Sunday, September 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 118

মন-মেজাজ ভালো রাখবে যে ৩ খাবার

সাতকাহন২৪.কম
পুষ্টির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন কারণেই আমাদের মন-মেজাজ বিক্ষিপ্ত থাকতে পারে। কম ঘুম হওয়া, মানসিক অশান্তি, পুষ্টির ঘাটতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা ইত্যাদি।

তবে গবেষণায় বলা হয়, কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে যেগুলো মনকে ভালো রাখতে উপকারী। এমন কিছু খাবারের তালিকা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন।

১. কালো চকোলেট
কালো চকোলেটের মধ্যে মন ভালো করার অনেক উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাফেইন, থিওব্রোমাইন, এন-একিলেথানোলেমাইন ইত্যাদি। গবেষণায় বলা হয়, চকোলেটের ভেতর থাকা উপাদান দ্রুত মন ভালো করতে কাজ করে।

২. কলা
কলার ভেতর রয়েছে ভিটামিন বি৬। এটি মন ভালো রাখার হরমোন ডোপামিন ও সেরোটোনিন নিঃসরণে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোবায়োটিক। এটি পেটের অভ্যন্তরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে উপকারী। পেটের অভ্যন্তরের এসব ব্যাকটেরিয়ারও অনেক সময় মুড ডিজঅর্ডার তৈরির জন্য দায়ী হয়।

৩. কফি
মেজাজ ভালো করতে কফি উপকারী। কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন দেহের ক্লান্তভাব দূর করে এবং কাজে মনোযোগী হতে সাহায্য করে। এটিও মেজাজ ভালো করার হরমোন ডোপামিন ও সেরেটোনিন নিঃসরণে সাহায্য করে। তাই মন খারাপ হলে এক কাপ কফি খেয়ে নিতে পারেন।

‘একটা সময় ভেবেছিলাম আমার কিছুই হবে না’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

জীবনে কিছু ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা ছিলো মেয়েটির। ছিলো শারীরিক অসুস্থতা। একটা সময় ভেবেছিলো তাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না। ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার। আশেপাশের সবাইও তাই বলতো। কিন্তু শক্ত হয়ে পাশে ছিলো মা। তার অনুপ্রেরণাতেই বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স করা। বর্তমানে বেশ সফলভাবে বিউটিফিকেশনের ওপর ফ্রি ল্যান্সিং কাজ করে যাচ্ছে চট্টগ্রামের মেয়ে নাদিয়া ফারহানা চারু।

২০১৮ তে উজ্জ্বলায় আসি জানিয়ে চারু বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে সাজগোজ পছন্দ করতাম। যখন ভীষণ বিষাদে জীবন পার করছি, তখন কিছু কাছের শুভাকাঙ্ক্ষি পরামর্শ দেন, তোমার যেটা ভালো লাগে সেটা করো। তখন আমি বুঝতে পারি মেকআপ করতে আমি পছন্দ করি। মানুষকে সাজাতে আমার ভালো লাগে। এই কাজটি আমি ভালো পারি। সেই থেকেই কাজটি শেখা। সেখান থেকেই মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার চিন্তা।’

আমার কিছু মানসিক কষ্ট ছিলো। চাকরি করা আমার জন্য একটু কষ্টসাধ্য বিষয়। মেকআপ নিয়ে কাজ করলে আমাকে কারো আওতায় যেতে হচ্ছে না। এই বিষয়টিও আমাকে স্বস্তি দেয়। এখন সবাই আমার কাজ পছন্দ করে। মোটামুটি ভালো আয় হয় কাজ থেকে – জানান নাদিয়া ফারহানা।

ফ্রি ল্যান্সার এই বিউটি আর্টিস্ট বলেন, ‘উজ্জ্বলা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। শিখিয়েছে কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মনোবল ধরে রাখতে হয়। আমি কাজ করে আরো এগিয়ে যেতে চাই। এমন একটি জায়গায় যেতে চাই যেন সবাই আমাকে নিয়ে গর্ব করে।’

