Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 134

সমস্যা সমাধানে কৌশলী ৭ ধাপ

ফারজানা ফাতেমা রুমী

কথায় আছে, ‘সকল তালা খোলার জন্যই নির্দিষ্ট একটি চাবি থাকে।’ ঠিক তেমন সকল সমস্যার মাঝেই সমাধান লুকিয়ে থাকে। তবে আমরা কি সব সময় সেই সমাধানটি খুঁজে পাই?

সমাধানের পথ খোঁজার আগে আসুন জানি, সমস্যা কী- এ বিষয়ে।  একটি সমস্যা হলো এমন পরিস্থিতি যা আমাদের কোনো কিছু অর্জন করা থেকে বাধা দেয়। সমস্যা হলে অবশ্যই এটি সমাধানের উপায় বা ‘সমাধান’ খুঁজে বের করতে হয়। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হই। জীবনের সাধারণ সমস্যা বা সংকট হলো- সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা, বিবাহ বিচ্ছেদ, আঘাত, অসুস্থতা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, সন্তান লালন-পালনে সমস্যা, শোক, মৃত্যু, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, কর্মক্ষেত্রে সমস্যা, শারীরিক অক্ষমতা, দু:খ, ক্ষতি ও আত্মসম্মান সম্পর্কিত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করা বা এমনকি অজানা ভবিষ্যতের সঙ্গে সমন্বয় করে চলা। সাধারণত মানুষ যখন সমস্যার সম্মুখীন হয়, তাদের ভেতর তিনটি কাজ করার প্রবণতা থাকে। যথা:
১। ভয় পায় বা অস্বস্তি বোধ করে এবং আশায় থাকে যে এটি নিজে নিজে দ্রুত দূর হয়ে যাবে।
২। মনে করে যে তাদের একটি সমাধান বের করতে হবে এবং এটি সঠিক হতে হবে।
৩। দোষারোপ করার জন্য কাউকে খুঁজে বের করে।
আর আরেকটি বিষয় হলো, সমস্যা সমাধান করতে সাধারণত যে কাজটি করা হয় তা হলো, খুব দ্রুত সমাধান চাওয়া। বারবার বলি, ‘এখন আমি কী করব।’ আমরা হয়তো ভুলে যাই যে ‘সমাধান’ হলো একটি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। তবে আমরা তা প্রথমেই পেতে চাই। তাই ঠিক এখনই আমি কী করব এর উত্তরে বলা যেতে পারে, ‘আমি প্রথমেই নিজেকে শান্ত রাখব।’

যেকোনো জটিল সমস্যা অথবা এমন পরিস্থিতি যা আমরা আগে কখনও মোকাবেলা করিনি তা সমাধানের জন্যও মানব মস্তিষ্কের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি এমন একটি দক্ষতা যা মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক করে। ‘স্ট্রাইটাম’, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ মূলের ‘বেসল গ্যাংলিয়ার’ অংশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাজ করে। মস্তিষ্কের সামনের কাছাকাছি ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ অন্যান্য সমস্যাগুলোর সঙ্গে জটিল সমস্যা সমাধান করে। যখন সচেতনভাবে আমাদের সমস্যা সম্পর্কে চিন্তা না করি তখনও কাজ করে। ‘ফ্রন্টাল লোব’ শারীরিক চলাচল, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজের সমন্বয় করার কাজ করে; উচ্চতর জ্ঞানীয় দক্ষতা, যেমন সমস্যা সমাধান, চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ও পরিচালনা, ব্যক্তিত্ব ও আবেগীয় দিকগুলোর কাজ করে।

জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে কিছু কৌশল:

১। রাতের ঘুম
ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থার চেয়ে, রাপিড আই মুভমেন্ট (REM) ঘুম সরাসরি মস্তিষ্কে সৃজনশীল প্রক্রিয়াকরণ বাড়ায়। সহযোগী নেটওয়ার্কগুলিকে উত্সাহিত করে। মস্তিষ্কে নতুন ও দরকারি সংযোগ তৈরি করে, যা জেগে উঠলে ঘটে। তাই শান্তিপূর্ণ রাতের ঘুম আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে।

