Friday, September 25, 2026
spot_img
Home Blog Page 134

খুসখুসে কাশি : রেহাই মিলবে কীভাবে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
রাতে কাশির কারণে ঘুম ভেঙে বসে থাকা, কাজের সময় বা কথা বলতে গেলে একটু পরপর কাশি আসা। শীতে বা আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়টায় এ সমস্যায় ত্রাহি অবস্থা হয় অনেকের। ঠান্ডা লাগা, অ্যালার্জির কারণে সংক্রমণ, অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স ইত্যাদি কারণে অনেকে খুসখুসে কাশিতে ভোগেন। সমস্যা অতিরিক্ত হলে তো চিকিৎসকের কাছে অবশ্যই যাবেন, তবে এর আগে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে দেখতে পারেন।

খুসখুসে কাশি কমাতে এ ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে মধুর চা। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, মধু কাশি কমাতে কার্যকর। মধুর মধ্যে রয়েছে সুগার। তবে এর মধ্য আরও রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো অ্যাসিড, অর্গানিক অ্যাসিড, পোলেন ইত্যাদি। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, মধু কফ দমনকারী ডেক্সট্রোমেথ্রোফেন ওষুধের মতোই অনেকটা কাজ করে।

যেভাবে তৈরি করবেন মধুর চা
ভেষজ চা বা হালকা গরম পানির মধ্যে দুই চা চামচ মধু দিন। দিনে দুই থেকে তিনবার এই পানীয় পান করুন। এক বছরের নিচের শিশুদের মধু দিতে নিষেধ করেন বিশেষজ্ঞরা।

দেহে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি কী দেখে বুঝবেন?

শাশ্বতী মাথিন

ভিটামিন ডি ফ্যাট সলিউবল বা চর্বিতে দ্রবণীয়। মানবদেহে এই ভিটামিনের অনেক কাজ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি ক্যালসিয়াম শোষণ করে, হাড় ও পেশিকে সুরক্ষা দেয় এবং হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

আমরা দৈনন্দিন যেসব খাবার খাই, তাতে ভিটামিন ডি কম পরিমাণে থাকায় অনেককে এই ভিটামিনের ঘাটতিতে ভুগতে দেখা যায়। ভিটামিন ডি-এর চমৎকার ও সবচেয়ে বড় উৎস হলো সূর্যের আলো। সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে দেহে থাকা কোলেস্টেরল পরিবর্তিত হয়ে ভিটামিন ডি-এ রূপান্তর হয় এবং শরীরে বিভিন্ন অংশে পৌঁছে। এর ঘাটতি শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি করে। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কিছু লক্ষণের কথা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া ও মেডিকেল নিউজ টুডে। আসুন, জানি সেগুলো :

স্বাদ ও গন্ধ কম পাওয়া
২০২০ সালে করা এক গবেষণায় জানা গেছে, যাদের দেহে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে বা যারা ভিটামিন ডি কম পান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বাদ ও গন্ধের সমস্যা হতে পারে। অল্প বয়সে বোঝা না গেলেও বয়স বাড়তে থাকলে সমস্যা প্রকট হয়। নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভোগেন, তাদের অন্তত ৩৯ ভাগ মানুষের বয়স বাড়লে স্বাদ ও গন্ধ পাওয়ার অনুভূতি কমে যায়।

হাড় ক্ষয় হওয়া
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এতে হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, বিশেষ করে প্রবীণ নারীদের এই সমস্যায় বেশি পড়তে দেখা যায়।

বিষণ্ণতা
কোনো নির্দিষ্ট বা উপযুক্ত কারণ ছাড়া টানা মন খারাপ থাকা বিষণ্ণতার লক্ষণ। বিষণ্ণতা তৈরিতে মানসিক বিষয় তো রয়েছেই, তবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতেও এই সমস্যা হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, বিষণ্ণতা দীর্ঘদিন বাসা বেঁধে থাকলে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে কিনা, একবার পরীক্ষা করে নিন।

