Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 4

হার্টের অসুখ বাড়াতে পারে যেসব খাবার

লিনা আকতার

রান্নার সময় অনেকেই বাড়তি লবণ ব্যবহার করেন। আবার খাবারের স্বাদ বাড়াতে বেকিং সোডা, সসও ব্যবহার করেন অনেকে। এগুলো মুখরোচক হলেও এসবের পরিমাণ কম রাখতে হবে।

আবার ভাতের সঙ্গে কাঁচা লবণ ছিটিয়ে খাওয়া, টক বা মরিচের আচার, ফল খাওয়ার সময় লবণ-মরিচ ছিটিয়ে নেওয়া — এসব অভ্যাস এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে ক্ষতি হয়তো আমরা টেরই পাই না। তবে শরীর ঠিকই হিসাব রাখে। লবণের বাড়তি সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, হার্টের ওপর চাপ তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে এই চাপই রূপ নেয় উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে।

শুধু বড়রা নন, শিশু, কিশোর- কিশোরীও এসব খাবারে অভ্যস্ত। বাসায় বা স্কুল শেষে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় চিপস, চকলেট, বিভিন্ন রঙিন প্যাকেটজাত খাবার। দেখে মনে হয়, ছোট্ট একটা নাস্তা। তবে এগুলোতে লুকিয়ে থাকে অতিরিক্ত সোডিয়াম, চিনি ও ট্রান্সফ্যাট। এভাবে শিশুরা অল্প বয়স থেকেই এমন উপাদান গ্রহণ করে, যা ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগের প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

আরেকটি বড় সমস্যার নাম তেল। ভাজাপোড়া খাবার আজকাল নিত্যদিনের অভ্যাস। ডুবো তেলে সিঙ্গারা-সমুচা, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা বাসায় বারবার ব্যবহার করা তেল — এসবেই বৃদ্ধি পায় ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট। এতে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বেড়ে ধমনী শক্ত হতে থাকে। দীর্ঘদিনের এই প্রক্রিয়া একসময় হৃদরোগের দিকে ঠেলে দেয়।

সম্প্রতি বাসায় টেস্টিং লবণেরও ব্যবহার বেড়েছে। রান্নায় স্বাদ বাড়াবার নামে যে অতিরিক্ত সোডিয়াম যোগ হয়, তা লবণের মতোই রক্তচাপ বাড়িয়ে হার্টের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। আবার ক্ষিধে পেলেই বাইরের ভাজাপোড়া বা ফাস্টফুড খাবার খাওয়া — এই প্রবণতাই বাংলাদেশের মানুষের হৃদরোগের বড় সহায়ক। সামান্য খাবারের স্বাদ বাড়াতে গিয়ে আমরা নিজের অজান্তেই হার্টের ক্ষতি করছি।

স্বাদ কমানো নয়, বরং সচেতনতা বাড়ান। লবণ কমান, তেল কমান, প্যাকেটজাত খাবারের পরিমাণ কমান। খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তনই ভবিষ্যতের বড় বিপদ ঠেকাতে পারে।

অর্থাৎ, প্লেটে একটু কম লবণ আর কম তেল মানেই আপনার হার্টের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা।

লেখক: পুষ্টিবিদ;
রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।

ছোট পদক্ষেপে শুরু করুন, তবুও করুন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

কোনো বড় অর্জনই একদিনে আসে না। এর পেছনে থাকে অনেক ছোট ছোট পদক্ষেপ। বিন্দু বিন্দু জল মিলে যেমন সমুদ্র তৈরি হয়, বিষয়টা ঠিক তেমন।

তবে অনেকেই রয়েছে, যারা কোনো কাজ করতে গেলে শুরুতেই ভয় পেয়ে যায়। আর এর থেকে তৈরি হয় গড়িমসি। কাজটা আর করাই হয়ে উঠে না।
তাই শুরুতেই ঘাবড়ে না গিয়ে ছোট ছোট পদক্ষেপে আগান। ছোট পদক্ষেপে আগাবার কিছু উপকারিতা জানিয়েছে জীবনধারা বিষয়ক ফেসবুক পেইজ লাইফ লেশনস বাই বো।

ভয় কমে
সবই ভুল দিকে যাবে বা ভুল হবে এমন ভাবনা থেকে সাধারণত ভয়ের তৈরি হয়। বড় লক্ষ্যগুলো অর্জন করা অনেক সময় খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর এটি আমাদের থামিয়ে দেয়। তাই খুব ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন; ঝুঁকি নিন। ভয় কমতে থাকলে কাজের গতিও আগাবে।

কাজের গতি বাড়ে
পথে চলতে গেলেই পথের দেখা মেলে। শুধুমাত্র পরিকল্পনা করতে থাকলেই কাজ হয়ে যায় না। সঠিক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ দুটোই জরুরি। আর ছোট ছোট পদক্ষেপে কাজ করতে থাকলে এটি সহজ হয়ে যায়।

ধারাবাহিকতা কাজকে উন্নত করে
প্রতিদিন একটি ছোট অভ্যাস, ছোট পরিবর্তন কাজকে অনেক উন্নত করে। প্রতিদিনকার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাগুলোই সফলতার দিকে নিয়ে যায়।

