Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 25

মানসিক চাপ থেকে ত্বকের ক্ষতি: সমাধানের উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

মানসিক চাপ কেবল মনকেই বিক্ষিপ্ত করে না, এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আমাদের দেহেও। মানসিক চাপের কারণে ত্বক অকালেই বুড়িয়ে যেতে পারে এবং ব্রণের সমস্যা হতে পারে। মনের চাপ কমিয়ে ত্বক ভালো রাখার কিছু সমাধান জানিয়েছে জীবনধারা বিষয়কওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।

শিথিলায়ন চর্চা
করটিসল ও অন্যান্য মানসিক চাপ তৈরিকারী হরমোন ত্বকের তৈলাক্তভাব বাড়িয়ে দেয়। এতে লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। মানসিক চাপ কমানোর সহজ উপায় ধ্যান, যোগব্যায়াম ও শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম। মানসিক চাপ কমাতে এবং ত্বক ভালো রাখতে প্রতিদিন ১০ মিনিটের ‘মাইন্ডফুলনেস’ ধ্যানও উপকারী।

মানসিক চাপ কমাতে রুটিন
মানসিক চাপের সময় ত্বকের বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা, ময়েশ্চারাইজার ও সিরাম ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি নায়াসিনামাইড, ক্যামোমিল ও অ্যালোভেরা সম্বৃদ্ধ পন্য ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বক ভালো রাখে এমন খাবার খান
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে এবং ত্বক ভালো রাখতে খাবারের দিকে নজর দিন। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সম্বৃদ্ধ খাবার রাখুন। এ ক্ষেত্রে সবুজ শাক-সবজি, ফ্যাটি ফিস, কাঠবাদাম, বেরি ইত্যাদি খেতে পারেন।

পর্যাপ্ত ঘুমান
পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের ত্বককে পুণর্গঠনে সাহায্য করে। পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও উপকারী। ভালোভাবে ঘুম না হলে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে, ত্বক মলিন হয়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি।

দেহকে সক্রিয় রাখুন
চাপ কমাতে ব্যায়াম করা বা দেহকে সক্রিয় রাখা প্রয়োজন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকও ভালো থাকে। এসব কাজ আপনার মনকেও যেমন স্থির ও প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করবে, তেমনি ত্বককেও রাখবে দীপ্তিময়।

একতরফা ভালোবাসেন? বের হয়ে আসবেন যেভাবে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

একতরফা ভালোবাসা কষ্টদায়ক। এ তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আপনার মানসিক কল্যাণের জন্য এখান থেকে বের হয়ে আসাটাও জরুরি।

তাই পাঠকদের জন্য রইলো একতরফা ভালোবাসা থেকে বের হয়ে আসার কিছু উপায়। আশা করি কাজে লাগবে।

নিজের আবেগকে স্বীকার করুন
মানুষ অনেক সময় নিজের অনুভূতি, আবেগ থেকে পালাতে চায়। কিন্তু পালিয়ে যাওয়া আসলে সমাধান নয়। আপনি কাউকে ভালোবাসেন- ঠিক আছে- সেটা না হয় এক তরফাই হলো, অসুবিধা কী? নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করুন। নিজের আবেগের সঙ্গে বোঝাপড়া করুন।

নিজেকে সময় দিন
যেই মানুষটিকে তীব্রভাবে একতরফা ভালোবাসতে শুরু করছেন, কিন্তু বিনিময়ে কষ্টই পাচ্ছেন তার কাছ থেকে দূরে সরে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে খুঁজতে যাবেন না। নিজেকে সময় দিন; নিজের কাজের প্রতি মনোনিবেশ করুন।

নিজের প্রতি যত্নবান হন
ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে সরে আসার এই সময়টাতে নিজের প্রতি যত্নবান হওয়াটা জরুরি। নিজের শরীর ও মনের দিকে খেয়াল রাখুন। সঠিক খাদ্যভ্যাস মেনে চলা, ধ্যান, ব্যায়াম, পছন্দের কাজগুলো করা ইত্যাদি আপনাকে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনে সাহায্য করবে।

