Monday, September 28, 2026
spot_img
Home Blog Page 116

‘জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে উজ্জ্বলা’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ছোটবেলা থেকেই সাজগোজ পছন্দ করতেন তাহমিনা সুলতানা তুলি। তবে জীবনে একটি দুর্ঘটনার পরে বিউটি আর্টিস্ট হওয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ পেশা হিসেবে বেছে নেন। উজ্জ্বলা থেকে কোর্স করে নিজেই একটি বিউটি স্যালন দিয়েছেন নীলফামারি জেলার ডোমার থানাতে। বর্তমানে মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তিনি এখন সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী। স্যালনে কাজ করার জন্য রেখেছেন আরো দুটি মেয়ে। নিজের সংসার নিজেই চালাচ্ছেন। এই পর্যায়ে আসার পেছনে উজ্জ্বলার কীভাবে সহযোগিতা করেছে সেই গল্পই শুনবো আজ তার মুখে ।

শ্বশুড় বাড়ি থেকে লেখাপড়া করতে দেয়নি

এইচএসসি পরীক্ষার তিন মাস আগে আমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের আগে শ্বশুড় বাড়ি থেকে বলেছিলো লেখাপড়া করাবে। তবে এইচএসসি পরীক্ষার পরে আর লেখাপড়া করাতে চায়নি। তারা বলে, ‘কেন লেখাপড়া করাবে? আমরা কী চাকরি করাবো?’ স্বামীর সঙ্গে কথা বলার পর সে বলে, ‘কোনো একটি বেছে নিতে হবে।’ এরপর সংসার টেকানোর কথা ভেবে পড়া বন্ধ করে দিই। তবে সংসারের শান্তি রক্ষার জন্য যেই বিসর্জন দিয়েছিলাম, সেটি আমার ভাগ্যে জোটেনি।

২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সংসার ভালোভাবেই চলছিলো। সবকিছু ঠিকঠাক ছিলো। আমি এক মাস বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ফিরে গিয়ে স্বামীর আচরণে বেশ পরিবর্তন খেয়াল করি। এক পর্যায়ে ঘর গুছাতে গিয়ে দেখি ইয়াবা, ফ্যান্সিডিল, গাঁজা ভরে রয়েছে। এসব দেখে কান্নাকাটি শুরু করি। ভীষণ আঘাত পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিলো, মাথার উপরে ছাদ ভেঙে পড়ছে। স্বামীর কাছে জানতে চাইলে সে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। এক মাস পর আবার এমন প্যাকেট দেখলাম। এ সময় আমার ওপর ভীষণভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে দেয় সে। আমাদের সন্তান হচ্ছিলো না।

এরপর আমি একটি সন্তান দত্তক নিই। স্বামীও রাজি হলো। ভেবেছিলাম সন্তানের দিকে তাকিয়ে সে হয়তো কিছুটা হলেও ঠিক হবে। কিন্তু সব আশায় গুঁড়েবালি। সে পরিবর্তন হয়নি।

নিজে কিছু করার জেদ ছিলো

২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি আমার আব্বা মারা যায়। সে সময় আমার স্বামী এসে জানাজা পড়লো। আমাদের বাসায় থাকলো। ভেবেছিলাম, এবার হয়তো সে ঠিক হবে। কিন্তু তা-ও হলো না। একইভাবে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ চালিয়ে যাচ্ছিলো। আব্বা মারা যাওয়ার ৪০ দিন পর সিদ্ধান্ত নিলাম যে তার সঙ্গে আর থাকবাে না। তার অমানবিক আচরণ আমাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিলো।

তবে আমার একটা জেদ ছিলো, অন্যের বোঝা হয়ে রইবো না। নিজে কিছু একটা করবো। তখন আমাদের এখানের একটি স্থানীয় পার্লারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম উজ্জ্বলা মেকআপের ওপর প্রশিক্ষণ দেয় এবং প্রতিষ্ঠানটি মেয়েদের জন্য খুবই ভালো। নীলফামারিতে উজ্জ্বলার একটি ক্লাস হয়েছিলো। সেটা খুব ভালো লাগলো। আমার মনে হলো এখানেই আমার শিখতে হবে। তবে বাসা থেকে ঢাকা গিয়ে শেখার বিষয়টিতে কেউ মত দিচ্ছিলো না। সে সময় আমার ভাবি আর বোন সহযোগিতা করে এবং শেখার জন্য কিছু টাকা দেয়। এরপর উজ্জ্বলায় সম্পূর্ণ কোর্স করি।

