Monday, September 28, 2026
spot_img
Home Blog Page 103

শিশুর সঙ্গে আচরণে ১০ বিষয় মনে রাখুন

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল

একটি শিশুকে পূর্ণতরভাবে গড়ে তোলার জন্য মা-বাবার ভূমিকাই প্রধান। তার হাঁটাচলা থেকে শুরু করে কথা বলা, নিয়মানুবর্তিতা, পড়াশোনা, ঘরের টুকিটাকি কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের উৎসাহ তাকে অনুপ্রেরণা জোগায়। আপনার শিশুর সঙ্গে আপনি কেমন ব্যবহার করবেন?

মনে রাখবেন, আপনার আচরণের ওপর নির্ভর করে সন্তানের ভবিষ্যৎ। কখনো কখনো দায়িত্বশীল মা-বাবাও এ ব্যাপারে ভুল করেন। তাদের ভুলের জন্য নষ্ট হতে পারে সন্তানের জীবন। শিশুর সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল করা জরুরি।

খুব বেশি কিংবা কম প্রশংসা করবেন না
‘তুমি তোমার ময়লা কাপড়চোপড় বালতিতে রেখেছ? বাহ কী সুন্দর! তুমি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ছেলে।’ কোন কাজে কী ধরনের উৎসাহ দিতে হবে তা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। অনেক সময় বাবা-মা এসব খেয়াল করে না। এতে একটি ভালো কাজ করে শিশুটি যদি সামান্য ধন্যবাদ পর্যন্ত না পায়, মানসিকভাবে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। আপনার শিশু কোনো ভুল করলে তার সমালোচনা না করে বরং সুন্দরভাবে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। আপনি যদি শিশুর খুঁত ধরে বেড়ান তাহলে ভবিষ্যতে নিজেকে দাঁড় করাতে সে ব্যর্থ হবে। তবে খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত প্রশংসাও শিশুর জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত প্রশংসা শিশুকে ভুল পথে চালিত করে। যতটুকু প্রশংসার প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই করবেন, বেশি কিংবা কম কোনোটাই নয়।

মাঝে মাঝে শিক্ষকসুলভ আচরণ করুন
স্যাটেলাইটের যুগে আপনার শিশু এমন কোনো ছবি দেখতে চাইতে পারে, যা তার দেখা উচিত নয়। সে বলতে পারে তার বন্ধুরাও এসব দেখছে, তবে সে কেন দেখতে পারবে না? আপনি সরাসরি তাকে গাইড করুন। প্রথমেই যদি আপনি নতি স্বীকার করেন তার চাহিদা আরো বেড়ে যাবে এবং শিগগিরই সে নষ্ট হয়ে যাবে। যদি আপনার শিশুর বোঝার মতো বয়স হয় এবং রীতিনীতি সম্পর্কে প্রশ্ন করার বুদ্ধি জন্মায় তবেই তাকে যুক্তি প্রদর্শন করুন।

কখনোই উত্তেজিত হবেন না
আপনার শিশুর সাথে কথা বলার সময় কখনো চিৎকার করে কথা বলবেন না। তারা যদি নিজেদের মধ্যে মারামারি করে, আপনি শান্ত অথচ দৃঢ় স্বরে তাকে বুঝিয়ে বলুন। আপনার শিশু যদি কান্না করে তাকে ধমক দেবেন না। আপনার আচরণ তার নরম মনে গেঁথে থাকে। মনে রাখবেন শিশুদের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে কথা বললে শিশুর মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

শিশুকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করুন
শিশুকে ব্যক্তিত্ববান হতে শেখান। মুখ গোমরা করে রাখা, অন্যের সঙ্গে ঝগড়া করা, অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো প্রভৃতি বাজে অভ্যাস থেকে তাকে বিরত রাখুন। সে কোনো কাজে ভুল করলে তা ধরিয়ে দিয়ে কীভাবে সংশোধন করতে পারে তা শেখান। সমবয়সীদের সঙ্গে ‘হ্যালো’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রবীণদের সালাম দেওয়া, ভুল করলে ‘সরি’ বলে দুঃখ প্রকাশ করা প্রভৃতি আদবকায়দা তাকে শিখিয়ে দিন। পোশাক-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে তাকে সচেতন করুন। তার শোয়া, ওঠাবসা কেমন হবে তাকে তা শেখান।