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ১৫তম।

ওজন কমাতে কীভাবে পেঁয়াজ খাবেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
ওজন কমাতে চাইলে খাদ্যতালিকা থেকে কিছু খাবার বাদ দেওয়া প্রয়োজন। আবার কিছু খাবার যোগও করা জরুরি। এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো হয়তো সচরাচর খাওয়া হয়। তবে একটু নিয়ম মেনে খেলেই সেগুলো ওজন কমাতে সাহায্য করে। উদাহরণ হিসেবে পেঁয়াজের কথা ধরা যাক।

পেঁয়াজের মধ্যে কুইসিন নামক উপাদান রয়েছে। অনেকেই হয়তো জানেন না পেঁয়াজ খেলে ওজন কমে। বিশেষ করে পেটের মেদ ঝরে। এটি হলো প্রিবায়োটিক ফুড। এর মধ্যে রয়েছে লো- ক্যালরি এবং উচ্চ দ্রবণীয় ভিসকস আঁশ। এক কাপ কাটা পেঁয়াজে (১৬০ গ্রাম) ৬৪ ক্যালরি, ১৫ গ্রাম কার্বহাইড্রেট, ১৬ গ্রাম চর্বি, সাত গ্রাম আঁশ, ৭৬ গ্রাম প্রোটিন, ৭৮ গ্রাম সুগার ও ১২ শতাংশ ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-৬ ও ম্যাংগানেজ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া রয়েছে অ্যান্টিক্সিডেন্ট কুয়ারসেটিন ও সালফার। আরো রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়াম। ওজন কমাতে পেঁয়াজ খাওয়ার উপায় জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

পেঁয়াজের জুস
ওজন কমাতে পেঁয়াজের জুস খেতে পারেন। পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে কুচি করে পানির মধ্যে চার থেকে পাঁচ মিনিট সিদ্ধ করুন। এরপর চুলা থাকে নামিয়ে ঠান্ডা হয়ে এলে পান করুন।

স্যুপ
একটি পাত্রে জলপাইয়ের তেল নিন। এর মধ্যে কাটা আদা ও রসুন দিয়ে দুই মিনিট সিদ্ধ করুন। এর পর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড সিদ্ধ করুন। পেঁয়াজ কাটতে হবে বাঁধা কপি বা টমেটোর মতো স্লাইস করে। এরপর এতে চিকেন বা ভ্যাজিটেবল স্টক দিন। এতে স্বাদমতো লবণ যোগ করে আরো ১০ থেকে ১৫ মিনিট রান্না করুন। তৈরি হয়ে গেলে পেঁয়াজের স্যুপ।

কাঁচা পেঁয়াজ
ওজন কমাতে কাঁচা পেঁয়াজও খেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পিংক সল্ট দিয়ে কাঁচা পেয়াজ খান অথবা সালাদের সঙ্গেও খেতেও পারেন।

সর্বোপরি ওজন কমাতে খাদ্যতালিকায় পেঁয়াজ রাখুন। এটি ওজন কমাতে সাহায্য তো করবেই পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করতে সহায়ক হবে।

আবেগ সামলাতে ভুল কৌশল নিচ্ছেন না তো?

জিয়ানুর কবির
মানসিক যন্ত্রণায় থাকা ব্যক্তিদের যুক্তিবাদী হওয়া এবং একটি ভালো সমাধানের কথা চিন্তা করা কঠিন। তাই অনেক সময়ই তারা ভুলভাবে আবেগ মোকাবিলা করেন। কারণ, তারা জানেন না কীভাবে সমস্যার সঠিক সমাধান করবেন। তবে বিষয়গুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।

আবেগ মোকাবিলা করার জন্য যেসব ভুল কৌশল মানুষ ব্যবহার করে সমস্যাটি আরো খারাপ করে এগুলো হলো-