অগ্রগতি জরুরি নিখুঁত হওয়ার চেয়ে
সঠিক সময় আসবে, সঠিক পরিকল্পনা করবেন, সঠিক আত্মবিশ্বাস হবে, এসবের জন্য বসে থেকে কাজ ধীর করে ফেলবেন না। না, এখানে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবার কথাও বলা হচ্ছে না। শুধুমাত্র গড়িমসি, ভয় এড়াতে বলা হচ্ছে।

আত্মবিশ্বাস বাড়ায়
ছোট পদক্ষেপগুলোর সফলতা প্রমাণ করে আপনি যোগ্য। এতে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কও বিশ্বাস করতে শুরু করে আপনি পারবেন। তাই, আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

সময় কাজে লাগবে
অসাড় হয়ে বসে থাকার চেয়ে অন্তত প্রতিদিনের ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়া উপকারী। এতে একমাস বা একবছর পরে কিছুটা হলেও ফলাফল আসবে।

আসলে সময় কারো জন্য বসে থাকে না। তাই বাধাকে জয় করে অন্তত একটু একটু কাজের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া ভালো। এতে স্বপ্ন বাস্তবতার মুখ দেখবে।

নারীর ডিমেনসিয়া বেশি হয় কেন?

ডা. হালিদা হানুম আখতার

ডায়াবেটিস সম্পর্কে আমাদের একটি ধারণা রয়েছে যে, এটি একটি রোগ। হ্যাঁ, এটি একটি রোগ। এটি দেহের একটি মেটাবলিক সমস্যা। শুধু রোগ নয়, এর সঙ্গে যে সমস্যা হয়, সেখান থেকে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই, এটি একটি ক্ষতিকারক রোগ। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এর আরেকটি দিক রয়েছে, এটি জনস্বাস্থ্যের একটি রোগ।

কেন এটি বলছি? ডায়াবেটিস বাড়ে-কমে বা হয়, এর কয়েকটি দিক রয়েছে। যেমন, আমার জীবন-যাপনটা কী রকম, আমি ব্যায়াম করছি কি না, আমি খাবারকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখছি কি না, আমি অতি মাত্রায় শর্করা খাচ্ছি কি না-এসব বিষয় এই রোগে জরুরি ভূমিকা পালন করে।

আবার এই রোগে একজন ব্যক্তি ও পরিবারের আর্থ সামাজিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে। কারণ, এর সঙ্গে তার ব্যবহারিক দিকটা, তার জীবন অতিবাহিত করার যে বিষয়টি তার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

তার রোজগার, তার বাসস্থান, তার শিক্ষা, চিকিৎসা করার সামর্থ্য, তার রোজগার, সে পুষ্টিকর খাবার খেতে পারছে কি না, না কি সে অন্য ধরনের খাবার খাচ্ছে। এসব বিষয়ের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

আরেকটি হলো, অসুখটা হয়েই গেলে এর জন্য যে পরীক্ষা বা নিয়মিত চেকআপ করতে হয়, তার জন্য অর্থের প্রয়োজন। আবার ডায়াবেটিস অন্য অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করলো কি না, এটি বুঝতে হলেও অর্থের দরকার। সেই টাকা ব্যক্তিটির কাছে রয়েছে কি না সেটি বুঝতে হবে। এর ওপর তার ডায়াবেটিসের সার্বিক ব্যবস্থাপনাটা নির্ভর করে। সুতরাং এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়।

কারণ, আমরা দেখেছি, যারা দরিদ্র, তাদের মধ্যে যে অসমতাটা রয়েছে, তা হলো, খাদ্য বা তার চিকিৎসা নেওয়ার অবস্থান যেটি এগুলোর ওপর নির্ভর করে। পাশাপাশি তার শিক্ষার ওপরও নির্ভরশীল। সে শিক্ষিত একটি ব্যক্তি হলে তাকে আমরা সচেতন করতে পারি, যেন সে রোগ নির্ণয় করে আগেই জানতে পারে এবং প্রতিরোধ করতে পারে। এর চিকিৎসার মাধ্যমে অন্য কোনো জটিলতা যেন না হয়, সেই বিষয়টি সে বুঝতে পারবে। সুতরাং এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

কারণ, আমরা দেখেছি যে ডায়াবেটিস শুধু একটি ব্যক্তিকেই আক্রান্ত করে না, তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ, এটি যখন একটি ব্যক্তির পরিবারের অর্থটি ধরে টান দেয়, সেটা তার পরিবারের জন্য একটি বিরাট ব্যয়বহুল বিষয়।

আবার অনেক সময় দেখা যায়, তার হার্টে সমস্যা হয়ে গেলো। কারণ, আমরা জানি ডায়াবেটিস হার্টকেও আক্রান্ত করে। অথবা তার চোখ ও কর্নিয়া আক্রান্ত হয়। হয়তো তার কিডনির সমস্যা হয়ে গেলো। তো কোনো কিছু জটিল হয়ে পড়লে, সেটি ঠিকঠাক করা ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে যায়।