কঠিন সময় উজ্জ্বলা হাত ধরেছে

শিখতে শিখতে বাসায় কিছু কাজ করা শুরু করলাম। ২০২০ এর জানুয়ারিতে নিজে স্যালন দিই। মাসিক আয় হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয়।

আমি খুব কঠিন একটা সময় পার করছিলাম। দিশেহারা লাগতো। কী করবো, কীভাবে করবো -ভেবে পেতাম না। উজ্জ্বলা সে সময় আমার হাতটি ধরেছে। আমাকে আশার আলো দেখিয়েছে। জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে উজ্জ্বলা। আমি এখন স্বাবলম্বী হতে পেরেছি এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য। উজ্জ্বলা আমাদের কেবল বিউটিফিকেশনের খুঁটিনাঁটি শেখায়নি। কীভাবে সবকিছু ব্যবস্থাপনা করে একটি স্যালন পরিচালনা করা যায়, সেটিও শিখিয়েছে।

প্রতিটি কোর্সে উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা আপা ব্রিফিং দিতো। তখন আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিলো। উজ্জ্বলায় বিশেষজ্ঞরা শেখান। তারা প্রতিটি বিষয় খুব নিঁখুতভাবে শিখেয়েছেন। উজ্জ্বলার জন্যই আজ এ জায়গায় এসে দাঁড়াতে পেরেছি।

অন্যরা পারলে, আমিও পারবো

উজ্জ্বলায় ক্লাস করতে গিয়ে যখন সবার গল্প শুনতাম, দেখতাম প্রত্যেকের জীবনেই একটি স্ট্রাগল রয়েছে। এসব শুনলে চোখে পানি চলে আসতো। মনে হতো, মানুষ কতো কষ্ট করে এগিয়ে যায়। আমিও পারবো।

উজ্জ্বলাতে তখন মানসিক স্বাস্থ্য ক্লাসের ফ্যাকাল্টি ছিলেন আঞ্জুমান পারভীন অভি। তার কাছ থেকে শিখেছি প্রতিকূল পরিবেশেও কীভাবে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায়। আমাদের ডায়েট ক্লাসও ছিলো। উজ্জ্বলা বলতো কেবল অন্যকে সাজালেই হবে না। নিজেকেও গুছিয়ে রাখতে হবে। এগুলো বড় শিক্ষা জীবনে।

ভবিষ্যতে আফরোজা পারভীন আপার মতো প্রশিক্ষক হতে চাই। স্বপ্ন দেখি, উজ্জ্বলা নীলফারিতে শাখা করবে এবং আমি সেখানে কাজ করছি।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ২৩তম।

 

‘স্বাবলম্বী হতে না পারলে সমাজে মেয়েদের কদর নেই’

সাতকাহন২৪.কম

ছোটবেলায় রায়হানা আক্তার তেসামের বাবা মারা যায়। মায়ের বিয়ে হয়ে যায় অন্য জায়গায়। তখন থেকে মেয়েটির মনে হতো নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, নিজে কিছু করতে হবে। খুলনা ভার্সিটির আওতায় কেসিসি ওমেন্স কলেজ থেকে ফ্যাশন ডিজানিংয়ের ওপরে অনার্স করেন। ভাবছিলেন, নিজেকে স্বাবলম্বী করার জন্য আর কী কী করা যায়। এ সময় সন্ধান পেলেন উজ্জ্বলার। মেকআপের বিষয়ে ছোটবেলা থেকে একটা আগ্রহও ছিলো।

উজ্জ্বলা থেকে বিউটিফিকেশনের উপর কোর্স শেষ করে এখন নিজেই খুলনায় একটি স্যালন খুলেছেন । মাসিক আয় প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে উজ্জ্বলা কীভাবে সাহায্য করেছে? উত্তরে বলেন, ‘ চাকরি করলে নিজের স্বাধীনতা থাকে না। ব্যবসায় থাকে। আর স্বাবলম্বী না হতে পারলে সমাজে মেয়েদের কোনো কদর নেই। ২০১৮ সালে আমি উজ্জ্বলায় আসি। উজ্জ্বলায় পরিবেশ আমার কাছে খুব ইতিবাচক মনে হয়। স্বল্প খরচে এখান থেকে কোর্স করা যায়। এটা খুবই ভালো বিষয়। আসলে উজ্জ্বলা আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে, শক্তি জুগিয়েছে।

