Monday, September 28, 2026
spot_img
Home Blog Page 106

গলা ব্যথায় ভুগছেন? মশলা চা-এ মিলবে সমাধান

সাতকাহন২৪.কম

শীতে গলাব্যথা বা ঠান্ডা-কাশিতে ভোগে না, এমন কাউকে হয়তো খুঁজে পাওয়া মুশকিল। গলাব্যথা এক ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক অবস্থার নাম। সমস্যা কমাতে ঘরোয়া উপায় হিসেবে মশলা চা কিন্তু বেশ উপকারী।

সাধারণত এ ধরনের চা তৈরি হয়, আদা, লবঙ্গ, গোল মরিচ, দারুচিনি, এলাচ দিয়ে। এসব মশলায় রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। মশলা চা খুব দ্রুত গলাব্যথা কমাতে সাহায্য করে। গলাব্যথা কমাতে মশলা চা-এর রেসিপি জানিয়েছে গোল্ডেন টিপস ডট কম।

উপকরণ
এলাচ- ২টি
লবঙ্গ- ৩ থেকে ৪টি
দারুচিনি- ২টি
কালো গোল মরিচ- ৫ থেকে ৬টি
আদা- ১ ইঞ্চি পরিমাণ
চা-১ চা চামচ

যেভাবে তৈরি করবেন
চায়ের পাতা ছাড়া সব উপাদান ভালো করে ধুয়ে পাঁচ মিনিট সিদ্ধ করুন। এবার এর মধ্যে চা পাতা ছেড়ে দিন। আরো ২ থেকে ৩ মিনিট অল্প আঁচে জ্বাল দিন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে পরিবেশন করুন মশলা চা। যারা চিনি খেতে পছন্দ করেন তারা সামান্য চিনিও যোগ করতে পারেন।

গলাব্যথা থাকলে এই চা এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর একটু একটু করে পান করুন। স্বাস্তি পাবেন।

শীতে ত্বক সজীব রাখবে যেসব খাবার

ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন

শীত মানেই ত্বক শুষ্ক, রূক্ষ্ম হয়ে যাওয়া। শীতের সময় ত্বক ভালো রাখতে বাড়তি যত্ন জরুরি। তবে যত্নের পাশাপাশি খাবারের প্রতিও মনোযোগী হতে হবে। কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো খেলে শীতে আপনার ত্বক সুস্থ, সুন্দর ও সজীব থাকবে। এমন কিছু খাবারের কথাই জানানো হলো :

# কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো এই সময়ে ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে কাজ করে। যেমন : মাছ, ডিম, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, অলিভ ওয়েল, বাদাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ইত্যাদি।

# ভিটামিন সি যুক্ত খাবার ত্বককে কোমল রাখে , শরীর ডিটক্স করতে সাহায্য করে। যেমন: কমলা, মালটা, বাতাবি লেবু ইত্যাদি।

# ত্বকের রুক্ষতা এড়াতে নারকেল, নারকেলের দুধ ও তেল খেতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য নারকেল মিরাকল ফুড হিসেবে পরিচিত।

লেখক
প্রধান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ
শিওরসেল মেডিকেল বিডি

সারাক্ষণ কি ক্লান্ত লাগে? কেন হয় এমন?

ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু

দীর্ঘমেয়াদী অবসাদবোধ কাজ করা বা ক্লান্ত লাগা এমন একটি অবস্থা যেখানে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও ক্লান্তি দূর হয় না, মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের কারণে এটি আরো জটিল হয়ে উঠে এবং এর কারণে স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। অনেকে এটাকে বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেসন বলে মনে করে। এটা বিষণ্ণতা নয়। দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের কারণে এটি বিষণ্ণতা রূপ নেয়।

সাধারণ এ রোগে আক্রান্তরা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধাগ্রস্ত হয়, কমে যায় উৎপাদন। এতে তারা হতাশায় আক্রান্ত হয়। ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেয় সমাজ থেকে। বিষণ্ণতা এ সময় জড়িয়ে নেয় তাদের। হতাশা-বিষণ্ণতার বলি হয় অনেকেই।

দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি বা অবসাদের নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে গবেষকরা বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ চিহ্ণিত করেছেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- আয়রণ ঘাটতিতে রক্তস্বল্পতা, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কম থাকা, অ্যালার্জি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিকমত কাজ না করা, সিস্টেমিক ইনফেকন, হাইপোথ্যালামাস-পিটুইটারি-অ্যাড্রেনাল ডিসফাংশন, রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা, পুষ্টিঘাটতি ইত্যাদি। তবে মনে করা হয় বেশ কিছু কারণে এ রোগটি প্রকাশ পায়। এর মধ্যে সংক্রমণ অন্যতম। এ ছাড়া মানসিক চাপ, বংশগতি, পারিপাশ্বিক পরিবেশ, বয়সও জড়িত।

লেখক : রেজিস্ট্রার, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইন্স

শীতে ঘাড়ে ব্যথা? প্রতিরোধের রয়েছে উপায়

ডা. মো. ফরিদ রায়হান

সকালে ঘুম থেকে উঠেছেন। হঠাৎই খেয়াল করলেন ঘাড়ে ব্যথা করছে। ব্যথাটা এতোই তীব্র যে নড়তে পারছেন না। শীতে অনেকেই এই সমস্যায় ভোগে।

সাধারণত শীতে আলসেমির জন্য কায়িক পরিশ্রম কম করা হয়। এ কারণে পেশিতে আড়ষ্ঠতা আসে। এ থেকে ঘাড়ে ব্যথা করতে পারে। আবার রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিসের রোগীদের অনেক সময় শীতে এই সমস্যা হতে দেখা যায়। গোসলের সময় ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলেও ঘাড় ব্যথা হতে পারে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে ঘাড় ব্যথা হয়। কম বয়সীদের সাধারণত মাসকুলোসকেলেটাল পেইনের কারণে এ সমস্যা দেখা যায়। কোনো ভারী জিনিস তোলা, অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গিতে ঘুমানো, দুর্ঘটনার কারণে ঘাড় ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ভারী স্কুলের ব্যাগ বহনের কারণেও ঘাড় ব্যথা হয়।

তবে চল্লিশোর্ব্ধ মানুষ এ সমস্যায় বেশি ভোগে। এ সময় মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষয় হয়ে ক্যালসিয়াম জমে কাঁটার মতো বাড়তে থাকে। একে স্পোন্ডালাইসিস বলা হয়। এতে স্নায়ু রজ্জুতে চাপ পড়ে। ঘাড়ে ব্যথা হাতে চলে গিয়ে হাত-পা অবশের মতো লাগতে পারে। এ থেকে অনেক সময় প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। সার্ভাইক্যাল ডিস্ক প্রোলাপস, স্পাইনাল টিবি, স্পাইনাল ফ্র্যাকচার ইত্যাদি ঘাড় ব্যথার জটিল কারণ।

প্রতিরোধের উপায়

# ঘাড় ব্যথা প্রতিরোধে নিচু বালিশ ব্যবহার করুন এবং শক্ত বিছানায় ঘুমান। উপুর হয়ে ঘুমাবেন না।

# বসা, হাঁটা, দাঁড়ানো ইত্যাদি সময় আপনার ঘাড়ের অঙ্গ বিন্যাস সোজা রাখার চেষ্টা করুন।

# বর্তমানের ব্যস্ত সময় ও যানজটের কারণে অনেকেরই গাড়িতে ঘুমের অভ্যাস রয়েছে। এমন হলে অবশ্যই ঘাড়ে সার্ভাইক্যাল কলার ব্যবহার করুন।

# শীতের কারণে ব্যথা হলে ঘাড় ও মাথায় কানটুপি, মাফলার ইত্যাদি ব্যবহার করুন। গোসলের সময় ঠান্ডা পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। কায়িক পরিশ্রম করুন।

# বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে।

# অনেক সময় এ ধরনের রোগীদের ফিজিওথেরাপি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

# জটিল কোনো রোগের কারণে ব্যথা হলে ঘাড়ের অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে। এক্ষেত্রে ACDF করা হয়।

