Sunday, September 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 102

প্রস্রাবে সংক্রমণ হলে করণীয়

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল

প্রস্রাবে সংক্রমণ বা ইউরিন ইনফেকশন খুব সাধারণ একটি সমস্যা। পুরুষের তুলনায় নারীরা এই রোগে বেশি ভোগে। তবে বয়স্ক পুরুষও এই রোগে ভুগে থাকে। খুব সাধারণ রোগ হলেও ক্ষেত্র বিশেষে এটি রোগীর প্রাণনাশের কারণও হতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণদের বেলায়।

প্রস্রাবের রাস্তায় মূলত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে আমরা তাকে ইউরিন ইনফেকশন বলি। ই কোলাই, সিউডোমোনাস, অ্যান্টারোকক্কাস ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া এই জাতীয় সংক্রমণের জন্য দায়ী। খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে ফাংগাস ইনফেকশনও হতে পারে।

লক্ষণ
ইউরিন ইনফেকশনের প্রধান লক্ষণগুলো হলো- জ্বর, তলপেটে ব্যথা, ঘনঘন প্রস্রাব, শরীর দুর্বল লাগা, খাওয়ার অরুচি ইত্যাদি।

কারণ
প্রস্রাবের রাস্তায় কোনো বাধা থাকলে (যেমন: টিউমার, পাথর, প্রস্টেট গ্ল্যান্ড), অনেকক্ষণ প্রস্রাব ধরে রাখলে, পানি কম পান করলে, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে প্রস্রাবের ইনফেকশন হতে পারে। আবার কোনো কারণ ছাড়াও হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বৃহদান্ত্রে বাস করা ব্যাকটেরিয়াগুলো প্রস্রাবের রাস্তায় এসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

প্রতিকার
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। যৌনক্রিয়ার পর যৌনাংগের আশেপাশের এলাকা সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব ধরে রাখা যাবে না। মুত্রথলি খালি করে প্রস্রাব করতে হবে। প্রতিদিন ১৮ হাজার থেকে দুই হাজার মি.লি. পানি পান করতে হবে। ক্যানবেরি জ্যুস পান করলে মূত্রনালীর প্রদাহ কম হয়।

পরীক্ষা
সাধারণত প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা ও কালচার পরীক্ষা করেই এই রোগ নির্ণয় করা হয়। অনেক সময় শুধুমাত্র শারীরিক লক্ষণের ওপরই নির্ভর করে রোগ শনাক্ত করতে হয়।

চিকিৎসা
অ্যান্টিবায়োটিক একমাত্র চিকিৎসা। কালচারের মাধ্যমে কোনো জীবাণু উপস্থিত রয়েছে কি না তা শনাক্ত করে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন করতে হবে। প্রস্রাবের রাস্তায় কোথাও বাধা থাকলে প্রয়োজনে অপারেশন করে তা দূর করতে হবে। বয়স্ক পুরুষের প্রস্টেটের সমস্যার কারণে ইউরিন ইনফেকশন হলে তার চিকিৎসা করতে হবে।

লেখক : রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ

জরায়ুমুখের ক্যানসার : রোগের ব্যাপকতা, করণীয়

অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন

স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতায় ইতোমধ্যে বাড়লেও জরায়ুমুখের ক্যানসার নিয়ে আলোচনা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার’ আইএআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রতিবছর ৬ লাখ ৪ হাজার ১শ ২৭ নারী এই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। মারা যায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ৮শ ৩১ জন।

রোগের ব্যাপকতা

আইএআরসি’র হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে নারী ক্যানসার রোগীদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জরায়ুমুখের ক্যানসার। আইএআরসি’র এই হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর জরায়ুমুখের ক্যানসারে বাংলাদেশে ৮ হাজার ২শ ৬৮ জন নারী আক্রান্ত হয়। এটি নারীর ক্যানসারের প্রায় ১২ শতাংশ। মারা যায় ৪ হাজার ৯শ ৭১ জন।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইন্সস্টিটিউটের সর্বশেষ প্রকাশিত হাসপাতাল- ভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন প্রতিবেদন ২০১৮ থেকে ২০২০ অনুযায়ী নারীদের ক্যানসারের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসারের স্থান দ্বিতীয় (১৪ দশমিক ৩ শতাংশ), স্তন ক্যানসার শীর্ষে (২৯ দশমিক ৩ শতাংশ)। নারী- পুরুষ নির্বিশেষে এর অবস্থান তিন নাম্বারে (১০ দশমিক ৯ শতাংশ)। সহজভাবে বলা যায়, প্রতি আট জন নারী রোগীর একজন জরায়ুমুখের ক্যানসারে ভুগছে।

ভাঙতে হবে অচলায়তন
জরায়ুমুখের ক্যানসার নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। রোগ প্রকাশে রয়েছে সংকোচও। সংকোচের বিহ্বলতা কাটাতে হবে আমাদের। তবে সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় কারণে প্রাণঘাতী এই রোগটি নিয়ে আলোচনা করাটাও অনেক ক্ষেত্রে দুঃসাধ্য।

