Friday, September 25, 2026
spot_img
Home Blog Page 135

ডেঙ্গু : প্লাটিলেট নিয়ে যত ভুল

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল

ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে ডাক্তার ও রোগী (কোনো কোনো ক্ষেত্রে) উভয়ের ভেতর। অধিকাংশ রোগীর ডেঙ্গু আতঙ্ক গিয়ে ঠেকে মূলত প্লাটিলেট কাউন্টে গিয়ে। প্লাটিলেট এক লাখের নিচে নামলেই আতঙ্কিত হয়ে ছুটছেন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আশায়। কারণ সাধারণের ধারণা, প্লাটিলেট কমে গেলে রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যাবে রোগী। মূলত প্লাটিলেট রক্ত জমাট বাঁধার কাজে নিয়োজিত অনেক উপাদানের একটি। এটি কেটে গেলে বা আঘাত পেলে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

প্লাটিলেট কমে গেলে শুরুতে এক ধরনের মাইনর হেমোরেজ হয়। এ জাতীয় রক্তপাত জীবন সংশয় করে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্লাটিলেট দিলে রোগীর সমস্যা দূরও হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, প্লাটিলেট ৫০ হাজারের নিচে কমতে শুরু করলে শুধু একজন দাতা প্রস্তুত রাখলেই চলবে। ডেঙ্গু রোগীকে কখন প্লাটিলেট দেবেন, তার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখা না গেলে এবং প্লাটিলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে না নামলে প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজনও পড়ে না। ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে অনেকেই দিনে তিনবার করে প্লাটিলেট পরীক্ষা করতে থাকেন। এটা অহেতুক উদ্বেগ তৈরি করে। রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে যান। প্লাটিলেট ৩০ হাজারের নিচে কমলেই অনেকে রোগীকে আইসিইউতে নিতে চান।

ডেঙ্গু শক সিনড্রোম না থাকলে এবং রক্তচাপ ও অন্য প্যারামিটার স্বাভাবিক থাকলে রোগীকে আইসিইউতে না নেওয়াই ভালো। আইসিইউ বরং বাড়তি চাপ। অহেতুক ইনফেকশনের উৎসও বটে। একাধিক ল্যাবে প্লাটিলেট পরীক্ষা না করাই ভালো। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্লাটিলেট কাউন্ট প্যাথলজিস্টভেদে ও ল্যাবরেটরিভেদে পাঁচ-দশ হাজার এদিক-সেদিক হতে পারে। ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে গিয়ে যখন বাড়তে শুরু করে, তখন বাড়তেই থাকে। ডেঙ্গুতে খুব কম রোগীর ক্ষেত্রেই প্লাটিলেট দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসককে প্রভাবমুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। নিজেদের আতঙ্কের ভার চিকিৎসকদের ওপর চাপাবেন না।

ডেঙ্গুর মূল জটিল অবস্থাটির নাম ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। এটা প্লাটিলেটজনিত কোনো সমস্যা নয়। ডেঙ্গু ভাইরাস ও শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী শক্তির যুদ্ধের কারণে রক্তনালির ছিদ্রগুলো বড় হয়ে যায়। তখন রক্ত থেকে রক্তের জলীয় উপাদান বাইরে বেরিয়ে আসে। এ অবস্থায় রক্তচাপ কমে জমায়, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকার্যকর হয়, ফুসফুস ও পেটে পানি জমে। এটা খুবই খারাপ একটি পর্যায়। এ পরিস্থিতিতে কিছু কিছু রোগী মারাও যান। ডেঙ্গুতে যে বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়, তা শক সিনড্রোমের জটিলতায় ডিআইসি বলে এক ধরনের রক্তের অসুখে হয়। এখানেও প্লাটিলেট দিয়ে তেমন কাজ হয় না। রোগী শকে গেলে রক্তচাপ কমে যায়, অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে যায়, প্রস্রাব কমে যায়, হিমাটোক্রিট বেড়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়। তাই ঘন ঘন প্লাটিলেট দেখার চেয়ে এগুলো পর্যবেক্ষণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্লাটিলেটের কম বা বাড়া দেখে রোগের তীব্রতা বোঝা যায় না। প্লাটিলেট ভালো থাকার পরও রোগী শকে চলে গেছে এমন ঘটনা অনেক রয়েছে।