লেখক : নিউরো ও স্পাইনাল সার্জন
কনসালট্যান্ট, নিউরোসার্জারি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

শীতে ঠোঁট ফাটা প্রতিরোধে ৪ উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

আমাদের চেহারার চেয়ে ঠোঁটের ত্বক একটু বেশি স্পর্শকাতর। আর শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় বেশিরভাগেরই ঠোঁট ফাটার প্রবণতা বাড়ে। তবে এটি খুব জটিল কোনো সমস্যা নয়। কয়েকটি ছোট বিষয় মেনে চললেই শীতে এই সমস্যা থেকে রেহাই মেলে। শীতে ঠোঁট ফাঁটা প্রতিরোধের কিছু উপায় বাতলেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট আবরেভা।

লিপ বাম ব্যবহার
শীতে ঠোঁট ফাঁটা থেকে রেহাই পেতে নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করুন। এটি ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করবে এবং আর্দ্রতা ঠিকঠাক রাখবে। এ ক্ষেত্রে গন্ধ মুক্ত ও হাইপোঅ্যালার্জেটিক লিপ বাম ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

পানি পান করুন
শীতে অনেকেই পানি কম পান করেন। শীত শীত লাগে বলে অনেকেই ভাবেন পানি পান না করলেও চলবে। তবে বিষয়টি খুব ভুল। শীতেও ভীষণ পানিশূন্যতা হতে পারে। আর এই পানিশূন্যতা ঠোঁট ও ত্বক শুষ্ক করে দেওয়ার অন্যতম কারণ। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।

এসপিএফ ৩০ যুক্ত লিপ বাম
এমন লিপ বাম ব্যবহার করুন যা সূর্যের বেগুণী রশ্মি থেকে আপনার ত্বককে সুরক্ষা দেবে। সূর্যের ক্ষতিকর বেগুণী রশ্মি ত্বককে কালো করে দেয়। ঠোঁটকে এ থেকে রেহাই দিতে এসপিএফ ৩০ যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করুন।

মৃতকোষ দূর
ঠোঁটকে সুরক্ষিত রাখতে মৃতকোষ দূর করুন। মধু ও চিনি মিশিয়ে এক মিনিট ঠোঁটে মাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এতে মৃতকোষ দূর হবে। ঠোঁট থাকবে সুন্দর, আকর্ষণীয়।

শীতে খুশকি বাড়ছে? সমাধানের উপায় জানুন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ঘুম থেকে উঠেছেন, দেখলেন বালিশে ও ঘাড়ে অনেক খুশকি জমে রয়েছে। শীতে অনেকেরই চুলে খুশকি বেড়ে যায়। শীতকালে চুলের একটি প্রধান সমস্যা এটি। শীতে খুশকি থেকে রেহাই পেতে পরামর্শ দিয়েছেন শিওরসেল মেডিকেল বিডি-এর প্রধান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন।

খুশকির কারণ

যাদের আগে থেকেই খুশকির সমস্যা রয়েছে, তাদের এই সময়টায় এটি বেড়ে যায়। সাধারণত খুশকি হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে। শীতের সময় অনেকে আলসেমি করে চুল ধুতে চায় না। এতে চুলের ক্ষতি হয়, খুশকি বাড়ে। অনেক সময় কন্ডিশনার মাথায় থেকে গেলেও খুশকি হয়। কিছু রোগের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা বাড়তে দেখা যায়। আর যাদের ত্বক শুষ্ক, তাদের ক্ষেত্রে খুশকি বেশি হয়।

প্রতিরোধে করণীয়

যাদের খুশকি বেশি হয়, তাদের মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে তিন দিন এই শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভালো। কিটোকোনাজল বা জিংক বা স্যালেনিয়াম সালফাইডযুক্ত কোনো শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। অবশ্য এ ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে। তবে খুশকি খুব বেশি না হলে সে ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে একদিন করে অ্যান্টিডেনড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের আগে যা জানা জরুরি

