Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 27

তামাক সেবনের ক্ষতি কী?

ডা. হালিদা হানুম আখতার

আমরা একটা কথা ইংরেজিতে খুব শুনে থাকি। সেটি হলো, Tobacco kills half of its users। এর মানে তামাক এমন একটি জিনিস, যা এর ব্যবহারকারীর অর্ধেককে মেরে ফেলে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কেন এই কথা বলা হচ্ছে? আজ আমরা সেটিই আলোচনা করবো, তামাক এতো প্রাণঘাতী কেন?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাটা দেখলে দেখা যাবে, পাঁচ জনের মধ্যে একজন মারা যাচ্ছে ধূমপানের কারণে। একটি কথা আমরা বলি, সেটি হলো, তামাক প্রায় দেহের প্রতিটি অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ব্যক্তির রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। দেহের সব অঙ্গে যত রকম রোগ হয়ে থাকে, প্রায় সবকটির প্রকোপ সে বাড়ায়।

ফুসফুসের রোগ বাড়ায়
প্রথমেই জানাতে চাই, ধূমপান ফুসফুসের কী ক্ষতি করে? প্রায় ৯০ শতাংশ ধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার হয়। এই ক্যানসারে প্রতি বছর পুরুষের তুলনায় আবার নারী বেশি মারা যাচ্ছে। অনুন্নত দেশে তামাক সেবন বেশি। অনুন্নত দেশে ফুসফুসের ক্যানসার, একই কারণে বেশি। সুতরাং এই ক্যানসার একটি বড় বিষয়।

আরেকটি হলো, সিওপিডি। ক্রনিক অবসট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। ৮০ শতাংশ ধূমপায়ীদের মধ্যে রোগটি হচ্ছে। সিওপিডি ফুসফুসের কষ্টের একটি বিষয়। এই রোগ নারী ও পুরুষ উভয়েরই হয়। এতে ফুসফুসের যে নালী রয়েছে বা অ্যালভিওলাই রয়েছে- যেখানে বাতাস যাওয়া-আসা করে- সেগুলোর লেয়ার নষ্ট হয়ে যায় বা সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে অঙ্গটির কাজ ভালোভাবে হয় না। ফুসফুসের মধ্যে সমস্যা হয়ে যায়।

হার্টের রোগ বাড়ায়
ধূমপান হার্টের রোগকে বাড়িয়ে দেয়। যারা তামাক সেবন করে, তাদের করোনারি হার্ট ডিজিজ দুই থেকে চারগুণ বেশি হয়।

স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়
স্ট্রোকের বিষয়টিও ঘটে তামাক গ্রহণের কারণে। যারা ধূমপায়ী তাদের মধ্যে দুই থেকে চারগুণ বেশি স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে।

অ্যাজমা অ্যাটাক বাড়ায়
অন্যদিকে যাদের অ্যাজমা অ্যাটাকের সমস্যা রয়েছে, তামাক গ্রহণ তাদের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি আরো বাড়ায়। ধূমপানের কারণে অ্যাজমা অ্যাটাক ঘন ঘন হতে পারে, রোগমুক্তির সম্ভাবনা কমতে পারে।

হাড়ের রোগ বাড়ায়
এ ছাড়া তামাক গ্রহণ আমাদের হাড়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। হাড়কে ভঙ্গুর করে দিচ্ছে। অস্টিওপরোসিস বাড়াচ্ছে। মেনোপজের পরে নারীর মধ্যে এই সমস্যা এমনিতেই বেশি দেখা যায়। এর ওপর সে তামাক ব্যবহার করলে, এর ঝুঁকি বাড়ে।

দাঁতের রোগ বাড়ায়
তামাক দাঁতের ক্ষতি করে। দাঁত আলগা করে দিচ্ছে। মাড়ির স্বাস্থ্যকে নষ্ট করছে। মুখে গন্ধ হচ্ছে। সুতরাং তামাক গ্রহণ দাঁতের স্বাস্থ্যকেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দেখা যাচ্ছে, যারা ধূমপান করে তাদের দাঁত দ্রুত পড়ে যাচ্ছে।