শকের মূল চিকিৎসা স্যালাইন। অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসাব করে মাত্রা বুঝে স্যালাইন দেবেন। পরিস্থিতি বুঝে লাল রক্তও দিতে পারেন। রোগী বাসায় থাকলে খেয়াল করবেন বমি ও পাতলা পায়খানা করছে কি না। এগুলো ডেঙ্গু রোগীকে দ্রুত শকের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অচেতন ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নেবেন। আতঙ্ক নয়, সতর্কতা জরুরি। এ ছাড়া আমাদের মনে রাখতে হবে, আগাম প্লাটিলেট দিয়ে প্লাটিলেটের কাউন্ট বাড়িয়ে রাখার চিন্তাটি বিজ্ঞানসম্মত নয়। বরং এতে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

লেখক : রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ

মশা থেকে বাঁচতে ৪ ঘরোয়া উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
গ্রীষ্মের শেষ দিকে, আর বর্ষা শুরুর এই সময়টায় মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়ার আধিপত্য দেখা যায়। কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো মশা প্রতিরোধে উপকারী।

যারা কয়েল বা স্প্রের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না, তাদের জন্য মশা দূর করার কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের কথা জানিয়েছে সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট জি২৪। চলুন, জেনে নিই।

রসুন
রসুনের ঝাঁঝালো উপাদানকে ভয় পায় মশা। মশা তাড়াতে কয়েক কোয়া রসুন পানিতে ফুটিয়ে সারা ঘরে ছিটিয়ে দিন। দেখবেন, মশা পালাবে।

লেবু ও ইউক্যালিপটাস
মশা রোধে লেবু ও ইউক্যালিপটাসের তেলের মিশ্রণও উপকারী। মশার হাত থেকে রেহাই পেতে এই মিশ্রণও গায়ে মাখতে পারেন।

নিম ও নারকেল তেল
মশা তাড়াতে অব্যর্থ উপাদান নিমের তেল। নিম ও নারকেল তেল গায়ে মেখে নিলে মশার কামড় থেকে রেহাই মিলবে।

তুলসি
তুলসিও বেশ উপকারী। শোয়ার ঘরের বাইরে তুলসি গাছ লাগাতে পারেন। এতে মশা ঘরে ঢুকবে না। সুস্থ থাকবেন আপনি।

৮ লক্ষণ দেখলে পরীক্ষা করান ডায়াবেটিস

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ডায়াবেটিস শব্দটির সঙ্গে পরিচিত প্রায় সবাই। রোগটিকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দেহে ইনসুলিনের অভাব হলে এবং কাজের ক্ষমতা কমে গেলে অথবা উভয়ের মিলিত প্রভাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তাকে ডায়াবেটিস বলে।

ওজন বেড়ে যাওয়া, কায়িক পরিশ্রম না করা, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ইত্যাদিকে ডায়াবেটিসের কারণ হিসেবে বলা যায়। ডায়াবেটিসের লক্ষণের বিষয়ে সাতকাহন২৪.কমকে জানিয়েছেন শহীদ সহোরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, ডা. এম এ হালিম খান।  তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫ ভাগ বা এর বেশি। টাইপ টু ডায়াবেটিসের শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। এই ডায়াবেটিসে ভোগা রোগী অনেক সময় জানেই না যে তার ডায়াবেটিস রয়েছে। অন্যান্য রোগের পরীক্ষা করতে গিয়ে হয়তো অনেক সময় ধরা পড়ে। তবে ডায়াবেটিস খুব বেশি হয়ে গেলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখলে ডায়াবেটিস রয়েছে কি না পরীক্ষা করাতে হবে।’

