আমাদের দেহের মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে স্নায়ুরজ্জু বা স্পাইনাল কর্ড চলে গেছে। অনেক সময় স্পাইনাল কর্ডের ভেতরে ও বাইরে টিস্যু বেড়ে যায় বা ছোট পিণ্ড তৈরি হয়। এই ধরনের কোষ বা পিণ্ড বেড়ে যাওয়াকে মেরুদণ্ড বা স্পাইনাল কর্ডের টিউমার বলে।
ছবি : সংগৃহীত
কেন হয়?
মেরুদণ্ডের টিউমার হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায় না। তবে ত্রুটিপূর্ণ জিনের কারণে এটি হতে পারে- এমন মত অনেক বিশেষজ্ঞদের। এ ছাড়া ধারণা করা হয় ক্ষতিকর পরিবেশে অনেকদিন থাকলে অথবা ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। আবার দেহের অন্যান্য অঙ্গের টিউমার ও ক্যানসার মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া টিউমার মেরুরজ্জুর আবরণীতে হয়, যা পরে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
উপসর্গ
# মেরুদণ্ডের কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তীব্র ব্যথা।
# গরম ও ঠান্ডার অনুভূতি বুঝতে না পারা।
# চলাফেরায় অসুবিধা হওয়া।
# দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বাড়া।
# সারাক্ষণ পিঠে ব্যথা হওয়া। ব্যথা পিঠের ওপরে ও নিচে ছড়িয়ে পড়া।
# পিঠের ব্যথা দিন দিন বাড়তে বাড়তে রোগীর হাত ও পা অসাড় হওয়ার অনুভূতি হতে পারে।
লেখক :নিউরো ও স্পাইনাল সার্জন কনসালট্যান্ট, নিউরোসার্জারি বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
অনেক বাবা-মাকে বলতে শোনা যায়, শিশুদের তো দুধ দাঁত, এক সময় পড়েই যাবে, তাহলে আর যত্ন নিয়ে লাভ কী। তাই শিশুর দাঁতের যত্নের বিষয়ে অনেক সময় তারা সচেতন থাকে না। তবে বিষয়টি কিন্তু খুব জরুরি।
যেভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে দাঁত বা মুখের প্রতি যত্নশীল হতে বলা হয়, ঠিক সেভাবেই একটি শিশুর ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকে দাঁত ও মুখের যত্নের প্রয়োজন রয়েছে। শিশুর দাঁতের যত্নে রইলো জরুরি কিছু পরামর্শ-
# শিশুর মুখে দাঁত আসার আগে থেকে যত্ন নিতে হবে। একটি নবজাতক যখন বুকের দুধ খাচ্ছে, সেই অবস্থাতেই দাঁতের যত্ন নেওয়া জরুরি। প্রতিদিন একটি পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে আঙুল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে দিতে হবে।
# এরপর যখন শিশুর মুখে দাঁত আসা শুরু হয়, তখন থেকে ব্রাশের বিষয়টি চলে আসে। এ ক্ষেত্রে মা-বাবাকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। দিনে দুই বেলা অবশ্যই ব্রাশ করাতে হবে। সকালবেলা নাস্তার পরে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে।
# শিশুদের দাঁতে ক্ষয়রোগ হতে পারে। দুধ খেতে খেতে অনেক সময় শিশুর সামনের দাঁতগুলো ক্ষয় হয়। এই সমস্যা যেন না হয় সে জন্য পরিষ্কারের দিকে জোর দিতে হবে। আর যদি সমস্যা হয়েই যায়, তাহলে দন্ত্য বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন। দাঁত পড়ে যাবে মনে করে এগুলো রেখে দিলে ভবিষ্যতে শিশুর সৌন্দর্যহানী ঘটতে পারে। আসলে দাঁতে সমস্যা হলে অনেক শিশুই চিকিৎসা সঠিকভাবে নিতে চায় না। তাই প্রতিরোধের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে পরিবারের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
লেখক কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন ডিকেএমসি হসপিটাল লিমিডেট, নারায়ণগঞ্জ ফোন : ০১৯৭১৬০০১১২, ০১৯৭১৬০০১১৩ চেম্বার : অনামিকা ডেন্টাল , ২/১ মধ্য বাসাবো, টেম্পুস্ট্যান্ড, ঢাকা ১২১৪ ফোন : ০১৯৩৩১৩৩৪৮৬
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
মুরগির কোরমা অনেকেরই খুব পছন্দের খাবার। তবে রান্নার ঝক্কির কারণে অনেকে হয়তো খাবারটি এড়িয়ে যায়। আজ আপনাদের জানাবো, মরগির কোরমার সহজ ও মজাদার একটি রেসিপি। খুব সহজেই এটি বানিয়ে ফেলতে পারবেন যে কেউ।