চোখের রোগ বাড়ায়
তামাক গ্রহণ চোখেরও ক্ষতি করে। একটা বয়সের পড়ে চােখে ছানি হয়। তবে দেখা যাচ্ছে, যারা ধূমপায়ী তাদের ছানি বয়সের আগেই হচ্ছে। এর মানে ধূমপান চোখের ছানির সমস্যা বাড়াচ্ছে।

অপরদিকে, চোখের মধ্যে আরেকটি বিষয় হয়। সেটি হলো ম্যাকিউলার ডিজেনারেশন। এর কারণে বেশি বয়সের আগেই অন্ধত্ব বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস বাড়ায়
আমরা জানি, ডায়াবেটিসের প্রকোপ বর্তমানে খুবই বেড়েছে। যারা ধূমপায়ী, তাদের এই সমস্যাটি বেশি হয়।

দেহের সংক্রমণ বাড়ায়
তামাক গ্রহণকারীদের সারা দেহে সংক্রমণ বা প্রদাহ বেশি হয়। তাদের সংক্রমণ হলে, সারতে সময় লাগে। প্রদাহ হলেও সহজে ভালো হতে চায় না। এতে ভোগান্তি বেড়ে যায়। চিকিৎসার খরচ বাড়ে।

ত্বক ও চুলে ক্ষতি বাড়ায়
গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক গ্রহণকারী ব্যক্তিরা কানে কম শোনে। অনেকের চুল পড়ে যায়। অনেকের আবার চামড়ায় সংক্রমণ হয়। সুতরাং ধূমপানের কারণে কয়েকভাবেই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধূমপানের কারণে রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং রোগ নিরাময় হতেও দেরি হয়।

বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়ায়
এ ছাড়া ধূমপান নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। দেখা যাচ্ছে, নারীর জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। নারী ওভারি ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ছে। ওভারির কার্যক্রম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সন্তান হচ্ছে না।

আরেকটি বিষয় আমরা দেখতে পাই বন্ধ্যত্ব। এটি নারীর কারণে হচ্ছে। তার ওভারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এমন হয়। আবার পুরুষের কারণেও হচ্ছে। পুরুষের স্পার্ম অকেজো হয়ে যাচ্ছে, সময়ের আগে। স্পার্মের আকৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর গুণগত মান ঠিক থাকছে না। তাই পুরুষ ও নারীর উভয়ের কারণেই বন্ধ্যত্ব হচ্ছে। এ ছাড়া তামাক গ্রহণের কারণে দেহের হাত ও পায়ের যে সমন্বয় সেটি কমে যায়।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, তামাক দেহের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধূমপান সম্পূর্ণ দেহকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। এটি খুব শঙ্কার বিষয়।

আর রোগ হলেই তো আপনাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। টাকা খরচের প্রয়োজন পড়বে। সবাই তো আর অত ধনী বা বড়লোক নয়, যে সেবা নিতে পারবে। তখন সেবা না নিতে পারলে তার মৃত্যু আরো এগিয়ে আসবে। সুতরাং দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বাঁচতে চাইলে তামাক গ্রহণ একদমই বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে অনেকটাই সুস্থভাবে বাঁচা সম্ভব।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

চোখের জন্য ভালো চার খাবার

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

চোখ দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে একটি। পৃথিবীর রঙগুলো সূক্ষ্মভাবে দেখতে এই চোখই আমাদের সাহায্য করে। এই অঙ্গটির কোনো সমস্যা হলে এর প্রভাব পড়ে আমাদের পুরো স্বাস্থ্যের ওপর। তবে সুখকর খবর হচ্ছে, প্রকৃতিতে এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো চোখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে উপকারী।