-অতীতের যন্ত্রণা, ভুল ও সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তা করার জন্য অনেক সময় ব্যয় করেন।
– সম্ভাব্য ভবিষ্যতের যন্ত্রণা, ভুল ও সমস্যাগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
-দুঃখজনক পরিস্থিতি এড়াতে অন্য মানুষের কাছ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেন।
– অ্যালকোহল বা মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে যাওয়া।
– অন্য ব্যক্তির ওপর অত্যাধিক রেগে গিয়ে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা।
-বিপজ্জনক আচরণ করা। যেমন: কাটা, আঘাত, পিক করা বা পোড়ানো, নিজের চুল টেনে ছেঁড়া ইত্যাদি।
-অনিরাপদ যৌন ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত হওয়া। যেমন অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলন করা বা থাকা, ঘন ঘন অনিরাপদ যৌন মিলন।
-সমস্যার কারণগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করা এড়িয়ে চলা।
– নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য খুব বেশি খাওয়া কিংবা একেবারেই না খাওয়া।
-আত্মহত্যার চেষ্টা করা বা বেপরোয়া গাড়ি চালানো বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপে জড়িত হওয়া।
– বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল কিংবা কোনো ওষুধ গ্রহণ করা।
– মনোরম ক্রিয়াকলাপগুলো এড়িয়ে যাওয়া। যেমন : সামাজিক অনুষ্ঠান ও ব্যায়াম ইত্যাদি।

এসব কৌশলগুলো সাময়িক স্বস্তি দিলেও মানসিক যন্ত্রণা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আপনার আরো কষ্টের কারণ হয়। তাই আবেগের ব্যথা কমাতে চাইলে এই কাজগুলো করা বাদ দিতে হবে।

লেখক : ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

মনোবল থাকলে শারীরিক খুঁত নিয়েও এগিয়ে যাওয়া যায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

উজ্জ্বলা লিমিটেড, বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। উদ্যোক্তাদের যোগ্য করে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব খুঁটিনাটি শেখানো হয় এখানে। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজনের আজ রইল ১৪তম পর্ব।

পর্ব ১৪ : মর্জিনা বেগম রিনা

কাউকে সাজানোটা একটি নেশা ছিলো তাঁর। তবে এখন সেটা পেশায় পরিণত হয়েছে। বাড়ির সবার ছোট ছিলেন, আদরেরও ছিলেন। ছোটবেলায় টাইফয়েড হওয়ার পরে পায়ে একটু সমস্যা হয়ে যায় তাঁর। এটা নিয়ে মানসিকভাবে ভীষণ কষ্টে থাকতেন। তখন মনে হতো কিছু করা দরকার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।

এসব ভাবনা থেকেই উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিতে আসা। এখন নিজেই একটি বিউটি স্যালন খুলেছেন। আয়ও ভালোই হচ্ছে। জানান, আমাকে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন মা। বিউটিফিকেশনের কাজটি শেখার ক্ষেত্রে পরিবারের অসহযোগিতা ছিলো। পার্লারের কাজকে ছোট করে দেখা হতো। তবে এখন এই কাজ দিয়েই আমি স্বাবলম্বী। আমার একটি মেয়ে রয়েছে।

উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে মর্জিনা বেগম।
উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে মর্জিনা বেগম।

চেষ্টা থাকলে, কাজের প্রতি আগ্রহ থাকলে একটা না একটা সময় প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় জানিয়ে মর্জিনা বলেন, ‘আর এই বার্তাটাই আমি উজ্জ্বলার কাছ থেকে পেয়েছি। উজ্জ্বলার শেখানোর ধরন অত্যন্ত আলাদা। তারা হাতে-কলমে খুব সূক্ষ্মভাবে বিষয়গুলো সেখায়। আর পরিবেশটাও খুব নারী বান্ধব। এই প্রতিষ্ঠানটি আমাকে শিখিয়েছে মনোবল থাকলে কীভাবে শারীরিক খুঁত নিয়েও এগিয়ে যাওয়া যায়।’

আমি নিজের কাজটি ভালোভাবে করে যেতে চাই। সবার কাছে পরিচিত হতে চাই। ক্লাইন্টরা যেন বার বার আমার কাছে আসে এবং আমার কাজ যেন তাদের সন্তুষ্ট করতে পারে এটাই চাওয়া- জানান মর্জিনা বেগম।

‘কাজের ভেতরেই বাঁচি’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

উজ্জ্বলা লিমিটেড, বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। উদ্যোক্তাদের যোগ্য করে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব খুঁটিনাটি শেখানো হয় এখানে। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজনের আজ রইল ১৩তম পর্ব।

পর্ব ১৩ : ফারজানা রহমান

পাখির মতো উড়তে ভালোবাসতেন মেয়েটি। একদম ডানপিটে স্বভাব। বন্ধুবান্ধবরা তাকে টমবয় বলে ডাকতো। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন- জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে। আবার রং-তুলি হাতে নিয়ে ক্যানভাসে আঁকছেন ছবি।