উপাদান
মুরগির মাংস ভাজার জন্য
মুরগি ১ কেজি ( ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে)
তেল ১/৪ কাপ
লবণ ১/২ চা চামচ
কষানোর জন্য
পেঁয়াজ কুচা ১/২ কাপ
দারুচিনি ২ টি ছোট
তেজপাতা ১টি
লবঙ্গ ৫ টি
এলাচ ৫টি
কালো গোল মরিচ ৮ থেকে ১০টি
পেঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
মরিচ বাটা ১ চা চামচ
দই ১/২ আধা কাপ
চিনি ১ চা চামচ
শাহ জিরা ১/২ চা চামচ
লবণ পরিমাণ মতো
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে মাংস ভাজার জন্য কড়াইয়ে তেল গরম করে এতে মাংস ও লবণ দিন। কিছুক্ষণ ভেজে নামিয়ে রাখুন। এবার আরেকটি কড়াইয়ে তেল দিয়ে একে একে পেঁয়াজ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, আদা বাটা, রসুন বাটা, দই সহ কষানোর জন্য মসলাগুলো দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ নেড়ে এর ভেতর ভাজা মাংস দিয়ে কষিয়ে নিন। এবার সামান্য পানি দিন। পানি শুকিয়ে মাখো মাখো হয়ে এলে এর ওপর পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। পোলাও অথবা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন মুরগির কোরমা।
পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীও এগিয়ে চলছে সমান তালে। আবার পুরুষের মতো কাজ শেষে ঘরে এসে ল্যাপটপে বা টিভি রিমোট নিয়ে বসে পড়ার ফুরসতও যেন নেই তাদের। সকাল-সন্ধ্যা কাজ করে আবার ঘরে এসে সামলাচ্ছে ঘরকন্না, হেঁশেলও ঠেলছে । বাচ্চা সামলাচ্ছে। এত কাজের চাপে কর্মজীবী নারীর নিজেকে সুস্থ রাখা একটি চ্যালেঞ্জই বটে।
সামাজিক রীতি তো রাতারাতি বদলাবে না। তবু সুস্থ থাকতে হবে এর ভেতরই। কিছু অভ্যাস করে নিলে অনেক ব্যস্ততার ভেতরও ভালো থাকা যায়। সেগুলো নিয়েই আলাপ করা যাক।
ঘুম থেকে উঠুন সকাল
ঘুম থেকে উঠেই যেন হাঁচর-পাঁচর করে দৌড়ুতে না হয়। এটা এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করে। একটু আগে ভাগে বিছানা ছাড়ুন। দরকারি সাংসারিক কাজগুলো সেরে নিন।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
হালকা ব্যায়াম করুন। মুক্ত হস্ত ব্যায়াম। অফিসে যাওয়ার আগে বিশ মিনিট অ্যারোবিক্স করলে শরীর-মন চাঙা থাকবে। ফিরে এসেও বিশ মিনিট করতে পারেন।
কাজের ফাঁকে একটু হাঁটাহাঁটি
একটানা বসে কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে একটু হাঁটাহাঁটি করুন; দাঁড়ান, অল্প স্বল্প গল্প করে নিতে পারেন সহকর্মীদের সঙ্গে।
সঙ্গে খাবার রাখুন
দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকবেন না। সঙ্গে করে খাবার নিয়ে যান। সাদা রুটি, বিস্কুট, সবজি, ফল জাতীয় খাবারই এ ক্ষেত্রে ভালো। এগুলো শরীর ভারী করবে না।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
কর্মজীবী নারীরা অনেক সময় কাজের চাপে পানি খেতে ভুলে যায়। যারা কায়িক শ্রম করেন তাদের ঘাম হয় প্রচুর হয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে পানিশূন্যতা হতে পারে। প্রস্রাবে ইনফেকশনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানির আয়োজন রাখতে হবে। প্রয়োজনে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন।
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু
মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাকস্থলী ক্যানসারের প্রকোপ বেড়েছে। ভেজাল খাবার, খাবারে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য মেশানোর কারণে এই ক্যানসার বাড়ছে বলে মনে করেন কোনাে কোনো গবেষক।
এশিয়ার চিন, জাপান ও দক্ষিণ এশিয়াতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব এখনও আশঙ্কাজনক। এ রোগে নারীর চেয়ে পুরুষ বেশি আক্রান্ত হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। সমাজের উচ্চবিত্তদের এই ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি।
রোগের কারণ
হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক একটি ব্যাকটেরিয়া মানুষের পাকস্থলী ও ডুওডেনামে আলসারের সৃষ্টি করে। জীবাণুটি পাকস্থলীতে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষণস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি করে। ক্ষণস্থায়ী প্রদাহ থেকে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি হয়। অবশেষে এটি ক্যানসারে পরিণতি ঘটায়। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে কেবলমাত্র হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দিয়ে আলসারটিই ক্যানসারে পরিণত হয়।
ধূমপান ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য বিশেষভাবে দায়ী হলেও পাকস্থলীতে ক্যানসার সৃষ্টিতে এর ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। ধূমপায়ীরা অধিকহারে পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া বেশি লবণ ও ধোঁয়াযুক্ত খাবার, লবণে সংরক্ষিত খাবার, নাইট্রাইট ও নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাবারকে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এ’, তারা অন্যান্য রক্তের গ্রুপধারীদের চেয়ে বেশি পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। বংশগত কারণকেও আজকাল উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
লক্ষণ
পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে পরবর্তী পর্যায়ে শরীরের ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, রক্তবমি, কালো রক্তযুক্ত পায়খানা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর উপরের পেটে চাকা থাকে। অনেকে জণ্ডিস দিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন। পাকস্থলীর ক্যানসারের রোগী জন্ডিস দিয়ে আক্রান্ত হলে বুঝতে হবে এটি লিভারে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের পেটে পানি আসতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যানসারটি ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থিতে ছড়াতে পারে। নারীর ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি হাড়, পেরিটোনিয়ামও এ ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে রোগীর অবস্থা আরোও খারাপ করে ফেলে।
লেখক রেজিস্ট্রার, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইন্স
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো এসএসসি ৯৬, এইচএসসি ৯৮ গ্রুপ ও রঁদেভু ৯৬-৯৮ ফাউন্ডেশনের উইমেন্স উইংয়ের উদ্যোগে নারীদের বাৎসরিক মিলনমেলা ‘প্রজাপতি আড্ডা’ সিজন- ৫। এই অনুষ্ঠানে পেশাগত ও সামাজিক কার্যক্রমে অবদানের জন্য চারজন নারীকে সর্বজয়া অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। গতকাল ২৭ জানুয়ারি, শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে ইমপেটাস সেন্টারের, ইমপেটাস লঞ্চ- এর রুফটপে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানটি।
৯৬-৯৮ গ্রুপের নারীদের সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা ও সহযোগিতামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়, সর্বজয়া অ্যাওয়ার্ড। সামাজিক কাজে অবদান রাখার জন্য ৯৬-৯৮ ব্যাচের চারজন নারীকে এ বছর এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো। তাঁরা হলেন, ডা. ছাবিকুন নাহার (চিকিৎসা), সাদিয়া সুলতানা (লেখক), ফারজানা ছবি (অভিনয় শিল্পী), নূর নাহার তৃপ্তি ( উদ্যোক্তা, সুরঞ্জনা)।
ছবি : সংগৃহীত
ডা. ছাবিকুন নাহার ৩০তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর লেখা ‘রোগীকথন : শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কথকতা ‘ বইটি দারুণ পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে এবং ২০২২ এর বইমেলায় বেস্ট সেলার হয়। লেখক সাদিয়া সুলতানা বিচারক হিসাবে বাংলাদেশ বিচার বিভাগে কর্মরত আছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ দশটি।
