Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 135

মনের উঠান : ক্যামেরা

ওয়াহিদুল হুদা ডালটন

খুব ছোটবেলা থেকেই চৌকোনাকৃতি আলোকচিত্র ধারণ বাক্স বা ক্যামেরার প্রতি ছিল আমার দুর্নিবার আকর্ষণ। এর পেছনের মূল কারণ ছিলেন ফিকশন ইসলাম, আমার ছোট মামা, যিনি আমার জীবনের বিচিত্র শখ আর গতিপ্রকৃতির বেশিরভাগেরই প্রভাবক। আমার বই পড়া, ফটোগ্রাফি, গান, লেখালেখি, ঘোরাঘুরি, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বানানোসহ আরও বিবিধ বিচিত্র শখের জন্ম অনেকটা এই ভদ্রলোকের কারণেই।

আমার ওপর ছোট মামার প্রভাব যে ব্যপক, তা আমি নিজেও স্বীকার করি। যাক, সেসব গল্প অন্য কোনোদিন হবে। যা বলছিলাম। আমার ছোট মামা পড়তেন রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমান রুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। পড়ালেখার পাশাপাশি দৈনিক বার্তায় ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। আমাদের বাড়িতে থেকেই লেখাপড়া করতেন তিনি। তখন থেকেই তাঁর বাইসাইকেলে চড়ে নানা জায়গায় ঘুরতাম। তাঁর কাজ দেখতাম আর মনে মনে ভাবতাম, আমিও একদিন ছবি তুলে বেড়াব ছোট মামার মতোন।

এভাবেই আমার ভেতরে জন্ম নেয় এক ফটোগ্রাফারের, যাকে সবাই হালে খুব স্টাইল করে ছবিয়াল বলেন (আমার কাছে তার চেয়ে আলোকচিত্রী বা ফটোগ্রাফার শব্দগুলোই বেশি পছন্দের, ওসব গাড়িয়াল মার্কা টার্ম ভালো লাগে না কেন যেন)। প্রথম ক্যামেরা হাতে আসে খুব সম্ভবত ছয় বা সাত বছর বয়সে। একটা নষ্ট ক্যামেরা ছোট মামা দিয়েছিলেন খেলতে। মজার বিষয়, কোনো শাটার ছিল না ক্যামেরাটার মাথার ওপর। তার বদলে লেন্সের পেটের কাছে ছিল একটা লিভার। ওটা টেনে ধরে ছেড়ে দিলেই ছবি তোলা হতো। মানে ওই লিভারটাই ছিল শাটার। বুঝতেই পারছেন, শাটার স্পিড থাকত একদম নিজের নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং কত সময় ধরে আলো ফিল্মে ফেলতে হবে, তা একদম নিজেকে বুঝে নিতে হতো (যেটা বর্তমান ক্যামেরায় ম্যানুয়াল মোডে থাকে)।

ওটার জন্য যে ফিল্ম ব্যবহার করা হতো, সেগুলো যদ্দূর মনে পড়ে অনেকটা কার্বন পেপারের মতোন। সেই বয়সে সেই নষ্ট ক্যামেরা নিয়েই কী উল্লাস আমার! ওটা নাড়াচাড়া করতে করতেই শিখে যাই ক্যামেরা খোলা, রিল লাগানো থেকে শুরু করে শাটার, এপারচার ইত্যাদি কীভাবে কাজ করে। যন্ত্রপাতির প্রতি ঝোঁক ছোট থেকেই। কোন যন্ত্র কী করে কাজ করে, তা খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বুঝতে চাইতাম। বাসার টুলবক্স ছিল আমার হেফাজতে। খেলতে খেলতে পুরো ক্যামেরা ভেঙে এর কারসাজি আবিষ্কার করি তখন। ধীরে ধীরে ছোট মামা বুঝতে পারেন, এই যন্ত্রটার প্রতি আমার আগ্রহ আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে। তিনি অবশ্য এতে খুশি। নিজের শিষ্য কে না চায়? এবার তিনি তাঁর ব্যবহার করা ক্যামেরা ধরতে দিতে লাগলেন আমাকে। শেখাতে লাগলেন টুকটাক ফটোগ্রাফির কায়দাকানুন। ক্লিক ক্লিক ক্লিক… শুরু হলো আমার সত্যিকারের ছবি তোলা। তখন মনে হয় ৯ বা ১০ বছর বয়স আমার। তবে তা কদাচিৎ সুযোগ হতো কারণ, ফিল্ম ক্যামেরায় একেকটা ফিল্ম ছিল মহামূল্যবান বস্তু। এ তো আর হালের ডিজিটাল ক্যামেরা বা স্মার্টফোন নয় যে মনমতো ছবি তোলো, মেমোরি কার্ড বোঝাই করো আর দরকার হলে মুছে ফেলো। এখন তো বাচ্চা জন্মে খেলনার আগে ফোন হাতে ধরে (মোবাইল ফোনের উজ্জ্বল রঙিন পর্দায় চোখ ধাঁধিয়ে যার শুরু হয় পৃথিবী চেনার প্রথম পাঠ, সে কি সাদামাটা কাগজে আকৃষ্ট হয়?)।