যারা অর্থবান তারা ব্যয় করে চিকিৎসা করে ভালো হয়ে যেতে পারে; একটা সমান অবস্থায় আসতে পারে। তবে যারা দরিদ্র, তাদের জন্য এটি একটি বিরাট বিষয় হয়ে যায়। অর্থের অভাবে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করা জটিল হয়ে পড়ে। সুতরাং এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

যারা দরিদ্র, তাদের ক্ষেত্রে যে জটিলতা হয়, সেটি হলো, চিকিৎসা না করতে পারলে, এটি দেহের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে, প্রভাবিত করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যায়।

আমরা জানি, ডায়াবেটিস হলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে। উন্নত দেশগুলোতে আমরা দেখেছি, ১০ ডলারের মধ্যে এক ডলার ডায়াবেটিসের জন্য ব্যয় হয়। কারণ, এর অনেক জটিলতা হয়ে যায়। এটিও দেখা গেছে যে, ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ব্যয়ভারটা দ্বিগুণ। সুতরাং এটা বিরাট একটি ক্ষয়জনিত রোগ, যেটি পরিবার, ব্যক্তি ও তার আর্থিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সুতরাং এর জন্য আমরা একে বলি, এটি একটি জনস্বাস্থ্য রোগ। তাই এই বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার। সবাই মিলে এর প্রতিরোধ করা, এটি নির্ণয় করে পরিবারের কারো জন্য যেন ক্ষতিকর না হয়, এরকম একটি ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে ২০১১ থেকে ২০১৭ এর মধ্যে নারী-পুরুষের ডায়াবেটিসের প্রাধান্য বেড়ে গেছে। ছিলো ১১ বা ১২ দশমিক শতাংশ, সেটি বেড়ে গিয়ে ছয় বছরে ১৪ শতাংশ হয়েছে। আরেকটি জিনিস হলো, দশজন নারী পুরুষের মধ্যে ছয়জনই জানে না, তার ডায়াবেটিস রয়েছে কি না। এটি আরো সাংঘাতিক বিষয়। আমি জানলে তো চিকিৎসা করতে পারি। খাবার খাওয়া, ব্যায়ামের মাধ্যমে আমার ডায়াবেটিসকে কমিয়ে রাখতে পারি।

তবে যে জানেই না, অসুস্থ সে কীভাবে নিজেকে প্রতিরোধ করতে পারবে? তো এই অজানা বিষয়টিও তার জন্য বিরাট বড় চিকিৎসার অভাব, জ্ঞানের অভাব, তার শিক্ষা ও অর্থের অভাব, তার সচেতনতার অভাব। এসব কারণে সে রোগটিকে ধরে বসে রয়েছে। অনেকে জানেও না, তার এই রোগটি হয়েছে। এটি স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য দুটোর ক্ষেত্রেই শঙ্কার বিষয়।

আরেকটি জিনিস আমি দেখেছি, নারীর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসটা একটি বয়সে পুরুষের তুলনায় বেশি হয়। নারী সাধারণত পরিবারের দ্বিতীয় স্থানের ব্যক্তি, তার হাতে পয়সা থাকে না, তার হাতে সময় থাকে না, ঘর-সংসার চালাতে হয়। সে কোন চিকিৎসকের কাছে যাবে, কখন যাবে সেটি সে জানে না। যাওয়ার জন্য যে অর্থের সংকুলান দরকার, সেটিও নেই। এই জন্য চিকিৎসা সেবার আওতায় নারীরা কম আসে। তাই জটিলতা বেশি হয়। এসব কারণে তাদের মৃত্যু বেশি হয়ে থাকে।

সুতরাং নারীর এই রোগটি হলে ভোগান্তিটা বেশি হয়। এই বিষয়টি আমাদের সবারই জানা দরকার। বিশেষ করে নারীদের আরেকটি বিষয় রয়েছে, নারীর মধ্যে শিক্ষার যে অভাব রয়েছে, সেটিও তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। পুরুষদের মধ্যে আবার দেখা গেছে, যারা বিত্তশালী তাদের ব্যবহারিক দিকের কারণে ডায়াবেটিস বেশি হয়।

সুতরাং নারী-পুরুষের কিছু পার্থক্য রয়েই গেছে, যেটি আমাদের জানা দরকার। এবং আমরা জনস্বাস্থ্য ও সচেতনতা সৃষ্টি করার সময় তথ্য দিলে আমরা দলটিকে আলাদা করতে পারবো। তাহলে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও ব্যবস্থা গ্রহণে তাদের আরো বেশি সচেতন করতে পারা যাবে।

সুতরাং ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ হলো, যেখানে আমার জ্ঞান থাকতে হবে; আমাকে সচেতন থাকতে হবে; আমার আর্থ-সামাজিক অবস্থান থাকতে হবে; আমার শিক্ষা থাকতে হবে; এসব মিলিয়ে সচেতনতা থাকলে ডায়াবেটিসকে নিয়ে ভুগতে হবে কম। ডায়াবেটিসকে আমার আওতার মধ্যে রাখতে পারবো। এটি নিয়েই মানুষকে অনেকদিন বাঁচতে হয়। তবে শরীরচর্চা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মধ্য দিয়ে যেতে পারলে ডায়াবেটিস নিয়েও অনেকদিন টিকে থাকা যায়।