আমি মেকআপের কিছুই ভালোভাবে জানতাম না। উজ্জ্বলার কোর্স থেকে মেকআপের সব আদ্যপান্ত শিখেছি। আর এখানে বিজনেস ম্যানেজম্যান্টের ওপর একটি কোর্স করায়। এটা খুব উপকারে লেগেছে ব্যবসা দাঁড় করাতে। উজ্জ্বলার কোর্সগুলোই আমাকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দাঁড় হতে সাহায্য করেছে।’

আমার খালাতো বোন ও তার স্বামী আমাকে পড়ালেখা ও কাজের ক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করেছে জানিয়ে তেসাম বলেন, ‘আমার স্বামীও সাহায্য করেছে। তবে প্রথম দিকে বিউটি আর্টিস্ট হওয়ার ক্ষেত্রে শ্বশুড় বাড়ি থেকে কম সহযোগিতা পেয়েছি। পরে অবশ্য তারাও উৎসাহ জুগিয়েছে।’

কোর্স শেষে উজ্জ্বলা থেকে একটি পরীক্ষা হয়। সেখানে মেধা ও কাজের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হয়। এসব পরীক্ষাতেও ভালো মাকর্স পেয়েছিলেন তেসাম। জানান, উজ্জ্বলার এই পরীক্ষাগুলো খুব উপকারে আসে। এটা যে কারো ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক। উজ্জ্বলায় আমি সেরা ১০ হয়েছিলাম এবং তাদের কাছ থেকে অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলাম। এটা আমার সম্মান অনেক বাড়িয়েছে। জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার বিষয়টি উজ্জ্বলার অনেক ভালো দিক। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

ভবিষ্যতে একজন দক্ষ বিউটি আর্টিস্ট হয়ে উঠতে চান তেসাম। নিজের কাজ দিয়ে মানুষের মন জয় করাই তার লক্ষ্য। বলেন, ‘উজ্জ্বলা আমাকে শুধু মেকআপ করানোই শেখায়নি। ত্বক ও চুলের যত্নের বিষয়গুলোও খুব ভালোভাবে শিখিয়েছে। এভাবেই কাজ করে এগিয়ে যেতে চাই এবং উজ্জ্বলার নাম আরো প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ২২তম।

এবিসি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টারের ৫ম বার্ষিকী উদযাপন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

এবিসি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টার ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। এ উপলক্ষ্যে ১০ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর গুলশান ২- এর দি রয়্যাল প্যারাডাইস হোটেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো গ্র্যান্ড-প্যারেন্টস ডে উদযাপন এবং প্রি-স্কুল গ্র্যাজুয়েটদের সনদ প্রদান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ পারভিন (সিনিয়র ম্যানেজার, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব অ্যাডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি)। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত সেবা গ্রহীতা, তাদের সন্তান ও গ্র্যান্ড প্যারেন্টস। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান স্ট্যানডার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (এসইস)- এর এমডি জিয়া উদ্দিন ইমরান ও প্রিন্সিপাল লরি এ. ওয়ালস সহ বিশিষ্ট্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এবিসি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, সোনিয়া আকরাম তার পাঁচ বছরের পদার্পণের এই যাত্রার অভিজ্ঞতার সাথে বিভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জ এবং কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়। এই ওয়েবসাইটের প্যারেন্টস পোর্টাল থেকে ভবিষ্যতে বাবা-মা কীভাবে তাদের সন্তানের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং তাদের বয়স ভিত্তিক দক্ষতা ও বিকাশের উন্নয়ন সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন সেই বিষয় তুলে ধরা হয়।

এই ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করণে চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন, মনোবিজ্ঞানী ফারজানা ফাতেমা (রুমী), ড. আইরিন বিনতে আজাদ এবং ‍সিনিয়র স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট খুশবু আলম ক্যানি। অনুষ্ঠানে তারা মত বিনিময় সভায় সংক্ষিপ্ত আকারে সমাজে ডে-কেয়ার সেন্টারের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এবিসি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টার ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে তার যাত্রা শুরু করে এবং বাংলাদেশে প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ডার্ড পাঠ্যক্রম (কারিকুলাম) অনুসরণ করে আর্লি চাইল্ডহুড ডেভলপমেন্ট (ই.সি.ডি) বিষয়ক পরিসেবা ডে-কেয়ার সেক্টরে নিয়ে আসে। ইসিডি কার্যক্রমে বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে শিশুর বয়স অনুযায়ী বিকাশ নিশ্চিত ও বাস্তবায়ন করা হয় এখানে।