অনেকে ভিতরে ভিতরে রোগটি পুষতে থাকে। লক্ষণ টের পেলেও পরিবারের সদস্যদের কাছে গোপন রাখে। শেষ পর্যায়ে যখন চিকিৎসার জন্য আসে, তখন করার তেমন কিছু থাকে না। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নারীদের প্রধান দুটি ক্যানসার স্থান অর্থাৎ স্তন ও জরায়ুর সুস্থতা নিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আমাদের বুঝাতে হবে, স্তন কিংবা জরায়ু একজন নারীর জন্য, একজন মায়ের জন্য লজ্জা বা সংকোচের কোনো বিষয় নয়। যে অঙ্গে মা তার সন্তানকে ধারণ করে, সেই জরায়ু, কিংবা জন্মের পর যে অঙ্গ থেকে সন্তানকে পুষ্টি যোগান, সেই স্তন বরং একজন মায়ের জন্য অহংকারের বিষয়। এর সুস্থতা নিয়ে নারীকে কথা বলার সাহস যোগাতে হবে। প্রতিটি পুরুষের দায়িত্ব জননীর, নিজের কিংবা তার সন্তানের, জরায়ুর সুস্থতা নিশ্চিত করা। জননীর কাছে জন্মঋণ স্মরণ করে।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী, জননীর জন্য পদযাত্রা
নির্বাহী পরিচালক, সিসিইপিআর,বি
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম
সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগ
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিউট ও হাসপাতাল

জরায়ুমুখের ক্যানসার : কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন

জননীর কাছে সবার রয়েছে জন্মঋণ, জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতায় অংশ নিন। এই শ্লোগান নিয়ে প্রতিবছর জানুয়ারি মাসকে জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। সমাজের যে অংশের নারী এতে প্রধানত আক্রান্ত হয়, তাদের মধ্যে রোগটি নিয়ে সচেতনতার অভাব প্রচণ্ড। বিষয়টি নিয়ে লজ্জা- সংকোচ তাদের বিরত রাখে পরীক্ষা- নিরীক্ষা ও চিকিৎসা মুখী হতে। নিম্ন আর্থসামাজিক অবস্থাও বড় বাধা।

স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতায় ইতোমধ্যে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া দরকার জরায়ুমুখের ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস। প্রতিবছর জানুয়ারি মাসকে জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়।

জরায়ুমুখের ক্যানসার কী?

মায়ের পেটে জরায়ু বা ইউটেরাস নামক অঙ্গটির ভেতরে আমরা প্রত্যেক মানুষ জন্ম নিই। এই জরায়ুর নিচের দিকে সরু অংশটিকে বলা হয় জরায়ুমুখ, ইংরেজিতে সারভিক্স। এই সারভিক্সের ক্যানসারকে বলা হয় সারভাইক্যাল বা জরায়ুমুখের ক্যনসার। পুরো জরায়ু থেকে জরায়ুমুখের ক্যানসার একটু ভিন্ন প্রকৃতির।

জরায়ুমুখের ক্যানসারে একজন নারী আক্রান্ত হয় কেন ?

জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে কতগুলো আর্থসামাজিক এবং কিছু ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশের বেলায় যেখানে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা বেশিরভাগই একটু নিম্ন পর্যায়ের থাকে, আমরা প্রধানত দায়ী করি বাল্যবিবাহকে। খুব অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হলে এবং অল্প বয়সে সন্তান হলে, বেশি সন্তান হলে, ঘন ঘন সন্তান হলে জরায়ুমুখের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এগুলো অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে রয়েছে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব। বিশেষ করে মাসিকের সময় জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় না থাকলে এ সমস্যা হতে পারে। অপুষ্টি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে অন্য কারণগুলোকে উৎসাহিত করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা। আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক মেলামেশা। আমাদের দেশে সমস্যাটি বাড়ছে। তবে পশ্চিমা বিশ্বে এই হারটা বেশি। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ভাইরাসকে বলা যায় দুষ্টু ভাইরাস। এই ভাইরাসের সংক্রমণ বারবার হলে জরায়ুমুখের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

জরায়ুমুখের এই ভাইরাসের সংক্রমণ কি করে হয় ?

শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে মূলত এই ভাইরাস ছড়ায়। একাধিক সঙ্গীর সাথে মেলামেশা বয়ে আনতে পারে নারীর জন্য এই ভয়াবহ বিপদ। বিপথগামী স্বামী কিংবা পুরুষ সঙ্গীর কারণে একজন নারী আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়া এইচপিভি ভাইরাসের কারণে শরীরের অন্যান্য জায়গাতেও সংক্রমণ হয়।

জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হলে কী সমস্যা হয়?

