Sunday, September 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 122

একজন মিতা হক

শ্রাবণী সাহা
মিতা হক, কারো ‘মিতা আপা’, কারো ‘মিতা খালা’, কারো ‘মিতা মাসিমা’ বা ‘মিতা পিসী’। মানুষকে কাছে টেনে নেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তাঁর। ‘মিতা আপা আমাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে’- এই অনুভুতি বোধকরি তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন এমন সকলের।

তিনি ছিলেন আমার সংগীত গুরু। তাঁকে কেবল একজন শিক্ষক বললে কম বলা হবে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পারার এক অসাধারণ যোগ্যতা ছিলো তাঁর। আর এই গুণই তাকে অন্য দশজন থেকে আলাদা করেছে।

মিতা হকের জন্ম হয় ১৯৬২ সালে। বাংলাদেশে রবীন্দ্র সংগীত চর্চার প্রচার ও প্রসারে যে কজন মানুষ অগ্রণী, তাঁদের মধ্যে তিনি অনন্য। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সর্বোচ্চ গ্রেডের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। একক ভাবে ২৪টি অ্যালবাম মুক্তি পায় তাঁর। ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক পান। সঙ্গীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালে তাকে একুশে পদক দেয়। তিনি সুরতীর্থ নামে একটি সংগীত প্রতিষ্ঠান রেখে গেছেন।

একজন শিল্পীর সামাজিক দায়বদ্ধতা যে অনেক তা তাঁর কাজে, গানে, বক্তব্যে সবসময় প্রকাশিত হয়েছে। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে পারার সাহস তাঁর চরিত্রের এক অন্যতম বৈশিষ্ট ছিলো। এই গুণী মানুষটি আজীবন দেশপ্রেমের দীক্ষায় দীক্ষিত ছিলেন। কেবল তাই নয়, তিনি এই প্রেমে দীক্ষিত করেছেন তাঁর শিষ্য, পরবর্তী প্রজন্মকেও। তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ একজন মানুষ। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঝড় ঝাপটাকে সঙ্গী করে আমৃত্যু দেশের সকল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সর্বাগ্রে থেকেছেন। রবীন্দ্রনাথের গানকে সঙ্গী করে আমাদের সংস্কৃতি চর্চাকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে ঘুরেছেন দেশের আনাচে কানাচে।

১১ এপ্রিল ছিলো মিতা হকের প্রথম প্রয়ান দিবস। দিবসটিতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি। তাঁর জীবন আমাদের কাছে অণুস্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন।

লেখক : শিক্ষক, সুরতীর্থ।

৩ বিষয়, স্বামীকে কখনোই বলবেন না

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
সংসার সুুখের থাকে আস্থা, ভালোবাসা আর বোঝাপোড়ায়। তবে দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকতে গেলে মাঝে মাঝে ঝগড়া,মনোমালিন্য হতেই পারে। এর তীব্রতা বাড়লেই ঘটে বিপত্তি। ঝগড়ার সময় কিছু কথা অবস্থার অবনতি ঘটাতে পারে। আর এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা ঝগড়ার সময় স্বামীকে না বলাই ভালো। এ ধরনের কিছু বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছে ফ্যামিলি টুডে।

১. ‘কাজটা এভাবে করো’
এ ধরনের কথা স্বামীকে কখনোই বলতে যাবেন না। এ ধরনের কথা তার আত্মসম্মানে আঘাত করতে পারে। তাকে বলুন, ‘তোমার জন্য আমার একটি পরামর্শ আছে’।

২. ‘আমার আগের প্রেমিক এভাবে করতো’
হয়তো আপনাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া চলছে। দুজনেরই রাগ তুঙ্গে। এই সময় আপনি বলে বসলেন আপনার সাবেক প্রেমিক আপনার জন্য এটা/ ওটা করেছিলো। পরিবেশটা কত গরম হয়ে উঠবে ভাবতেই পারছেন! ঝগড়া এড়াতে এ ধরনের কথাও এড়িয়ে যান। আখেরে আপনারই লাভ।