লক্ষণ :
১. ঘন ঘন প্রস্রাব হবে ;
২. অতিরিক্ত ক্ষুধা পাবে ;
৩. মাত্রাতিরিক্ত পিপাসা ;
৪. ওজন কমে যাওয়া ;
৫. ক্লান্তিবোধ ;
৬. ঘা শুকাতে দেরি হওয়া ;
৭. চোখে দেখতে অসুবিধা ;
৮. যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি।

করোনার নতুন প্রজাতি ডেল্টা প্লাস কী? লক্ষণ জেনে নিন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
এখন পর্যন্ত করোনার যেসব প্রজাতি পাওয়া গেছে তার মধ্যে ডেল্টা প্লাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট বা বি.১.৬১৭.২, প্রথমে ভারতে পাওয়া গিয়েছিলো। পরে আস্তে আস্তে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ডেল্টা প্লাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ফুসফুসের ভেতর দ্রুত সংক্রমণ ঘটায়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক বলে মতামত বিশষেজ্ঞদের। করোনা ভাইরাস রূপ পরিবর্তন করে যেমন শক্তিশালী হয়েছে তেমনি এর লক্ষণেও এসেছে কিছু পরিবর্তন। কোভিড-১৯ ও ডেল্টা প্লাসের ভেতরের মূল পার্থক্য বের করার জন্য গবেষণা চলছে।

ডেল্টা প্লাসের লক্ষণ :
# শুকনো কাশি
# জ্বর
# ক্লান্তি
# গলাব্যথা
# শ্বাসকষ্ট
# স্বাদ ও গন্ধ না পাওয়া
# বমি ভাব
# পেটব্যথা
# ত্বকে ব়্যাশ
# ডায়রিয়া
# বুকব্যথা
# মাথাব্যথা
# জয়েন্ট পেইন
# পায়ের আঙুলের রঙ পরিবর্তন ইত্যাদি।

সূত্র : দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বোল্ডস্কাই

আম প্রতিদিন খাওয়া কি ঠিক?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

আম কেবল সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিকরও। আমকে ফলের রাজা বললেও ভুল হবে না। আম বেশ মিষ্টি হলেও এর মধ্যে যেই পরিমাণ চিনি থাকে, তা প্রক্রিয়াজাত চিনির চেয়ে আলাদা। কারণ, এতে থাকা আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ ফলটির গুণগত ভারসাম্য বজায় রাখে। আম খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ হয়তো পাওয়া মুশকিল। তবে আম কি প্রতিদিন খাওয়া স্বাস্থ্যকর?

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন আম খাওয়া ক্ষতিকর নয়। বরং আমের পুষ্টিগুণ গরমের সময় হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস শরীরের জন্য উপকারী। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, ই ও কে। পাশাপাশি এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি ফল।

গবেষণায় দেখা গেছে, আম দ্রুত ওজন কমাতে কাজ করে। আমের ভেতর থাকা ভিটামিন ‘এ’ আমাদের দৈনন্দিন চাহিদার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পূরণে সহায়ক। ভিটামিন এ চোখের জন্য ভালো। আমে থাকা ভিটামিন ‘সি’ , আঁশ ও পেকটিন শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া এই ফলটি ত্বক ভালো রাখে এবং ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

প্রতিদিন কতটুকু আম খাবেন ?
একজন সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন আম খেলে ক্ষতি নেই। তবে আম অন্যতম একটি মিষ্টি জাতীয় ফল। আর এতে আঁশের পরিমাণও কম। তাই দিনে এক কাপ সতেজ এবং আধা কাপ শুকনো আমের বেশি খাওয়া ঠিক হবে না। তবে একজন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই আম খাওয়া ভালো বলে মতামত বিশেষজ্ঞদের।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে ছয় তথ্য

