Saturday, September 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 63

গরম-বৃষ্টিতে ঈদ, শিশুর পোশাকে চাই আরাম

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

যেকোনো উৎসব-পার্বনে শিশুর আনন্দই প্রাধান্য পায় বেশি। ঈদেও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এবার ঈদটা যেহেতু মোটামুটি গরম-বৃষ্টির মধ্যে পড়ছে, তাই শিশুর পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটু সচেতন হতেই হবে।

শিশুর ত্বক যেহেতু বড়দের তুলনায় কিছুটা নাজুক ও স্পর্শকাতর, তাই পোশাকে কী ধরনের ফ্যাব্রিক ব্যবহার হচ্ছে, এর রং কেমন হচ্ছে, জামাটি আরামদায়ক হচ্ছে কি না- সেগুলো বিবেচনায় রাখা বেশ জরুরি। ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফট -এর উদ্যোক্তা – কর্ণধার খালিদ মাহমুদ খান জানান, এবার শিশুদের পোশাকে প্যাটার্ন, ফ্যাব্রিক ও রঙের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য আরামদায়ক হবে, এমন পোশাক নির্বাচন করে প্যাটার্নে ভিন্নতা আনা হয়েছে, যা উৎসবের আমেজ বহন করবে।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

কেবল বড়দের নয়, ঈদে ছোটদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় পোশাক, জানিয়ে ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশ- এর প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস বলেন, ‘পোশাকের কাপড়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে লিনেন, জ্যাকার্ড কটন, ভয়েল, লিনেন স্লাব, নেট ফেব্রিক, টিস্যু মসলিন, পিয়র সিফন জর্জেট ও চোষা সিল্ক। আমরা শিশুদের জন্য আলাদা একটি সেগমেন্ট তৈরি করেছি ‘রঙ জুনিয়র’। এখানে বিশেষভাবে তাদের জন্য আরামদায়কভাবে পোশাকগুলো তৈরি করা হয়।
এগুলো গরম-বৃষ্টিতে শিশুকে আরাম দিতে সাহায্য করবে।’

ছবি :  রঙ বাংলাদেশ
ছবি : রঙ বাংলাদেশ

বাজারঘুরে দেখা গেছে, এবারের ঈদে মেয়ে শিশুর জন্য উৎসব ভিত্তিক পোশাকে থাকছে- লেহেঙ্গা সেট, টপস সেট, স্কার্ট, পার্টি ফ্রক, সালওয়ার কামিজ, ফ্রক, কুর্তি, টপস, কাফটান, টপস-কটি সেট,পালাজো।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

ছোট ছেলেদের পোশাক আয়োজনে রয়েছে নানা রঙের পাঞ্জাবি, হাফহাতা কাটের শার্ট ও ফতুয়া। শিশুদের যা পছন্দ হবে বা ভালো লাগবে তাই প্রাধান্য পাচ্ছে এবার। এ ছাড়াও ছোট মেয়েরা, বোন অথবা মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে পরতে পারবে, এমন সালওয়ার কামিজ, কুর্তি থাকছে এবং বাবা ও ছেলের জন্য ম্যাচিং পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া থাকছে বরাবরের মতাে।

ছবি :  রঙ বাংলাদেশ
ছবি : রঙ বাংলাদেশ

উৎসব-আনন্দ মূলত শিশুদেরই। এই আমেজটি সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করতে শিশুকে তাই সুস্থ রাখতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে সঠিক পোশাক নির্বাচনের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এবারের ঈদ প্রতিটি সোনামণির জন্য বয়ে নিয়ে আসুক অনাবিল আনন্দ ও নবআনন্দের বার্তা।

হবু বাবার ৫ জরুরি দায়িত্ব

ডা. হালিদা হানুম আখতার

একজন মা সন্তানসম্ভবা হলে, সেটা কেবল মায়েরই আনন্দ নয়, দম্পতির আনন্দ। দম্পতির মধ্যে কে ? ওই নারী, যিনি সন্তানসম্ভবা হয়েছেন এবং সঙ্গে তার স্বামী, যে কি না বাবা বা হবু বাবা। আজ আলোচনার বিষয়ই হলো, এই হবু বাবার কী দায়িত্ব ? এটি নিয়েই বেশ করে আলোচনা করতে চাই।

আমাদের বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থায়, গ্রামে ও শহরে- দুই জায়গাতেই দেখা যায়, শাশুড়ি বা যিনি বাড়ির বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তি- নারী, তিনি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছেন। তিনিই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ওই নারীর প্রসব বাড়িতে হবে, না কি হাসপাতালে হবে ? কয়টি অ্যান্টিনেটাল চেকআপে যাবে বা প্রসবের পরিকল্পনা কী ধরনের হবে? তবে আমি বিশেষভাবে এই আলোচনায় যেটাকে গুরুত্ব দিতে চাই, সেটি হলো, ওই সন্তানটির যিনি বাবা, তার কী দায়িত্ব? পুরুষে কী দায়িত্ব ?

