Sunday, September 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 99

প্রায়ই কি মাথা কাঁপছে মনে হয়?

ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু
আমাদের আশেপাশে দেখা যায় অনেকের মাথা কাঁপতে থাকে। এটা অনেকেই আমলে নেয় না। আবার অন্যরা বুঝলেও প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন না। এর সাথে অনেকের দু’হাত কাঁপতে থাকে। সাধারণত কোন কাজ করতে গেলে হাত কাঁপে। শুরুতে কেউ পাত্তাইই দেয় না। কিন্তু ধীরে ধীরে এটা বাড়ে। তবে লক্ষণ বাড়ার হার বেশ শ্লথ।

এই ব্যক্তিদের গলার স্বর কিন্তু পরিবর্তন হয়ে যায়। অনেকে এটাকে পারকিনসন্স রোগ বলে ভুল করে। অনেকে মনে করে হাত পা কাঁপলেই বুঝি পারকিনসন্স রোগ। আসলে তা নয়। আমি যে রোগটি নিয়ে আলোচনা করছি সেটি হলো বিনাইন এসেন্সিয়াল ট্রেমর। এর সঙ্গে পারকিনসন্স রোগের অনেক পার্থক্য রয়েছে। মূল যে পার্থক্য তা হলো পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত -পা সাধারণত একপাশে কাঁপে, কোনো কাজ করতে গেলে কাঁপুনি থেমে যায়। বিশ্রামে কাঁপুনি বাড়ে। আর পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মাথায় কখনো কাঁপুনি থাকে না।

দুটোর চিকিৎসা পদ্ধতিতেও বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। বিনাইন এসেনশিয়াল ট্রেমর-এ আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারে অন্য কেউ এ রোগে আক্রান্ত থাকতে পারে।

বিনাইন এসেনশিয়াল ট্রেমরে আক্রান্ত ব্যক্তির পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয় না বললেই চলে। সাধারণত নিউরোলজিস্টরা দেখেই রোগটি নির্ণয় করে চিকিৎসক দেন। বিটা ব্লকার যেমন প্রপানোলল ওষুধ সেবন করে এ রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। ওষুধের মাত্রা ঠিক করতে কিছুটা সময় লাগে। তাই নিয়মিত আপনাকে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে হবে। ওষুধের ডোজ ঠিক করার পর ঘন ঘন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

রোগটির চিকিৎসা না করালে অনেকেই পড়ে যেতে পারেন, রাস্তায় চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই দেরি না করে নিউরোলজিস্টকে দেখান।

লেখক
রেজিস্ট্রার, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইন্স

মেরুদণ্ডের টিউমার : কী করবেন?

ডা. মো. ফরিদ রায়হান

মেরুদণ্ডের টিউমার হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা না থাকলেও ত্রুটিপূর্ণ জিনের কারণে এটি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন। এ ছাড়া ধারণা করা হয় ক্ষতিকর পরিবেশে অনেকদিন থাকলে অথবা ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

আবার দেহের অন্যান্য অঙ্গের টিউমার ও ক্যানসার মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া টিউমার মেরুরজ্জুর আবরণীতে হয়, যা পরে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

মেরুদণ্ডের টিউমার প্রতিরোধে করণীয়-

# দেহের অঙ্গবিন্যাস ঠিক রাখতে হবে। আধশোয়া অবস্থায় টিভি বা ল্যাপটপ দেখা, কয়েকটি বালিশ একসঙ্গে দিয়ে ঘুমানো ইত্যাদি এড়িয়ে যেতে হবে। এতে মেরুদণ্ডে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

# গাড়ি চালানোর সময় অবশ্যই সিটবেল্ট পড়ে চালাবেন। এতে ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হবে।

# যারা বেশিরভাগ সময় শুয়ে-বসে থাকেন বা অফিসে বসে কাজ করেন, তাদের অভ্যাস পরিবর্তন করুন। কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে। আর অফিসে বসে কাজ করলে অন্তত ৪০ মিনিট পর চেয়ার থেকে উঠুন। একটু হেঁটে আসুন।

# মেরুদণ্ড ভালো থাকে এমন ব্যায়াম করতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্যাক ম্যাসল এক্সারসাইজ ও সারভাইক্যাল এক্সারসাইজ একসঙ্গে করা যেতে পারে। ব্যায়ামে অসুবিধা হলে ফিটনেস ট্রেইনারের পরামর্শ নিয়ে নিতে পারেন।

# এরপরও সমস্যা মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক : নিউরো ও স্পাইনাল সার্জন
কনসালট্যান্ট, নিউরোসার্জারি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

চেম্বার : কমফোর্ট ডক্টর’স চেম্বার-৩
১৬৫-১৬৬, গ্রিন রোড, ধানমণ্ডি, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-২২২২৪৬৩৩৮-৪১
মোবাইল : ০১৭৩১-৯৫৬০৩৩

দলিত নারী রেবা বৈদ্যের এগিয়ে চলার গল্প

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

২০১৫ সালে স্বামী মারা যায় রেবা বৈদ্যের। একমাত্র মেয়ে সন্তানকে নিয়ে খুব অসহায় হয়ে পড়ে। কী করবে, কোথায় যাবে- এক দিশেহারা অবস্থা। এক পর্যায়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি খুলনায় চলে আসে। সারাক্ষণ মনে হচ্ছিল নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। মেয়েকে বড় করতে হবে।