‘স্বনামে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নটা উজ্জ্বলা দেখিয়েছে’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় মেয়েটির বাবা মারা যায়। দুই বোন তারা। মায়ের ওপর সংসার চালানোর ভার পড়ে। বাবা মারা যাওয়ার কিছুদিন পর সম্পত্তি নিয়ে কলহের কারণে দাদার বাড়ি থেকে আলাদা হয়ে পড়েন তারা। এ সময় মনে হয়েছিলো আকাশ ভেঙে যেন মাথায় পড়লো। তখন থেকেই ভাবতেন কীভাবে নিজেকে স্বাবলম্বী করা যায়।

বাবা মারা যাওয়াতে ছোটবেলাতেই তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। তবে স্বাবলম্বী হওয়ার অদম্য ইচ্ছাটা মনে থেকে গিয়েছিলো। আর এই পথে সহযোগী হলেন স্বামী ও উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলা থেকে বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বর সেক্টরে একটি স্যালন খুলেছেন তিনি। মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয়। আজ একটি সফল নাম উম্মে সাদিয়া ঐশী। চলুন পাঠক, উম্মে সাদিয়ার জীবনের চড়াই-উৎড়াই, সফলতার পেছনে উজ্জ্বলার ভূমিকার গল্পগুলো জানি।

সবসময় ভাবতাম স্বাবলম্বী হবো
বাবা মারা যাওয়ার পর খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। দাদার বাড়ি থেকে অনেক অবহেলা পেয়েছি। মাঝে মাঝে ভাবতাম, বাবার অনেক সম্পদ থাকলে ভালো হতো। মায়ের এতো সমস্যায় পড়তে হতো না। মাকে দেখেই মনে হয়েছে আমাকে অনেক শক্ত ও স্বাবলম্বী হতে হবে। তবে বিয়ের পর স্বামীর খুব সহযোগিতা পেয়েছি। বর্তমানে আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি, সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

করোনার সময় লকডাউনে পড়াশোনা নেই, কোনো কাজ নেই। খুব হতাশ লাগছিলো। ভাবছিলাম, কী করা যায়। এ সময় ফেসবুক ঘাটতে গিয়ে উজ্জ্বলার অ্যাড চোখে পড়লো। মনে হলো, আমি তো বিউটি আর্টিস্ট হতে পারি। এই কাজটা আমার ভালোও লাগে। তখনই উজ্জ্বলার সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। লক ডাউন কিছুটা শিথিল হয়ে আসার পর ছয় থেকে সাত জন নিয়ে উজ্জ্বলা ক্লাস শুরু করে। আমি ভর্তি হয়ে যাই।

উজ্জ্বলা মেকআপের সব খুঁটিনাঁটি শিখিয়েছে

আমি শুধু হালকা-পাতলা মেকআপ করতে জানতাম। তবে মেকআপ শৈল্পীকভাবে করার একটি পদ্ধতি রয়েছে। আর এসব পদ্ধতি শিখেছি উজ্জ্বলার মাধ্যমে। আমার শিক্ষা পদ্ধতিকে পরিপূর্ণ করেছে উজ্জ্বলা। এখানকার প্রশিক্ষকরা খুব দক্ষ।

শক্তভাবে গড়ে তুলেছে উজ্জ্বলা

মেকআপ শেখানোর পাশাপাশি উজ্জ্বলায় গ্রুমিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্লাস হতো। এগুলো আমাকে নিয়মানুবর্তী হতে সাহায্য করেছে এবং প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও মানসিক স্বাস্থ্যকে দৃঢ় রাখতে শিখিয়েছে। উজ্জ্বলা শক্তভাবে গড়ে তুলেছে। আমার জীবনে এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অসীম।

আমার কাছে সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করার টাকাটা ছিলো না। এ বিষয়ে উজ্জ্বলার সঙ্গে কথা বলি। তারা আমাকে ধীরে ধীরে টাকা পরিশোধ করে ক্লাস করার ব্যবস্থা করে দেয়। সেটি না পারলে আজ হয়তো আর শেখাই হতো না। এই সহযোগিতার জন্য উজ্জ্বলার প্রতি আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ।

