Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 17

কোরবানি ঈদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ছয় পরামর্শ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

কোরবানির ঈদ এলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার আলোচনাটা অবধারিতভাবে চলে আসে। যদিও বাইরে, যেখানে কোরবানি দেওয়া হয়, সেখানে সিটি কর্পোরেশনই দায়িত্ব পালন করে।

এরপর তো মাংস বাসায় আনা। বাসায় এনে আবার ভাগ-বাটোয়ারা করা। এগুলো যেসব জায়গায় করা হয়, সেটি ময়লা হয়ে যায়। সেসব জায়গা আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হয়। কাজেই এসব বিষয়ে আমাদের সবারই কিছু চিন্তা-ভাবনা থাকে।

কোরবানি ঈদে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কিছু পরামর্শ জানিয়েছেন রীনাত ফৌজিয়া। তিনি গভর্মেন্ট কলেজ অব অ্যাপলাইড হিউম্যান সাইন্সের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এনট্রাপ্রেনরশিপ বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর পরামর্শ অনুসারে-

  • মাংস ভাগ-বাটোয়ারার ক্ষেত্রে সাধারণত বাসায় বড় জায়গা নিয়ে কাজটা করা ভালো। এগুলো সাধারণ ডাইনিং রুম বা বারান্দায় করলেই সুবিধা হবে। সবচেয়ে ভালো হয় একটি বড় প্লাস্টিক বিছিয়ে রেখে, এরপর কাজ করলে। অথবা পাটি বিছিয়েও কাজ করা যেতে পারে। কাজ হয়ে গেলে প্লাস্টিকটা উঠিয়ে ডিটার্জেন্ট মেশানো পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুতে হবে। সম্ভব হলে ডিটার্জেন্ট মেশানো পানি মিশিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করে নেওয়া যেতে পারে। এতে মাংস-রক্ত ইত্যাদির গন্ধ কমবে। জায়গাটা পরিষ্কার থাকবে।
  •  আরেকটি বিষয় হলো, মাংস নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক সময় হাতে গন্ধ লেগে থাকে। এটি অনেক সময় অস্বস্তি তৈরি করে। এই ক্ষেত্রে মাংসের গন্ধ দূর করার জন্য হাতে লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা বাসায় বেকিং সোডা থাকলে, সেটিও হাতের গন্ধ দূর করার জন্য ব্যবহার করা যায়।
  • কোরবানির মাংস যখন রান্নার জন্য প্রস্তুত করা হয়, তখন অনেক হাড় আলাদা করে ফেলা হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, উচ্ছিষ্ট যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না। মাংস কাটার পর এসব ময়লাগুলো প্যাকেটবন্দি করে ফেলা প্রয়োজন। খোলা অবস্থায় ফেলা যাবে না।
  • রান্না বা কাটাকাটির জন্য যেসব জিনিস ব্যবহার করা হয়, যেমন রান্না করার পাত্র, মাংস কাটার জন্য কাটিং বোর্ড, ছুরি-কাচি ইত্যাদি ব্যবহারের আগে ও পরে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে ব্যবহারের পরে।
  • যারা শহরে থাকেন, উঁচু দালানে- তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লিফ্ট ব্যবহার করতে হয়। কোরবানি হওয়ার পর বাইরে থেকে মাংসটা নিয়ে আসার সময় অনেকেই বালতি বা বড় বড় ব্যাগ ব্যবহার করে। যেভাবেই মাংস আনা হোক না কেন, খেয়াল রাখতে হবে যেন রক্ত বা পানি উপচে না পরে। এতে অন্যের অসুবিধা হয়। সুনাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি খেয়াল করা আমাদের দায়িত্ব।
  • সব কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর রান্নাঘর, খাবারঘর ও বারান্দায় গন্ধ দূর করার জন্য অ্যায়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার ঘরোয়া টোটকা হিসেবে লেবু, লবঙ্গ ও পানি একসঙ্গে ফুটিয়ে নিলে সেই পানি দিয়ে কাপড় ভিজিয়ে ফেলে ঘরের বিভিন্ন জায়গা মুছলে গন্ধটা দূর হয়।

সন্তান ধারণের চেষ্টা করছেন? কোরবানি ঈদে কতটুকু মাংস খাবেন?