মাসিকের রাস্তায় অতিরিক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব যাওয়া। মাসিকের রাস্তায় অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হতে পারে। এটি কয়েক রকম হতে পারে। যেমন: প্রতিমাসে নারীদের মাসিকের সময়কাল হঠাৎ করে বেড়ে যায়, যে পরিমাণ রক্ত সাধারণত যায়, এর থেকে বেশি পরিমাণ রক্ত যাওয়া শুরু হয়, মাসের মাঝখানে আবার এ রকম রক্তক্ষরণ হয়। মেনোপজ অর্থাৎ স্বাভাবিক নিয়মে মাসিক বন্ধ হওয়ার পর, হঠাৎ করে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্বামী-স্ত্রীর মিলনের পর রক্তক্ষরণ হয় বা ব্যথা হয়। এগুলো হলো প্রধান লক্ষণ। তবে রোগটি যখন একটু বেড়ে যায়, যখন আশপাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হয়ে যায়, তখন ধীরে ধীরে আরো কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।

প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা যায় কীভাবে?

উপরে যে লক্ষণগুলোর কথা বলা হলো তা প্রকাশ পাওয়া মাত্রই একজন রোগী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে, চিকিৎসায় অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
জরায়ুমুখের ক্যানসারের বেলায় একটি বিশেষ আশাবাদের জায়গা রয়েছে। আমরা জানি কোষের মধ্যে আস্তে আস্তে পরিবর্তন থেকে একপর্যায়ে ক্যানসার হয়। জরায়ুমুখের ক্যানসারের বেলায় প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে পূর্ণাঙ্গ বা আগ্রাসী ক্যানসারে রূপ নিতে। লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই এই ক্যানসার আমরা নির্ণয় করতে পারি। এখানে দুটো প্রধান পরীক্ষা রয়েছে। প্যাপটেস্ট, যাকে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয়। আরেকটি হলো ভায়া টেস্ট, VIA। এই পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে সহজে ক্যানসার স্ক্রিনিং করা যায়।

প্যাপটেস্ট কী?

একটি কাঠের কাঠির মতো, আইসক্রিমের সঙ্গে যেমন চামচ দেওয়া থাকে, অনেকটা সেরকম দেখতে ‘স্প্যাচুলা’র সাহায্যে জরায়ুমুখের ভিতর দিক থেকে কষ এনে তা দিয়ে স্লাইড বানিয়ে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখা হয় কোন অস্বাভাবিক বা ক্যানসার কোষ রয়েছে কি না। কোন কাঁটা ছেঁড়ার দরকার পড়ে না।

ভায়া টেস্ট কী?

এই পরীক্ষাটি আরো সহজ। প্রায় নিখরচায় এটি করা সম্ভব। প্যাপটেস্টের মতোই রোগীকে প্রস্তুত করে তিন থেকে পাঁচ শতাংশ এসিটিক এসিডে ভিজানো একটি সোয়াবস্টিক (মাথায় তুলা লাগানো কাঠি) জরায়ুমুখের ভিতর দিয়ে স্পর্শ করে এক মিনিট পর পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোন সাদা দাগ পড়লে ভায়া পজেটিভ, না পড়লে নেগেটিভ। এখানেও কাটা ছেঁড়ার প্রয়োজন হয় না। মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে স্লাইড দেখার প্রয়োজন না হওয়ায় সামান্য খরচে অনেকের পক্ষেই এই পরীক্ষা করা সম্ভব। তবে ভায়া পজেটিভ হলেই জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত, না হলে একেবারেই বিপদমুক্ত, এমনটি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। পরে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট এর মত আধুনিক আরো কয়েকটি পদ্ধতি এই ক্যানসার নির্ণয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।

চিকিৎসা

চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবাই মিলে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি। সাধারণত চারটি পর্যায়ে আমরা রোগের অবস্থাকে ভাগ করি। ১,২,৩ ও ৪। এর মধ্যে আবার এ, বি- এভাবে ভাগ করা হয়। যখন স্টেজ বা পর্যায় ২- এ পর্যন্ত থাকে, তখন প্রধান চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার করে ফেলা ফেলে দেওয়া। পরে যদি অন্যান্য চিকিৎসা লাগে সেগুলো প্রয়োগ করা হয়। এই চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। আর দেরি হয়ে গেলে বা ওই পর্যায়টি পার হয়ে গেলে হয়তো সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা যায় না। রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি দিয়ে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করার পর, অনেকক্ষেত্রে আবার অস্ত্রোপচারের দিকে যাওয়া যায়। যত আগে ধরা পড়বে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। এই রোগে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে এসব বিষয়ে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী, জননীর জন্য পদযাত্রা
নির্বাহী পরিচালক, সিসিইপিআর,বি
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম
সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগ
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিউট ও হাসপাতাল

জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতা দিবসে পদযাত্রা ও আলোচনা

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে মার্চ ফর মাদার মোর্চা ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ কার্যালয়ে ১৪ জানুয়ারি, শনিবার পদযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. হালিদা খানুম আক্তার (শিক্ষক, জন হপকিনস ইউনিভার্সিটি), অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন (প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, গাইনি অনকোলজি বিভাগ, বিএসএমএমইউ), অধ্যাপক ডা. লতিফা শামসুদ্দিন (প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, গাইনি বিভাগ, বিএসএমএমইউ), অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম (সাবেক নির্বাহী পরিচালক, মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট, মাতুয়াইল, ঢাকা), মোরসালিন নোমানি (সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি), অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক (সাবেক উপদেষ্টা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা), মাইনুল হাসান সোহেল (ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক), কাওসার আজম (ডিআরইউ দপ্তর সম্পাদক)
প্রমুখ।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বর্ষীয়ান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক টি এ চৌধুরী জননীর জন্য পদযাত্রা উদ্বোধন করেন এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সাবেক সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য আবুল কালাম আজাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ক্যানসার ইপিডেমিওলোজি বিভাগ, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী, জননীর জন্য পদযাত্রা। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বাংলাদেশে আট হাজারের বেশি নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়, মারা যায় প্রায় পাঁচ হাজার। ক্যানসারের মধ্যে স্তন ক্যানসারের পরেই এর স্থান। এটা দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএআরসি’র হিসেব। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবন্ধন প্রতিবেদন অনুযায়ী নারীদের দ্বিতীয় প্রধান ক্যানসার এটি।’

অথচ জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব জানিয়ে ডা. রাসকিন বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া সম্ভব। প্রাথমিক প্রতিরোধের জন্য এইচপিভি নামের দুষ্টু ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাদান, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং এই ক্যানসারের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা দরকার। এর কোনো কার্যকর জাতীয় কর্মসূচি এখনও নেওয়া হয়নি। প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয়ের জন্য ক্যানসার স্ক্রিনিং-এ নারীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং স্ক্রিনিং-এর সংগঠিত ও সমাজভিত্তিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া খুব জরুরি।’

শীতে চুলের যত্নে জরুরি ৪ বিষয়

সাতকাহন২৪.কম

গায়ে গরম পোশাক জড়িয়ে, এককাপ কফি নিয়ে জানালার পাশে এসে শীতের দিন রোদ পোহানো আপনার জন্য হয়তো উপভোগ্য হতে পারে। তবে আপনার চুলের জন্য নয়। শীত মানেই খুশকি, আগা ফাঁটাসহ চুলের বিভিন্ন সমস্যা। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এ সময় কয়েকটি বিষয় মেনে চলা খুব জরুরি।

তেল দিন
শীতে মাথার ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে পড়ে। এ থেকে অনেক সময় খুশকি বেড়ে যায় এবং চুল ঝরতে শুরু করে। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে নিয়মিত তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এটি চুলকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে নারকেল, জলপাই বা আমলকির তেল ব্যবহার করতে পারেন।

ঘন ঘন চুলে শ্যাম্পু নয়
অনেকে প্রায় প্রতিদিনই চুল শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করেন। কাজটি করা থেকে বিরত থাকুন। প্রতিদিনই শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলে থাকা প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। এতে চুল খসখসে হয়ে পড়ে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি শ্যাম্পু করা থেকে বিরত থাকতে বলেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা।

সঠিক উপায়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
কন্ডিশনার ব্যবহার চুলকে কোমল, মসৃণ রাখে। শীতে ঠান্ডার ভয়ে অনেকে শ্যাম্পু করার পর আর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে চায় না। এতে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুল ধোয়ার পর জলপাইয়ের তেল, জোজবা তেল, সিয়া বাটার সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এসব উপাদান শীতে চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ভেজা চুলে বের হবেন না
গোসলের পর পরই চুল না মুছে বা ভেজা অবস্থায় বাহিরে বের হবেন না। এতে ঠান্ডা আবহাওয়া চুলকে আরো ভঙ্গুর করে দেয় এবং রঙ নষ্ট করে। ঘরের বাহিরে বের হলে অবশ্যই চুল শুকিয়ে বের হোন। পাশাপাশি অবশ্যই মাথা ঢেকে বের হতে হবে। এতে ধুলাবালি, দূষণ থেকে চুল সুরক্ষা পাবে।

সূত্র : স্টাইলক্রেজ ডটকম

পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা: কেন হয়, করণীয়

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল

পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা মেয়েদের খুব প্রচলিত একটি সমস্যা। সত্যি বলতে কি, পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথা অনুভব হয় না এমন নারীর সংখ্যা খুবই কম। সাধারণত অল্প বয়সেই বেশি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যথাটা সহনীয় মাত্রাতেই থাকে। কারো কারো ক্ষেত্রে যদি ব্যথাটা এমন হয় যে সেটা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যায় এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যঘাত ঘটায় তাহলে সেটাকে সমস্যা হিসেবেই গণ্য করতে হবে।

মেয়েদের এই সমস্যাটিকে বলে ডিজম্যানোরিয়া। ডিজম্যানোরিয়া দুরকম হতে পারে। প্রাইমারি ডিজম্যানোরিয়া, সেকেন্ডারি ডিজম্যানোরিয়া।