এই প্রজন্মের কাছে ক্যামেরা, ছবি এসব যত সহজ, তখন সেটা ছিল না। সাদাকালো ফিল্ম রোলের দাম ছিল ২৫-২৮ টাকা আর ফুজি রঙিন ফিল্ম ছিল ১১০-১৩০ টাকা। আইএসও বা আলোক স্পর্শকাতরতার ওপরে নির্ধারিত হতো ফিল্মের দাম। একেকটা রিলে থাকত ৩৩/৩৫টা ফিল্ম। এর পর আছে নেগেটিভ ফিল্ম ডেভেলপ করা, ছবি প্রিন্ট করা। সে বেশ খরচের ব্যপার, সুতরাং সেই সময় মধ্যবিত্ত ঘরের একজন ছাত্রের কাছে প্রতিটি ফিল্ম ছিল অনেক দামি। আসলে ফটোগ্রাফি বিষয়টাই ছিল মধ্যবিত্তের ঘরে খুব সীমাবদ্ধ শখ।

সেই সময় শুরু হয় আমার ছবি তোলার শিক্ষা গ্রহণ। মামা আমাকে ফ্রেম বোঝাতেন, আইএসও, শাটার স্পিড, এপারচার রিলেশন বোঝাতেন। আমি সেসব শিখে টুকটাক প্রয়োগ করে অপেক্ষা করতাম কবে রিল ফুরাবে, মামা ডেভেলপ সেরে প্রিন্ট করিয়ে আনবেন আর আমি দেখব কেমন ছবি তুললাম। সে ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। মধুর অপেক্ষা।

এভাবে দিন যায়। বছর গড়ায়। আমার মনে বাসা বাঁধা স্বপ্ন পূরণের জন্য এবার আমি শুরু করি অল্প অল্প করে পয়সা জমাতে। মা ব্যাংকার ছিলেন। ছোটবেলাতেই তাই আমার আর আমার বড় দুই বোনের নামে আলাদা আলাদা সঞ্চয়ী হিসাব খুলে দেন অগ্রণী ব্যাংকে। সেখানে আমরা টাকা জমাতাম। আর ছিল আমার মাটির ব্যাংক। যখন যা পেতাম, চেষ্টা করতাম জমাতে। ছোট মামাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করতাম, কোন ক্যামেরার দাম কত আর মনে মনে হিসাব করতাম আর কত টাকা জমাতে হবে। স্কুলের হাতখরচ, ঈদের পরবি (ঈদি বলে যাকে) এসব থেকে নিজের অন্যান্য শখ যেমন মার্বেল, ঘুড়ি-লাটাই, লাটিম বা ছিপ-বড়শি কেনার পাশাপাশি চলত বড় প্রকল্পের জন্য সঞ্চয়। ততদিনে অষ্টম শ্রেণিতে উঠে গেছি। ছোট মামা কী একটা কাজে ঢাকায় যাবেন। এদিকে আমার যথেষ্ট টাকা জমানো হয়ে গেছে। আম্মাকে বললাম যে আমি ক্যামেরা কিনব। না বললেই নয়, আমার গান, ছবি তোলা, বই পড়া বা লেখালেখি এসবে মায়ের অনুপ্রেরণা ছিল প্রচুর। তিনি হাতে ধরে আবৃত্তি শেখাতেন। আর পুকুরময় দাপিয়ে বেড়ানো, ঘুড়ি-লাটাই, লাটিম বা ছিপ-বড়শির আশকারা দিতেন আব্বা।

