ক্যানসার দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ক্যানসার ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম যৌথভাবে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।
আজ ৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়।

ক্যানসারের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং সমস্যা উত্তরণে করণীয় জানিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ক্যানসার রোগ তত্ত্ববিদ ও প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
অনুষ্ঠানে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোগহীনতা, অনিয়ম ও অসংগতি তুলে ধরে সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি, বাংলাদেশ- এর সভাপতি সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হাকিম মজুমদার ও বাংলাদেশ ক্যানসার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব সৈকত।
ডিমেনসিয়া কী, কেন হয়?
ডা. হালিদা হানুম আখতার
একটা ব্যাপার আমরা সবসময়ই শুনে থাকি, বিশেষ করে যারা গুরুজন, বয়স্ক বা প্রবীণ তাদের কাছ থেকে। তারা অনেক সময় বলেন, ‘চশমাটা কোথায় রাখছি, ভুলে যাচ্ছি।’ ‘চাবিটা কোথায় রাখলাম, মনে পড়ছে না।’
এই যে ভুলে যাওয়া, এর সম্পর্কে একটা ধারণা হলো, বুড়ো হলেই সবাই ভুলে যায় বা বয়স হলেই ভুলে যায়। আসলে তা নয়। একে একটা রোগ বলে নির্ণয় করা হয়েছে।
আলঝাইমার নামে একজন বিজ্ঞানী, যিনি পোস্টমর্টেম করে দেখেছেন ব্রেইনের মধ্যে এক জায়গায় ডেমেজ বা ক্ষয় হচ্ছে। এবং তার আশেপাশের জায়গায় যে স্নায়ুগুলো রয়েছে তা বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তখন সেই রোগটি নির্ণয় করে তার নামে করা হয়েছিল। তাই এই রোগটির নাম আলঝাইমার।
আলঝাইমার একটি রোগের নাম। তবে সার্বিকভাবে আরেকটি রোগের নাম হলো, ডিমেনসিয়া। প্রশ্ন করতে পারেন, এটি নিয়ে আমি কেন কথা বলছি, আমি তো নারী স্বাস্থ্যের মানুষ? কারণ, সারা পৃথিবীতে যত ডিমেনসিয়া রোগী রয়েছে, এর চারজনের মধ্যে তিনজনই নারী। সুতরাং এটি নারীর ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা ফেলে। তাই এটি নিয়ে আমাদের সবারই জানা প্রয়োজন।
এই কারণেই ডিমেনসিয়া নিয়ে আজ কথা বলবো। ডিমেনসিয়া কী, কেন হয়, একজন মানুষকে কীভাবে এটি বিব্ধস্ত করে- এসব থাকবে আলোচনায়। আবার এটি নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ হলো, আমাদের সমাজেও বিষয়টি নিয়ে জ্ঞান অনেক কম। পরিবারের মানুষ তো জানেই না, শহরে কিছু জানলেও গ্রামের মানুষ আরো কম জানে। যারা সেবাকর্মী রয়েছেন, একেবারে চিকিৎসক থেকে শুরু করে অন্যান্য পর্যায়ের সহযোগী, তাদের মধ্যেও এই রোগটি সম্পর্কে জ্ঞান কম।
তবে আমরা আজ কী দেখছি? সারা পৃথিবীতে প্রতি তিন সেকেন্ডে একজন ডিমেনসিয়া রোগীর উৎপত্তি হচ্ছে। এর মানে এটি একটি বিরাট সংক্রমণের মতো অবস্থায় রয়েছে। তাই এর বিষয়ে আমাদের ভীষণভাবে জানা দরকার।
এটি এমন একটি রোগ যে মস্তিষ্কের কিছু অংশ ডেমেজ বা ক্ষয় হয়ে যায়। এতে হয় কী, যেই জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত হলো, সেখানকার কাজ মস্তিষ্ক আর করতে পারে না। তখন একটি মানুষের মধ্যে কী হয়? তার স্মৃতি কমে যাচ্ছে, সে কোনো জিনিসের নাম মনে করতে পারছে না, সময় ভুলে যাচ্ছে ইত্যাদি। পরিবারের মানুষ মনে করে বয়স হয়েছে, এখন তো ভুলে যাবেই। সুতরাং এটাকে তারা খুব স্বাভাবিক মনে করে।
