বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস : কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব দিন
অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনা. (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলাম
আজ ১০ অক্টোবর, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে এই দিনটি। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‘It is the time to prioritize mental health in workplace’। অর্থাৎ কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এখনই সময়।
আমরা প্রত্যেকেই কর্মজীবী এবং জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকি। এটি আমাদের জীবন ও জীবিকার নির্ভরযোগ্য স্থান। কাজের মাধ্যমে নিজে বাঁচি এবং পরিবারকে বাঁচাই। কর্মক্ষেত্র সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। আর কর্মক্ষেত্র নিরাপদ করার একটি প্রধান অংশ হলো মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া।
কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা জরুরি কেন?
মন ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে মানুষের কর্মস্পৃহা, কর্মোদ্দীপনা বিনষ্ট হয়ে যায়। মানুষ হয়ে পড়ে কর্মহীন ও কর্মচ্যুত। হারায় তার কাজ (চাকরি)। এতে ব্যক্তি ও তার পরিবারের জীবনে নেমে আসে অমানিশার কালোরাত্রি। পৃথিবীতে শুধু উদ্বিগ্নতা (Anxiety) ও বিষণ্নতা (Depression) – এর কারণে প্রতি বছর ১২ বিলিয়ন কর্মদিবস নষ্ট হয়।
কাজের ক্ষেত্রে অসহযোগিতা যেসব মানসিক সমস্যা তৈরি করে
কোনো কোনো কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে (যেমন : হয়রানি, বুলিং, অপদস্ততা, অসহযোগিতা) মানুষের মনে প্রচুর চাপের সৃষ্টি হয়। এতে তার মাঝে সৃষ্ট হয় হীনমন্যতা, মানসিক চাপজনিত সমস্যা, উদ্বিগ্নতা (Anxiety), বিষণ্নতা (Depression), মাদকাসক্তি, ব্যক্তিত্ব সমস্যা ও অন্যান্য গুরুতর মানসিক রোগ। এসব রোগ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা তৈরি করতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে এসব মানসিক প্রতিকূলতা একজন ব্যক্তি ও পরিবারকে পথে নামিয়ে দিতে পারে। বিষয়টি আমাদের দেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে একটি পরিবারে সাধারণত এক বা দুইজন কার্মজীবী মানুষ থাকে।
সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন ও নিশ্চয়তা বিধান ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও কর্মক্ষেত্রে সবার সহমর্মিতা ও সহাযোগিতার হাত প্রসারিত করা।
কর্মক্ষেত্রে সুন্দর মানসিক স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তার জন্য করণীয়
- মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সবার ইতিবাচক মনোভাব।
- কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের একে অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিয়ম, আলাপ-আলোচনা, খাবার গ্রহণ, পারিবারিক বন্ধন সৃষ্টির মাধ্যমে মনের কষ্টগুলো দূর করা যেতে পারে।
- সহকর্মীর প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ।
- সহকর্মীরা একে অপরের বন্ধু হবেন, যাতে একে অন্যের সাহায্য গ্রহণে দ্বিধান্বিত না হন।
- কোনো সহকর্মীকে বুলি, হেনস্তা, অপমান, অপদস্ত, ছোটজ্ঞান না করা।
- সহকর্মীর দুঃখ-কষ্ট, বেদনাকে শেয়ার করা ও সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা।
- কর্মক্ষেত্রে কিছু বিনোদন, সাংস্কৃতিক চর্চা, সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
- সম্ভব হলে সহকর্মীর মাঝে মানসিক রোগের লক্ষণ দেখা গেলে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।
- একটি সুস্থ জীবনের জন্য একটি সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ অপরিহার্য। আমাদের মানসিক চাপ মুক্ত থাকা, হাসিখুশি থাকাসহ একে অপরের সহমর্মী হওয়া প্রয়োজন। এতে কর্মজীবী বাঁচবে, বাঁচবে তার পরিবার।
লেখক : ব্রিগেডিয়ার জেনা. (অব.)
স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে কী করবেন?