আঁকাআঁকির সখ থেকেই আবার পোশাকে করছেন নকশা। পরিবারের সবার পোশাকে নকশা একাই করে দিচ্ছেন। খুলেছিলেন বুটিকশপও। পাশাপাশি উজ্জ্বলা থেকে বিউটিফিকেশনের উপর কোর্সও করেছেন। বাড়িতেই তৈরি করেছেন স্টুডিও। কিছু নিয়মিত ক্লাইন্ট আছে, যারা সবসময় সাজে তাঁর কাছে। আবার চট্টগ্রামের স্থানীয় সিটিভিতেও উপস্থাপনা করতেন।

উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে ফারজানা রহমান।
উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে ফারজানা রহমান।

এত প্রাণচঞ্চল মেয়েটিকেও যেতে হয়েছে এক ভীষণ বিষাদের ভেতর দিয়ে। বিয়ের পর খুব দ্রুতই সন্তান কনসিভ করেন। সন্তানের জন্ম, তার দেখভাল, সংসার সামলানো, নিজের পছন্দের কাজগুলো না করতে পারা, তাকে তীব্র বিষণ্ণতার মধ্যে নিয়ে যায়। জানান, বেশিরভাগ শিক্ষিত মেয়েদের ক্ষেত্রে কাজ করতে না পারলে একটি ভীষণ মানসিক যন্ত্রণা কাজ করে। কেবল সন্তান লালন-পালন করছি, মেহমান খাওয়াচ্ছি- সব ভালো। তবে এরপরও দিন শেষে একটি নিসঙ্গতা থেকে যায়। আমার গাড়ি-বাড়ি সব রয়েছে। অনেকেই হয়তো বলবে এত কিছু থাকার পরও কেন কাজ করতে চাও? আসলে আত্মপরিচয় তৈরি করার ক্ষুধাটা মারাত্মক। এই ক্ষুধা যতক্ষণ পর্যন্ত মিটবে না ততক্ষণ সবকিছু থাকার পরও নিজেকে হীন লাগবে।

এ সময় আমার হাতটি ধরেছিলো উজ্জ্বলা। উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন আপা আমাকে বলেন, ‘তোমাকে সবকিছু একসঙ্গে সমন্বয় করতে শিখতে হবে।
তোমার পরিবারও ঠিক রাখতে হবে। পাশাপাশি তোমাকে নিজস্ব একটা অস্তিত্বও গড়ে তুলতে হবে। সংসার করতে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব হারালে চলবে না। আবার নিজের অস্তিত্ব দেখতে গিয়ে স্বার্ধপর হয়ে সংসারকে ফেলে দিলে চলবে না।ধৈর্য ধরে কৌশলী হয়ে সব মেনটেইন করে এগোতে হবে।’

এ কথায় উজ্জীবীত হয়ে আবার কাজ করতে শুরু করেন ফারজানা। শুরুতে সবকিছু সামলে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছিলো। তবে এখন সব নিয়ন্ত্রণে। খুব আনন্দের সঙ্গে জানান- এখন আমি আবার ক্যানভাস হাতে। কোথায় আঁকছি? শ্বশুর বাড়িতেই আঁকছি। নিজের ছবি বিক্রি করছি। বাড়ির দেয়ালে আমার ছবি। আমার শ্বশুরকে উপহার হিসেবে দিই। এ ছাড়াও পোশাকে নকশা, ক্লাইন্টকে সাজানোর কাজও করছি। আমার স্বামী আমাকে খুব ছোট ছোট বিষয়ে সাহায্য করে, এটা আমাকে মুগ্ধ করে। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা আমার প্রশংসা করে।

ফারজানা রহমানের নিজের আঁকা ছবি।
ফারজানা রহমানের নিজের আঁকা ছবি।

তবে কোভিডের সময়ে কোনো ক্লাইন্ট ছিলো না জানিয়ে ফারহানা বলেন, ‘এক বছর খুব বাজে একটা সময় পার করেছি। উজ্জ্বলার চেয়ারপারসন আদিত্য সোম দাদা বিজনেস ম্যানেজমেন্টের একটি কোর্স করিয়েছিলেন। এতে আমি খুব উপকৃত হই। বুঝতে পারি কীভাবে কঠিন সিচুয়েশনটা সামলাবো।’