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

ব্যকটেরিয়ার সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক শব্দ ‘অ্যান্টি’ ও ‘বায়োস’ থেকে। অ্যান্টি অর্থ বিপরীত ও বায়োস অর্থ প্রাণ। ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের কারণে যেসব রোগ হয়, সেগুলো নিরাময়ের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। তাই ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া রোগের বিপরীতে অ্যান্টিবায়োটিক বেশ ভালো কাজ করে।

অ্যান্টিবায়োটিক দেহে প্রবেশ করলে বিভিন্ন জীবাণু এটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। জীবাণুগুলো সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে আমাদের দেহ সুস্থ হতে শরু করে। আদর্শগতভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীরা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খায়। তবে অনেক সময় দেখা যায় রোগীরা একটু ঠান্ডা বা কাশি হলে না বুঝেই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলে। আবার অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি সেবন করা শুরু করলেও মাঝ পথে গিয়ে খাওয়া বন্ধ করে দেয় বা কোর্স পূর্ণ করে না। এই বিষয়গুলো বেশ ক্ষতিকর। এতে অ্যান্টিবায়োটিকের রেজিটেন্স হয়ে পড়ে বা তার কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই অ্যান্টিবায়োটিক যখন তখন সেবন করা যাবে না।

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরমর্শ নিতে হবে। ফার্মেসি বা দোকানদার বললে তাতেও খাওয়া যাবে না। এ ছাড়া রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার আগে চিকিৎসককে বুঝতে হবে আসলেই রোগীর শরীরে এর প্রয়োজন রয়েছে কি না। সেখানেও পূর্ণ মাত্রা এবং কতদিন খাবে উল্লেখ করে দিতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার আগে চিকিৎসককে খেয়াল রাখতে হবে রোগীর বয়স, ওজন ইত্যাদির দিকে। এ ছাড়া বৃদ্ধ, শিশু ও সন্তান সম্ভবা মায়ের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের আগে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। রোগীর কাছে চিকিৎসক জেনে নেবে তার অন্য কোনো রোগ রয়েছে কি না।

সাধারণত সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বরে (ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা) এসব রোগে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। সব রোগেই একই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় না। রোগ ভেদে বিভিন্ন রকম ওষুধ রয়েছে। তাই রোগী না বুঝে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খেলে রোগ তো সারবেই না, উল্টো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এবং রোগ দীর্ঘমেয়াদে হতে পারে। যার চিকিৎসা করা জটিল হয়ে যাবে। সম্ভব হলে জরুরি পরীক্ষা করার পর অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া ভালো।

রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পূর্ণ মাত্রায় ওষুধ খেতে হবে। অনেকে এক থেকে দুই দিন খেয়ে দেখে রোগ ভালো হয়ে গেছে। তখন খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এটি কিছুতেই করা যাবে না। তাহলে রোগটি আবার ফিরে আসতে পারে। এতে শরীরে এই অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রেজিটেন্স লেভেল কমে যায়। অর্থাৎ এর কার্যক্ষমতা কমে যায়। এতে পরবর্তী পর্যায়ে আরো শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া লাগতে পারে।

অনেক সময় যেকোনো ওষুধের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এ রকম কোনো ওষুধের ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নিজে নিজে না বুঝে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে যারা আশে পাশে থাকে অর্থাৎ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও ঐ অ্যান্টিবায়োটকের বিরুদ্ধে রেজিসটেন্স ক্ষমতা কমে যেতে পারে। অর্থাৎ পরিবারের অন্য লোকেদেরও ঐ অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা কমে যাবে।

তাই যখন তখন নিজে নিজে না বুঝে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।