স্যালন উদ্বোধন করার সময় উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন আপাকে দাওয়াত দিই। ভেবেছিলাম, উনি হয়তো আসবেন না। ব্যস্ত মানুষ। তবে উনি এসেছিলেন। আর পার্লার ঘুরে ঘুরে পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমি খুব অভিভূত হয়েছিলাম। আমার চোখ দিয়ে পানি চলে আসে উনার উপস্থিতিতে। নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হয়েছিলো সেদিন। পরম পাওয়া মনে হয়েছিলো।

আসলে উজ্জ্বলা কেবল শিক্ষার্থীদের শিখিয়েই ছেড়ে দেয় না। পরবর্তী সময়েও তার পাশে থাকে। যেকোনো অবস্থাতেই উজ্জ্বলাকে এখনো আমরা ছায়ার মতো পাশে পাই। যেন একটি পরিবারের মতো। এখানে সব সুবিধা-অসুবিধার কথা বলা যায়। এটা সাধারণত সবাই করে না। উজ্জ্বলা একটি শান্তির জায়গার নাম।

বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে স্বনামধন্য হতে চাই

আসলে বিউটি আর্টিস্ট হতে হলে সবসময় আপডেট থাকতে হয়। আর উজ্জ্বলা আপডেট কোর্সগুলো আনে। এখনো সময় পেলে এই কোর্সগুলো করি। নিজেকে দক্ষ করতে এগুলো খুব সহায়ক। বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে এগিয়ে যেতে চাই এবং পার্লারকে আরো বড় করতে চাই। স্বনামে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যেই পথ চলছি। আর উজ্জ্বলা সেই স্বপ্নটা বুনে দিয়েছে চোখে।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ২১তম।

‘স্বাবলম্বী হতে চাইতাম, উজ্জ্বলা সাহস জুগিয়েছে’

সাতকাহন২৪.কম

ছোটবেলা থেকেই সাজ-গোজের প্রতি একটা ভীষণ আকর্ষণ ছিলো তানজিনা আক্তার পিংকির। ডিগ্রি পাশ করার পর ২০১৯ সালে উজ্জ্বলা থেকে বিউটিফিকেশনের উপর সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করেন। বর্তমানে নোয়াখালিতে স্যালন খুলেছেন তিনি। মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয়। নিজের সংসার তো চালাচ্ছেনই পাশাপাশি মা-বাবার সংসারেও সহযোগিতা করছেন। একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। কেমন ছিলো তার পথ চলা, উজ্জ্বলা তাকে কতটুকু সহযোগিতা করেছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে- এসব গল্পই শুনবো তার মুখ থেকে।

আফরোজা পারভীন ম্যাডামের কাছ থেকে অনেক শিখেছি

ফেসবুকের মাধ্যমে উজ্জ্বলার অ্যাড দেখেছিলাম। তারা কীভাবে শেখায় সেই ভিডিওগুলো দেখি। খুব ভালো লেগেছিলো। মনে হয়েছিলো বিউটিফিকেশন শেখার ক্ষেত্রে উজ্জ্বলা মেয়েদের জন্য ভালো প্ল্যাটফর্ম। এখানে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। এখানকার বোডিংয়ে থেকে ক্লাসগুলো করা যায়। আমরা যারা ঢাকার বাইরে থাকি, তবে সেখানে গিয়ে কাজ শেখার সাহস পাই না, তাদের জন্য উজ্জ্বলা ভালো।

উজ্জ্বলা খুব নিঁখুতভাবে শেখায়। প্রতিষ্ঠানটির সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন ম্যাডামের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখানকার সবগুলো ক্লাসই খুব ভালো লাগতো।

স্বামী অনেক সহযোগিতা করেছে

উজ্জ্বলা থেকে কোর্স করে এসে ২০২০ সালে গ্রামে পার্লার খুলি। বর্তমানে শহরেও একটি পার্লার খুলেছি। আমার স্বামী আমাকে এসব ক্ষেত্রে খুব সহযোগিতা করে। আমার বিয়ে হয়ে যায় ক্লাস এইটে পড়ার সময়। বিয়ের পর ডিগ্রি পাশ করি। পার্লারের কাজ শিখি বলে অনেকেই আমার স্বামীকে বাজে কথা বলতো। গ্রামের অনেকেই বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখতো না। শ্বশুর বাড়ি থেকেও অনেক নেতিবাচক কথা শুনেছি। তবে আমার স্বামী ও শ্বশুর আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমার শ্বশুর বলতেন, ‘ লেখাপড়া শিখে কেন ঘরে বসে থাকবে? কাজ করো।’

