Thursday, September 24, 2026
spot_img
Home Blog Page 136

আকর্ষণীয় নখ পেতে চান? ব্যবহার করুন চার উপাদান

অনন্যা চৈতী

কখনো ভেবে দেখেছেন, আকর্ষণীয় নখের পেছনে রহস্য কী? হয়তো ভাবছেন, এটি বিউটি পার্লারের কারসাজি। নিয়মিত পার্লারে গিয়ে ব্যয়বহুল পেডিকিউর-ম্যানিকিউর করলেই এ ধরনের নখ পেয়ে যাবেন। ধারণাটি একেবারে ভুল তা বলছি না।

তবে পার্লারে গিয়ে এক গাদা টাকা খরচ না করে একটু যত্ন করলে ঘরে বসেই পেয়ে যেতে পারেন আকর্ষণীয় নখ। ঘরে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপদানের ব্যবহারে আপনার নখ হয়ে উঠবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর। ঘরোয়া পদ্ধতিতে নখ ভালো রাখার উপায় জানিয়েছে ভারতীয় ওয়েবসাইট টামস অব ইন্ডিয়া।

১. অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল ময়শ্চারাইজারসমৃদ্ধ হওয়ার কারণে নখের ওপরের ছত্রাকগুলো গভীর থেকে নিরাময় করে। এর ব্যবহার নখকে আকর্ষণীয় করে তোলে। প্রতিদিন একটি ছোট বাটিতে অলিভ ওয়েল হালকা গরম করে আঙ্গুলগুলো সেই তেলে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এই কাজটি করার আগে নখগুলো অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ১৫ মিনিট পর তেল থেকে আঙ্গুল তুলে একটি পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে নখগুলো ভালোমতো মুছে নিন।

২. ছোট্ট একটি রসুন
অনেকেরই নখ ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে রসুন খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। রসুন কেটে নখে ঘষতে পারেন। আবার এটির রস নখে লাগাতে পারেন। এতে নখ ভেঙ্গে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে অচিরেই।

৩. গোলাপ জল
অ্যান্টিসেপটিক সমৃদ্ধ, অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত গোলাপ জল অস্বাস্থ্যকর নখের যত্নে আশ্চর্য উপকারী। এটি নখের অভ্যন্তরীণ অংশ পরিষ্কার করে এবং নখের ময়শ্চারাইজার ধরে রাখতে সাহায্য করে। আকর্ষণীয় নখ পেতে প্রতিদিন আঙ্গুলগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে একটি ছোট কটন বলে গোলাপ জল নিয়ে প্রতিটি নখে লাগান।

৪. এক চা চামচ লেবুর রস
নখ বিবর্ণ দেখাচ্ছে? চিন্তা নেই। একটি ছোট বাটিতে এক চা চামচ বেকিং সোডা, এক চা চামচ লেবুর রস যোগ করুন, সঙ্গে অবশ্যই পানি মিশাতে ভুলবেন না। এই মিশ্রণটিতে ১০ মিনিটের জন্য নখগুলো ভিজিয়ে রাখুন। এর পর আলতো করে ব্রাশ দিয়ে স্ক্র্যাব করুন। সুন্দর নখ পেতে এই কাজটি প্রতিদিনই করতে পারেন।

গরমে শিশুর যত্নে ৮ পরামর্শ

ডা. শাকিল মাহমুদ
গরমের দাবদাহে অতিষ্ট জনজীবন। গরমে পরিবেশের তাপমাত্রা অনেক উঠানামা করে। এতে মানুষের শরীরে, বিশেষ করে শিশুর শরীরে পিএইচ, বাফার সিস্টেমসহ অন্যান্য বায়োক্যামিক্যাল পেরামিটারের তারতম্য ঘটে।বিভিন্ন মেটাবলিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের জন্য গরমে শিশুরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।

সুস্থ সবল শিশু আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতের কর্ণধার শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সুস্বাস্থ্য জরুরি। যেহেতু তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাই গরমে বাড়তি যত্ন নিতে হবে।