মা ছোট মামাকে ডেকে আমার জমানো ১৩০০ টাকা (কী হাসি পাচ্ছে পরিমাণ শুনে? সেটা তখন বিশাল অঙ্ক কিন্তু!) মামার হাতে দিলেন। মামা ঢাকায় গেলেন। কবে ফিরবেন, জানি না। সেলফোন তো দূরে থাক, টিঅ্যান্ডটির ফোনও তখন বিরল জিনিস। কাজেই যোগাযোগ করে জানার উপায় নেই কী হচ্ছে। অপেক্ষায় আছি তো আছিই।

তারপর একদিন সকালের ঘটনা। ঘুম ভেঙে দেখি আমার পাশে বিছানায় কয়েকটা বক্স। চিনতে একমুহূর্ত দেরি হয়নি। একটা বক্সে ক্যাননের একটা ফিক্সড লেন্স ম্যানুয়াল ক্যামেরা, একটাতে ফ্ল্যাশ আর একটা সাদাকালো ফিল্ম রোল। মনে হলো দীর্ঘ স্বপ্ন দেখা রাতের ভোর হলো তা পূরণের মাধ্যমে। লাফিয়ে বিছানায় উঠে বসলাম। প্যাকেটগুলো হাতে নিয়ে দৌড়ে ঘরের বাইরে এসে দেখি আম্মা, আব্বা আর ছোট মামা ডাইনিং টেবিলে বসে গল্প করছেন। মামা ভোরের ট্রেনে এসেছেন। আমাকে দেখে মামা হাসি হাসি মুখে অথচ ধমক দিয়ে বললেন, ‘নে তোর ক্যামেরা, খুশি তো?’ ছোট মামা সবার সঙ্গেই একটু ধমকের সুরে কথা বলেন। সবাই তাই মামাকে বেশ ভয় পায়। আমিও পেতাম, কিন্তু ঠিকই বুঝতাম ধমক হলো এই মানুষটার ভালোবাসার প্রকাশ। আমার সেই সময়ের মনের অবস্থা বলে বোঝানো কঠিন। শুধু এটুকুই বলতে পারি, লিখতে বসে এখনো আবেগে চোখ ভিজে গেছে আমার। চোখ মুছতে মুছতেই লিখছি। ছোট মামার দিকে বাড়িয়ে দিলাম ক্যামেরাসহ সব। মামা আস্তে আস্তে ক্যামেরাটা প্যাকেট থেকে বের করলেন। তাতে ব্যাটারি দিলেন। ফিল্ম লাগালেন। আমি দুনিয়ার সব আগ্রহ, ভালো লাগা এক জায়গায় জড়ো করে সেই কাজ দেখতে থাকলাম। মনে হলো অনন্তকাল ধরে মামা কাজটি করছেন। ক্যামেরায় ফিল্ম ভরে মামা বাড়িয়ে ধরলেন আমার দিকে। আমার তখন হাত কাঁপছে। সেই ছোটবেলা থেকে যেই যন্ত্র ব্যবহারে অভ্যস্ত, আজ মনে হচ্ছে সেটা নতুন করে চিনছি। কাঁপা কাঁপা হাত বাড়িয়ে ক্যামেরাটা হাতে নিলাম।

মনে হলো স্বপ্ন আমার হাতের মুঠোয়। একদম নিজের টাকায় কেনা স্বপ্ন। কারো ভাগ নেই তাতে। না না ভাগ আছে। সেই দারুণ সময়ের সাক্ষী হিসেবে আব্বা, আম্মা আর মামাও ভাগিদার হলেন সেই স্বপ্নের। সবার মুখে হাসি। ছোট মামাকে বললাম, আমি না, আপনিই প্রথম ছবি তুলে দেন। এরপর আমার নিজের প্রথম ক্যামেরার প্রথম মডেল হলাম আমি নিজেই। বারান্দা থেকে নেমে উঠোনে গিয়ে দাঁড়ালাম একটা গোলাপ গাছের পাশে। ছোট মামা তুললেন আমার ছবি। আমার মনে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। জীবনের প্রথম ক্যামেরার মালিক হওয়ার ইতিহাস। আজ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট অর্থ দিয়েছেন।