প্রাইমারি ডিজমেনোরিয়া
ডিজমেনোরিয়ার অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলে, সেটাকে বলে প্রাইমারি ডিজমেনোরিয়া। সাধারণত অল্প বয়েসি, বিশেষ করে ১৬ থেকে ২৪ বছরের মেয়েদের বেশি হয়। তলপেটের পেশিগুলোর অতিসংবেদনশীলতা, কিছু হরমোনের প্রভাব, মানসিক চাপ, হতাশা, বিষণ্ণতা, কম ওজন ইত্যাদিকে কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যথা এমনিতেই সেরে যায়। অনেক সময় বিয়ের পর সন্তান নিলে প্রথম প্রসবের পর এই ব্যথা নিজে নিজে সেরে যায়।

সেকেন্ডারি ডিজমেনোরিয়া
বিশেষ কোনো কারণে পিরিয়ডের সময় ব্যথা হলে, তাকে সেকেন্ডারি ডিজমেনোরিয়া বলে। জরায়ুর ইনফেকশন, পলিপ, টিউমার জন্মগত ত্রুটি ইত্যাদি কারণে পিরিয়ডের সময় ব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যথার নেপথ্যের কারণটির চিকিৎসা করলে এটি আপনা থেকেই সেরে যায়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
প্রাইমারি ডিজমেনোরিয়ার ক্ষেত্রে আসলে তেমন কোনো পরীক্ষা নেই। সেকেন্ডারির ক্ষেত্রে কারণ খুঁজতে গিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে। এর মধ্যে আল্ট্রাসোনোগ্রাম হলো খুবই কাজের একটি পরীক্ষা। জরায়ুতে টিউমার বা পলিপ থাকলে বা জন্মগত কোনো ত্রুটি থাকলে তা আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে সহজেই ধরা পড়ে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান করারও দরকার হয়। এ ছাড়াও বিশেষ কিছু হরমোনের পরীক্ষা করে দেখা হয়। রক্তের রুটিন পরীক্ষা, প্রস্রাবের পরীক্ষা, কিছু টিউমার মার্কার এর কারণ খুঁজতে সাহায্য করে।

চিকিৎসা
কাউন্সেলিং হলো প্রাইমারি ডিজমেনোরিয়ার প্রধান চিকিৎসা। পিরিয়ড সম্পর্কে মেয়েদের বোঝাতে হবে। ব্যথার কারণ সম্পর্কে সচেতন হোন। খুব খারাপ কিছু যে হয়নি- এই মর্মে আশ্বস্ত করতে করুন। সেকেন্ডারি ডিজমেনোরিয়ার ক্ষেত্রে ব্যথার কারণটি খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। ইনফেকশন থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যথা কমানোর জন্য ব্যথার মাত্রা অনুযায়ী প্যারাসিটামল, মেফেনামিক এসিড, ন্যাপ্রোক্সেন সোডিয়াম, টাইমোনিয়াম মিথাইলসালফেট প্রভৃতি ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

পিরিয়ড শুরুর আনুমানিক দশদিন আগে থেকে শুরুর দশদিন পর্যন্ত ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেলে ব্যথা কিছুটা কম হয় বলে কোনো কোনো গবেষণায় দেখা গেছে। তবে এগুলো খুব প্রতিষ্ঠিত কোনো তথ্য নয়।

পিরিয়ডের ব্যথা নিরাময়ের কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা

গরম স্যাঁক
বোতলে বা হটওয়াটার ব্যাগে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে স্যাঁক দিলে ব্যথা কমে । এটা করতে হবে প্রতি সপ্তাহে একটানা তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মিনিট করে।

সিজ বাথ
কোমর পর্যন্ত কুসুম গরম পানিতে ডুবিয়ে বসে থাকা যেতে পারে। তিন থেকে চার মিনিট কুসুম গরম পানিতে বসে থাকতে হবে। মাঝখানে দুই মিনিটের বিরতি দিয়ে এভাবে আবার ২০ থেকে ২৫ মিনিট বসবেন। এভাবে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন কাজটি করতে হবে।

কেজেল ব্যায়াম
এটা একটা বিশেষ ধরনের ব্যায়াম। মূত্রনালী ও মল দ্বারের চারপাশের পেশি এবং তলপেটের ও শ্রোণি চক্রের পেশিগুলোকে শক্তভাবে সংকুচিত করে তিন সেকেন্ড ধরে রেখে আস্তে আস্তে শিথিল করতে হবে। এভাবে সারদিনে ১০ থেকে ১৫ বার করুন। এটাকে বলে কেজেল ব্যায়াম। কেজেল ব্যায়াম ডিজমেনোরিয়ার ব্যথা কমাতে খুব সাহায্য করে।

মেয়েদের সঙ্গে মাসিক বা পিরিয়ড নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। বয়ঃসন্ধির আগেই মেয়েদের এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করুন। এই সময়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার উপায়, সমস্যা হলে তার সমাধানের উপায় ইত্যাদি নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে হবে। পরিবারের বয়োজ্যাষ্ঠ বা স্কুলের শিক্ষিকারা কথা বললে অল্প বয়সি মেয়েদের এসব নিয়ে ভীতি ও অস্বস্তি কেটে যাবে।