গরমে শিশুর যেসব সমস্যা হয়
# গরমে শিশুর ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা, টাইফয়েড, জন্ডিস, হেপাটাইটিস এ ও সি হতে দেখা যায়।

# শিশুর ত্বক যেহেতু নাজুক, তাই গরমে ত্বকে ঘামাচি, ছত্রাক, চুলকানি, ত্বক লাল হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

# গরমে প্রচুর ঘাম হয়ে শরীরে ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স হতে পারে। এতে পানি শূন্যতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পানিশূন্যতা থেকে কিডনি ফেইলিউরের মতো ঘটনা ঘটে।

# অনেক সময় গরমে শিশুর বদ হজম হয়। শিশুরা ফাস্টফুড, বাইরের খাবার খেতে পছন্দ করে। এসব খাবারে গরমের কারণে বিষক্রিয়া হতে পারে। ফুড পয়জনিং থেকে বদহজম হয়।

# এ ছাড়া গরমে ঘেমে ঠাণ্ডা-কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, হালকা জ্বর আসা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্টের সমস্যাও হয়।

করণীয়
১. যেহেতু এখন করোনার সময় শিশুর ঠাণ্ডা-কাশি থাকলে অবশ্যই তাকে করোনার পরীক্ষা করাতে হবে।করোনা না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিহিস্টামিান, প্যারাসিটামল, সিভিট জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার দরকার নেই। কারণ, সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর এমনিাতেই পাঁচ থেকে সাত দিনের ভেতর ঠিক হয়ে যায়।

২. গরমে শিশুকে বাসায় তৈরি করা লেবুর শরবত, ফলের রস, প্রচুর পরিমাণ রসালো খাবার, সসা ও টকদই ইত্যাদি খেতে দিন।

৩. শিশুকে বাইরের খাবার থেকে দূরে রাখতে হবে। কারণ, এসব খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে।

৪. শিশুকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সাহায্য করুন। খাবারের আগে ও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

৫. এ সময় যেহেতু পানিশূন্যতা দেখা দেয়, তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও ফ্রেশ খাবার খাওয়াতে হবে। চা- কফি, কোমল পানীয়, সফট ড্রিংস ইত্যাদি খাওয়াবেন না। এগুলোতে ক্যাফেইন থাকার কারণে পানি শূন্যতা বেড়ে যায়।

৬. শিশুর ছায়ার ভেতরে রাখতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া শিশুকে ঘরের বাইরে বের করবেন না। হালকা রঙের জামা পরান।

৭. খেয়াল রাখতে হবে শিশু যেন ফ্রিজের খাবার সরাসরি না খায়। এতে ঠাণ্ডা, গলাব্যথার আশঙ্কা বাড়ে।

৮. শিশু ঘেমে গেছে কি না খেয়াল করুন। ঘেমে গেলে জামা পাল্টে দিন।

করোনা ও গরম : সুস্থ থাকার উপায়

শাশ্বতী মাথিন

প্রচণ্ড গরমে সবারই যেন ত্রাহি অবস্থা। গরম মানেই পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া আর ত্বকে বিভিন্ন সমস্যার আগমন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের সময়টায় মানুষ রোগ-ব্যাধিতে বেশি আক্রান্ত হয়। আর এখন বাড়তি সঙ্গী হয়ে করোনা তো রয়েছেই। তাই সুস্থ থাকতে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।

গরমে সুস্থ থাকতে করণীয় বিষয়ে জানিয়েছেন রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল। তাঁর পরামর্শ মতে,