রফিক – উল – আলম

বছর ঘুরে আবার এলো সেই গোশতো খাবার ঈদ। আর কয়টা দিন পরেই গোশতো বসে যাবে চুলোয় চুলোয়। গন্ধ্যে মাতোয়ারা ঘর বাড়ি। দীর্ঘ একটা বছর পর বলে কথা!

তবে যারা সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের মনে হয়তো একটু দ্বিধা ও সংশয় থেকে যেতে পারে মাংস খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে। ভাবছেন, এই ঈদে কি মাংস খেতে পারবো? খেলেই বা কতটুকু খাবো?

রেড মিটে (গরু-খাসির মাংস) রয়েছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন ও আয়রন। এটি ফার্টিলিটির জন্য ভালো। এগুলো একদিকে যেমন মেয়েদের এগ হেলথের জন্য উপকারী, অন্যদিকে স্পার্মের পরিমাণ, সংখ্যা ও পরিমাণ বৃদ্ধিতেও সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তবে মাংসের তেল ও চর্বি এড়িয়ে খেতে হবে।

সেইসঙ্গে যাদের অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, হাই ব্লাড কোলেস্টেরল, ইউরিক এসিড ও কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের খাবারের বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।

অন্যদিকে যাদের পিসিওএস, তাদের ক্ষেত্রেও খুব পরিমিত মাংস ভক্ষণই শ্রেয়। আর যারা সন্তানসম্ভবা? রেড মিটের প্রোটিন, আয়রন তাদের জন্য উপকারী। অবস্থাভেদে দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া যেতে পারে। তবে সন্তানসম্ভবারা কখনোই ও কোনোভাবেই আধাকাঁচা, আধাসিদ্ধ মাংস খাবেন না। খুব ভালোভাবে সিদ্ধ করে তবেই খেতে হবে।

তবে চলুক, এবারের ঈদে কম-বেশি সকলেরই বুঝেশুনে হোক মাংস খাওয়া। তবে নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি ধারে-কাছের দুস্থজন, দরিদ্র আত্মীয় স্বজনের হকের কথাও মনে রাখতে হবে। কারণ, ওদের সন্তষ্টি, ওদের নীরব প্রার্থনা হয়তো ভরে তুলবে সন্তান প্রত্যাশীদের কোল।

লেখক:
ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলর
ইমপালস হাসপাতাল, তেজগাঁও, ঢাকা
ফোন: ০১৬৮৪৩৪২৪৪৯

ডিমেনসিয়া প্রতিরোধে করণীয়

ডা. হালিদা হানুম আখতার

ডিমেনসিয়া একটি মস্তিষ্ক ক্ষয়জনিত রোগ। এর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। উন্নত ও অনুন্নত উভয় দেশেই এটি বাড়তির দিকে। আমরা যদি উন্নত দেশের কথা চিন্তা করি, তাহলে সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ ডিমেনসিয়াতে ভুগছে।

আরেকটু যেটি শঙ্কার বিষয়, দেখা যাচ্ছে, উন্নত দেশগুলোতে দুইজন নারী ডিমেনসিয়াতে ভুগছে। এমন অবস্থা আমরা অনুন্নত বা উন্নতিকামী দেশগুলোতে দেখি। বাংলাদেশের দিকে তাকালেও দেখা যাবে চারজনের মধ্যে তিনজনই নারী। এদের কীভাবে ঠিকমতো সেবা ও পরিচর্যা করা যায়, এদের জন্য একটি দেশ কীভাবে পলিসি করতে পারে, সেসব নিয়েই আজ কথা বলবো।

এর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় রয়েছে। নন কমিউনিক্যাবল রোগগুলো ডিমেনসিয়া বা আলঝাইমারের ঝুঁকির কারণ। যেমন: উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, কোলেস্টেরল বেশি থাকা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। এ ছাড়া যারা বিষণ্ণতায় ভুগে, মানসিক অবস্থা ভালো নেই, এমন নারী বা পুরুষরাও ডিমেনসিয়াতে ভুগতে পারে। আরেকটি দেখা যাচ্ছে, যারা বেশি স্থূল বা ওবেস তাদেরও এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাহলে ডিমেনসিয়া যেন কম হয় আমার, সেটির জন্য আমি কী করতে পারি? এই বিষয়গুলো আমরা একটু জেনে নিই। ব্যক্তিগতভাবে আমি কীভাবে সুরক্ষাটি আনতে পারি, সেটি নিয়ে আলোচনা করতে চাই।