২। জীবনকে নিখুঁতভাবে গ্রহণ করা
প্রায়ই আমরা জীবন থেকে দূরে সরে যাই। আমাদের অবশ্যই বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজেকে আলোকিত করতে হবে।

অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের আরও আস্থাশীল, শক্তিশালী করে। জীবনবোধের স্বাধীনতা হলো খারাপের সাথে ভালো, কষ্টের সঙ্গে বিস্ময়, বেদনার সঙ্গে প্রেম এবং মৃত্যুর সঙ্গে জীবন! যখন এসব বিষয়গুলোকে মেনে নিতে পারা যায়, তখন আমাদের কাছে জীবন উপভোগ্য। যখন বাস্তবতার কাছে আত্মসমর্পণ করা হয়, তখন নিজেকে সর্বোচ্চ সুযোগ দিয়ে ঢেলে সাঁজানো যায়।

৩। সময় নেয়া
কচ্ছপ ও খরগোশের গল্পটি আমাদের সবারই জানা। কচ্ছপ ধীর এবং অবিচলিতভাবে দৌড় প্রতিযোগিতাটি জিতেছিল। তাড়াহুড়ো করে, আমরা আসলে সফলতা থেকে আরও দূরে সরে যাই। সহজ ও সংক্ষেপ উপায় খুঁজতে গিয়ে আরও ভুল করি। পুরানো প্রবাদে আছে, ‘যত ধীরে, শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে যান, তত তাড়াতাড়ি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যান”। এ ধরনের পদ্ধতি স্থায়ী পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত হওয়ার সর্বোত্তম উপায়।

৪। কৃতজ্ঞতা অনুশীলন করা
আশীর্বাদের চেয়ে সমস্যার সংখ্যাই তুলনামূলক কম। আমাদের জীবনের অফুরন্ত আশীর্বাদগুলোর জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে কতটুকু কৃতজ্ঞ হই? বারবার সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলি। মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন জীবন বদলে দিতে পারে। ভালো কাজ খুঁজে বের করা এবং কৃতজ্ঞতার সাথে তা গ্রহণ করা মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য এক যাদুকরি উপায়।

৫। সকল অনুভূতির (এমনকি বেদনাদায়কও) সঙ্গে থাকা

প্রায়শই আমরা আমাদের অনুভূতিগুলোকে ভীতিকর, ভারী ও বিভ্রান্তিকর মনে করি। তবে জীবনে সন্তুষ্টি, অর্থ-সম্পদ ও আনন্দ খুঁজে পাওয়ার জন্য আমাদের অনুভূতিগুলো দরকার। অনুভূতি থেকে মুক্তি পাওয়া কেবল ব্যাকফায়ারই নয়, এটি আমাদের মনস্তাত্ত্বিক শক্তি থেকেও সরিয়ে দেয়। অনুভূতি হলো আমাদের ব্যক্তিত্বের ইঞ্জিনের গ্যাস, প্রেরণার উত্স। এগুলো হলো শক্তি, প্রাণশক্তি, জীবনের রস। এগুলো ছাড়া আমাদের জীবনে কোনও ব্যক্তিত্ব, মাত্রা বা রঙ থাকবে না। কোনও আনন্দ, সৃজনশীলতা, বা মজা থাকবে না। আপনি, আমি আলাদা করে আমরা কেউই আমাদের অনুভূতি ছাড়া কিছুই নই।

৬। জীবনযাত্রার অংশ হিসাবে সাফল্য ও ব্যর্থতা গ্রহণ করা
সহানুভূতিশীল মনোভাব, জীবনের গতিশীল প্রক্রিয়া- চেষ্টা করা, সফল হওয়া, ব্যর্থ হওয়া এবং পুনরায় চেষ্টা করা নিজের মধ্যে স্থায়ী আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায়।