লেখক : রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ

পানি পানের সঠিক নিয়ম জানেন কি?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

পানি পান আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পানি বিষাক্ত পদার্থ দূর করে দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে কীভাবে এটি পান করা ভালো সেটি কি আমরা জানি? আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, পানির গুণগুলো সঠিকভাবে পেতে হলে কিছু পদ্ধতি মেনে চলা জরুরি। আসুন জানি সেগুলো-

বসে পানি পান করুন
আপনি নিশ্চয়ই এ কথা আগেও শুনেছেন? আসলেই তাই। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো তরল জাতীয় খাবার দাঁড়িয়ে খেলে দেহের তরলের ভারসাম্য ব্যহত হয়। এ থেকে পরে জয়েন্টের সমস্যা হতে পারে এবং আরথ্রাইটিস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

সব পানি একসঙ্গে নয়
সম্পূর্ণ গ্লাসের পানি কখনো একসঙ্গে পান করবেন না। অর্ধেক পানি পানের পর অন্তত এক সেকেন্ড বিরতি দিন। একসঙ্গে সবটুকু পান করলে পেট ফোলাভাব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধীরে ধীরে বিরতি দিয়ে কাজটি করলে অন্যান্য খাবার হজমেও উপকার হয়।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সরাসরি ফ্রিজের পানি নয়
বাহিরের কাঠফাঁটা রোদ থেকে ঘরে ফিরে এসে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি আপনাকে হয়তো নিমেষেই আরাম দেবে। তবে একদম ফ্রিজ থেকে সরাসরি পানি বের করে পান করা একদমই ঠিক নয়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়াতে পারে। আর হালকা গরম পানি সবসময় পান করলে হজম ভালো হয় এবং কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান
ঘুম থেকে উঠার সঙ্গে সঙ্গেই এক গ্লাস পানি পান করে নিন। এতে দেহের বিষাক্ত পদার্থ দূর হবে এবং দেহ আর্দ্রও থাকবে।

শরীর কখন পানি চায় বুঝুন
খসখসে ঠোঁট, শুষ্ক মুখ, প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়ে যায় কম পানি পানের লক্ষণ। এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে মনে হলে দ্রুত এক গ্লাস পানি পান করে নিন।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কপার অথবা সিলভারের গ্লাসে পান
সাধারণত আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা কপার বা সিলভারের গ্লাসে পানি পান করতে বলেন। কেন? তাঁদের মতে, এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, হজম ভালো হয় এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য হয়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

অপেক্ষা করতে শিখবেন কেন?

ফারজানা ফাতেমা (রুমী)

যদি প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কখনো কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করেছেন?’ সবার আগে উত্তরে কী বলবেন? ‘আমরা প্রতিদিনই ট্রাফিক জ্যামে বসে অপেক্ষা করি, জ্যাম কখন ছুটবে, কখন পৌঁছাবো!’

আবার কখনো হয়তো লিফটের জন্য, ঘরে ফিরে ডোর বেল চেপে, ফোনে অপর পক্ষের হ্যালো শোনার জন্য, ডাক্তারের কাছে গেলে, পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য, অনলাইনে অর্ডার করে ডেলিভারিম্যান আসার জন্য অপেক্ষা করি। আসলে এগুলো আমাদের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে গেছে।

তবে চাকরির পরীক্ষার অপেক্ষমান তালিকায় নিজের নাম দেখলে সত্যিই তা আশাহত হবার মতো বিষয়। আবার প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষা বেশ মধুর আর রোমান্টিকও বটে। তবে অপেক্ষারত সময়ের মাত্রা কমবেশির কারণে বদলে যেতে পারে আমাদের আবেগ, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সম্পর্ক।
এ জন্যই এটি শেখাটাও হতে পারে একটি দক্ষতা।

অপেক্ষা কী?

অপেক্ষা হচ্ছে অনির্দিষ্ট, তবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য! অপেক্ষার শুরু খেয়াল করা যায়। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Wait। যেমন, আমি ১ ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। এর বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি নির্দিষ্ট সময় ‘১ ঘন্টা’ ধরে চলছে। ১ ঘণ্টা পর অপেক্ষার অবসান হবে বলে মনে করছি। অন্যদিকে, প্রতীক্ষা হচ্ছে দীর্ঘ সময়ের জন্য। সাধারণত এর শুরুটা আমাদের জানা থাকে না। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ-ও Wait। যেমন, আমি ২ বছর ধরে প্রতীক্ষায় রয়েছি! এটি দীর্ঘ ও অনির্দিষ্ট।

কেনো আমরা স্বেচ্ছায় অপেক্ষা করি

সাধারণত আমরা কিছু পাবার আশায় অপেক্ষা করি। যেমন, ফসলের বীজ বুনি, চাষ করি, যত্ন নেই, শ্রম দিই। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে ফসল ঘরে তুলবো সেই আশায়।

অপেক্ষা করা কেন শিখবো?

