ডা. আবু সাঈদ শিমূল
বসন্ত হলো রঙের ছটায় আকুল হওয়ার ঋতু। ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা হওয়ার কিংবা উৎসবে-উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত হওয়ারও সময় এটাই। তবে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে রোগ-জীবাণু কিন্তু বসে থাকে না। সুযোগ পেলে এরাও আপনার শরীরে রোগ বাঁধিয়ে উৎসবে মেতে উঠবে। তাই আগে থেকে সাবধান হওয়াই ভালো, যেন রোগ-জীবাণু আক্রমণ করতে না পারে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক বসন্তে ভালো থাকার উপায়।
পরিষ্কার থাকুন
ঠান্ডা যেহেতু এখন কম, তাই বসন্তে ভালো থাকার প্রধান শর্ত হলো নিয়মিত গোসল করা। এতে ধুলো-ময়লা কমবে। অ্যালার্জি, ভাইরাসজনিত রোগ সবই কিন্তু কমে যায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে।
কাঁথা সঙ্গে রাখুন
বসন্ত এলেও শীত কিন্তু একদম চলে যায়নি, তাই শীতের লেপ/কম্বল উঠিয়ে ফেললেও কাঁথাটা সঙ্গে রাখুন। শিশুরা অনেক ঘামে, তাই তাদের জন্য ফ্যান ছেড়ে রাখতে হয়। তবে আপাতত রাতে এসি চালু না রাখাই ভালো।
শ্বাসকষ্ট যেন না বাড়ে
বসন্তে ফুলের রেণু ও ধুলাবালি থেকে অনেকের হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে। শ্বাস টান বাড়লে সালবিউটাবল ইনহেলার নিতে হবে। তেমন গুরুতর না হলে মন্টিলুকাস ট্যাবলেট (১০ মিলিগ্রাম) দিনে একটি করে সেবন করলে তা-ও প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে। তবে ওষুধ খেতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই।
মাস্ক পরুন
বসন্তে নানা বর্ণ ও গন্ধের ফুল ফোটে। এই ফুলের একটা বড় অংশের পরাগায়ণ ঘটে বাতাসের মাধ্যমে। তাই বসন্তে পুষ্পরেণু অ্যালার্জি সাধারণ ঘটনা। গাছ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করলেও রোগীরা আক্রান্ত হতে পারেন। শুষ্ক হাওয়ায় ধুলাবালি থেকেও অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এ সমস্যা সমাধানে মুখে মাস্ক বা রুমাল ব্যবহার করতে পারেন। নাক দিয়ে বেশি পানি পড়লে ফেক্সোফেনাডিন জাতীয় ওষুধ ১২০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট দিনে একটা করে পাঁচ থেকে সাত দিন খেতে পারেন।
জলবসন্ত থেকে সতর্কতা
এ সময় অনেকের জলবসন্ত বা চিকেন পক্স হয়। জলবসন্ত খুব ছোঁয়াচে, বিশেষ করে যার কোনো দিন এ রোগ হয়নি, তার ক্ষেত্রে। সরাসরি সংস্পর্শ এবং রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে জলবসন্ত ছড়ায়। রোগীর ব্যবহার করা কাপড় গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। চুলকানি হলে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খেতে হবে। গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। এই রোগ প্রতিরোধে এক বছরের বেশি বয়সি যে কেউ টিকা নিতে পারেন।
অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক ও রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শাশ্বতী মাথিনের ‘নির্বাচিত ১০টি রবীন্দ্রসংগীতে বিরহ’ বইটি। রবীন্দ্রনাথের বিরহের গানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বইটিতে কবি জীবনের বিরহ-বিচ্ছেদ, শোক, মৃত্যুভাবনা ও উত্তরণের পথের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
বইটি সম্পর্কে শাশ্বতী মাথিন বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের প্রেম, পূজা, প্রকৃতি ইত্যাদি পর্যায়ের গানগুলো নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও তাঁর গানের বিরহ-বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে তেমন কাজ হয়নি। আশা করছি রবীন্দ্র প্রেমীদের বইটি কাজে আসবে।’ বইটি প্রকাশ করেছে পাতা প্রকাশনী। এর মূল্য ১৮০ টাকা।
শাশ্বতী মাথিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালেই জড়িয়েছেন সাংবাদিকতা পেশায়। দৈনিক সমকাল, মাসিক চারবেলা চারদিক, দৈনিক সকালের খবর, দৈনিক আমাদের সময়, এনটিভি ও প্রথম আলো-তে কাজ করেছেন। বর্তমানে সাতকাহন২৪.কমের ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
শাশ্বতী ছায়ানটে রবীন্দ্রসংগীত শিখেছেন। বিখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক ছিলেন তাঁর সংগীত গুরু। বর্তমানে তিনি বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মহাদেব ঘোষের কাছে তালিম নিচ্ছেন।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ২টি