৭। সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ থাকা
সম্পর্কগুলো এমনি এমনি যাদুর মতো হুট করে হয়ে যায় না। মনোযোগ, যত্ন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বেড়ে ওঠে এবং টিকে থাকে। বিবাহ, পরিবার বা বন্ধুত্ব হলো গতিশীল, জীবন্ত অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন একটু একটু করে উপার্জন করতে হয়, যার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার প্রয়োজন। দূরত্ব অতিক্রম এবং সম্পর্ককে সম্মান করা একটি দৈনিক প্রক্রিয়া। আমরা কখনও একে অপরকে আঘাত করব এবং একে অপরের দ্বারা আহত হবো এই বাস্তবতাটি গ্রহণ করতে হবে। এই ব্যথা এড়ানো যায় না। আমরা কেবল মেরামত করতে পারি, সংশোধন করতে পারি, নিজেকে নিবেদিত করতে পারি। নিজেদের ভুলগুলির দায় গ্রহণ করি, দুঃখিত হই। নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করি। ক্ষমা করতে শিখি; অন্যের ক্ষমা গ্রহণ করি। আমরা নীচে পড়ি, নীচে পড়ে আবার উঠি। আর এটাই হলো সম্পর্কের বন্ধন।

সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটি ধাপ মেনে চলা যেতে পারে।

১। সমস্যা চিহ্নিতকরণ
প্রধান সমস্যা কোনটি তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে প্রকৃত সমস্যা সম্পর্কিত বিষয়গুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। অনেক সময় দেখা যায় আশেপাশের সমস্যা নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকি। বুঝতে পারি না যে মূল সমস্যাটি সমাধান হলে অনেকটাই স্বস্তি।

২। অনর্থক আলোচনা এড়িয়ে চলা
একেক জনের মতামত, দৃষ্টিভঙ্গী ও চিন্তাধারা একেক রকম। তাই সহানুভূতিশীল ও ইতিবাচক ব্যক্তির সাথে সমস্যা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। একই সঙ্গে সবার মতামত গ্রহণ করলে আরো নতুন দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।

৩। বিকল্প সমাধান বিশ্লেষণ
সম্ভাব্য বিকল্প সমাধানগুলো তালিকাভুক্ত করতে হবে। প্রতিটি উপায়কে আলাদা করে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করাই শ্রেয়। উপায়গুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, স্থান অথবা প্রয়োজনে অর্থায়নের উৎস চিহ্নিত করতে হবে।

৪। সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে ভাবা

সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে ভাবতে হবে। সেরা উপায়টি কী হতে পারে এবং কেন তা সেরা তা নিয়ে ভাবতে হবে। অবশ্যই যেখানে অসুবিধা কম সেই উপায়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৫। লিখিত ডকুমেন্টেশন
সব সময় স্মৃতির ওপর ভরসা না করাই শ্রেয়। উপায়গুলোর বিবরণ ও প্রভাব লিখিত আকারে থাকলে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। এটি ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনায়ও কাজে লাগতে পারে।

৬। ব্যর্থ হলে পুণরায় ভাবতে হবে
সবসময় পরিকল্পনা মাফিক সমাধান নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ফিরে যেতে হবে। জরুরি অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে হবে। বিকল্প উপায় নির্বাচন করতে সমস্যা হলে, পুণরায় সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ভাবতে হবে।

৭। নির্দিষ্ট সময়সীমা
সমস্যা নিয়ে অনন্তকাল বসে থাকলে চলবে না। সমাধান পরিকল্পনার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী হতে পারে সেটি একদিন, একমাস, দশবছর কিংবা তারচেয়ে বেশি।