সন্তানসম্ভবা মাকে ক্লিনিকে নিয়ে চেকআপ

প্রথমত, হবু বাবা তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ক্লিনিকে চেকআপ করাতে যাবে। ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসকের কাছে আলোচনা করবে। অ্যান্টিনেটাল চেকআপে স্ত্রী ও গর্ভের সন্তানের সুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। তাকে জানতে হবে, বাচ্চাটা গর্ভে ঠিকমতো বড় হচ্ছে কি না, মায়ের কোনো জটিলতা রয়েছে কি না, মায়ের রক্ত ঠিক রয়েছে কি না, মা কি রক্তশূন্যতায় ভুগছে, মায়ের রক্তচাপ ঠিকঠাক রয়েছে কি না, মায়ের ওজন ঠিক রয়েছে কি না। সুতরাং বাবার একটি বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। তবে আমরা তাদের সাধারণত দৃশ্যের বাইরে রেখে দিই। আমি বলবো, ‘না’, দৃশ্যের ভেতরে রাখতে হবে এবং তাকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

টাকা জোগাড়

পুরুষের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে এই ক্ষেত্রে। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাকাটা তার হাত দিয়ে আসে। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।তাই প্রসবের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে, সেটি তাকে আগে থেকেই জোগাড় করতে হবে।

জটিলতার বিষয়ে জানা

জটিলতার বিষয়গুলো তাকে জানতে হবে। কী জটিলতা হচ্ছে? যেমন, ব্লিডিং হয়ে মা মারা যেতে পারে। হেমোরেজ হয়ে মায়ের মৃত্যু ঘটতে পারে। মায়ের ভালোভাবে চেকআপ না হলে, দেখা যাবে রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে। তার প্রসাবের মধ্যে অ্যালবুমিন চলে আসছে। সে চোখে অন্ধকার দেখছে। এই জটিলতার কারণে সে পরবর্তী সময়ে খিঁচুনি হয়ে মারা যেতে পারে। মায়ের আগের কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, হার্টের কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তার ডায়াবেটিস রয়েছে কি না- চেকআপের মধ্যে জানতে পারা যাবে।

ওই বাবার দায়িত্ব থাকবে, তার স্ত্রীকে সঙ্গে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে চেকআপ করে নিশ্চিত হওয়া যে সবকিছু ঠিকমতো চলছে। আর কোনো সমস্যা থাকলে, দ্রুত সেবা নিতে হবে। চিকিৎসা নিতে হবে এবং এখানে কোনো গাফিলতির জায়গা নেই। এখানে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। অন্য কেউ যতই সহযোগিতা করুক, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিতে হবে সন্তানের বাবাকে।

সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া

আমরা দেখছি, এখনো ৫০ শতাংশ প্রসব গ্রামে হচ্ছে এবং বাড়িতে হচ্ছে। এর মানে কী ? সেখানে সেবাদানকারীর অভাব, ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য যে টাকা লাগবে, সেটার হয়তো অভাব রয়েছে। আবার জটিলতা হলে, হাসপাতালে নিতে চায় না, বাড়িতেই রেখে দেয়; এতে মায়ের মৃত্যু হয়, শিশুর মৃত্যু হয়। গবেষণায়, আমরা দেখেছি, ১৯ শতাংশ মা মারা যাচ্ছে, রাস্তায়। মানে হাসপাতালে এতো দেরি করে নেওয়া হচ্ছে, যে রাস্তাতেই বা সেখানে পৌঁছেই মা মারা যাচ্ছে।

চিকিৎসক এসে হয়তো দেখে বলছে, ‘মরা রোগী নিয়ে আসছেন।’ সুতরাং হাপাতালে নিতে হলেও আমাদের সময়মতো নিতে হবে। একটুখানি জটিলতা দেখা দিলেও হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। এই দায়িত্বগুলো থেকে কোনো বাবা পার পাবে না বা পরিবারের কোনো ব্যক্তির পার পাওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলে তদন্ত হয়; কার গাফিলতির জন্য হয়েছে, সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমাদের দেশে এখনো সেরকম কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তবে আমার মনে হয়, হওয়া দরকার। একটু বেশিই দরকার। কারণ, একজন মা ও একটি শিশুর জীবন -দুটোই অনেক মূল্যবান এবং এটাকে সামনে রেখেই আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে।

রক্তদাতা প্রস্তুত রাখা

একজন মায়ের রক্তের প্রয়োজন হলে, সেটি কে দেবে, আগে থেকে নিশ্চিত হয়ে রক্তদাতাকে প্রস্তুত রাখতে হবে। এসব প্রস্তুতি ভীষণভাবে দরকার।

