Sunday, September 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 121

সমাজ তালাক হওয়া পরিবারের সন্তানদের অভিশপ্ত ভাবে

উজ্জ্বলা লিমিটেড, বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নারীকে যোগ্য করে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব খুঁটিনাটি শেখানো হয় এখানে। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজনের আজ রইল নবম পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাশ্বতী মাথিন।

নবম পর্ব- ইকরা আহসান চৌধুরী

চুল নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন ইকরা আহসান চৌধুরী। কাকে কোন রংয়ে মানাবে, কীভাবে চুলের কালার করলে চেহারা উজ্জ্বল লাগবে অথবা রিবন্ডিংয়ে সবচেয়ে আধুনিক কৌশলগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা যায় এসব তার কাজ ও ভাবনার বিষয়। ইকরা বর্তমানে কাজ করছেন উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি হিসেবে। পাশাপাশি বাড়িতেই স্টুডিও খুলেছেন। সেখানে হেয়ার স্টাইলের কাজ করা হয়। মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।

ইকরা জানান, ২০১৮ সালে আমি উজ্জ্বলায় আসি। এখানে সেকেন্ড কমপ্লিট ব্যাচের ছাত্রী ছিলাম। আমার মনে হয়েছে চুল স্টাইলিংয়ের জায়গায় কাজ করার মানুষ কম। হাতে গোনা কয়েকজন এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করে। আমি প্রতিনিয়ত চাই নিজেকে দক্ষ করে তুলতে। উজ্জ্বলার বাইরেও বিউটিফিকেশনের ওপর ২০টি কমপ্লিট কোর্স করেছি।

‘ছোটবেলায় আমার মা-বাবার ডিভোর্স হয়ে যায়। আমরা দুই বোন। আমি দেখতে মায়ের মতো অনেকটা। তাই বাবার বাড়িতে গেলে আমাকে সবাই দূরে সরিয়ে রাখতো, পছন্দ করতো না। আমার বোনকে নিয়ে তাদের আহ্লাদ ছিলো। আমাদের সমাজ ডিভোর্স পরিবারের সন্তানদের অভিশপ্ত মনে করে। তবে যখন ধীরে ধীরে আমি উন্নতি করতে শুরু করলাম, একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করলাম, তখন সবাই আমাকে পছন্দ করে,’ -বলছিলেন ইকরা।

সবসময় ভেবেছি এমন কোনো কাজ করবো যাতে সম্মান পাই জানিয়ে ইকরা বলেন, ‘উজ্জ্বলা আমাকে আমি হতে সাহায্য করেছে। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং কাজ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছি।’

উজ্জ্বলার স্লোগান, ‘চলো এগিয়ে যাই।’ আমিও এমন। কোনো বাধা মানি না। সব বাধা অতিক্রম করে সবসময় নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি,’ বলেন ইকরা।

দায়িত্বহীন পুরুষের জন্য কাঁদবো না

উজ্জ্বলা লিমিটেড, বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নারীকে যোগ্য করে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব খুঁটিনাটি শেখানো হয় এখানে। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজনের আজ রইল ৮ম পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাশ্বতী মাথিন।

পর্ব – ৮ : অনামিকা আক্তার ইমু

বাবার ক্যানসার হয়েছিলো। পরিবার থেকে সবাই ভাবছিলো বাবার অবর্তমানে মেয়েকে লালন-পালন করা কঠিন হবে। তাই মাত্র সাড়ে ১৩ বছর বয়সেই বিয়ে হয়ে যায় অনামিকা আক্তার ইমুর। এরপর ছোট এই মেয়েটি জন্ম দিলো আরো ছোট দুটো শিশুর। সংসার হলো ঠিকই, তবে শান্তি এলো না। স্বামী তেমন কোনো কাজই করতো না। স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া তো দূরের কথা ইমুর জরায়ুর অসুস্থতা হলে তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর আশ্রয় হয় মা। মা-ই ইমুকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করে এগিয়ে নিয়ে এসেছে আজ পর্যন্ত। সে আজ বিউটি প্রশিক্ষণ নিয়ে উজ্জ্বলার সেলস অফিসার হিসেবে কাজ করছে।