গাজর
নিশ্চয়ই শুনেছেন গাজর চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। কথাটি সঠিক। গাজরের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’। এটি চোখের জন্য জরুরি। এই ভিটামিন কর্নিয়ার স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সবুজ শাক-সবজি
চোখের জন্য সবুজ শাক-সবজিও উপকারী। সবুজ শাক-সবজির মধ্যে রয়েছে লুটিন ও জিএক্সএনথিন। এগুলো প্রাকৃতিক সানগ্লাসের মতো কাজ করে। সবুজ শাক-সবজির মধ্যে বিভিন্ন ভিটামিন থাকে। এগুলো চোখের জন্য ভালো।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ডিম
চোখ ভালো রাখতে ডিম খুবই উপকারী একটি খাবার। ডিমের কুসুমের মধ্যে লুটিন ও জিএক্সএনথিন থাকে। পাশাপাশি ডিমে উচ্চ পরিমাণ জিংক রয়েছে। এটি জিএক্সএনথিনকে ভালোভাবে কাজ করাতে সাহায্য করে।

ডিম ভিটামিন ‘এ’ ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিডের চমৎকার উৎস। এসব উপাদান চোখের জন্য ভালো। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, খাবারের মধ্যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকলে, এটি ড্রাই আই সিনড্রম প্রতিরোধে কাজ করে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সিট্রাস ফ্রুটস
সিট্রাস ফ্রুটস-এর মধ্যে কমলা অন্যতম। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’। ভিটামিন ‘সি’ শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এগুলো চোখকে প্রি রেডিক্যাল ডেমেজ থেকে প্রতিরোধ করে। এটি কোলাজেন তৈরিতেও উপকারী। কোলাজেন এমন একটি প্রোটিন, যেটি চোখের আকারকে ঠিক রাখে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সূত্র : হেলথআপ্টা

তামাক সেবনের প্রকোপ

ডা. হালিদা হানুম আখতার

আজ তামাক সেবন বা ধূমপান নিয়ে আলোচনা করবো। এটি জনস্বাস্থ্যের ওপর কী প্রকোপ ফেলে সেটি থাকবে আলোচনার মূল বিষয়।

আমরা যারা তামাক সেবন বিষয়ে কথা বলি, যারা ডাক্তার বা এর প্রতিরোধের সঙ্গে জড়িত আছি, তারা একে প্রাণঘাতী অভ্যাস বলে মনে করি। তো আজ সেটিই বলবো, কেন একে প্রাণঘাতী বলা হয়? এটি কীভাবে মানুষের প্রাণ নিয়ে চলে যায়।
কেন মৃত্যুটা সময়ের আগে হচ্ছে?

একজন মানুষের মৃত্যুর একটা বয়স বা সময় থাকে। তবে এই ধূমপান বা তামাক সেবনটা একজন মানুষকে মৃত্যুর দিকে একেবারেই ঠেলে দেয়। যেটা প্রি ম্যাচিউর ডেথ বা সময়ের আগেই মৃত্যু।

পৃথিবীর চিত্র
দেখা যাচ্ছে, সারা পৃথিবীতে ছয় মিলিয়ন মৃত্যু তামাকের কারণে হয়। এর মধ্যে দুই ধরনের তামাক গ্রহণ রয়েছে। একটি হচ্ছে সরাসরি সেবন বা ধূমপান করা। আরেকটি হলো, পরোক্ষ ধূমপান। আরেকজন খাচ্ছে বা একটি শিশুর বাবা খাচ্ছে, একজন স্ত্রীর স্বামী তার পাশে বসে খাচ্ছে। তখন সেই শিশুটি বা স্ত্রীটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। অর্থাৎ যে খাচ্ছে না, কেবল পাশে বসে রয়েছে সে-ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি পরোক্ষ ধূমপান।
দেখা যাচ্ছে, ধূমপানের কারণে ৬০ লাখের মৃত্যু হলে প্রায় ছয় লাখের মতো মারা যাচ্ছে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে। তাহলে এর প্রভাবটি সরাসরি ও পরোক্ষ দুটোভাবেই পড়ছে।