তবে এটি এমন একটি রোগ, যা এমনিতে ভালো হয় না। যত দিন যাবে এটি আরো জটিল হয়ে উঠবে। রোগটি বাড়তে থাকে। রোগের উপসর্গগুলো বাড়ে। সে কী করবে, কোথায় যাবে, বুঝতে পারে না। অনেক ধরনের উপসর্গ রয়েছে, আমরা জানি না তাই বুঝতে পারি না, এই রোগের ক্ষেত্রে কী করতে হবে।
এর ঝুঁকিগুলো কী? যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে, ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে, ডায়াবেটিস রয়েছে, বা পরিবারে কারো এ ধরনের রোগ রয়েছে তাদের এমন হতে পারে। অনেকের ধারণা, কেউ বড় বড় অ্যানেসথেসিয়া বা অপারেশনের মধ্য দিয়ে গেলেও এই রোগ হতে পারে। সুতরাং, দেখা যাচ্ছে, এমন অনেক অবস্থায় রোগীর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এই জন্য তার ব্যবহারের পরিবর্তন হচ্ছে। দিন দিন এটি যেহেতু একটি ক্ষতিকর অবস্থায় চলে আসছে, তাই এই মানুষটির জন্য আলাদাভাবে সেবা দরকার। আলাদা মনোযোগ প্রয়োজন। তার কী কী বা কত ধরনের সমস্যা হতে পারে, এসব বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের জ্ঞান না থাকলে, তারা এই মানুষকে নির্যাতন করা শুরু করে।
অনেক সময় দেখা যায়, ডিমেনসিয়া আক্রান্ত রোগী খাবার খেতে পারছে না। কীভাবে লোকমা তুলে খেতে হয় বুঝছে না। অর্থাৎ মস্তিষ্কের প্রত্যেকটা কাজের জন্য যে সীদ্ধান্ত নেওয়া, সেটা করতে অক্ষম হয়। শিশু জন্মের পর কী হয়? যখন বড় হয়, একটু করে কাজ শিখে, একটু করে কথা বলে। তবে ডিমেনসিয়ার রোগীর ক্ষেত্রে এটা উল্টো দিকে যায়। ব্যক্তি আগে সব পারতো। তবে ধীরে ধীরে সেই পারার ক্ষমতা হারাতে হচ্ছে। একটা সময় সে হয়তো নিজে কী চাচ্ছে বলতে পারে না। তাই পরিবারের জানা দরকার, এটি একটি রোগ।
সবার কিন্ত এই রোগ হয় না। একটি পরিবারে হয়তো পাঁচজন রয়েছে, সবারই হয় এমন নয়। দেখা যাবে, একজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অথবা চারটি পরিবারের মধ্যে হয়তো একজনের হলো। প্রতি সেকেন্ডে একজন করে এই রোগ হচ্ছে। সারা পৃথিবীতে সাড়ে পাঁচ কোটি এই রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে ১১ লাখের মতো মানুষ ডিমেনসিয়াতে ভুগছে। সতুরাং, এটি বাড়তে থাকবে।
একটি বিষয় হচ্ছে, আমাদের এখন আয়ুষ্কাল বেড়ে গেছে। আর নারীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পুরুষের তুলনায় আড়াই থেকে তিন বছর বেশি বাঁচছে। বয়স বাড়ার পর তারা আরো বেশি দিন বাঁচছে। তাই দেখা যায়, এই রোগটি তাদের মধ্যে বেশি হয়।
আমার বলার উদ্দেশ্য হলো, এই ডিমেনসিয়াকে একটি বয়সের ব্যাপার ভেবে অবহেলা না করে, রোগীর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তার পরিচর্যার জন্য যা যা করা দরকার সেই বিষয়ে সহযোগিতা করা জরুরি। পাশাপাশি সময় দিতে হবে।
আরেকটি বিষয় হলো, এই ধরনের সমস্যা বাড়িতে কারো হলে মানুষ লুকিয়ে রাখে। কারণ, সমাজে একটি কুসংস্কার বা স্টিগমা রয়েছে যে ‘ওই মানুষটি পাগল’। তবে সে তো পাগল নয়। সে একজন অসুস্থ মানুষ। তার মস্তিষ্কে সমস্যার জন্য এই অসুস্থতা হয়েছে। মানুষটি যে পাগল নয়, এই তথ্যটি সবার কাছে দিতে হবে।