৩. ‘যদি সত্যি ভালোবাসো, তাহলে এটা করো’
না, এ ধরনের কথা কখনোই তাকে বলতে যাবেন না। প্রত্যেকটা মানুষেরই একটি আলাদা সত্তা, ব্যক্তিত্ব থাকে। বার বার ব্যক্তিত্বে আঘাত দিলে মানুষটিকে হয়তো চিরতরে হারিয়েই যাবে আপনার জীবন থেকে।

রোজায় ওজন কমাতে ৪ পরামর্শ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
মুসলমানদের জন্য রমজান অত্যন্ত পবিত্র একটি মাস। এ মাসে ইবাদত-বন্দেগী ও রোজা রাখার মধ্য দিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতে চায় ধর্মপ্রেমীরা।

রোজার সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। চিকিৎসকরা বলেন, খুব ভারী খাবার খেয়ে রোজা ভাঙা ঠিক নয়। অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ বিরতির পর ভারী খাবার খেলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি রোজার সময় বেশি ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত খাবার খাওয়া ওজনও বাড়িয়ে দেয়। সেহরি ও ইফতারে কিছু বিষয়ে সতর্ক হলে খুব ভালোভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

মিষ্টি জাতীয় খাবার
সারাদিন রোজা রাখার পর চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে দেহে শক্তি বাড়ে। তবে চিনির মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ক্যালরি। এতে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই ইফতারের সময় অবশ্যই চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খান, তবে পরিমাণমতো।

ভাজাপোড়া খাবার নয়
রোজার সময় পেঁয়াজু, বেগুণী, আলুর চপ ইত্যাদি ভাজাপোড়া খাবার না হলে অনেকের যেন চলেই না। এসব খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া অস্বাস্থকর তো বটেই, ওজনও বাড়িয়ে দেয়। তাই এ ধরনের খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর, ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।

ধীরে খান
সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় হুলুস্থূল করে খাবার খাবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ধীরে ধীরে, উপভোগ করে খাবার খান। দ্রুত খেলে মস্তিস্ক বুঝতে পারে না যে খাওয়া হচ্ছে। এতে প্রচুর খেয়ে ফেলা হয়। ধীরে খেলে মস্তিষ্ক পেট ভরার একটি তৃপ্তি অনুভব করে এবং খাওয়াও কম হয়।

ব্যায়াম করুন
রোজা রেখে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো। তবে সহজ কিছু ব্যায়াম এ সময় মেদ ঝড়াতে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে ইফতারের পর একটু হেঁটেও আসতে পারেন।

সকালের নাস্তায় অবশ্যই রাখুন ৩ খাবার

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
সারাদিনের খাবারের মধ্যে সকালের নাস্তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিনে আপনি কতটা কর্মক্ষম থাকতে পারবেন, তা নির্ভর করে নাস্তার উপর। কিছু উপকারী খাবার রয়েছে যেগুলো সকালে খেলে শরীর বেশি শক্তি পায়। এ ধরনের কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে ইউরিজয়ডটকম।

১. মধু
মধু মস্তিষ্কের কার্যক্রম ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং সেরোটোনিন হরমোনের উৎপাদন বাড়ায়। এই হরমোনের বৃদ্ধি মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। সকালে এক গ্লাস গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

২. ডিম
ডিমে রয়েছে প্রোটিন। রয়েছে ভিটামিন বি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে। এ ছাড়াও ডিমে আরো পুষ্টিগুণ রয়েছে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রাকে ঠিকঠাক রাখে; হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং দেহের দৈনিক ক্যালোরির চাহিদার অনেকটাই পূরণ করে।

৩. বাদাম
সকালের নাস্তায় বাদাম খেলে পাকস্থলীর পিএইচয়ের মাত্রা ভালো থাকে; হজম ভালো হয়। বাদামের মধ্যে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন ই। প্রতিদিন একমুঠো বাদাম খাওয়া শরীরের শক্তি বাড়াতে কার্যকর।

গরমে ডাবের পানি পান করলে কী হয়?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য একগ্লাস ডাবের পানি পানের বিকল্প নেই। এটি যেমন তৃষ্ণা মেটায়, তেমনি গরমে দেহকে সতেজ রাখে।