লেখক : সাইকোলজিস্ট

পুর ভরা কাঁকরোল

কাকলী কলি

কাঁকরোল—বিচি ভর্তি, গায়ে কাঁটা কাঁটা এ সবজি খেতে অনীহা অনেকেরই। তাই বলে কি পুষ্টিগুণে ভরপুর এ খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ যাবে? নিশ্চয়ই নয়। তাই আমাদের আজকের রেসিপি পুর ভরা কাঁকরোল। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু, বানাতেও সহজ।

উপকরণ
কাঁকরোল ৩টি (দুভাগ করা)
পোস্ত বাটা ১ চা চামচ
সরষে বাটা ২ চা চামচ
চিংড়ি মাছ ৪/৫টি
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
হলুদের গুঁড়া ১/২ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
ময়দা ২ টেবিল চামচ
কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ
লবণ স্বাদমতো
তেল পরিমাণমতো
কাঁচামরিচ কুচি ৩/৪ টা

যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে কাঁকরোলগুলো লবণ দিয়ে হালকা সেদ্ধ করে নিতে হবে। এখন চামচ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাঁকরোলের ভেতরের বিচির অংশটুকু বের করে নিতে হবে। এবার কড়াইতে তেল দিয়ে পেঁয়াজ, চিংড়ি মাছ, সরষে বাটা, পোস্ত বাটাসহ সব মসলা আর কাঁকরোল থেকে যে দানাগুলো বের করে রাখা হয়েছিল, সব দিয়ে দু-তিন মিনিট ভাজুন। এরপর কাঁকরোলগুলোর মধ্যে পুরটা ভরে দিতে হবে। এরপর ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার ও হলুদের গুঁড়া দিয়ে বেটার তৈরি করে নিতে হবে। এবার কড়াইয়ে তেল গরম করে কাঁকরোলগুলো বেটারে ডুবিয়ে তেলে বাদামি করে ভেজে নিন। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে পুর ভরা কাঁকরোল ভাজা।

শিশু কি মিথ্যা বলছে?

অনন্যা চৈতী

মুখে চকোলেটের দাগ নিয়ে শিশুরা যখন মায়ের কাছে এসে ভয়ে বলে, ‘চকলেট খাইনি।’ তখন ওদের আরও আদুরে লাগে। তবে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মিথ্যেই যখন বড় সমস্যায় পরিণত হয়, তখন সত্যিই চিন্তার বিষয়! মিথ্যা বলার অভ্যাস একজন মানুষের ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে; জীবনে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শিশুকে সত্যবাদী করে গড়ে উঠানোর অভ্যাস করানো উচিৎ ছোটবেলা থেকেই। শিশুকে সত্যবাদী করে গড়ে তোলার কিছু উপায় জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট ফেমিনা।

১. শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। প্রায় সব শিশুই তার মা-বাবার আচরণকে গভীরভাবে অনুসরণ করে থাকে। তাই সবার আগে মা-বাবাকে সবসময় সত্য কথা বলার অভ্যাস করতে হবে।

২. গল্পের ছলে শিশুকে বোঝানো যেতে পারে, মিথ্যা বলা ঠিক নয়। রূপকথা, উপকথার এমন গল্প তাকে শোনানো যেতে পারে, যেখান থেকে সে ভালো কাজ ও মন্দ কাজের পার্থক্য শিখবে। গবেষণায় দেখা গেছে, মিথ্যা বলার কারণে শাস্তি পাওয়া গল্পের চাইতে সৎ কাজের পুরষ্কার পাওয়া গল্প শিশুকে ভালো কাজ শেখাতে অনেক বেশি কার্যকর।

৩. শিশু মিথ্যা বললে অভিভাবকরা অনেক সময় শাস্তি দেন। মূলত এই শাস্তি কোনো কাজেই আসে না। প্রথমদিকে ভয় পেলেও পরে শিশুটি আবার সেই কাজটিই করতে থাকে। সে যদি কোনো অন্যায় লুকাতে বানিয়ে গল্প বলে, তবে প্রথমেই আশ্বাস দিন তাকে কোনো শাস্তি দেয়া হবে না। সে সত্যটা স্বীকার করলে তার প্রশংসা করুন। এবং তাকে বুঝিয়ে বলুন মিথ্যা বলা থেকে সত্য স্বীকার করে নেয়াটাই সবচেয়ে ভালো।