ফারজানা ছবি বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ। প্রায় ২৫ বছর ধরে অভিনয়ের মাঝেই নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন।
তাঁর অভিনীত সীমানা পেরিয়ে নাটকের জন্যে ২০১৩ সালে তিনি মেরিল প্রথম আলো ক্রিটিক্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডে শ্রেষ্ঠ টিভি অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। উদ্যোক্তা নূর নাহার তৃপ্তি, সুরঞ্জনার স্বত্তাধিকারী। তিনি দেশীয় তাঁতের প্রচার ও প্রসার ঘটাতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। রঁদেভু ৯৬-৯৮ ফাউন্ডেশনের উইমেন্স উইংয়ের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করে তাদের সম্মানিত করা হয়।
দুপুর ১২টা থেকেই ৯৬-৯৮ ব্যাচের প্রজাপতিরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে থাকে, চলে রেজিষ্ট্রেশন। ১ টায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। নানানরঙে আকর্ষণীয় সাজসজ্জায় অনুষ্ঠানস্থল একসময় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রজাপতিদের পদচারণায়। আফরোজা পারভীনের সঞ্চালনায় পবিত্র কুরআনের বাণী পাঠ ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। নির্দিষ্ট বিরতির পরপর নাচ,গান জেনারেল ড্র, র্যাফেল ড্র সহ ছিলো নানারকম বিনোদনের আয়োজন। সবচেয়ে আনন্দময় ছিলো উপস্থিত মেয়েদের করা র্যাম্প শো। ইমপেটাস সেন্টারের রুফটপ তখন তারুণ্যের উচ্ছাস ও উচ্ছলতায় পরিপূর্ণ ।
ছবি : সংগৃহীত
১৯৯৬ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৮ সালে এইচএসসি পাশ করা ছেলেমেয়েদের ব্যাচভিত্তিক ফাউন্ডেশন রঁদেভু ৯৬৯৮ ফাউন্ডেশনের উইমেন্স উইং শুধুমাত্র নারী সদস্যদের অংশগ্রহণে গত ৫ বছর ধরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।
সারাদিনের হৈ হুল্লোড় শেষে সবাই মিলে একসাথে কেক কাটার পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। নানানরঙে রঙিন আলোর ঝলকানিতে সন্ধ্যা নেমে আসে। আরো একটা বছরের প্রাণশক্তি নিয়ে ফিরে যায় সবাই। সামনে বছর আবার মিলিত হবে এই শুভকামনা নিয়ে।
পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে আয়োজন করতে আয়োজক কমিটিতে ছিলেন – নুসরাত জাহান সিলভি, আফরোজা পারভীন, আলিফ সানজিদা, হালিমা হোসেন তন্দ্রা ও পারিসা ইসলাম খান। সহযোগী হিসেবে ছিলেন- মাকসুদা লিজা, সুরাইয়া শ্যামলি, উম্মে সাদিয়া শাম্মী, মুশফেকা পমি, পাখি মারুফা আক্তার ও সামছুন সোমা।
বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা। উজ্জ্বলা প্রান্তিক নারীকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কাজ করে।
নতুন প্রজন্মের নারী ও পুরুষ যেন বিশ্বমানের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং-এ নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে, সেই চিন্তা থেকে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। নারীকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের সব বিস্তারিত শেখায় উজ্জ্বলা। দেশের সেরা বিউটি আর্টিস্টরা এসব প্রশিক্ষণের ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে রয়েছেন। গত ছয় বছরে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ট্রেনিং শেষ করেছে উজ্জ্বলায়।
উজ্জ্বলার যাত্রা ও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সাতকাহন২৪.কম-এ কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির সহ প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের বিউটি ইন্ডাসট্রির পরিচিত মুখ আফরোজা পারভীন।
ছবি : সংগৃহীত
সাতকাহন : উজ্জ্বলার শুরুটা কেমন ছিল? কী উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি?