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

করোনার পর আতঙ্ক ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে দুই থেকে তিন জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতার বিকল্প নেই। চলুন জেনে নিই এই রোগ সম্পর্কে ছয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

১. মিউকর নামক বিশেষ ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণে মিউকরমাইকোসিস (mucormycosis) বা ব্ল্যাক ফ্যাঙ্গাস হয়।

২. ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আগেও প্রকৃতিতে বিদ্যমান ছিলো। তবে অতটা কাবু করতে পারেনি, যতটা কোভিড পরবর্তী জটিলতা হিসেবে করছে।

৩. ভেজা ‌স্যাঁতস্যাঁতে মাটি, পচাঁ পাতা বা কাঠ ও গাছে, পচনশীল জৈব পদার্থে, পঁচা সবজি ও ফল এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস জন্মায়। এরা বাতাসের মাধ্যমে মানব শরীরে নাক ও মুখ দিয়ে প্রবেশ করে। এ ছাড়া চামড়া কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে সেই ক্ষত স্থান দিয়েও দেহে প্রবেশ করতে পারে।

৪. উপসর্গ : মুখের মধ্যে তালু বিবর্ণ, নাকের ওপর কালো বা ধূসর বর্ণ, জ্বর, নাক বন্ধ, মাথাব্যথা, শ্বাস কষ্ট, দৃষ্টি শক্তির তারতম্য, নাক দিয়ে কালো বা খয়েরী কিছু বের হওয়া, কাশিঁতে রক্ত, বুকব্যথা, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, মুখের এক পাশ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

৫. কোভিড পরবর্তী জটিলতা হিসেবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হতে পারে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, অপুষ্টি, শারীরিকভাবে দুর্বল, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা এ রোগের ঝুঁকিতে থাকে।

৬. ব্ল্যাক ফাঙ্গাস প্রতিরোধে মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা জরুরি। ডায়াবেটিস ও স্টেরয়েড থেরাপি নিচ্ছে এমন রোগীদের নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।

সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
করোনা পরবর্তী জটিলতা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছত্রাকের কারণে হয়। মিউকোর নামে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে এই সংক্রমণ ছড়ায়। এই ছত্রাক মাটি, বাতাসে, সুস্থ মানুষের নাক ও শ্লেষ্মায় এমনিতেই থাকতে পারে। এটি ফুসফুস, সাইনাস ও মস্তিস্ককে আক্রান্ত করে। চলুন জানি, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কাদের।

কারা ঝুঁকিতে?
# করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুস দুর্বল থাকে। এদের ক্ষেত্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ হতে পারে।
# যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা ঝুঁকিতে রয়েছে।
# স্টেরয়েড ব্যবহারকারী ব্যক্তির ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
# ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি।
# ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর রেডিও বা কেমোথেরাপি নিচ্ছে এমন ব্যক্তি।
# জন্মগতভাবে কারো কারো কম রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হয়। তারাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডায়া

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস : কী, লক্ষণ ও করণীয়

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, ছত্রাক জনিত এ রোগ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে আমাদেরেও ভাবিয়ে তুলছে । এর ভেতরই ভারতের একাধিক রাজ্য রোগটিকে মহামারী পর্যায়ে সতর্ক করছে। কোভিড পরবর্তী জটিলতা হিসাবে এ রোগকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন ।

রোগের ধরন
মিউকর নামক বিশেষ ধরনের ছত্রাক সাধারণত ভেজা ‌স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে, পচনশীল জৈব পদার্থে, পচাঁ পাতা বা কাঠ ও গাছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, পঁচা সবজি ও ফলে জন্ম নেয়। সাধারণত অনুকূল পরিবেশ পেলে এরা বাতাসের মাধ্যমে মানব শরীরে নাক ও মুখ দিয়ে অথবা চামড়া কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে সেই ক্ষত স্থান দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে মিউকরমাইকোসিস (mucormycosis) বা ব্ল্যাক ফ্যাঙ্গাস নামক জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারে প্রয়োজনীয় অংশ ও ব্যবহৃত পানি যেন জীবাণুমুক্ত থাকে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণ অবস্থায় এটি ছোঁয়াচে রোগ নয়।