তাহলে বিষয়টি হলো, আমাদের যেন এই রোগগুলো না হয়। এই ক্ষেত্রে হার্ট ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলে এটি ব্যবস্থাপনা করা জরুরি। এর জন্য যে সেবা, ওষুধ ও রুটিন দরকার, সেটি ব্যবস্থাপনা জরুরি।

আমরা জানি, তামাক পান করা, সিগারেট খাওয়া বা ব্যবহার করা ইত্যাদি বড় ধরনের ঝুঁকি। সুতরাং তামাক সেবনকে বাদ দিতে হবে। আর যেসব দেশের মানুষ মদ্যপান বেশি করে, তাদেরও বলা রয়েছে, তোমরা এটি বেশি খাবে না।

আরেকটি পরামর্শ খুব দেওয়া হয়, মনকে প্রফুল্ল রাখতে হবে, যেন বিষন্নতায় না যায়। একা যেন না থাকে, সামাজিকভাবে যেন মানুষের সঙ্গে মেশে।

আরেকটি বিষয় আমরা সবাইকে বলে থাকি। সেটি হলো, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে; ব্যায়াম করতে হবে। দেহকে একটি ব্যায়ামের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি, খাবারের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। খাবারটি যেন ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

খাওয়াটি এমন হবে না যে আপনাকে আরো স্থূল করবে; ডায়াবেটিস বাড়িয়ে দেবে। বেশি মাংস বা উচ্চ চর্বিজাতীয় খাবার খাবেন না। এতে দেহ আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রতিদিন সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক চর্চা ও সুস্থ জীবনের মধ্যে থাকলে সেই মানুষটির ডিমেনসিয়া বাড়ার ঝুঁকি অনেক কমে।

আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কানে সঠিকভাবে শোনার বিষয়টি। আমরা অনেক সময় বুঝি না, কানে কম শুনতে পাচ্ছি। চিকিৎসক হিসেবে আমার পরামর্শ থাকবে চল্লিশের পরে আপনি কানে ঠিকঠাকমতো শুনতে পারছেন কি না, সেই পরীক্ষা করিয়ে নিন। একটি বেজ লাইন করুন। এরপর হয়তো তিন বা চার বছর পর পরীক্ষা করলেন। কেন এই পরীক্ষাটি জরুরি? কারণ, কানে না শুনতে পারলে আপনার মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করবে না, ডিমেনসিয়ায় ভুগবেন।

আর যারা খেলোয়ার রয়েছে, তারা যেন মস্তিষ্কে আঘাত না পায়। কারণ, মাথায় আঘাত ডিমেনসিয়ার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি।

এবার আসি, যাদের ডিমেনসিয়া হয়ে গেছে, তাদের জন্য কী করতে হবে? তাদের জন্য যে সেবাটা দরকার, সেটা কেমন হবে? ব্যক্তিকে নিয়ে চিন্তা করলে, তার যে মানসিক অবস্থা, সেটা কেমন হচ্ছে বোঝা জরুরি। সে কি নিজে বাথরুমে যেতে পারছে না কি অসুবিধা হচ্ছে, খেয়াল করতে হবে। দেখতে হবে নিজে নিজে প্রস্রাব করতে পারছে কি না, গোসল করতে পারছি কি না, শোবার ঘর ও বাথরুম চিনতে পারছে কি না। এমনও অবস্থা হয়ে যায় কোনদিকে বাথরুম সেটা হয়তো চিনছে না। খেতে দেওয়া হলে হয়তো চামচ বা হাত কিছু দিয়েই খেতে পারছে না।

সুতরাং একজন ডিমেনসিয়া রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে তার যত্ন দিতে হবে। এমনও হতে পারে, তাকে বাথুরুমে ধরে নিয়ে যেতে হচ্ছে। বাথরুমের জন্য তাকে চেয়ার বিছানার কাছে দিয়ে দিতে হতে পারে। এসব বিষয় বুঝে পরিবারের মানুষকে কাজের ভাগাভাগি করে সেবাটা দিতে হবে।