আফরোজা পারভীন : উজ্জ্বলা আসলে একটি সামাজিক উদ্যোগ। এটি বিউটি ও গ্রুমিং সেক্টরে নারী ও পুরুষকে সমান তালে প্রশিক্ষণ দেয় এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সহযোগিতা করে। উজ্জ্বলার বিভিন্ন কোর্স করার মাধ্যমে নারীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারছে এবং দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তরুণ শক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।
উজ্জ্বলা ভারত ও বাংলাদেশ মিলে একটি যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। এর চেয়ারম্যান আদিত্য সোম। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে। যেহেতু আমি বিউটি ইন্ডাসট্রির সঙ্গে যুক্ত, তাই আমরা দুজনে মিলে এই সেক্টরে কাজটি শুরু করি।
আফরোজা পারভীন : একজন ব্যক্তি দক্ষ বিউটি আর্টিস্ট হতে পারলে দেশ ও বিদেশে তার ব্যাপক চাহিদা থাকে। আমাদের দেশে এই সেক্টরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ কম। ভালো মানের প্রতিষ্ঠানগুলোতে খরচ অনেক বেশি। অনেকের পক্ষেই সেই সুযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তবে উজ্জ্বলা থেকে আমরা স্বল্প খরচে মেকআপের বেসিক থেকে অ্যাডভান্স কোর্সগুলো করিয়ে থাকি। কিস্তিতে টাকা দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি উজ্জ্বলায় রয়েছে হোস্টেল। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এসে শিক্ষার্থীরা এখানে থেকে কোর্স করতে পারে। এ ছাড়া আমরা পুরুষদেরও বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ দিই। অন্যান্য অনেক জায়গায় সেই সুবিধাগুলো নেই। একজন শিক্ষার্থীকে কেবল শিখিয়ে দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয় না। তাকে ফলোআপ করা হয়। উদ্যোক্তা তৈরিতে সহযোগিতা করি আমরা।
বিউটি সেক্টরে আসলে দুই ধরনের মানুষ আসতে চায়। এক ধরনের মানুষ আসে শখের বসে। আরেক ধরনের মানুষ আসে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে। দুজনের কাউকেই আমরা আটকাতে পারি না। কারণ, দুজনেই খুব নিবেদিত থাকে বিষয়টি নিয়ে। হয়তো একজন নারী কাজ শিখে তার পরিবারকে সাহায্য করবেন, সন্তানের মুখে খাবার জোগাবেন! আর এই সেক্টরটি কাজ শিখে স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে বেশ উপযোগী।
ছবি : সংগৃহীত
সাতকাহন : এর বাহিরে উজ্জ্বলা আর কী ধরনের কর্মকাণ্ড করে?
আফরোজা পারভীন : উজ্জ্বলা রোহিঙ্গা ও দলিত সম্প্রদায়ের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিউটি প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এ ছাড়া সমাজের অবহেলিত অংশ (প্রতিবন্ধি, বিধবা, রেপ ভিক্টিম) -কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে উজ্জ্বলা।
সাতকাহন : উজ্জ্বলার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
আফরোজা পারভীন : উজ্জ্বলা উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করে যেতে চায়। তরুণ সমাজকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে বেগবান করতে উজ্জ্বলা বদ্ধ পরিকর।
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস- প্রিয় দুটি দিন সাধারণত একই সময়ে উদযাপিত হয়। তাই সাজ পোশাক নির্বাচনে একটু দ্বিধায় পরতে হয়। ফাল্গুন-ভালোবাসা দিবসের জন্য বিশেষ কালেকশন নিয়ে এসেছে দেশের অন্যতম প্রধান ফ্যাশন ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফ্ট।
এবারে সমসাময়িক মোটিফ ও প্রিন্টের পাশাপাশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে বাছাই করা ডিজাইন, প্যাটার্ন ও রঙকে। এতে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস- দুটো উৎসবই সমানতালে ফুটে উঠবে। নারী, পুরুষ ও শিশুদের বছরজুড়ে পরার মতো দারুণ সব চলতি ফ্যাশনের মানানসই পোশাক নিয়েই এবারের আয়োজন।
ছবি : সংগৃহীত
ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এথনিক, ট্র্যাডিশনাল, ফিউশনধর্মী নানা পোশাকের আয়োজন করা হয়েছে। ফ্লোরাল, ট্র্যাডিশনাল পেইসলে, মানডালা, ওয়াল আর্ট, জ্যামিতিক, মিনাকারি, জামদানি ইত্যাদি নানা মোটিফে তৈরি করা পোশাক সারিতে রয়েছে-শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, লং-কুর্তি, রেগুলার কুর্তি, টপস, কাফটান, টিউনিক, টপস-স্কার্ট, ছেলেদের জন্য রেগুলার ও ফিটেড পাঞ্জাবি, শার্ট, পলো, কটি, শার্ট ও শিশুদের জন্য নানা আয়োজন তো থাকছেই। ফ্যামিলি পোশাক থাকবে বরাবরের মতো। অর্থাৎ মা ও মেয়ের কুর্তি, বাবা ও ছেলের জন্য পাঞ্জাবি। এ ছাড়া যুগলদের জন্য বিশেষ পোশাক।
পাশাপাশি থাকছে গয়না, নানা উপহার সামগ্রী, হোম ডেকর আইটেম, স্যান্ডেল ও নানা প্রয়োজনীয় ফ্যাশন অনুষঙ্গ।
ছবি : সংগৃহীত
কে ক্র্যাফ্ট এর সকল আউটলেট ছাড়াও দেশে ও দেশের বাইরের যে কোনো প্রান্ত থেকে অনলাইন শপ kaykraft.com থেকে ফাল্গুন-ভালোবাসা দিবসের পোশাক কিনতে পারেন বিশেষ সাশ্রয়ী মূল্যে। এ ছাড়া ফেসবুক পেজ থেকেও কেনাকাটা করার সুবিধা রয়েছে।
সোনারতরী শিশু-কিশোর সংঘ পরিচালিত ও এবিসি আর্লি লার্নিং অ্যান্ড ডে কেয়ার সেন্টার আয়োজিত দিনব্যাপী ‘আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২১ জানুয়ারি, শনিবার, সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত মোট ২০ জন কিশোর-কিশোরী নিয়ে সারাদিনব্যাপী সেশনটি পরিচালনা করেন সোনারতরী-র প্রতিষ্ঠাতা, মনোবিজ্ঞানী ফারজানা ফাতেমা (রুমী)।
ওয়ার্কশপে বিভিন্ন মেমোরি টেস্ট, এক্সিকিউটিভ ফাংশন গেইমসের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ব্যপারে আলোচনা করা হয়। দেখানো হয় কিছু মোটিভেশনাল ভিডিও এবং পাওয়ার পয়েন্ট প্রেসেন্টেশন। মধ্যাহ্ন ভোজের পর কিশোর-কিশোরীদের তিনটি ভাগে ভাগ করে পোস্টার প্রেসেন্টেশন করতে দেওয়া হয়, যার বিষয়বস্তু ছিল ‘সামাজিক যোগাযোগ’, ‘মনোযোগ বৃদ্ধি’, ‘আবেগ নিয়ন্ত্রণ’।
ছবি : সংগৃহীত
সফলভাবে শেষ হয়েছে সোনারতরী-র ৭টি ব্যাচ এবং সাথে আছে মোট ৮৩ জন কিশোর-কিশোরী সদস্য। অনুষ্ঠান শেষে মনোবিজ্ঞানী ফারজানা ফাতেমা (রুমী) বলেন, “কোভিড-১৯ চলাকালে শিশুরা যখন ঘরবন্দী তখন মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনলাইনে গড়ে উঠেছে সোনারতরী। আর আজকে সবাই মিলে কখনো ২ জন, কখনো ৩ জন এভাবে বিভিন্ন দলগত কাজগুলো করেছে যা আসলে অনলাইনে সম্ভব নয়। তাই কিশোর বয়সে এরকম সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ব্যক্তিত্ব বিকাশে অত্যন্ত জরুরি।
একজন কিশোর বয়সী শিশুর সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা তাকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলে। আমাদের সাথে একজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কিশোরীও অংশ নিয়েছিল এবং এটা ছিল তার জীবনের প্রথম কোথাও একা একটি দিন কাটানো। পাপেটিং গেইমে সেও অন্যদের মতো নিয়ম মেনে কাজ করেছে। এতে অন্যান্য কিশোর-কিশোরীদের মাঝেও সহোযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হতে দেখা গেছে।
অনুষ্ঠান শেষে শিশু- কিশোরদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন এবিসি আর্লি লার্নিং এন্ড ডে কেয়ার সেন্টারের পরিচালক সোনিয়া ফারজানা আকরাম। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট প্রফেসর ড. মো. মাহমুদুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, সোনারতরী-র উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. মাহমুদ ফারুকী। উপস্থিত ছিলেন চাইল্ড সাইকোলজিস্ট শামীমা সিরাজি সুমি, ড. আইরিন বিনতে আজাদ। ভলান্টিয়ার হিসেবে ছিলেন, আনোয়ারা বেগম, মাহফুজা আলী, সায়েম আহমেদ রিপন, সাবিনা ইয়াসমিন ও শারমিন ফেরদৌস।
ছবি : সংগৃহীত