সাধারণ উপসর্গ
ফাঙ্গাস শরীরের কোথায় বিস্তার করছে তার ওপর নির্ভর করে উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে
মাথাব্যথা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে কালো বা খয়েরী কিছু বের হওয়া, শ্বাস কষ্ট, নাকের ওপর কালো বা ধূসর বর্ণ, মুখের মধ্যে তালু বিবর্ণ, জ্বর, মুখের এক পাশ ফুলে যাওয়া, দৃষ্টি শক্তির তারতম্য, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, কাশিঁতে রক্ত, বুকে ব্যথা ইত্যাদির এক বা একাধিক উপসর্গ প্রকাশ পায়।

উদ্বেগের কারণ
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আমাদের দেশে আগেও ছিল, তবে প্রকৃতি প্রদত্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের এই ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে নিরোগ রাখত। তবে চলমান কোভিড মহামারিতে রোগটিকে নিয়ে নতুন করে চিন্তার কারণ হলো, কোভিড পরবর্তী জটিলতা থেকে এ রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে কোভিড জটিলতা মোকাবিলায় ফুসফুসকে রক্ষা করতে স্টেরয়েড ব্যবহার হচ্ছে, যেটি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধের ব্যবহার রক্তে শর্করার মাত্রাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

চিকিৎসা গবেষণা বলছে, কোভিড পরবর্তী জটিলতা ও ডায়াবেটিস রোগীদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সর্বাধিক। এ ছাড়া অঙ্গ প্রতিস্থাপন, অপুষ্টি, শারীরিক দুর্বলতা, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষ ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

ভারতে এ রোগ ছড়ানোর পিছনে কিছু অবৈজ্ঞানিক, অনির্ভরযোগ্য ধারণাকেও দায়ী করা হচ্ছে। যেমন : কোভিড রোধে গোমূত্র ও গরবের ব্যবহার।

রোগের ভয়াবহতা
দ্রুত এ রোগ শণাক্তের মাধ্যমে চিকিৎসায় না গেলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। দ্রুত সংক্রমণটি নাক, সাইনাস, ফুসফুস, চোখ, হার্ট ও মস্তিস্ককে আক্রান্ত করে ফেলে। আবার চিকিৎসা পদ্ধতিতে যে ওষুধ প্রয়োজন তাতেও রয়েছে উচ্চ মাত্রায় পার্শ্বপতিক্রিয়া। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত অংশে সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। জীবন বাচাঁতে উপরের চোয়াল এমনকি চোখেও বড় ধরনের অস্ত্রপচারের প্রয়োজন পড়তে পারে, এমনকি অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে। এ জন্য বিশেষজ্ঞগণ এ রোগের চিকিৎসায় মাইক্রোবায়োলজিস্ট, মেডিসিন, স্নায়ু রোগ, নাক-কান- গলা, চর্মরোগ, চক্ষু, ডেন্টাল ও শৈল্য বিশেষজ্ঞদের যৌথ পরামর্শে সম্পন্ন করার বিষয়ে উৎসাহিত করছে।

করণীয়
আতঙ্কিত না হয়ে এখনই ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে সচেতন হতে হবে। কারণ আমাদের দেশে এখনো এ রোগের উপস্থিতির কথা গণমাধ্যমে উঠে আসলেও নিশ্চিত হয়নি। কোভিড পরবর্তী ডায়াবেটিস ও স্টেরয়েড থেরাপির রোগীরা নিয়মিত ব্লাড সুগার চেক করে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ও পুষ্টিবিদের পরামর্শে সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের ফলের মৌসুমে আম, কাঁঠাল, তরমুজ, লিচুর মতো মিষ্টি ফল খাওয়ার বিষয়ে পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মজবুদ রাখতে স্বচেষ্ট থাকতে হবে। শরীরের কোন ক্ষতস্থান উন্মুক্ত রেখে বাইরে যাওয়া যাবে না, ঘরে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, বিছানার চাদর ও পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