লেখক: মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

‘উজ্জ্বলা আমার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

নিজে কম সাজলেও অন্যকে সাজাতে খুব পছন্দ করতেন মিলুফা ফেরদৌসী মিলি। পলিটিক্যাল সাইন্সে মাস্টার্স করেন। পাশাপাশি করেন বি এড। তবে এ সময় এতো ব্যস্ত থাকতে হতো যে কোনো অবসরই পাচ্ছিলেন না। এরপর চিন্তা করলেন মেকআপের বিষয়টিও পেশা হিসেবে নেওয়া যায়। এই ভাবনা থেকেই উজ্জ্বলায় ভর্তি হওয়া। উজ্জ্বলার ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। বর্তমানে নিজে একটি স্যালন খুলেছেন। রংপুর শহরে মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় হয় তাঁর। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অ্যাসেসর হিসেবে কাজ করছেন।

জানালেন, বিউটি আর্টিস্ট হওয়ার বিষয়টিকে অনেকে নিচু চোখে দেখে। অনেক শিক্ষিত মেয়েরা এখানে আসতে চায় না। কিন্তু আমি দেখেছিলাম, একজন নারী তাঁর শিক্ষাটাকে এখানে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারে এবং ভালো একজন বিউটি এক্সপার্ট হতে পারলে মাসে মোটা অংকের টাকাও আয় করা যায়। চাকরির আশায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে এই কাজটিকে নিজের মতো করে করা সম্ভব।’

উজ্জ্বলা আমাকে সফলভাবে শেখাতে পেরেছে। এখান থেকে শেখার পর বাইরে প্রতিষ্ঠান করার সাহস পেয়েছি। পার্লারকে বড় করে শুরু করেছি। প্রথম আমার পার্লারে কর্মচারী ছিলো দুই জন। এখন পাঁচ থেকে ছয় জন কাজ করে। উজ্জ্বলা থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর মানসিকভাবে খুব শক্তি পেয়েছি। এখান থেকে শিখে বুঝতে পেরেছি আমি ঘরের ভেতর পড়ে ছিলাম। বাইরের দুনিয়াটা আসলে অনেক বড়- জানান তিনি।

উজ্জ্বলা আমার ভিত্তিটা সুন্দর করতে সাহায্য করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন আপার কাছ থেকে আমি অনেক শিখেছি।উজ্জ্বলায় খুব অল্প টাকায় মেয়েদের জন্য একটি ভালো মেকআপ প্রশিক্ষণ দেয়। আমি যেভাবে চেয়েছি সেভাবে তারা আমাকে তৈরি করেছে। উজ্জ্বলা ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছে বলেই এখন এই পর্যায়ে দাঁড়াতে পেরেছি।

উজ্জ্জলা থেকে ২০১৮ সালে উত্তরবঙ্গে প্রথম অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে কীভাবে মেকআপ আর্টিস্ট্রি বিষয়টি আরো প্রসারিত করা যায় সেই বিষয়ে কাজ করছেন এখন। জানান, মাস্টার্স পাশ করার পর আমি যখন মেকআপের বিষয়টিকে পেশা হিসেবে বেছে নিই, তখন অনেকে বাজে মন্তব্য করেছে। তবে এখন তারাই আমার প্রশংসা করে। আমি চাই আরো শিক্ষিত মেয়ে এই পেশা বেছে নিক। তাহলে সার্বিকভাবে এই সেক্টরের আরো উন্নতি হবে।

 

উজ্জ্বলা আমাকে প্রথম শিখিয়েছিলো, যত বেশি কথা বলবে, ক্লাইন্টের মনের কথা জানতে পারবে, তত বেশি কাজ পাবে। যারা মেকআপ করাতে আসে তারা আস্থা পাবে। তাই আমি ক্লাইন্টের সঙ্গে সবসময় সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করি। আর এটা উজ্জ্বলার শিক্ষা। বর্তমানে নিজের স্যালনে তো কাজ করছিই, তবে ভবিষ্যতে উজ্জ্বলার প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করতে চাই। উজ্জ্বলা আমাকে অনেক দিয়েছে। আমি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে থেকে যেতে চাই- বলছিলেন হাস্যজ্জল এই মেয়েটি।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৫০তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