একটি পছন্দনীয় কৌশল বেছে নিন
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা যদি কিছু শেখে, দেখেই শেখে। আপনি যা করবেন আপনার শিশুও তা করার চেষ্টা করবে। আপনার শৃঙ্খলাবোধ দেখে তারাও শৃঙ্খলাপ্রিয় হয়ে উঠবে। আপনি যদি মেজাজ গরম করেন, আপনার শিশুও চেষ্টা করবে আপনার মতো হতে। তাই আপনি নিজে এমন একটি কৌশল বেছে নিন, যা থেকে আপনার শিশু নিজেকে আপনার মতো করে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।

শাস্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন
প্রকৃত অর্থে নিয়মানুবর্তিতা হলো শেখার বিষয়। কঠোর আচরণ বা শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে তা আদায় করা যায় না। অনেক বাবা-মা তাদের শিশুকে শাস্তি দিয়ে থাকেন, এটা মোটেই উচিত নয়। শিশুরা বুঝতে পারে না কোন কাজটি ঠিক, কোন কাজটি ঠিক নয়। আপনি তাদের শেখান। শিশুদের শাস্তি প্রদান করলে হিতে বিপরীত হয়। শিশুকে মারধর করবেন না। বিশিষ্ট মনোচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ জেমস উইনডেল বলেন, ‘এমন কোনো ভুল নেই যার জন্য শিশুদের শাস্তি দেওয়া চলে না। কিন্তু আপনি সর্বদা আপনার শিশুর সাথে সুন্দর, মানবিক ও ক্ষমাসুন্দর আচরণ করুন।’ শিশুকে যদি শাস্তি দিতেই হয়, তাকে মারধর না করে অন্যভাবে শাস্তি দিন। যেমন, আপনার শিশু যদি স্কুলে যাওয়ার সময় গাড়ি মসি করে, তাহলে সন্ধ্যায় তাকে বেশি করে হোমওয়ার্ক দিন। দেখবেন, বেশি পড়াশোনার ভয়ে সে ঠিকই পরদিন থেকে চেষ্টা করবে তাড়াতাড়ি স্কুলের বাস ধরতে।

শিশুকে খেলাধুলা করতে বলুন
খেলাধুলায় শরীর সতেজ থাকে। শিশুকে খেলাধুলা করতে বলুন। এতে তার আলস্য কেটে যাবে। সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম প্রয়োজন। খেলাধুলা করা চমৎকার ব্যায়াম।

ভালো কাজের জন্য পুরস্কার দিন
আপনার শিশু যদি কোনো ভালো কাজ করে, তার জন্য তাকে পুরস্কার দিন। তাকে একটি সুন্দর বই, আইসক্রিম কিংবা একটি সুন্দর পোশাক কিনে দিতে পারেন। এতে তার ভেতর উৎসাহ সৃষ্টি হবে। সে অনুপ্রেরণা পাবে কাজ করতে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শেখান
আপনার শিশুকে কখন গোসল করতে হবে, কখন হাত-পা ধুতে হবে তা বলুন। সকালে ও রাতে দুবার তাকে দাঁত ব্রাশ করতে বলুন। নখ কাটতে বলুন, নখে যাতে ময়লা না জমে সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিন। তার বাথরুমটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বলুন। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা বাথরুম তৈরি করুন।শিশুকে সহনশীল হতে বলুন
আপনার স্কুলপড়ুয়া ছেলে আপনাকে এসে বলল, তার বন্ধু তাকে মেরেছে। আপনি সে ক্ষেত্রে বলতে পারেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই এমন কিছু করছো যা তাকে প্ররোচিত করে তুলেছিল তোমাকে মারতে।’ আপনার শিশুকে আপনি সহনশীল হতে শেখান। সে যদি কারো সাথে অসদাচরণ করে তাকে তা বোঝান। তাকে সব সময় মাথা ঠান্ডা রাখতে বলুন। তার কাছ থেকে যেন অন্যরা শিখতে পারে সে ব্যাপারে তাকে জ্ঞান দিন। আপনার সমর্থন আপনার সন্তানদের শান্ত রাখবে। যখন তারা জানবে আপনি তাদের পাশেই আছেন, তারা চমৎকার অনুভূতি অনুভব করবে।