১. মহৎ পেশার মানুষ – ২০ চিকিৎসাবিদের জীবন ও স্বপ্ন
২. নির্বাচিত ১০ টি রবীন্দ্র সংগীতে বিরহ
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বেগুণি ও ম্যাজেন্টা রঙের মিশ্রণে তৈরি স্টুডিওর সেট। সামনে মেরুণ ও সাদা রঙের সোফা সাজানো। পেছনের দেয়াল জুড়ে রয়েছে টেলিভিশন স্ক্রিন। এর পর্দায় দেখা যাচ্ছে ‘লেডিস ক্লাব’ এর লোগো।
ঘড়িতে সন্ধ্যা ৬ টা। শুরু হলো সরাসরি সম্প্রচারিত দেড় ঘণ্টার অনুষ্ঠান নেক্সাস লেডিস ক্লাব। সঞ্চালনায় হয়তো রয়েছেন, ড. সুর্বনা নওয়াদীর, নাদিয়া হক অথবা অহনা তাসনিম খান। আর পেছনের কারিগর হিসেবে রয়েছেন নেক্সাস টেলিভিশনের অনুষ্ঠান প্রযোজক জাকিয়া সুলতানা।
২০২১ সালের নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া লেডিস ক্লাব অনুষ্ঠানটি ইতোমধ্যে এক বছর পূর্ণ করেছে। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘নেক্সাস লেডিস ক্লাব’ পরিণত হয়েছে হাজার হাজার নারীর প্রাণের আড্ডায়। নারীদের নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়াতে অনেক অনুষ্ঠান প্রচারিত হলেও একে একদমই ভিন্নধর্মী বলা চলে। এর ভিন্নধর্মিতার কারণ কী? উত্তরে অনুষ্ঠানটির প্রযোজক জাকিয়া সুলতানা বললেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিলো সব শ্রেণি-পেশার নারীদের নিয়ে অনুষ্ঠানটি সাজানো। এখানে অংশ নিতে পারে সেলিব্রেটিরা ছাড়াও উদ্যোক্তা, গৃহিনী, সাংবাদিক, লেখক, অভিনয়শিল্পী, সংগীতশিল্পী, চিকিৎসক, নৃত্যশিল্পী ও রাজনীতিবিদগণ। যারা নিজেদের ভাবনা, মনের কথা তুলে ধরতে চায় তারা প্রত্যেকেই লেডিস ক্লাবের স্টুডিওতে অতিথি হতে পারে। কেবল বাংলাদেশেরই নয়, অন্যান্য দেশেরও নারী সেলিব্রেটি ও অতিথিরা অংশ নেয় অনুষ্ঠানে।’
ছবি : সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে স্টুডিও অতিথিদের পাশাপাশি জুমে অংশ নিতে পারে সব শ্রেণি-পেশার নারী। অনুষ্ঠান চলাকালীন জুম লিংকের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে তারা যুক্ত হয়। মন খুলে নিজের কথা, ভাবনাগুলোকে মেলে ধরে একে অপরের সঙ্গে। আড্ডা আলোচনার মধ্য দিয়ে সচেতনতামূলক বিষয় বেরিয়ে আসে। কথার ফাঁকে ফাঁকে কখনো কখনো থাকে গান, কবিতা। আর সঞ্চালকের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় জমে উঠে আড্ডা। এভাবে কখন যে দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে যায় টেরই পাওয়া যায় না। আর অনুষ্ঠানের টপিকগুলোও নির্বাচন করা হয় গতানুগতিক ভাবনার বাইরে। কখনো কখনো এর থিম হয়, ‘আপনার চেয়ে আপন যে জন’, ‘সাথে আছি, পাশে আছি’, ‘আর নয় ছাড়’, ‘প্রথম সিনেমা দেখার স্মৃতিকথা’, ‘খবরের শিরোনামে’ ইত্যাদি। জাকিয়া সুলতানা জানালেন, টপিকগুলো আমরা এমনভাবে নির্বাচন করি যেন যেকোনো নারীই এর সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত করতে পারে এবং নিজের ভাবনা বিনিময় করতে পারে। আপন মনে করে আড্ডায় অংশ নিতে পারে দ্বিধা ভুলে। আর এ কারণেই যেকোনাে বয়সের নারীরা অংশ নিচ্ছে স্বাচ্ছন্দ্যে।
ছবি : সংগৃহীত
কেবল টেলিভিশনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই সীমিত নয় ‘লেডিস ক্লাব’। রয়েছে NEXUS LADIES CLUB নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ। যেখানে নারীরা তাদের কাজ, ভাবনা, ভ্রমণের ছবি, পছন্দ- অপছন্দগুলোকেও শেয়ার করতে পারে। অনেক নারী উদ্যোক্তারা তাদের তৈরি পন্যের ছবি, রন্ধনশিল্পীরা রান্নার ছবি, কবিতা, বন্ধুদের আড্ডার ছবি ও ভিডিও আপলোড করে, বিষয় অনুযায়ী তাদের ভাবনার কথাও লিখে পোস্ট করতে পারে সেখানে। জাকিয়া সুলতানা জানান, আমাদের টেলিভিশনের লগোতেই বলা হয়েছে ‘নেক্সাস টেলিভিশন – বিজনেস ও লাইফস্টাইল’। এ জন্য আমরা নারী উদ্যোক্তাদের অনেক গুরুত্ব দিই। করোনাকালে অনেক নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে; তারা নিজেদের আয় দিয়ে সংসারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমন নারীদের কথা আমরা লেডিস ক্লাবে তুলে ধরতে চাই। এমন সব উদ্যোক্তারা অনেকেই যুক্ত রয়েছে আমাদের ফেসবুক পেইজে।
ছবি : সংগৃহীত
