শীতে বেশি ঘুম পায়? প্রতিরোধে কী করবেন?
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
শীতে ঘুম কাতুরে হয়ে পড়েন অনেকেই। সাধারণত ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এবং সূর্যের আলোর অভাবে এমনটি হয়। আবহাওয়ার হঠাৎ এই পরিবর্তন মানুষকে কিছুটা অলস ও উদ্যামহীন করে দেয়। তবে কিছু বিষয়ে সচেতন হলে এগুলো থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। শীতে অতিরিক্ত ঘুম পাওয়ার বা ক্লান্তি দূর করার উপায় বাতলেছে ভারতীয় ওয়েবসাইট ইন্ডিয়াটিভি।
ব্যায়াম বাদ দেবেন না
শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় একটু আয়েশ করে ঘুমাতে বা আলসে হতে সবাই পছন্দ করে। তবে নিজেকে একটু জাগান। ব্যায়াম করা শুরু করুন। এই সময়টায় ব্যায়াম একদমই বাদ দেবেন না। ঠান্ডা আবহাওয়ায় বেশি অসুবিধা হলে ঘরেই করে নিন কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ। এতে শরীর চাঙা লাগবে।
বেশি খাবেন না
এই সময়টায় অনেকেরই ক্ষুধা বাড়ে এবং বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন। চিনি, কার্বোহাইড্রেট, ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। ভারী খাবার খেলে হজম হতে সময় লাগে। শরীরের এই কার্যক্রম ঠিকঠাকমতো করতে গিয়ে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর পরিবর্তে খান সবজি, মাছ, অল্প পরিমাণ ভাত। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েট এই সময়ও মেনে চলুন।
দিনে ঘুমাবেন না
অনেকে দিনের বেলায় আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার ন্যাপ নিতে অভ্যস্ত থাকে। শীতের সময় এই কাজটি থেকে বিরত থাকুন। এ সময় যেহেতু রাত বড় হয়। তাই দিনের বেলা ঘুমালে রাতে ভেঙে যাওয়ার বা ভালোভাবে না হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দিনের বেলার ঘুম এড়াতে প্রয়োজনে এক কাপ চা বা কফি পান করে নিন।
সকালবেলা সূর্যের আলোতে যান
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই চেষ্টা করুন সূর্যের আলোর কাছকাছি যাওয়ার। একটু বারান্দায় বসুন বা বাইরে থেকে হেঁটে হাসুন। মোদ্দা কথা, সূর্যের আলো দেহে লাগা চাই। সূর্যের আলো থেকে যেই ভিটামিন- ডি তৈরি হয়, সেটি ঘুমের সমস্যা কমানো, বিষণ্ণতা দূর করা, হাড় ভালো রাখা সহ অনেক কাজ করে।
আবেগহীন হবেন কীভাবে ?
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
আবেগ, মানবমনের জটিল অনুভূতির নাম। সুখ, আনন্দ, দুঃখ, হাসি, উচ্ছাস, বেদনা, রাগ- এসবই আবেগ। আবেগহীন হয়ে একেবারে রোবট হয়ে যাওয়াটা যেমন মানসিক স্বাস্থ্যর জন্য উপকারী নয়, তেমনি এর অতিরঞ্জিতাও অস্বাস্থ্যকর।
এর অতিরঞ্জকতা মানুষকে নিচের দিকে টেনে ধরে এবং মানুষকে অস্থিতিশীল ও দুর্বল করে তোলে। তখন কষ্টটা নিজেরই বাড়ে। তাই এর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। বলা হয়, আবেগের নিয়ন্ত্রণ একটি শিল্পের মতো। একে কাবু করতে পারলে সব ক্ষমতা যেন আপনার হাতের মুঠোয়। নিচের উল্লেখিত ছয়টি কৌশল মেনে হয়ে উঠুন আবেগ নিয়ন্ত্রণের গুরু।
কাউকে অতিরিক্ত ভালোবাসবেন না
ভালোবাসা ভীষণ সুন্দর একটি অনুভূতি। এটি মানুষের মধ্যকার সংযোগকে দৃঢ় করে। জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় এর মাধ্যমে। তবে অতিরিক্ত ভালোবাসা ও আসক্তি, নিজের উপরেই বুমেরাং হয়ে ফিরতে পারে। অতিরিক্ত ভালোবাসা আমাদের বিচার-বুদ্ধিকে নষ্ট করে দেয়। এর কারণে যেই অস্থিরতার সৃষ্টি হয়, সেটি বিষণ্ণতা তৈরি করে। আশা বাড়ায়। তাই নিজের মনকে সামলান। নিজেকে নিজেই শক্তিশালী করুন। আর এতে সম্পর্কও সুন্দর থাকবে।
বেশি সহমর্মি হবেন না
সহমর্মিতা মানবমনের অত্যন্ত বড় একটি গুণ। এটি মানুষ হিসেবে আপনাকে অত্যন্ত বড় করে। তবে বেশি সহমর্মি হওয়া মানসিক, আবেগীয় ও বাস্তবিকভাবে আপনাকে সমস্যায় ফেলতে পারে। না, আপনাকে মানুষ হিসেবে বর্বর হতে বলছি না। মানুষ হিসেবে আপনি অন্যের প্রতি সহমর্মি হবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। তবে কখনো কখনো দূরত্ব বজায় রাখতে শিখুন। এতে অন্য কেউ আপনার আবেগকে সহজে ব্যবহার করতে পারবে না।