মন চাইলেই অনেক কিছু কিনে ফেলতে পারি, কিনিও। কিন্তু সেই প্রথম নিজের পয়সায় ক্যামেরা কেনার অনাবিল আনন্দের কাছে সেইসব নস্যি। সে মুহূর্তের ছবিটা যত্ন করে রেখে দিয়েছি। আজ শেয়ার করলাম।

 

কবিতা : শেষ কবিতা

আকাশ আহমেদ
আমি চলে যাবো কোনো এক বিষণ্ণ সন্ধ্যায়,
রেখে যাবো আমার কিছু টুকরো।
আমি কোনো এক পূর্ণিমা তিথিতে চলে যাবো,
নিয়ে যাবো তোমার দেয়া অব্যক্ত ভালোবাসা।
আমি কাউকে না জানিয়েই চলে যাবো,
যখন একটু লক্ষ করলেই দেখবে শহুরে গাছগুলো ঘিরে
হাজার পাখি উড়ছে রাতের আশ্রয়ের জন্য,
স্ত্রী অপেক্ষা করছে স্বামী ফিরল বলে,
প্রেমিকাকে নিরাপদে ঘরে পৌঁছে দিয়ে
নিজের ঘরে ফিরতে উদ্ধত প্রেমিক,
মা তার সন্তানকে রাতের খাবার কী দেবেন চিন্তায় অস্থির,
অফিস থেকে বেরোনো ক্লান্ত শরীরদের ঘরে ফেরার তাড়া,
আমি ঠিক এমনি একটা ব্যস্ত, কিন্তু বিষণ্ণ বিকেলেই চলে যাবো।
আর তোমায় দেয়া কবিতার ডায়েরিতে যোগ হবে
শেষ কবিতা।

শিশু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, কীভাবে বুঝবেন?

মো. জহির উদ্দিন

বাংলাদেশে তিন দশমিক আট ভাগ শিশুর মধ্যে বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা পাওয়া গেছে। বিদেশি গবেষণাগুলোতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের শতকরা দুই থেকে তিন ভাগের বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা থাকে। এই প্রতিবন্ধীদের ৭৫ ভাগ থেকে ৯০ ভাগের মৃদু মাত্রার সমস্যাটি রয়েছে।

বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার তিনটি লক্ষণ থাকে। প্রথমত, এদের বুদ্ধি তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রায় কম। ওয়েক্সলার ইন্টেলিজেন্স স্কেল অনুযায়ী এদের আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক সত্তর বা এর কম থাকে।

দ্বিতীয়ত, জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার দক্ষতার ক্ষেত্রে এই শিশুদের যথেষ্ট ঘাটতি থাকে। যেমন, এদের অন্যদের সঙ্গে ভাববিনিময় বা যোগাযোগের দক্ষতা কম, নিজের যত্ন নিজে নেওয়ার ও সংসারে টিকতে হলে যে সাধারণ দক্ষতাগুলো থাকা দরকার, সেগুলোর ক্ষেত্রে ঘাটতি, সামাজিক দক্ষতার ঘাটতি, লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি থাকে, পেশাগত কাজের দক্ষতা, অবসর বিনোদনের দক্ষতা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলোর ক্ষেত্রেও এদের ঘাটতি হয়।

তৃতীয়ত, ব্যক্তির মানসিক প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি তার আঠারো বছর বয়সের আগেই দৃশ্যমান হয়। বেশির ভাগ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে প্রথম দর্শনে বোঝা যায় না যে তাদের কোনো সমস্যা আছে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের বিকাশ একটু দেরিতে হয়। তারা দেরিতে কথা বলতে শিখে, তাদের স্মৃতিশক্তি কম থাকে, মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা ও ধৈর্য কম থাকে, কোনো কিছু শেখার ক্ষমতাও কম থাকে। যেমন, তাদের সামাজিক রীতিনীতি শিখতে সমস্যা হয়, তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতার ঘাটতি থাকে, নিজের যত্ন নিজে নেওয়া শিখতেও তাদের সমস্যা হয়। যেমন, অন্য শিশু হয়তো দিব্যি টয়লেট করে পরিচ্ছন্ন হয়ে বের হচ্ছে। সেখানে প্রতিবন্ধী শিশু একা একা এটা করতে পারছে না। তার বড়দের সাহায্য লাগছে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের শেখাতে গেলে অনেক ধৈর্য লাগে। এক জিনিস বারবার শেখাতে হয়। এ ধরনের শিশুদের মধ্যে লোকলজ্জার ভয়, কোন কথা বলা যাবে আর কোন কথা বলা যাবে না, সেই জ্ঞান কম থাকে।