এ রকম সময় খুলনাতে ডুমুরিয়া থানার চুকনগর বাজারে দলিত কমিউনিটি অফিসে উজ্জ্বলার পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত দলিত নারীদের বিউটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। এ খবর জেনে রেবাও যুক্ত হয় সেখানে। এরপর উজ্জ্বলার মাধ্যমে বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয়। বর্তমানে তিনি ফ্রি ল্যান্সিং করছেন। মেয়েকেও নিজের পছন্দ মতো বড় করতে পারছেন।

‘স্বামী মারা যাওয়ার পর মনে হয়েছিল আমাকে শক্ত হতে হবে। যে করেই হোক নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। প্রশিক্ষণ নিয়ে আজ ভালো আছি,’ বলছিলেন রেবা।

দলিত কমিউনিটির মানুষকে নিচু করে দেখা হয় জানিয়ে রেবা বলেন, ‘এমনকি কখনো কখনো তাদের স্কুলের বেঞ্চেও সব সহপাঠীদের সঙ্গে বসতে দেয় না। তাদের যোগ্যতা থাকলেও ভালো জায়গায় সুযোগ দিতে চায় না। আর উজ্জ্বলা এই কোর্সটা করিয়েছিল যেন প্রান্তিক নারীরা সামনে এগিয়ে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে। এটি খুবই প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ।’

উজ্জ্বলা দুই মাস কাের্স করায়। ত্বক পরিচর্যা থেকে শুরু করে, হেয়ার কাট, পেডিকেউর-মেনিকিউর, ব্রাইডাল মেকআপ, ফেসিয়াল ইত্যাদির পরিপূর্ণ ধারণা দিয়েছে তারা, যেন আমরা আমাদের এলাকায় কাজ করতে পারি। বর্তমানে অনেকেই কাজ করছে এবং উপকৃত হয়েছে- জানান রেবা বৈদ্য।

প্রশিক্ষণ শেষে একটি স্যালন খুলেন রেবা। মাসে সব খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা থাকতো হাতে। তবে বর্তমানে মায়ের অসুস্থতার কারণে স্যালন থেকে বিরত নিয়ে ফ্রি ল্যান্সিংয়ের কাজ করছেন। এতেও আয় হচ্ছে ভালোই। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসাবে পুরস্কৃতও হয়েছেন তিনি। বললেন, ‘উজ্জ্বলার আগে আমি আরেকটি জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিই। তবে উজ্জ্বলা আমাকে খুব নিঁখুতভাবে শিখিয়েছিল। এর জন্য ফ্রি ল্যান্সিং করেও ভালো আছি। আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।’

উজ্জ্বলার মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি দলিত সমাজের মানুষকে সহযোগিতা করে তবে তারা এগিয়ে যেতে পারবে। দেশের জন্য ও নিজের জন্য ভালো কিছু করতে পারবে বলে জানান রেবা।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৫৭তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

আবেগ নিয়ন্ত্রণে ৫ কৌশল জেনে নিন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

আবেগ কী? কেবল মন খারাপ হচ্ছে, তাই কাঁদছেন- এটিই কি আবেগ? একদমই নয়। আনন্দ, রাগ, বিশ্বাস, ভালোবাসা, ঘৃণা, দুঃখ, ভয়, প্যানিক হওয়া সবই আবেগ। মানুষ হিসেবে আবেগ থাকবে, এটা কিন্তু খুব স্বাভাবিক। তবে এটি যেন আপনাকে অন্ধ না করে দেয়, সেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। আবেগ নিয়ন্ত্রণে কিছু কৌশল জানিয়েছে এফআইইউ নিউজ।

নিজের যত্ন
দেখুন, অন্যকে ভালোবাসেন, অন্যের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে দেন ঠিক আছে। তবে আপনার জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি কিন্তু আপনি নিজেই। তাই অন্যকে গুরুত্ব দিন, তবে নিজেকে অবহেলা করে নয়। নিজের দেহ ও মনের যত্ন নিন। ঠিকমতো ঘুমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ, ব্যায়াম করা, নিজের কাজগুলো সময় মতো করে নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হোন। অন্যে কী করলো না করলো, সেগুলো ভেবে সময় নষ্ট না করে নিজের প্রতি মনোযোগী হোন। সর্বোপরি নিজেকে সময় দিন।

সুস্থ সম্পর্ক
যেই সম্পর্ক দিনশেষে আপনাকে কাঁদাবে, যন্ত্রণা বাড়াবে- যেই সম্পর্কে বিশ্বাস, আস্থা নেই সেটি আর যাই হোক সুস্থ কখনোই নয়। নিজের আবেগকে কখনোই এমন জায়গায় বিনিয়োগ করবেন না যেখানে আপনার কদর নেই। মানসিকভাবে সুস্থ থাকুন। সুস্থ সম্পর্কের চর্চা করুন।

অবদমন নয়
আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশলের ভেতর দুটো বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা করা হয়। একটি হলো, পুণর্মূল্যায়ন। অপরটি অবদমন। আবেগ কাজ করলে অনেকেই ভাবেন একে অবদমন করতে হবে। তবে গবেষণা বলছে, অবদমন করতে গেলে এটি আপনাকে আরো পেয়ে বসবে। তাই একে আসতে দিন। না হয়, কিছুক্ষণ একটু কাঁদলেন, কিছুক্ষণ ক্ষোভ, রাগ হলো। একে বয়ে যেতে দিন। কষ্ট হচ্ছে হোক, কষ্টকেই না হয় এই মুহূর্তে উপভোগ করুন।

এরপর আবেগ গুলোকে পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে দেখুন। কোন বিষয়টি আপনার জন্য সমস্যা তৈরি করছে, তা নিয়ে ভাবুন। অর্থাৎ বিষয়টিকে পুণর্মূল্যায়ন করুন।
ভেবে দেখুন-
# আপনার মধ্যে কী ধরনের আবেগ কাজ করছে?
# আপনার শরীর তখন কী অনুভব করছে?
# আপনার মন কী বলছে?
# যখন আবেগ আসছে মন কি বিষয়টিকে খুব বিচার করতে শুরু করে দিয়েছে বিষয়টিকে?
# একে আপনি কীভাবে নিচ্ছেন?