কোভিড সন্দেহে বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন ঝুঁকির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে স্টরয়েড গ্রুপের ওষুধ ও ব্ল্যাক ফাঙ্গেসের ইনজেকশন।

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা অতি জরুরি। অনেক সময় মুখের মধ্যেও এই জীবাণু সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। সঠিক নিয়ম জেনে মুখের পরিচর্চা ও চিকিৎসকের পরামর্শে জীবাণুনাশক মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। কোভিড থেকে মুক্তি পেয়েও স্বাস্থ্য সচেতনতায় স্বচেষ্ট থাকার মাধ্যমে এ রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া আমাদের কাছে নতুন এ রোগ সম্পর্কে কোন তথ্য অনুসরণ করা বোকামী হবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কোভিড রোধে পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। বাসার বাইরে গেলে পরিস্কার ও শুকনো মাস্ক সঠিকভাবে পরিধান কোভিড ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোধে সর্বাধিক কার্যকরী।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা, রাজ ডেন্টাল সেন্টার
কলাবাগান বশির উদ্দিন রোড
সদস্য সচিব, বিএফডিএস
গণমাধ্যম স্বাস্থ্য প্রতিবেদক ।
০১৯১১৩৮৭২৯১

করোনাকাল ও শিশুর ডিভাইস আসক্তি : সমাধানের উপায়

অনন্যা চৈতী
সাধারণ অর্থে আসক্তি হলো নেশা, যেটা না পেলে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিসিয়ান থেকে বলা হয়েছে, দুই থেকে চার বছরের একটি শিশু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক ঘণ্টা এবং পাঁচ বছরের বড় শিশুরা দুই ঘণ্টার বেশি ডিভাইস ব্যবহার করলে একে ডিভাইস আসক্তি বলা হচ্ছে।

এ ছাড়াও ডায়াগোনসটিক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্যাল ম্যানুয়াল অব মেন্টাল হেলথ-এ বলা হয়েছে, শিশুর স্ক্রিন থাকা এখন কোকেন, অ্যালকোহল, স্মোকিংয়ের মতোই আসক্তি তৈরি করে ফেলছে।

শিশুর ডিভাইস আসক্তি বিষয়ে কথা হয়, সাইকোলজিস্ট ও বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সংগঠনের আজীবন সদস্য ফারজানা ফাতেমা রুমীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘করোনার এই সময়টাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিশুরা ডিভাইসের ব্যবহার বেশি করছে। কারণ, জুমে, গুগল মিটে, ম্যাসেঞ্জারে তাদের নিয়মিত ক্লাস করতে হয়। পাঁচ বছরের একটি শিশুও এখন ডিভাইসের সঙ্গে অতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। যদিও লকডাউনের প্রথমদিকে বলা হচ্ছিলো, শিশুরা যেন মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে। এতে সামাজিক বন্ধনে কোনো দূরত্ব তৈরি হবে না। তবে অনেক শিশুকেই দেখা যায়, সারাদিন ডিভাইস ব্যবহার করছে। এমনকি ঘুমানের সময়ও মাথার কাছে মোবাইল নিয়ে ঘুমাচ্ছে।’