‘একটা সময় অনেক কেঁদেছি। এখন আর কান্না করি না। কেন কাঁদবো? একজন দায়িত্বহীন পুরুষের জন্য কেন চোখের পানি ঝরাবো? নিজের চোখের পানির দাম আছে। দুই হাতে দুই সন্তান বড় করছি। আমিই তাদের বাবা-আমিই তাদের মা,’- বলছিলেন ইমু।

উজ্জ্বলায় আসার আগে একটি পার্লারে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিউটিফিকেশনের কিছু কাজ শিখে গ্রামে নিজেই একটি পার্লার দিই। কিন্তু সেখানে চুরি হয়ে যায়। আমার পার্লার থেকে সবকিছু নিয়ে যায়। খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এর আগে বাবা মারা গেলেন। আমার জীবনে টানাপোড়েন। সবকিছু মিলিয়ে খুব বাজে একটি অবস্থা। এরপর ঢাকায় উজ্জ্বলায় আসি। এখানে এসে বিউটিফিকেশনের সম্পূর্ণ কোর্স করি। আর এখনতো কাজই করছি এখানে। উজ্জ্বলা আমার মনোবল বাড়াতে অনেক সহযোগিতা করেছে- জানান তিনি।

বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি। সেখান থেকে এইচএসসসি শেষ করেছি জানিয়ে ইমু বলেন, ‘এখন মনে হয় কষ্ট ছিলো বলেই একজন উজ্জ্বলা হতে পেরেছি। উজ্জ্বলার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। নিজের সন্তান দুটোকে নিয়ে এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’ নিয়ে এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’

দুধ খেতে অস্বস্তি ?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
দুধ সুষম খাবার- এ তো সবারই জানা। দুধে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেলসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি। তবে এই পুষ্টিকর খাবারটি খাওয়ার পর অনেকেরই পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। হজমে অসুবিাধা, বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা ইত্যাদি। তবে এরকমটা কেন হয়? এর উত্তর জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি।

দুধে ল্যাকটোজ নামে এক ধরনের গ্লুকোজ থাকে। একে হজমের জন্য এক ধরনের উৎসেচকের দরকার পড়ে। আর সেটি হলো ল্যাকটেজ। মানবদেহে এই উৎসেচক তৈরি হয়। যাদের দেহে এটি উৎপাদনের হার কম তাদের ল্যাকটোজ হজমে অসুবিধা হয়। এই সমস্যাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলা হয়।

দুধ খেতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জেনে নিন, আপনিও ভুগছেন কি না লেকটোজ ইনটলারেন্সে।

সন্তান হয় না বলে বাজে কথা শুনেছি

উজ্জ্বলা লিমিটেড, বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নারীকে যোগ্য করে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব খুঁটিনাটি শেখানো হয় এখানে। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজনের আজ রইল ৭ম পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাশ্বতী মাথিন।

পর্ব – ৭ : আফরোজা আক্তার

খুব ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যায় মেয়েটির। অনেক বছর ধরে সন্তান হচ্ছিলো না। বাজা, বন্ধ্যা, সকালবেলা এ মেয়ের মুখ দেখলে যাত্রা ভালো হবে না- এসব কথা শুনতে হতো তাকে। এমনকি স্বামী প্রায়ই হুমকি দিতেন সন্তান না হলে আরেকটি বিয়ে করে ফেলবেন বলে। অত্যন্ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করে এক পর্যায়ে তালাক দেয় মেয়েটি। এরপর আরেকটি বিয়ে হয়। এ ঘর আলো করে আসে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান। মেয়ে হওয়ার কিছুদিন পর উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। উজ্জ্বলা থেকে বিউটিফিকেশনের সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করে এখন নিজেই একটি পার্লার দিয়েছেন। স্বামী ও বাবার বাড়ি- দুই পরিবারকেই সহযোগিতা করছেন।