নিজের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রতি নজর দিন
ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত আপনার জীবনে ভালো কী কী ঘটেছে সেই বিষয়ে নজর দিন। প্রকৃতিকে ধন্যবাদ জানান এসবের জন্য। আর এটাও ভাবুন, যে আপনার মূল্যায়ন করতে পারেনি, সত্যিই কি তাকে পেলে আপনার জীবন সুখি হতো? সবার আগে নিজেকে প্রাধান্য দিন। যারা আপনাকে ভালোবাসে, গুরুত্ব দেয় তাদের সময় দিন।

বাস্তববাদী হন
প্রত্যেকটি মানুষের তার নিজের জগৎ, দৃষ্টিভঙ্গী থাকে। আপনি ভালোবাসলেই, অপরপ্রান্তের মানুষটিও আপনাকে একই রকম শ্রদ্ধা করবে, তা আশা না করাই ভালো। বাস্তববাদী হন। সত্যকে গ্রহণ করুন। পৃথিবীর কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। এখন যেই কষ্টটা আপনার হচ্ছে, এরও এক সময় তীব্রতা কমবে।

অভিযোগ করা বন্ধ করুন
অভিযোগ করে, অভিশাপ দিয়ে, খারাপ চেয়ে আর যাই হোক ভালোবাসা পাওয়া যায় না। তাই অপরপ্রান্তের মানুষটি আপনাকে ভালোবাসলো না বলে তার জ্ঞাতিগুষ্টি উদ্ধারের কোনো প্রয়োজন নেই। বরং এসব বন্ধ করে নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন, যেন আপনাকে হারিয়ে ফেলার কারণে তার আফসোস হয়।

সাহায্য নিন
কোনোভাবেই নিজেকে সামলাতে না পারলে বন্ধুবান্ধব (বিশ্বাসযোগ্য), পরিবারের মানুষ, মনোবিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। এই আবেগের ভার থেকে বের হয়ে আসতে কাউন্সেলিংও অনেকটা সাহায্য করবে আপনাকে।

সূত্র: ওয়েবএমডি ও উইকিহাউ

পাঁচটি ছোট পরিবর্তন ২০২৫-এ স্বাস্থ্য ভালো রাখবে আপনার

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সবসময় যে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হবে বিষয়টি এমন নয়। ছোট কিছু পরিবর্তন এবং নিয়মিত সেগুলোর পালন অনেকটাই সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে আপনাকে। আর যেহেতু শুরু হলো ২০২৫, এখন থেকেই এই ছোট বিষয়গুলো পালন শুরু করতে পারেন। নতুন বছরে নতুন করে শুরু হোক নিজের যত্ন।

সকালবেলা হালকা গরম পানি পান
দিনের শুরু করুন এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করে। এই ছোট সহজ অভ্যাসটি হজম ভালো করবে এবং বিপাক ক্ষমতা বাড়াবে। পাশাপাশি এটি দেহের পানিশূন্যতা কমিয়ে অঙ্গগুলোকে ঠিকঠাকভাবে কাজ করাতে সাহায্য করবে।

এক ঘণ্টা পর পর ১০ মিনিটের বিরতি নিন
কাজের চাপ থাকবেই। ব্যায়াম করা বা হাঁটার সময়ও হয়তো কম পাওয়া যাবে। তাই প্রতি এক ঘণ্টা পর পর কাজ থেকে একটু বিরতি নিয়ে ১০ মিনিটের জন্য শরীর নড়াচড়া করান। এতেও উপকার পাবেন।

মিষ্টি স্ন্যাকসের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার খান
মিষ্টি জাতীয় স্ন্যাকস (যেমন: কেক, কুকিস, ক্যান্ডি ইত্যাদি)- এর পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। স্ন্যাকস হিসেবে খেতে পারেন বাদাম (যেমন: কাঠবাদাম, কাজু বাদাম, চিনা বাদাম ইত্যাদি)। এতে শক্তি বাড়বে, ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ধ্যান ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম
বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে ধ্যান ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করা আপনাকে স্থির রাখতে সাহায্য করবে। প্রতিদিন ১০ মিনিট হলেও ধ্যান করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন ১০ মিনিটের ধ্যানও আমাদের শারীরিক ও মানসিক চাপ কমাতে উপকারী।