উজ্জ্বলা আমাকে শিখিয়েছে কঠিন পরিস্থিতি সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল। উজ্জ্বলার প্রতি কৃতজ্ঞতা। এভাবেই নিজের কাজগুলো করে যেতে চাই। নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে চাই- জানান তিনি।

গরুর মাংসের ২ পদ

তাহেরা সুলতানা
কোরবানির ঈদ মানেই মাংস দিয়ে তৈরি নানা পদ। আজ আপনাদের জানাবো গরুর মাংসের দুই পদ। তেমন ঝুটঝামেলা ছাড়া সহজেই রান্না করতে পারবেন এগুলো।

কড়াই গোস্ত

যা লাগবে
# ১ কেজি গরুর মাংস
# ১ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া
#১ টেবিল চামচ মরিচ গুঁড়া
# ১ কাপ টক দই
# পরিমাণ মতো দারুচিনি ও এলাচ
# ১ টেবিল চামচ আদা বাটা
# ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা
# পরিমাণ মতো তেল
# কিউব করে কাটা ১ কাপ টমেটো
# পরিমাণ মতো লবণ
# ৩টি রসুন কোয়া
# ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি
# ২টি তেজপাতা

যেভাবে তৈরি করবেন
সব মশলা একসঙ্গে গরুর মাংসের মধ্যে মাখিয়ে রাখুন। এবার মাখিয়ে রাখা মাংস একটি হাড়িতে দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। মাংসের গায়ে তেল ভেসে উঠলে একেবারে শেষে রসুনের কোয়া ও টেমেটো কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ দমে রেখে নামিয়ে ফেলুন। হয়ে গেলো কড়াই গোস্ত।

ঝুরা মাংস

যা লাগবে

# ১ কেজি গরুর মাংস
# ১ চা-চামচ আদা বাটা
# ১ চা-চামচ গোলমরিচ বাটা
# ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা
# ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি
# স্বাদমতো লবণ
# পরিমাণ মতো এলাচ, দারচিনি ও তেজপাতা
# ১ কাপ তেল
# ১ চা চামচ জিরা বাটা
# ১ চা চামচ ধনে বাটা
# পরিমাণ মতো মরিচ গুঁড়া

যেভাবে তৈরি করবেন
সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি হাড়িতে দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিতে হবে। অল্প আঁচে কষাতে হবে। কষানো হয়ে এলে পানি দিতে হবে। পানি শুকিয়ে এলে অনেকক্ষণ জ্বাল দিয়ে মাংস ঝুরা ঝুরা করে নিতে হবে।

গরু, খাসি রান্নার স্বাস্থ্যকর ৭ উপায়

সাতকাহন২৪.কম
কোরবানির ঈদে মানুষ তাদের সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দেয়। গরীবদের বিলিয়ে দেওয়ার পর কিছু মাংস নিজেদের জন্য রাখে। গরু বা খাসির মাংসকে লাল মাংস বলা হয়। লাল মাংস রান্নার কিছু স্বাস্থ্যকর উপায় জানিয়েছে পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি।

১. গরু ও খাসির মাংস স্বাস্থ্যকরভাবে রান্নার প্রথম শর্ত ছোট ছোট টুকরো করে কাটা।
২. দৃশ্যমান চর্বির যেসব লেয়ার থাকে সেগুলো ফেলে দেওয়া ভালো।
৩. মাংসকে বিভিন্ন সবজির সঙ্গে রান্না করা যেতে পারে। যেমন : মাশরুম, ক্যাপসিকাম, পেঁপে ইত্যাদি।
৪. অল্প তেলে রান্না করতে হবে।
৫. অর্ধসিদ্ধ মাংস খাওয়া যাবে না। গরুর মাংসে মাইক্রোঅরগানিজম থাকে। এটি দেহে প্রবেশ করলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। তাই ভালোভাবে সিদ্ধ হয়েছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৬. মাংস বাসি না খেয়ে টাটকা রান্না করে খাওয়া ভালো।
৭. রান্নার সময় মশলা পোড়ানো যাবে না। এতে মশলার জীবাণুনাশক গুণ নষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি কারসিনোজেনিক উপাদান তৈরি হয়। এতে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। পরিমাণ মতো হলুদ, আদা দিয়ে খাবারটি রান্না করতে হবে।