লেখক
উপাধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যাপক
অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

হালকা শীতে কে ক্র্যাফটের ক্যাজুয়াল শার্ট-কটি

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
হালকা শীতে ছেলেদের ফ্যাশনেবল ও উপযোগী পোশাক কেমন হবে তা নিয়ে চলে নানা ভাবনা। তবে যেনতেনভাবে নয়, সঠিক পোশাক বেছে নিয়ে তৈরি করতে হবে নিজস্ব স্টাইল।

পোশাকের মধ্যে এ ক্ষেত্রে শার্টই এগিয়ে থাকে। কাটিং,প্যাটার্ন, ডিজাইনে নিত্য আসছে পরিবর্তন আবার ফিটে দেখা যায় ভিন্নতা। তাই ফ্যাশনের ক্ষেত্রে ক্যাজুয়াল লুক পেতে তরুণরা ছাড়াও যেকোনো বয়সী পুরুষের কাছে ক্যাজুয়াল শার্টই প্রথম পছন্দ।

কটন, লিনেন, রেয়ন ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি আবহাওয়া উপযোগী ও স্বস্তিদায়ক এমনই সব ক্যাজুয়াল শার্ট নিয়ে এসেছে কে ক্র্যাফট ।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

কটি
শীতের পোশাকের ভিড়ে পছন্দের আরেকটি পোশাক হচ্ছে কটি বা ওয়েস্ট কোট। সারা বছর জুড়ে ফ্যাশনে সবসময়ই আলাদা করে জায়গা দখল করে রেখেছে পাঞ্জাবি। আর শীতকালে যখন পরতেই হবে, তাই সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে পরতে পারেন। আর এটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। শীতকাল ছাড়া অন্যান্য ঋতুতেও কটির কদর রয়েছে তরুণ থেকে শুরু করে যে কোনো বয়সের পুরুষের কাছে। বিয়ে কিংবা যে কোনো পার্টিতে পাঞ্জাবি অথবা অন্য কোন পোশাকের সঙ্গে কটি যেমন স্টাইলিশ তেমনি থাকা যায় স্বাচ্ছন্দ্যে।

এবারের শীতে কে ক্র্যাফটে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্রিন্টের, এক রঙাসহ নানান ধরনের কটি। শীতের কালেকশন থেকে আপনার পছন্দের স্মার্ট ক্যাজুয়াল শার্ট অথবা কটি বেছে নিতে ঘুরে আসতে পারেন কে ক্র্যাফটের শো রুমে। এ ছাড়া অনলাইন স্টোর থেকে কিনতে ভিজিট করতে পারেন kaykraft.com এ।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

সানস্ক্রিন ব্যবহারে ত্বক হচ্ছে মলিন, অনুজ্জ্বল? সমাধানের উপায় জানুন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ত্বকের যত্নের রুটিনে সানস্ক্রিন একদিনও বাদ দেওয়া যাবে না- এমনটাই পরামর্শ দেয় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা। সানস্ক্রিন আমাদের ত্বককে সূর্যের রশ্মি এবং রান্নার সময় আগুনের তাপের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

এ তো জানা গেলো সানস্ক্রিনের গুণের কথা। কিন্তু এটি ব্যবহারের পর অনেকেই অভিযোগ করে- ত্বক মলিন ও অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ছে; তেলতেলে ভাব দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যার কারণে অনেকে সানস্ক্রিন ব্যবহারে দ্বিধায় পড়ে যায়। আবার অনেকে ব্যবহার করাও বাদ দিয়ে দেয়।

এ ধরনের সমস্যা সমাধানে করণীয় বিষয়ে শিওরসেল মেডিকেল বিডি-এর প্রধান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন বলেন, ‘ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে ইলুমিনাটিং সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। এটি সাধারণ সানস্ক্রিনের চেয়ে একটু আলাদা। কারণ, এখানে থাকে অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট। এগুলো ত্বককে শুষ্ক রাখে এবং উজ্জ্বল্যভাব আনে।’