‘শ্বশুর বাড়িতে এতো কষ্টে থাকতাম মনে হতো আত্মহত্যা করে ফেলি। ডিভোর্সের পর আমার আগের স্বামী আরেকটি বিয়ে করে। সে ঘরে এখনো কোনো সন্তান হয়নি। তার নিজের শারীরিক সমস্যা ছিলো। ছোট ছিলাম, মেইল ইনফার্টিলিটি বলে যে একটি বিষয় রয়েছে, পুরুষও যে সন্তান দিতে অক্ষম হয়, সেটি বুঝিনি। আর এ জন্য আমাকে যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো। কটু কথা শুনতে হতো। আমার বর্তমান স্বামীর আগের স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন। সে ঘরে দুটো মেয়ে রয়েছে। এখন আমার ঘর জুড়ে তিন সন্তান। তিনটি ফুটফুটে শিশুর মা আমি,’ বলছিলেন আফরোজা আক্তার।

উজ্জ্বলাতে আসি ২০১৯ সালে। কোভিডের সময়, লকডাউন খোলার পর। ছোট মেয়েটার যখন এক বছর হলো তখন মনে হলো আমার কিছু করতে হবে। তেমন লেখাপড়াও জানি না যে চাকরি করবো। এ সময় ফেসবুকে উজ্জ্বলার সন্ধান পাই। ছোটবেলা থেকে সাজতে ভালো লাগতো। উজ্জ্বলার সন্ধান পাওয়ার পর মনে হলো বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে পারি। আমার বর্তমান স্বামী ভীষণ সহযোগিতা করে। সে পাশে না থাকলে এত দূর এগোতে পারতাম না। উজ্জ্বলায় বাচ্চা নিয়ে ক্লাস করতে আসতাম। অনেক সহযোগিতা পেয়েছি এখান থেকে। উজ্জ্বলা থেকে মেকআপের ওপর সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করেছি। এখন অ্যাডভান্স কোর্স করছি- জানান আফরোজা।

উজ্জ্বলা আমাকে শক্ত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ চার মাস হলো নরসিংদীতে বাবার বাড়ির এলাকায় পার্লার দিয়েছি। এখন মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। আজ আমি যতটা স্বাবলম্বী হয়েছি, তা উজ্জ্বলার জন্য। তাই নিজেকে একজন উজ্জ্বলা মনে করি। এভাবেই একজন দক্ষ বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করে যেতে চাই।’

পানি কম পান করছেন, কীভাবে বুঝবেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
পানি দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোকে ঠিকঠাক কাজ করাতে সাহায্য করে। গরমের সময় অতিরিক্ত ঘাম ঝরে দেহ পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এটি শিশু ও প্রবীণদের জন্য খুবই জটিল একটি অবস্থা। পানিশূন্যতার কিছু লক্ষণের বিষয়ে জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডওয়ান আরজেন্ট কেয়ারডটকম।

১. পানি পিপাসা লাগা।
২. গাঢ় হলুদ ও তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত পায়খানা।
৩. ঝিমুনি ও ঘুম ঘুম ভাব।
৪. ক্লান্তবোধ।
৫. শুষ্ক মুখ, ঠোঁট ও চোখ।
৬. মুখে দুর্গন্ধ হওয়া।
৭. প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হওয়া।
৮. মাথাব্যথা।
৯. মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা।
১০. কোনো বিষয় নিয়ে দ্বিধাবোধ।

করণীয়
দৈনিক অন্তত আট থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। ফলের রস, শরবত, ডাবের পানি ইত্যাদি তরলগুলো খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন। লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গরমে মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী রাখার কৌশল

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। গরমে মেকআপ মানেই কিছুক্ষণ বাদে ঘামে চপচপে হয়ে গলে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে হালকা মেকআপের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে হালকা হলেও একটু তো সাজতেই হয়। এই সাজকে বেশিক্ষণ রাখতে কিছু জিনিস খেয়াল করা জরুরি। গরমে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট ফেমিনা।

১. সাজের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। এরপর বরফ ঘষে নিন। এতে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ বসবে।

২. মেকআপের সময় ওয়াটার প্রুফ প্রাইমার ব্যবহার করতে পারেন। এতে সহজে সাজটা গলে যাবে না।

৩. আইলাইনারের ক্ষেত্রে ওয়াটার প্রুফ ব্যবহার করাই ভালো।

৪. এ সময় ক্রিম আইশ্যাডো এড়িয়ে পাউডার জাতীয় ব্যবহার করুন। অন্যান্য পন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ক্রিম ধরনের এড়িয়ে পউডার ধরনের ব্যবহারই ভালো।