এই পানিটির মধ্য রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি, নায়াসিন, থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন ও প্যানথোয়েটিক এসিড। আরো রয়েছে বিভিন্ন মিনারেল। যেমন : ক্যালসিয়াম, জিংক, সেলিনিয়াম, আয়োডিন, সালফার ও ম্যাঙ্গানিজ। এ ছাড়াও এতে পাওয়া যায় উচ্চ মাত্রার প্রাকৃতিক লবণ ও ইলেকট্রোলাইট (যেমন : পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি)। গরমে ডাবের পানি পানের উপকারিতার কথা জানিয়েছে গ্যাটাটোজডটকম।

পানিশূন্যতা কমায়
গরমে অনেকেই পানিশূন্যতায় ভোগে। এ থেকে হিট স্ট্রোক, ঝিমুনিভাব, অবসাদ ইত্যাদি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এ সময় এক গ্লাস ডাবের পানি এ সমস্যা কমিয়ে দেহে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

হজমে উপকারী
ডাবের পানিতে আঁশ রয়েছে। আঁশ গরমের সময় হজম ব্যবস্থা ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফোলাভাব, পেট মোচড়ানো ইত্যাদি সমস্যা কমাতেও ডাবের পানির জুড়ি নেই।

ত্বকের জন্য ভালো
ডাবের পানির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভালো রাখতে উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গরমে ফ্রি র্যাডিক্যাল ও সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুণী রশ্মী থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। নিয়মিত ডাবের পানি পানে ত্বক ও চুল ভালো থাকে।

পেশিতে খিঁচুনি
গরমে অনেকেরই পেশিতে খিঁচুনির সমস্যা বাড়ে। গরমে অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রমের কারণে অনেক সময় এই সমস্যা হয়। দেহে তরল ও মিনারেলের ঘাটতির কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। পেশিতে খিঁচুনি এড়াতে গরমের সময় ডাবের পানি হতে পারে উৎকৃষ্ট সমাধান।

গরমে ত্বকের যত্নে জরুরি ৬ বিষয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

গরম পড়তে শুরু করেছে ভালোভাবেই। এ সময় আবহাওয়া উষ্ণ হয়, আর আর্দ্রতা বাড়তে থাকে। এ ধরনের আবহাওয়ায় ত্বকের সিবাসিয়াস গ্রন্থি বাড়তি সিবাম ( প্রাকৃতিক তেল) তৈরি করে। অতিরিক্ত এই তেল ত্বকে চিটচিটে ভাব আনে, পোরগুলোকে বন্ধ করে দেয়। এ জন্য গরমের সময় ত্বকে বাড়তি যত্ন জরুরি।

গরমে ত্বক ভালো রাখার কিছু উপায় বাতলেছে স্কিনক্রাফট। আসুন জানি।

১. বাড়তি তেল দূর করতে মুখ ধোন
গরমে তৈলাক্ত ত্বক বেশি তেল তৈরি করে। তৈলাক্তভাব দূর করতে দিনে অন্তত তিন থেকে চার বার মুখ ধোন। যাদের ত্বক শুষ্ক তারা ফোমহীন ক্লিনজার ব্যবহার করুন।

২. ত্বকের যত্নে রুটিন তৈরি

ত্বকের যত্নে একটি ভালো রুটিন তৈরি করুন এবং এটি মেনে চলুন। প্রতিদিন ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করুন, টোনার লাগান ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যোগ করুন
ত্বককে তারুণ্যদ্বীপ্ত রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুব ভালো সমাধান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেতে খাদ্যতালিকায় রাখুন গ্রিন টি, লেবু, কমলা, মাল্টা ইত্যাদি।

৪. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান
ত্বক সুস্থ রাখতে পানি পানের বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত আট থেকে ১০ গ্লাস পানি পান ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

৫. সানস্ক্রিন ব্যবহার
গরমে সূর্যের অতিবেগুণী রশ্মীর কারণে ত্বকে পোড়াভাব তৈরি হয়। তাই বাইরে গেলে সানক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। পাশাপাশি এ সময়টায় ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলুন।