এই ধরনের সানস্ক্রিন তৈরিতে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে প্রথম হলো রাইস এক্সট্র্যাক্ট। ফারমেন্টেড রাইস এক্সট্র্যাক্ট যুগযুগ ধরে এশিয়ানদের ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণ অ্যাসেনসিয়াল অ্যামাইনো এসিড, মিনারেল, ফিউরিক এসিড, অরগানিক এসিড, সিরামাইড ও পেপটাইড। ফিউরিক এসিড ত্বকের উজ্জ্বল্য বাড়ায়; ত্বককে টানটান করতে সাহায্য করে। অ্যাসেনসিয়াল অ্যামাইনো এসিড ও পেপটাইড বয়সের ছাপ কমাতে উপকারী। সিরামাইড ত্বককে আর্দ্র রাখে।

এ ছাড়া ইলুমিনাটিং সানস্ক্রিনে এলজি এক্সট্র্যাক্ট রয়েছে জানিয়ে ডা. তাওহীদা বলেন, ‘এটি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি। ভিটামিন সি অরেঞ্জ পিল এক্সট্রাক্ট থেকে নেওয়া হয়। এটি ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে নিষ্ক্রিয় করে, ফ্রি রেডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে এবং ত্বকের পিগমেন্টকে হালকা রাখে। সর্বোপরি অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করে। ভিটামিন ই- ময়েশ্চারাইজার ও সেল রিপেয়ার অ্যাজেন্ট হিসেবে উপকারী। ভিটামিন বি-তে থাকা প্যানথেলন কাজ করে প্রাইমার হিসেবে। তাই এ ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে আপনার প্রাইমারের প্রয়োজন পড়বে না।’

ইলুমিনাটিংতে এসবের পাশাপাশি অন্যান্য সানস্ক্রিনের মতোই জিংক, নায়াসিনামাইড থাকে। জিংক ত্বকের বাইরের অংশ পুণর্গঠনে সাহায্য করে। নায়াসিনামাইড উজ্জ্বলতা বাড়ায়; পোর সংকুচিত রাখে। আবার যারা মেকআপ করতে একবারেই পছন্দ করে না, তারা কিন্তু এই সানস্ক্রিন ব্যবহারে উপকার পাবে- জানান ডা. তাওহীদা।

বর্তমানে বাজারে এ ধরনের সানস্ক্রিন তৈরির অন্যতম প্রতিষ্ঠান রিজুভা। তারা নিয়ে এসেছে রিজুভা ইলুমিনাটিং প্রাইমার এসপিএফ ৫০। এ ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহারে যেমন হালকা মেকআপের কাজ হবে, তেমনি ত্বক উজ্জ্বল, কোমল ও মশ্রিণ থাকবে।

উজ্জ্বলায় আসা সেরা সিদ্ধান্ত ছিল

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ছোটবেলা থেকেই তার জানার আগ্রহ ছিল অনেক। মেকআপের প্রতি ছিল ভীষণ এক ভালোলাগা। একদিন রেড বিউটি স্যালনে গিয়েছিলেন চুল কাটাতে। তখনই তার মনে হলো কীভাবে মেকওভারের কাজ করা যায় সেটা শিখবেন। এরপর তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন উজ্জ্বলা বিউটি প্রশিক্ষণ দেয়। এরপর উজ্জ্বলায় আসা। কোর্স করতে শুরু করা।

বর্তমানে নিটোল গ্রুপে কাজ করছেন তিনি। কেবল ভালো লাগা থেকেই উজ্জ্বলা থেকে বিভিন্ন কোর্স করেছেন। এখনতো এমন হয় যে মন খারাপ হলে প্রতিষ্ঠানটির চারপাশ দিয়ে রিক্সা নিয়ে একচক্কর ঘুরে যান। ভবিষ্যতে ইচ্ছাও রয়েছে নিজের একটি স্যালন তৈরি করার। যার কথা বলছি তিনি সাজিয়া সুলতানা। বললেন, উজ্জ্বলার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অন্যরকম। এখানে আসলেই মন ভালো হয়ে যায়।’