হার্টের সমস্যা হলে তো আমরা পাগল বলি না। হার্টে তখন আলাদা করে সেবা দেওয়া হয়। তেমনিভাবে মস্তিষ্কের সমস্যা হলেই যে সে পাগল হয়ে গেলো, তা কিন্তু নয়।
সুতরাং এই বিষয়টি আমাদের সবাইকে বুঝাতে হবে। এই মানুষটিকে আলাদা করে সেবা ও পরিচর্যা করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জানা জরুরি।
রোগীদের মধ্যে কেউ হয়তো একেবারে চুপ করে যেতে পারে, কেউ আবার বাইরে বের হয়ে যেতে পারে। পুরোনো স্মৃতি হয়তো তার বেশি মনে থাকে। নতুন যে ঘটনা ঘটছে সেটি হয়তো ভুলে যাচ্ছে। আজ সকাল না কি বিকাল, ঢাকায় রয়েছে না কি রংপুরে রয়েছে- এই যে সময় ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার জ্ঞান, এটি ধীরে ধীরে কমছে।
মোদ্দা কথা হলো, ডিমেনসিয়া কোনো বয়সের বিষয় নয়। তবে বয়স হলে এটি বাড়তে পারে। এই ধরনের ব্যক্তির যে পরিচর্যা দরকার এটি যেন পরিবারের মানুষ বোঝে, সমাজের মানুষ বোঝে। সেইভাবে যেন তাকে সম্মান দেয় এবং তার সেবাটা যেন করতে পারে। এসব বিষয়ে সচেতন হওয়াটা ভীষণ জরুরি। তাহলেই এসব রোগীর পক্ষে অনেকটা সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব।
লেখক: রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

বসন্ত উৎসবে রঙ বাংলাদেশ
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
“পলাশেরও নেশা মাখি চলেছি দুজনে
বাসনার রঙে মিশি শ্যামলে স্বপনে
কুহু কুহু শোনা যায়, কোকিলের কুহুতান, বসন্ত এসে গেছে… ”
জনপ্রিয় এই বাংলা গান যেমন বসন্তের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দেয় চারিদিকে, একইভাবে প্রতি বছর বসন্ত উৎসবের রঙকে আরও রঙিন করে তুলতে বাংলাদেশের অন্যতম ফ্যাশন হাউস ‘রঙ বাংলাদেশ’ও যেন ফ্যাশনপ্রিয় মানুষকে রাঙিয়ে তুলবার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চায় তাদের নতুন ডিজাইনের বৈচিত্র্যময় পোশাকে।
ফ্যাশন সচেতন মানুষ তো তাকেই বলা যায়, যে মানুষ সময়ের সকল রঙকে ধারণ ও বহন করে চলে, রঙ বাংলাদেশ এই সময়টাকেই তুলে আনতে সচেষ্ট থাকে তাদের সকল পণ্যের মধ্য দিয়ে।
আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, থিম ভিত্তিক কাজ করার ব্যতিক্রমী আইডিয়া রঙ বাংলাদেশের পোশাককে বাজারের আর দশটা পোশাক থেকে ভিন্নতা এনে দিয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনের প্রচেষ্টাও প্রশংসাযোগ্য। যেমন বসন্ত বাঙালির অন্যতম উৎসব, আর সেই উৎসবের পোশাক ডিজাইনে এবার তারা থিম হিসবে ব্যবহার করেছে ‘আমেরিকান নেটিভ পটারি’ বা আমেরিকান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন নকশাকে, যা সেই অঞ্চলে মূলত মৃৎশিল্পের নকশা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নির্দ্বিধায় এই আইডিয়া অনন্য সংযোজন।
ব্যতিক্রমী নকশার পাশাপাশি ফেব্রিক্সেও রয়েছে বৈচিত্র্য। হালফসিল্ক, কটন, জ্যাকার্ট কটন, মারসালাইস কটন এবং স্লাব ভিস্কাস কাপড়ে কমলা, গাঢ় হলুদ, হালকা হলুদ, অলিভ আর সাদা রঙের ব্যবহার; একই সঙ্গে আরাম, টেকসই ও ডিজাইনের সমন্বয় রঙ বাংলাদেশের বসন্তের পোশাককে অনন্যতা এনে দিয়েছে।