৬. সবজি ও ফল
শীত হোক অথবা গ্রীষ্ম ত্বক ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় প্রচুর সবজি ও ফল রাখুন। পাশাপাশি রাখতে পারেন ডাবের পানি। এতেও ত্বক সুন্দর থাকবে।

ইফতারে ভারী খাবার, বাড়াতে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

শাশ্বতী মাথিন
সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে অনেকেই বেশ ভারী খাবার খেয়ে ফেলেন। অনেকে তো খাবারের তালিকায় রাখেন, কাবাব, বিরিয়ানী, রোস্ট, ভাজাপোড়ার মতো গুরুপাক খাবার। তবে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর এসব শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে।

এ সম্পর্কে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে একসঙ্গে অনেক গুরুপাক খাবার খাওয়ার কারণে হার্টে রক্তসঞ্চালন কমে যায়। শরীরের বেশিরভাগ রক্ত পাকস্থলীতে সঞ্চালিত হয়। তখন বেশি খাবার হজমের জন্য বাড়তি রক্ত পরিসঞ্চালনের প্রয়োজন পড়ে। এতে হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন কমে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়াও প্যাপটিক আলসার, ডায়াবেটিস, এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকিও হতে পারে।

ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবার কেমন হবে? এর উত্তরে ডা. গুলজার বলেন, ‘সময় নিয়ে অল্প অল্প করে সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে। ইফতারে ভারী খাবার খাওয়া যাবে না। ইফতার হবে পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার দিয়ে। যেমন : পর্যাপ্ত পরিমাণ শরবত, পানি, রসালো ফল, চিড়া, দই, মুড়ি খেঁজুর ইত্যাদি। ছোলাও ইফতারি হিসেবে ভালো। ইফতারের সময় পেঁয়াজু, বেগুণীসহ যেকোনো তেলে ভাজা, গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলতে হবে বলে পরামর্শ তাঁর।

অফিসের টয়লেট ব্যবহার, খেয়াল রাখুন এসব বিষয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
করোনার সংকট মোকাবিলা করে মানুষ এখন ফিরেছে রোজকার কর্মব্যস্ত জীবনে। অনেক চাকরীজীবীর আট থেকে নয় ঘণ্টার অফিস শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে। তবে অফিসে গেলে বা বাইরে বের হলে যে বিষয়গুলোর প্রতি সচেতন থাকা জরুরি তা হলো টয়লেট ব্যবহার। এসব জায়গার টয়লেটগুলো সাধারণত অনেকে ব্যবহারের কারণে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। এ থেকে হতে পারে মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ, ত্বকের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতা। অফিসের টয়লেট ব্যবহারের কিছু নিয়ম জানিয়েছে হাফিংটনপোস্ট।

# কমোড ব্যবহারের আগে জীবাণুনাশক স্প্রে ছড়ান। এরপর ফ্লাস করে ব্যবহার করুন। এতে জীবাণু মরে যাবে।

# প্রাকৃতিক কাজ শেষের পর অবশ্যই হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন অথবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

# ব্যাগ বা ব্যবহারের জিনিস টয়লেটের মেঝেতে না রেখে কোনো উঁচু স্থানে রাখুন।

# টয়লেটের কল, ফ্ল্যাস, দরজার হাতল ইত্যাদি ব্যবহার সময় টিস্যু ব্যবহার করুন। এতে সংক্রমণ এড়ানো যাবে।

# হাই কোমড ব্যবহার শেষে অবশ্যই টিস্যু দিয়ে মুছে দিন; অন্যদের ব্যবহারে স্বস্তি হবে।

ধ্যান আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে : সোনিয়া খান

উজ্জ্বলা লিমিটেড, বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নারীকে যোগ্য করে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব খুঁটিনাটি শেখানো হয় এখানে। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজনের আজ রইল ৪র্থ পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাশ্বতী মাথিন।