এই বিষয়ে আমাদের সবার কর্তব্য হলো, পরিবারের সবাইকে সচেতন করা, যেন ডায়াবেটিস হলে, তারা সঙ্গে সঙ্গে ধরতে পারে।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

ডায়াবেটিস: নারী স্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও প্রতিকার

ডা. হালিদা হানুম আখতার

ডায়াবেটিস সম্পর্কে আমাদের একটি ধারণা রয়েছে যে, এটি একটি রোগ। হ্যাঁ, এটি একটি রোগ। এটি দেহের একটি মেটাবলিক সমস্যা। শুধু রোগ নয়, এর সঙ্গে যে সমস্যা হয়, সেখান থেকে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই, এটি একটি ক্ষতিকারক রোগ। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এর আরেকটি দিক রয়েছে, এটি জনস্বাস্থ্যের একটি রোগ।

কেন এটি বলছি? ডায়াবেটিস বাড়ে-কমে বা হয়, এর কয়েকটি দিক রয়েছে। যেমন, আমার জীবন-যাপনটা কী রকম, আমি ব্যায়াম করছি কি না, আমি খাবারকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখছি কি না, আমি অতি মাত্রায় শর্করা খাচ্ছি কি না-এসব বিষয় এই রোগে জরুরি ভূমিকা পালন করে।

আবার এই রোগে একজন ব্যক্তি ও পরিবারের আর্থ সামাজিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে। কারণ, এর সঙ্গে তার ব্যবহারিক দিকটা, তার জীবন অতিবাহিত করার যে বিষয়টি তার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

তার রোজগার, তার বাসস্থান, তার শিক্ষা, চিকিৎসা করার সামর্থ্য, তার রোজগার, সে পুষ্টিকর খাবার খেতে পারছে কি না, না কি সে অন্য ধরনের খাবার খাচ্ছে। এসব বিষয়ের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

আরেকটি হলো, অসুখটা হয়েই গেলে এর জন্য যে পরীক্ষা বা নিয়মিত চেকআপ করতে হয়, তার জন্য অর্থের প্রয়োজন। আবার ডায়াবেটিস অন্য অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করলো কি না, এটি বুঝতে হলেও অর্থের দরকার। সেই টাকা ব্যক্তিটির কাছে রয়েছে কি না সেটি বুঝতে হবে। এর ওপর তার ডায়াবেটিসের সার্বিক ব্যবস্থাপনাটা নির্ভর করে। সুতরাং এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়।

কারণ, আমরা দেখেছি, যারা দরিদ্র, তাদের মধ্যে যে অসমতাটা রয়েছে, তা হলো, খাদ্য বা তার চিকিৎসা নেওয়ার অবস্থান যেটি এগুলোর ওপর নির্ভর করে। পাশাপাশি তার শিক্ষার ওপরও নির্ভরশীল। সে শিক্ষিত একটি ব্যক্তি হলে তাকে আমরা সচেতন করতে পারি, যেন সে রোগ নির্ণয় করে আগেই জানতে পারে এবং প্রতিরোধ করতে পারে। এর চিকিৎসার মাধ্যমে অন্য কোনো জটিলতা যেন না হয়, সেই বিষয়টি সে বুঝতে পারবে। সুতরাং এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

কারণ, আমরা দেখেছি যে ডায়াবেটিস শুধু একটি ব্যক্তিকেই আক্রান্ত করে না, তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ, এটি যখন একটি ব্যক্তির পরিবারের অর্থটি ধরে টান দেয়, সেটা তার পরিবারের জন্য একটি বিরাট ব্যয়বহুল বিষয়।

আবার অনেক সময় দেখা যায়, তার হার্টে সমস্যা হয়ে গেলো। কারণ, আমরা জানি ডায়াবেটিস হার্টকেও আক্রান্ত করে। অথবা তার চোখ ও কর্নিয়া আক্রান্ত হয়। হয়তো তার কিডনির সমস্যা হয়ে গেলো। তো কোনো কিছু জটিল হয়ে পড়লে, সেটি ঠিকঠাক করা ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে যায়।

যারা অর্থবান তারা ব্যয় করে চিকিৎসা করে ভালো হয়ে যেতে পারে; একটা সমান অবস্থায় আসতে পারে। তবে যারা দরিদ্র, তাদের জন্য এটি একটি বিরাট বিষয় হয়ে যায়। অর্থের অভাবে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করা জটিল হয়ে পড়ে। সুতরাং এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

যারা দরিদ্র, তাদের ক্ষেত্রে যে জটিলতা হয়, সেটি হলো, চিকিৎসা না করতে পারলে, এটি দেহের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে, প্রভাবিত করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যায়।