মননশীলতার চর্চা করুন
আবেগকে নিয়ন্ত্রণের জন্য মননশীলতার চর্চা খুব জরুরি। নন জাজমেন্টাল বা কোনো কিছুকে বিচার না করে যেই ভাবনাগুলো আসছে তাকে আসতে দিন। আর হাওয়ার মতো উড়িয়ে দিন। মনে করুন ভাবনাগুলো তুলো। তুলো যেমন হাওয়া মিলিয়ে যায়, ঠিক তেমনিভাবে বিষয়টিকে নিন। কী করণীয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিন। নিজেকে বলুন, ‘ভালো সময় আসছে। আমাকে শুধু একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’

পছন্দের কাজগুলো করুন
সত্যি বলতে কী খুব মন খারাপ বা বিষণ্ণতার মধ্যে পছন্দের কাজগুলো করা কঠিন। বেশ কঠিন। তবুও চেষ্টা করুন পছন্দের কাজগুলো করার। ঘরের বাইরে বেড়িয়ে পরুন। কোথায় বেড়িয়ে আসুন। গান শুনুন, বই পড়ুন, রান্না করুন। যা করতে ভালো লাগে ঠিক তাই করুন। আর নিজে থেকে বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে অসুবিধা হলে পেশাদারদের (সাইকোলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট) সাহায্য নিন।

চোখের নিচের কালো দাগ নিয়ে চিন্তিত? রইল সমাধানের উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

চোখের নিচের কালো দাগ নিয়ে অনেকেই বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে। এতে চোখকে মলিন তো লাগেই, পাশাপাশি ঘটে সৌন্দর্যহানী। কীভাবে দূর করা যাবে এটি? আসুন, জেনে নিই।

শিওরসেল মেডিকেল বিডি- এর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন বলেন, ‘চোখের চারপাশে সাধারণত যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে বা আমাদের কাছে রোগীরা যে সমস্যাগুলো নিয়ে আসে, সেগুলো হলো চোখের নিচের কালো দাগ, বয়সের ছাপ বা বলিরেখা ও চোখ ফোলাভাব। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি হাইড্রেটিং ও অতিরিক্ত ময়েশ্চার সমৃদ্ধ ময়েশচারাইজার। সেই ক্ষেত্রে আই ক্রিম বা আই পারফেক্টার হতে পারে একটি ভালো সমাধান।’

তবে আই ক্রিম কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল করা অত্যন্ত জরুরি। কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান যেন ক্রিমটিতে অবশ্যই থাকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যেমন: মালবেরি স্ট্র্যাক্ট। এটি ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং ত্বকে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়। এই উপাদানটি চোখের নিচের কালো দাগ ও বলিরেখা কমিয়ে আনে।

আরেকটি অন্যতম উপাদান হলো ক্যাফেইন জেল। এটি রক্ত চলাচল বাড়িয়ে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে। ইদানিং আরেকটি উপাদান আইক্রিমে পাওয়া যায়। সেটি হলো প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ ফার্মেন্টেড ব্ল্যাক টি এক্সট্রাক্ট। এটি ত্বকের কোষ পুণর্গঠনে সাহায্য করে, কোনো প্রদাহ থাকলে, সেটিকেও কমিয়ে আনে এবং চোখের নিচের কালো দাগ কমায়।

‘তবে যেকোনো ধরনের আন্ডার আই ক্রিম ব্যবহারের আগে আপনি খেয়াল করবেন, এটি যেন অকুলার টেস্টেটড হয় এবং টিয়ার লেস হয়। কারণ, আপনি চোখের চারপাশের নাজুক এলাকায় যেই ক্রিমটি ব্যবহার করবেন, সেটি অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্ট টেসটেড হতে হবে এবং অল্যার্জেন ফ্রি হতে হবে’- বলেন ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন।

বর্তমানে বাজারে এ ধরনের আইক্রিম তৈরি করছে রিজুভা। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এসেছে রিজুভা আই পারফেক্টর। এই ক্রিমটি একাধারে চোখের চারপাশের ত্বককে আর্দ্র রাখে, উজ্জ্বলতা বাড়ায়, বলিরেখা কমায় ও কোষ পুণর্গঠনে সাহায্য করে। চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে ব্যবহার করতে পারেন এ ধরনের ক্রিমও।

বিউটি আর্টিস্ট হয়ে মাসে আয় এক লাখ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পরই বিয়ে হয়ে যায় কেরাণীগঞ্জের মেয়ে নাহিদা আক্তার টুম্পার। লেখাপড়া শেষ না করতে পারার একটি কষ্ট ছিল ভিতরে। তবে সংসার-সন্তান সামলানোর পাশাপাশি টুকটাক করে বিউটিফিকেশনের কিছু কাজ শেখেন।

বাড়িতে ছোট করে একটি স্টুডিও পার্লারও ছিল তাঁর। তবে পরবর্তী সময় ভাবলেন কাজটা যেহেতু করছেনই, নিজেকে ভালোভাবে দক্ষ করা প্রয়োজন। স্বামীও সম্মতি দিলেন। এরপরই বিউটিফিকেশনের কোর্স করতে ভর্তি হওয়া উজ্জ্বলায়। এখান থেকে সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করে বর্তমানে একটি বড় পার্লার খুলেছেন তিনি। সেখান থেকে মাসে আয় হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা। তিনি হয়েছেন স্বাবলম্বী, উদ্যোক্তা। উজ্জ্বলার সঙ্গে তাঁর পথ চলাটা কেমন ছিল, সেই গল্পই জানাবো।