আপামর জনসাধারণের কাছে পৌঁছতে পেরেছে বলেই হয়তো লেডিস ক্লাব এতটা জনপ্রিয় হয়েছে জানিয়ে প্রযোজক জাকিয়া বলেন, ‘এর জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সানাউল্লাহ লাবলু ও অনুষ্ঠান প্রধান মহিউদ্দিন টিপুর প্রতি। তাঁরা অনুষ্ঠানটিকে সফল করতে ভীষণভাবে প্রতিনিয়ত সাহায্য করেন। অনুষ্ঠানটির সঙ্গে সহ প্রযোজনায় রয়েছেন অমিত রায় ও মোহাম্মদ আবু আহসান। দুজনেই ওতোপ্রতোভাবে যুক্ত থেকে কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। আর সঙ্গে রয়েছেন আমাদের টেকনিক্যাল টিম। নেক্সাস টেলিভিশনের পরিবেশ ভীষণভাবে নারীবান্ধব। তাই সকলের সহায়তায় স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কাজটি করে এগিয়ে যেতে পারছি।’
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
শোক, গভীর শ্রদ্ধা ও গৌরবের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর ভাষা দিবস পালন হয়। অন্যান্য বছরের মতো কে ক্র্যাফট একুশের গৌরবগাঁথাগুলো পোশাকে ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছে।
এবারের মোটিফে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে থাকছে মাতৃভাষার ইতিহাস, লাইন মোটিফ, ট্রাইবাল, টার্কিশ, টেক্সচার, বর্ণ ও শব্দ মালার বিন্যাস। এ ছাড়া ট্র্যাডিশনাল ও জ্যামিতিক নকশায় সৃজনশীল অলংকরণে তৈরি হয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, লং কুর্তি, পাঞ্জাবি, শার্ট, টিশার্ট। শিশুদের জন্য রয়েছে, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টপস,পাঞ্জাবি, শার্ট।
ছবি : কে ক্র্যাফট
তাঁত, কটন, লিনেন, হাফ সিল্ক কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলোতে নকশা ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট এবং টাই-ডাই মিডিয়ার ব্যবহার হয়ছে। রং এর ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে শোক এর কালো, সূর্যের লাল, বিষণ্ণতার ধূসর, সত্য ও পবিত্রতার প্রতীক সাদার সমতলকে।
পরিবারের সকলের উপযোগী পোশাক, যুগল পোশাক সহ একুশের আয়োজন কে ক্র্যাফট এর সকল আউটলেট ছাড়াও অনলাইন শপ kaykraft.com এবং ফেসবুক পেজ থেকে অর্ডার করা যাবে।
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস বেশ কাছাকাছি সময়েই হয়। দুটো দিনেরই সাজে থাকে একটু ভিন্নতা। ফাগুনের দিনের সাজে হালকা আমেজ থাকলেও, ভালোবাসা দিবসের সাজ কিছুটা জমকালো ভাব আনাই যায়। তবে দিনে না কি রাতে, কোন সময়টায় বাহিরে বের হচ্ছেন এই বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি।
‘ভালোবাসা দিবসে সাজটা যেহেতু প্রিয়জনের জন্য হয়, তাই একটু বিশেষভাবেই করতে পারেন। পোশাকে লাল রঙকে প্রাধান্য দেওয়া যায়। এই রঙে বেশিরভাগ মানুষকেই দেখতে আকর্ষণীয় লাগে। দিনে বাইরে বের হলে চোখের সাজটা একটু হালকা করুন। আর রাতে বের হলে চোখের সাজটা ভারি হোক,’ বলছিলেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ও রূপবিশেষজ্ঞ আলেয়া শারমিন কচি।
ছবি : কে ক্র্যাফট
রাতের সাজে চোখ স্মোকি করে মপ বা নুড রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বেশ গর্জিয়াস লাগবে। আর স্মোকি না করতে চাইলে হালকা রঙের শ্যাড লাগিয়ে আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ঠোঁটে লাল লিপস্টিক দিলেই মানাবে। চোখে পরতে পারেন আইল্যাশ। আর আইল্যাশ ব্যবহার করতে না চাইলে ঘন করে মাশকারা দিন। দিনের বেলার সাজে মুখের বেজটা করতে পারেন হালকা। রাতে বেইজটা ভারি করলেই দারুণ লাগবে।
দিন হোক বা রাত চুলে ফুল কিন্তু থাকা চাই। গোলাপ, জারবেরা, গাজরা, কাঠ গোলাপ দিয়ে সাজতে পারেন। এখন কিন্তু প্লাস্টিকেরও খোঁপার ফুল পাওয়া যায়। সেগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে- জানান রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।
আসলে সাজতো একটি আপেক্ষিক বিষয়, প্রকৃতি সৌন্দর্য তো থাকে মনে। আর তাই আপনার মনের সৌন্দর্যে প্রিয় জনের জন্য দিনটি হয়ে উঠুক বিশেষ।
উপহার যেকোনো মানুষের ঠোঁটের কোণেই হাসি এনে দেয়। আর তা যদি হয় ভালোবাসা দিবসে প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে পাওয়া, তাহলে তো কথাই নেই। একেবারে সোনায় সোহাগা। তবে প্রিয়জনের মুখে এই হাসি আঁকতে কী ধরনের উপহার দেওয়া যায়, তা নিয়ে অনেকে ভাবনায় পড়ে। সেই ভাবনা দূর করতেই রইল উপহারের কিছু তালিকা। এগুলো থেকে পছন্দসই যেকোনোটিই বেছে নিতে পারেন বন্ধুর জন্য।