৫. গরমে ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। এতেও মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

লড়াকু যোদ্ধা আফিয়া আমিনা

উজ্জ্বলা লিমিটেড, বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নারীকে যোগ্য করে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব খুঁটিনাটি শেখানো হয় এখানে। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজনের আজ রইল ৬ষ্ঠ পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাশ্বতী মাথিন।

পর্ব – ৬
রংপুরের মেয়ে আফিয়া আমিনা। ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যায়। খুব পড়তে চাইতেন। কিন্তু শশুর বাড়ি থেকে বাধা দিতো। বউ কেন বাড়ির বাইরে কাজ করবে, চাকরি করবে এটা মেনে নিতে পারতাে না তারা। বউ শুধু সংসার সামলাবে, ঘরের কাজ আর রান্না করবে। স্বামী পুলিশ হওয়াতে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। হতাশা, বিষণ্ণতায় ভীষণভাবে কুঁকড়ে যেতেন তিনি। এর ভেতরই অনেক কষ্টে এইচ এস সি পাস করেন। ধীরে ধীরে উজ্জ্বলার সন্ধান পেয়ে এখান থেকে বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে কারিগরি প্রশিক্ষণ নেন। এখন নিজেই একটি স্যালন খুলেছেন। নিজেই হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তা।

উজ্জ্বলায় যখন প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করি, স্বামীকে প্রথমে বলেছিলাম, ‘আমাকে কিছু করতে দাও। সারাজীবন তো ঘরেই আটকে রাখলে। তুমি যদি না থাকো, তখন তো অথর্ব হয়ে পড়বো। কিছুই করতে পারবো না। এই কাজটি করে অন্তত নিজেকে কিছুটা স্বাবলম্বী হতে দাও।’ এরপর আমার স্বামী রাজি হয়। উজ্জ্বলার অফিস দেখে যায়। এখন আর বাধা দেয় না কাজে। বরং স্যালন করেছি, এটি দেখে সে খুশি- জানান আফিয়া আমিনা।

১৬ বছরের সংসার আমার। দুটো সন্তান রয়েছে। সংসার বিভীষিকার মতো লাগতো। প্রতি রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাতাম জানিয়ে আফিয়া বলেন, ‘আমার স্বামী এইচএসসি পাস। শশুর বাড়ি থেকে পড়তে দিতে চাইতো না। তারা হয়তো ভাবতো, মেয়ে বেশি শিক্ষিত হয়ে গেলে স্বামীকে মানবে না। নিজের যত্ন কী জিনিস, সেটাই বুঝতাম না সে সময়। কেবল কলুর বলদের মতো সংসার করে গেছি। আমি যে একটি আলাদা সত্তা। আমারও যে রক্ত-মাংসের শরীর রয়েছে। এরও যত্নের প্রয়োজন ভুলেই গিয়েছিলাম। সংসারের কাজ করতে করতে সারা শরীরে কালি লেগে যেতো।’

উজ্জ্বলা আমার চিন্তার শক্তি বাড়িয়েছে। আমি কখনো ভাবিনি আজকের অবস্থায় আসতে পারবো। এখন আমি ১০ জন মানুষের সামনে সাহস নিয়ে কথা বলতে পারি। নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করি। কীভাবে মনোবল বাড়ানো যায়, ব্যবসায় সফল হওয়া যায় উজ্জ্বলার কাজ থেকে শিখেছি। আর তাই নিজেকে একজন উজ্জ্বলা মনে করি- জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে আফিয়া বলেন, ‘ আমার মাধ্যমে উজ্জ্বলা রংপুরে শাখা শুরু করুক, এটা খুব চাই। উজ্জ্বলার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছাটা খুব তীব্র আমার। পাশাপাশি নিজের স্যালনকে আরো শক্তিশালী করে ১০ জনকে সাহায্য করতে চাই।’

নিজেকে স্বাবলম্বী দেখতে চেয়েছি

উজ্জ্বলা লিমিটেড, বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নারীকে যোগ্য করে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব খুঁটিনাটি শেখানো হয় এখানে। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজনের আজ রইল ৫ম পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাশ্বতী মাথিন।