প্রতি ছয় সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু হচ্ছে তামাক সেবনের কারণে। এটা যেন চিন্তারও বাইরে। এই বিষয়টি অনেকেরই অজানা। আবার প্রতি ১০জন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির একজন তামাক সেবনের কারণে মারা যায়। ১০টি মৃত্যু ভিন্ন ভিন্ন কারণে হয়ে থাকলে অন্তত একটি মানুষ মারা যাচ্ছে তামাক সেবনের কারণে। তাহলে এটি রোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। আরো দেখা যাচ্ছে, যতজন ধূমপান করে তার অর্ধেক এই কারণটির জন্যই মারা যায়। ইংরেজিতে বলা হয়, Tobacco kills half of its users। এর মানে বোঝাই যাচ্ছে যে এটি মানুষের কত বড় প্রাণঘাতী অভ্যাস।

এটা দিয়ে কিন্তু পেট ভরে না। মানুষ মনে করে ধূমপান করলে মন ভালো হয় বা মনোযোগ আসে। এই যে একটি বাজে চিন্তা এবং এই চিন্তার জন্য আমরা যেই অভ্যাসটা করে রাখি, এটা প্রাণঘাতী অভ্যাস।

তামাক গ্রহণের এই অভ্যাস অনুন্নত ও উন্নতিকামী দেশে ৮০ শতাংশ। এর মানে যেসব দেশ গরিব বা গরিবের পর্যায়ে, এসব দেশের তামাক গ্রহণের চর্চা বেশি এবং তামাকের কারণে হওয়া মৃত্যুও বেশি।

মৃত্যুর অনেক কারণ রয়েছে। রোগ হলে তো সেবা লাগে। আর্থিক স্বচ্ছলতা লাগে। আমার ক্যানসার হলে এবং পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে আমি সেবা পাবো না। তাহলে তো মৃত্যু এগিয়ে আসবেই। সেই জন্য এসব বিষয় আমাদের ভালো করে জানতে হবে।

বাংলাদেশের চিত্র
বাংলাদেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে ৩৫.৩ শতাংশের বেশি তামাক ব্যবহার করে। সিগারেট পান, গুল খাওয়া, বিড়ি গ্রহণ ইত্যাদি বিভিন্নভাবে তামাক গ্রহণ করা হয়। ১০০ জনের মধ্যে ৩৫ জন করে। এই ৩৫ জনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে অর্ধেকের একটু কম পুরুষ, আর ২৫ শতাংশ নারী। সুতরাং নারীও এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তারা হয়তো সবসময় ধূমপান করে না। তবে গুল খায়। সারারাত মুখের মধ্যে গুল রেখে হয়তো ঘুমিয়ে গেলো। সেখান হয়তো ক্যানসার হলো। এতে দেখা যায়, মুখের ঐ নির্দিষ্ট অংশটিই কেটে ফেলতে হচ্ছে।

অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ১৩ বছর বয়স থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত, এদের মধ্যে সাত শতাংশ ধূমপান করে। এর মধ্যে আবার নারী-পুরুষের ভেদাভেদ রয়েছে। পুরুষ চার শতাংশ, নারী এক শতাংশ। তবে নারী রয়েছে।

আবার দেখা যাচ্ছে, দুই দলের মধ্যেই সাড়ে চার শতাংশ মানুষ ধোঁয়া ছাড়া তামাক গ্রহণ করছে। তারা হয়তো মনে করছে ধোঁয়া না থাকলে আমার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যেও তামাক সংক্রান্ত রোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি।

প্রশ্ন থাকতে পারে, মৃত্যুর ঝুঁকি কেন হচ্ছে ? সেই ক্ষেত্রে বলতে চাই, তামাক গ্রহণে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। যেহেতু ধোঁয়াটা ফুসফুসের ভেতর যায়, তাই এই অঙ্গটির যত ধরনের রোগ রয়েছে, সব বাড়িয়ে দেয়। অ্যাজমা হলে এর অ্যাটাক বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধূমপান করা হলে ফুসফুসের ভেতর যে ছোট ছোট নল বা ছিদ্র থাকে, যেটা দিয়ে বাতাস আসা-যাওয়া করে, সেগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া তামাক গ্রহণ টাইপ-২ ডায়াবেটিস বাড়িয়ে দেয়। হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদির ঝুঁকি বাড়ায়। দেহে সংক্রমণ ও প্রদাহ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। সুতারং দেহের প্রায় প্রতিটি অঙ্গকে তামাক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই, তামাক গ্রহণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাসকে আমাদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য বন্ধ করতে হবে।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