বই
বইয়ের মতো চমৎকার উপহার আর কিছুই নেই। আপনার প্রিয় মানুষটি বইপ্রেমী হলে দেরি না করে চট জলদি কিনে ফেলুন তার পছন্দের কোনো লেখকের গল্প বা উপন্যাস। অথবা তার বোধ বা ভাবনার সঙ্গে যায় এমন কোনো বই। ভালোবাসার দিনে সুন্দর কোনো কাগজে মুড়িয়ে নিয়ে তাকে চমকে দিন। আর বইয়ের ভেতর লিখে দিতে পারেন ভালোবাসার চমৎকার কোনো পঙতি।
শাড়ির ডালা
সম্প্রতি ফেসবুকে বিভিন্ন ফ্যাশন পেইজগুলো ঢুঁ দিলেই দেখবেন বসন্তের ডালা পাওয়া যাচ্ছে। এই ডালায় থাকছে শাড়ি। তার সঙ্গে ম্যাচ করে গয়না, টিপ। এমনকি খোঁপায় জড়ানোর জন্য ফুলও থাকছে এগুলোতে। এই ধরনের একটি ডালা প্রেয়সীকে দিলে খুশি না হয়ে উপায় কী?
চকোলেটের বক্স
ইশ! এমন একটি বক্স কেউ আমায় দিলে আমি তো খুব খুশি হয়ে যেতাম! যাই হোক। ভালোবাসা দিবসে আপনিও প্রিয় মানুষটির জন্য এমন একটি সুন্দর চকোলেট বক্স নিয়ে যেতেই পারেন। আর সাধ্যে কুলালে কেকও নিয়ে যেতে পারেন তার জন্য।
ফুল
কেবল চকোলেট দিলেই কিন্তু হবে না, এর সঙ্গে থাকা চাই ফুল। হোক সেটা একটি গোলাপ বা একগুচ্ছ। আপনার প্রিয় মানুষটি রোমান্টিক হলে ফুল তাকে টানবেই।
পারফিউম, টাই, চাবির রিং, মানিব্যাগ
নিশ্চয়ই উপরের আইটেমগুলোর নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, কাদের জন্য এই উপহারের কথা বলছি। হ্যাঁ, প্রেমিক বা স্বামীর জন্য। এখন কিন্তু বাজারে একসঙ্গে এসবের সেটও পাওয়া যায়। এমন একটি সেট প্রিয় মানুষটিকে দিলে সে যেমন খুশি হবে, আবার তার কাজেও আসবে। আর ব্যবহারের সময় হয়তো প্রতিবারই মনে করবে আপনাকে!
বসন্তের আগমনী শোনা যাচ্ছে। মাঘের সন্ন্যাসী বিদায় নিয়েছে রিক্ত হাতে। পাতা ঝরার দিন শেষ। বসন্তকে বরণ করতে প্রকৃতি সাজতে শুরু করেছে নতুন সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে। প্রকৃতির মতো মানুষের মনে দোলা দেয় ফাগুন। ভালোবাসা আর বসন্তের ছোঁয়ায় একাকার মনের কোণ নিজেকেও রাঙাতে চায় নতুন রূপে।
তাই তো শিল্পী-সাহিত্যিকরা বসন্তের আগমনী রূপের বর্ণনায় মেতেছেন তাদের সৃষ্টকর্মে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘বসন্তে ফুল গাঁথল আমার জয়ের মালা।/ বইল প্রাণে দখিন-হাওয়া আগুন-জ্বালা’, ‘ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান—/ তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান—/ আমার আপনহারা প্রাণ আমার বাঁধন-ছেঁড়া প্রাণ’, অথবা ‘ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে—’। কবি সুব্রত পাল তার কবিতা ‘থেকো, বসন্তসন্ধ্যায়’-তে লিখেছেন—
‘যদি বসন্ত পলাশ খোঁজে, খুঁজুক। তুমি খুঁজো না
রাঙামাটির পথে হাঁটতে ইচ্ছে করলে, হেঁটো না
শুধু আমাকে খুঁজো
আমি তো দুরন্ত ফাল্গুন গোটা গায়ে মেখে
তোমার জন্য বসে আছি।’
বসন্তদিনে কবি-মন যেমন উদ্বেল, তেমনি পহেলা ফাল্গুনকে বরণ করে নিতে বাঙালিও সাজে বাসন্তী সাজে। নারীরা খোঁপায় জারবেরা, গোলাপ বা গাঁদা গুঁজে হলুদ, লাল বা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে দল বেঁধে ভিড় জমায় শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলোতে। তাদের সঙ্গে মিলিত হয় পরিবারের পুরুষ বা শিশু সদস্যটি। প্রেমিক, বন্ধু, পরিবার-পরিজন নিয়ে চলে দিনমান আড্ডা। গান-কবিতায় নেচে ওঠে গোটা শহর।
ছবি : হরিতকী
বাঙালি নারীর কাছে উৎসব মানেই শাড়ি। বেশ কয়েক বছর ধরে পহেলা ফাল্গুনের দিনটিতে হলুদ বা বাসন্তী রংকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো। তবে এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মেজেন্টা, গোলাপি, সাদা, চাপা সাদা, পেস্ট, নীল ইত্যাদি হালকা রং। আর নকশাতে প্রাধান্য পাচ্ছে ফুল, পাতা,পাখি, রিকশা, কুলা ইত্যাদি বাঙালির নিত্যব্যবহার্য অনুষঙ্গ আর প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি। ফেসবুককেন্দ্রিক ফ্যাশন পেজ নীলপদ্ম বুটিকসের স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার তাজমিন নাসরিন বলেন, ‘বর্তমানে আমরা হলুদ বা হলুদের শেডগুলো বাদ দিয়েও পোশাকের রং নির্বাচন করছি। বসন্তকাল তো আসলে ফুলের আয়োজন। কেবল হলুদ ফুলের মধ্যেই তা কেন সীমাবদ্ধ থাকবে?’