সূর্যের আলোর কাছে যান
কয়েক মিনিটের জন্য হলেও সূর্যের আলোর কাছে বা রোদের কাছে গেলে মন ভালো থাকে, ভিটামিন ডি- এর ঘাটতি কমে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই দৈনন্দির রুটিনে এই কাজটিও রাখুন। ভালো থাকবেন।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

শীতে অবসাদ কাটায় চার খাবার

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

শীত মানেই কুয়াশা, গুমোট একটা আবহাওয়া। শীত অনেকের জন্য খুব আনন্দের ঋতু হলেও কারো কারো ক্ষেত্রে এটি বিসন্নতা ও অবসাদ তৈরি করে।

এই সময়ের অবসাদ দূর করতে নিজেকে চাঙা রাখাটা খুব জরুরি। আর নিজেকে চাঙা রাখতে খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। শীতকালীন অবসাদ দূর করতে সাহায্য করবে এমন কিছু প্রয়োজনীয় খাবারের নাম জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

কলা
কলার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম, আঁশ, ভিটামিন ও কার্বোহাইড্রেট। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক শক্তি বর্ধক উপাদান। তাই শীতে অবসাদ কাটাতে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন এই খাবারটি।

লিন প্রোটিন
মুরগির মাংস, ডিম, ফ্যাটি ফিস ইত্যাদি লিন প্রোটিনের অংশ। এগুলো দেহে শক্তি জোগায়। শীতে অবসাদ দূর করতে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে এসব খাবারও।

বাদাম ও বীজ
এগুলোতে স্বাস্থ্যকর চর্বি, আঁশ ও প্রোটিন থাকে। বাদাম দীর্ঘমেয়াদি দেহের শক্তি ধরে রাখে। মধ্য সকাল বা বিকালের স্ন্যাকস হিসেবে খাদ্যতালিকায় কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, চিয়াসিড, ফ্ল্যাক্সিড ইত্যাদি রাখা যেতে পারে।

পানি
শীতে অনেকেই পানি পানে অনিহা প্রকাশ করে। অথচ এই সময়েও পানি পান না করলে দেহ পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এতে অবসাদ তৈরি হয়। তাই ক্লান্তভাব দূর করতে শীতকালে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পানও জরুরি।

কন্যাশিশুর ১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে করণীয়

ডা. হালিদা হানুম আখতার

আপনার কন্যাশিশুকে ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেবেন না। তাকে স্কুলে যেতে দেবেন, বড় হতে দেবেন; তার শরীর সুস্থ হতে দেবেন।

কোনো কারণে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দিতেই হলে, ২০ বছর বয়স পর্যন্ত সে যেন সন্তানসম্ভবা না হয়। গর্ভ প্রতিরোধের জন্য অনেক ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করতে দেবেন। এই ক্ষেত্রে লো ডোজ খাবার ওষুধ রয়েছে, ইমার্জেন্সি কন্ট্রাসেপশন রয়েছে; পুরুষের জন্য কনডম রয়েছে। এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে কোনোমতে কন্যাশিশুটি দুইটি বছর কাটিয়ে দিতে পারলে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভ হওয়ার আশঙ্কা থেকে পরিত্রান পাবে।

কোনো কারণে গর্ভধারণ করলে, তাকে সম্পূর্ণ অ্যান্টিনেটাল কেয়ার দিতে হবে। অর্থাৎ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত অনুসারে গর্ভের সময় যে চারটি সেবা রয়েছে, সেগুলো দিতে হবে।

পাশাপাশি তার প্রসব বা ডেলিভারি সঠিকভাবে করানো জরুরি। প্রশিক্ষণ নেই এমন কোনো দাই বা ব্যক্তির হাতে করানো যাবে না। মাকে হাসপাতালে নিয়ে স্বাভাবিক প্রসব করাতে হবে। পরবর্তী তিন বছর যেন সন্তান না নেয় তার পরামর্শ ও ব্যবস্থা তাকে দিতে হবে। এতে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ থাকবে।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

ডা. হালিদা হানুম আখতার
ডা. হালিদা হানুম আখতার; রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

ডা. হালিদা হানুম আখতার

একটি বিষয় আমি বারবারই বলতে চাই, আমাদের দেশ, বিশেষ করে অনুন্নত বা উন্নতিকামী দেশগুলোতে যতজনের ক্যানসার হচ্ছে বা ধরে পড়ছে, দেখা যাচ্ছে তার অর্ধেকের বেশি প্রতিবছর মারা যাচ্ছে। এটি একটি জরুরি পর্যবেক্ষণ। কেন মারা যাবে এতজন?