উজ্জ্বলা জীবন বদলে দিয়েছে

যেহেতু আমি কেরাণীগঞ্জে থাকি, তাই শেখার জন্য এমন একটি জায়গা খুঁজছিলাম যেখানে আস্থা রাখা যায় এবং শেখাটা কাজে লাগে। উজ্জ্বলার খোঁজ পাই অনলাইন থেকে। সেখানে হোস্টেল রয়েছে, বাচ্চা রাখার জায়গাও রয়েছে। এরপর একদিন উজ্জ্বলায় গিয়ে কথা বললাম। পরিবেশটা খুব ভালো লাগে। এরপর ফুল কোর্সে ভর্তি হই। এখানকার ফ্যাকাল্টিরা অনেক ভালোভাবে কাজ শেখায়। কোথায় ফাঁক রাখে না। ব্যবহারও অনেক ভালো। উজ্জ্বলায় গিয়ে অনেক আপন লাগে। বাড়ির মতোই অনুভূতি হয়। মনে হয় না দূরে গিয়েছি।

আগে কেউ আমাকে চিনতো না। কেবল একজন গৃহীনি ছিলাম। এখন আমার কাজের মাধ্যমে অনেকে চেনে, ভালোবাসে। এটা অনেক বড় পাওয়া। এটি হয়েছে কেবল উজ্জ্বলার জন্য। উজ্জ্বলা আমার জীবন বদলে দিয়েছে।

ক্যাপশন : উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি ইকরা আহসানের সঙ্গে নাহিদা আক্তার টুম্পা। ছবি : সংগৃহীত

ক্যাপশন : উজ্জ্বলার ফ্যাকাল্টি ইকরা আহসানের সঙ্গে নাহিদা আক্তার টুম্পা। ছবি : সংগৃহীত

লেখাপড়া শিখতে না পারার কষ্ট ছিল মনে

যেহেতু ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যায়, লেখাপড়াটা আর নিয়মিত করতে পারিনি। এর একটা কষ্ট ছিল মনে। জীবনে কিছুই করতে পারলাম না, এমন মনে হতো। মনে হতো, কী করা যায়, কীভাবে সময়কে কাজে লাগানো যায়? ছোটবেলায় যেহেতু সাজগোজ ভালো লাগতো, তাই এই বিষয়টাকে বেছে নিলাম। এখন নিজেই পার্লার খুলে ভালো আয় করতে পারছি। এটা অনেক সৌভাগ্য।

উজ্জ্বলা শিখিয়েছে সংসার সামলে কীভাবে কাজ করা যায়

প্রথমে যখন উজ্জ্বলায় কোর্স শিখতে তখন একটু দ্বিধা ছিলো মনে। সংসার সামলে, কোর্স শিখে কাজ করতে পারবো তো! তবে সেই দ্বন্দ্ব কাটিয়ে দিয়েছে উজ্জ্বলা। প্রতিষ্ঠানটির সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন আপার একটি গ্রুমিং ক্লাসও ছিলো, সেটি করতে গিয়ে শিখেছি সংসার ও ক্যারিয়ার কীভাবে একত্রে সামলানো যায়। এই ক্লাসটি আমাকে অনেক শিখিয়েছে। উজ্জ্বলার গ্রুমিং ক্লাস থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে ফেলেছি। এখন সবকিছুকে ব্যালেন্স করতে পারি। উজ্জ্বলার শেখানোর কৌশল অনেক ভালো। এমনিতেই বিষয়গুলো মাথায় চলে আসে।

আরো এগিয়ে যেতে চাই

উজ্জ্বলায় শিখেছি বলেই এই পর্যায়ে দাঁড়াতে পেরেছি। কাজ করে আরো সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি বলবো, যারা বিউটি আর্টিস্ট হতে চায় তারা এদিক-সেদিক না ঘুরে উজ্জ্বলার মতো একটি ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স করুক। কারণ, বর্তমানে মানুষের সময়ের গুরুত্ব অনেক এবং বিউটি ইন্ডাসট্রিও জায়গাটাও প্রতিযোগিতামূলক।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৫৬তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

চিনির বিকল্প হিসেবে খেতে পারেন এই ৩ খাবার

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
চিনি অনেকেরই বেশ পছন্দের খাবার হলেও এর ভেতর কোনো পুষ্টিগুণ নেই। অতিরিক্ত চিনি খেলে ওজন বাড়ে, রক্ত ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। এমনকি এর কারণে ক্যানসারও হতে পারে। তাই চিনি এড়িয়ে যাওয়াই জরুরি বলে পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

তবে মিষ্টি যাদের পছন্দ তারা কী করবেন? দুশ্চিন্তার কিছু নেই। চিনির বিকল্প হিসেবে তিনটি খাবার কিন্তু দারুণভাবে আপনার তৃপ্তি মেটাতে পারে। এসব খাবারের নাম জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মধু
মধুতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। মধু মিষ্টি লাগলেও এর মধ্যে প্রচুর পুষ্টি থাকে। এর মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রন। এটি ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে; ওজন কমাতেও উপকারী।

আখের গুঁড়
এই হলুদাভ মিষ্টি খাবারটি লিভারকে ডিটক্স করতে কার্যকর। বিভিন্ন ডেজার্ট তৈরিতে চিনির পরিবর্তে এটি খাওয়া যায়। এর মধ্যে আয়রন, পটাশিয়া সহ অন্যান্য পুষ্টিগুণ রয়েছে।