অনেক জায়গায় দেখা যায়, এসব রোগী নির্যাতনের শিকার হয়ে যায়। অনেক রোগী রয়েছে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে চায়, রাস্তায় চলে যাবে। তখন তাকে রাস্তায় যেতে দেওয়া যাবে না। দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সে ফিরে এসে বাড়ি খুঁজে পাবে না। সে বাড়ি না খুঁজে পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে। ডিমেনসিয়ার এমনও অনেক বড় বড় লক্ষণ রয়েছে। সুতরাং তাকে আসলে সুরক্ষা দিতে হবে, সেবা দিতে হবে। তার যে সেবা, খাদ্য, আবহাওয়া দরকার সেটি দেওয়া জরুরি।

আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় যারা নিয়োজিত রয়েছে, ডাক্তার থেকে শুরু করে প্যারামেডিক যারা রয়েছে, এদের সবাইকে ডিমেনসিয়া সম্পর্কে জানাতে হবে। ডিমেনসিয়ার যত্নের ধরনটা জানা জরুরি। এই রোগের কী কী লক্ষণ হতে পারে, পরিবারের মানুষকে কীভাবে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে, তা জেনে রাখতে হবে।

আমরা অনেক সময় দেখি, রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলো, উনি ২০টি ওষুধ দিয়ে দিলেন। ডিমেনসিয়া রোগী ঐ ২০টি ওষুধ কীভাবে খাবে এবং তার সত্যি সত্যি কোনো উপকার হবে কি না, এটি আমাদের একটি আদর্শগত বিষয়। আমি তাকে কী ওষুধ দিচ্ছি, কতটুকু ওষুধ দিচ্ছি, সেগুলো তার কোনো উপকারে আসবে কি না, সেগুলো বুঝতে হবে।

পরিবার তো এমনিতেই বিধ্বস্ত। এরপরও ১৫ থেকে ২০টি ওষুধ কিনতে দিলে অর্থনৈতিকভাবে আরো বিব্ধস্ত হয়ে যাবে। তাহলে সেই পরিবারটির কথা চিন্তা করতে হবে। রোগীকে সেই ওষুধই দিতে হবে যার খরচ সে বহন করতে পারে এবং যেটি তাকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

ডিমেনসিয়াকে একই পর্যায়ে রাখতে পারা গেলে ভালো। একেই আমরা অনেক সৌভাগ্যের মনে করি। আমরা ইতিহাস থেকে জেনেছি ডিমেনসিয়াকে সম্পূর্ণ ভালো করা যায় না। ক্ষতিকে কমিয়ে নিয়ে আসা যায়। কিছু ওষুধ রয়েছে যা কি না সহায়ক হতে পারে। সুতরাং খুব বুঝেশুনে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে; পরীক্ষা করতে হবে। কেবল যতটুকু পরীক্ষা না করলে নয়, ততটুকু করা ভালো। রোগীর পকেট থেকে যেন অনেক টাকা খরচ না হয়, সেই জিনিসটিও যারা সেবাদানকারী তারা বিচার বিবেচনা করতে পারে।

অনেক বাড়িতে ক্যানসার সারভাইভার, প্রতিবন্ধী বা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত মানুষ থাকে। এই ধরনের মানুষকে যারা সেবা দেয়, তাদের কমিউনিটিতেও ডিমেনসিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে জানাতে পারলে ভালো। তাদের সেবার আওতায় আমরা ডিমেনসিয়ার রোগী আনতে পারলে, আমাদের ভার অনেকদিক থেকে কমে আসে।

আমাদের সরকারের কাছে যেটি আবেদন এবং আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি, সেটি হলো, ডিমেনসিয়ার জন্য বিশেষায়িত সেন্টার রাখা। এখানে চিকিৎসকরা এটি সম্পর্কে জানবে, রোগীরা সেবা পাবে। সেখান থেকে অন্যান্য চিকিৎসকদেরও আমরা আরো প্রশিক্ষণ দিতে পারবো। যারা পরে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করবে। আমাদের আরেকটি বিষয় দরকার। সেটি হলো, তথ্য বা ডেটা। এটি না থাকলে যারা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বসে রয়েছেন, তাদের আমরা তথ্য দিতে পারবো না।