৪. মা-বাবার প্রথম ও প্রধান কাজ হলো, সন্তানের মন থেকে ভয় দূর করা। তাকে সবসময় বোঝাতে হবে আপনি তাকে সবথেকে বেশি ভালোবাসেন; যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনি তার পাশে আছেন। শিশুকে আশ্বস্ত করতে হবে সত্য বলার জন্য তাকে কোন শাস্তি দেয়া হবে না। বরং তার সত্য বলাটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. অনেকসময় বাবা-মা শিশু কী করবে, কী করবে না সেটা ঠিক করে দেন। তাদের মতামত বারবার শিশুর ওপর চাপিয়ে দেন। কোন পোশাকটি পরবে, টেলিভিশনে কোন প্রোগ্রাম দেখবে- সবই ঠিক করেন তারা। এই কাজটি না করে, শিশুকে পছন্দ করার সুযোগ দিন। এতে সে তার মত প্রকাশের সুযোগ পাবে। লুকিয়ে কিছু করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করবে না।

এরপরও শিশুর মিথ্যা বলার প্রবণতা থাকলে তার কাছে জানতে চান কী কারণে সে মিথ্যা বলছে। কথা বলে তার মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে একজন শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।

তেলাপোকা তাড়ানোর ২ কার্যকর উপায়

ফিচার ডেস্ক
তেলাপোকার উপদ্রব খুবই অস্বস্তিকর। ঘরে তেলাপোকা থাকলে অ্যাজমা, অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন অসুখও বাড়ে। তবে কয়েকটি উপায়ে খুব সহজে ঘর থেকে দূর করতে পারেন তেলাপোকা। তেলাপোকা তাড়ানোর উপায় জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট লিভসে্পস।

১. তেজপাতার গন্ধ তেলাপোকার কাছে বিষের মতো। তেলাপোকা না মারলেও দূর করতে কাজ করবে তেজপাতা। কয়েকটি তেজপাতা গুঁড়া করুন। এরপর ঘরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিন।

২. তেলাপোকা তাড়ানোর অনেক পদ্ধতি থাকলেও কার্যকর ও সহজ পদ্ধতি হলো সাবান ও পানি মিশ্রণ। এ ক্ষেত্রে যেকোনো গায়ে মাখার সাবানের সঙ্গে পানি মিশিয়ে ঘরের আনাচে-কানাচে স্প্রে করে দিন। এতে তেলাপোকার সমস্যা সমাধান হবে।

শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে আপেল

অনন্যা চৈতী
দেহের রক্ত পরিশোধিত করতে আপেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভিটামিন, খনিজ ও আঁশসমৃদ্ধ এই ফলটি খুব সহজেই হজম হয়।

এ ছাড়া ফলটি কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। আপেলের মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পেকটিন কোলন, ব্রেস্ট, ফুসফুস ও লিভার ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকরী। আপেলের মতো আরো কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে উপকারী। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূরকারী কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বাঁধাকপি
বাঁধাকপিতে রয়েছে রিবোফ্লোভিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, থায়ামিন, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি ও কে। এ ছাড়াও মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিকেলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর এই সবজি। বাঁধাকপিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের ভিটামিনই রয়েছে।

অ্যান্টিক্যানসার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ বাঁধাকপি আমাদের পরিপাক তন্ত্রকে পরিশোধিত করে লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে কাজ করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বাঁধাকপি খায় তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

বিট
বিটের খাদ্যগুণ অশেষ। এটি রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে উপকারী। শুধু তাই নয়, বিট রক্তশূন্যতার সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত বিট খেলে মল পরিষ্কার হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই সবজিটি রোগ-জীবাণু থেকে শরীরকে রক্ষা করতে অত্যন্ত উপকারী।