টক্সিক মানুষকে ‘না’ বলুন
যারা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সেসব টক্সিক মানুষকে ‘না’ বলতে শিখুন। নিজের দেয়াল নিজেই তুলে দিন। আপনি কতটুকু নেবেন, কতটুকু নয়- সেগুলো কিন্তু আপনার ওপরই নির্ভর করছে। প্রয়োজনে একা থাকতে শিখুন। তবে এসব মানুষ থেকে দূরে থাকুন। নিজের সম্মান নিজে বজায় রাখুন। দূরত্ব তৈরি করুন।
নিরব থাকতে শিখুন
সবকিছুতেই প্রতিক্রিয়া জানাতে যাবেন না। নিরব থাকতে শিখুন। শুনুন বেশি, বলুন কম। পর্যবেক্ষণ করুন। সব অনুভূতি প্রকাশ করতে যাবেন না। সব অনুভূতির জন্য শ্রোতার প্রয়োজন নেই। একটু ভেবে দেখবেন, নিরবতা মানুষকে শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাবান করে। এটি আত্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি। যারা বেশি পর্যবেক্ষণ করে এবং নিরব থাকে, তাদের সীদ্ধান্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক হয়।
মানসিক দেয়াল তৈরি করুন
ইংরেজিতে একটি কথা রয়েছে, ‘সেট বাউন্ডারি’ । অর্থাৎ দেয়াল তুলে দেওয়া। যে কাউকে জীবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়াটা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়। যারা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে অস্থিতিশীল করে দেয়, আপনাকে অসম্মানিত করে, তাদের জন্য দেয়াল তুলে দিন।
সব টেক্সের ম্যাসেজ দ্রুত দেবেন না বা সবার সব কথা সবসময় রাখতে যাবেন না। যেটা আপনার ভালো লাগছে না, সেখানে ‘না’ বলুন। অবশ্য, সেই জন্য মিথ্যা বলবেন, তা নয় বা অন্যকে অপেক্ষায় রাখবেন, সেটিও নয়। নিজের প্রতি ও অন্যের অনুভূতির প্রতি সৎ হোন। পৃথিবীকে বুঝিয়ে দিন, আপনার জীবন, সময়, আত্ম-সম্মান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনাকে দুঃখ, বিষণ্ণতা থেকে অনেকটাই মুক্তি দেবে।
নিজের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিন
নিজের কাজ ও নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিন। মনে রাখবেন, নিজেকে গুরুত্ব দেওয়ার মানে এই নয় যে আপনি স্বার্থপর। এটি আসলে নিজেকে শক্তিশালী করতে এবং নিজের বৃদ্ধির জন্য জরুরি।
জীবন সুন্দর, তবে এক ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রেও। তাই সুন্দর মূল্যবোধগুলো অবশ্যই থাকবে, তবে নিজের ভেতর যোদ্ধার শক্তি ধরে রাখাটাও জরুরি।
সূত্র : ওয়ার্ডস অব উইজডোম
ডা. হালিদা হানুমের বর্ণাঢ্যময় কর্মজীবন
মাহবুব শওকত
বিশিষ্ট নারী স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডা. হালিদা হানুম আখতার তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে দেশে ও আন্তর্জাতিক অনেক পুরস্কার ও পদক পেয়েছেন।
সম্প্রতি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘রোকেয়া পদক’ এবং বাংলা একাডেমি কর্তৃক ‘সাম্মানিক ফেলোশিপ’ লাভ করেন।
২০২১ সাল থেকে ডা. হালিদা হানুম ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফোরাম-এর সারথি হিসেবে রয়েছেন। তাঁর সংগঠন ‘ সোসাইটি ফর হেলথ প্রমোশন লিঙ্ক’ ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফোরমের অন্যতম সদস্য সংগঠন।
ডা. হালিদা হানুম আখতার জন্মেছেন রংপুরে। তাঁর মা ডা. হুমায়রা খানম গাইনোকলজিস্ট ছিলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হওয়ার আগে থেকে। জীবনসঙ্গী (স্বামী) ইঞ্জিনিয়ার গোলাম ফরিদুদ্দিন আখতার। বুয়েট ও আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। দুই কন্যা- ফারহানা আক্তার রুহী, আফসানা আক্তার। তারা উচ্চ শিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত এবং প্রবাসী।