পর্ব – ৫
খুব রক্ষণশীল এক পরিবারে জন্ম মেয়েটির। সহজে ঘরের বাইরে বের হতে দিতো না। কলেজে গেলে বড় ভাই বাইকে করে নিয়ে যেতো। বাড়ির ছোট হওয়ায় এতো আদরে ছিলো যে বড় বোন প্রায় সব কাজ করে দিতো তার। তবে একটা সময় মনে হলো পরনির্ভশীল হয়ে যাচ্ছে সে, নিজের কোনো স্বাধীনতা, স্বকীয়তা নেই। আর তখন থেকেই লুকিয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন কোর্স করা। এভাবেই হার্বালিজম, বিউটিফিকেশনের সম্পূর্ণ কোর্সের উপর ডিপ্লোমা করে। কথা বলছি সাদিয়া ইসলামের। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি হিসেবে। সাদিয়া ইসলামের মুুখেই জানি তার গল্প।

উজ্জ্বলার কাছ থেকে দায়িত্ববোধ শিখেছি

উজ্জ্বলার সন্ধান পাই অনলাইনে। স্কিল ডেভলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন কোর্স করছিলাম। উজ্জ্বলার কাউন্সেলিং টিম মেম্বার হিসেবে জয়েন্ট করি। এরপর এখানকার বিউটি এক্সপার্ট কোর্সে ক্লাস শুরু করি। বর্তমানে উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি হয়ে সাত থেকে আটটি ক্লার্স করাচ্ছি।

উজ্জ্বলার সহপ্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন আপা বলেছিলেন, ‘তোমাকে কিছু করতে হবে না। কেবল অন্যের চোখে স্বপ্ন বুনে দেবে। সেটা সে নিজেই এগিয়ে নিয়ে যাবে’। এখানে এসে দায়িত্ববোধ শিখেছি।

ছোটবেলায় আমার কোনো অ্যাম্বিশন ছিলো না। বাড়ির ছোট ছিলাম। সবার খুব আদরের। তবে আমাদের পরিবার একটু রক্ষণশীল। একটা সময়ে মনে হলো স্বাধীনভাবে কিছু করার তৃপ্তি নেই জীবনে। তখন ধীরে ধীরে লুকিয়ে লুকিয়ে বিভিন্ন কোর্স করা শুরু করি। উজ্জ্বলাতে যখন যোগ দিই মা কে নিয়ে এসে দেখিয়েছিলাম পরিবেশটা। মায়ের পছন্দ হয়। এখন তারা খুশি হয় আমি কাজ করলে।

মাসে লাখ খানেক টাকা আয় হয়
আমি হার্বাল প্রোডাক্ট তৈরি করি। ত্বক অনুযায়ী ক্রিম, পাউডার, সাবান ইত্যাদি বানাই। ছোট একটি কারখানা রয়েছে। মাসে প্রায় লাখ খানেক টাকা আয় হয়।

নিজেকে স্বাবলম্বী করে আরো ১০ জনকেও গড়ে দিতে চাই

উজ্জ্বলা আমাকে সঠিক দিক নির্দেশনা নির্ধারণ করে নিজেকে চলতে শিখিয়েছে। নিজের দায়িত্ব কীভাবে নিতে হয়, প্রতিটি অবস্থা কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় সেই যোগ্যতা তৈরি করে দিয়েছে উজ্জ্বলা। আমি নিজে স্বাবলম্বী হয়ে একজন উজ্জ্বলা হয়ে উঠেছি। এভাবেই কাজ করে যেতে চাই। নিজেকে স্বাবলম্বী করে আরো ১০ জনকেও গড়ে দিতে চাই।

গরমে উৎসবের পোশাক হোক আরামদায়ক

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বৈশাখ ও ঈদ- দুটো বড় উৎসব সামনে। উৎসবকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে গেছে পোশাক কেনার ধুম। তবে যেহেতু গরমকাল তাই পোশাক নির্বাচনে একটু সতর্ক হতে হবে। আর গরমকে মাথায় রেখেই এবারের পোশাকগুলো তৈরি করেছে ফ্যাশন হাউজগুলো।