সঙ্গীকে কখনোই বলবেন না ৩ কথা

ফিচার ডেস্ক

প্রেম, ভালোবাসা, ঝগড়া দাম্পত্য জীবনের প্রাত্যহিক অংশ। তবে সারাক্ষণ একে অপরের ভুলত্রুটি ধরতে থাকলে কিন্তু সম্পর্ক ফিকে হয়ে আসে। ছোট ছোট বিতর্কও তখন বড় ঝগড়ায় রূপ নেয়।

তবে মনোমালিন্য যত বড় রূপ ধারণই করুক না কেন, কিছু কথা কিন্তু সঙ্গীকে কখনোই বলা সঠিক নয়। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই দিয়েছে এমনই এক তালিকা, যা রাগের মাথায়ও সঙ্গীকে না বলাই ভালো।

১. থামো, আমাকে বলতে দাও
ঝগড়া দুই পক্ষ থেকেই হয়। ভুলত্রুটি কখনো কারো বেশি, কখনো কম। তবে সব সময় একজনেরই ভুল হতে পারে না। হতে পারে আপনাদের দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা, এরপরও তাকে কথা বলার সুযোগ দিন এবং কী বলতে চায় শুনুন।

২. সব তোমার দোষ
দোষ কখনো কারো একার হতে পারে না। দাম্পত্য কলহ তৈরিতে অল্পবিস্তর সবারই দোষ থাকে। তাই একজনকে সব সময় দোষারোপ না করে বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করাই শ্রেয়।

৩. তুমি বদলে গেছ
তুমি বদলে গেছ, আগের মতো নেই—ঝগড়ার সময় এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। আপনারা দুজন নিজেদের সম্মতিতেই সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাই এমন কোনো বা শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো, যেগুলো আপনাদের ভেতর শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা নষ্ট করে।

৩ বিষয় গোপন রাখতে পছন্দ করে সবাই

ফিচার ডেস্ক

প্রত্যেক মানুষই স্বতন্ত্র; তাদের ব্যক্তিসত্তাও আলাদা। প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই কিছু গোপন বিষয় রয়েছে, যেগুলো সে হয়তো কখনোই কাউকে জানাতে চায় না। সেগুলো তার একেবারেই নিজস্ব বিষয়। তবে জানেন কি, কিছু প্রচলিত বিষয় অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই রয়েছে, যেগুলো প্রকাশে অনাগ্রহ প্রকাশ করে তারা ? এমন কিছু গোপন বিষয়ের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।

১. প্রথম চুম্বন
কিশোর বয়সে প্রেমে পড়েন অনেকেই। তবে সেই প্রেম টিকতে দেখা যায় কমই। সেই সময়ের প্রেমে চুম্বন হলে সে কথা বলতে অস্বস্তি হওয়াই স্বাভাবিক।

২. পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা
জীবন গতিময়। অতীত নিয়ে খুব কম মানুষই পড়ে থাকে। সম্পর্ক আগায়। বিয়ের পর এসব সম্পর্ক নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে অনেকেই পছন্দ করেন না।

৩. পারিবারিক দ্বন্দ্ব
প্রতিটি পরিবারের দ্বন্দ্ব-সমস্যা ভিন্ন রকম। বুদ্ধিমান মানুষ নতুন স্ত্রী বা স্বামীর কাছে এসব সমস্যা গোপনই রাখতে চান।

পিরিয়ডের সময় অবশ্যই খান ৩ খাবার

ফিচার ডেস্ক

পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের সময় পেটব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তবোধ করা সাধারণ সমস্যা। তবে কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো পিরিয়ডের সময়ও আপনাকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করবে। এমন কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন।