ডা. হালিদা রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা মেডিকেল থেকে এমবিবিএস করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর ১৯৬৯ সালে তিনি পরিবার পরিকল্পনা মোবাইল টিমের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শুরু হয় মাতৃমৃত্যু কমানো ও নারী স্বাস্থ্য উন্নয়নের লড়াই। কাজে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পর তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণে আমেরিকায় পাঠানো হয়। তিনিসহ মোট তিনজনকে তখন বাংলাদেশ থেকে এই প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছিল। ১৯৭০ সালের অক্টোবর মাসে আমেরিকায় পৌঁছার পর সেখানে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কোর্স করার ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। এগুলো শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৯৭১ সালের এপ্রিলে।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনা দ্বারা ধর্ষণের শিকার সন্তানসম্ভবা মেয়েদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ সরকার একটি উদ্যোগ নেয়। যার নাম ‘সেবা সদন’। এই সদনে কাজ করার দায়িত্ব পড়ে ডা. হালিদা হানুমের ওপর। সেই দায়িত্ব হাসিমুখে সাদরে পালন করেছিলেন তিনি। একাত্তরে বিদেশে অবস্থান করায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপটা এই কাজের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও কমাতে চেয়েছিলেন ডা. হালিদা হানুম আখতার। সেবা সদনে আসা নির্যাতিত নারীদের অপমানে কুঁকড়ে যাওয়া মুখগুলো আজো ব্যথিত করে তাকে।
ডা. হালিদা হানুম আখতারের জন্মনিয়ন্ত্রণ, ব্রেস্টফিডিং, মাতৃমৃত্যু ও অসুস্থতা, গর্ভপাত এবং কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর গবেষণা কার্যক্রম দেশে বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষস্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বহু পুরস্কার, সম্মাননায় ভূষিত করা হয় তাকে।
ডা. হালিদা হানুম আখতার বিশিষ্ট প্রজনন স্বাস্থ্য এপিডেমিওলজিস্ট। প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে ৩০ বছরেরও বেশি আন্তর্জাতিক কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। একজন ওবি/জিওয়াইএন হিসাবে তার ক্লিনিকাল প্রশিক্ষণের পর, ড. হালিদা হানুম আখতার জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি থেকে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট লাভ করেন। বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে তার নেতৃত্বের ভূমিকার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় প্রজনন স্বাস্থ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BIRPERHT) এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ছিলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম পরিবার পরিকল্পনা সংস্থার (FPAB) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একটি তৃণমূল স্তরের সংস্থা তৈরি করেছেন, যা নারীদের মাতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়। তার গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে গর্ভনিরোধক কার্যকারিতা, প্রজনন স্বাস্থ্য চাহিদা ও পরিষেবা, গর্ভপাত ও মাতৃত্বকালীন অসুস্থতা ও মৃত্যুহার।
নারী প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ‘জনস হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথ’- এর ইন্টারন্যাশনাল হেলথ ডিপার্টমেন্টের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ড. হালিদা ছিলেন ইউএসএআইডি-ডিএফআইডির এনজিও স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের প্রধান। কাজ করেছেন পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল এর সিনিয়র কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে। গর্ভবতী নারীদের জন্য গর্ভকালীন সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে ‘মাটির ব্যাংক’ ডা. হালিদার চিন্তাপ্রসূত। বাংলাদেশে সূর্যের হাসি স্বাস্থ্যসেবায় তার ভূমিকা অনন্য।