কথায় আছে, ‘সবুরে মেওয়া ফলে!’ একটু খেয়াল করলে দেখবেন, আমরা যে জিনিস সহজেই পেয়ে যাই তার মর্ম বুঝি না। মাথা ঠান্ডা রেখে, ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করে গেলে সফলতা আসবেই। আর তাই অপেক্ষা করতে শেখা জরুরি।

অপেক্ষা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়। আমার প্রতিটি আচরণই ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। তাই অপেক্ষারত অবস্থায় হিতাহিতজ্ঞান শূন্য আচরণ করলে তা আমার শিক্ষা, মান-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। ধৈর্য জীবনের সন্তুষ্টির সঙ্গে যুক্ত।

কীভাবে অপেক্ষা করবো?

আজকাল আমরা এক সেকেন্ড ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলেই অস্থির হয়ে যাই। লোডশেডিং হলে কীভাবে কী করবো ভেবে অন্যের ওপর রেগে যাই। ধরুন, আপনি একটি লম্বা লাইনে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন আর আপনার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একটু ভেবে দেখুন, মেজাজ খারাপ হবার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাচ্ছে, ঘাম হচ্ছে, হৃৎকম্পন বেড়ে যাচ্ছে, কথা বলতে গেলে গলার স্বর উঁচুতে উঠে যাচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে উদ্বেগ! এতে কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে নিজেরই।

কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষা করা ছাড়া হয়তো উপায়ই থাকে না। তাই এ সময়ে প্রথমে নিজেকে শান্ত রাখতে চেষ্টা করুন। যুক্তি দিয়ে নিজেকে বোঝাতে বোঝান। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক সবকিছুর শেষ রয়েছে। তাই এই লাইন যতই দীর্ঘ হোক এক সময় শেষ হবে। তবে লম্বা লাইনের কারণ ও কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে খোঁজ খবর নিয়ে জানার চেষ্টা করুন। এই ফাঁকে জরুরি ফোন কল এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কাজগুলো করে নেওয়া যায় কি না দেখুন। অর্থাৎ অপেক্ষারত সময়টুকুও যেনো অর্থবহ হয়। কারণ, বিশ্বাস করতে হবে, জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডই অমূল্য সম্পদ।

আজীবন অপেক্ষা নয়

একটি সুন্দর সকালের অপেক্ষায় আমি প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে উঠি। কিন্তু আমি কী এক কাপ চা-এর জন্য অনন্তকাল অপেক্ষা করবো? নিশ্চয়ই না! ধরুন, আপনার প্রিয়জন কেউ দেশের বাইরে থেকে ফিরলে নির্দিষ্ট কোনো আয়োজন হবে। সেই অপেক্ষায় রয়েছেন। তার ফিরে আশার সময়টা এতই দীর্ঘায়িত হচ্ছে যে, আপনি আর অপেক্ষা করতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে অপেক্ষারত অবস্থায় মন পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিবার ও কাছের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করুন। জীবনের সিদ্ধান্তগুলো আবেগ ও যুক্তির যথার্থ সংমিশ্রণে নিন। জীবন যাতে সুন্দর হয় সে চেষ্টাই করতে হবে।

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘আমি তোমারই বিরহে রহিব বিলীন, তোমাতে করিব বাস–দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী, দীর্ঘ বরষ-মাস।’ পরিশেষে, বলতে চাই অপেক্ষা কষ্টের হলেও তা অনুশীলন করুন। সফলতা অনিবার্য। ‘আমার এখনই চাই’ এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসুন।

লেখক : সাইকোলজিস্ট, প্রতিষ্ঠাতা সোনারতরী

উজ্জ্বলার পরিবেশ বন্ধুসুলভ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

কুড়িগ্রামে বাড়ি প্রিয়াঙ্কা পালের। কণা বিউটি পার্লার নামে সেখানেই একটি স্যালন খুলেছেন। মাসে আয় করেন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এরপরও নিজেকে আরো দক্ষ করার জন্য উজ্জ্বলা থেকে কোর্স করেছেন তিনি।

একজন পার্লারের কর্ণধার হিসেবে ক্লাইন্ট ব্যবস্থাপনা করা, নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করা, কর্মী ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়গুলো শিখেছেন তিনি। জানালেন, মফস্বল শহরে একটি স্যালন ব্যবস্থাপনা করা সহজ নয়। ঠিকমতো কর্মী পাওয়া যায় না। দেখা যায়, কর্মীরা কিছুটা কাজ শিখেই পার্লার ছেড়ে চলে যায়। এসব বিষয়গুলো কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, সেটা খুব ভালোভাবে শিখেছি উজ্জ্বলার কাছ থেকে।

এসএমই ফাউন্ডেশনে একটি কোর্স করতে গিয়ে পরিচয় হয়, উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে। সেখান থেকে উজ্জ্বলার কথা জেনেই এখানে কোর্স করতে আসা। জানালেন, আমি নিজেকে অন্যের সামনে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারি না। নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি এই প্রতিষ্ঠানটি শিখিয়েছে।