ক্লান্তি ভাব ও অবসাদ
খুব পরিশ্রম না করেও ক্লান্ত বা অবসাদ বোধ করা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির আরেকটি লক্ষণ। দীর্ঘদিন কোনো কারণ ছাড়াই অবসাদ বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জয়েন্টে ব্যথা
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হাড়, পেশি ও জয়েন্টে অবসন্নতা ও ব্যথা ভাব তৈরি করে। এ ছাড়া চুল পড়া ও ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে এই ভিটামিনের ঘাটতি থেকে।

ভিটামিন ডি-এর উৎস
ভিটামিন ডি-এর অন্যতম উৎস সূর্যের আলো। দিনে অন্তত একটা সময় সূর্যের আলোর কাছাকাছি যান। এ ছাড়া পালংশাক, সয়াবিন, হোয়াইট বিন, মাছ (যেমন : স্যামন, সারদিন), মাশরুম, দুধ, ডিমের কুসুম ইত্যাদি থেকে ভিটামিন ডি পেতে পারেন। ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন এসব খাবার।

৪ অভ্যাস মস্তিষ্ক তীক্ষ্ণ রাখে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য দেহের সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা জরুরি। রোজকার কিছু অভ্যাস রয়েছে, যেগুলো মস্তিষ্ক ভালো রেখে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। মস্তিস্ক চাঙ্গা, তীক্ষ্ণ রাখার কিছু উপায়ের কথা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

১. নতুন কিছু শেখা
হতে পারে কোনো নতুন বাদ্যযন্ত্র বা নতুন কোনো ভাষা, সব সময় নতুন কিছু শেখা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে বাড়ায়।

২. ধ্যান
ধ্যান শরীরকে শিথিল করে, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়। মস্তিষ্কে তথ্যকে সুগঠিত করে ধরে রাখার ক্ষমতাও বাড়ে ধ্যানের মাধ্যমে।

৩. পাজল গেম
জটিল পাজল গেম, শব্দের খেলা মস্তিষ্ককে বিশ্লেষণাত্মক হতে সাহায্য করে। তাই মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যে এ ধরনের খেলার অভ্যাস করুন।

৪. গান শোনা
সংগীতের শক্তি অসীম। গবেষণায় দেখা যায়, সংগীত শুনতে শুনতে কাজ করলে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান মেলে। তাই সংগীতকে বানিয়ে নিতে পারেন নিত্যদিনকার পরম বন্ধু।

ওমিক্রন : সচেতন হতে লক্ষণ জানুন

ডা. শাকিল মাহমুদ
ওমিক্রন করোনাভাইরাসের আপগ্রেড ভার্সন। করোনাভাইরাসের বিবর্তন হয়ে ওমিক্রন এসেছে। আশার বাণী হলো, যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাদের লক্ষণগুলো কম প্রকাশ পায়। তাদের হাসপাতালে যাওয়ার হারও কম; মৃত্যুর ঝুঁকিও কম। তবে যারা ভ্যাকসিন নেননি, তুলনামূলকভাবে ১৮ থেকে ৩০ বছরের ব্যক্তিরা এই ভ্যারিয়েন্টে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

লক্ষণ
করোনাভাইরাসের প্রায় সব লক্ষণই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে বিদ্যমান। এ ছাড়া-
# প্রচণ্ড মাথা, শরীর ও গলাব্যথা থাকবে।
# হালকা কাশি হতে পারে।
# করোনাভাইরাসের তুলনায় এখানে শ্বাসকষ্টের তীব্রতা কম।
# এই ভাইরাসে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর থাকে। সাধারণত তীব্র জ্বর হয় না।
# এই ভাইরাসে শরীরে দুর্বলতা বেশি হয়।
# খাবারের রুচি নষ্ট হয়ে যায়।
# অবসাদ লাগে।

করণীয়
অন্যান্য ভাইরাসের মতো এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা এখানে অর্থহীন। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। জ্বর হলে পরীক্ষা করিয়ে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাবে। ঠান্ডা-কাশি হলে অ্যান্টিহিস্টামিন নিতে হবে। কাশি থাকলে মন্টিলুকাস গ্রুপের ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। কাশির তীব্রতা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে।