আজ যেমন আমরা বলছি, ডিমেনসিয়ায় আক্রান্তদের চারজনের মধ্যে তিনজনই নারী। এটি আসলো কোথা থেকে? যেহেতু আমরা গবেষণা করেছি এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল পেয়েছি, সেহেতু আমরা জেনে নিয়ে এর ওপর ব্যবস্থাপনাটা পরিচালনা করবো। আমার মনে হয়, আমাদের দেশে ডিমেনসিয়ার ওপর পলিসি থাকা প্রয়োজন, বিশেষায়িত সেন্টার থাকা প্রয়োজন এবং প্রত্যেক স্বাস্থ্যকর্মীর এই ডিমেনসিয়া সম্পর্কে জ্ঞান থাকা উচিত। পাশাপাশি তারা পরিবারকে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করবে, এই রোগীকে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করবে, এই বিষয়ে জ্ঞান থাকলে তারা ঐ পরিবারের মানুষকে পরামর্শ দিতে পারবে।

আমাদের দেশে একটি স্টিগমা রয়েছে। এই ধরনের রোগীকে মানুষ পাগল বলছে। এরা পাগল নয়। এরা একটি অসুস্থ মানুষ, যার সুস্থতা দরকার এবং সুস্থ থাকতে সেবা দরকার। এটা আমাদের দায়িত্ব। অনেক দেশ রয়েছে এই বিষয়ে বিশেষ ইনসুরেন্স রয়েছে। অনেক দেশ রয়েছে, যেখানে বৃদ্ধ বয়সে তাকে আলাদা করে অর্থ উপর্জন করতে হয় না, তার যে ইনসুরেন্স রয়েছে, সেটা দিয়ে সেবাটা হয়ে আসে। আমাদের দেশে এই ধরনের রোগের জন্য ইনসুরেন্স করলে বৃদ্ধ বয়সে টাকার অভাবে বেশি ভুগতে হবে না। তারা একটি ব্যবস্থার মধ্যে চলে আসবে।

সুতরাং সরকার, পলিসি মেকার ও সিনিয়র প্রোগরাম ম্যানেজারদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাচ্ছি, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যেন বেশি ভুগতে না হয়। তারা যেন সঠিক চিকিৎসাব্যবস্থা, সেবা ও সম্মানটি পায়। তাহলে এই রোগে আক্রান্তদের আমরা নিরাপদে রাখতে পারবো।

লেখক: রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

আসল মুক্তা চিনবেন কীভাবে?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

মুক্তা বা পার্লের গহনা মানেই ঐতিহ্যবাহী ও আভিজাত্যময় কিছু। দেশি হোক বা বিদেশি, যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই মুক্তা বেশ চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়। শুধু কি নারীর গহনায়, বিভিন্ন কারুশিল্পেও রয়েছে এর ব্যবহার। তবে বিপত্তিটা ঘটে আসল মুক্তা চেনার বিষয়টিতে।

কারণ, বাজারে মুক্তার মতোই দেখতে এতো পুতি ছড়িয়ে থাকে যেখান থেকে আসলটি চেনা কঠিনই হয়ে পড়ে। আর তাই এই দ্বন্দ্ব থেকে বেরিয়ে আসতে গহনা প্রেমীদের জানানো হলো আসল মুক্তা চেনার কয়েকটি কৌশল।

বাইরের আবরণ
আসল বা খাঁটি মুক্তার বাইরের আবরণ একদম মসৃণ বা নিঁখুত হয় না। আসল মুক্তার বাইরের অংশ কখনো কখনো অসমান থাকে। নকলটির বাইরের আবরণ গ্লাসের মতো স্বচ্ছ হয়।

দীপ্তি
নকল মুক্তা আলোর সামনে আনলে ঝকঝকে তো লাগবে, তবে আভা ছড়াবে না। আসল মুক্তা সাধারণত আলোর সামনে আনলে গোলাপি বা সবুজ ধরনের আভা থাকবে।

শব্দ
আসল মুক্তায় টোকা দিলে এর শব্দ কিছুটা ভোঁতা ধরনের হবে। তবে নকলটিতে টোকা দিলে ভারি আওয়াজ হয়।

দাম
সাধারণত আসল মুক্তার দাম বেশি হয়। কারণ, এটি উৎপাদন করা বেশ কষ্টসাধ্য ও সময়ব্যাপী। তবে নকলের দাম আসলের চেয়ে প্রায় কয়েক গুণ কম থাকে।