১. একে তো গরম, তার ওপর করোনা। তাই কাজ না থাকলে প্রচণ্ড গরমে বাইরে বের না হওয়াই ভালো।
২. বের হতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি ও অন্যান্য নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি ছাতা ব্যবহার করতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে পানি ও ওরস্যালাইন।
৩. বাইরে থেকে এসে যেন কেউ ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি ঢক্ ঢক্ করে খেয়ে না ফেলে। এতে শরীরের তাপমাত্রা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
৪. বয়স্ক ও শিশুদের প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। শিশুরা অনেক সময় ছাদে বা মাঠে খেলতে চলে যায়। এতে
শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
৫. গরমে অনেক সময় হিট স্ট্রোক হয়। ঝিম ঝিম লাগা, ঘুম ঘুম ভাব ইত্যাদি হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। এগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৬. দিনে একাধিকবার গোসল করতে পারলে ভালো।
৭. এ সময়টায় সুতি কাপড়ের পোশাক সবচেয়ে উপযোগী। সিনথেটিক, ভারী, রঙিন কাপড় এড়িয়ে চলতে পারলেই ভালো।
৮. বাইরে বের হওয়ার সময় পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।
৯. খাবার-দাবারের ক্ষেত্রেও এই সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। এমন খাবার খেতে হবে যেগুলো রসালো ও পানিযুক্ত।
১০. চা, কফি, কোমল পানীয় থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে। ভারী খাবার এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
১১. ট্যুর বা সৌখিন বেড়ানো বন্ধ রাখাই ভালো।

করোনাকালীন বিষণ্ণতা : কমাবেন কীভাবে ?

শাশ্বতী মাথিন

করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে প্রিয়জনের কাছ থেকে দূরে থাকা, উদ্বেগ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রতিদিনকার সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর মন খারাপ করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ সময়টায় বিষণ্ণতা বা উদ্বেগে ভোগা মানুষ নেহাত কম নয়। গোটা বিশ্ব ভুগছে এ হতাশায়।

এমন অবস্থায় নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে এবং বিষণ্ণতা কাটাতে কিছু উপায় বাতলেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ গাইড।

ইতিবাচক চিন্তা করুন 
বিষণ্ণতার সময় নেতিবাচক চিন্তাগুলোই মাথায় ঘুরতে থাকে। মনে হয়, অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে সব। চিন্তা থামান। নেতিবাচকতার চক্র থেকে বেরিয়ে আসুন। এমন কিছুর প্রতি মনোযোগ দিন যা জীবনবোধ বা জীবনের অর্থকে খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

সময়কে কাজে লাগাতে নতুন কিছু শেখা শুরু করতে পারেন। হতে পারে সেটা ইংলিশ স্পিকিং কোর্স, গান শেখা বা যোগব্যায়াম। অর্থাৎ এমন কোনো কাজ করুন যা নেতিবাচক চিন্তাগুলো থেকে দূরে রাখতে পারে আপনাকে।

আনন্দ খুঁজুন
মহামারির সময় সবচেয়ে কঠিন প্রফুল্ল থাকা। করোনাতে গতকাল যে মানুষটি তার ছেলে বা মা হারিয়েছে সে আনন্দ খুঁজে পাবে কই? আসলে জীবন থেমে থাকে না। জীবন তার বহমান গতিতেই চলে। বিচ্ছেদের যন্ত্রণাকে পাশ কাটিয়ে আমরাও সেই বহমানতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে শিখে যাই। নিজের মানসিক বল বাড়াতে শুনতে পারেন গান। এমন সংগীত শুনুন যা মনকে শান্ত করে, স্থিরতা দেয়। বাড়ির শিশু ও প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটান। যার যার ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করতে পারেন। ধ্যানও মনকে শান্ত করতে কাজে দেয়। তাই নিয়ম করে দুবেলা ধ্যান করতে পারেন।

বিষাদের সংবাদ বেশি পড়বেন না
হ্যাঁ, তথ্য জানার জন্য খবর বা সংবাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে তো হয়ই। তবে নেতিবাচক এসব সংবাদ সারাক্ষণ মনকে ভারাক্রান্ত করে তুললে একটু বিরতি দিন। সারাক্ষণই দুশ্চিন্তার খবর পড়বেন না। কিছু হালকা ধাঁচের খবরও পড়ুন।