মানসিক বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা চার ধরনের হয়।
১. মৃদু মাত্রার বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা (এদের আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক থাকে ৫০ থেকে ৭০-এর মধ্যে)
২. মধ্যম মাত্রার বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা (এদের আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক থাকে ৩৫ থেকে ৪৯-এর মধ্যে)
৩. চরম মাত্রার বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা (এদের আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক থাকে ২০-৩৪-এর মধ্যে) এবং
৪. অতিরিক্ত চরম মাত্রার (এদের আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক থাকে ২০-এর নিচে)।

উল্লেখ্য, বুদ্ধির একককে বলে আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক। বিভিন্ন ধরনের মনোবৈজ্ঞানিক বুদ্ধি পরিমাপক দিয়ে পরিমাপ করা যায়। যেমন, ওয়েক্সলারের পরিমাপক স্কেলগুলো দিয়ে পরিমাপ করা। উল্লেখ্য, সাধারণ মানুষের আইকিউ গড়ে ৯০ থেকে ১০৯-এর মধ্যে থাকে।

মৃদু মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের বুদ্ধির একক বা আইকিউ স্কোর থাকে ৫০ থেকে ৬৯-এর মধ্যে। এরা সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়তে পারে। তবে তারা পরীক্ষায় সচরাচর খারাপ করে। হয়তো এক-দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে বিশেষ বিবেচনায় পাস করে। তারা নিজেদের যত্ন নিজেরা নিতে পারে। যেমন : একটু বড় হলে তার সাধারণ কেনাকাটা করা, গাড়িতে করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে একা একা যাওয়া। এরা বড় হয়ে সাধারণ পেশায় নিয়োজিত হতে পারে।

মধ্যম মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের বুদ্ধাঙ্ক বা আইকিউ ৩৫ থেকে ৪৯-এর মধ্যে থাকে। এই স্তরের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের অনেক অল্প বয়সেই বোঝা যায়। তাদের ভাষার বিকাশ দেরিতে হয়, এদের শিক্ষার ক্ষেত্রে ও সমাজে চলার জন্য প্রচুর সহযোগিতা দরকার হয়। তারা তেমন একটা লেখাপড়া করতে পারে না। তবে প্রচুর চেষ্টা করে তাদের সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শেখানো যায়, তাদের সাধারণ কাজকর্ম, নিজের যত্ন নিজে নেওয়ার দক্ষতা কিছুটা শেখানো যায়। ইতিবাচক পরিবেশে বিশেষ তত্ত্বাবধানে তারা সীমিত পর্যায়ের পেশাগত কাজ করতে পারে। তাদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলে স্পেশাল এডুকেশন টিচারদের তত্ত্বাবধানে শেখালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

যাদের তীব্র বা অতিরিক্ত তীব্র বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা থাকে, তাদের বুদ্ধাঙ্ক বা আইকিউ ৩৫-এর নিচে হয়। তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখতে হয়। জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলো তারা অত্যন্ত সীমিত পরিমাণে শিখতে পারে। এদের মধ্যে প্রায়ই নানা ধরনের শারীরিক রোগ থাকে। এদের গড় আয়ু সাধারণ মানুষের থেকে বেশ কম।

লেখক : ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট
সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

 

ডিপ্রেশনে ভুগছেন, কখন ও কীভাবে বুঝবেন?