যেকোনো উৎসবের জন্য পোশাক তৈরি করার সময় তখনকার ঋতুকে মাথায় রাখা হয়। এবারও কাপড়গুলো বেছেছি এভাবে যে পরলে আরাম পাওয়া যাবে। সুতি, সিল্ক ইত্যাদি কাপড় ব্যবহার হয়েছে বেশি। রংগুলোও এমনভাবে নির্বাচন হয়েছে যা চোখকে প্রশান্তি দেবে- জানান ফ্যাশন হাউজ দেশালের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইশরাত জাহান।

এবারের বৈশাখের পোশাকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বৈশাখ এবার পড়ছে রোজার উপর। প্রতি বছরের তুলনায় এবার একটু ছোট করে আয়োজন করেছি। মোটিভ বেজ কাজ করা হয়েছে। সাদা-অফহোয়াট অথবা কমলা-অফ হোয়াইট ইত্যাদি রঙের মিশ্রণ রয়েছে পোশাকে। মোটিভের মধ্যে মাটির পুতুল, ঘোরা, হাতি অর্থাৎ লোকো শিল্পের যে মোটিভ তাই ব্যবহার করা হয়েছে। রঙিন শাড়ি করেছি। এর সঙ্গে অফ হোয়াইটের মিশ্রণ রয়েছে।’

ঈদের আয়োজন বেশ বড় করে করা হয়েছে। থ্রি পিস, কুর্তি, সিংগেল কামিজ, পায়জামা, শাড়ি ইত্যাদি থাকছে। ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, হাফ শার্ট। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ আলাদা করে থাকছে। অনেক ধরনের জামদানি শাড়ি হচ্ছে। ১৬০০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ পর্যন্ত দাম- জানান তিনি।

হঠাৎ পায়ের গোড়ালি ব্যথা : কেন হয়, করণীয়

ডা. মো. ফরিদ রায়হান
সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা ফেলতে গেছেন, হঠাৎ গোড়ালির তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলেন। মনে হচ্ছে যেন কাঁটা বিঁধেছে পায়ে। অনেকেই এ ধরনের ব্যথায় ভোগেন। কেন হয় এই ব্যথা, কাদের হয় এবং করণীয় কী? এই নিয়েই আজকে পাঠকদের জানাবো।

কারণ
১. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের ব্যথার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই।
২. তবে দুটি অসুখের কারণে প্রায়শই পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। সেগুলো হলো : ক্যালকেনিয়ান স্পার ও প্লান্টার ফ্যাসাইটিস।
৩. হাঁটতে গিয়ে বা দৌড়াতে গিয়ে বা কোনো কারণে হঠাৎ ব্যথা লেগে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে।

কাদের বেশি হয়
১. উচ্চতার তুলনায় ওজন বেশি থাকলে
২. যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন
৩. মেয়েদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়

করণীয়
১. নরম স্যান্ডেল ব্যবহার করুন
২.আপনার গোড়ালিকে পায়ের আঙ্গুলের থেকে কিছুটা উঁচুতে রাখবে এমন জুতা পরুন।
৩. আক্রান্ত স্থানে গরম স্যাঁক দিতে পারেন।
৪. ব্যথা কমানোর জন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে
৫. প্রয়োজনে আপনাকে ফিজিওথেরাপি নিতে হতে পারে।

কিছু নিয়ম মেনে চলুন

১. ওজন কমান; পায়ের যেকোনো ব্যথা কমাতে এটি কার্যকর।
২. উঁচু হিলের ও শক্ত সোলের জুতা পরিহার করুন।
৩.হিল কুশন ,ব্যাক সাপোর্ট ,হিল সিলিকন কুশন ব্যবহার করুন।
৪. নরম মোটা সেন্ডেল বাসায় এবং বাহিরে নিচু বা মাঝারি হিলের জুতা ব্যবহার করুন।
৫.পায়ের কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়াম শিখে নিন।
৬ .পায়ের পাতার নিচে ও গোড়ালির নিচে দিনে তিন-চারবার আইস প্যাক ব্যবহার করলে আরাম পাবেন ।একটি বরফের দোলা বা ডিপ ফ্রিজে রাখা একটি বোতল পায়ের নিচে বারবার রোল করতে পারেন।

সাধারণত এসব চিকিৎসা ও ব্যথানাশক এ ফল না হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক : নিউরো ও স্পাইনাল সার্জন
কনসালট্যান্ট, নিউরোসার্জারি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.