রুটিন মেনে চলুন
বেশি বা কম ঘুমানো, খাবার সঠিকভাবে না খাওয়া, ব্যায়াম না করা অর্থাৎ নিজের যত্নে অবহেলা বিষণ্ণতাকে বাড়িয়ে দেয়। বিষণ্ণতার সময় হয়তো কিছুই ভালো লাগছে না। নিজের পছন্দের কাজটাও হয়তো করতে ইচ্ছে করছে না সে সময়। তবুও এসব দুশ্চিন্তা, হতাশার ভেতরও নিজেকে সময় দিন; নিজেকে ভালোবাসুন। খাওয়া, ঘুম, ব্যায়াম প্রতিটি কাজের জন্য রুটিন তৈরি করুন এবং সে অনুযায়ী চলুন। রুটিন করে কাজ করা বিষণ্ণতা কমানোর এক বড় হাতিয়ার।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান
মানসিক চাপে থাকলে যা ইচ্ছে তাই না খেয়ে একটু স্বাস্থ্যকর খাবার খান। এমন খাবার খান যা মন ভালো করবে। এ ক্ষেত্রে ওমেগা- ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার বেশ কাজে দেয়। কাঠবাদাম, সামুদ্রিক মাছ, কিডনি বিন ইত্যাদিতে রয়েছে ওমেগা- ৩ ফ্যাটি এসিড। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখতে পারেন।

করোনার ১৩ লক্ষণ, জেনে নিন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
কোভিডের লক্ষণ এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকমভাবে প্রকাশিত হয়। বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই হালকা থেকে মধ্যম ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। আবার অনেক সময় লক্ষণ এতটাই গুরুতর হয়ে পড়ে যে ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

কোভিড-১৯ এর লক্ষণ

বেশি প্রচলিত
# জ্বর
# শুকনো কাশি
# ক্লান্তিভাব

হালকা লক্ষণ
# শরীরব্যথা
# গলাব্যথা
# ডায়রিয়া
# চোখে সংক্রমণ (কনজাংটিভাইটিস)
# মাথাব্যথা
# খাবারে রুচি না পাওয়া এবং গন্ধ না পাওয়া
# ত্বকে র্যাশ, পায়ের আঙুলের রঙের পরিবর্তন

জটিল লক্ষণ
# শ্বাস নিতে ভীষণ অসুবিধা; ছোট শ্বাস-প্রশ্বাস
# বুকব্যথা
# কথা বলা ও নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারানো

উপসর্গ প্রকাশ পেতে সাধারণ পাঁচ থেকে ছয়দিন সময় লাগে। জটিল লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। যাদের হালকা লক্ষণ এবং যারা মোটামুটি সবল তাদের চিকিৎসা বাড়িতে থেকেই করা সম্ভব।

সূত্র : হু ডট ইন

করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় লায়ন্স ক্লাব

ফিচার ডেস্ক
পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ লায়ন ডিসট্রিক্ট ৩১৫ বি২ -এর অন্তর্গত লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা গ্রীন আর্থ এবং ঢাকা গ্রীন।

গতকাল ৭ মে, টঙ্গী বাড়ি, মুন্সিগঞ্জ ও নিমতলা, সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জে অসহায় ৫০০ মানুষদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত গভর্নর লায়ন হাফিজ আল আসাদ, সদ্য প্রাক্তন জেলা গভর্নর লায়ন মো. মোবারক হোসেন, জেলা গভর্নর ইলেক্ট এ টি এম নজরুল ইসলাম, প্রথম জেলা গভর্নর (ইলেক্ট) এ বি এম আনোয়ারুল বাসেত, দ্বিতীয় জেলা গভর্নর (ইলেক্ট) আহাম্মেদ উজ্জামান, ক্যাবিনেট ট্রেজারার আশরাফ হোসেন খান, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ২০২১ -২০২২ বোরহানউদ্দিন , ক্যাবিনেট ট্রেজারার ২০২১-২০২২ শাহেদ আহমেদ, জেলার সিনিয়র রিজিয়ন চেয়ারপারসন শাহাদাত হোসেন, জাফর ইকবাল, এ কে এম নেয়ামতুল্লাহ বাবু, শেফালী আকন্দ, রমজান সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান নুরুন্নবী কামাল। লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা গ্রীনের প্রেসিডেন্ট সেলিম উল্লাহ মিয়া।

লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সেবা সংগঠন। বিশ্বব্যাপী ২১০ টি দেশে মানবতার সেবা করে যাচ্ছে।

বসন্ত ছুঁয়েছে আষাঢ়

মোশাররফ হোসেন রিপন

একাই ভিজেছি বৃষ্টিতে
তুমি আজ নেই বলে
তুমিও হয়তো ভিজবে
তোমার বসন্তকালে।

আষাঢ় জুড়ে বর্ষা নামে
গগন মেঘলা হলে
তোমার আষাঢ় নামে
শুধু মনের বসন্ত ছুঁলে।

তোমার বসন্ত দিনে
বর্ষার যত রূপ-যৌবনে
ভিজবে একাকী নুপূর পড়া পায়ে নির্জনে।
বুঝে নেবো আমি মাতাল ঘ্রাণ
বৃষ্টি ফোঁটা ছুঁয়ে
বসন্ত ছুঁয়েছে আষাঢ় আজ
বাদল ঝরঝর প্রণয়ে।

আমার দেখা ওয়াহিদুল হক

শাশ্বতী মাথিন
ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে প্রথম দেখা শিশু একাডেমীর অডিটোরিয়ামে। রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার পরপরই রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে। তখন আমি ছায়ানটে শিশু শাখার প্রারম্ভিক ‘ক’-এর ছাত্রী। দেখলাম, বেঁটেখাটো, মাথায় টাক, খদ্দরের পাজামাপাঞ্জাবি, কাঁধে একটি ঝোলা, কালো ফ্রেমের চশমা পরা একজন সৌম্য প্রবীণ আমার দিকে তাকাচ্ছেন বার বার। তখনো চিনিনি তাকে। পরে জানলাম তিনিই সেই বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী-গবেষক, সাংবাদিক, লেখক ওয়াহিদুল হক। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক পরিমণ্ডলে শুনে এসেছি তাঁর নাম। মুখটাই শুধু চেনা ছিল না।

এরপর কথা হলো ছায়ানটে। বাবার মাধ্যমে পরিচিত হওয়া ওয়াহিদুল হককে ‘কাকা’ ডাকতাম। তারপর যখনই দেখা হতো মিষ্টি হেসে বলতেন, ‘কেমন আছিস?’ উত্তরে কদমবুসি করে বলতাম, ‘ভালো’। মিষ্টি করে আস্তে আস্তে যখন কথা বলতেন সাংস্কৃতিক কর্মপ্রয়াসের পুরোধা, নিভৃতচারী, স্নিগ্ধ এই দেবশিশুর সামনে মাথা নুয়ে আসতো। কী চমৎকার কথা বলার ধরন, উচ্চারণ, ভঙ্গি!

কেরানীগঞ্জ থানার ভাওয়াল মনোহরিয়া গ্রামে ১৯৩৩ সালের ১৬ মার্চ তাঁর জন্ম। স্কুলজীবনেই কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আরমানিটোলা গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকা কলেজের ছাত্র হন। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মহীরুহ এ মানুষটির জ্ঞানের ব্যাপকতা ছিল সর্বময়। সংগীত, স্থাপত্য, দর্শন, গণিত, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র-সব বিষয়েই ছিল অগাধ জানাবোঝা। বহুমাত্রিক এই মানুষটি ছিলেন সংগীত প্রশিক্ষক, সহসী কলাম লেখক, দক্ষ সংগঠক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ওয়াহিদুল হককে একটি অনুষ্ঠানে ‘শিক্ষাগুরু’ বলে অভিহিত করলে তিনি বলেন, ‘ আমি একজন সাধারণ মানুষ, গুরু নই। সংগীতকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি, হৃদয় দিয়ে, প্রেম দিয়ে শেখাতে চেষ্টা করি।’

