Tuesday, May 26, 2026
spot_img
Home Blog Page 133

পিরিয়ডের সময় যা মেনে চলা জরুরি

– ডা. হুমায়রা বুশরা হোসেন
আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে, একজন নারী বা মেয়ের পিরিয়ডের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এর অন্যতম কারণ পরিষ্কার পানি ও টয়লেটের সুব্যবস্থার ঘাটতি।

এ ছাড়াও আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থায় পিরিয়ড নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করাও যেন নিষিদ্ধ। এতে একটি মেয়ে বা নারী তার নিজের শরীর সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলাফল নারীটির স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আত্নমর্যাদায় ব্যঘাত ঘটা।

একটি মেয়ের জীবনে এই পিরিয়ড/মাসিক/ঋতুস্রাব শুরু হয় সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে (১১-১২ বছর বয়স থেকে) এবং তা নিয়মিত চলতে থাকে ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত। জীবনের এই সময়টুকুতে প্রতি মাসেই তাকে এই প্রাকৃতিক নিয়মের সম্মুখীন হতে হয়।

পিরিয়ডের সময় করণীয়

# পিরিয়ডের সময় কাপড়ের টুকরা ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করুন। কারণ, কাপড় বা অস্বাস্থ্যকর পন্যের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
# প্রতি ছয় ঘণ্টা পর পর স্যানিটারি প্যাড অবশ্যই বদল করতে হবে।
# প্রতিদিন গোসল করুন।
# হালকা গরম পানি ও সাবান নিয়ে বাইরের অংশটুকু পরিষ্কার করতে হবে। তবে ভ্যাজাইনার ভেতরের অংশে সাবান দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
# প্রতিবার পরিষ্কারের পর জায়গাটিকে শুকিয়ে ফেলুন।
# দুই উরুর ভেতরের অংশ শুকনা রাখতে হবে।
# পিরিয়ডের সময় ব্যবহৃত প্যাড সঠিক স্থানে ফেলে দিন।
# পরিষ্কার অন্তর্বাস পরুন ও তা প্রতিদিন বদল করুন।
# মাসিকের রাস্তা পরিষ্কারের সময় অবশ্যই সামনে থেকে পিছনের দিকে ধুবেন। পিছন থেকে সামনের দিকে ধুতে গেলে মলদ্বারের জীবাণু দিয়ে ইনফেকশন হতে পারে।
# প্রতিবার প্যাড চেঞ্জ করার পর অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন।
# বর্তমানে আমাদের দেশে পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে নারীরাও তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে আমাদের পারিবার ও স্কুল থেকে সবাইকে সচেতন করতে হবে।

পরিশেষে প্রতিটি কর্মস্থলে নারীদের জন্য পিরিয়ডের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুব্যবস্থা করতে হবে।

লেখক : এফসিপিএস (অবস্ এন্ড গাইনি)
ট্রেইন্ড ইন এ আর টি/ইনফার্টিলিটি (ইন্ডিয়া, জার্মানি)