ছবি: নীলপদ্ম বুটিকস
ফ্যাশন হাউস হরীতকীর সহকারী প্রতিষ্ঠাতা অনিক কুণ্ডু জানান, এখন মানুষের রুচির ভিন্নতা এসেছে। তারা এমন একটি পোশাক কিনতে চায় যেটা কেবল উৎসব নয়, অন্যান্য সময়েও ব্যবহার করা যায়। তাই বসন্তকে মাথায় রেখে পোশাকের ক্ষেত্রে হালকা রং নির্বাচন করেছি আমরা। আবার যেন অন্যান্য সময়েও এগুলো পরা যায়। সুতি, হাফসিল্ক, জর্জেট ইত্যাদি কাপড়ের ভেতর থাকছে শাড়িগুলো।
ছবি : হরিতকী
ফাগুনদিনে পোশাকের পাশাপাশি সাজেও থাকে বৈচিত্র্য। খুব ভারী নয়, হালকা সাজটাই এ সময় প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই হবে। আর চুল ছাড়া থাকুক বা বাঁধা ফুল তো অবশ্যই লাগবে। বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের স্বত্বাধিকারী আলেয়া শারমিন কচি ফাগুনের সাজের ক্ষেত্রে এমনটাই মত দিলেন। সাতকাহন২৪.কমকে তিনি বলেন, ‘এ সময় সাজে ভারী ফাউন্ডেশন বা পেনকেক ব্যবহার না করলেই ভালো লাগবে। বেজ হিসেবে কেবল ময়েশ্চারাইজার বা প্রাইমার দিয়ে সেজে নিতে পারি। আর ফাউন্ডেশন লাগাতে হলে খুব হালকা ব্যবহার করাই ভালো, যেন ত্বকের সঙ্গে মিশে যায় বা সামঞ্জস্য থাকে।’
ছবি : হরিতকী
দিনে বাইরে বের হলে চোখে থাকুক হালকা সাজ। সোনালি সবুজাভ, বাদামি শ্যাডোর সঙ্গে চোখে লাগালেন কাজল। মাশকারা কিন্তু অবশ্যই ঘন করে দেওয়া চাই। গালে থাকুক টিনট রঙের ব্লাশন। তাহলে দেখতে একেবারে ন্যাচারাল লাগবে। প্রয়োজনে হাইলাইট করে নেওয়া যেতে পারে চেহারার চিকবোন, থুতনি, নাক ইত্যাদি বিশেষ জায়গায়। লিপস্টিকের ক্ষেত্রে নুড, গাঢ় লাল, মপ ইত্যাদি রং পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিন। সঙ্গে হাতে, গলায় ও কানে থাকল মাটি, কাপড়, কাঠ বা মেটালের গয়না।
‘যারা শাড়ি পরতে চান না, তারা সালােয়ার-কামিজ অনায়াসেই পরতে পারেন। এখন বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ফাগুনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নকশার ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ, টপস তৈরি করছে। তবে এ ধরনের পোশাক পরলে খোঁপায় ফুল না গুঁজে মাথায় ফুলের ব্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন। এতেও দারুণ লাগবে আপনাকে। সর্বোপরি সাজটা যেন আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচির সঙ্গে মানিয়ে যায়, সে চেষ্টাটাই করতে হবে’, বলছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ আলেয়া শারমিন কচি।
ছবি: নীলপদ্ম বুটিকস
ফাগুন কড়া নাড়ছে দরজায়। বসন্তকে বরণ করতে উদগ্রীব বাঙালি প্রাণ। এ দিনটি বিশেষ করে তুলতে তাই সব আয়োজন। এই আয়োজনে শামিল হোন আপনিও। বসন্তের বারতা পৌঁছে যাক মানব-মনে। সবে মিলে বলি, ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার যাবার আগে’।
সাতকাহন ২৪.কম ডেস্ক
কাঠগোলাপ রঙের ব্লাউজের পেছনে হয়তাে আঁকা রয়েছে নৃত্যরত আদিবাসী তরুণীর প্রতিচ্ছবি। অথবা নোলক পরা কোনো রাজকুমারী, যে তার পোষা পাখিটির সঙ্গে খুঁনসুঁটিতে মেতেছে। আবার হয়তো লাল বা ফিরোজা রঙের ব্লাউজের পেছনের নকশায় বাঙালি বধূর মুখাবয়ব।
ছবি : হরিতকী
এবার বসন্তকে ঘিরে ব্লাউজের ক্ষেত্রে এমনকিছু নকশাই দেখা গেলো বাজার জুড়ে। ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনকে কেন্দ্র করে হলুদের বিভিন্ন শেড থেকে শুরু করে লেবু রঙ, লাল, মেজেন্টা, সবুজ, হালকা বেগুনি ইত্যাদি রঙের ভেতর তৈরি করা হয়েছে এগুলো। রঙে যেমন রয়েছে বৈচিত্র্য, তেমনি হাতা ও গলার নকশায়ও রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। গোল গলা, হাই নেক, বেন্ড, হাফ হাই, ভি কাট ইত্যাদি রয়েছে গলার কাটের নকশায়। হাতায় রয়েছে মৌসুমী কাট, কুচি, স্লিভ লেস, হাফ স্লিফ, ফুল স্লিভ কাটগুলো।