‘রঙ বাংলাদেশ’-এর বিজয় উৎসব

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

১৯৭১ – এর রক্তঝরা বিজয় থেকে ২০২৪ – এর তারুণ্যের জয় – প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লাল সবুজের গৌরব। ১৯৭১ সালে রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, আর ২০২৪ সালে আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের অধিকার আদায়ে এক নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন তরুণ প্রজম্মের হাতে, আর এবারের বিজয় দিবস সেই গৌরবের এক নতুন সময়ের দোরগোড়ায়। এই তরুণরাই পুরোনোকে সঙ্গে নিয়ে নতুন দেশ গড়বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে।

আমাদের বিজয়ের প্রতীক লালসবুজের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আধুনিক ভাবনায় বাংলাদেশের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে। আর এইজন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে আত্মবিশ্বাস, যা পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায় অনেক।

তাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতার-বিজয়ের সকল প্রতীক নিয়ে ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর এবারের বিজয়ের আয়োজন। যেখানে প্রতিটি ডিজাইন ও পোশাক আমাদের ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার গল্প তুলে ধরে।

বিজয়ের এ আয়োজনে থাকছে ছোট-বড়দের শাড়ি, পাঞ্জাবি, কামিজ, শাল, মগ, সুভিনির সামগ্রী ইত্যাদি। কাপড়ে প্রাধান্য পেয়েছে কটন, স্লাব কটন, জেকার্ড কটন, হাফ সিল্ক। পোশাকে ভ্যালু অ্যাড করার জন্য অনুপ্রাণিত ডিজাইনগুলো হচ্ছে ফোর এলিমেন্টসের আর্থ, বাংলাদেশের ম্যাপ, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের স্ট্রাইপ এবং বাংলাদেশের পুরানো স্ট্যাম্প, যা ফুটে উঠেছে স্ক্রিন প্রিন্ট ও ব্লক প্রিন্টের মাধ্যমে।

আমরা বিশ্বাস করি, বিজয়ের রঙ সব সময় জীবিত থাকে এবং তা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এবার বিজয় দিবসে ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর পোশাকে উদযাপন করুন বাংলাদেশের অবিচলিত গৌরব ও সংগ্রাম।

‘রঙ বাংলাদেশ’-এর ঢাকা ও ঢাকার বাহিরের সকল আউটলেটেই পাওয়া যাচ্ছে বিজয় উৎসবের এ আয়োজন। এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজয় উৎসবের পন্য ক্রয়ের জন্য ভিজিট করুন www.rang-bd.com অথবা রঙ বাংলাদেশের ফেসবুক পেজে www.facebook.com/rangbangladesh। যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন রঙ বাংলাদেশের হোয়াটস্ অ্যাপ সম্বলিত 01777744344 ও 01799998877 হটলাইনে।

হেমন্তে ‘কে ক্র্যাফট’-এর আয়োজন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বৈচিত্র্যময় সাজে প্রকৃতিতে এখন বিরাজ করছে হেমন্ত। এ সময় যেন একটা মিষ্টি হাওয়া বিরাজ করে প্রকৃতি জুড়ে। সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর হালকা কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

এ সময়ে বাঙালি মেতে ওঠে নবান্ন উৎসবে। হেমন্ত আসলেই পাকা ধানের সোনালি আলোয় উদ্ভাসিত হয় মাঠ-প্রান্তর। খুশির আলো বইতে থাকে কৃষকের ঘরে ঘরে, চারিদিক হয় উৎসবমুখর।