মিশ্রি
এটি চিনির বিকল্প হিসেবে দারুণ একটি খাবার। এতে রয়েছে ডায়ারি ফাইবার, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এসব উপাদান চিনিতে নেই। মিশ্রি কম পরিমাণে ব্যবহার করলেও খাবারে অনেক স্বাদ আসে।

বসন্তে ত্বকের যত্নে ৬ পরামর্শ

ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন

ঋতুরাজ বসন্ত সাজের ঋতু। প্রকৃতিতে ফুল ফোটে, বসন্তে ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের আমেজ থাকে। তবে ঋতু পরিবর্তন কিন্তু ত্বকের জন্য একটা বেশ চাপের বিষয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা পাল্টে যায়। এর সঙ্গে যোগ হয় ধুলোবালি, জীবাণু। সবকিছু মিলিয়ে ত্বক তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়। হারিয়ে ফেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। এতে ত্বক দুর্বল হয়ে পড়ে। দেখা দেয়, বিভিন্ন রোগ ও সমস্যা। এই জন্য এ সময় ত্বক ও চুলের যত্ন বাড়তি যত্ন জরুরি।

১. বসন্তে ত্বকের যত্নের ব্যাপারে প্রথম যে বিষয়টি আসে, তা হলো ক্লিনজিং। অর্থাৎ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। ত্বকের ধরণ মূলত তৈলাক্ত, স্বাভাবিক, শুষ্ক, মিশ্র, সেনসিটিভ হয়ে থাকে। প্রথমে বলছি তৈলাক্ত ত্বকের কথা। কারণ, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের ত্বক তৈলাক্ত ও মিশ্র। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা গরম কালে গ্লাইকোলিক অ্যাসিড যুক্ত বা সেলিসালিক অ্যাসিড যুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করে। শীতকালে ব্যবহার করে জোজোবা অয়েলযুক্ত ক্লিনজার। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি এই সময় অর্থাৎ বসন্তে শীতের জন্য যে ফেসওয়াশ ব্যবহার করতেন সেটি সকালে ব্যবহার করবেন। রাতে ব্যবহার করবেন গ্লাইকোলিক অ্যাসিড যুক্ত বা সেলিসালিক অ্যাসিড যুক্ত ফেসওয়াশ। যাদের ত্বক শুষ্ক তারা সাধারণত সারা বছর গোট মিল্ক বা ক্যামোমাইলের নির্যাসযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করবেন। যাদের ত্বক স্বাভাবিক তারা হয়তো শীতে ওটমিলযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করে থাকেন, গরমে জোজোবা ওয়েল যুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে সকালে শীতের স্কিনকেয়ার রুটিন এবং রাতে গ্রীষ্মকালের স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলতে হবে।

২. প্রতিটি ঋতুতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়। সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ক্লিনজারটি একটু লাইট ওয়েট, হালকা ক্রিম বা ফোমের লোশন হয়। শীতকালে ভারি ক্রিম ফর্মুলার হয়ে থাকে। শীত কিংবা গ্রীষ্ম সব ঋতুর জন্য ভালো উপাদান হলো হাইলোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরাম। সব ধরনের ত্বকের জন্য এটি ভালো। তবে শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের জন্য এর সঙ্গে আরও কিছু ময়েশ্চারাইজার উপাদান মেশাতে হবে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা যদি গ্রীষ্মকালে হাইলোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরাম ব্যবহার করেন তারা শীতে ইয়াসিনামাইড, টি ট্রি অয়েলযুক্ত সিরাম ব্যবহার করবেন। যাদের স্কিন স্বাভাবিক তারা ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। যাদের ত্বক অনেক শুষ্ক, তারা সিরামাইড, লিপিড ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত ডি রিচ ক্রিমি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন।

মডেল: লাবণ্য; ছবি: মঞ্জুরুল আলম
মডেল: লাবণ্য; ছবি: মঞ্জুরুল আলম

৪. সাধারণত আমাদের দেশে ঋতুভেদে সানস্ক্রিন তেমন একটা পরিবর্তিত হয় না। সানস্ক্রিনটি ব্রড এক্সপ্রেকট্রাম হয়, এসপিএফ ৫০ যুক্ত হয়, আর পি এ প্লাস যুক্ত হয়। সানক্রিন কেনার সময় খেয়াল করবেন এটি যেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইনফা রে থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। ইনফা রে আসে নানা ধরনের ডিভাইস যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, হেয়ার ড্রায়ার, চুলার আগুন ইত্যাদি থেকে। যারা ঘরের ভেতর কাজ করেন তারাও সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন। কারণ, হাই এনার্জি ভিজিবল লাইট সেগুলো থেকে ইনফা রে আসে। এটি আমাদের ত্বককে ড্যামেজ করে। বসন্তের প্রোগ্রামের আগে সাজার সময় প্রাইমারের আগে সানস্ক্রিনটা ব্যবহার করতে হবে। মেকআপ নিয়ে একটি পরামর্শ হলো- মেকআপ নিয়ে ঘুমাতে যাবেন না। অবশ্যই ডাবল ক্লিনজিং ও ডিপ ক্লিনজিং করবেন। মেকআপ করা ছাড়াও সপ্তাহে দুইবার অ্যাক্সফোলিয়েট করবেন। সপ্তাহে একদিন হাইড্রেটেড শিট মাস্ক ব্যবহার করবেন।