কৃতজ্ঞতা : লিভিং ওয়েল উইথ ডক্টর বুশরা।

আত্মহত্যা ও মানসিক স্বাস্থ্য

নাসির উদ্দিন টগর
আত্মহত্যা হলো নিজের জীবন নিজে সমাপ্ত করার প্রক্রিয়া। ‘কমিট’ শব্দটির যথাযথতা সম্পর্কে এবং আত্মহত্যা বর্ণনা করার বিষয়ে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে নিজেকে মেরে ফেলাই হলো আত্মহত্যা।
আত্মহত্যা ইংরেজি suicide (সুইসাইড), লাতিন suicidear (সুইসাইডেয়ার) থেকে এসেছে। এর অর্থ নিজেকে হত্যা করা। যখন কেউ ‘আত্মহত্যা’ করেন, জনগণ এ প্রক্রিয়াকে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করেন।
প্রাচীন এথেন্সে কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া আত্মহত্যা করত, তাহলে তাকে সাধারণ কবরস্থানে কবর দেয়ার অনুমতি প্রদান করা হতো না। আত্মহত্যা খ্রিষ্টান ইউরোপীয় অঞ্চলে একটি পাপ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। ৪৫২ সালে আরলসের কাউন্সিলে আত্মহত্যাকে শয়তানের কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ফ্রান্সের লুই চতুর্দশের ১৬৭০ সালে তৈরি করা ফৌজদারি অধ্যাদেশ অত্যন্ত অমানবিক ছিল। আত্মহত্যা করা ব্যক্তির মৃতদেহ রাস্তায় টেনে আনা হতো। মাথা নিচু করে তারপর আবর্জনা দিয়ে আবৃত করা হতো। ব্যক্তির সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জব্দ করা হতো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। পৃথিবীতে মৃত্যুর যত কারণ রয়েছে, আত্মহত্যা এর মধ্যে ত্রয়োদশতম। কিশোর-কিশোরী ও যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, তাদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো আত্মহত্যা।
রেনেসাঁসের সময় থেকে আত্মহত্যার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে শুরু করে। ডেভিড হিউম প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘কেন আমি একটি করুণ অস্তিত্বকে দীর্ঘায়িত করব, কিছু অসার সুবিধা, যা জনসাধারণ হয়তো আমার কাছ থেকে গ্রহণ করতে পারে?’
আত্মহত্যার সঙ্গে মানসিক ভারসাম্যহীনতার যোগসূত্র রয়েছে। যারা বা যাদের সাইকিয়াট্রিক ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের পূর্ণ আত্মহত্যা করার ঝুঁকি ৮ দশমিক ৬ ভাগ। বাইপোলার ডিজঅর্ডার থাকলে আত্মহত্যার ২০ গুণ বেশি ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া সিজোফ্রেনিয়া ১৪ পার্সেন্ট। ট্রোমাউত্তর স্ট্রেস ডিসঅর্ডার, ডিপ্রেশন, দ্বিপক্ষীয় ব্যাধি, স্থূলতাজনিত রোগ ইত্যাদি আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
আমাদের সামাজিক বন্ধন অটুট নয় এই আধুনিক গ্লোবাল ভিলেজের পৃথিবীতে। গ্লোবালাইজেশন যত আমাদের একজনের সঙ্গে অন্যজনের, এক জায়গায় বসে অন্য জায়গায় যেভাবে কানেক্টেড করেছে, তা বাস্তবে ঠিকই করছে; কিন্তু এখানে রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। আমরা যত ডিজিটালাইজশনে প্রবেশ করছি, আমাদের সামাজিক বন্ধনগুলো তত ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। আমরা কোনো জায়গায় এখন কয়েকজন কথা বললে নিজেদের সঙ্গে যতটা না কথা বলি, তার চেয়ে বেশি খেয়াল করি হাতে থাকা স্মার্ট ডিভাইসটিকে। আমরা আমাদের শহর থেকে খেলার মাঠ উঠিয়ে ফেলছি। গ্রামকে স্মল টাউন, কোথাও কোথাও মিনি সিটি বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। বলছি না যে, এসব অপ্রয়োজনীয়। এসব অবশ্যই প্রয়োজন, তবে দিন শেষে যেন মানুষ মানুষেরই থাকে, কোনো স্মার্ট ডিভাইসের না হয়ে ওঠে। এত এত মানুষ আত্মহত্যা করছে এর অন্যতম কারণ হলো, অনলাইনে সময় দিয়ে অনিদ্রার অভ্যাস গড়ে তোলা আর অনিদ্রা হলে ডিপ্রেশনসহ প্রেশারের সমস্যা হয়, আমরা সবাই তা জানি। আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল অবলম্বন করতে হবে এসব বিষয়।
কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক সমস্যা ও স্বাস্থ্য নিয়ে বোঝাপড়ার জায়গা করতে হবে। পরিবার সকলে সকলের সঙ্গে সময় বণ্টন শেয়ারিং-কেয়ারিংয়ের জায়গা তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি বলতে তাই মানুষ আমরা। আমরা রোবট নই। আমরা গুহা জীবন থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে সমাজ তৈরি করেছি। নিজেরা নিজেদের রক্ষা করেই টিকে রয়েছি পৃথিবীতে। আমাদের পুনরায় রক্ষা করতে হবে নিজেদের। চর্চা করতে হবে মন-মননের শান্তি কোথায়-কীভাবে অর্জন করতে বা করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র :
১. ভেভিড হিউমের প্রবন্ধ ও লেখনী।
২. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট।
৩. এমআইটি ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মেন্টাল হেলথবিষয়ক জার্নাল ও ওয়েবসাইট।

লেখক : শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, ঢাকা কলেজ

যত্নশীল সহকর্মী কীভাবে হবেন?

অনন্যা চৈতী

ঘরের চেয়ে কর্মক্ষেত্রেই বেশি সময় কাটাতে হয় কর্মজীবীদের। ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার চাকরিতে অফিসের সহকর্মীরাই তখন আপনজন হয়ে ওঠে। খুব ভালো বন্ধুত্বের পাশাপাশি মান- অভিমান, কূটকৌশল, রাগ, ঝগড়া—সবই চলে এখানে।

তবে যাদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হয়, দিনশেষে তাদের প্রতি একটা মায়াও জন্মে। তাই তো কোনো সহকর্মী অসুস্থ হলে সবার আগে এগিয়ে আসে সহকর্মীরাই। সহকর্মীদের সম্পর্ক হোক সুস্থ, সুন্দর। আর এ জন্য প্রয়োজন যত্নশীলতা। সহকর্মীর প্রতি যত্নশীল হয়ে ওঠার বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছে মিডিয়া ডটকম।

# মাঝেমধ্যে পুরো অফিস ঘুরে অন্য সহকর্মীদের খোঁজখবর নিন। তাদের মধ্যে কেউ সমস্যায় থাকলে তাকে সহযোগিতা করুন যতটা সম্ভব। এতে পরবর্তী সময়ে আপনি অসুস্থ থাকলে কিংবা কাজের চাপ বেশি থাকলে, অন্য সহকর্মীরাও আপনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে।

# সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির অন্যতম একটি পথ হলো, মনোযোগী শ্রোতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা। নিজের বিষয়ে কথা বলার চেয়ে শুনুন বেশি। কারণ, অধিকাংশই সেই মানুষটির সঙ্গে কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, যে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে। কম কথা বলার আরেকটি বড় সুবিধা হলো, সঙ্গের ব্যক্তিটির আস্থাও অর্জন করা যায়।

# সহকর্মী ভালো কিছু করলে অবশ্যই তার প্রশংসা করুন। ছোট্ট একটি প্রশংসা এনে দিতে পারে পুরো দলের সফলতা। এতে কাজের প্রতি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দলের মনোবল বেড়ে যাবে।

# সহকর্মীর প্রতি অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। বরং তাকে বুঝিয়ে বলুন, তার ভুলটি কোথায়। এতে নিজেদের মধ্যে একটি চমৎকার সম্পর্কও গড়ে উঠবে।

# মাঝেমধ্যে সহকর্মীদের জন্য বাসা থেকে দুপুরের খাবার তৈরি করে নিয়ে যেতে পারেন। কিংবা যদি দেখেন সহকর্মী কাজের ব্যস্ততার জন্য লাঞ্চ করতে যেতে পারছে না, তার জন্য না হয় আপনি খাবার নিয়ে আসুন। এতে তার কাছে আপনি একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও বিবেচিত হবেন।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.