উজ্জ্বলা তাঁকে নতুনভাবে কাজের উদ্যোম দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আফরোজা পারভীন ম্যাডামের ক্লাস আমার খুব ভালো লেগেছে। তিনি খুব সুন্দর করে ও বিস্তারিতভাবে বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন। ক্লাসের সময় আমাদের করা সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। ম্যাডাম সামনে বসে রয়েছে মনে হয়নি। মনে হয়েছে বন্ধু বসে রয়েছে। উজ্জ্বলা থেকে আরো কোর্স করার ইচ্ছে রয়েছে আমার। এখানকার পরিবেশ বন্ধুসুলভ।’

নিজে তেমন না সাজলেও ছোটবেলা থেকে অন্যকে সাজাতে বেশ পছন্দ করতেন প্রিয়াঙ্কা। তবে পার্লার খোলার পর থেকে কেউ আর তাকে প্রিয়াঙ্কা বলে ডাকে না। সবার কাছে এখন তিনি ‘কণা’ আপা। আর এই পরিচিয়ে পরিচিত হতেও ভালোবাসেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা জানান, ভবিষ্যতে নিজের স্যালনটিকে আরো বড় পরিসরে করতে চাই। উদ্যোক্তা হিসেবে আরো সফল হতে চাই।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৫৫তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

হাত ধোয়া কেন জরুরি?

ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু
হাত ধোয়া নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। আগের দিনে মানুষ এত সচেতন ছিল না। ফলে তাদের রোগবালাই ও ছিল বেশ। শুধু হাত ধুলেই কিন্তু অনেক রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। করোনার মহামারির সময়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছিল গোটা বিশ্ব।

হাত ধুলে উপকারিতা কী? এর উপকারিতা লিখে শেষ করা যাবে না। প্রথমে আসি ডায়রিয়াতে। আমাদের দেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটি। এ রোগ ছড়ায় কিন্তু অপরিচ্ছন্ন হাতের মাধ্যমে। হাত ধুয়ে নিলেও ডায়রিয়ার প্রকোপ কমে। এক সময় ডায়রিয়ায় গ্রামের পর গ্রাম উজার হয়েছে। এখন কিন্তু তা আর হয় না। কারণ ওরস্যালাইন হলেও হাত ধোয়া কিন্তু কম ভুমিকা পালন করেনি।

শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় নাই এমন পরিবার পাওয়া যাবে না। এটি প্রতিরোধ করতে চান? তাতেও হাত ধোয়ার ভূমিকা অনেক। শিশুকে ধরার আগে, খাওয়ানোর আগে হাত ধুলে এ রোগের জীবাণু শিশুর শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। এতে শিশু রোগমুক্ত থাকে।

কিছুকাল আগেও দেশে এমন কাউকে পাওয়া যেত না যার পেটে কৃমি নেই। আগে তো শিশুদের পেট ভর্তি থাকত কৃমিতে। এখন কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কারণ কি জানেন শুধু একটু খানি সচেতনতা। আগে শিশুরা খালি পায়ে হাঁটত, হাত না ধুয়ে খাবার খেত, শৌচকর্মের পর হাত ধুত না। এখনকার মা- বাবারা শিশুকে অন্তত হাত ধোয়া শিখাতে ভুলেন না।

শুধু হাত ধোয়ার কারণে কিন্তু শিশুদের গলায় ক্ষত, কানের ইনফেকশন, চোখের ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

আমি যে তথ্যগুলো দিচ্ছি তা কিন্তু আমার মনগড়া না। আমেরিকান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) র গবেষণায় এগুলো প্রমাণিত হয়েছে। তারা আরো বলেছে শুধু হাত ধুলেই ২০ টি মারাত্মক রোগ থেকে দূরে থাকা যায়। তাদের মতে আমেরিকায় প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ লোক মারা যায় হাত না ধোয়ার কারণে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা কিন্তু অনেক বেশি হবে।

তো হাত আপনাকেও ধুতে হবে। সন্তানকেও ধোয়া শেখাতে হবে। হাত ধুবেন শৌচকর্মের পর, খাবারের আগে, হাঁচিকাশির পর, অসুস্থ রোগীর সেবা করলে, শিশুর রান্না করার আগে, শিশুকে খাওয়ানের আগে।

অনেকে শুধু হাতে পানি লাগান। এতে কিন্তু হাত ধোয়া হয় না। এতে কিছুটা ময়লা পরিষ্কার হয় হয়তো। তবে জীবাণু কিন্তু থেকে যায়। তাই অবশ্য সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সাবান না থাকলে ছাই দিয়ে ধুতে পারেন।

সাবান সবসময় বহন করা যায় না। সেক্ষেত্রে আগে থেকেই সচেতন হতে হবে। বর্তমানে বাজারে সেনিটাইজার পাওয়া যায়। এটা হাতকে করে জীবাণুমুক্ত। যেখানেই থাকুন, হাত জীবাণু মুক্ত রাখুন। নিয়মিত হাত ধোন, সুস্থ থাকুন।

লেখক
রেজিস্ট্রার, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইন্স

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.