ডিভাইস আসক্তিতে শিশুর বিভিন্ন আচড়ণগত পরিবর্তন হয় জানিয়ে সাইকোলজিস্ট ফারজানা ফাতেমা রুমী বলেন, একটি শিশু ডিভাইসে আসক্ত কি না এটা তার অভিভাবককেই খুঁজে বের করতে হবে। অভিভাবককে খেয়াল করতে হবে শিশুটি ডিভাইসকে সার্বক্ষণিক সঙ্গী বানিয়ে ফেলেছে কি না। ডিভাইস আসক্ত হলে শিশু প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। পরিবারের মানুষের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দেয়। আড়াই-তিন বছরের শিশু তিনটি শব্দ দিয়ে কথা বলে। যেমন: আমি ভাত খাব। ডিভাইস আসক্তির কারণে সে এই তিনটি শব্দও বলতে চায় না। অর্থাৎ কথা বলার অভ্যাস কমে যায়। সারাক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে সে অন্যের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলে না। মাথা নেড়ে কথার উত্তর দেয়। সাধারণত হ্যাঁ ও না এই দুটি শব্দের মধ্যে সে কথা শেষ করে।’

এ ছাড়া কিছু শারিরীক ও মানসিক সমস্যা হয় জানিয়ে সাইকোলজিস্ট রুমী বলেন, ‘টানা ডিভাইস ব্যবহারে চোখের পাওয়ার কমে যায়। ঝুঁকে মোবাইল দেখার জন্য ঘাড়ে, পিঠে ব্যথা করে। স্মার্ট ফোন ব্যবহারের জন্য পরবর্তী সময়ে আঙুল দিয়ে পেন্সিল ধরতে কষ্ট হয়, হাতের লেখা খারাপ হয়ে যায়। খেলাধুলা, দৌড়াদৌড়ি না করার কারণে শরীরের সাধারণ বৃদ্ধি কমে যায়। একই সঙ্গে মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়। ক্ষুধাবোধ নষ্ট হয়ে যায়। মোবাইলে বিভিন্ন গেমস খেলার জন্য তার ভিতরে গেমসের বিভিন্ন চরিত্রের প্রভাব পড়ে। সে তখন সেই গেমসের চরিত্রের মতো আচড়ণ করতে থাকে। আসলে মোবাইল বা ল্যাপটপটা তার কাছে জাদুর বাক্স, এখানে সে একই সঙ্গে গেমস খেলছে, বিভিন্ন রাইমস, খেলার ভিডিও দেখছে। তাই এটি তার কাছ থেকে সরিয়ে নিতে চাইলে সে রাগ হয়ে যায়, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কান্নাকাটি করে।’

ডিভাইস আসক্তি কমিয়ে আনতে করণীয় বিষয়ে তিনি জানান, প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে, সেটি হলো, মা-বাবাকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে তিনি তার শিশুকে ডিভাইস আসক্তি থেকে সরিয়ে আনতে পারবেন। বোঝাতে হবে মোবাইল বা ল্যাপটপ কখনোই ভালো লাগার বা ভালোবাসার জায়গা হতে পারে না। খাবার খাওয়ানোর সময় গল্প শুনিয়ে কিংবা ছবির বই দেখিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। ঘরের বাইরে খেলতে নিয়ে যেতে হবে। ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাকে সময় নির্ধারণ করে দিন। ‘আমার চেয়ে আমার সন্তান ডিভাইস ভালো অপারেট করতে পারে’- এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এ ধরনের মন্তব্য তাকে ডিভাইস ব্যবহারে উৎসাহিত করে। বাসায় কিছু নিয়ম করুন। যেমন : সবাই একসঙ্গে বসে খাবার খাবে এবং সে সময় কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না।

মা-বাবাকেও শিশুকে সময় দিতে হবে জানিয়ে সাইকোলজিস্ট রুমী বলেন, তাহলে সেও তার অনুভূতিগুলো শেয়ার করার সুযোগ পাবে। সারাদিন সে কী কী করলো তার কাছ থেকেই গল্পের ছলে শুুনুন। সারাদিনে অন্তত আধ ঘন্টা সময় তাকে দিতেই হবে। ডিভাইস আসক্তি কমাতে ঘরের কাজে তাকে সহযোগিতা করতে বলা যেতে পারে। যেমন: তার কাপড়, বই-খাতাগুলো তাকেই গুছাতে বলা যেতে পারে। বাসায় গাছ থাকলে, গাছে পানি দিতে বলা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.