আমরা জানি, ডায়াবেটিস হলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে। উন্নত দেশগুলোতে আমরা দেখেছি, ১০ ডলারের মধ্যে এক ডলার ডায়াবেটিসের জন্য ব্যয় হয়। কারণ, এর অনেক জটিলতা হয়ে যায়। এটিও দেখা গেছে যে, ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ব্যয়ভারটা দ্বিগুণ। সুতরাং এটা বিরাট একটি ক্ষয়জনিত রোগ, যেটি পরিবার, ব্যক্তি ও তার আর্থিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সুতরাং এর জন্য আমরা একে বলি, এটি একটি জনস্বাস্থ্য রোগ। তাই এই বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার। সবাই মিলে এর প্রতিরোধ করা, এটি নির্ণয় করে পরিবারের কারো জন্য যেন ক্ষতিকর না হয়, এরকম একটি ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে ২০১১ থেকে ২০১৭ এর মধ্যে নারী-পুরুষের ডায়াবেটিসের প্রাধান্য বেড়ে গেছে। ছিলো ১১ বা ১২ দশমিক শতাংশ, সেটি বেড়ে গিয়ে ছয় বছরে ১৪ শতাংশ হয়েছে। আরেকটি জিনিস হলো, দশজন নারী পুরুষের মধ্যে ছয়জনই জানে না, তার ডায়াবেটিস রয়েছে কি না। এটি আরো সাংঘাতিক বিষয়। আমি জানলে তো চিকিৎসা করতে পারি। খাবার খাওয়া, ব্যায়ামের মাধ্যমে আমার ডায়াবেটিসকে কমিয়ে রাখতে পারি।

তবে যে জানেই না, অসুস্থ সে কীভাবে নিজেকে প্রতিরোধ করতে পারবে? তো এই অজানা বিষয়টিও তার জন্য বিরাট বড় চিকিৎসার অভাব, জ্ঞানের অভাব, তার শিক্ষা ও অর্থের অভাব, তার সচেতনতার অভাব। এসব কারণে সে রোগটিকে ধরে বসে রয়েছে। অনেকে জানেও না, তার এই রোগটি হয়েছে। এটি স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য দুটোর ক্ষেত্রেই শঙ্কার বিষয়।

আরেকটি জিনিস আমি দেখেছি, নারীর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসটা একটি বয়সে পুরুষের তুলনায় বেশি হয়। নারী সাধারণত পরিবারের দ্বিতীয় স্থানের ব্যক্তি, তার হাতে পয়সা থাকে না, তার হাতে সময় থাকে না, ঘর-সংসার চালাতে হয়। সে কোন চিকিৎসকের কাছে যাবে, কখন যাবে সেটি সে জানে না। যাওয়ার জন্য যে অর্থের সংকুলান দরকার, সেটিও নেই। এই জন্য চিকিৎসা সেবার আওতায় নারীরা কম আসে। তাই জটিলতা বেশি হয়। এসব কারণে তাদের মৃত্যু বেশি হয়ে থাকে।

সুতরাং নারীর এই রোগটি হলে ভোগান্তিটা বেশি হয়। এই বিষয়টি আমাদের সবারই জানা দরকার। বিশেষ করে নারীদের আরেকটি বিষয় রয়েছে, নারীর মধ্যে শিক্ষার যে অভাব রয়েছে, সেটিও তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। পুরুষদের মধ্যে আবার দেখা গেছে, যারা বিত্তশালী তাদের ব্যবহারিক দিকের কারণে ডায়াবেটিস বেশি হয়।

সুতরাং নারী-পুরুষের কিছু পার্থক্য রয়েই গেছে, যেটি আমাদের জানা দরকার। এবং আমরা জনস্বাস্থ্য ও সচেতনতা সৃষ্টি করার সময় তথ্য দিলে আমরা দলটিকে আলাদা করতে পারবো। তাহলে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও ব্যবস্থা গ্রহণে তাদের আরো বেশি সচেতন করতে পারা যাবে।

সুতরাং ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ হলো, যেখানে আমার জ্ঞান থাকতে হবে; আমাকে সচেতন থাকতে হবে; আমার আর্থ-সামাজিক অবস্থান থাকতে হবে; আমার শিক্ষা থাকতে হবে; এসব মিলিয়ে সচেতনতা থাকলে ডায়াবেটিসকে নিয়ে ভুগতে হবে কম। ডায়াবেটিসকে আমার আওতার মধ্যে রাখতে পারবো। এটি নিয়েই মানুষকে অনেকদিন বাঁচতে হয়। তবে শরীরচর্চা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মধ্য দিয়ে যেতে পারলে ডায়াবেটিস নিয়েও অনেকদিন টিকে থাকা যায়।

এই বিষয়ে আমাদের সবার কর্তব্য হলো, পরিবারের সবাইকে সচেতন করা, যেন ডায়াবেটিস হলে, তারা সঙ্গে সঙ্গে ধরতে পারে।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

বয়ঃসন্ধিকালে ত্বক ও চুলের যত্নে তিন জরুরি করণীয়

ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন

সাধারণত ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সকেই আমরা বয়ঃসন্ধি বলি।ত্বক ও চুলের যত্নে বেশ উপযুক্ত এই সময়টি। এই সময় থেকে যত্ন নিলে পরবর্তীকালের বিভিন্ন সমস্যা এড়ানো যায়।বয়ঃসন্ধিকালে ত্বক ও চুলের যত্নে কিছু সহজ ও জরুরি পরামর্শ-

  • ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। তবে এ বয়সে হরমোনের তারতম্য়ের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্বক তৈলাক্ত হয়ে থাকে। এতে ৮৫ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়। ব্রণ দেখা দিলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
  • তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সবকিছুই হবে ওয়াটারবেজড। যেমন: যাদের ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডসের সমস্যা থাকে, তারা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে ফেসিয়াল অ্যাসেন্স ব্যবহার করতে পারে।
  • সানস্ক্রিন খুব নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে হবে।

লেখক: প্রধান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ; রিজুভা ওয়েলনেস।

সফল মানুষের নয় ‘মাইন্ডসেট’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সফলতা কখনো রাতারাতি আসে না। এর জন্য প্রয়োজন পড়ে ধারাবাহিকতা ও ব্যর্থ হলেও ওঠে দাঁড়াবার মানসিকতা। আপনিও কি সেই মানসিকতায় অভ্যস্ত হতে চান? তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য।

সফল মানুষের নয় ধরনের মানসিকতা বা গুণের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ফেসবুক পেইজ লাইফ লেশনস বাই বো।

  • সফল ব্যক্তি ব্যর্থ হলে তারা হা-হুতাশ করতে বসে যায় না। এই বিষয়টি থেকে শিক্ষা নিয়ে সে আবারও কাজ শুরু করে।
  • তারা মনে করে কাজের প্রতি প্রচেষ্টা ও নিয়মিত শেখার মাধ্যমে উন্নতি হতে থাকবে।
  • তারা লক্ষ্য নির্ধারণে পরিষ্কার থাকে এবং ধীরে ধীরে একটির পর একটি পদক্ষেপ নিয়ে সেটি পূরণ করে।
  • সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার চেয়ে সমাধানের পদ্ধতি খুঁজে বের করে, প্রয়োজনে বিকল্প পথ নেয়।
  • তারা সবসময় নতুন কিছু শিখতে থাকে এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়ায়।
  • তারা নিয়মানুবর্তী হয়। এমনকি মোটিভেশন (প্রেরণা) একদম তলানিতে ঠেকলেও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে থাকে।
  • পরিবর্তনকে তারা মানিয়ে নেয় এবং চ্যালেঞ্জ আসতে পারে এই বিষয়টিও তারা সহজভাবে নেয়।
  • তারা অন্যের সৃজনশীল বিষয়কে গুরুত্ব দেয় এবং সঠিকভাবে সেটা বের করে নিয়ে আসে।
  • তারা নিজেদের কাজের প্রতি সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয় এবং ভুল থেকে শেখে।

সম্পর্কে বিশ্বাস তৈরি করবেন যেভাবে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

যেকোনো সম্পর্ক দাঁড়িয়ে থাকে বিশ্বাসের ওপর ভর দিয়ে। এটি নড়বড়ে হলে সম্পর্কও হয়ে পড়ে ভিত্তিহীন। কীভাবে বিশ্বাস তৈরি করা যায়? কী কী গুণইবা থাকে একটি বিশ্বস্ত সম্পর্কে? চলুন জানি-

  •  খোলাখুলি কথা বলা, কোনো রাখ-ঢাক না রেখে।
  • সৎ থাকা।
  • প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা।
  • আস্থাভাজন হওয়া।
  • একে অপরকে শ্রদ্ধা করা।
  • স্বচ্ছ থাকা।
  • ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা করা।
  • ধারাবাহিকতা রক্ষা।
  • পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্পেস বা সীমারেখা রাখা এবং এই সীমারেখাকে শ্রদ্ধা করা।
  • একে অপরকে সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকা। সাধারণত এসব গুণ থাকলেই একটি সম্পর্ক হয়ে ওঠে বিশ্বস্ত।

সূত্র: লাইফ লেশনস বাই বো

পুরুষের চুলের জন্যে বিশেষভাবে তৈরি এই তেল

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

পুরুষ ও নারীর চুলে হরমোন ও জিনগত কিছু পার্থক্য থেকে যায়। নারীর তুলনায় পুরুষের চুল পড়ার ও মাথা টাক হবার আশঙ্কাটাও বেশি থাকে। তাই তাদের চাই বাড়তি যত্ন।

পুরুষের চুল ও মাথার ত্বকের উপযোগী করে বিউটি কেয়ার প্রোডাক্ট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ‘উজ্জ্বলা কেয়ার’ তৈরি করেছে, ‘উজ্জ্বলা কেয়ার মেন অ্যান্টি হেয়ারফল অ্যান্ড রিগ্রোথ হেয়ার অয়েল’। সাতটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত এই তেল চুলকে ঘন, কালো ও মজবুত করে। চুল পড়া প্রতিরোধে উপকারী। খুশকির সঙ্গেও লড়াই করে।

এতো গুণ একসঙ্গে! তাহলে কী উপাদান রয়েছে এই তেলে?