এ ছাড়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন। পুষ্টিকর খাবার, সবুজ শাকসবজি ও হলুদ ফলমূল খান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন : লেবু, কমলা, মাল্টা, আঙুর, ব্রকলি, টমেটো, গাজর ইত্যাদি।

জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, জিঙ্ক করোনাভাইরাসের বংশবিস্তারে বাধা দেয়। করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মানুন এবং মাস্ক ব্যবহার করুন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

শীতে ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতার ৪ কারণ

শাশ্বতী মাথিন

মুখ ধুয়ে বা গোসলের পর ঠিকঠাকমতো ময়েশ্চারাইজার বা লোশন মাখছেন, হাত-মুখও ভালোভাবেই ধুচ্ছেন, ঠোঁটে লিপ বাম মাখতেও ভুলছেন না, তবুও শীতে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ছে? এ সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। শীতে এমনিতেই ত্বক শুষ্ক ও মলিন হয়ে পড়ে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি হতে দেখা যায়।

শীতে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে কেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এর কারণ জানিয়েছে সৌন্দর্যবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যালোর।

লোশনের ব্যবহার
কেবল ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহারে ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতার সমাধান মিলবে না। ‘নিশ্চিত হন ক্রিম ব্যবহার করছেন, লোশন নয়।’ বলেন নিউইয়র্ক শহরকেন্দ্রিক বোর্ড সার্টিফাইড চর্মবিশেষজ্ঞ ডোরিস ডে। এবং অবশ্যই নিয়মিত ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। চর্ম বিশেষজ্ঞ ডোরিসের মতে, প্রতিদিন অন্তত দুবার ক্রিম ব্যবহার করুন- সকালে ও রাতে। এমন ক্রিম ব্যবহার করুন, যেগুলো ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা কমাতে কাজ করে।

ভুল সময়ে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার
ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার অবশ্যই ভালো। তবে এর উপকার ভালোভাবে পেতে সঠিক সময়ে ব্যবহার জরুরি। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, গোসল বা মুখ ধোয়ার অনেকক্ষণ পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার তেমন উপকারী নয়। এর উপকার সঠিকভাবে পেতে গোসল বা মুখ ধোয়ার একদম পরপরই ব্যবহার করুন।

ভুল ক্লিনজারের ব্যবহার
মুখ ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন, সেটা ঠিক আছে, তবে মুখ ধোয়ার সময়ও সচেতন থাকতে ভুলবেন না। মুখ ধোয়ার জন্য হালকা ধরনের ক্লিনজার ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত ক্লিনজার বা সাবান ত্বককে বেশি শুষ্ক ও রুক্ষ করে দেয়।

প্রদাহ হচ্ছে না তো?
ত্বকে প্রদাহ, পানিশূন্যতা, চুলকানি, লালচে ভাব ইত্যাদির কারণেও ত্বক অনেক সময় অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে। ত্বক ভালো রাখতে শীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন এবং শাকসবজি খান। প্রদাহের কারণে ত্বকে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অবশ্যই ভুলবেন না।

চিনাবাদাম কতটুকু খাওয়া ভালো?

শাশ্বতী মাথিন
হিম হিম শীতের বিকেলে এক বাটি চিনাবাদাম খাওয়া স্ন্যাকসের চাহিদা বেশ ভালোভাবে পূরণ করে। তবে অতিরিক্ত চিনাবাদাম খাওয়া অস্বস্তি বাড়ায়। পুষ্টিকর হওয়ার পরও এই বাদাম বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই এর পুষ্টি ভরপুরভাবে পেতে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। প্রতিদিন কতটুকু চিনাবাদাম খাওয়া ভালো, এ বিষয়ে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