শীতে জলপাই কেন খাবেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

জলপাই—নামটা শুনে নিশ্চয়ই জিভে জল চলে আসছে! আসলেই তাই। আচার হোক বা ছোট মাছের ঝোলে জলপাই, সবটাই ভীষণ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। শীত মৌসুমে এই ফল বেশি পাওয়া যায়। তবে শীতে জলপাই খাওয়ার কিন্তু বিশেষ উপকারিতাও রয়েছে।

শীতে জলপাই খাওয়ার উপকারিতার বিষয়ে জানিয়েছেন পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি। তিনি বলেন, ‘শীতে রোগবালাই বেড়ে যায়। তাই এই সময়টায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জলপাইয়ের জুড়ি নেই। জলপাইয়ে রয়েছে কপার। এ ছাড়া রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও ভিটামিন ই। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এসব ভিটামিন অনেক জরুরি।’

জলপাই দেহের ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। আর দেহের ভালো কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদরোগ, লিভার ইত্যাদি অঙ্গ ভালো থাকে—জানান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন।

এ ছাড়া জলপাইয়ের খোসায় প্রচুর আঁশ রয়েছে। এই আঁশ ভালোভাবে খাবার হজম করতে সহায়তা করে; কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। এ ছাড়া চুল ও ত্বক ভালো রাখতেও জলপাই উপকারী। তাই শীতকালে প্রতিদিন অন্তত একটি জলপাই খাওয়ার পরামর্শ দেন এই পুষ্টিবিদ।

রেসিপি : ফুলকপি ও নতুন আলুতে শোল মাছের ঝোল

কবিতা বিশ্বাস

আপনি কি সবজি ও মাছ প্রেমী? তাহলে শীতে নতুন ফুলকপি ও আলু দিয়ে শোল মাছের ঝোল হতে পারে আপনার জন্য চমৎকার একটি খাবার। সাতকাহন২৪.কমের পাঠকদের জন্য রইলো রেসিপিটি।

উপকরণ
# ফুলকপি- ১টা
# নতুন আলু -আধা কেজি
# শোলমাছ – ১০/১২ টুকরা
# পেঁয়াজ বাটা- ২ টেবিল চামচ
# আদা বাটা – ১ চা চামচ
# হলুদ ও মরিচ গুঁড়া- পরিমাণমতো
# লবণ- পরিমাণ মতো
# কাঁচা মরিচ- ৫/৬ টি

ফোঁড়নের জন্য

# তেচপাতা ১ টি
# জিরা- আধা চা চামচ
# সরষের তেল – পরিমাণ মতো
# এলাচ – ৪ টি
# দারুচিনি- ১ টুকরো
# জিরা- ২ চা চামচ
# ধনে পাতা- সামান্য

এসব উপাদান শুকনো কড়াইতে একটু গরম করে পেষ্ট করে রাখুন।

যেভাবে তৈরি করবেন

ফুলকপি ও আলু পছন্দ মতো আকারে কেটে ধুয়ে কড়াইতে তেল, লবণ ও সামান্য হলুদ দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। এবার মাছের টুকরোগুলো লবণ ও হলুদ মেখে হালকা ভেজে রাখুন। এরপর রান্নার পাত্রে তিন থেকে চার টেবিল চামচ সরিষার তেল দিন। তেল গরম হলে তেচপাতা আর জিরা ফোঁড়ন দিন। এবার তেল একটু ঠান্ডা করে তাতে পেঁয়াজ, আদা বাটা ও পরিমাণ মতো হলুদ ও মরিচ দিয়ে কষিয়ে নিন। ঝোলের পরিমাণ মতো গরম জল দিয়ে ফুটাতে থাকুন। ফুটে উঠলে ফুলকপি, আলু ও পরিমাণ মতো লবণ দিন। কাঁচা মরিচ আর মাছের টুকরো দিয়ে দুই মিনিট ঢেকে রাখুন। ঢাকনা খুলে ভাজা পেষ্ট করা মসলা মিশিয়ে ৩০ সেকেন্ড ঢাকুন। ঢাকনা খুলে চুলা বন্ধ করে দিয়ে ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে সার্ভিং ডিসে ঢেলে পরিবেশন করুন।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.