ডা. হালিদা হানুম আখতার
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এক লাখ নারীর মধ্যে ২২ জনের ক্যানসার হতে পারে। আবার যেসব নারী প্রজনন স্বাস্থ্যের মধ্যে রয়েছেন, ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত, এদের মধ্যে এক লাখে ২০ জনের হচ্ছে। আরেকটু ছোট সংখ্যায় দেখলে প্রতি পাঁচ হাজারের মধ্যে একজন এ সমস্যায় ভুগছে।
এ সমস্যায় আমি-আপনি যে কেউ ভুগতে পারি। তাই স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে আমাদের যথাযথ জ্ঞান থাকতে হবে। কীভাবে এটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং অল্পতে বাঁচা যায়, জানতে হবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
তিনভাবে পরীক্ষা করতে হবে। একটি হলো আপনি নিজেই নিজের প্রাথমিক ডাক্তার। সেটা হলো যখন গোসল করছেন, ব্লাউজ পরছেন, তখন নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করুন। যখনই দেখবেন কোথাও গোটা বা বিচির মতো হয়েছে, ব্যথা হচ্ছে বা বোঁটা একটু বাঁকা হয়েছে, তখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। এগুলো আমরা সাধারণত এড়িয়ে যাই। এগুলো খুব খেয়াল করতে হবে। অবহেলা একদমই করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, আপনি চিকিৎসক দেখালেন। তিনি ভালো করে ক্লিনিক্যালই চেকআপ করে দেখলেন কোনো সমস্যা নেই বা আছে। আপনাকে পরবর্তী একটি পরীক্ষা করতে দিতে পারেন, যেটি করে আপনি নিশ্চিত হবেন যে সমস্যা আসলেই রয়েছে কিনা।
একটু ভালোভাবে পরীক্ষা করে নির্ণয় করতে গেলে ডাক্তার ম্যামোগ্রাফি বা আলট্রাসনোগ্রাম দিতে পারেন। এতে আরও ভালো করে জানা যায়। তৃতীয়ত, বড় কোনো সন্দেহ থাকলে একটু বায়োপসি করতে হয়।
যত আগেভাগে আমরা এই ক্যানসার নির্ণয় করতে পারব, তত ভোগান্তি কম হবে, সংসারের খরচও বাঁচবে। চিকিৎসককে সময়ও কম দিতে হবে এবং আপনার কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে। তবে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সবারও এ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। সবাইকে এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে।
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে করণীয়
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মা সন্তানকে ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ পান করালে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। এর দুটো কারণ রয়েছে। একটি হলাে আমরা জানি, দেহে ইস্ট্রোজেন বেশি হলে স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়ে। যখন শিশুকে বুকের দুধ পান করানো হয়, তখন অনেক সময় মাসিক বন্ধ থাকে। এ সময় দেহে ইস্ট্রোজেন কম আসে। ক্যানসার প্রতিরোধ হয়। এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। এটি একেবারেই প্রমাণিত।
আরেকটি হলো আগেভাগে বা শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা। আপনাকে সচেতন হয়ে আগেই রোগ নির্ণয় করতে হবে। তাহলেই ভোগান্তি কমবে।
স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে এখনও কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই সচেতনতা খুব জরুরি। সর্বোপরি স্ক্রিনিং করতে হবে এবং পরিবারের মানুষকে সচেতন হতে হবে।
লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস : স্তন ক্যানসার নির্ণয়ে করণীয়
ডা. হালিদা হানুম আখতার
আমরা একটি বিষয়ে আজকাল খুব শঙ্কিত। যত দিন যাচ্ছে, তত জানতে পারছি, ক্যানসার মানুষের বেশি হচ্ছে। কারণ যা-ই হোক, এটি বাড়ছে।
একটি বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে, নারীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে যেসব অঙ্গ রয়েছে, যেমন– জরায়ু, জরায়ুমুখ ও স্তন ইত্যাদিতে ক্যানসার হয়। এসব অঙ্গে এই রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি।
সাধারণত নারী দেহের মধ্যে স্তনে সবচেয়ে বেশি ক্যানসার হয়। এরপর হয় জরায়ুমুখে। তৃতীয় হয় জরায়ু বা ওভারিতে। আমরা আজ নারীর স্তন ক্যানসার নির্ণয়ের বিষয়ে আলোচনা করব।
সারাবিশ্বে অক্টোবর মাসকে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। বাংলাদেশে ১০ অক্টোবর স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস বেসরকারিভাবে পালন হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় এক লাখে ২২ জনের এই রোগটি হতে পারে। আর যেসব নারী প্রজনন স্বাস্থ্যের মধ্যে রয়েছেন, অর্থাৎ যাদের ১৫ থেকে ৫৫ বছর, তাদের এক লাখে ২০ জনের এই ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাহলে প্রতি পাঁচ হাজার নারীর মধ্যে একজনের এই রোগ হচ্ছে।
স্তন ক্যানসার বেড়ে গেলে অনেক ভোগান্তি হয়। মেটাস্টিসিস হয়ে যায়; অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ক্যানসার নিজে ও চিকিৎসকের পরীক্ষার মাধ্যমে আগে বা প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা যেতে পারে। একে স্ক্রিনিং বলে।
এর মধ্যে প্রথমে নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করা। আপনি হয়তো গোসল করছেন, গা মুছছেন; তখন খেয়াল করে দেখবেন বা নিজের স্তনকে পরীক্ষা করে দেখবেন, ভেতরে কোনো গোটা রয়েছে কিনা। গোটা বা অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
একে আমরা ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন বলি। তখন চিকিৎসক আপনাকে ভালো করে পরীক্ষা করে বলবেন, ‘এখানে আসলেই গোটা লাগছে। এটা অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।’ অনেক সময় হয়তো বায়োপসি করে দেখতে হতে পারে, ওই জায়গায় আসলেই কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা।
ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে যেটা হয়, চট করে চিকিৎসা দেওয়া যায়। গোটাটাকে সার্জারি করে ফেলে দেওয়া সম্ভব। এতে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন।
তবে অবহেলা করলে, রোগ বেড়ে গেলে, অবস্থা চিকিৎসার বাইরে চলে যাবে। তাই শুরুতেই সচেতন হতে হবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ থাকতে পারবেন।
লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
পূজার সাজে খেয়াল রাখুন ৭ বিষয়
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
এবারের পূজার সময়ের আবহাওয়া গরম-বৃষ্টি মিলিয়ে। তাই মেকআপের সময় কিছু বাড়তি সতর্কতা নেওয়া জরুরি। পূজার সময় মেকআপে ক্ষেত্রে খেয়াল রাখা প্রয়োজন, এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছে রূপবিশেষজ্ঞ ও রূপায়ন বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী শিউলি আক্তার।
- এই সময় আবহাওয়া যেহেতু একটু অস্বাভাবিক। এই বৃষ্টি, এই গরম- তাই মেকআপের আগে অবশ্যই প্রাইমার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ত্বক আর্দ্র থাকবে এবং প্রাইমার মেকআপকে ভালোমতো বসতে সাহায্য করবে।
- বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানব্লক বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। কেবল মুখেই নয়, হাতে ও গলায়ও মাখুন।
- যাদের রোদে বের হলে দ্রুত সানবার্ন হয়, তারা খুব বেশি মেকআপের দিকে না গিয়ে, সানব্লক লাগিয়ে এর ওপর ফেস পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এতেও একটা স্নিদ্ধ লুক আসবে।
- যাদের ত্বকে ব্রণ বা মেছতার দাগ বেশি থাকে, তারা মেকআপের আগে প্রাইমার তাে ব্যবহার করবেনই, পাশাপাশি গাঢ় করে কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন। এরপর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।
- মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী রাখার জন্য অবশ্যই সেটিং স্প্রে ব্যবহার করতে হবে।
- যাদের ত্বক অনেক তৈলাক্ত তারা মেকআপের আগেই সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন। সেটিং স্প্রে দিয়ে পাঁচ মিনিট রাখুন। এরপর প্রাইমার লাগিয়ে আরো পাঁচ মিনিট রেখে মেকআপ করুন।
- যেহেতু সময়টা রোদ-বৃষ্টির, তাই পূজার সময় চুল মলিন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটি সুন্দর রাখতে ভালো মানের সিরাম ও কন্ডিশার ব্যবহার করা জরুরি। এতে চুল ঝরঝরে থাকবে।
দুর্গাপূজায় পাঁচ ধরনের স্টাইলিশ শাড়ি
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
দুর্গাপূজার মূল আকর্ষণ ষষ্ঠী থেকে দশমি- প্রতিমা বিসর্জনের দিন পর্যন্ত। এই উৎসবে সাজ-পোশাক একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে। পোশাকের ক্ষেত্রে জিন্স, টপস, সালোয়ার-কামিজ যা-ই পরুন না কেন বাঙালির দুর্গোৎসবে শাড়িই শ্রেষ্ঠ। এটি নারীকে অনন্য করে তোলে।
এবারের দুর্গোৎসবে পরতে পারেন এমন কিছু শাড়ির ধারণা দিয়েছে টাইমসঅবইন্ডিয়া। এগুলো পরলে আকর্ষণীয়তো লাগবেই, পাশাপাশি ঐতিহ্যপূর্ণও মনে হবে।
লাল পাড়ে সোনালী বেনারসি

উৎসব বা পার্বনে বেনারসি শাড়ি আভিজাত্যের আমেজ আনে। লাল বা মেরুন রঙের পাড়, এতে সোনালী সুতোর কাজ, আর শাড়ির ভেতরের অংশ সোনালী বা অফহোয়াইট। এই ধরনের কাপড় পরলে যে কাউকেই মানানসই লাগে। রাতে বা দিনে যেকোনো সময়ই এই শাড়ি আপনাকে আকর্ষণীয় লুকও দেবে।
বাঙালির বিশেষ ঐতিহ্য লাল পাড়ে সাদা শাড়ি

দুর্গাপূজার ভাবগাম্ভীর্যকে পুরোপুরো প্রকাশ করতে পরতে পারেন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। বিসর্জনের সিঁদুর খেলার দিন পরনে এই শাড়ি আপনাকে করে তুলবে অনন্য সুন্দর।
সোনালী পাড়ে কালো কাঞ্জিভরম

কালো শাড়িতে, সোনালী পাড় এবং পাড়ে এমব্রয়ডারির কাজ, একটি ভীষণ ঐতিহ্যপূর্ণ ও আভিজাত লুক দেবে। অষ্টমী বা নবমির যেকোনো রাতে বেছে নিতে পারেন এই রকম একটি স্টাইলিশ শাড়ি।
কমলা পাড়ে মেজেন্টা শাড়ি

পূজার সময়টিকে আরো উৎসবপূর্ণ আমেজ দিতে মেজেন্টা বা রাণী গােলাপির সঙ্গে কমলা বা হলুদ পাড়ের সংমিশ্রণের শাড়ি পরতে পারেন। রাতে বা দিনে যেকোনো সময়ই এই শাড়িতে স্নিগ্ধ লাগবে।
নরম হালকা রঙের তাঁতের শাড়ি

বাঙালির পোশাকে তাঁতের শাড়ি এক অনন্য জায়গায় জুড়ে রয়েছে। দুর্গোৎসবের বিশেষ দিনগুলোতে এই শাড়িও পরতে পারেন। পেস্ট, বিস্কিট, বাদামী বা গোলাপি রঙের বিচিত্র নকশার এই তাঁতের শাড়ি আপনাকে করে তুলবে শুভ্র আবেদনময়ী।
পূজার রেসিপি : মাটন কারি
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
দুর্গা পূজার আনন্দটা অন্যরকম। ষষ্ঠী থেকে দশমি, ঢাকের বোল থেকে সিঁদুর খেলা সবই ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে। এই সময় ভূরিভোজ হওয়া তো চাই -ই। মজাদার খাবার না হলে কি আর উৎসব জমে ? তাই, সাতকাহন২৪.কমের পাঠকদের জন্য রইল পূজার বিশেষ রেসিপি মাটন কারি।
উপাদান
- খাসির মাংস – ১ কেজি
- আদা বাটা – ২ টেবিল চামচ
- রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ
- সয়াবিন তেল – ১ কাপ
- টক দই – আধা কাপ
- হলুদ গুঁড়া – দেড় টেবিল চামচ
- মরিচ গুঁড়া – ১ টেবিল চামচ
- ধনিয়া গুঁড়া – ১ টেবিল চামচ
- জিরা গুঁড়া – আধা টেবিল চামচ
- আস্ত এলাচ – ৪টি
- দারুচিনি – ৪ টুকরাে (ছোট)
- পেঁয়াজ কুচি – আধা কাপ
- পেঁয়াজ বাটা – আধা কাপ
- টমেটো সস – ১ টেবিল চামচ
- এলাচ গুঁড়া – ১/৪ টেবিল চামচ
- দারুচিনি গুঁড়া – ১/৪ টেবিল চামচ
- লবণ – স্বাদমতো
প্রণালি
একটি পাত্রে খাসির মাংস নিন। এতে পরিমাণমতো আদা বাটা, রসুন বাটা, সয়াবিন তেল, টক দই, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও লবণ দিয়ে এক ঘণ্টা মাখিয়ে রাখুন। এবারে চুলায় কড়াই বা প্যান বসিয়ে সয়াবিন তেল ঢালুন। তেল গরম হয়ে এলে এতে একে একে দারুচিনি, পেঁয়াজ কুচি ও পেঁয়াজ বাটা দিন। ভালো করে ভাজা হয়ে আসলে মাখানো মাংসটুকু ঢালুন। মাংস ভালোভাবে কষে আসলে অল্প টমেটোর সস দিতে হবে। এবার ঢাকনা দিয়ে ৩৫ মিনিট সিদ্ধ করুন। মাংস সিদ্ধ হয়ে এলে সামান্য চিনি ও ঘি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু মাটন কারি।
রেসিপি দিয়েছেন :

মিথিলা ঘোষ, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার (ঢাকা)-এর তালিকাভুক্ত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী।
প্রাক্তনকে মনে পড়ে? ‘মুভ অন’ করবেন যেভাবে
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
মিলনের মতো, বিচ্ছেদ বা বিরহও জীবনের অংশ। তবুও কিছু মানুষ থেকে যায় মন ও মস্তিষ্ক জুড়ে। আর এসব অনুভূতি শেকলের মতো পেছনে টেনে নেয় মানুষকে।
অনেকের ক্ষেত্রে ছেড়ে দেওয়া বা মুভ অন করা সহজ হলেও, কেউ কেউ পুরোনো স্মৃতিতেই বাঁধা পড়ে থাকে। তবে যতই মনে পড়ুক না কেন, মানুষটি সত্যিই আপনার জন্য মঙ্গলজনক না হলে মুভ অন তো করতেই হয়। প্রাক্তনকে ভুলে জীবনে চলার পথে সামনে এগিয়ে যাবার কিছু উপায় বাতলেছে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ফেসবুকপেইজ স্ট্র মাইন্ডসেট। চলুন জানি-
যোগাযোগ বন্ধ করে দিন
প্রাক্তনকে মাঝে মাঝে টেক্সট পাঠানো, ফোন করা বা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুঁ মারা কখনোই আপনাকে মানুষটির কাছ থেকে বের হতে দেবে না। এটি ক্ষত না শুকাতেই বার বার খুঁচিয়ে মনের রক্ত ঝরাবার মতো অবস্থা। তাই, সত্যিই তার স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে এসব বন্ধ করুন।
কী হতে পারতো, ভুলে যান
সম্পর্কে কিছু ভুল তো ছিলই, তাই- তো সে আজ প্রাক্তন। তাই, তাকে আসলেই ভুলতে চাইলে, কী হতে পারতো, কী হয়নি- এসব চিন্তা বাদ দিন। বাস্তবমুখী হন; সামনের দিকে তাকান। মানুষটিকে মনে পড়তে থাকলে, অন্য দিকে ফোকাস করুন। না, এখানে অন্য কারো দিকে ফোকাস করার কথা বলা হয়নি। একটি সম্পর্ক শেষ হতে না হতেই আরেকটিতে জড়িয়ে পড়াও কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সময় নিন। নিজের দিকে খেয়াল রাখুন ; নিজেকে সম্বৃদ্ধ করুন।
ক্ষমা করুন
যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাক্তনকে ক্ষমা না করতে পারবেন ততক্ষণ সে আপনার মস্তিষ্কে থেকে যাবে। ক্ষমায় কিছু হোক বা না হোক, তার ভাবনাগুলো থেকে নিজের মস্তিষ্ককে মুক্তি দিতে পারবেন। না হলে বেদনাদায়ক স্মৃতিগুলো আপনাকেই পোড়াবে।
সর্বপোরি, তাকে মুক্তি দিয়ে আবেগীয় শেকল থেকে নিজে মুক্ত হন। সে ক্ষমার যোগ্য এই জন্য ক্ষমা করছেন বিষয়টি এমন নয়। তাকে ক্ষমা করবেন নিজের শান্তির জন্য।
জোর করে আঁকড়ে রাখাই ভালোবাসা নয়
কথায় বলে, যাকে ভালােবাসো তাকে ছেড়ে দাও। উড়তে দাও মুক্ত পাখির মতো। ফিরে এলে সে তোমার। না হলে কখনোই তোমার ছিল না। আসলে ভালোবাসা কেবল আঁকড়ে ধরা বা অস্থিরতা দেখানাের মধ্যে থাকে না, এটি রয়েছে ছেড়ে দেওয়ার ভেতরেও। এটি বুঝতে শিখুন। মন ও মস্তিষ্ক সব জায়গা থেকেই তাকে বিদায় দিন। মনে মনে বলুন, ‘ছেড়ে দিলাম, যেতে দিলাম’। যে আপনার নয়, তাকে যেতে দেওয়াই তো মানসিক পরিপক্বতা। তাই নয় কি ?