মো. জহির উদ্দিন

বাংলাদেশের পূর্ণবয়সী মানুষের মধ্যে ৪ দশমিক ৬ ভাগ বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনে ভুগছে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মধ্যে এই রোগ প্রায় দ্বিগুণ। ডিপ্রেশনের রোগীদের মধ্যে পুরুষ ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং নারী ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ। বিষণ্ণতা এক ধরনের মানসিক রোগ। বিষণ্ণতার প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হলো মন খারাপ হওয়া ও আগ্রহহীনতা; মনে কোনো আনন্দ-ফুর্তি না থাকা।

লক্ষণ
এ সময় মনে এক ধরনের ফাঁকা ফাঁকা অনুভূতি হয়। রোগী কোনো হবি বা শখের কাজ করতেও অনীহা প্রকাশ করে। সব ধরনের উদ্যোগই কমিয়ে দেয়। রোগী অপরাধ বোধে আক্রান্ত হয়। কেউ কেউ বিরক্তিতে আক্রান্ত হয়। তার মনে কোনো আশা থাকে না। নিজের পরিস্থিতির পরিবর্তনে তার কোনো কিছু করার নেই, এমনটা বিশ্বাস করে এবং সব উদ্যোগ ছেড়ে দেয়। নিজেকে গুরুত্বহীন ভাবে। যৌন বিষয়সহ কোনো বিষয়েই তার কোনো আগ্রহ থাকে না। স্মরণশক্তি কমে যায়, মনোযোগ ক্ষমতাও কম থাকে। এতে ছাত্ররা পড়ালেখা ভালোভাবে করতে পারে না। সিদ্ধান্ত নিতেও কষ্ট হয়। ঘুম নষ্ট হয়ে যায় বা ঘুম বেড়ে যায়। খাওয়ার রুচি কমে যায় বা বেড়ে যায়। এতে শারীরিক ওজনের ওপর প্রভাব পড়ে। ক্লান্তি বাড়ে বা শরীর দুর্বল লাগে। মরে যাওয়ার চিন্তা আসে বা আত্মহত্যার চিন্তা আসে। কেউ কেউ আত্মহত্যার চেষ্টাও করতে পারে। কথা বলা, চলাফেরা কমে যায়। মানুষ ধীরগতির হয়ে পড়ে। শান্ত বসে থাকতে অসুবিধা বোধ করে অনেকে। এক ধরনের অস্থিরতা ঘিরে ধরে। হজমে অসুবিধা হতে পারে।

তবে এই লক্ষণগুলোর সব কিন্তু বিষণ্ণতার রোগীদের থাকে না। আবার এক/ দুটি লক্ষণ মিলে গেলেই নিজেকে বিষণ্ণতা রোগী ভেবে বসবেন না যেন। লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকলে, অনেক তীব্র হলে, দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হতে শুরু করলে সম্ভবত আপনার বিষণ্ণতা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একজন মানসিক রোগের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। এতে বোঝা যাবে, আপনার বিষণ্ণতাটি রোগের পর্যায়ে গেছে কি না।

কারণ
১. জীবনের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি,
২. দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিবার,
৩. অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা,
৪. ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য,
৫. বংশগত ও কিছু শারীরিক কারণসহ (মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটারের ক্ষরণের অস্বাভাবিকতা) বিভিন্ন কারণে বিষণ্ণতা হতে পারে।
বিষণ্ণ কখনো কখনো জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এক গবেষণায় আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে মানসিক রোগ পাওয়া গেছে। আত্মহত্যা চেষ্টাকারীদের মধ্যে যারা মানসিকভাবে অসুস্থ, তাদের মধ্যে ৭০ দশমিক ৭ ভাগ বিষণ্ণতা রোগে ভুগে থাকেন।
কেউ বিষণ্ণতায় ভুগছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মানসিক রোগের ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের সবকটি সরকারি মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রি ডিপার্টমেন্টে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, পাবনা মানসিক হাসপাতালে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি ডিপার্টমেন্টে এই রোগের চিকিৎসা পাওয়া যায়। ওষুধের পাশাপাশি কথার চিকিৎসা বা সাইকোথেরাপি, বিশেষত কগনিটিভ বিহেভিয়র থেরাপি বিষণ্ণতার চিকিৎসায় ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে।

লেখক : অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অব ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি, সাইকোথেরাপি বিভাগ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