উজ্জ্বলা থেকে চারটি কোর্স করেছেন সাজিয়া। জানালেন, উজ্জ্বলার চেয়ারম্যান আদিত্য সোম স্যারের বিজনেস ডেভলপমেন্ট ক্লাসটি খুব ভালো লেগেছে। কেবল যারা বিউটি ইন্ডাসট্রিতে আসছেন তাদের জন্য নয়, অন্যান্য পেশার মানুষের জন্যও কোর্সটি উপকারী। এ ছাড়া উজ্জ্বলার সহপ্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের কাছ থেকে পারসোনাল গ্রুমিংয়ের কোর্স করেছি। নিজের ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনার উপায় জেনেছি। তাই আমার মনে হয়েছে সব পেশার মানুষের জন্য কোর্সগুলো উপকারী।

উজ্জ্বলায় আসা আমার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত ছিল জানিয়ে সাজিয়া বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি আমার জীবনে চলার জন্য অনেক প্রেরণা জুগিয়েছে। মানসিক শক্তি দিয়েছে। ভবিষ্যতে এখান থেকে সবগুলো কোর্স করে একটি স্যালন খুলতে চাই। পাশাপাশি উজ্জ্বলার সঙ্গে এভাবেই জুড়ে থাকবো এমনটাই আশা।’

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৫৪তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

তীব্র শীতে দেহে কী সমস্যা হয়? সমাধানে করণীয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতলতম মাস হিসেবে জানুয়ারিকেই ধরা হয়। এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে- এমনটাই আশঙ্কা আবহাওয়া অধিদপ্তরের। আর এর প্রভাবও গত কয়েকদিন ধরে টের পাচ্ছে গোটা দেশ। হাড় কাঁপুনে এই শীতে জুবুথুবু হয়ে পড়ছে মানুষ, থমকে যাচ্ছে জনজীবন। নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, সোরিয়াসিস ইত্যাদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

‘শৈত্য প্রবাহ বা তীব্র শীতে মানব দেহে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। যাদের আগে থেকেই শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা ( যেমন : অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস) রয়েছে তাদের সমস্যাটি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা এ ধরনের সমস্যায় বেশি ভোগে। টনসিলাইটিস, গলাব্যথা, নাক দিয়ে পানি ঝড়ার মতো সমস্যাগুলো হয়’, বলছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ডিন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

তীব্র শীতে দেহের রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ থেকে হাড় ও মাংসে জড়তা তৈরি হয়। অনেকের মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, হৃদরোগ হতে পারে। প্রবীণদের বাত জনিত সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন চর্মরোগ (যেমন: সোরিয়াসিস, খুশকি) বাড়ে।

তীব্র শীতে সুস্থ থাকতে করণীয় বিষয়ে ডা. আব্দুল্লাহ জানান, অযথা ঘরের বাইরে বের হবেন না। বাইরে গেলেও পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরতে হবে। মাথা, কান, গলা ভালোমতো ঢাকতে হবে। ঘর উষ্ণ রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করতে পারেন। খাওয়া ও গোসলের ক্ষেত্রে অবশ্যই ঈষদুষ্ণ গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। যাদের অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক ওষুধ সেবন করবেন।’

বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। নিউমোনিয়া প্রতিরোধে শিশুর প্রতি ভীষণভাবে খেয়াল রাখতে হবে। পর্যপ্ত পরিমাণ গরম কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে রাখতে হবে। শীতে অনেকেই আগুণ জ্বালিয়ে তাপ পোহায়। এ আগুণ থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। সুতরাং এ বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরি। এমনটাই পরামর্শ দিলেন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

রোজকার ৬ অভ্যাস মনকে সুস্থ রাখবে ২০২৩-এ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

আরেকটি নতুন বছর শুরু হয়ে গেলো। আতশবাজি, ফানুস উড়ানো, ঝলমলে আলোর ফোয়ারার ভেতর দিয়ে সারাবিশ্ব জুড়ে আগমন ঘটলো ২০২৩ সালের। নতুন বছর এলেই নতুন পরিকল্পনা করা হয়। এ বছর কী কী অর্জন করতে হবে, গত বছর কোন কাজটি করা হয়নি-এসবের তালিকা করা শুরু হয়ে যায়।