চিনাবাদামে রয়েছে প্রোটিন, চর্বি, আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টি। এর মধ্যে থাকা চর্বি দেহের ভেতরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এতে আরও রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট, কপার। এসব পুষ্টির কারণে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চিনাবাদাম রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টির চাহিদা পূরণে প্রতিদিন একমুঠো বাদাম খাওয়াই যথেষ্ট। বাটার খেলে এক স্লাইস রুটিতে দুই টেবিল চামচ নেওয়া যেতে পারে। সাধারণত বিকেলবেলার স্ন্যাকস হিসেবে এই বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

চিনাবাদাম খাওয়ায় সতর্কতা

মিনারেলের শোষণকে বাধা দেয়
চিনাবাদাম ফসফরাসের চমৎকার উৎস। এটি সাইটিক অ্যাসিড বা সাইটেট হিসেবে সংরক্ষিত হয়। বেশি সাইটেট গ্রহণ আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, ম্যাংগানিজ শোষণকে বাধা দিতে পারে। এতে পুষ্টির ঘাটতি হয়ে অন্যান্য সমস্যা তৈরি হয়।

ওজন কমাতে চাইলে
চিনাবাদাম দামে সস্তা ও স্বাস্থ্যকর। তবে এর মধ্য বেশি পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে। এই বাদাম অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ডায়েট করলে দিনে একমুঠো বাদাম খাওয়াই যথেষ্ট। এতে দৈনিক চাহিদার ১৭০ ক্যালরি পূরণ হবে এবং অনেকক্ষণ পেট ভরাও থাকবে।

পাকস্থলীর সমস্যায়
অতিরিক্ত চিনাবাদাম খাওয়া পাকস্থলীর অস্বস্তি বাড়ায়। কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাব সমস্যা তৈরি করে। এ ধরনের সমস্যায় বেশি ভুগলে চিনাবাদাম অতিরিক্ত না খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যালার্জি
চিনাবাদাম খেলে অনেকেরই অ্যালার্জি হয়। এমনকি সামান্য পরিমাণ চিনাবাদামও অনেকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বাড়ায়। এমন হলে চিনাবাদাম খাওয়া এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনার সময় বডি ম্যাসাজ কেন জরুরি?

শাশ্বতী মাথিন
করোনা নামক অতিমারির তিন বছর চলছে। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বিশ্বজুড়ে এখন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডব। এই ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

করোনা থেকে সুস্থ থাকতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে এর পাশাপাশি আরও বিষয় রয়েছে, যেগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বডি ম্যাসাজ বা দেহের ম্যাসাজ।

ম্যাসাজে কী উপকার

# ম্যাসাজ দেহের রক্ত চলাচল বাড়ায়; পাশাপাশি দেহের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।
# এটি শরীরের ব্যথা কমিয়ে চাপ দূর করতে উপকারী।
# গবেষণায় বলা হয়, মানসিক চাপের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। ম্যাসাজ মানসিক চাপ কিছুটা হলেও কমায়। তাই একটি সঠিক ম্যাসাজ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

ম্যাসাজ করার সঠিক সময়
দিনের যেকোনো সময় ম্যাসাজ করা যায়। তবে সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে কম ব্যস্ত সময় ম্যাসাজ করা ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জন্য সকালবেলাকে বেছে নেওয়া যেতে পারে। এ সময় শরীর ও মন সতেজ থাকে। এ ছাড়া দুপুরে খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পরও ম্যাসাজ উপকারী।

ম্যাসাজের সময় কী করবেন/ করবেন না
# একদম খালি পেটে কখনও ম্যাসাজ করবেন না। কারণ, ম্যাসাজ বিপাক প্রক্রিয়াকে উত্তেজিত করে। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। সকালবেলা ম্যাসাজ করতে চাইলে হালকা স্ন্যাকস বা ফল খেয়ে নিতে পারেন।
# আবার একদম ভরপেটেও ম্যাসাজ করা থেকে বিরত থাকার মত দেন বিশেষজ্ঞরা। ভরপেটে ম্যাসাজ বমি বা বমি বমি ভাব তৈরি করতে পারে। তাই ম্যাসাজ করার আগে এসব বিষয় খেয়াল রাখুন।