৫. বসন্তে ফুল ফোটে। ফুল ও রেণু থেকে দেখা দিতে পারে অ্যালার্জি। ইদানিং মাস্ক ব্যবহারের কারণে সমস্যা কমে আসছে। ঘরের দরজা জানালা খুলে রাখতে হবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। তারপর বন্ধ করে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন ফুলের রেণু ঘরে প্রবেশ না করে। অনেকেই ফুলের গয়না পরে। ফুল থেকে যদি অ্যালার্জি হয়, তাহলে কাপড়ের তৈরি ক্রাউন কিংবা গয়না ব্যবহার করবেন। যদি অ্যালার্জি হয়, তাহলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার খাবেন। আর চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

৬. বসন্তে অনেকের চিকেন পক্স হয়ে থাকে। পানিযুক্ত দানা পুরো শরীরে ছড়িয়ে যায়। এটি ছোঁয়াচে। র‍্যাশগুলোতে ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন হয়। অনেকে এগুলো হাত দিয়ে ফোটায়, চুলকায়। এটা থেকে দাগ হয়ে যেতে পারে। তাই র‍্যাশে হাত দেবেন না। সুথিং লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ইনফেকশন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

লেখক : চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, শিউর সেল মেডিক্যাল বিডি

চুল পড়া রোধে করণীয়

ডা. ওয়ানাইজা

চুল কেন পড়ে? এ প্রশ্ন আজ আমাদের প্রায় সবার। এই চুল পড়া রোধে সমগ্র বিশ্বে বছরে প্রায় এক বিলিয়নেরও বেশি ডলার খরচ হয়। নানা উপায়ে আমরা চুল পড়া রোধ করতে চাই। অনেক রকমের ইনফেকশন, বিভিন্ন রোগ, ওষুধ ব্যবহার এবং খাদ্যের ভিন্নতার কারণে সাধারণত চুল পড়ে।

তবে গবেষকেরা গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন, ৯৫ ভাগ চুল পড়ার কারণ জিনগত। বাবা কিংবা মা অথবা দুজনের কাছ থেকে আগত জিনই নির্ধারণ করে দেয় কখন আমাদের চুল পড়বে। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া ও অ্যানড্রোজেন অর্থাৎ পুরুষদের হরমোন এই সমস্যার জন্য দায়ী।

গবেষকেরা বিশ্বাস করেন, চুল পড়ার জন্য চুলের গোড়ায় বা ফলিকলে একটি এনজাইম তৈরি হয়, যার নাম ফাইভ আলফা রিডাকটেজ। এই এনজাইম রক্তে বাহিত হরমোন টেস্টস্টেরনকে ডাই হাইড্রোটেস্টস্টেরনে পরিণত করে। যার আরেক নাম ডিএইচটি। ডিএইচটি চুলের গোড়ায় আক্রমণ চালায় এবং চুল দুর্বল করে ঝরে পড়তে সাহায্য করে। পুরুষদের চুল সাধারণত সামনের দিকে পড়ে এবং টাকে পরিণত হয়। আর নারীদের পুরো মাথার চুলই এককভাবে পড়ে এবং পাতলা হয়ে যায়। মহিলাদের শরীরে অ্যারোমাটেজ নামে এক প্রকার এনজাইম তৈরি হয়। এটি ডিএইচটিকে ইস্ট্রোজেনে পরিণত করে। এতে কিছু হলেও নারীর চুল রক্ষা পায়। চুল পড়ার রাসায়নিক কারণ খুবই জটিল।

চুল পড়া রোধে এবং নতুন চুল গজানোর জন্য মাথায় অনেক সময় নানারকম ভিটামিন ও ভেষজ নির্যাসযুক্ত তেল দেওয়া হয়। এ ছাড়া ড্রাকোনিয়ান পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে চুলের গোড়ায় মৃদু ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। এতে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। কিছু কিছু শ্যাম্পু ও জেল ব্যবহারে চুল ঘন দেখায়। নানা ভেষজ গুণসম্পন্ন এসব দ্রব্য চুলের গোড়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে। তা ছাড়া চুলের জৌলুশ বাড়িয়ে দেখতে ভালো দেখায়।

পরচুলা বা উইগ কেউই তেমন ব্যবহার করতে চান না। তবে বর্তমানে এক ধরনের হেয়ার পিস পাওয়া যায়, যা এডহেসিভ টেপের সাহায্যে মাথায় লাগাতে হয়। এতে মাথায় বায়ু সঞ্চালন হয় এবং কয়েক দিন পর পর খুললেই চলে। বাতাসে বা হঠাৎ খুলে যায় না বলে অনেকেই এটা ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। মিনোক্সিডিল নামক এক ওষুধ চুল পড়া রোধে ও আবার গজাতে সাহায্য করে। তবে এটি মূলত উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ। টাক মাথায়ও এটা ব্যবহারে সুফল পাওয়া গেছে। তবে এটা নারীর ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হয় বলে দেখা গেছে। চুল পড়া শুরু হওয়া মাত্র এই ওষুধ ব্যবহার শুরু করলে পুরুষদের ক্ষেত্রেও ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে এটা কিছু দিন ব্যবহার করলেই মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানি হতে পারে। আর যাদের হৃদরোগ আছে তাদের জন্য এটা না ব্যবহার করাই ভালো।

আজকাল সার্জারির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে, যাকে বলা হয়, হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টেশন। এটা হচ্ছে একটা সার্জারির মাধ্যমে মাথার যে অংশে চুল বেশি, বিশেষ করে পুরুষের মাথার পেছনের দিকের চুল রয়েছে সেখানকার চুল তুলে এনে ফাঁকা জায়গায় বা টাকে বসিয়ে দেওয়া হয়। তবে এটার জন্য কয়েকবার সার্জারি করতে হয়। আর এতে মাথায় দাগ থেকে যেতে পারে কিংবা যেখানে ঘন চুল ছিল সেখানকার চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে। এটিও অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