উজ্জ্বলা সাহস জুগিয়েছে

আমি সবসময় নিজেকে স্বাবলম্বী করতে চাইতাম। আর উজ্জ্বলা আমার সেই পথে সাহস জুগিয়েছে। উজ্জ্বলা কেবল মেকআপের খুঁটিনাঁটি শেখায়নি। পাশাপাশি শিখিয়েছে নিজের জন্য নিজেকেই দাঁড়াতে হবে। আফরোজা আপা সাহস জুগিয়েছেন। এর আগে আমি যেন একটা অন্ধকার জগতে ছিলাম, যেন কালো চশমা পড়া ছিলো চোখে।

উজ্জ্বলার গ্রুমিং ক্লাসগুলোতে শিখেছি কীভাবে কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। উজ্জ্বলার প্রতিষ্ঠাতা আদিত্য সোম দাদা আমাদের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ক্লাস করাতেন। এই ক্লাস থেকে শিখেছি কীভাবে ব্যবসাকে সফল করতে হবে। কঠিন সময় শক্ত থেকে ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে হবে। একটা মেয়েকে কীভাবে মাথা উঁচু করে পথ চলতে হবে সেটি শিখিয়েছে উজ্জ্বলা। নিজের গতি নিজেই নির্ধারণ করতে হবে। ভবিষ্যতে আরো ভালো বিউটি আর্টিস্ট হতে চাই। এভাবেই সাহসের সঙ্গে কাজ করে যাবো-এটাই আশা।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ২০তম।

‘ভেঙে যাওয়া নারীকে দাঁড় হতে শেখায় উজ্জ্বলা’

সাতকাহন২৪. কম ডেস্ক

জাকিয়া আক্তার পুষ্পা ২০১৭ সালের শেষের দিকে উজ্জ্বলায় কোর্স করতে আসেন। কোর্স শেষে বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন। নরসিংদীতে নিজস্ব একটি বিউটি স্যালন রয়েছে তাঁর। উদ্যোক্তা হিসেবে অত্যন্ত সফল এই মেয়েটির মাসিক আয় প্রায় লাখ খানেক টাকা। বর্তমানে নরসিংদিতে উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তাঁর পথচলা কেমন ছিলো, জীবনের চড়াই-উৎরাইগুলো কীভাবে মোকাবিলা করেছেন- এসবেরই গল্প জানবো তাঁর নিজের ভাষায়।

আসলে বিউটি আর্টিস্ট শখ থেকে হয়েছি এমন নয়। নিজেকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমার একটি পেশা দরকার ছিলো। আর এই পেশাটি আমার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ মনে হয়েছে, তাই আসা। আমার সবসময় মনে হতো পরিবারের পাশে দাঁড়াবো। শক্ত হবো, আয় করে পরিবারকে দেবো। আমরা দুই বোন এক ভাই ছিলাম। বড় বোন ২০১৩ সালে মারা যায়।

ছোটবেলায় আমি সব করতাম- নাচ ,গান, ফুটবল খেলা। এই জন্য অনেকে অপছন্দ করতো। আমাকে শুনতে হয়েছে যে সবকিছুই করছি। আসলে কিছুই পারবো না। আঞ্চলিক ভাষায় শুনাতো, আমি সবকিছুতেই ‘খাবলাখাবলি’ করি। তখন খুব জেদ হলো কিছু করার।

কলেজে ভর্তি হওয়ার পর একটি স্থানীয় পার্লারে কাজ শিখি। মা টাকা দিয়েছিলো। শেখানে শেখানো ভালো লাগছিলো না। এরপর আমার নাচের শিক্ষক আরেকটি জায়গার কথা বললো শেখানে শিখি। তবে তখন আর মায়ের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার সাহস পাইনি। মোবাইল বিক্রি করে দিয়েছিলাম টাকা জোগাড় করতে। এরপর বাসায় একটি পার্লার দিই খুব ছোট করে। তবে কাজ করতে গিয়ে মনে হচ্ছিলো আরো দক্ষ হওয়া দরকার। নিজের কাজে সন্তুষ্ট হতে পারছিলাম না। তখন উজ্জ্বলার বিজ্ঞাপন দেখি। উজ্জ্বলায় একটি ফ্রি সেমিনার হয়। সেখানে বিউটি আর্টিস্ট আফরোজা পারভীন মেডামের ক্লাস করি। সেটা খুব ভালো লাগে। এরপর উজ্বলায় কোর্স করা। তারপর বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে কাজ করার সুযোগ পাই। ২০১৯ সালে নরসিংদী শহরে পার্লার দিই।

