে ইউনিসেফের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সের নিচে যারা, তাদের শিশু বলা হয়।
সুতরাং আমাদের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ হলে কিশোর-কিশোরী হচ্ছে এক পঞ্চমাংশ। চার কোটির কাছাকাছি। এর মধ্যে অর্ধেক নারী হলে, দুই কোটির কাছকাছি নারী কিশোরী। এদের নিয়েই আমরা আজ কথা বলবো।
সাধারণত বাংলাদেশের পারবারিক অবকাঠামোর মধ্যে দেখা যায়, কিশোর-কিশোরীর বড় হওয়ারকে খুব সাধারণভাবে নেওয়া হচ্ছে। একজন কিশোরীর বয়ঃসন্ধিকালে, শারীরিক ও মানসিক কিছু পরিবর্তন আসে। সে দেখতে সুন্দর হয়, তার চুল সুন্দর হয়, বুকটি আগে থেকে প্রকাশ পায়। এমন সময়ে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। একটি হলো, কিশোরীর নিজের মধ্যে চিন্তা, আমি বড় হচ্ছি- কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবো, লুকাবো বা চলবো- ফিরবো। আরেকটি হলো, মা-বাবার একটি দায়িত্ব, মেয়েকে তারা কী তথ্য দেবে। অর্থাৎ মেয়েটির যে মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন হচ্ছে, এসব নিয়ে তথ্য দেওয়ার বিষয়টি।
তবে আমাদের পারিবারিক যে অবকাঠামো, এখানে মা-বাবাও মনে করে না যে আমার সন্তানকে আগে থেকে বলতে হবে বা প্রস্তুত করতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক হিসেবে আমি বলতে চাই, একজন মেয়ে বড় হওয়ার সময়, তার শরীরে কী কী পরিবর্তন হচ্ছে, সেটি তাকে জানানো দরকার। এটা মা-বাবার অবশ্য কর্তব্য। যেমন, আমরা লেখা-পড়ার জন্য তাকে বলছি, তেমনি তার শারীরিক যেসব পরিবর্তন হচ্ছে, সেগুলোও বলতে হবে।
জানাতে হবে, তোমার এই বয়সে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হতে পারে; তোমার মাসিক হতে পারে। মাসিক হলে যেসব পরিবর্তন দেহে হবে, সে সম্পর্কে কিশোরীকে বলা জরুরি। মেয়েটিকে এই সময়ের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। সে ঐ সময়ে কী ব্যবহার করবে, জানানো দরকার। মাসিকের সময় মেয়েটির পেটে ব্যথা হতে পারে; বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা হতে পারে। আগে থেকে এসব বিষয়ে জেনে সে প্রস্তুত থাকলে, হঠাৎ করে বিভ্রান্ত হবে না। বাবা-মা আগে থেকে বিষয়গুলো বললে, মেয়েটি শারীরিক এই পরিবর্তনের অবস্থাটি সহজভাবে মেনে নেয় এবং একটি প্রস্তুতির পর্যায়ে থাকে।
আরেকটি বিষয় মেয়েটিকে জানানো দরকার। মাসিক হওয়ার পর কিন্তু তার দেহে আরেকটি বড় ঝুঁকি চলে আসে। বিরাট বড় ঝুঁকি। সেটি হলো, কোনোভাবে কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক হয়ে গেলে, সহবাস বা ইন্টারকোর্স হলে, সে গর্ভধারণ করতে পারে। এই তথ্যটি কিন্তু অনেকের কাছেই থাকে না। এই তথ্যটি মা-বাবা বা অন্য কেউ-ও বলে না। তবে এটি সাপের কামড়ের মতো বিরাট ঝুঁকি হতে পারে মেয়েটির জীবনে। এই বিষয়ে তাকে বলতে হবে। মা-বাবা বা পরিবারের মানুষ অনেক সময় এসব বিষয়ে কথা বলতে লজ্জা পায় বা সংকোচ বোধ করে। তারা নিজেরাও দ্বিধায় থাকে কখন, কোন সময়ে বিষয়গুলো বলবে। এ ক্ষেত্রে মেয়ের মাসিক হলেই তাকে বলুন। দরকার হলে দুই-চারদিন আগে বলুন। বলে তাকে প্রস্তত করতে হবে এবং সবভাবে সাবধান করতে হবে।
তাকে সেখাতে হবে, অচেনা মানুষের সঙ্গে যাবে না, কেউ ডাক দিলে যাবে না, প্রলোভন দেখালে যাবে না, একলা যাবে না। এসব বিষয়ে সাবধান না থাকার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, আত্মহত্যা ইত্যাদি পরিস্থিতিগুলো সমাজে ঘটতে দেখা যায়, যা কখনোই কাম্য নয়।