ডা. হালিদা হানুম আখতার আরো যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন-
★ ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফপিএবি) ঢাকা, বাংলাদেশ মহাপরিচালক, ২০০৫ থেকে ২০০৮।
★ জনসংখ্যা ও উন্নয়নে অংশীদার (PPD), অংশীদার সচিবালয় ঢাকা, বাংলাদেশ সিনিয়র প্রজনন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
★ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ ফর প্রমোশন অব এসেনশিয়াল অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ অ্যান্ড টেকনোলজি, বিআইআরপিএইচটি ঢাকা, বাংলাদেশ- এর পরিচালক এবং প্রতিষ্ঠাতা।
★ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০০৯-এ প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনার জন্য গ্লোবাল টেকনিক্যাল লিড হিসাবে CHS-এ যোগদান করেন।
★ এমসিএইচ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন সেল ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকল্প পরিচালক, ইত্যাদি।
এ ছাড়াও, প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতায় ডা. হালিদা হানুম আখতার বিভিন্ন বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন।
★ ড. পি.এইচ., জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি, স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ, বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৮১, জনসংখ্যার গতিবিদ্যা বিভাগ। জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি দ্বারা প্রদত্ত বৃত্তি।
★ এম. পি. এইচ, জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি, স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ, বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৭৯। দ্য পাথফাইন্ডার ফান্ড, বোস্টন থেকে বৃত্তি পুরস্কার।
★ ই.আই.এস. অফিসার সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল (সিডিসি), আটলান্টা, জর্জিয়া, ইউএসএ, প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগে, জুলাই ১৯৮১ থেকে জুন ১৯৮৩। দুই বছরের জন্য রকফেলার ফেলোশিপ প্রদান করা হয় তাকে।
ডা. হালিদা হানুম আখতার বিগত ৩০ বছর ধরে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, সোসাইটি ফর গ্রামীণ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীদের কমিউনিটি ম্যাটারনিটি প্র্যাকটিশনার হিসেবে প্রশিক্ষণ দানে অসামান্য অবদান রেখেছেন। চিকিৎসা ও কল্যাণকর কাজে অবদান রাখায় তিনি ২০২২ সালে জি-১০০ আজীবন সম্মাননা পান। ২০০৬ সালে জাতিসংঘের জনসংখ্যা পুরস্কারে ভূষিত হন। জনসংখ্যা এবং ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে অসামান্য কাজের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। জনসংখ্যার প্রশ্নে সচেতনতার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ড. হালিদা হানুম আখতার ব্যক্তিবিভাগে এই পুরস্কারপ্রাপ্ত হন।
৭ ডিসেম্বর ২০০৩-এ ডায়রিয়া রোগ ও পুষ্টি বিষয়ক ১০ম এশীয় সম্মেলনে বৈজ্ঞানিক কৃতিত্বের জন্য হোস্ট কান্ট্রি পুরস্কার প্রাপ্ত হন। গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক অ্যালামনাস অ্যাওয়ার্ড পান ১৯৯৭ সালে, জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি, স্কুল অফ পাবলিক হেলথ, সোসাইটি অফ অ্যালামনাই, বাল্টিমোর, এমডি, ইউএসএ। জার্মানির জাস্টাস-লিবিগ ইউনিভার্সিটি গিয়েসেন থেকে উন্নয়নশীল দেশ পুরস্কার পান ১৯৯৫ সালে। পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সরবরাহ, জীবনব্যাপী গবেষণা, পরিবারে মাঠ কর্মীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক কাজের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যের অবস্থার উন্নতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয় ডা. হালিদাকে।