রঙ বাংলাদেশের সাবব্র্যান্ড ওয়েস্ট রঙ আর রঙ জুনিয়রের পোশাকেও রয়েছে বসন্তের আমেজ। রয়েছে শাড়ি, থ্রিপিস, সিঙ্গেল কামিজ, টপস, রেডি ব্লাউজ, সিঙ্গেল ওড়না, আনস্টিচড থ্রি-পিস, টিউনিক, স্কার্ট, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, পায়জামা, মগসহ অন্যান্য সামগ্রী। বাচ্চাদের জন্যে রয়েছে পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, ফ্রক, ড্রেস, স্কার্ট। রয়েছে পরিবারের সবার জন্যে একই ধরনের ম্যাচিং পোশাক। বাবা-মা, মা-মেয়ে, বাবা-ছেলে এমনকি পরিবারের সবাই একই থিমের পোশাক পড়ে উদযাপন করতে পারবে এবারের বসন্ত উৎসব।
বসন্ত উৎসবকে ঘিরে যেকোন অনুষ্ঠান বা আয়োজনের জন্য সবাই মিলে একইরকম পোশাক পরতে পারেন অর্ডার করার মাধ্যমে, এ ক্ষেত্রে দামও হয়ে যাবে অনেক সুলভ। কর্পোরেট প্রোগ্রাম বা যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব ধরনের আয়োজনেই রঙ বাংলাদেশ এর এই বসন্ত উৎসবের পোশাক সকলকে করবে আকর্ষণীয়।
রঙ বাংলাদেশের ঢাকা ও ঢাকার বাহিরের সকল আউটলেটেই পাওয়া যাচ্ছে বসন্ত উৎসবের আয়োজন। এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বসন্ত উৎসবের পণ্য ক্রয়ে ভিজিট করুন www.rang-bd.com অথবা রঙ বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ www.facebook.com/rangbangladesh। অনলাইন কেনাকাটার জন্যে রঙ বাংলাদেশের হোয়াটস্ অ্যাপ সম্বলিত 01799998877 নম্বর এবং যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন 01777744344 হটলাইনে।
‘রঙ বাংলাদেশ’- এর ৩০ বছর, গণমাধ্যমকর্মীদের মিলনমেলা
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
১৯৯৪ সালের ২০ ডিসেম্বর পথ চলা শুরু হয়েছিল ফ্যাশন হাউজ ‘রঙ’ এর, যা এখন নতুন রূপে ‘রঙ বাংলাদেশ’। ৩০ বছর উদযাপন উপলক্ষে গত ২১ জানুয়ারি, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়, গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে একটি মিলনমেলা ও নৈশভোজের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
ঢাকার কারওয়ান বাজারের দ্যা রেইন রুফ রেস্টুরেন্টের রুফটপে এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।

রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সোমিক দাস জানান, নব্বই দশকে বেড়ে ওঠা চারজন টগবগে তরুণ ফ্যাশন হাউজ ‘রঙ’ এর স্বপ্ন বুকে ধারণ করবার সঙ্গে সঙ্গে দেশপ্রেমের মন্ত্রেও বোধহয় নিজেদের অজান্তেই উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিলাম। তাই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সত্তর ও আশির দশকে জাতীয়বাদী চেতনাকে বুকে ধারণ করে এবং বাংলার তাঁত শিল্পকে লড়াইয়ের হাতিয়ার করে দেশের বেশকজন উদ্যোক্তা, দেশীয় পোশাকের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যে পথ তৈরি করেছিল, সেটিকেই নিজস্ব রঙে রাঙিয়ে দিতে যুক্ত হই ফ্যাশন হাউজ ‘রঙ’ প্রকাশের মাধ্যমে।
তবে একথাও অনস্বীকার্য যে, প্রথম অবস্থায় ‘রঙ’ গড়তে প্রধান কারিগর আমরা চারজন হলেও অনেকের অবদান এতে সংযুক্ত ছিল জানিয়ে সৌমিক দাস বলেন, ‘তারা আমাদেরই স্বজন-বন্ধু। এখনও সবার ভালোবাসা, শুভ কামনা ও সহায়তাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ‘রঙ বাংলাদেশ’ এগিয়ে যাচ্ছে সেই একই চেতনায়। বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বুকে লালন করেই ছড়িয়ে পড়ছে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।’