আমি সূর্যের হাসি প্রকল্প পরিচালনা করবার সময় ‘তিনদিনের পাহারা’ বলে একটি কাজ আমি করেছিলাম, সেটি হলো, তিনদিনের পাহারা। আমরা জানি, মাতৃমৃত্যু সবচেয়ে বেশি হয় প্রসবের তিনদিনের মধ্যে। আবার শিশু মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হয়, জন্মের সাতদিনের মধ্যে এবং প্রথম চারদিন বেশিরভাগ মৃত্যুগুলো হয়। এই তিন থেকে চারদিনের মধ্যে আমরা খুব ভালোভাবে তাদের পর্যবেক্ষণ করতে পারলে বা পাহারা দিতে পারলে, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারবো এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারবো। আমি তখন চারজনের একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম। একে তিনদিনের পাহারা বলতাম। এরা সবাই মিলে পরিবারের অর্থ না থাকলে একটুখানি টাকা দিয়ে হলেও, মাকে হাসপাতালে নেওয়া এবং মায়ের যেন সঠিকভাবে প্রসব হয়, এটি নিশ্চিত করতো।

তাে মোদ্দা কথা হলো, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে পরিবারের পুরুষ সদস্য, ওই হবু সন্তানের বাবার বিরাট বড় দায়িত্ব রয়েছে। এই দায়িত্ব না নিলে, পরে যেই ক্ষতিটা হবে, সেটা অপূরণীয়। মায়ের মৃত্যু হতে পারে, শিশুর মৃত্যু হতে পারে। সে জন্য এই বিষয়ে সবাইকে সাবধান থাকার জন্য আমার বিশেষভাবে অনুরোধ থাকলো। এই প্রস্তুতি আমাদের আগে থেকে নিতে হবে, তাহলে মাকে আমরা সুস্থ পাবাে। মা একটি ফুটফুটে সুন্দর শিশুকে নিয়ে সংসার চালাতে পারবে।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবি খুঁজছেন ? কে ক্র্যাফট-এ চলে যান

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সব বয়সী পুরুষের ঈদ পোশাক নির্বাচনে প্রথমেই থাকে পাঞ্জাবি। ঈদের সকালে নামাজ থেকে শুরু করে সারাদিনের ঘোরাঘুরি-আড্ডা এবং রাতের পার্টিতে এর কোনো বিকল্প নেই। ঈদ পোশাক হিসেবে পাঞ্জাবির আবেদন একটুও কমেনি, বরং রয়েছে এর আলাদা কদর।

যেহেতু এবারের ঈদ গ্রীষ্মকেন্দ্রিক, তাই আরামদায়ক পোশাকই বেছে নিতে চাইবেন অধিকাংশরা। আর ক্রেতাদের এই চাহিদাকে মাথায় রেখে এই ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবিই থাকছে কে ক্র্যাফট-এর ফ্যাশন কালেকশনে।

ক্রেতাদের চাহিদা, পরিবেশ, আবহাওয়া ও আরামের কথা বিবেচনা করে নির্বাচন করা হয়েছে ফেব্রিক। এই তালিকায় রয়েছে ফ্লোরাল, স্ট্রাইপ, সেভরন বা জিওমেট্রিক প্যাটার্নে উইভিং ডিজাইনের জ্যাকার্ড কটন, কটন, টু-টোন, নিব কটন, ভিসকজ, লিনেন ইত্যাদি।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

চলতি ধারার পাশাপাশি অনেকে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতাকে একসঙ্গে ধারণ করতে চায়। তাদের জন্য কাট, প্যাটার্ন ও নকশার সমন্বয়ে করা পাঞ্জাবির কলার প্লেটে বিশেষভাবে এমব্রয়ডারি, বিড এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্টের কাজ করা হয়েছে। ইয়ক বা বুকে এবং হাতাতে অল্প কাজ করা হয়েছে। প্লেইন ফ্যাব্রিকের ক্ষেত্রে খুব হালকা প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি ও কারচুপির কাজে জরির সুতার সঙ্গে ম্যাচ করা বাটন ব্যবহার হয়েছে। কাট বেইজ’ড পুরো পাঞ্জাবি জুড়ে প্রিন্টের ব্যবহার রয়েছে। সঙ্গে মেটাল বাটনেও করা হয়েছে, যা আজকাল তরুণ প্রজন্মের কাছেও পছন্দের।

এ ছাড়াও থাকছে একরঙা পাঞ্জাবি। বাবা-ছেলে এমনকি পরিবারের সবাই আলাদা আলাদাভাবে একই মোটিফ এবং রঙ ম্যাচ করে পরতে পারবেন।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