যে রোগ প্রতিরোধযোগ্য, যেটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা যায় এবং সুন্দর করে চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেখানে কেন অর্ধেকের বেশি বা ৬০ শতাংশ ধরা পড়ার পর মারা যাবে? এটি একটি বড় প্রশ্ন।

এর পেছনে উত্তর হলো, আমরা নিজেরা সচেতন নই। আমরা জানি না, এই রোগ হতে পারে। আর এই সচেতনতার ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

স্ক্রিনিং করা
আমরা জানি না যে এই রোগ স্ক্রিনিং করলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খুব কম খরচে ভায়াটেস্ট করা যায়। এটি কেবল জরায়ুমুখের মধ্যে ভিনেগার লাগিয়ে দেখবে যে কোনো কোষের চেহারার পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, রঙের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা। এটি খুব সহজ বা প্যাপ্সমেয়ার করা যায়। সেটিও সহজ।

তবে আমরা কখন চিকিৎসকের কাছে যাই, যখন রোগ অনেক বিস্তার হয়ে অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। তখন আর বাঁচার কোনো রাস্তা নেই। তাহলে এই বিষয়টি আমাদের জানতে হবে যে রোগটি প্রতিরোধযোগ্য।

এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়া
আরেকটি বিষয় আমি বলতে চাই, এখন নতুন বিজ্ঞান এসেছে, এইচপিভির ভ্যাকসিন বের হয়েছে। এই ভ্যাকসিন নয় থেকে ১৫ বছর বয়সের মেয়েদের দিলে রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশে এখন ইপিআইর মাধ্যমে স্কুল-কলেজের মেয়েদের এটি দেওয়া হয়। ২৬ বছর পর্যন্ত এই ভ্যাকসিন কাজে লাগে। তবে তিনটি ডোজ নিতে হয়। এসব তথ্য আমাদের জানতে হবে।

নিয়মিত চেকআপ
অনেক সময় টাকা-পয়সার অভাবে অনেকে পরীক্ষা করে না। তবে সুস্থ থাকা অবস্থায় কম খরচে পরীক্ষা করে নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে। না হলে রোগ বাড়লে চিকিৎসার জন্য বেশি টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে। রোগ ধরা পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপিতে আরও বেশি টাকা ব্যয় হবে। এই খরচের মধ্যে না পড়ে আমরা খুব প্রাথমিক অবস্থায় রুটিন চেকআপ করলে অনেক আগে এটি নির্ণয় করতে পারবে। এতে ভোগান্তি কম হয়ে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।

নিজের, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ববোধ
নিজের শরীরকে ভালোবাসতে হবে, নিজেকে ভালোবাসতে হবে এবং প্রতিবছর একটি স্ক্রিনিং করতে হবে। এটি হলো নিজের প্রতি নিজের দায়িত্ব।

এখানে পরিবারেরও একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। স্বামীর একটি ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের অন্য অভিভাবকদের কাজ হলো বাড়ির নারীকে রুটিন চেকআপ করানো। স্তন ক্যানসার হতে পারে, জরায়ুমুখের ক্যানসার হতে পারে। এই যে রুটিন চেকআপ, এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সবার দায়িত্ব।

এ ছাড়া সমাজে যারা থাকেন, স্কুলে যারা শিক্ষক রয়েছেন, তাদেরও দায়িত্ব। আমি বলব, প্রতিটি স্কুলের ভূমিকা রয়েছে, তারা যেন এই এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়ার ব্যবস্থা করে। প্রত্যেক মা-বাবাকে উৎসাহিত করাতে হবে সন্তানকে এই টিকা দেওয়ার জন্য।

শেষে বলতে চাই, আপনি নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকুন। পরিবারে যারা রয়েছে, তাদের শরীর সম্পর্কে সতর্ক হন। অনেক আগে যখন রোগটি ধরা পড়বে, তখন কম খরচে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