সুতরাং এসব বিষয়ে সাবধান করা মা-বাবার কর্তব্য। পাশাপাশি স্কুলেরও দায়িত্ব রয়েছে এসব বিষয়ে। স্কুলের বইয়ের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে যে অধ্যায় রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়াতে হবে এবং শিক্ষকদেরও এসব বিষয়ে জানতে হবে। নিজের সন্তানের মতো মনে করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দেবেন এবং সাবধান করবেন, যেন তারা কোনো ধরনের বিপদে না পড়ে। এসব বিষয়ে জানানোর মাধ্যমে কিশোরীটিকে একটি নিরাপদ শৈশব দেওয়ার প্রচেষ্টা সবারই করতে হবে।
লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের ১৫০ দিনের কর্মসূচি
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস ও মাস উপলক্ষে ১৫০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম। আজ সোমবার বিকেল ৩টায় ধানমন্ডি ৬ নম্বর রোডে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ৬ তলায় গেরিলা কমান্ডার মেজর হায়দার বীরউত্তম মিলনায়তনে এ কর্মসূচি ঘোষণা হয়।
বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের উদ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশে ১০ অক্টোবর স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাথমিক অবস্থাতে নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ এই কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য। ঢাকা ও সারাদেশের জেলা-উপজেলায় গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা ও সহজ বাংলায় প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ ইতোমধ্যে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
এ বছর ফোরামের ৪৬টি সংগঠন যৌথভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর বাইরে বিভিন্ন সংগঠন এককভাবে কর্মসূচি পালন করবে।

ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন আজ থেকে ১৫০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর গড়ে নতুন করে প্রায় ১৩ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত এবং ৬ হাজারের বেশি নারীর মৃত্যু হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি সুচিকিৎসা গ্রহণ করলে এটি আক্রান্ত শতকরা ৯৫ ভাগ রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব।’ অনুষ্ঠানে গৃহীত কর্মসূচির ১০টি মূল লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জন হপকিন’স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রখ্যাত প্রজনন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, সিওসি ট্রাস্টের প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট নারী অধিকার নেত্রী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি শিরীন পারভীন হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুশতাক ইবনে আয়ুব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রশিকার প্রধান নির্বাহী মো. সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহ উদ্দিন শাকের, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম ও সদ্য সাবেক চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা গোল্ডেন সিটির প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মোশাররফ হোসেন ও পাস্ট প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আফতাবুজ্জামান, ইনার হুইল ক্লাব অব গুলশান লেক সিটির প্রেসিডেন্ট আইভি মামুন, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সম্মানী অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান, সাংবাদিক ও লেখক আসিফ নবীসহ স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অলাভজনক বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বর্ষায় ‘কে ক্র্যাফট’- এর আয়োজন