মুঘল, আলাম ট্রাইবাল, ইজিপশিয়ান অর্নামেন্টস, জিওমেট্রিক, ট্রাইবাল, ট্র্যাডিশনাল, ওরিয়েন্টাল, কাশ্মিরি, মিক্সড, ফ্লোরাল, আর্ট, এথনিক সহ নানা মোটিফের নকশা করতে মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট, কারচুপির কাজ। রঙের ক্ষেত্রে প্যাস্টেল শেড ছাড়া অন্যান্য হালকা রঙ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কফি, নেভি ব্লু, এনটিক ব্লু, মিড নাইট ব্লু, এশ, ব্রিক রেড, ক্রিমসন রেড, হোয়াইট, অফ-হোয়াইট, পিচ, স্যালমন রেড, রাসবেরি, অ্যাকুয়া মেরিন, অ্যাকুয়া গ্রুন, মেরুন, ইয়েলো গোল্ড রঙের পাঞ্জাবিও।

পাঞ্জাবিগুলো পাওয়া যাবে ১ হাজার ২শ থেকে ৪ হাজার ৫শ টাকার মধ্যে। সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নিতে কালেকশনে থাকবে কাতান, সিল্ক ও কটন কাপড়ে হালকা ও ভারি প্রিন্ট করা কটি।

কে ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লার সকল শো-রুম ছাড়াও অনলাইন শপ kaykraft.com থেকে ঈদ আয়োজনের পোশাক কেনা যাবে সাশ্রয়ী মূল্যে। এ ছাড়া ফেসবুক পেজ থেকেও অর্ডার করা যাবে।

সন্তান প্রসবের আগে সেবা : কেন জরুরি, কীভাবে নেবেন ?

ডা. হালিদা হানুম আখতার

একজন মায়ের গর্ভধারণ অনেক আনন্দের বিষয়। অনেক আশার ও প্রত্যাশার ব্যাপার। এটি খুশির আমেজ নিয়ে আসে, একটি পরিবার, দম্পতি ও একজন মায়ের কাছে।

তবে সেই সঙ্গে দম্পতি বা পরিবারের একটি দায়ও চলে আসে। শুধু গর্ভধারণ নিয়ে আনন্দ করলে হবে না, দায়িত্বও নিতে হবে। এটি হলো, একজন মা যখন জানবে, আমি সন্তানসম্ভবা হয়েছি, পরিবার জানবে আমার ছেলের বউ বা আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হয়েছে, তখন দায়িত্বের একটি লম্বা লিস্ট হয়ে যাবে।
দায়িত্বের মধ্যে পড়বে :

১. অ্যান্টিনেটাল কেয়ার

অ্যান্টিনেটাল কেয়ার বা প্রসবের পূর্ববর্তী সেবাগুলো নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রসবের পূর্ববর্তী সেবা কখন নেবে, কোথায় নেবে এবং কতবার নেবে – এসব বিষয় পরিবারকে জানতে হবে। পাশাপাশি একটি ক্লিনিকে গিয়ে এটি নেওয়া প্রয়োজন। বাড়িতে কাউকে ডেকে এটি হবে না। এই সেবার মধ্যে কিছু শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। মায়ের রক্তচাপ ঠিক রয়েছে কি না, গর্ভের সন্তান ঠিক সময়মতো বড় হচ্ছে কি না, তার ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কি না, মায়ের রক্ত ঠিক রয়েছে কি না, মা রক্তস্বল্পতায় ভুগছে কি না- দেখতে হবে। এসব বিষয় সুন্দর করে মনিটর করার জন্য প্রসব পূর্ববর্তী সেবা নেওয়া প্রয়োজন। অন্ততপক্ষে চারটি সেবা নিতে হবে।

২. পরিকল্পনা

গর্ভধারণ থেকে প্রসব- সুস্থভাবে করার জন্য একটি পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পরিকল্পনার মধ্যে হলো, কোন ফেসিলিটিতে যাবেন, কে দেখবেন, কতবার যাবেন? এ ছাড়াও আরো বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।

যখন প্রসবের সময় কাছাকাছি হয়ে আসবে, তখন জানতে হবে, কোথায় ডেলিভারি হচ্ছে ? কোনো হাসপাতালে হবে, না কি প্রাইভেট ক্লিনিকে হবে, না কোনো সরকারি হাসপাতালে হবে, না কি কোনো এনজিও ক্লিনিকে হবে- এসব বিষয় আগে থেকে ঠিক করে নেওয়া প্রয়োজন। ক্লিনিকের ফোন নম্বর নিজেদের কাছে রাখতে হবে। সেই ক্লিনিকে অ্যাম্বুলেন্স থাকলে, সেটির নম্বর রাখবেন।

পরিকল্পনা না করলে কী ক্ষতি ?
আমরা এখনো জানি যে বাংলাদেশে ৫০ শতাংশ প্রসব বাড়িতে হচ্ছে। এটি একটি বড় সমস্যা। কারণ, বাড়িতে আমরা সঠিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি পাচ্ছি না। প্রসবের সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে কোনো জটিলতা হলে, সে সঠিকভাবে নিরূপণ করতে পারে না।