ঈদের সাজ : সকাল, দুপুর, রাত

শারমিন কচি

ঈদের দিনের ষোলো আনা আনন্দ উদযাপন ও উপভোগের জন্য পুরো দিনকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নিতে পারেন। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকেল এবং বিকেল থেকে রাত। এই তিন পর্বে পরার জন্য তিন ধরনের পোশাক বেছে নিন। সকালটা যেহেতু নানা কাজের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় এ জন্য আরামদায়ক ও কাজের জন্য সুবিধার এমন পোশাক বেছে নেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে সালোয়ার-কামিজ হতে পারে সেরা। সকালের পর্বের জন্য একটু রংচঙে সালোয়ার-কামিজ পরুন। উজ্জ্বল রঙের পোশাকের সঙ্গে পরিমিত সাজ দেখতে ভালো লাগবে। কাজ করার সুবিধার্থে স্লিভলেস হলেও কিন্তু মন্দ হয় না। এ ছাড়া জিন্স, টপস অথবা আরামদায়ক কুর্তিও বেছে নিতে পারেন সকালের সাজ পোশাক হিসেবে। সঙ্গে গুছিয়ে চুল বেঁধে নিন। যদি সকালেই গোসল সেরে ফেলেন তাহলে চুল খোলা রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে স্ট্রেইট করে আয়রন করে নিলে ভালো দেখাবে। ওয়াটারপ্রুফ হালকা বেইসের সঙ্গে চোখে ন্যুড লুক দিতে পারেন। তবে সকালের সাজে চোখে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে যাবেন না। কারণ, এতে রান্নাঘরে রান্নার সময় অসুবিধা হতে পারে। এর বদলে চোখে কাজল টেনে দিতে পারেন। ঠোঁটের সাজে যেকোনো শেড সকালে বেশ মানানসই। ঈদের দিন সকালের এমন সাজে দেখতেও অনেক সতেজ লাগবে।

দুপুর

ঈদের দিনের দুপুরের সাজে আনতে পারেন একটুখানি ভিন্নতা। স্নিগ্ধ ও গর্জিয়াস এই দুটির মাঝামাঝি লুক দুপুরের সাজে বেশি মানানসই। ঈদের সাজে মেকআপ তো করতেই হবে। যেহেতু বাসায় কাটবে ঈদের দিন, এ জন্য ত্বকে ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করাই ভালো। ঈদের দিন দুপুর থেকে বিকেলের সাজে লেহেঙ্গা ও গাউন জাতীয় পোশাকে অভিজাত দেখাবে। তবে যে পোশাকই পরুন তার সঙ্গে মিলিয়ে মেকআপ করুন। দুপুরের সাজের জন্য শুধু ফেস পাউডার দিয়ে বেইস মেকআপ করে নিন। মুখের দাগ ঢাকতে কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন। কনট্যুরিং করতে চাইলে পাউডার কনট্যুরিং কিট ব্যবহার করুন। চোখে পাউডার আইশ্যাডোর ব্রাউন শেড ব্যবহার করতে পারেন। চোখের কোলে হালকা কাজল এবং চোখের ওপরে চিকন করে আইলাইনারের রেখা একে দিন। মাশকারার কথা কিন্তু ভুলবেন না। এবার গরমের মধ্যে মধ্যে ঈদ। তাই গ্লসি, শিমারিং লিপস্টিক এড়িয়ে ম্যাট বা ক্রিম বেইসড লিপকালার ব্যবহার করুন। হালকা সাজের সঙ্গে লাল, মেরুনসহ যেকোনো গাঢ় রং হলেও মানাবে বেশ। ন্যুড লিপস্টিক যেকোনো মেকআপ লুকের সঙ্গেই মানানসই। এ জন্য সিম্পল টু গর্জিয়াস যেকোনো লুকের জন্য ঠোঁটে ন্যুড লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। পিচ, ন্যুড পিংক, মভ, টেরাকোটা ইত্যাদি রংও দারুণ মানাবে ঈদের দিনের সাজে। দুপুর অথবা রাতে চোখের সাজের জন্য কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। চুলের সাজে টুইস্ট, সাইড বান, ফ্রেঞ্চ বেণি, কার্ল করে বাঁধলে ভালো দেখাবে।