পর্ব ৪ : সোনিয়া খান

ছোটবেলা থেকেইে মেয়েটি চেয়েছিলো স্বনামধন্য হবে। হাউজ ওয়াইফ হয়ে জীবন পার করে দিবে না। নিজে কিছু করে সমাজে শক্তভাবে জায়গা করে নেবে। আর সেই লক্ষ্যেই কাজ করা। বিউটিফিকেশনের উপর বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন নিজেই শেখাচ্ছে অন্য শিক্ষার্থীদের। উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে কাজ করছে ২০২০ সাল থেকে। এ পর্যন্ত তার হাত ধরে বের হয়েছে শত শত শিক্ষার্থী। তৈরি করেছে নিজের বিউটি স্টুডিও। যার কথা বলছি, তিনি সোনিয়া খান। নিজের জীবনযুদ্ধ ও পথচলার কথা জানি তার মুখ থেকে।

পুরুষের আধপিত্তশীল চরিত্র নিতে পারতাম না
ছােটবলোয় ইচ্ছা ছিলো ফ্যাশন ডিজাইনার হবাে। বাসায় জানানাের পর বলল, ‘ডিজাইনার (নকশা) তাে ভালাে লাগে, তবে ফ্যাশন শুনলইে তাে আর ভালাে লাগে না।’ আমি একজনকে পছন্দ করতাম। বাসা থেকে রাজি ছিলো না তার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য। পরে আমরা নিজেরাই বিয়ে করি। দুই বছর বাবা কােনাে যােগাযােগ করেননি। পরে সন্তান হওয়ার পর যােগাযােগ করে।

সংসাররে শুরুতে স্বামীর আয় কম ছিলো। তখন মনে হলাে নিজেকে সাহায্যরে জন্য কছিু করি। কিছু জায়গায় মনে হয়েছে আমি অসহায়। আয় করা দরকার। তখন এলাকার একটি র্পালারে কাজ শিখি। কাজ শেখার পর পার্লার দিতে চাইলাম। বাপরে বাড়ি, শ্বশুর বাড়ি সব জায়গা থেকে মানা করলাে। এটা তাদের কাছে অনকে ছােট ব্যবসা। তবে সম্মতি দিলেন আমার শ্বশুর। তিনি আমাকে পার্লার খুলতে সাহায্য করলেন। ২০০৭ সালে আমি প্রথম মা হই। ২০০৮ সালের জুনে প্রথম পার্লার দিই। সবসময় ভেতরে একটি ইচ্ছে ছিলো স্বনামে প্রতষ্ঠিতি হবাে। হাউজ ওয়াইফ হয়ে জীবন পার করে দেবো না। ছােটবেলা থকেইে আমি পুরুষের ডমিনেটিং (আধপিত্তশীল) চরিত্র নিতে পারতাম না। পার্লারের পাশাপাশি কাপড়ের ব্যবসা করি। ব্লক, অ্যামব্রয়ডারি করে বিক্রি করতাম। ২০১০ সালে আমি আবার গর্ভধারণ করি। তখন পার্লারে কম যেতাম। পার্লারের মেয়েরা ঠিকমতো কাজ করতো না। আমার স্বামী বলতো, ‘সংসারের দিকে মনোযোগ দাও। চাকরি করো, ব্যবসা ছেড়ে।’ কিন্তু আমি তাদের বোঝাতে পারতাম না যে নিজের ব্যবসা করে পরিবারকে আমার সুবিধামতো সময় দিতে পারি। এটা চাকরি করে সম্ভব নয়।

২০১১ সালে আমার বাবা মারা যান। এটা ছিলো আমার জন্য একটি বড় আঘাত। মা-ও খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। মায়ের অসুস্থতা, সন্তান মানুষ করা, আমার লেখা-পড়া মিলিয়ে পার্লার চালাতে বেশ কষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো। মনে হচ্ছিল পার্লারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তখন সাময়িকভাবে পার্লার বন্ধ করে দিই। আসলে আমি এমন একটা মেয়ে যে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই চায়। আর প্রয়োজন পড়লেই চায়। নিজের হাত খরচের জন্য অন্যের কাছে টাকা চাইতে অস্বস্তি লাগতো। পার্লার চালিয়ে আয় হওয়ার পর সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে একটা ভীষণ শূন্যতা তৈরি হলো।