যেহেতু হালকা শীতল বাতাস আর হালকা উষ্ণ অনুভূতি দিয়ে এখন চলছে হেমন্ত ঋতু। আবহাওয়ার এই তারতম্যের কারণে হেমন্তের পোশাক ও সাজসজ্জাতে আসে পরিবর্তন। তাই গরম ঠান্ডার এই সখ্যতা ও অনুভুতির কথা মাথায় রেখে কে ক্র্যাফট করেছে হেমন্ত আয়োজন।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

ভিন্নধর্মী চমৎকার সব স্টাইলিশ এবং স্বস্তিদায়ক পোশাকই হতে পারে আপনার এ সময়ের সঙ্গী। মেয়েদের জন্য সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, কুর্তি, টিউনিক, কাফটান আর ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফুল স্লিভের শার্ট থাকছে। এ ছাড়াও ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্যও থাকবে নানা আয়োজনের পোশাক। নানা রঙের প্রিন্ট ও উইভিং ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে হালকা শাল, যা এ সময়ের জন্য বেশ উপযোগী।

কে ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লার সকল শো-রুম ছাড়াও অনলাইন শপ kaykraft.com থেকে হেমন্ত আয়োজন-এর পোশাক কিনতে পারেন সাশ্রয়ী মূল্যে। এ ছাড়াও ফেসবুক পেজ থেকেও অর্ডার করা যাবে।

পাকোড়া তৈরির স্বাস্থ্যকর উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

তেলে ভাজা মুচমুচে পাকোড়া খেতে অনেকেরই পছন্দ। তবে পাকোড়া তৈরিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত তেল যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, তা-ও তো সঠিক। তাই যারা এই খাবারটিকে একটু স্বাস্থ্যকর উপায়ে খেতে চান তাদের জন্য রইলো এই পদ্ধতি।

  • প্রথমে পেয়াঁজ ও সবজিকে ছোট ছোট টুকরোয় কেটে নিন। এরপর পাকোড়া তৈরিতে যা যা উপাদান লাগে (যেমন: ময়দা, লবণ, মরিচ ইত্যাদি) সেসব দিয়ে মাখুন।
  • এরই মধ্যে একটি সসপ্যানে পানি সিদ্ধ বসিয়ে দিন। পানি এমন পরিমাণ হতে হবে যেন পাকোড়া এতে ডুবে যায়। এটি অনেকটাই ফুটে এলে এর মধ্যে পেঁয়াজের তৈরি মিশ্রণটিকে পাকোড়ার আকৃতি করে একটি একটি করে ছেড়ে দিন। ঘাবড়াবেন না পানিতে মিশ্রণটি দিলে আঁটসাঁটই থাকবে। কারণ পানির গরম তাপমাত্রা একে ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করবে।
  • এরপর পাকোড়া সিদ্ধ হয়ে এলে একটি ফ্রাই প্যানে সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে ভেজে নিন। এই পদ্ধতিতে খাবারটি তৈরি অনেক স্বাস্থ্যকর হবে, বেশি তেলে ভাজা পাকোড়ার চেয়ে।

সূত্র : টাইমসঅবইন্ডিয়া

জাপানের এই চার সূত্রে রয়েছে দুশ্চিন্তা দূরের উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

জীবন পরিবর্তনশীল ও অনিশ্চিত প্রক্রিয়া। এখানে দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত চিন্তা, হতাশা ইত্যাদি যেন চলার বাঁকে বাঁকে অপেক্ষা করে থাকে। তবে দৃষ্টিভঙ্গীটা পাল্টে নিয়ে এই ভ্রমণকে একটু আনন্দপূর্ণ করে তোলা গেলে জীবনের আসল স্বাদ পাওয়া যায়।

দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত চিন্তাকে ঝেড়ে ফেলে জীবনে আসল স্বাদ পেতে জাপানের মানুষ মেনে চলে এই চার সূত্র। অস্থিরতা দূর করে নিজেকে শান্ত রাখতে আপনিও মেনে চলতে পারেন এসব পদ্ধতি।