এ ছাড়া আরেকটি সার্জারি করা হচ্ছে। একে বলা হয় স্ক্যাল্প রিডাকশন। এতে মাথার টাকের অংশ কেটে কমিয়ে ফেলা হয়। অর্থাৎ আপনার মাথায় যদি এক সাথে স্ক্যাল্প রিডাকশন এবং হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। তবে এসব অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণও বটে।

চুলের জন্য এসব সময় ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণের আগেই আমরা চুলের কিছু নিজস্ব যত্ন নিয়ে দেখতে পারি। প্রতি এক দিন পর পর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলা দরকার। অবশ্যই সেই শ্যাম্পু দিয়ে, যা আপনার চুলের জন্য উপযোগী। বন্ধুবান্ধবের কথায় বা চটকদার বিজ্ঞাপনে মুগ্ধ না হয়ে নিজের উপযোগী শ্যাম্পু নিজে পছন্দ করাই ভালো। আগেই বলা হয়েছে, ডিএইচটি চুল ঝরে পড়াকে ত্বরান্বিত করে থাকে। আবার এভাবে চুল ধোয়ার পর প্রথম দিকে আপনার মনে হতে পারে, চুল বোধ হয় আগের তুলনায় বেশি ঝরে যাচ্ছে। কিন্তু না, শুধু সেই চুলগুলো ঝরে যাচ্ছে, যার গোড়া আলগা হয়ে আছে এবং দু-এক দিনের মধ্যেই ঝরে পড়ত। ভেজা চুল বেশি আঁচড়ানোর কারণে এবং ঘষাঘষির কারণেও চুল বেশি পড়তে পারে। এ ব্যাপারে সাবধান হওয়া দরকার। চুলের স্বাস্থ্যে সঙ্গে শরীর ও মনের স্বাস্থ্যও অনেকাংশে জড়িত। আপনি কেমন খাবার গ্রহণ করছেন, তার ওপর আপনার চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমাণমতো শাকসবজি, ফল যথেষ্ট পরিমাণে রাখতে হবে। অর্থাৎ ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল চুল পড়ার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া মানসিক চাপের ও অন্যান্য ওষুধ গ্রহণের কারণে চুল ঝরে যাচ্ছে কি না এ ব্যাপারে খেয়াল রেখে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চুল পড়া শুরু হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে চুল পড়ার কারণ ও ধরনের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে।

লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।
চেম্বার : দি বেস্ট কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ২০৯/২, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
ফোন: ০১৬৮২২০১৪২৭

ভালোবাসা কারে বলি?

শাশ্বতী মাথিন

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার মায়ার খেলা গীতিনাট্যে ‘মায়াকুমারী’ নামে কিছু চরিত্রের আবির্ভাব ঘটিয়েছিলেন। এই মায়াকুমারীরা কুহকশক্তি প্রভাবে মানবমনে মায়ার সৃষ্টি করে। মানবমনের যেই প্রেম-বিরহ-বিচ্ছেদ-মিলন, হাসি-কান্না, মোহ, লজ্জা রয়েছে; তার সবই মায়াকুমারীগণের খেলা। মায়াকুমারীগণ তাদের মায়ার জাল বিছিয়ে নবীন হৃদয়ে প্রেম রচনা করে।

রবিঠাকুরের লেখনীতে মায়াকুমারীগণ রূপক অর্থে ব্যবহৃত হলেও এদের কর্মকাণ্ডকে কিন্তু আমরা প্রকৃতি, সৃষ্টি বা সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তুলনা করতে পারি। স্রষ্টা বা প্রকৃতি যেমন তার মনের খেয়াল-খুশিমতো মানবের ভেতর প্রেম-বিরহের আবেদন তৈরি করে, ঠিক তেমনই মায়াকুমারীরা প্রতিনিয়ত প্রেম তৈরি করে যাচ্ছে।

মূলত, প্রকৃতিগতভাবেই মানুষের ভেতর তৈরি হয় ভালোবাসা-প্রেমের অনুভূতি। প্রেম মনকে চঞ্চল করে; করে তোলে অধীর। পাওয়া-না পাওয়ার দোলাচলে অস্থির হয় ওঠে মানব হৃদয়। তবে ভালোবাসার সংজ্ঞা নিয়ে কিন্তু নানা মুণীর রয়েছে নানা মত। আবার প্রত্যেক মানুষই তার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি, পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করে নেয় নিজ নিজ ভালোবাসার সংজ্ঞা।

এক আড্ডায় বাংলাদেশি কবি ও ঔপন্যাসিক অসীম সাহার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ভালোবাসা মানে কী ? বললেন, “মনের অন্তর্গত অনুভূতির ‍ক্ষীণতম প্রকাশ ও গভীরতম অপ্রকাশের নামই ভালোবাসা। ভালোবাসা বহুমুখী। কিন্তু শুধু যদি নর-নারীর ভালোবাসার কথা বলা হয়, তা হলে বলতে হবে, ‘কোনো ‍এক মানুষের তরে, কোনো ‍এক মানুষীর কিংবা কোনো ‍এক মানুষীর তরে কোনো ‍এক মানুষের’ হৃদয়ের গভীরতর আকর্ষণের নামই ভালোবাসা। লক্ষ জনম হৃদয়ের ভেতরে হৃদয় রেখেও যে হৃদয় তৃপ্ত হয় না, তারই আর ‍এক নাম ভালোবাসা।”