লেখক

সমন্বয়কারী, ব্রেস্ট ক্যান্সার এওয়ারনেস ফোরাম
এবং
সেক্রেটারি, কমিউনিটি অনকোলজি ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ
ডা. হালিদা হানুমকে ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সম্মাননা
শাশ্বতী মাথিন
সম্প্রতি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘রোকেয়া পদক’ এবং বাংলা একাডেমির ‘সাম্মানিক ফেলোশিপ’ পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডা. হালিদা হানুম আখতার। এ উপলক্ষে ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফোরাম তাঁকে একটি সম্মাননা দেয়। ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টারে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি ডা. হালিদা হানুম আখতার বলেন, আমার কাজের মাধ্যমে মানুষ তৈরি করতে চেয়েছি। বাইরের দেশে প্রচুর কাজ করার সুযোগ থাকলেও সব সময় চেষ্টা করেছি নিজের দেশের জন্য কিছু করার। আমাদের দেশে কাজ করতে গেলে তদবির করতে হয়। আমার তদবিরের অভ্যাস নেই– এতটুকু গর্ব করে বলতে পারি। আজকে পর্যন্ত যা আমার আঁচলে এসেছে, সব অন্য মানুষ আমাকে দেখে প্রপোজ করেছে।
বাংলাদেশ ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক ডা. হাবিবুল্লাহ্ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘হালিদা আপার সঙ্গে আমরা অনেক দিন ধরে যুক্ত রয়েছি। আমাদের দেশে সবাই বলে অভাব রয়েছে। আমি মূলত অভাব দেখি ধন-সম্পদে নয়, মনে। কারও একটি ভালো দিক, ভালো গুণ, ভালো কাজ মন খুলে বলতে আমাদের খুব কষ্ট। এই জায়গায় খুব সমস্যা। মন খুলে অন্যের প্রশংসা করতে খুব অনীহা সকলের। তবে হালিদা আপার মধ্যে এই গুণটি রয়েছে। তিনি মানুষকে সম্মান দিতে জানেন।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারপারসন মোছাররত সৌরভ। অনুষ্ঠানে বক্তারা হালিদা খানম প্রসঙ্গে বলেন, ‘হালিদা খানম মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে আজ অবধি বাংলাদেশে নারী স্বাস্থ্যে জন্য বেশ জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর গবেষণা গ্রন্থগুলো অত্যন্ত সমৃদ্ধ।’ তিনি এভাবেই কাজ করে যাবেন– এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারপারসন মোছাররত সৌরভ, ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের সেক্রেটারি ইকবাল মাহমুদ, ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফোরামের অন্যতম সমন্বয়কারী ও কমিউনিটি অনকোলজি ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি মাহবুব শওকত, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাশহুদা আকতার শেফালী, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও কবি রোকেয়া ইসলাম, শেরপুর ডায়াবেটিক সমতিসহ একাধিক সংগঠনের সম্মানিত সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল, হারমনি ট্রাস্টের সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবদুস সবুর, কালেক্টরেট কলেজ, রংপুরের অধ্যক্ষ মঞ্জুয়ারা ও সাবেক সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
অধ্যাপক ডা. হালিদা হানুম আখতার তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে দেশে ও আন্তর্জাতিক অনেক পুরস্কার ও পদক পান। তিনি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধে ধর্ষণের শিকার সন্তানসম্ভবা মেয়েদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ ‘সেবা সদন’-এর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর জন্মনিয়ন্ত্রণ, ব্রেস্ট ফিডিং, মাতৃমৃত্যু ও অসুস্থতা, গর্ভপাত এবং কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর গবেষণা কার্যক্রম দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত।