পুরুষের ইরেকটাইল ডিসফাংশন : কারণ ও করণীয়

মঈনুল হক

আমাদের সমাজে যৌনস্বাস্থ্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা যেন এক ঘোরতর বাজে বিষয়। তবে এ বিষয়ে অজ্ঞতার অভাবে ভুক্তভোগী হয় অনেকে; কলহ হয় দাম্পত্যে, সংসারে। তাই সেক্সুয়াল এডুকেশন জরুরি। পুরুষের যৌন অক্ষমতা (মেল সেক্সুয়াল ডিস ফাংশন) বলতে বোঝায়, তার সঙ্গীর সঙ্গে সন্তুষ্টিজনক যৌন সম্পর্ক অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিটিভিত্তিক সার্ভেতে দেখা গেছে, ৪০ থেকে ৭০ বছর বয়সের পুরুষের মধ্যে অন্তত ৫২ ভাগ পুরুষের পুরুষাঙ্গ শক্ত না হওয়া সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ ভাগের সামান্য, ২৫ ভাগের মাঝামাঝি এবং ১০ ভাগের পুরো সমস্যা রয়েছে।অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ বছরের ওপরের বয়স্ক পুরুষের মধ্যে ৭০ ভাগ যৌন সম্পর্ক স্থাপন (সেক্সুয়ালি অ্যাকটিভ) করে। তবে এদের মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগই সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হয়। পুরুষের যৌন অক্ষমতা হওয়ার একটি অন্যতম বিষয় হলো, সহবাসের সময় পুরুষাঙ্গ পর্যাপ্তভাবে শক্ত না হওয়া বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ইডি)।

কেন হয়?
এর কারণ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার, ইউরোলজিস্ট ও অ্যান্ড্রোলজিস্ট ডা. মধুসূদন মণ্ডল বলেন, ‘যারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল সমস্যায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এ সমস্যা দেখা যায়। এ ছাড়া যারা অতিরিক্ত ধূমপান করে, তাদের ক্ষেত্রেও এ সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আবার শ্রোণি (পেলভিক) এলাকার কোনো ক্যানসার বা অন্য কোনো রোগের জন্য রেডিওথেরাপি নেয়া অথবা সার্জারি করা পুরুষাঙ্গ শক্ত না হওয়ারও কারণ। মানসিক বিভিন্ন বিষয়, যেমন আত্মবিশ্বাসহীনতা, বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্ন হওয়া, সম্পর্কে অসন্তুষ্টি ইত্যাদিও এর অন্যতম কারণ।
একে মোটামুটি তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১. মানসিক
২. শারীরিক রোগব্যাধি সম্পর্কিত
৩. মিশ্র ধরনের অর্থাৎ মানসিক ও শারীরিক রোগব্যাধি মিলিত

মানসিক
কারো কারো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক যৌন উত্তেজনার ঘাটতি, বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যৌন উত্তেজনার ঘাটতি, কোনো একটি নির্দিষ্ট সম্পর্কে উত্তেজনা না পাওয়া অথবা সঙ্গী থেকে ভয়-ভীতি পাওয়া বা মানসিক দ্বন্দ্ব, জীবনের বিভিন্ন দুর্ঘটনা থেকে মানসিক চাপ সৃষ্টি হওয়া, সঙ্গীকে সন্তুষ্টি দিতে না পারার ভয় ইত্যাদি কারণে বিষয়টি ঘটতে পারে।

রোগব্যাধি সংক্রান্ত
স্নায়বিক অসুখের কারণে যেমন, স্মৃতিভ্রম (ডিমেনসিয়া), পারকিনসনিজম, স্ট্রোক, মেরুরজ্জুর (স্পাইনাল কর্ড) আঘাত ও বিভিন্ন রোগে এটি হতে পারে। অপরদিকে ডায়াবেটিস, নিয়মিত মদ্যপান, ভিটামিনের অভাবের কারণে এই স্নায়বিক সমস্যা হয় ।
অনেক সময় হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে এই সমস্যা হতে পারে। পুরুষাঙ্গের শিরা বা ধমনির বিভিন্ন রোগে এমন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার বিভিন্ন ওষুধের নিয়মিত সেবনের কারণে হতে পারে। যেমন: অ্যান্টিসাইকোটিক, অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ ধরনের ওষুধ।

মিশ্র ধরনের
তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মিশ্র প্রকৃতির কারণ থাকে। অর্থাৎ মানসিক কারণ, সঙ্গে শারীরিক সমস্যা।

চিকিৎসা
চিকিৎসার বিষয়ে ডা. মধুসূদন মণ্ডলের পরামর্শ-
এ ধরনের রোগীদের প্রথমত করণীয় হলো, নিজের ও পাশাপাশি সঙ্গীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পরিপূর্ণ তথ্য গ্রহণ করা। শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। প্রয়োজনে কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করতে হবে।
এ রোগের চিকিৎসা দুভাবে করা হয়। যথা:
১. নন-সার্জিক্যাল
২. সার্জিক্যাল