ছবি : কে-ক্র্যাফট
ছবি : কে-ক্র্যাফট

বাংলাদেশি চিকিৎসক ও সংগীতশিল্পী গুলজার হোসেন উজ্জ্বল ভালোবাসার সংজ্ঞায় বললেন, ‘যার সঙ্গ মনে শান্তি দেয়, তার সঙ্গ লাভের (মানসিক বা শারীরিক) বাসনাটাই ভালোবাসা।’ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের জনপ্রিয় নিউজ প্রেজেন্টার মোহসেনা শাওন জানালেন, তার কাছে ভালোবাসা মানে হলো, না পাওয়া।

ভালোবাসা কারও কাছে বন্ধুত্ব, কারও কাছে গভীর বিশ্বাস, আস্থা বা দায়িত্ববোধ। আবার কারও কাছে এটি হয়তো কেবল বোঝাপড়া, ছাড় দেওয়া। তবে মনের এসব আবেগীয় মিশ্রণগুলো ঘটে আসলে কাম থেকে। এমনটাই মনে করেছেন জার্মান মনোবিজ্ঞানী সিগমন ফ্রয়েড। তাঁর মতে, মানুষের ভেতর যতসব মানবিক আচার-আচরণ সবই যৌনতার প্রকাশ। ভালোবাসা-প্রেম বিষয়গুলো কেবল কামেরই আরেক নাম। তবে এ নিয়ে কিন্তু বিস্তর মতপার্থক্য রয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে নানা যুক্তিতর্ক।

ভারতের রহস্যবাদী আধ্যাত্মিক গুরু রজনীশ ওশো একবার ভালোবাসা ও অধিকারবোধ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘অল্প কিছু বোঝাপড়া চাই। একটি মৌলিক সত্যকে স্বীকার করে নিতে হবে। প্রথমটি হলো, কেউ কারও জন্য জন্মায়নি। দ্বিতীয়টি হলো, ব্যক্তিকে কী রকম হওয়া উচিত বা হতে হবে, সেটির জন্য কেউ তোমার মতাদর্শকে মেনে নিতে কিংবা পরিপূর্ণ করতে পৃথিবীতে আসেনি। তৃতীয়টি হলো, তুমি নিজেই নিজ ভালোবাসার গুরু। তুমি তোমার খুশিমতো যত ইচ্ছে দান করতে পারো। কিন্তু অন্যের কাছ থেকে সেটি প্রত্যাশা করতে পারো না। কারণ, কেউ তোমার দাস নয়।’ এমনকি ভারতীয় এই পাবলিক স্পিকার বিয়েকেও ভুয়া প্রতিষ্ঠান নামে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই। যে কোনো প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তির বিকাশের জন্য বড় একটি বাধা।’ তবে এ মতের বিরুদ্ধেও গড়ে উঠেছে প্রতিরোধ। ধর্মবেত্তা, সমাজবিজ্ঞানীরা বলেছেন, এতে ভেঙে পড়বে সমাজ-কাঠামো; বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে সমাজে।

 

ছবি : কে-ক্র্যাফট
ছবি : কে-ক্র্যাফট

বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় একবার ইশক কলকাতা নামে একটি রেডিও চ্যানেলে এসব বিষয়ে জানান, ভালোবাসা নেই বলেই ভালোবাসার কথা এত শোনা যায়। প্রেমের সঙ্গে সব সময় ওতপ্রোতভাবে মিলে থাকে ত্যাগ। ভালোবাসতে হলে তোমাকে ত্যাগ করতে হবে। তার ভালোতে বাস করতে হবে। তার যাতে ভালো হয়, তোমাকে তা-ই করতে হবে। এর জন্য যদি তোমাকে ত্যাগও করতে হয়, তাকে তাও করতে হবে। এখন যেসব প্রেমের কথা বলা হয়, সেগুলো একটা ইনফেচুয়েশন (মোহ)। কেবল একটি শারীরিক আকর্ষণ বা কোনো গুণাবলির প্রতি আকর্ষণ।

‘লক্ষ্য বা গোল ছাড়া বা পরিণতি ছাড়া যেই প্রেম জন্ম হয়, সেগুলো আসলে শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকে না। একটা সময় বোঝাপড়ায় অসুবিধা তৈরি হয়েই যায়। আসলে যে কোনো সম্পর্কের ভেতরই বিশ্বস্ত থাকাটা খুব জরুরি।’ প্রেমের ধরন কেমন হওয়া চাই, এ নিয়ে এক আলাপচারিতায় সাইকোলজিস্ট ফারজানা ফাতেমা রুমী এসব কথাই বলছিলেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে আবার বহুগামিতাকে খুব গুরুত্ব দেয়। এতে আসলে দাওয়াত দিয়ে ঝামেলা টেনে আনাই হয়। একজন মানুষের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়, সবার প্রতি একই রকম আচরণ করা, সময় দেওয়া বা যত্ন নেওয়া। এগুলোকে কেবল ফ্যান্টাসাইজড সম্পর্কই বলা চলে। এসব সম্পর্ক অস্থিরতাই বাড়ায়।’

এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ট্রু লাভ বা সত্য ভালোবাসা বলে কি আসলেই কিছু রয়েছে ? উত্তরে তিনি বললেন, ‘রয়েছে। না হলে তো সমাজ, পৃথিবীর অবকাঠামো টিকত না। তবে ভালোবাসা কেবল নারী-পুরুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে দেওয়া চাই সবার প্রতি। নর-নারীর প্রেমের বাইরে বেরিয়ে এসে ভালোবাসা হওয়া উচিত মানবমুখী।’

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.