ওয়াহিদুল হকের কর্মজীবনের শুরু পঞ্চাশের দশকে, ১৯৫৬ সালে ‘ডেইলি মনিং নিউজ’ পত্রিকায়। ষাঠের দশকের দিকে ছিলেন ‘দি ডেইলি পিপল’-এর নির্বাহী সম্পাদক। স্বাধীনতা পরবর্তী ‘ডেইলি নিউ নেশন’ এবং শেষে ‘ডেইলি স্টার’-এর জয়েন্ট এডিটর হিসেবে কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গিয়ে তৈরি করেন উদ্দীপনামূলক সংগীতদল। সেই দল মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে দেশমাতৃকার ভালোবাসায় উদ্দীপনামূলক গান গাইত।

ছায়ানটে ওয়াহিদুল কাকার প্রথম ক্লাস পেয়েছিলাম তৃতীয় বর্ষে। শেখাচ্ছিলেন ‘কিছু বলবো বলে এসেছিলেম, রইনু চেয়ে না বলে’। দুটো করে লাইন শেখাছিলেন, আর এর অর্থ ভাব, শুদ্ধ উচ্চারণ বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। পুরো ক্লাসেই তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন সংগীত উপাসনার বিষয়। সংগীতের মধ্য দিয়ে বাস্তবতা ও জীবনবোধে সমর্পিত করতে হয় নিজের আত্মাকে। ওয়াহিদুল হকই আমাদের প্রথম শিখিয়েছিলেন সংস্কৃতি ও বাঙালিত্বের সংজ্ঞা।

যখন শেখাতে, ছিলেন ক্লান্তহীন। কথার পিঠে কথা সাজিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বোধগম্য করে তুলতেন বিষয়টি। তাঁর বলা প্রতিটি শব্দ ও বাক‌্য ছিল অর্থবহ। গুরু ছিলেন তিনি সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের। আমাদের বলেছিলেন, ছায়ানট গান শেখার স্থান শুধু নয়, বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ ও চর্চা করার স্থানও। আর বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ রয়েছেন বাঙালি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।

রবীন্দ্রপ্রেমী ওয়াহিদুল হক রবীন্দ্রনাথের গানকে তপস্যা করে হয়ে উঠেছিলেন ঋষি। ব্রতচারী হয়ে উঠেছিলেন রবীন্দ্রসংগীতকে সমগ্র বাংলার আনাচেকানাচে ছড়িয়ে দেওয়ায়। তার অনেক বড় কীর্তির মধ্যে একটি ১৯৬১ সালে ছায়ানটের প্রতিষ্ঠা এবং রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখের প্রচলন। ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা ড. সানজিদা খাতুন হলেও ওয়াহিদুল হক ছিলেন ছায়ানটের প্রাণ। রবীন্দ্রনাথের গানকে প্রসারিত করতে এবং শুদ্ধ বাঙালি বোদ্ধা তৈরি করার স্বপ্নে তিনি গড়ে তুলেছিলেন রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কণ্ঠশীলন, আনন্দধ্বনী ও নালন্দার মতো প্রতিষ্ঠান।

আজ ১৬ মার্চ তাঁর জন্মদিবসে গুণী মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা রইলো। প্রতিটি আধুনিক মানুষের মতো নিঃসঙ্গ এই মানুষটি সারাটি জীবন নিজেকে প্রচারবিমুখ রেখে, তাঁর জ্ঞানকে প্রসারিত করেছেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে। অন্ধ সংস্কারের উর্ধ্বে এসে সবসময় ছিলেন মানুষের কল্যাণে। ওয়াহিদুক হক চেয়েছেন বাঙালি তার নিজের হৃদয়কে সম্বৃদ্ধ করুক সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে, যুক্তি ও জ্ঞান দিয়ে নিজের হৃদয়কে প্রসারিত করুক।

লেখক : সাংবাদিক

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.