জরায়ুমুখের ক্যানসার: কারণ ও লক্ষণ

ডা. হালিদা হানুম আখতার

নারী স্বাস্থ্যের কথা বলতে গিয়ে আজ খুব জরুরি একটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো। সেটি হল, জরায়ুমুখের ক্যানসার। আমরা জানি, নারীর যত অঙ্গে এই রোগটি হয়, তার মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার দ্বিতীয় স্থানে।

সারা পৃথিবীতে দেখা গেছে, প্রতি বছর ছয় লাখের ওপর নারী আক্রান্ত হয় এবং এর ৬০ শতাংশ মারা যায়। বাংলাদেশে দেখা গেছে, আট হাজারের মতো জরায়ুমুখের ক্যানসারে ভোগে এবং প্রায় পাঁচ হাজারের কাছাকাছি মারা যায়। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি নারী মারা যাচ্ছে।

ক্যানসার কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধযোগ্য। তাই আগেই যাচাই বা নির্ণয় করা গেলে, এত মানুষকে মরতে হয় না। এখানে আমরা আলোচনা করবো, জরায়ুমুখের ক্যানসার কেন হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে এবং এর লক্ষণের বিষয়ে।

কেন ও কীভাবে হয় ?

বিভিন্ন তথ্য ও গবেষণা থেকে দেখা গেছে, এটি কয়েকটি কারণে হয়ে থাকে। অনেক কম বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেওয়া, অধিক সংখ্যক সন্তান জন্ম দেওয়া বা ঘন ঘন সন্তান হওয়ার কারণে জরায়ুমুখের ক্যানসার হতে পারে। আবার হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি-এর কারণে এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এখন প্রশ্ন হলো, এই ভাইরাস কোথা থেকে আসে ? এটি আসে যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে।

একজনের একাধিক যৌন সঙ্গী থাকলে, তার ঝুঁকি বেশি। স্বামী ঘরে স্ত্রীকে রেখে দূরে কোথাও বা অন্য কোনো দেশে কাজের জন্য চলে গেলে, সেখানে তার একাধিক যৌনসঙ্গী হলে এবং পরে স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা করলে, রোগটি আসতে পারে। এই বিষয়টি স্বামী বা পুরুষ বন্ধুকে জানতে হবে এবং যেই নারীর জরায়ু রয়েছে তাকেও খুব ভালোভাবে জানতে হবে।

লক্ষণ
জরায়ুমুখের ক্যানসারের অনেকগুলো পর্যায় রয়েছে। পর্যায় এক, দুই, তিন ও চার। লক্ষণের ক্ষেত্রে, প্রথমদিকে
জরায়ুমুখে ঘা হতে পারে। জরায়ুমুখের কোষ পরিবর্তন হয়ে ক্যানসারে রূপান্তরিত হয়। এখান থেকে রক্তপাত হতে পারে; ব্যথা হতে পারে।

রোগ আরো বেড়ে গেলে বা বেশি পর্যায়ে চলে গেলে আশেপাশের যেসব অঙ্গ রয়েছে (যেমন: সামনে ব্লাডার, পেছনে পায়খানার রাস্তা ইত্যাদি) সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তখন ভীষণ ব্যথা ও রক্তপাত হতে দেখা যায়।

দেখবেন, অনেকে ঐ পর্যায়ে যাওয়ার পর বুঝতে পারে ক্যানসার হয়েছে। তখন তারা ডাক্তার দেখায়। তবে, তখন মৃত্যুর কাছকাছি চলে যায়। রোগীকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।

আমাদের দেশে যেহেতু নারী অবহেলিত, তারা সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে না বা স্ক্রিনিং করে না, তাই রোগ বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে চলে যায়, মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। উন্নত দেশগুলোতে আমরা দেখি, ক্যানসার হলেও মৃত্যুর সংখ্যা কম। কারণ, তারা প্রাথমিকভাবে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে এবং অনেক দিন বাঁচতে পারে।

তাই ক্যানসার প্রতিরোধে আমাদেরও স্ক্রিনিং ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জোর দেওয়া প্রয়োজন এবং সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.