তেলের ব্যবহার
ম্যাসাজের জন্য উপকারী হলো এসেনশিয়াল অয়েল। এগুলো প্রদাহ কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ক্ষেত্রে ইউক্যালিপ্টাস, ল্যাভেন্ডার, টি ট্রি, অলিভ ইত্যাদি তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

শীতে মাথা ঢাকুন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
ঠান্ডা, কাশি, সর্দি, অ্যাজমা, ত্বকের শুষ্কতা ইত্যাদি শীতের সাধারণ সমস্যা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সুস্থ থাকতে এ সময় বাড়তি যত্ন জরুরি। ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, কয়েক পরতের গরম পোশাক পরা ইত্যাদি শীতে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

শীতে ঠান্ডা-কাশি থেকে বাঁচতে এবং চুল ভালো রাখতে মাথা ঢেকে রাখার বিকল্প নেই। মাফলার, স্কার্ফ, টুপি ইত্যাদি দিয়ে মাথা ও কান ঢাকা থাকলে শীতে রোগ হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ কমে যায়— এমনটাই পরামর্শ ভারতীয় আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ নিকিতা কোহলির। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ হয়েছে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন।

আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ নিকিতা কোহলির মতে, মাথা ঢেকে রাখলে তাপ সংরক্ষিত হয়; শরীর উষ্ণ থাকে, স্বস্তি পাওয়া যায়। মাথা ঢাকা না থাকলে শরীর থেকে বেশি তাপ বেরিয়ে যায়। এতে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা বাড়ে।

শীতে মাথা ঢেকে রাখলে চুল সুস্থ থাকে এবং আঠালো হওয়ার ঝুঁকি কমে। ঠান্ডা ও রুক্ষ্ম আবহাওয়া ময়েশ্চার কমিয়ে চুলকে আঠালো ও শুষ্ক করে দেয়। এতে চুল পড়া বাড়ে কয়েক গুণে। এ ছাড়া চুল ঢেকে রাখলে খুশকি হওয়ার আশঙ্কাও কমে— এমনটাই মত নিকিতা কোহলির।

এ ছাড়া শীতে সুস্থ থাকতে আরও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তিনি—

১. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
শীতে খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল ও সবজি রাখুন। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

২. ম্যাসাজ করা
গোসলের আগে গরম তেল দিয়ে সারা শরীর ম্যাসাজ করা ত্বককে আর্দ্র রেখে তাপ তৈরিতে সাহায্য করে। সিসিম তেলের ম্যাসাজ শীতের সময় উপকারী।

৩. ব্যায়াম
ব্যায়াম বিপাক ক্ষমতা বাড়ায়। দিনে অন্তত ৩০ মিনিটের ব্যায়ামও শরীরকে সুস্থ রাখতে কার্যকর।

পুরুষের ত্বকের যত্নে চার কার্যকরী উপায়

শাশ্বতী মাথিন
তেতো হলেও সত্য, কোথাও বের হওয়ার আগে প্রস্তুতিপর্বে নারীর তুলনায় পুরুষের সময় কম লাগে। চু্ল বাঁধতে বা ত্বকের যত্ন নিয়ে ঠিকঠাকভাবে তৈরি হতে একজন নারীর যেখানে ঘণ্টাখানেক লেগে যায়, সেখানে হয়তো একজন পুরুষ ১০ মিনিট সময় নেয়।

সাধারণত দেখা যায়, পুরুষ ত্বকের যত্নে উদাসীন। আর এতে তাদের ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ্ম, শুষ্ক। একটু সচেতন হলেই কিন্তু এসব সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। আর এ জন্য বেশি সময়ও দিতে হয় না। পুরুষের ত্বক ভালো রাখতে কিছু উপায়ের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।

১. মুখ ধোয়া
ত্বক ভালো রাখতে মুখ ধোয়ার বিকল্প নেই। তবে এ কাজটিই অনেকে আলসেমির কারণে এড়িয়ে যান। পরিষ্কার ত্বক সৌন্দর্য বাড়ায় বহু গুণে। তাই প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চারবার মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন। বার সাবানে ক্ষার বেশি হওয়ায় ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। অতিরিক্ত ক্ষারীয় বার সাবানের বদলে হালকা ফেসিয়াল ক্লিনজার ব্যবহার করুন এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