তবে কেবল কাজ করলেই কী চলবে? কাজের পাশাপাশি মনকেও যে সুস্থ রাখতে হবে। আর মন ভালো থাকলে, সুস্থ থাকলেই সবগুলো লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হয়।মনোচিকিৎসকরা বলেন, মন ভালো না থাকলে বা বিষণ্ণতায় ভুগলে কাজ করার উদ্যম কমে যায় কয়েক গুণ। আর এর প্রভাব পড়ে অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে। এ জন্য মনের যত্ন খুব জরুরি। তাই বছরের শুরু থেকেই মনকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন কিছু বিষয় মেনে চলুন।

ধ্যান বা শিথিলায়ন

মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান বা শিথিলায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই কাজটি প্রতিদিনকার রুটিনে নিয়ে আসতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে বা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধ্যান করুন। এখন ইউটিউবে ধ্যান করার অনেক গাইডলাইন পাওয়া যায়। এগুলো সব ভাষাতেই পাবেন। সেগুলোও অনুসরণ করা যেতে পারে।

কৃতজ্ঞ থাকুন

জীবনে সুখি হতে হলে কৃতজ্ঞ থাকার অভ্যাস জরুরি। না পাওয়ার কষ্ট আকড়ে না রেখে, জীবনে কী কী পেয়েছেন তার তালিকা তৈরি করুন। আর কৃতজ্ঞ থাকুন। একটু ভাবুন, আপনি যা পেয়েছেন অন্যের জীবনে হয়তো তার কোনোটাই নেই। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা কেবল নিজেকে সময় দিন। নিজের জীবনকে পর্যবেক্ষণ করুন।

মন ভালো রাখতে শরীরের যত্ন নিন

মন ভালো রাখতে শরীরেরও যত্ন নিতে হবে। দৈনিক অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম দেহকে সুস্থ রাখার মূল তিন চাবিকাঠি। আর দেহ সুস্থ থাকলে মনও ভালো থাকবে। এ কথা তো সবারই জানা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা

মোবাইল ফোন যেন আমাদের জীয়নকাঠি। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, টেলিগ্রাম ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আমাদের সময় চলে যায় অনেকটা। আশঙ্কার কথা হলো এসব ব্যবহারের কারণে এক সময় ভীষণভাবে উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা বাড়তে পারে। তাই কতটুকু সময় এসব নিয়ে কাটাচ্ছেন খেয়াল রাখুন। পাশাপাশি ব্যবহারের সময় সীমিত করুন।

লিখুন

আবেগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ডায়রি লেখা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। দিনে অন্তত ১৫ মিনিট নিজের মনের অবস্থা লিখুন। কোন বিষয়টা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে, ভোগাচ্ছে, কী করতে পারেন সমস্যা থেকে বের হতে- লিখে প্রকাশ করতে পারেন। এটি আপনার মানসিক বৃদ্ধিকে সাহায্য করবে।

হাসুন

হাসলে মন ও শরীর দুটোই ভালো থাকে। ভীষণ চাপে থাকলে হাসির কোনো বই পড়ুন বা টিভি সিরিজ দেখুন। এগুলো মানসিক চাপ কমাবে।

সূত্র : সিএনইটি

দাঁতের স্কেলিং কেন জরুরি?

ডা. সানজিদা হোসেন পাপিয়া

চেম্বারে আসলে অনেক রোগীই আমাকে কিছু সমস্যার কথা বলে। এর মধ্যে যে দুটো সমস্যার কথা বেশি শুনতে হয়, তা হলো- মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এবং মুখে দুর্গন্ধ। এই দুটো রোগেরই অন্যতম প্রধান কারণ হলো দাঁতে জমা ক্যালকুলাস বা ডেন্টাল স্টোন (দাঁতের পাথর)।

অনেক সময় দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে খাবার লেগে থাকে। নিয়মিত ব্রাশ করলে বা যত্ন নিলে এগুলো দূর করা যায়। তবে সবসময় এসব খাবার দূর করা সম্ভব হয় না। ধীরে ধীরে এই নরম খাবারগুলো শক্ত হয়ে প্লাকে পরিণত হয়। সেই প্লাক দীর্ঘসময় জমে থাকতে থাকতে ক্যালকুলাস বা পাথর হয়ে যায়। কেবল ব্রাশ করার মাধ্যমে এগুলো কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব নয়। অনেক বছর ধরে এগুলো জমতে জমতে এমন অবস্থা হয় যে মাড়ি দিয়ে রক্ত আসে, মাড়ি ফুলে যায়, ব্যথা করে। এই পাথর দূর করার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে যেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, সেটি হলো ডেন্টাল স্কেলিং।