‘মৃত্যু আসলেও তাকে থামিয়ে দিয়ে লেখা-পড়া করতে হবে’
এর মধ্যে লেখাপড়া চালিয়ে যাই। সংসারের ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার চাপে পড়ে একটা সময় মনে হয়েছিলো পড়া বন্ধ করে দিবো। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান আমাদের আত্মীয় ছিলেন। তখন তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘মৃত্যু আসলেও তাকে থামিয়ে দিয়ে লেখা-পড়া করতে হবে। লেখা-পড়া থামানো যাবে না।’ তিনি আমাকে এই ক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করেন।

এর মধ্যে আবার ফ্যাশন জিজাইনিংয়ে ভর্তি হই। ছোটবেলার স্বপ্নকে পূরণ করতে চাই। পাশাপাশি আরো অভিজ্ঞ হওয়ার জন্য বিউটিফিকেশনের উপর বিভিন্ন কোর্স করতে থাকি। এ সময় পরিচিত হই উজ্জ্বলার সহপ্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন আপার সঙ্গে। তাঁকে বলি, আরো শিখতে চাই। তিনি জানান উজ্জ্বলা নামে একটি প্রতিষ্ঠান আসছে যেখানে বিউটিফিকেশনের উপর পেশাদারভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলাম আমি। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিউটি আর্টিস্টদেও কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে থাকি। ২০১৫ সালে আবার নতুন করে পার্লার দিই।

একটা সময় ছিলো সারাদিন কাঁদতাম
পারিবারিক ভীষণ সমস্যা ছিলো আমার। একটা সময় ছিলো মনে হতো পাগল হয়ে যাবো। সারাদিন কাঁদাতাম। একদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কেঁদেছি। এরপর ভাবলাম যথেষ্ট হয়েছে। ইউটিউব ছেড়ে ধ্যান করলাম। ধীরে ধীরে ধ্যান বা মেডিটেশন করার প্রতি আগ্রহ তৈরি হলো। এটি আমাকে অনেক প্রশান্তি দেয়। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থেকে মেডিটেশনের কোর্স করি।

উজ্জ্বলা আমাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে
২০১৯ এর শেষের দিকে যখন কোভিড আসে পার্লার বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। খুব বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলাম। তখন উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি হিসেবে যোগ দিই। উজ্জ্বলা সে সেময় আমাকে অর্থনৈতিভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। উজ্জ্বলার ব্রাইডাল মেকআপ, হেয়ার কাট, নেইল এক্সটেনশন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ছয় থেকে সাতটি কোর্সের ক্লাস করাই আমি। প্রতিষ্ঠানটি আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নিজে স্বাবলম্বী হতে হয়, পাশাপাশি আর ১০ জন মানুষকে সাহায্য করতে হয়। আমি সেটি করতে পারছি। এ ক্ষেত্রে নিজেকে একজন ‘উজ্জ্বলা’ মনে করি।

ভবিষ্যতে ইচ্ছে রয়েছে একটি সৃজনশীল স্কুল তৈরির। এখানে সৃজনশীল সব বিষয়ে পাঠদান করা হবে। পাশাপাশি চাই বাংলাদেশের অন্যতম একজন বিউটি আর্টিস্ট হতে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

রোজায় মুখে দুর্গন্ধ? দূর করার ৫ উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
রোজায় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়। এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ পানি পান না করাও মুখে দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ। রোজায় এ সমস্যা দূর করতে কিছু উপায় জানিয়েছে ইজিপ্ট টুডে। আসুন জানি-

১. সেহরির পর ভালো করে মুখ ধোন।

২. ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।

৩. কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন খেলে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। মুখে দুর্গন্ধের সমস্যা বেশি হলে এ ধরনের খাবার খাওয়া এড়িয়ে যান।

৪. খাবার খাওয়ার পর মেশওয়াক, মাউথ ওয়াশ ইত্যাদি দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করুন।

৫. দুই চা চামচ লেবুর রসে বেকিং সোডা ও লবণ মেশান। এবার কুলকুচি করুন। এতে মুখের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর হবে।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.