নন-সার্জিক্যাল
ওজন কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া, দীর্ঘ সময় সাইকেল না চালানো, মদ্যপান ও ধূমপান বন্ধ রাখা। যেসব ওষুধ রোগটির কারণ হতে পারে, তা থেকে বিরত থাকা। প্রয়োজনে যৌন ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা। হরমোনজনিত সমস্যার কারণে হলে হরমোনথেরাপি নেওয়া। প্রচলিত ওষুধ যেমন, সিলডেনাফিল, টাডালাফিল ইত্যাদি চিকিৎসক (অ্যান্ড্রোলজিস্ট)- এর পরামর্শ নিয়ে গ্রহণ করা যায়। অন্যান্য পদ্ধতির মধ্যে ইনট্রাকেভারনাস ইনজেকশন, ট্রান্স ইউরেথ্রালথেরাপি, ভ্যাকুয়াম কন্সট্রিকশন ডিভাইস এগুলো নেয়া যেতে পারে।

সার্জিক্যাল
পুরুষাঙ্গের শিরা বা ধমনির সমস্যা হলে কখনো কখনো সার্জারি করে সমস্যার সমাধান করা হয়। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পেনাইল প্রোসথেসিস ব্যবহার করা যেতে পারে।

নারীর নিজের যত্নে

ফারজানা ফাতেমা রুমী

কোভিড-১৯-এর সময়টায় নারীরা মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে পড়ছেন প্রতিনিয়ত। নিজের যত্ন কিংবা খেয়াল কীভাবে করা যায়, তা ভাবার যেন ফুরসতই নেই। মা-বাবার তাদের শিশুদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ঘরে বসেই অফিসের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে চাপ বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের।

১. প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ঘণ্টা যেন শান্তির ঘুম হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সারা দিনের ব্যস্ততা থেকে নিজের জন্য এক ঘণ্টা সময় বের করে রুটিন করে লিখে রাখুন।
২. ঘুম থেকে উঠে ১০ মিনিট বারান্দার রোদে বসুন। হাতে থাকতে পারে চা/কফির মগ। আর বারান্দায় সবুজের সমারোহ থাকলে তার যত্ন নিয়েও এই সময়টা কাটাতে পারেন।
৩. সকালে পাঁচ মিনিট আর বিকেলে পাঁচ মিনিট ডিপ ব্রেথ অনুশীলন করতে পারেন। আরাম করে বসে নাক দিয়ে শ্বাস নিন, বুক ভরে, কিছুক্ষণ ধরে রাখুন, ছেড়ে দিন।
৪. প্রতিদিন ১০ মিনিট গল্প, উপন্যাস, কবিতার বই, ম্যাগাজিন অথবা ধর্মগ্রন্থ পড়ুন ।
৫. রূপচর্চা করুন। চুল ও ত্বকের যত্নে আপনার হাতের নাগালে যা আছে, তা-ই ব্যবহার করুন। একদম সময় না থাকলেও অন্তত ১০মিনিট ব্যয় করুন।
৬. আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে হালকা কিছু ব্যায়াম করতে পারেন বিকেলের দিকে।
৭. নিজের পছন্দমতো একটু সাজুন। হালকা কাজল কিংবা ছোট টিপ পরতে পারেন। পরিপাটি হয়ে থাকুন। হোক না ঘরেই, তাতে কী! কিছুই ভালো না লাগলে চুপ করে ১০ মিনিট নিজেকে সময় দিন।
৮. আপনি প্রি-মেনোপজ/মেনোপজ সময়টায় থাকলে অবশ্যই নিজের মানসিক স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে একটু বেশি সচেতন থাকতে হবে। কারণ, হরমোন পরিবর্তনের জন্য এ সময়টা আপনার মুড সুইং করা স্বাভাবিক।
৯. আগে কখনও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকলে এ সময়টা অতিক্রম করতে সমস্যা হলে পুনরায় যোগাযোগ করে নিন। নিতে পারেন টেলিকাউন্সেলিং সেবা।

লেখক : সাইকোলজিস্ট ও বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সংগঠনের আজীবন সদস্য।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.