সূত্র: ব্রিলিয়ান্ট আর্থ

ঘুমের আগে লেবু-পানি পান: কী উপকার করে?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঘুমের আগে এক গ্লাস লেবু-পানি পান দেহের পানিশূন্যতা কমাতে কাজ করে। ঘুমের সময় যেহেতু সাত থেকে আট ঘণ্টা পানি পান হয় না এবং দেহে পানিশূন্যতা হয়, তাই ঘুমের আগে এই পানীয়টি পান অনেকটা উপকারী।

আবার দেহে পানির পরিমাণ পর্যাপ্ত থাকলে অঙ্গগুলো ভালোভাবে কাজ করে। এ ছাড়া ঘুমের আগে লেবু-পানি পানের রয়েছে আরো উপকার। ঘুমের আগে এই পানীয় পানের কিছু উপকার জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট গ্রেটিস্ট।

দেহকে শিথিল করে
লেবুর গন্ধ এমনিতেই সুন্দর। ঘুমের আগে এক গ্লাস লেবু পানি পান দেহকে শিথিল করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ঘুমের মানও বাড়ায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
লেবুতে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’। এই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ঠান্ডা, সর্দি-কাশির মতো সমস্যাগুলোকে প্রতিরোধ করে।

হজম ভালো করে
অনেকে মনে করে লেবু- পানি পানে হজম ভালো হয় এবং বাউয়েল মুভমেন্ট ভালোভাবে হয়। তবে এর এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

লেবু-পানি পানের যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনি এর রয়েছে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও। অনেকেরই লেবু-পানি পানে এসিডিটি ও এসিড রিফ্ল্যাক্সের সমস্যা হতে দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে দেহের অবস্থা বুঝে এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে পান করা জরুরি।

ছবি: আবদুর রহমান হৃদয়

পীরগঞ্জ ডায়াবেটিস এন্ড জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঠাকুরগাঁও জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় পীরগঞ্জ ডায়াবেটিস এন্ড জেনারেল হাসপাতালে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও কিডনি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ, এই ক্যাম্প থেকে প্রায় ২০০ জন রোগী স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। আয়োজনটির সযোগিতায় ছিলো জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ক্যাম্প উপলক্ষে আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। সভাপতিত্ব করেন সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক একে এম আজাদ, কনসাল্টেন্ট কার্ডিওলোজিস্ট ডা. মো. মেজবাহউল ইসলাম।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক রাসকিন তাঁর বক্তব্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও কিডনি রোগকে ৪টি প্রধান অসংক্রামক রোগ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য, অ্যালকোহল বা মদ, অতিরিক্ত মাংস ও চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করা- খাবারে বেশি করে শাকসবজি- ফলমূল রাখা- পাশাপাশি কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভ্যাস এই রোগগুলাে থেকে আমাদের সুরক্ষা দিতে পারে।’

ক্যাম্পে স্থানীয় চিকিৎসক ছাড়াও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ রোগীদের পরামর্শ দেন।

বৃষ্টিদিনে চুলের যত্ন যেভাবে নেবেন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

তীব্র গরমের পর এক পশলা বৃষ্টি সত্যিই স্বস্তি দেয়। তবে চুল ভালো রাখতে এই আবহাওয়া তেমন একটা উপকারী নয়। এই সময়টায় দেহের এই অঙ্গটির বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। না হলে মাথার ত্বক অস্বাস্থ্যকর হয়; চুলও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। তাই বৃষ্টিদিনে চুলের যত্নে রইলো কয়েকটি জরুরি পরামর্শ-

বৃষ্টির পানি থেকে চুলকে রক্ষা করুন
বৃষ্টির ময়লা পানি চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বৃষ্টির সময় মাথায় স্কার্ফ বা ওড়না পেঁচিয়ে রাখলে অনেকটা রক্ষা পাবেন। বৃষ্টিতে ভিজলে যত দ্রুত সম্ভব চুলকে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খান
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বৃষ্টির দিনে চুলকে ভালো রাখবে। এই ক্ষেত্রে খেতে পারেন সবুজ সবজি, মিষ্টি আলু, পালং শাক ইত্যাদি।