আমি যেহেতু একজন গবেষক, গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি, প্রশিক্ষণ নেই এমন কাউকে ডাকা হচ্ছে বা পুরুষ পল্লী চিকিৎসককে ডাকা হচ্ছে। উনি এসে হয়তো একটি ইনজেকশন দিয়ে দিচ্ছেন বা স্যালাইন দিয়ে দিচ্ছেন। তবে উনি পরীক্ষা করতে পারছেন না। সে কোনো রকম দক্ষতা প্রকাশ না করার কারণে মায়ের জটিলতা বাড়তে পারে। মায়ের একলামসিয়ার আশঙ্কা থাকে। মায়ের রক্তপাত হতে পারে। সন্তান ঠেলাঠেলি করে প্রসব হলেও দেখা যাবে, মারা যাচ্ছে। আবার অনেক সময় সন্তান প্রসব হয়, তবে ফুল বের হতে সময় লাগে। তখন হাত দিয়ে টানাটানি করে ফুল বের করে। এর জন্য রক্তপাত হয়ে মা মারা যেতে পারে।

৩. রক্তদাতা ঠিক করা

আরেকটি বিষয়ে আমরা খুব গুরুত্ব দিই। হঠাৎ মায়ের রক্তের দরকার হলে তার পরিবার থেকে রক্তদাতা আগে থেকেই ঠিক রাখতে হবে, যেন জরুরি সময় মাকে বাঁচানো যায়। এটি একটি বড় প্রস্তুতি।

৪. টাকা জমানো

ভালোভাবে প্রসবের জন্য টাকা প্রয়োজন। এই জন্য একটি পরিবারকে এর পরিকল্পনা করতে হবে। প্রয়োজনমতো টাকা জমাবে। এই টাকাটা না নিলে কিন্তু সেবা নিতে পারবে না। না হলে কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বাড়িতে নিয়ে আসলে ঝুঁকি বাড়বে। তাই টাকা জমাতে হবে। প্রয়োজনে গর্ভাবস্থার সময় থেকে মা একটি সঞ্চয়/ ব্যাংক বানাবে। যেখানে মা ও তার পরিবারের সদস্যরা একটু একটু করে টাকা জমাবে। এতে প্রসবের সময় সুবিধা হবে।

সুতরাং মায়ের বেঁচে থাকা এবং শিশুটি সুন্দরভাবে ও বলিষ্ঠভাবে প্রসব হওয়ার জন্য সঠিক পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নিতে হবে, সেবা নিতে হবে এবং যতপোযুক্ত জায়গায় যেতে হবে। তাহলেই মা ও শিশুকে সুস্থভাবে রাখা সম্ভব।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

উৎসব হোক ‘আমেন কালেকশন’- এর জামদানিতে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঈদ বা পহেলা বৈশাখের উৎসব থেকে শুরু করে ‘কান’ -এর রেড কার্পেট ইভেন্ট- কোথায় নেই জামদানির কদর ! আসলে বাঙালির একান্ত নিজস্ব বলে যা রয়েছে, তার মধ্যে জামদানি অন্যতম। এই শাড়ির সুতো, নকশা, রঙের সমন্বয় যেকোনো নারীকেই অভিজাত ও ব্যক্তিত্বময় করে তোলে।

নারায়ণগঞ্জের প্রত্যন্ত জায়গা থেকে শহুরে মানুষের কাছে তাঁতিদের হাতে বোনা একদম আসল জামদানি যারা পৌঁছে দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে আমেন কালেকশন অন্যতম। শতভাগ আসল জামদানি, কম মূল্যে ক্রেতাদের সামনে নিয়ে আসতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে কাজ করে যাচ্ছে ফেসবুকভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান। আমেন কালেকশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. দিলরুবা নাসরিন এবং এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ইফতেখার আমিন। এবারের ঈদ ও পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এসেছে জামদানির বৈচিত্র্যময় সমাহার। এখানে শতভাগ আসল জামদানি শাড়ি অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেকটা কম দামে পেয়ে যাবেন ক্রেতারা।

ছবি : আমেন কালেকশন
ছবি : আমেন কালেকশন

সাতকাহন২৪.কম : এবারের ঈদ ও পহেলা বৈশাখকে ঘিরে কী ধরনের শাড়ি এনেছেন আপনারা ?