ছবি : হরিতকী
‘ যাদের শাড়ি কেনার জন্য বাজেট কম থাকে, তাদের কথা মাথায় রেখেই সাধারণত নকশাদার ব্লাউজগুলো তৈরি করি আমরা। সবার তো আর দামি শাড়ি কেনার সক্ষমতা থাকে না। সাশ্রয়ী মূল্যে এক রঙা কোনো শাড়ির সঙ্গে হয়তো নকশা করা একটু গর্জিয়াস ব্লাউজ পরলো। এতে সহজের ভেতর এক ধরনের আভিজাত লুক আসবে,’ বলছিলেন ফ্যাশন হাউজ হরিতকীর সহকারী প্রতিষ্ঠাতা অনিক কুণ্ডু।
বাজার ঘুরে দেখা গেলো ব্লাউজের নকশাগুলোতে রয়েছে হ্যান্ড পেইন্ট, কুশি কাটা, হাতের কাজের নকশা, অ্যামব্রয়ডারি ইত্যাদি কারুকাজ। এগুলো বসন্ত ও ভালোবাসার দিনগুরোতে নিঃসন্দেহে গর্জিয়াস লুক দেবে যেকোনো নারীকেই।
ছবি : হরিতকী
ফ্যাশন হাউজ হরিতকীর সহকারী প্রতিষ্ঠাতা অনিক কুণ্ডু বলেন, ‘ব্লাউজগুলো বিভিন্ন সাইজের তৈরি করা হয়। এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেন পরতে আরামবোধ করেন। সুতি, হাফ কটন, হাফ সিল্ক ইত্যাদি কাপড়ে সাধারণত তৈরি করা হয় এগুলো।’ ব্লাউজগুলোর দাম পরবে ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত।
বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন ডিজাইন হাউস কে ক্র্যাফটের এবারের ভালোবাসা দিবসের বিশেষ আয়োজন ছবি দিয়ে গল্প ‘এ টেল অফ লাভ’।
একটি যুগলের প্রথম দেখা থেকে শুরু করে তাদের ভালোবাসার পথ চলা নিয়ে ‘এ টেল অফ লাভ’ ৷ গল্পতে দুজনের নানা চ্যালেঞ্জ, কাছে আসা, অবশেষে প্রেম এবং সুখ খুঁজে পাওয়া- সুন্দর সব ছবির সংকলনে তৈরি হয়েছে এই সিরিজ। সিরিজের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সম্পর্কের উত্থান ও পতনের সারমর্ম।
ছবি : কে ক্র্যাফট
কে ক্রাফটের উদ্যোক্তা খালিদ মাহমুদ খান জানালেন, “ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপনে সম্মানিত ক্রেতা সাধারণদের সঙ্গে এই বিশেষ উদ্যোগটি শেয়ার করতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত। ‘ভালোবাসা রয়েছে বলে পৃথিবী বহমান’ এবং আমরা ‘এ টেল অফ লাভ’ কালেকসন-এর মাধ্যমে এই আবেগের সৌন্দর্যটাকে প্রকাশ করতে চেয়েছি। আশা করছি আমাদের এই প্রয়াস সবার মনে আনন্দ অনুভব নিয়ে আসবে এবং ভালোবাসা দিবসে ছড়িয়ে দেবে আরো ভালোবাসা।”
ছবি : কে ক্র্যাফট
‘এ টেল অফ লাভ’ সিরিজ দেখতে কে ক্র্যাফটের ওয়েবসাইট kaykraft.com এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার চ্যানেলগুলোতে ভিজিট করতে পারেন।
পোশাক, ফ্যাশন অনুষঙ্গ, গিফট আইটেম, জুয়েলারি, লাইফ স্টাইল আইটেম ও নানা তাঁত-ভিত্তিক পণ্যের প্রস্তুতকারক এবং খুচরা বিক্রেতা হিসাবে, কে ক্র্যাফটের দীর্ঘ দিনের পথচলায় তরুণ ও ফ্যাশন-সচেতন যারা দেশীয় ট্র্যাডিশন এবং ঐতিহ্যকে মূল্য দেয় তাদের সকলের পাশে থেকেছে এবং থাকবে । ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এবং নানা উদ্ভাবনী নকশাকে সুনিপুন দক্ষতার সাথে কাজে লাগিয়ে ক্র্যাফট ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইল অঙ্গনে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বাঙালির কাছে জামদানি শাড়ির কদর চিরন্তন। ছোট-খাট ঘরোয়া অনুষ্ঠান হোক বা বিয়ে বাড়ির জমকালো সাজ জামদানি শাড়ির আবেদন সবসময়ই। ভারী বা হালকা যেকোনো কাজের নকশাতেই নারী হয়ে উঠে অপরূপ। এ শাড়ি যেন বাঙালি নারীর আভিজাত্যের প্রতীক। তবে তাঁতিদের দীর্ঘ পরিশ্রমে বোনা এই শাড়ির দাম যেমন একটু বেশি, তেমনি এর যত্নও নিতে হয় আলাদাভাবেই।
বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ডা. সানজিদা হোসেন পাপিয়ার প্রথম পছন্দ জামদানি শাড়ি। টেলিভিশনের যেকোনো অনুষ্ঠান হোক বা ঘরোয়া কোনো আয়োজনে বেশিরভাগ সময় এই শাড়িই পরে থাকেন তিনি। নিজেকে ‘জামদানি প্রেমী’ বলে পরিচয় দিতেও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। জানালেন, শাড়ি ভালোবাসি। তবে জামদানি শাড়ির প্রতি ভালোবাসাটা একটু বেশিই। এটি পরা মানে হলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে ধারণ করা, বাংলাদেশকে ধারণ করা। আমার কাছে মনে হয়, যেকােনো শাড়ির তুলনায় এটি বেশি গর্জিয়াস। অনেকেই ভাবেন জামদানি শাড়ি পরলে ফুলে থাকে বা এটি বেশি স্বচ্ছ। তবে আমার মনে হয় ঠিকমতো পরা গেলে এর চেয়ে চমৎকার আর কিছুই হতে পারে না। এই শাড়ির বড় উপকারি দিক হচ্ছে, এটি পরলে আর কোনো অলংকার না পরলেও চলে। কেবল শাড়িটিই একজন নারীকে অনেক গর্জিয়াস ও গ্ল্যামারাস করে দেয়। জামদানির মতো এতো বৈচিত্র্যময়, রঙিন ও অভিজাত শাড়ি আর হয় না।
শাড়ি : আমেন কালেকশন। ছবি : সংগৃহীত
ফেসবুক পেইজ আমেন কালেকশন দীর্ঘদিন ধরে জামদানি নিয়ে কাজ করছে। নিজস্ব তাঁতিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী পৌঁছে দিচ্ছে শাড়ি। আমেন কালেকশন-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ইফতেখার আমিন জানান, জামদানি দেশীয় শাড়ি। এর বৈশিষ্ট্য একেবারেই আলাদা। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নান্দনিক নকশা। জামদানি হলো হাতের কাজের শাড়ি। হাতের কাজ ছাড়া এর নকশা বা মৌলিকত্ব তুলে ধরা সম্ভব নয়। মেশিনে আজকাল শাড়ি তৈরি হয়। তবে এটি সঠিক অর্থে জামদানি শাড়ি নয়। দুজন বা তিনজন তাঁতি তাঁতে বসে মাসের পর মাস ধরে, অনেক পরিশ্রম করে যেই শাড়িটা তৈরি করে সেটিই হয় প্রকৃত জামদানি। এটি মেশিনে তৈরি করা সম্ভব নয়। মেশিনে যেটি তৈরি হয়, তা জামদানির প্যাটার্ন। তাই আসল শাড়ির দাম কিছুটা বেশি হয়।’
জামদানি শাড়ির জন্য দেড়শরও বেশি নির্দিষ্ট নকশা রয়েছে। এসব নকশা কেবল জামদানিতেই করা হয়। অনেক ধরনের নামও রয়েছে এগুলোর। কলকা, ফুল-লতা-পাতা, পান্না হাজার, তেড়ছা, পানশি, ময়ুরপক্ষী, করলা, বট পাতা, বুটিদার, জাল, জলপাড়, তুবলি, ডুরিয়া, বলিহার, কটিহার ইত্যাদি। এগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার বার বিভিন্ন শাড়িতে আসে। আগে একই ধরনের নকশার কাজ থাকলেও এখন ফিউশন করা হয়। একটি নকশার সঙ্গে আরেকটি নকশা, রঙ ও ধরন মিলিয়ে ফিউশন করে শাড়ি বানায় তাঁতিরা।
শাড়ি : আমেন কালেকশন । ছবি : সংগৃহীত
জামদানি শাড়ির দাম
আমেন কালেকশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. দিলরুবা নাসরিন বলেন, ‘জামদানি শাড়ির দাম, নির্ভর করে বুনন ও নকশার ওপর। বুনন যত সূক্ষ্ম সুতার হবে, সুতার কাউন্ট যতো বেশি হবে, কাজ যত ঘন হবে, তত দাম বেশি হবে। একটি শাড়ির দাম সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্তও হয়।’