ঢাকা শহরে গিয়ে কোর্স করার ক্ষেত্রে প্রথমে বাবা রাজি ছিলো না। অনেক সময় মিথ্যে বলে কোর্স করতে গিয়েছি। পরে অবশ্য যখন টিভিতে কাজ করি এবং নিজের পার্লার থেকে ভালো আয় করতে শুরু করি, বাবা খুশি হন। বাবার প্রায় ২২ লাখ টাকার ঋণ ছিলো, সেটা আমি পূরণ করেছি। মা ও আমার স্বামী আমাকে কাজের ব্যাপারে বেশ সহযোগিতা করে।

বর্তমানে বাবার সংসারে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে পারি, আর নিজের সংসার তো আছেই। এই ভেবে ভালো লাগে, আমি মা-বাবার জন্য কিছু করতে পারছি। আমি নিজেই ছেলের মতো কাজ করছি।

এলাকার যেসব মানুষ আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতো, এখন তারাই আমাকে বাহবা দেয়। ছেলে-মেয়েদের বলে, ‘পুষ্পার মতো হও। সে বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ নরসিংদীতে এখন অনেকে আমাকে দেখে উৎসাহিত হয়। এটা ভালো লাগে।

আমার বিয়ে হয় ২০২১ সালে। আফরোজা ম্যাম নিজের হাতে সাজিয়েছেন আমাকে। ভাগ্যবতী না হলে এই সুযোগ হয় না।সেদিন আমার বাবা ম্যামকে বলেছিলেন, ‘আপনি আমার মেয়েকে সঠিক পথে সঠিকভাবে গড়ে তুলেছেন।’ আমি ম্যামের কাছে ভীষণ কৃতজ্ঞ। সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে উজ্জ্বলা থেকে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি আমি।

উজ্জ্বলায় প্রথমে শিক্ষার্থী ছিলাম। এরপর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। এরপর ফ্যাকাল্টি। এই প্রতিষ্ঠানটি আমাকে নিজের নামে পরিচিত হতে সাহায্য করেছি। কেবল কাজ করা শেখায়নি, ভেঙে যাওয়া নারীকে কীভাবে দাঁড় হতে হয় সেটিও শিখিয়েছে। এই জন্যই নিজেকে উজ্জ্বলা মনে করি। নিজের কাজ নিয়ে আরো সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ১৯তম।

সানস্ক্রিন কেনার সময় খেয়াল করুন ৬ বিষয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সূর্যের আলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। প্রথমত, এটি ভিটামিন-ডি এর চমৎকার উৎস। ভিটামিন ডি হাড় সুরক্ষায় কাজ করে। দ্বিতীয়ত, এই আলো মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বেশ কার্যকর।

তবে অতিরিক্ত সূর্যের আলো কিন্তু ক্ষতিকর। বিশেষ করে ত্বকের জন্য। এটি থেকে ত্বক পুড়ে যাওয়া, বলিরেখা পড়া, এমনকি ক্যানসারের মতো সমস্যাও হতে পারে। এসব থেকে সুরক্ষা পেতে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেয় বিশেষজ্ঞরা। তবে হুটহাট করে সানস্ক্রিন কিনে ফেললেই চলবে না। কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সানস্ক্রিন কেনার আগে খেয়াল রাখা জরুরি, এমন কিছু বিষয়ের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট অনলিমাইহেলডটকম ও বোল্ডস্কাই।

১. স্প্রে ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার না করাই ভালো। কিনতে হলে জেল, লোশন বা ক্রিম ধরনের সানস্ক্রিন কিনুন। আসলে স্প্রে মিস্ট আকারে ত্বকে যায়। এতে এটি ভালোভাবে ত্বকে মিশেছে কি না বোঝা যায় না।

২. এসপিএফ দেখে কিনুন। এসপিএফ অবশ্যই যেন ১৫-এর নিচে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৩. সানস্ক্রিনের মধ্যে অবশ্যই পিএ ফ্যাক্টর থাকতে হবে।

৪. সানস্ক্রিন যেন চটচটে বা আঠালো না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৫. কেনার আগে অবশ্যই মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেখে কিনুন।

৬. তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে অবশ্যই ওয়াটার বেস বা পানিসমৃদ্ধ সানস্ক্রিন কিনবেন।