ডা. দিলরুবা নাসরিন : ঈদ ও পহেলা বৈশাখ দুটোই তো এবার পাশাপাশি ও পরপর পড়ছে। তাই দুটোকেই মাথায় রেখে, পোশাক আনার চেষ্টা করছি। পহেলা বৈশাখের ক্ষেত্রে মানুষ একটু বাজেট কমের মধ্যে শাড়ি চায়। আমরা এবার মোটামুটি কম থেকে দামি সব ধরনের পোশাকই রেখেছি। তবে হাই রেঞ্জের শাড়ি এবার একটু বেশি করা হয়েছে। নকশার বৈচিত্র্যতো রাখার চেষ্টা করছিই। নতুন নতুন নকশার শাড়ি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইফতেখার আমিন : মূলত ঈদ ও পহেলা বৈশাখ দুটোই আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। তাই এ বিষয়গুলো খেয়াল রেখে, নকশার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য রয়েছে এমন শাড়িগুলোই এনেছি। আমেন কালেকশনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, আমরা সবসময়ই নকশার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের ওপর জোর দিই। সবসময়ই আমরা চেষ্টা করি, গতাণুগতিক থেকে ভিন্নধারার শাড়ি আনতে। এবার আরেকটু বৈচিত্র্যময় নকশা আনার চেষ্টা করেছি। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে লাল শাড়ির দিকে ফোকাস করা হয়েছে।

ছবি : আমেন কালেকশন
ছবি : আমেন কালেকশন

সাতকাহন২৪.কম : শাড়িগুলো কােথা থেকে আপনারা তৈরি করান?

ডা. দিলরুবা নাসরিন : আমরা যেসব তাঁতিদের সঙ্গে কাজ করি, তারা বরাবরই নারায়ণগঞ্জের। তাদের কাছ থেকেই একদম আসল জামদানিগুলো আমরা বের করে নিয়ে আসি।

ইফতেখার আমিন : আমাদের শাড়িগুলো মূলত নিজস্ব তাঁতি দিয়ে তৈরি করা হয়। নারায়ণগঞ্জের একদম প্রত্যন্ত জায়গা থেকে আমাদের নিজেদের তাঁতিরা শাড়িগুলো তৈরি করে।

ছবি : আমেন কালেকশন
ছবি : আমেন কালেকশন

সাতকাহন২৪.কম :এগুলোর দাম কেমন ?

ডা. দিলরুবা নাসরিন : পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে জামদানিগুলো পাওয়া যাবে।

ইফতেখার আমিন : আসলে জামদানি শাড়ির সুতার দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাই দামও বেড়েছে। আর আমেন কালেকশন শাড়ির মানের সঙ্গে কখনো কমপ্রোমাইজ করেনি এবং করবে না। তাই দামটাও সেভাবেই রাখতে হচ্ছে। আর যেহেতু শাড়ির নকশায় অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে, তাই ১০ হাজার টাকার ওপরে একটু বেশি। আমেন কালেকশন লাভটা খুবই সিমিত রাখে। অনেকে হয়তো বলবে, এটি খুব ক্লিশে বিষয়। তবে বিশ্বাস করুন, আমি নিজে গিয়ে তাঁতিদের কাছ থেকে শাড়িগুলো নিয়ে আসি। পাশাপাশি আমাদের লাভের পরিমাণটা খুব কম। আমরা আমেন কালেকশনে ১০০ ভাগ আসল ঢাকাই জামদানি কম দামে রাখতে পারি।

সাতকাহন২৪.কম : আপনাদের অর্ডার করা এবং ডেলিভারি পদ্ধতির বিষয়টি বিস্তারিত বলুন..

ইফতেখার আমিন : অর্ডার করাটা খুবই সহজ। পেইজের শাড়ি পছন্দ হলে নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর বিস্তারিত দিলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ডেলিভারি করি। ঢাকার মধ্যে ডেলিভারি ৮০ টাকা। ঢাকার বাইরে জায়গাভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। এই ক্ষেত্রে ডেলিভারি হয়তো আরেকটু বেশিদিন লাগে। ডেলিভারির ক্ষেত্রে কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর করা হয়।

আমাদের শাড়ি প্রি অর্ডার করা সম্ভব। কেউ একটি শাড়ি পছন্দ করলো, হয়তো সেটার স্টক ফুরিয়ে গেছে। সেই ক্ষেত্রে আমরা প্রি অর্ডার নিয়ে থাকি। এ ক্ষেত্রে শাড়ি ভেদে অন্তত ২৫ দিন থেকে এক মাস সময় নিই। এতে একদম নতুন শাড়ি গ্রাহককে দিতে পারি। কেউ অর্ডার করতে চাইলে, তাকে আগে থেকে কিছু অ্যাডভান্স করতে হয়।

ছবি : আমেন কালেকশন
ছবি : আমেন কালেকশন

সাতকাহন২৪.কম : ডিসকাউন্ট রয়েছে কি ?

ডা. দিলরুবা নাসরিন : বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উৎসবে আমরা ডিসকাউন্ট দিই। এবার এখনো তেমন কোনো ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়নি। তবে এতটুকু বলতে পারবো, অন্য যেকোনো পেইজের চেয়ে আমেন কালেকশনে অবশ্যই ভালো মানের শাড়িটি পাবেন। আমরা অন্যান্য পেইজের থেকে কিছুটা কম দামে শাড়ি বিক্রি করি।

ছবি : আমেন কালেকশন
ছবি : আমেন কালেকশন

সাতকাহন২৪.কম : আসল ও নকল জামদানির পার্থক্য কীভাবে করা যাবে ?