মিলনমেলার এই আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, উদ্যোক্তা ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বসন্তে ভালবাসায় ‘কে ক্র্যাফট’-এর আয়োজন
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বসন্ত উৎসব বাঙালির প্রিয় উৎসবগুলোর মধ্যে একটি। শীতের শেষে প্রকৃতিতে মিষ্টি ফাল্গুনের হাওয়া; নতুন ফুলে মেতে উঠবে চারপাশ। বসন্তে প্রকৃতি যেমন ফুলেল উৎসবে মেতে ওঠে তেমনি উৎসব প্রিয় বাঙালি বসন্তের প্রথম দিনটি উদযাপন করে বাহারি রঙের সাজ পোশাকে।
বসন্ত যে এসে গেছে তার প্রকাশ যেন সাজ পোশাকেই ঘটে। পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস প্রিয় দুটি দিন একই দিনে হওয়ায় সাজ পোশাক নির্বাচনে একটু দ্বিধায় পরতে হয়। সমসাময়িক মোটিফ এবং প্রিন্টের পাশাপাশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে বাছাই করা ডিজাইন, প্যাটার্ন ও রঙ। যা বসন্ত উৎসব এবং ভালোবাসা দিবস দুটো উৎসবকেই সমানতালে ফুটিয়ে তুলবে। নারী, পুরুষ ও শিশুদের বছরজুড়ে পরার মতো দারুন সব চলতি ফ্যাশনের দৃষ্টিনন্দন পোশাক নিয়েই কে ক্র্যাফটের এবারের আয়োজন।
শীতের শেষে প্রকৃতিতে মিষ্টি ফাল্গুনের হাওয়া যেমন থাকে, তেমনি সঙ্গে হালকা গরমেরও ছোঁয়া থাকে। তাই এ সময় সুতি কাপড়কেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবারের আয়োজনে। দিনে পোশাক নির্বাচনে সুতির পোশাক সবচেয়ে উপযোগী হবে৷ তা ছাড়া সন্ধ্যার পর সুতির পাশপাশি জর্জেট, সিল্ক অথবা হাফ সিল্কের পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে।

নকশা ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, অ্যামব্রয়ডারি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট এবং টাই-ডাই মিডিয়ার ব্যবহার হয়েছে। হলুদ কিংবা কমলার পাশাপাশি পোশাকের ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া যেতে পারে লাল, ম্যাজেন্টা, অফ-হওয়াইট, মেরি গোল্ড, পার্পল, ভায়োলেট, ল্যাভেন্ডার, স্যাল্মন রেড, পিচ, ব্রিক রেড, নীল, ফরেস্ট গ্রিন ইত্যাদি বিভিন্ন রঙ। আবার এই দিনটিতে যেহেতু ভালোবাসা দিবসও থাকে তাই এই দিনে পরা যেতে পারে পছন্দের লাল রঙ অথবা নীল পোশাক।
ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে অ্যাথনিক, ট্র্যাডিশনাল, ফিউশনধর্মী নানা পোশাকের আয়োজন করা হয়েছে। ফ্লোরাল, আলাম, এথনিক, ট্র্যাডিশনাল, জামদানি, ইক্কত, পেইসলে, জ্যামিতিক, ইত্যাদি নানা মোটিফে তৈরি করা পোশাক সারিতে রয়েছে – শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, লং-কুর্তি, রেগুলার কুর্তি, টপস, গাউন, কাফটান, টিউনিক, টপস-স্কার্ট, ছেলেদের জন্য রেগুলার ও ফিটেড পাঞ্জাবি, শার্ট, কটি ও শিশুদের জন্য নানা আয়োজন তো থাকছেই। ফ্যামিলি পোশাক থাকবে বরাবরের মত। এ ছাড়া যুগলদের জন্য থাকবে বিশেষ পোশাক।
লাইফস্টাইল সেগমেন্টে থাকছে অরনামেন্টস, নানা উপহার সামগ্রী, হোম ডেকর আইটেম, স্যান্ডেল এবং নানা ফ্যাশন অনুষঙ্গ।
কে ক্র্যাফটের সকল আউটলেট ছাড়াও দেশে এবং দেশের বাইরের যে কোন প্রান্ত থেকে অনলাইন শপ kaykraft.com থেকে ফাল্গুন-ভালোবাসা দিবস এর পোশাক কিনতে পারেন বিশেষ সাশ্রয়ী মূল্যে। এ ছাড়া ফেসবুক পেজ থেকেও কেনাকাটা করার সুবিধা রয়েছে।