খুশকি দূর করুন
এই সময়টায় অনেকেরই চুলে খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত চুল পরিষ্কারের রুটিন মেনেও এটি দূর না হলে চিকিৎসা করান।

চুল ছোট রাখতে পারেন
ঝামেলা থেকে বাঁচতে বা বাড়তি যত্ন করার ঝক্কি থেকে রেহাই পেতে এই সময়টায় চুল ছোটও করে ফেলতে পারেন। এতেও অনেকটা আরাম পাবেন।

তেল ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
চুলের যত্নে কিছু রুটিন মেনে চলতেই হয়। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন তেল ব্যবহার করা এবং চুল ধোয়ার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করা ইত্যাদি জরুরি। এগুলো চুলকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। আপনাকেও রাখবে আত্মবিশ্বাসী।

সূত্র: ফোরটিস

চা পানের উপকার কী?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সকালে ঘুম থেকে উঠে বা সারাদিন পরিশ্রম শেষে বিকেলে এক কাপ চা পান শরীর ও মনকে ফুরফুরে করে, কাজের গতি বাড়ায়- এসব তো তথ্য- প্রযুক্তির অগ্রগতির সুবাদে প্রায় সবারই জানা। তবে এগুলো ছাড়াও চায়ের রয়েছে আরো উপকারী গুণ। সারাবিশ্বে বহুল প্রচলিত এই পানীয়টির কিছু গুণের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট গুড ফুড।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
চায়ের মধ্যে থাকা উপাদান রক্তনালীর কাজ ভালোভাবে করাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। চায়ের মধ্যে থাকা উপাদান নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালীর ভেতরের পেশিকে শিথিল করে এবং রক্তকে ভালোভাবে সঞ্চালনে সাহায্য করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
নিয়মিত চা পান হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর- বিশেষজ্ঞরা এমনটাই বলেন। চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাপাচিন সম্পূর্ণ হার্টের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে।

মানসিক চাপ কমায়
চা মানসিক চাপ কমাতে উপাদেয় পানীয়। এটি আলফা ব্রেইন ওয়েভ বাড়াতেও সাহায্য করে। পাশাপাশি এর মধ্য থাকে উপাদান আই-থেয়ানিন। এটি মনোযোগ বাড়াতে কার্যকরী।

হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
কিছু গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, চা হাড়ের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। বিশেষ করে গ্রিন টি। এর মধ্যে থাকা উপাদান পলিফেনল হাড়ের ঘনত্বের জন্য উপাদেয়।

দুধ চা পানে অনেকের এসিডিটির সমস্যা হয় বলে, এসব উপকারগুলো ভালোভাবে পেতে গ্রিন টি, হারবাল টি বা লাল চা পানই ভালো- এমনটাই মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

কোরবানির ঈদ আয়োজনে ‘রঙ বাংলাদেশ’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তারা সব সময় উৎসবকে ভালোবাসে। আর ঈদ মানেই উৎসবের দারুণ এক উপলক্ষ্য। সামনেই ঈদ উল আযহা আমাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। ত্যাগের মহিমাকে ধারণ করতে অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়বেন কোরবানির প্রস্তুতিতে।

পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করবেন এই ঈদে কোন ডিজাইনের পোশাকে উৎসবকে বরণ করা যায় সেই আনন্দময় পরিকল্পনা নিয়ে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশ এবারের ঈদ উল আযহাতে নিয়ে এসেছে ঈদ উপযোগী বাহারি ডিজাইনের পোশাক। প্রতিষ্ঠানটির পণ্যে অন্যতম আকর্ষণ থাকে বিভিন্ন থিম ভিত্তিক পোশাকের, এবারেও ব্যতিক্রম নেই। এই ঈদে পোশাকের নকশায় থিম হিসেবে ব্যবহার হয়েছে বাংলার আল্পনার ডিজাইন এবং ঐতিহাসিক আল হামরা মসজিদের নকশা অনুসারে। এগুলো ঈদ উল আযহার পোশাককে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। ডিজাইনের পাশাপাশি রঙ বাংলাদেশ সব সময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে মানসম্পন্ন কাপড়, আরাম, ও স্টাইলে।