অনুষ্ঠান শেষে ড. মাহমুদুর রাহমান বলেন, ‘আমরা যখন নিজে নিজে কোনো খেলা খেলি সেটি হলো প্লে। আর এই যে তোমরা আজকে প্রতিটি নিয়ম মেনে খেলছো এটা হলো গেইমস। যেমন: ফুটবল একটা গেইম। তোমরা আজকে এখান থেকে যা যা শিখে যাচ্ছো, তা ছড়িয়ে দিতে হবে পরিবারে, বন্ধুদের সঙ্গে, সমাজে যেনো তোমরা যখন বড় হবে তোমার কাছ থেকে সমাজের মানুষ উপকৃত হতে পারে।’
শিশু সাইকোলজিস্ট শামীমা সিরাজি বলেন, ‘এই খেলাগুলোতে আমাদের বুদ্ধি ও জ্ঞানীয় বিকাশ ঘটে। এটি আমাদের পরবর্তী জীবনকে আরো সুন্দর করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।’
সোনারতরী-র উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. ফারকী বলেন, তাঁর অনেক পরিচয়ের মাঝে সোনারতরী-র উপদেষ্টা এই পরিচয়টি দিয়ে তিনি এখন স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। সোনারতরী একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। তাই তিনি এর অগ্রযাত্রায় সকলের সহোযোগিতা আশা ব্যক্ত করেন। কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে এরকম আয়োজনকে তিনি সাধুবাদ জানান।
‘চলো স্বপ্নের জাল বুনি’ এই স্লোগান নিয়ে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময়ে অনলাইনে গড়ে উঠেছিল সোনারতরী শিশু-কিশোর সংঘ। এখানে শুধু সারা বাংলাদেশের বয়ঃসন্ধিকালিন (১০ থেকে ১৮ বছর) শিশুরাই নয়, দেশের বাইরের বাঙালি শিশুরা যুক্ত হয়ে অতিমারিতে তাদের জীবনযাত্রা, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেছে। দেশের বাইরের বিশিষ্ট সম্মানিত অতিথিরাও ক্লাসে যুক্ত হয়ে কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
সোনারতরী-র অনলাইন ফ্রি এনরোলমেন্ট ‘Mental Health Wellbeing’ এর ক্লাসের বিষয়বস্তু:
১। আত্মবিশ্বাসী হই, ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে জানি।
২। মৌলিক আবেগ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ।
৩। মনোযোগী হই, মন শিথিলকরণ শিখি।
৪। যোগাযোগ দক্ষতা শিখি।
৫। নেতৃত্ব ও দল গঠন কৌশল শিখি।
৬। আমার স্বাস্থ্য সুরক্ষা জানি, সচেতন হই।
৭। চাপ মোকাবেলা ও রাগ নিয়ন্ত্রণ।
৮। নারী-পুরুষ সমতা ও আমার সামাজিক আচরণ জানি।
৯। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক চিকিৎসা জানি।
এছাড়াও অভিভাবকদের জন্য রয়েছে, ‘হেলদি প্যারেন্টিং’, ‘চাপ মোকাবেলা এবং রাগ নিয়ন্ত্রণ’ ওয়ার্কশপ।
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
শীতে মাথাব্যথা বাড়ছে- এ রকম অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন। সমস্যাটিকে অসত্য বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। আসলে শীতে মাথাব্যথা বাড়তে পারে।
রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল জানান, শীতে কয়েকটি কারণে মাথাব্যথা বাড়ে। এ সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন, বায়ুর চাপে পরিবর্তন, বাতাসের শুষ্কতা ইত্যাদি মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া যাদের সাইনুসাইটিসের সমস্যা রয়েছে তাদেরও এ সময় অসুখের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। অপরদিকে যারা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভুগছে তারাও এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এই মৌসুমে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ে।
শীতে মাথাব্যথা কমাতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে ডা. গুলজারের পরামর্শ-
১. সব সময় নিজেকে উষ্ণ রাখতে হবে। গরম কাপড় ব্যবহার করবেন। মাফলার, কানটুপি ব্যবহার করতে হবে।
২. রাতে বাহিরে খোলা আকশের নিচে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না।
৩. ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করতে হবে সবসময়।
৪. সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করবেন।
৫. যাদের সাইনুসাইটিসের সমস্যা রয়েছে তারা স্টিম ইনহেলেশন বা গরম পানির ভাপ নিতে পারেন।
৬. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।