ইকিগাই
এর মানে জীবনে কোনো লক্ষ্য থাকতে হবে। ঘুম থেকে উঠার পরে যেন মনে না হয়, কী করবো, কী করার আছে। প্রতিদিন সকালটা যেন কোনো লক্ষ্যকে পূর্ণ করার আনন্দ নিয়ে শুরু হয়। এতে নিজেকে অলস ও প্রেরণাহীন মনে হবে না। এটিই ইকিগাই। তবে, এর আবার চার নিয়ম।

  • সেই কাজটিই করুন, যেটি আপনি ভালোবাসেন।
  • যেটি আপনি ভালো পারেন, সেটি করুন।
  • পৃথিবীর জন্য মঙ্গলজনক এমন কাজ করতে পারেন।
  • যেই কাজে অর্থ আসবে সেটি করুন।

কাইজেন
ছোট ছোট অর্জনের প্রতি নজর দিন। প্রতিদিন একটু একটু করে সম্বৃদ্ধ হন। একসঙ্গে অনেক সাফল্য অর্জন করে ফেলবেন, এটি চিন্তা না করে ছোট ছোট পদক্ষেপে এগিয়ে যান। এক সময় বড় সাফল্যও ধরা দেবে।

শিনরিন-ইওকো
শিনিস অর্থ জঙ্গল বা ঝোপ-ঝাড়, আর ইওকো মানে ‘গোসল’। এর আভ্যন্তরীণ অর্থ হলো, প্রকৃতির সঙ্গে বেশি সময় কাটানো। প্রকৃতির সঙ্গে বেশি সময় কাটালে মানসিক চাপ দূর হয়। যখন দুশ্চিন্তা হবে বা কোনো কিছু খুব চাপ মনে হবে, তখন হাঁটতে বেরিয়ে পড়ুন। আর প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যান।

ওয়াবি-সাবি
সব বিষয়েই খুব নিঁখুত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সব বিষয় সববসময় নিঁখুত হয় না। যেভাবে রয়েছে, সেভাবেই থাকতে দিন। নিঁখুত হতেই হবে, এ নিয়ে নিজেকে বেশি চাপ দিতে গেলেই ঝামেলা। অপূর্ণতারও একটা আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে।

সূত্র : হেলথশটস

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাবেন?

ডা. লেলিন চৌধুরী

শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হচ্ছে লবণ। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই খাবার অতিরিক্ত খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, “ভারতবাসী দৈনিক পাঁচ গ্রামের কম লবণ গ্রহণ করলে আগামী ১০ বছরে ‘হৃৎপিণ্ড, রক্তনালি ও দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের’ কারণে তিন লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা বন্ধ করা যাবে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতীয় উপমহাদেশীয়দের জন্য দৈনিক পাঁচ গ্রামের কম লবণ খেতে বলে। অনেক গবেষক খাবারটির পরিমাণ ২.৫ গ্রাম হওয়া উচিত বলে মনে করেন।

মনে রাখতে হবে, প্রয়োজনীয় লবণ আমাদের খাবারের মধ্যেই থাকে। খাবারের সময় আলাদা করে লবণ নেওয়ার দরকার নেই। এটি বেশি খেলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ (হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, হৃদপিণ্ডের মাংসপেশির বৃদ্ধি), ব্রেইন স্ট্রোক, কিডনি অকার্যকর হওয়া, কিডনিতে পাথর হওয়া, অতিরিক্ত পিপাসা, শরীরে পানি আসা, মুটিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, হাড়ক্ষয়, পাকস্থলীর ক্যানসার, শরীরে পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, ঘুমের ব্যাঘাত, ঘন ঘন প্রস্রাব করা, অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ ও মাংসপেশির দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যার ঝুঁকি থাকে।

প্রতিদিনের খাবারে লবণের পরিমাণ পাঁচ গ্রাম, অর্থাৎ এক টেবিল চামচের কম রাখুন এবং উত্তম হয় অর্ধেক টেবিল চামচ হলে। তাই দৈনিক পাঁচ গ্রামের কম লবণ খান; সুস্থ থাকুন।

লেখক : চেয়ারম্যান; হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.