সানস্ক্রিন মূলত সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। বাহিরে বের হওয়ার অন্তত ১৫ মিনিট আগে এটি ব্যবহার করুন। আধা চা চামচ সানস্ক্রিন নিয়ে মুখ, গলা, ঘাড় ও হাতে মাখুন। ভালো উপকারিতার জন্য প্রতি তিন থেকে চার ঘণ্টা পর পর এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেয় বিশেজ্ঞরা।

দেশীদশের ১৩ বছর পূর্তি উৎসব

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

দেশীয় পোশাকের সৃজনশীল দশটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ দেশীদশ ১৩ বছর পার করে ১৪-তে পা রাখলো। গত ২০ আগস্ট বিকাল ৪ টায় বসুন্ধরা সিটির, লেভেল ৭- এর দেশীদশ প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়।

এই আনন্দঘন মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রের সৃজনশীল অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, নাট্যকার ও অভিনেতা বৃন্দাবন দাস, অভিনেত্রী শাহনাজ খুশী, হাওয়া সিনামার পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন ও নায়িকা নাজিফা তুষিসহ বিশেষ অতিথিবৃন্দ। এ ছাড়াও সংবাদ মাধ্যমকর্মী, ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের পদচারণায় দেশীদশ প্রঙ্গন হয়ে উঠে আনন্দমুখর। দেশীদশের উদ্যোগক্তাবৃন্দ ও সদস্যগণ সকলকে সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুরো আগষ্ট মাস জুড়ে সম্মানিত ক্রেতাদের জন্য থাকছে নানা আয়োজন। বৈচিত্র্যপূর্ণ নতুন নতুন ডিজাইনের নির্দিষ্ট পণ্য কেনাকাটায় উপহার হিসাবে থাকছে ৫০০, ৮০০ ও ১ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের গিফট কার্ড, যা পরবর্তী কেনাকাটায় ব্যবহার করা যাবে।

ওয়াক টু সেরেনিটি ও ফোরএম টিভি ইউএসএ-এর ওয়ার্কশপ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়াক টু সেরেনিটি (Walk to Serenity) ও ফোরএম টিভি ইউএসএ (4M TV USA) – এর যৌথ উদ্যোগে ‘মাইন্ডফুল ইভিনিং ফর মেন্টাল হেলথ সাপোর্টার্স’ শীর্ষক একটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট, বিকেল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ পর্যন্ত চলা এই ওয়ার্কশপে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় ‘সাইকোসোশ্যাল সাপোর্ট স্কিল’- এর অ্যাকটিভ লিসেনিং ও বিং নন-জাজমেন্টালের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৭০ মিলিয়ন মানুষের জন্য শুধু মাত্র ৩ হাজার মানসিক স্বাস্থ্য সহযোগী রয়েছে। এটি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম ও বিপজ্জনক। ওয়ার্কশপে ভবিষ্যতে আরো ব্যক্তিকে মানসিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

ত্বক ভালো রাখতে চান? ৪ খাবার অবশ্যই খান

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সৌন্দর্য শুরু হয় ভেতর থেকে। আর ভেতরের এই সৌন্দর্য আসে স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্য দিয়ে। আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় অঙ্গটি হলো ত্বক। ত্বক ভালো রাখতে কিছু জরুরি খাবারের নাম জানানো হলো। রূপচর্চা বিষয়ক ওয়েবসাইট সিকরেটস্পা জানিয়েছে এসব খাবারের নাম।

তৈলাক্ত মাছ
আমাদের ত্বকের জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড খুব জরুরি। এই উপাদানটি পাওয়া যায় তৈলাক্ত মাছে। যেমন : স্যামন, সারদিন, ম্যাকরেল ইত্যাদি। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্টও খেতে পারেন।

ওয়ালনাট
বেশিরভাগ বাদামই ত্বকের জন্য ভালো। কারণ, এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ই। তবে ওয়ালনাট একটু বেশিই উপকারী। কারণ, এতে কেবল ভিটামিন ই নয়, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডও রয়েছে। এ ছাড়া এতে রয়েছে জিংক। জিংক ত্বক নিরাময়ে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।

আদা
আশ্চর্য হচ্ছেন? আসলে আদায় রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান। এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে এবং বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ডিমের সাদা অংশ
ডিমের সাদা অংশে রয়েছে স্বাস্থ্যকর প্রোটিন। এটি প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেনকে ধারণ করতে উপকারী। পাশাপাশি এর মধ্যে থাকা অ্যামাইনো এসিড ত্বকের জন্য ভালো। এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতেও কার্যকর।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.