ছবি: রঙ বাংলাদেশ
ছবি: রঙ বাংলাদেশ

এবারে ঈদ আয়োজনে পণ্য হিসেবে রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, কামিজ, স্ট্রিচ ড্রেস, ফ্রক, টি-শার্ট, শার্ট ইত্যাদি। আরও একটি দারুণ ব্যাপার যে ঈদ যেহেতু একা মানুষের উৎসব নয়, এটি পরিবার, প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব সবাইকে নিয়ে উদযাপনের বিষয়; সেই ভাবনা থেকে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছে একই ডিজানের পারিবারিক পোশাক, যা ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে সম্মিলিত ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। পারিবারিক এই পোশাকে রঙ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে নেভিব্লু ও আকাশি। গরমে যা দারুণ আরাম দেবে।

বাড়তি পাওনা হিসেবে থাকছে দেশীদশ ব্যতীত রঙ বাংলাদেশ এর সকল আউটলেটে সকল পণ্যেই ৫০% পর্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যছাড়।

সুতরাং দেরি না করে একা একা কিংবা দলবল নিয়ে ঢু মারতে পারেন রঙ বাংলাদেশের আউটলেটগুলোতে। ঢাকা ও ঢাকার বাহিরের ২০টি আউটলেটেই পাওয়া যাবে ঈদ উল আযহার সমৃদ্ধ পোশাক সংগ্রহ। আর যারা ভিড় এড়িয়ে ঘরে বসে কেনাকাটা করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য রয়েছে ই-কমার্স সাইট www.rang-bd.com এবং ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজ www.facebook.com/rangbangladesh. যেকোনো প্রয়োজনে ফোন / হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে সাহায্যকারী 01777744344 এবং 01799998877 নম্বরে।

নজরুল ও রবীন্দ্রনাথ বর্তমান সমাজেও প্রাসঙ্গিক: মোহন রায়হান

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

জামালপুর সমিতি, ঢাকার আয়োজনে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার, ১৯ মে জাতীয় যাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বিকেল পাঁচটায় এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন গবেষকেরা। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর, কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কাব্য নিয়ে আলোচনা করেন নজরুল ইন্সটিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. জাকির হোসেন, নজরুল গবেষক ও বাচিক শিল্পী টিটু মুন্সী, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘নজরুলের জীবন আর কবিতায় কোন তফাত নেই। যখন যা নিয়ে কবিতা লিখেছেন তা নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন। নজরুল কবি এর চেয়ে বড় ছিল তার কর্মীসত্ত্বা। যদি তিনি শুধু কবিতা লিখতেন তাহলে তার জীবনটা এত কষ্টের হত না।’

কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যে সেই আদি চর্যাপদ থেকে শুরু করে আজ অবধি কেউ নজরুল ও রবীন্দ্রনাথকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নজরুল ছিলেন সাম্য ও মানবতার কবি, বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহের যুবরাজ এবং রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বাংলা ভাষা সাহিত্যের বিশাল পন্ডিত। নজরুল ও রবীন্দ্রনাথ দুজনেই ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে ভারতবর্ষকে রক্ষা করার জন্য কলম ধরেছেন, আন্দোলন করেছেন এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন।

বাংলাদেশের আজকের যা প্রেক্ষাপট, আজকের যা বাস্তবতা সেখানে ধর্মীয় মৌলবাদ, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখানেই রবীন্দ্র-নজরুল দুজনেই আজও প্রাসঙ্গিক। আগামী দিনের একটি গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে নজরুল ও রবিন্দ্রনাথকে ধারণ করার কোনো বিকল্প নেই।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না। প্রয়াত বিএনপি নেতা ব্যরিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের একমাত্র মেয়ে সালিমা তালুকদার, জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বলেন, ‘নজরুলের বল বীর চির উন্নত মম শির- আমাকে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করে। তার মধ্যে সাম্প্রদায়িক কোনো চিন্তা ছিল না। তাকে অনেকেই ভেবেছে সে ধর্ম থেকে চ্যূত হয়েছে, কিন্তু সে তার গানে তার জবাব দিয়ে দিয়েছে।’

অনুষ্ঠান শেষে সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের নেতৃত্বে ২০২৫ থেকে ২০২৬ মেয়াদের জন্য সমিতির নির্বাহী কমিটির পরিচিতি ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জামালপুর জেলা সমিতির সদস্যরা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.