২. শেভ করার সময় মনোযোগ দিন
শেভ করার সময় অনেকে কয়েক পরতের রেজর ব্লেড ব্যবহার করেন। এগুলো ত্বকের ভেতর থেকে খুব সূক্ষ্মভাবে দাড়ি দূর করে। তবে আপনার ত্বকে রেজর বার্ন, ফোড়া ইত্যাদি হওয়ার সমস্যা থাকলে এক বা দুই ব্লেডের রেজর ব্যবহার করুন। দাড়ি কামানোর আগে অবশ্যই পানি দিয়ে ভিজিয়ে জায়গাটা নরম করে নিন। শেভের পর ময়েশ্চারাইজার অবশ্যই ব্যবহার করুন।

৩. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
ময়েশ্চারাইজার ত্বক সতেজ রাখে এবং ত্বক কয়েক গুণ তরুণ দেখাতে সাহায্য করে। গোসল ও শেভের পর অবশ্যই মুখমণ্ডল ও শরীরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

৪. সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
বাইরে বের হওয়ার সময় মুখমণ্ডল, হাত, ঘাড়, অর্থাৎ যেসব অংশ বাইরে থেকে দেখা যায়, সেগুলোতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন রোদে পোড়া ভাব থেকে ত্বককে বাঁচায় এবং ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বৃষ্টির দিনে সুস্থ থাকতে জরুরি ৭ খাবার

অনন্যা চৈতী
চলছে শরৎকাল। বর্ষা চলে গেলেও শরতের শুভ্র মেঘের ভেলায় হঠাৎই কালো মেঘ যোগ হয়ে বৃষ্টি ঝড়িয়ে দেয় যখন তখন। বৃষ্টি যত ভালোবাসার হোক না কেন, এটি বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ডেকে নিয়ে আসে; রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

এরই মধ্যে কোভিড-১৯ – এর তাণ্ডব আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় আঘাত হানছে খুব দ্রুত। এই সংক্রমণের ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে শিশু, প্রবীণ, কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ। সঙ্কটময় এই মুহূর্তে সুস্থ থাকতে এমন ফল ও শাকসবজি খাওয়া জরুরি, যা আমাদের শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করবে।

এই সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এমন কিছু ফল ও সবজির নাম জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

১. তরমুজ
এই ফলটিতে রয়েছে গ্লুটাথাইওন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।উপাদানটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কয়েকগুণ। এ ছাড়া তরমুজ খুব রসালো সতেজকারক একটি ফল।

২. ব্রকোলি
ব্রকোলি ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ এমন একটি সবজি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এটি আয়রন ও সালফোরাফিনের মতো বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্য তালিকায় আজই যুক্ত করুন ব্রকোলি।

৩.পালং
ভিটামিন ‘সি’ ও ‘ই’ সমৃৃদ্ধ পালং শাক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অন্যতম একটি খাদ্য উৎস।

৪. বিট
সুস্বাস্থ্য পেতে বিট হতে পারে একটি উপকারি সবজির নাম। এটি কেবল ভিটামিনেই ভরপুর নয়, পটাসিয়াম ও খনিজের ভালো আধার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি উচ্চ রক্তচাপ ও বাড়তি ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়ক।

৫. কমলা
এই ফলটি কেবল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, পাশাপাশি কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং কোলাজেন বাড়ায়। কমলা শরীরের আয়রনের শোষণকে তৎপর করে। রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি প্রয়োজনীয় একটি খাদ্য উপাদান।

৬. কম ফ্যাটযুক্ত দই
কম ফ্যাটযুক্ত দইয়ে পাওয়া প্রোবায়োটিক সাধারণ সর্দি- কাশির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে একটি দুর্দান্ত খাদ্য উৎস।

৭.মাশরুম
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফাইবার, প্রোটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবজি মাশরুম। কম ক্যালরি থাকা এই সবজিটি ওজন কমানোর পাশাপাশি হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.