ক্যাস্টর অয়েল বা ক্যাস্টর তেল

  • ক্যাস্টর অয়েলের মধ্যে রয়েছে রিসাইনোলেইক এসিড ও ফ্যাটি এসিড। এগুলো চুলের গোড়া থেকে পুষ্টি জোগায়, প্রোটিন সিনথেসিস বাড়িয়ে চুলকে মজবুত করে।
  • খুশকি প্রতিরোধে উপকারী।
  • স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • ক্যাস্টর অয়েলে থাকা উপাদান মাথার ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধ করে চুলকে সুরক্ষা দেয়।

কাঠবাদামের তেল বা আমন্ড অয়েল

  • কাঠবাদামের তেলে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’, ফ্যাটি এসিড ও মিনারেল। এগুলো গোড়া থেকে পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে মজবুত করে।
  • চুলকে উজ্জ্বল ও ঝলমলে করতে উপকারী।
  • শুষ্কতা দূর করে আর্দ্র রাখে।
  • খুশকি প্রতিরোধে সাহায্য করে; চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।

অ্যালোভেরার তেল বা অ্যালোভেরা অয়েল

  • চুলের খুশকি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • নরম ও সিল্কি রাখে।
  • শক্ত ও মজবুত করে ভঙ্গুরতা কমায়।
  • চুল আর্দ্র রাখে।
উজ্জ্বলা কেয়ার মেন অ্যান্টি হেয়ারফল অ্যান্ড রিগ্রোথ হেয়ার অয়েল। ছবি: উজ্জ্বলা কেয়ার
উজ্জ্বলা কেয়ার মেন অ্যান্টি হেয়ারফল অ্যান্ড রিগ্রোথ হেয়ার অয়েল। ছবি: উজ্জ্বলা কেয়ার

অলিভ অয়েল বা জলপাইের তেল

  • শুষ্কতা কমিয়ে ময়েশ্চার ধরে রাখে।
  • ভঙ্গুরতা কমিয়ে চুলকে নরম করে।
  • এর মধ্যে থাকা প্রদাহরোধী উপাদান বিভিন্ন কারণে হওয়া মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায়।
  • এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপাদান চুলকে সুরক্ষা দেয়।

নারকেল তেল বা কোকোনাট অয়েল

  • চুল পড়া কমায়, ঘনত্ব বাড়ায়।
  • পরিবেশগত ক্ষতি থেকে চুলকে সুরক্ষা দেয়।
  • ফলিকলকে স্বাস্থ্যকর রেখে বৃদ্ধি ভালো করে।
  • খুশকি প্রতিরোধে উপকারী।

মেথির নির্যাস

  • এর মধ্যে প্রোটিন ও আয়রন ভরপুর রয়েছে। এগুলো চুলকে গোড়া থেকে দৃঢ় করে।
  • খুশকি ও মাথার তালুর বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর।
  • চুলকে নরম ও উজ্জ্বল রাখে।
  • দ্রুত চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে।

আমলকীর নির্যাস

  • আমলকীর নির্যাস চুল বৃদ্ধিতে উপকারী।
  • আমলকীর মধ্যে থাকা উপাদান গোড়া থেকে শক্ত করে চুল পড়া প্রতিরোধ করে; টাক হবার আশঙ্ক কমায়।
  • চুল দ্রুত পেকে যাওয়া প্রতিরোধে কার্যকর।
  • প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কাজ করে।

‘উজ্জ্বলা কেয়ার মেন অ্যান্টি হেয়ারফল অ্যান্ড রিগ্রোথ হেয়ার অয়েল’- এর সর্বোচ্চ ফলাফল পেতে প্রথমে তেল মাথায় মেখে ৩০ মিনিট পর ‘উজ্জ্বলা কেয়ার মেন হেয়ার প্রোটেকশন’ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই তেল সব ধরনের চুলের জন্য উপযুক্ত (কালারড ও কেমিক্যাল ট্রিটেড)।

পুরুষের চুলের সুরক্ষায় ‘উজ্জ্বলা কেয়ার মেন হেয়ার প্রোটেকশন’ শ্যাম্পু

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

পুরুষ ও নারীর চুলের ধরন এক রকম নয়। পুরুষ ও নারীর চুলের বৃদ্ধির ধরনে বৈপরীত্য রয়েছে। পাশাপাশি হরমোন ও জিনগত পার্থক্যও দেখা যায় এদের চুলে।

আর তাই দুটো চুলের যত্নেও লাগে আলাদা পন্য। পুরুষের চুলের যত্নে বিউটি কেয়ার প্রোডাক্ট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ‘উজ্জ্বলা কেয়ার’ বাজারে নিয়ে এসেছে একটি বিশেষ চুল সুরক্ষাকারী শ্যাম্পু। ‘উজ্জ্বলা কেয়ার মেন হেয়ার প্রোটেকশন’ নামের এই শ্যাম্পুটি পুরুষের চুলের জন্য খুবই উপযোগী।

এটি একসঙ্গে দুটো কাজ করে। এক. শ্যাম্পুর। দুই. কন্ডিশনারের। যাকে বলা যায়, টুইনওয়ান। এই শ্যাম্পুতে ব্যবহার হয়েছে চার ধরনের উপাদান। আর সেগুলো পুরুষের চুলের জন্য খুবই উপযোগী।