আদা
এক কাপ আদা-চা পিরিয়ড-সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে উপকারী। আদায় রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। এটি পেশির ব্যথা কমায়। এ ছাড়া আদা বমি বমি ভাব কমাতেও সাহায্য করে। তবে দৈনিক চার গ্রামের বেশি আদা না খাওয়াই ভালো। এতে বুক জ্বালাপোড়া ও পেটব্যথার সমস্যা বাড়তে পারে।

বাদাম
বেশির ভাগ বাদামই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এ ছাড়া বাদাম প্রোটিনেরও ভালো উৎস। এতে আরো রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন। পিরিয়ডের সময় খাদ্যতালিকায় অবশ্যই এই খাবার রাখুন। তবে বাদাম খেতে অরুচি হলে বাদামের মাখন বা বাদাম-দুধ রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়।

কালো চকলেট
চকলেট খুব মজার ও উপকারী স্ন্যাক। এর ভেতর রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম। ২০১০ সালের করা এক গবেষণায় দেখা যায়, চকলেটের মধ্যে থাকা ম্যাগনেশিয়াম পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে কাজ করে। তাই এ খাবারও যোগ করতে পারেন তালিকায়।

সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ছে? লক্ষণগুলো জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক

সম্পর্ক টিকে থাকে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার ওপর। তবে টানা একসঙ্গে কাটানোর পর সম্পর্ক কখনো কখনো যেন একঘেয়ে হয়ে ওঠে। শুরু হয় একটুতে রেগে যাওয়া, চেঁচামেচি, মনোমালিন্য। দ্রুত এর সমাধানের উদ্যোগ না নিলে সম্পর্ক গড়ায় ভাঙনের পথে। সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ার কিছু লক্ষণের বিষয়ে জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই। লক্ষণগুলো জেনে নিন।

সঙ্গীর প্রতি যত্নহীনতা
সম্পর্ক শুরুর দিকে বেশির ভাগই সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল থাকে। তবে ধীরে ধীরে অনেকের ক্ষেত্রে যত্ন নেওয়ার বিষয়টিতে ঘাটতি হতে দেখা যায়। কাজের চাপে এমন হলে চেষ্টা করুন নিজেদের কোয়ালিটি টাইম বের করার। তবে যদি মনে হয় সঙ্গীর কাছে আপনার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে, তাহলে আলোচনা করুন, সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজুন। প্রয়োজনে ম্যারিজ কাউন্সিলরের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

ভালোবাসা কমে যাওয়া
একটি গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে যেমন এর যত্ন নিতে হয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন। সম্পর্ক সুন্দর রাখতে প্রতিদিন এর যত্ন জরুরি। শুরুর দিকে একে অপরের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুভূতির তীব্রতা যেন কমতে থাকে। এমনটি হলে কিন্তু অশনিসংকেত। সম্পর্ক সচল রাখতে সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ সবসময়ই জরুরি।

ভুল বোঝাবুঝি বাড়া
সম্পর্কে ফাটল ধরার একটি অন্যতম কারণ ভুল বোঝাবুঝি। বোঝাপড়া ভালো হলে মনোমালিন্য হওয়ার পরও সম্পর্ক মজবুত রাখতে সমস্যা হয় না।
এ সমস্যা সমাধানের জন্য এক অপরের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলুন। অপরকে আঘাত না করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলে ভুল বোঝাবুঝি দূর হতে সাহায্য হয়।

মানসিক সংযোগের ঘাটতি
সম্পর্ক সুস্থ-সুন্দর রাখতে মানসিক সংযোগের বিকল্প নেই। আর মানসিক সংযোগ কমতে থাকলে সম্পর্ক প্রাণহীন, ম্লান হয়ে পড়ে; টান কমতে থাকে একে অপরের প্রতি। এসব লক্ষণ দেখলে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করুন। বেশি তিক্ততায় যাওয়ার আগে সমাধানের পথ পেয়ে যাবেন নিশ্চয়ই।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.