ডা. দিলরুবা নাসরিন : যেটা নকল সেটিতো আসলে জামদানি নয়। এখানে জামদানির নকশা ব্যবহার করে টাঙ্গাইল শাড়ি বা মেশিনের তৈরিকে জামদানি হিসেবে চালানো হয়।

ইফতেখার আমিন : আসল জামদানি কেবল ঢাকাই জামদানি। নকলে কেবল জামদানির নকশাকে একটি শাড়ির ওপর ছাপিয়ে দেওয়া হয়। এটা আসল শাড়ির ধারের কাছেও নয়। আসলটি সম্পূর্ণ হাতে বুনতে হয়। এর নকশা হয় খুব সূক্ষ্ম, নিঁখুত ও মসৃণ। জামদানিতে সুতা সাধারণত বের হয়ে থাকে না। নকলগুলোতে সুতাগুলো বের হয়ে থাকে, অনেকটা কাঁটার মতো।

ছবি : আমেন কালেকশন
ছবি : আমেন কালেকশন

একটা জামদানি তৈরি করতে তাঁতিকে গড়ে অন্তত ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। শাড়ির নকশার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। জামদানি শাড়ি বুনতে ১০ দিন থেকে এক মাস লাগে। খুব ভালো জামদানি তৈরিতে ছয় মাসও লাগে। মেশিনে বুনলে একদিনের মধ্যে দুই থেকে তিনটি শাড়ি তৈরি করা যায়।
আসল জামদানি শাড়ি পরলে আরাম পাওয়া যায়। অন্যদিকে নকলটিতে নাইলনের সুতো থাকে, তাই খসখসে ও ভারি হয়।

জামদানি তৈরির সিল্ক সুতা মাড় দেওয়া থাকে। পিওর সিল্কের সুতা টানাটানি করলে ছিঁড়ে যায়। পুড়ালে চুলের মতো পোড়া গন্ধ বের হয়। আচলের শেষ প্রান্তের সুতা মোড়ানো হলে সেগুলো জড়িয়ে যায়। নাইলনের হলে যেকোনো অবস্থাতে সমান থাকে।

আমেন কালেকশন- এর ফেসবুক পেইজ :

AmenCollectionBD

ফোন : 01730-430897

ই মেইল : iftekhar.amin2016@gmail.com

ঈদে মাত্র ৪৯৯ টাকায় ফেসিয়াল !

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

এবারের রমজানের ঈদকে সামনে রেখে ফেসিয়ালে ছাড় দিচ্ছে বিউটি স্যালন ‘প্রিটি লেডি বাই সোনিয়া খান’। এখান থেকে ফেসিয়াল করা যাবে মাত্র ৪৯৯ টাকায়। এই অফার চলবে ২৯ মার্চ পর্যন্ত।

প্রিটি লেডি বাই সোনিয়া খানের কর্ণধার, রূপবিশেষজ্ঞ সোনিয়া খান জানান, ঈদ উপলক্ষে আমাদের অনেকগুলো অফার চলছে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত হেয়ার কাটের ওপর অফার ছিল। মাত্র ৯৯ টাকায় আমরা চুল কাটিয়েছি। আর এখনকার অফারটি চলছে ফেসিয়ালের ওপর।

প্রিটি লেডি বাই সোনিয়া খান সবসময়ই চেষ্টা করে ক্লাইন্টদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে জানিয়ে সোনিয়া খান বলেন, ‘ক্লাইন্টদের সন্তুষ্টিতেই আমাদের সন্তুষ্টি। নির্দিষ্ট এই অফারগুলোর বাইরেও বিভিন্ন সেবাতে আমাদের বিশেষ মূল্যছাড় রয়েছে। ক্লাইন্টরা সেগুলো যেকোনো সময় নিতে পারেন।’

প্রিটি লেডি বাই সোনিয়া খানের ঠিকানা :

House-43, Road-6, Block-c, Niketon, GULSHAN, Dhaka, Bangladesh ; 01671-719149

গর্ভাবস্থা ও প্রসবের সময় মাতৃমৃত্যু : কারণ ও করণীয়

ডা. হালিদা হানুম আখতার

প্রতি বছর পাঁচ হাজারের ওপর মাকে আমরা গর্ভের কারণে হারাচ্ছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে, এতোগুলো মাকে হারানোর বিষয়টি প্রতিরোধ করা যায়। এই মৃত্যুগুলো প্রতিরোধযোগ্য।সঠিকভাবে সেবা দেওয়া হলে মাকে আর মরতে হবে না।

মাতৃমৃত্যুর কারণ

অতিরিক্ত রক্তপাত

গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো, অতিরিক্ত রক্তপাত বা হেমোরেজ। প্রসব হওয়ার সময় বা প্রসবের একটু আগে বা পরে অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে, প্রায় ৩১ শতাংশ মা মারা যায়।