এই শ্যাম্পুতে ব্যবহৃত উপাদান হলো-

ভৃঙ্গরাজ তেল

  • এই তেল চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া প্রতিরোধ করে।
  • খুশকি প্রতিরোধে উপকারী।
  • এই তেল প্রাকৃতিকভাবেই কন্ডিশনারের কাজ করে।
  • এর মধ্যে থাকা প্রদাহরোধী ও মাইক্রোবিয়াল উপাদান মাথার ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ, চুলকানি ও শুষ্কতা প্রতিরোধে কার্যকরী।
  • চুলকে মসৃণ ও ঝলমলে রাখে।
  • এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং চুলের অকাল বার্ধক্য বা দ্রুত চুল পাকা প্রতিরোধ করে।

হিবিস্কাসের নির্যাস (জবার নির্যাস)

  • জবা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফুল। এতে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, প্রয়োজনীয় মিনারেল ও অ্যামাইনো এসিড। জবা চুলের বৃদ্ধিতে উপকারী।
  • জবার মধ্যে থাকা ফরটিফাইং উপাদান চুল পড়া ও ভঙুরতা কমায়।
  • এর মধ্যে থাকা প্রদাহরোধী ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান খুশকির সঙ্গে লড়াই করে। পাশাপাশি মাথার ত্বক ভালো রাখে।
  • জবার মধ্যে থাকা উপাদান প্রাকৃতিকভাবে কন্ডিশনার ও ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। চুলের চিটচিটে ভাব কমিয়ে ঝলমলে করে।
  • এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে চুল অকালে পেকে যাওয়া প্রতিরোধে উপকারী।
  • পড়া কমিয়ে এবং শক্ত করে এটি চুলের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়।
উজ্জ্বলা কেয়ার মেন হেয়ার প্রোটেকশন শ্যাম্পু। ছবি: উজ্জ্বলা কেয়ার
উজ্জ্বলা কেয়ার মেন হেয়ার প্রোটেকশন শ্যাম্পু। ছবি: উজ্জ্বলা কেয়ার

শিকাকাইের নির্যাস

  • এটি প্রাকৃতিকভাবেই পরিষ্কারকের কাজ করে। মাথার তালু ও চুলের ময়লা ও বাড়তি তেল পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় ময়েশ্চার দেয়।
  • খুশকি কমিয়ে মাথার ত্বক ভালো রাখে।
  • চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • কন্ডিশনারের কাজ করে এবং চুল নরম রাখে।
  • এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’ অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে চুলের ফলিকলকে সুরক্ষা দেয় এবং চুল অকালে পাকা প্রতিরোধ করে।

রিঠার নির্যাস

  • এটি প্রাকৃতিক ভাবে পরিষ্কারকের কাজ করে। গভীরভাবে পরিষ্কার করে চুল ও মাথার ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখে।
  • খুশকি নিয়ন্ত্রণে উপকারী। সংক্রমণ, চুলকানি ও প্রদাহ ধরনের মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • চুল পড়া কমায়।
  • রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • চুলকে নরম ও মসৃণ করতে রিঠার নির্যাস অনন্য।
  • এর মধ্যে থাকা ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘ই’ ও ভিটামিন ‘কে’ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট চুলের গোড়া থেকে পুষ্টি জোগায়।

১শ ভাগ প্রাকৃতিক নির্যাস সমৃদ্ধ ‘উজ্জ্বলা কেয়ার ম্যান হেয়ার প্রোটেকশন’ শ্যাম্পুটি সব ধরনের চুলের জন্যই উপযুক্ত। চুলকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে আপনিও বেছে নিতে পারেন উজ্জ্বলা কেয়ারের এই পন্যটি।

আপনি কি খুব স্পর্শকাতর মানুষ? ১০ লক্ষণে জেনে নিন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

মানুষ বৈচিত্র্যময়। তার নিজেকে বোঝার শক্তি, অন্যকে অনুভব করার ধরন ভিন্ন রকম হবে এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে কেউ কেউ রয়েছে ভীষণ স্পর্শকাতর। এরা সাধারণত বেশ সংবেদনশীল হয়। আপনিও কি এই ধরনের মানুষের মধ্যে পড়েন? ১০ টি লক্ষণে জেনে নিন-

  • আপনি সব গভীরভাবে অনুভব করেন।
  • আপনি মানুষের আচরণের খুব সূক্ষ্ম বিষয়ও খেয়াল করতে পারেন।
  • খুব ব্যস্ত পরিবেশে আপনার চাপ লাগে, নিজের মনকে ভারী মনে হয়।
  • নিজেকে পুণরায় ঠিকঠাক করতে আপনার অনেকটা একা সময় কাটাবার প্রয়োজন পড়ে।
  • সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেক ভাবতে হয়।
  • সমালোচনা ভীষণভাবে আঘাত করে।
  • আপনি অপরের প্রতি ভীষণ সহানুভূতিশীল। অন্যের কষ্ট আপনাকে খুব আহত করে।
  • সহিংসতা আপনার পছন্দ নয়। এগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। এমনকি সিনেমা দেখা বা বই পড়ার ক্ষেত্রেও এমন কনটেন্ট এড়িয়ে যান।
  • ঝগড়া-ঝাটি, উচ্চস্বরে কথা বলা, অথবা নিরব দুশ্চিন্তাও আপনাকে কষ্ট দিতে থাকে।
  • আপনি জীবনবোধ ও মানুষ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করেন।

সূত্র: লাইফ লেশনস বাই বো

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.