রাত

রাতের সাজের ক্ষেত্রে সকাল ও দুপুরের পরিবেশগত সীমাবদ্ধতাগুলোর প্রতিশোধ নিতে পারেন। রাতে দিনের গরম পরিবেশ অনেকটাই কমে আসে। সারা দিনের ধকলটাও তেমন থাকে না। আর রাত মানেই তো জম্পেশ সাজ! ঈদের রাতের সাজের জন্য শাড়ি সব সময়ই সেরা। এমব্রয়ডারি, কাঁথা স্টিচ, ফুলেল মোটিফের জামদানি থেকে শুরু করে সিল্ক, মসলিন, তাঁত—পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো শাড়ি বেছে নিতে পারেন। দিনের দুই বেলার সাজের ক্ষেত্রে রাতের সাজে পার্থক্য রাখুন। চোখে স্মোকি টোন, কার্ল করা চুল আর ভারী গয়নার সাজে তুলে আনুন নিজের ভেতরকার অভিজাত লুক। চোখে গ্লিটারের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। চোখের নিচের পাশ দিয়ে কালো, বাদামি, গাঢ় রঙের আইশ্যাডো দিতে পারেন। চোখের নিচে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কাজল দিন। ওপর দিয়ে টেনে আইলাইনার লাগিয়ে দিন। এটাই হোক এবারের ঈদের চোখের সাজ। শুধু সাজ নয় সঙ্গে নিজের আরামের দিকটাও প্রাধান্য দিন।

লেখক : বিউটি আর্টিস্ট
কর্ণধার : বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ার

যোগদিবস উপলক্ষে জয়সান ইয়োগার মাসব্যাপী কার্যক্রম

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
যোগ বা ইয়োগা মনকে প্রশান্ত করে, দেহকে সুস্থ রাখে। গত ২১ জুন ছিলো ৮ম আন্তর্জাতিক যোগদিবস। দিবসটিকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী কার্যক্রম পালন করছে জয়সান ইয়োগা অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার।

গত ২০ জুন, প্রতিষ্ঠানটি ৫শ এর অধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে জগন্নাথ হলের নাট মন্দিরে যোগ উৎসব পালন করে। এর আয়োজনে ছিলো বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি। কার্যক্রমটি পরিচালনা করেন কুশল রায় জয়। কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন, হলের প্রভোস্ট ড. মিহির লাল সাহা, নারায়ণ সাহা মণিসহ প্রমুখ।

গত ২১ জুন, মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত দেশের সর্ববৃহৎ যোগ উৎসবে অংশগ্রহণ করে জয়সান ইয়োগা। এখানে আন্তর্জাতিক যোগ প্রটোকল ছাড়াও ২০ জনের একটি বিশেষ যোগ প্রদর্শনী দেখানো হয়। এই অনুষ্ঠানে দেশ ও দেশের বাইরের প্রায় ১ হাজার ১শ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২১ জুন, নোয়াখালীতে গান্ধী মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটে
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানটি প্রায় ১৫০ জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিচালনায় ছিলেন সুমন চন্দ্র দাস ও তন্দ্রা বড়ুয়া।

এ ছাড়া হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, মুন্সীগঞ্জ; শৈবাল সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার; এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লি. ঢাকা ইত্যাদি স্থানে যোগ উৎসব পালিত হয়। পাশাপাশি ২১ জুন বিশ্ব সংগীত দিবস ও বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে দুরন্ত টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন, ‘দুরন্ত সময় সিজেন-৩’ এ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। এখানে শিশুদের এই দুটি দিবস উপলক্ষে জানানো হয়।

জয়সান ইয়োগা অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার বাংলাদেশে ইয়োগার প্রসার ও প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে। ইয়োগা নিয়ে সারা দেশে প্রায় ২ হাজারের বেশি মানুষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের মানুষ যোগকে আরো ভালোভাবে জানুক এবং যোগ দেশ ও দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়ুক এটিই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.