খিঁচুনি

মাতৃমৃত্যুর আরেকটি কারণ খিঁচুনি। প্রায় ২৫ শতাংশ মা এই কারণে মারা যায়। একে আমরা একলামসিয়াও বলি। এই সময় রক্তচাপ বেড়ে যায়, প্রস্রাবের মধ্যে অ্যালবুমিন চলে আসে। সে চোখে অন্ধকার দেখতে থাকে। এগুলোকে প্রি অ্যাকলামটিক টক্সিমিয়া বলে। গর্ভের কারণে যে টক্সিমিয়া হয়, এর জন্য এই জটিলতাগুলো হচ্ছে। জটিলতাটা হলো, খিঁচুনি। এর কারণে মা মারা যেতে পারে। তাঁঁর পেটের ভেতরের সন্তান, প্রসবের আগেও মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গর্ভপাতের জটিলতা

মাতৃমৃত্যুর আরেকটি বড় কারণ হলো, গর্ভপাতের জটিলতা। কোনো মা গর্ভের সন্তান রাখতে না চাইলে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাতের মতো ঘটনা ঘটে। সে গর্ভটি অপসারণের জন্য হয়তো বিভিন্ন জায়গায় যায়। প্রশিক্ষণ নেই, এই রকম ব্যক্তির কাছে যাচ্ছে, তখন সে কারণে মৃত্যু হচ্ছে। এই রকম মৃত্যুর সাত শতাংশ। একশ জন মা মারা গেলে সাতজন মারা যায় গর্ভপাতের জটিলতার কারণে।

অন্যান্য কারণ

এ ছাড়া ২০ শতাংশ মা অন্যান্য সমস্যার কারণে মারা যায়। যেমন : গর্ভধারণের কারণে ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে, হার্টের সমস্যা থাকলে, সেটা বেড়ে যেতে পারে। এসব কারণে মৃত্যুগুলো ঘটে। একে আমরা পরক্ষ্য কারণ বলি।

করণীয়

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে অ্যান্টিনেটাল চেকআপ

গর্ভের সময় একজন মাকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে গিয়ে সেবা নিতে হবে। অন্তত চারটি অ্যান্টিনেটাল কেয়ার প্রয়োজন। এই সেবার মধ্যে থাকছে- তাঁর চেকআপ করা; তাঁর রক্তচাপের অবস্থা দেখা; তাঁর সন্তানটি গর্ভের বয়স অনুযায়ী বাড়ছে কি না সেটি দেখা; তাঁর অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, সেটি চেকআপ করা।

সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা নেওয়া

কোনো সমস্যা দেখা দিলে, যেমন- ব্লাড প্রেশার বেড়ে গেলে, সে অনুযায়ী ওষুধ দিতে হবে। খিঁচুনির পূর্বাভাস দেখা দিলে, প্রস্রাবের মধ্যে অ্যালবুমিন আসলে চিকিৎসা নিতে হবে। অল্প রক্তচাপ, অ্যালবুমিন ধরা পড়লে চিকিৎসা দিয়ে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বাড়িতে প্রসব না করানোই ভালো

৫০ শতাংশ মা অ্যান্টিনেটাল কেয়ার নেওয়ার পর হাসপাতালে প্রসব হচ্ছে। অপরদিকে ৫০ শতাংশ মায়ের এখনো বাড়িতে প্রসব হয়। দাই বা আত্মীয়-স্বজন, প্রবীণ মানুষ হয়তো মায়ের প্রসব করাচ্ছে। তাদের হয়তো কোনো ধরনের আধুনিক প্রশিক্ষণ নেই। এতে শিশুটিকে টানা-হেঁচড়া শুরু হয়। শিশুটি কষ্ট পায়, পেটের মধ্যে মারা যায়। অথবা সে হয়তো বের হয়ে আসলো, কিন্তু ফুল বের হচ্ছে না। তখন হয়তো হাত দিয়ে খাঁমচি দিয়ে এটি বের করে আনা হয়। এতে মা রক্তপাত হয়ে মারা যায়। এসব জ্ঞান না থাকার কারণে বাড়িতে প্রসব হলে ২৮ শতাংশ মরা বাচ্চা হয়। তাই বাড়িতে প্রসব করানো যাবে না। আর করাতেই হলে একেবারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আনতে হবে। খুব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাড়িতে ডেলিভারি করাতে চাইবে না। সুতরাং যেখানে ডেলিভারি হয়, এমন জায়গায় চেকআপ বা অ্যান্টিনেটাল কেয়ার করতে হবে। সময়মতো সেখানে গিয়ে প্রসব করাতে হবে। তাহলে আমরা এই মাতৃমৃত্যু কমিয়ে নিয়ে আসতে পারবো।

যে পরিবারের নারী সন্তানসম্ভবা সেখানে প্রত্যেকের একটি দায়িত্ব নিতে হবে, তাহলে মাকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং শিশুকেও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

লেখক :
রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.