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বর্ষায় বৃষ্টি ভেজা ফুল, কখনো ধূসর নীল-আবার কখনো উজ্জ্বল নীল আকাশ, সুবাসিত বাতাস ইত্যাদি আমাদের মোহিত ও শিহরিত করে। প্রকৃতিতে থাকে সবুজের সমারোহ। সবুজ আর নীল রং মিলে তৈরি করে বিশেষ আমেজ। ব্যস্ত নগরীও যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে বৃষ্টির স্পর্শে।

বর্ষায় কখনও আকাশ কালো করা ঘন মেঘের আনাগোনা আবার কখনও ঝরঝর বৃষ্টি। তাই বলে সারাদিন ঘরে বসে থাকা যায় না। প্রয়োজনে, কাজে-কর্মে ঘরের বাইরে যেতেই হয়। তাই কে ক্র্যাফট নিয়ে এসেছে বৃষ্টি মৌসুমের উপযোগী ও আরামদায়ক নতুন পোশাক। রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট এবং শিশুদের পোশাক।সম্পূর্ণ পরিবারের জন্য মিলিয়ে পরার কাপড়ও থাকছে।
এই সময়ের ভ্যাপসা গরম, নাভিশ্বাস ওঠা আর্দ্রতা ও বৃষ্টি- এ তিনটি বিষয় ‘কে ক্র্যাফট’-এর বর্ষার পোশাকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যাতে যিনি পরবেন, তিনি স্বস্তি পান।

গরম আবহাওয়ার বর্ষাকালে, সময় উপযোগী কাপড়- কটন, ভয়েল, হাফ সিল্ক, ডুয়েল টোন ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে। পরিশীলিত কাজের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, টাই এন্ড ডাই, মেশিন ও হাতের এম্ব্রয়ডারি। বেছে নেওয়া হয়েছে সাদা, নীল, আকাশী, পেস্ট সবুজ ও অ্যাশ রংয়ের বিভিন্ন শেড।

এবারের বর্ষার পোশাক কালেকশন এখন পাওয়া যাচ্ছে ‘কে ক্র্যাফট’- এর সকল আউটলেট ও অনলাইন ষ্টোর- এ । এ ছাড়াও kaykraft.com-এর ফেসবুক পেজ থেকেও অর্ডার করা যাবে।
কিশোরীর ঋতুস্রাব : পরিবারের ভূমিকা কী ?
ডা. হালিদা হানুম আখতার
একজন কিশোরীর জীবনে ঋতুস্রাব বা মাসিক হওয়াটা একটি বড় ব্যাপার। যারা এই বয়সটি পার করেছেন, তারা জানেন বিষয়টি কেমন। ঋতুস্রাব হওয়ার আগেই কিশোরী মেয়েটিকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। ঋতুস্রাবের সময়টিতে মা-বাবা বা পরিবারের একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতিতে মায়ের ভূমিকা
ঋতুস্রাব হওয়ার আগেই মেয়েটিকে জানাতে হবে এ ধরনের একটি ঘটনা তার জীবনে ঘটবে। তাকে শেখাতে হবে, এটি হলে কীভাবে সে ব্যবস্থাপনা নেবে। তার ব্যথা হতে পারে। তাকে পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করতে হবে। স্যানিটারি প্যাড আগে থেকে বাড়িতে কিনে রাখবে। এটির সঙ্গে সে পরিচিত হবে। এটিকে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেটি জানবে। এগুলো কিন্তু প্রস্তুতির বড় অংশ। এগুলো মায়ের ভূমিকা। অথবা বড় বোন থাকলে সে-ও কিশোরীকে বুঝিয়ে বলতে পারে।
বাবার ভূমিকা
এই প্রস্তুতিতে বাবারও বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বাবা নিশ্চিত হবে, মা মেয়েটিকে জরুরি তথ্যগুলো দিচ্ছে কি না। বাবা স্যানিটারি নেপকিন কেনার টাকাটা দেবে। মেয়েটি যেন একটি সাহস ও শক্তি নিয়ে বাড়ির মধ্যে তার বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তনটি সহজে আত্মস্থ করতে পারে, সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে হবে। এই বিষয়গুলো করতে পারলে একজন কিশোরী নিরাপদে তার বয়ঃসন্ধির সময়টুকু পার করতে পারবে।
লেখক :
রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ


