Wednesday, May 13, 2026
spot_img
Homeস্বাস্থ্যকাহননারী স্বাস্থ্যস্তন ক্যানসার প্রতিরোধে কী করবেন?

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে কী করবেন?

ডা. হালিদা হানুম আখতার

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এক লাখ নারীর মধ্যে ২২ জনের ক্যানসার হতে পারে। আবার যেসব নারী প্রজনন স্বাস্থ্যের মধ্যে রয়েছেন, ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত, এদের মধ্যে এক লাখে ২০ জনের হচ্ছে। আরেকটু ছোট সংখ্যায় দেখলে প্রতি পাঁচ হাজারের মধ্যে একজন এ সমস্যায় ভুগছে।

এ সমস্যায় আমি-আপনি যে কেউ ভুগতে পারি। তাই স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে আমাদের যথাযথ জ্ঞান থাকতে হবে। কীভাবে এটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং অল্পতে বাঁচা যায়, জানতে হবে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
তিনভাবে পরীক্ষা করতে হবে। একটি হলো আপনি নিজেই নিজের প্রাথমিক ডাক্তার। সেটা হলো যখন গোসল করছেন, ব্লাউজ পরছেন, তখন নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করুন। যখনই দেখবেন কোথাও গোটা বা বিচির মতো হয়েছে, ব্যথা হচ্ছে বা বোঁটা একটু বাঁকা হয়েছে, তখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। এগুলো আমরা সাধারণত এড়িয়ে যাই। এগুলো খুব খেয়াল করতে হবে। অবহেলা একদমই করা যাবে না।

দ্বিতীয়ত, আপনি চিকিৎসক দেখালেন। তিনি ভালো করে ক্লিনিক্যালই চেকআপ করে দেখলেন কোনো সমস্যা নেই বা আছে। আপনাকে পরবর্তী একটি পরীক্ষা করতে দিতে পারেন, যেটি করে আপনি নিশ্চিত হবেন যে সমস্যা আসলেই রয়েছে কিনা।

একটু ভালোভাবে পরীক্ষা করে নির্ণয় করতে গেলে ডাক্তার ম্যামোগ্রাফি বা আলট্রাসনোগ্রাম দিতে পারেন। এতে আরও ভালো করে জানা যায়। তৃতীয়ত, বড় কোনো সন্দেহ থাকলে একটু বায়োপসি করতে হয়।

যত আগেভাগে আমরা এই ক্যানসার নির্ণয় করতে পারব, তত ভোগান্তি কম হবে, সংসারের খরচও বাঁচবে। চিকিৎসককে সময়ও কম দিতে হবে এবং আপনার কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে। তবে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সবারও এ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। সবাইকে এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে।

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে করণীয়
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মা সন্তানকে ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ পান করালে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। এর দুটো কারণ রয়েছে। একটি হলাে আমরা জানি, দেহে ইস্ট্রোজেন বেশি হলে স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়ে। যখন শিশুকে বুকের দুধ পান করানো হয়, তখন অনেক সময় মাসিক বন্ধ থাকে। এ সময় দেহে ইস্ট্রোজেন কম আসে। ক্যানসার প্রতিরোধ হয়। এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। এটি একেবারেই প্রমাণিত।

আরেকটি হলো আগেভাগে বা শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা। আপনাকে সচেতন হয়ে আগেই রোগ নির্ণয় করতে হবে। তাহলেই ভোগান্তি কমবে।

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে এখনও কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই সচেতনতা খুব জরুরি। সর্বোপরি স্ক্রিনিং করতে হবে এবং পরিবারের মানুষকে সচেতন হতে হবে।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.