জামদানি শাড়ির সুতোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কাউন্ট রয়েছে জানিয়ে ইফতেখার আমিন বলেন, ‘৬০, ৮০, ৮৪, ১০০ কাউন্ট হয়। কাউন্ট যতো বাড়বে দামও তত বাড়বে। পাশাপাশি কাজ যত ভারি হবে তত দাম বাড়বে। অনেক সময় ৮শ বা ১ হাজার টাকায় জামদানি পাওয়া যায়। তবে এগুলোর গুণগত মান খুব কম হয়। আমরা জামদানি শাড়ির গুণগত মান নিয়ে আপোস করি না। তাই আমাদের শাড়ির দাম ৪ হাজার টাকার ওপর থেকে শুরু হয়। এতে স্টাইল ও গ্রেস দুটোই থাকে।’
ভালো জামদানি বোঝার উপায়
কীভাবে বোঝা যাবে জামদানিটি আসল কি না? এ বিষয়ে আমেন কালেকশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. দিলরুবা নাসরিন জানান, ভালো জামদানিতে শাড়ির পেছনের দিকে সুতো মতো বের হয়ে থাকে না। ভালো শাড়ির সোজা পাশ ও উল্টো পাশ বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়। এর বুনন হয় ফাঁকা ফাঁকা। একে মসৃণ মনে হবে না। আবার সুতার কাউন্ট দিয়েও ভালো মন্দ বোঝা যায়। মোটা সুতা কম কাউন্টের। সুতা সরু বা পাতলা হলে বেশি কাউন্টের। কাউন্ট যত বেশি শাড়ি তত সুন্দর। তবে ৬০ কাউন্টের শাড়িও কিন্তু খুব সুন্দর হয়।
শাড়ি : আমেন কালেকশন। ছবি : সংগৃহীত
জামদানি শাড়ির যত্ন
জামদানি শাড়ি যত্ন না নিলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তবে যত্ন মানে এই নয় যে শাড়ি ভাঁজ করে সবসময় আলমারিতে তুলে রাখতে হবে। বরং বার বার পরলেই এটি ভালো থাকে। উপস্থাপক ডা. সানজিদা হোসেন পাপিয়া জামদানির যত্ন কীভাবে নেন? জানালেন, যেকোনো শাড়ির তুলনায় এর একটু বাড়তি যত্ন নিতে হয়। এই যত্নটা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনার জামদানি শাড়ির প্রতি কতটা ভালোবাসা রয়েছে তার উপরে। শাড়ি একবার পরে আরেকটি বড় অনুষ্ঠানের জন্য রেখে দিলে চলবে না। এটি ঘন ঘন পড়তে হবে। অনেকে অন্যান্য শাড়ির সঙ্গে এটি ভাজ করে রাখেন। এটা না করাই ভালো। অনেক সময় ভাজ করে রাখলে সেই অংশে শাড়িটি ফেসে যায়। সবচেয়ে ভালো হয় শাড়ি রোল করে রাখলে। তবে রোল করতে অসুবিধা হলে কম ভাজ করে হ্যাঙারে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কয়েকদিন পর শাড়ি খুলে অন্যভাবে ভাজ করতে হবে। যেন একইভাবে শাড়িটা বেশিদিন না থাকে। জামদানি শাড়ি রোদে শুকাতে দিতে হবে। রোদে শুকানোর পর সঙ্গে সঙ্গে ভাজ করা যাবে না। শুকানোর পর শাড়ি ঠান্ডা হলে সেটিকে ভাজ করে রাখতে হবে। রোদে শুকাতে না পারলে বাতাসে শুকিয়ে রাখতে পারলে ভালো। বাইরে থেকে এসেও সরাসরি আলমারিতে রাখাবেন না। কিছুক্ষণ বাতাসে রেখে এরপর আলমারিতে রাখুন। পারের জায়গায় ফল্স লাগিয়ে নিন।
জামদানি শাড়ি সাধারণত আয়রন করা যায় না। বেশি ব্যবহারেই এই শাড়ি ভালো থাকে। এটি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কাঠের দণ্ড (জানালার পর্দা লাগানোর কাজে ব্যবহৃত হয়)-এর সঙ্গে জড়িয়ে গোল করে রাখা গেলে শাড়িটি সবচেয়ে ভালো থাকে। এটা না করতে পারলে ভাজ করতে হবে ঠিকই, তবে কিছুদিন পর পর শাড়ি বের করতে হবে।
জামদানি শাড়ির যত্বের বিষয়ে আমেন কালেকশন-এর প্রতিষ্ঠাতা দিলরুবা নাসরিন জানান, এই শাড়ি ঘরে ধোয়ার চেষ্টা করা যাবে না। এর পরিষ্কারের পদ্ধতিকে ‘কাটা করা’ বলা হয়। এটি করে নিতে হবে। তবে এটি বিশেষজ্ঞ তাঁতি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে করিয়ে নেওয়া ভালো। আনাড়ি হাতে করলে শাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সর্বপোরি এই শাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ভালো-মন্দ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শাড়ির বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তাহলেই এটি ভালো রাখা যাবে।