মুখে দুর্গন্ধ, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ির প্রদাহ ইত্যাদি সমস্যা হলে অবশ্যই একজন রেজিস্ট্রার ডেন্টাল সার্জনের কাছে যেতে হবে। তিনি যদি মনে করেন দাঁতের পাথরের কারণে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তাহলে স্কেলিং করা জরুরি।

সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর পর পর স্কেলিং করতে হয়। এতে মাড়ির রোগগুলো প্রতিরোধ করা যায়। তবে যাদের মুখের লাল ঘন থাকে, তাদের ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি স্কেলিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কেননা, তাদের ময়লা জমার প্রবণতা বেশি থাকে এবং ময়লা থেকে পাথর হওয়ার প্রবণতাও বেশি হয়। তাদের ক্ষেত্রে ছয় মাস পর পর স্কেলিং করতে হতে পারে। না হলে এক বছর পর পর স্কেলিং করলেও হয়। তবে এটি অবশ্যই নির্ভর করবে মুখ ও দাঁতের পাথর জমার অবস্থার উপর।

লেখক
কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন
ডিকেএমসি হসপিটাল লিমিডেট, নারায়ণগঞ্জ
ফোন : ০১৯৭১৬০০১১২, ০১৯৭১৬০০১১৩
চেম্বার : অনামিকা ডেন্টাল , ২/১ মধ্য বাসাবো, টেম্পুস্ট্যান্ড, ঢাকা ১২১৪
ফোন : ০১৯৩৩১৩৩৪৮৬

উজ্জ্বলায় কোর্স শেষে ফ্রিল্যান্সিং করেই মাসে আয় ৭০ হাজার

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ছোটবেলায় লেখাপড়ার প্রতি ভীষণ সিরিয়াস ছিলেন তিনি। সারাক্ষণ বইয়ের ভেতরেই মাথা গুঁজে থাকতেন। এইচএসসি পরীক্ষার আগে টাইফয়েড জ্বর হয়ে যাওয়ায় রেজাল্ট আশানুরূপ করতে পারেননি। এ মাইনাস পান। মনটা ভীষণ ভেঙে পড়ে। এরপর ভর্তি হন একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন থেকেই মনে হতে থাকে পড়াশোনার পাশাপাশিও জীবনে কিছু করা দরকার- যা করলে আয়ও হবে, মানসিক প্রশান্তিও মিলবে।

তখন ভাবলেন বিউটিফিকেশন বিষয়টি তার ভালো লাগে। এ বিষয়ে ফেসবুক, ইউটিউবে অনেক টিউটোরিয়াল দেখেন মাঝে মাঝেই। কিন্তু মনে হচ্ছিলো, ভালোভাবে কিছু শেখা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই উজ্জ্বলায় আসা ইলমা মীরের।

বর্তমানে উজ্জ্বলা থেকে সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করে মেকআপের ওপর ফ্রিল্যান্সিং করছেন তিনি। এটি করেই মাসে আয় ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। হয়েছেন স্বাবলম্বী, পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন লেখাপড়া। বললেন, ‘ভালো একটি কোর্স করার জন্য অনেক জায়গা খুঁজেছি; অনেক দেখেছি। অনেক ঘাটাঘাটির পর ফেসবুক থেকে উজ্জ্বলার সন্ধান পাই। সেখানে দেখি উজ্জ্বলা সবকিছু শেখায়। এ টু জেড। সাধারণত অন্য জায়গায় গেলে একটা একটা কোর্স শেখাবে। সেই তুলনায় উজ্জ্বলা ভালো। আর এখানে হোস্টেলও রয়েছে। যেহেতু আমি নারায়গঞ্জে থাকতাম, তাই প্রতিদিন আসা-যাওয়া করে ক্লাস করা কঠিন ছিলো। উজ্জ্বলার হোস্টেলে থেকেই সব কোর্স করি। জায়গাটি নিরাপদও।’

২০১৯ সালে উজ্জ্বলায় ভর্তি হন ইলমা। প্রথমে পরিবার থেকে কাজটি করতে ভীষণভাবে বাধা দিচ্ছিলো। বিউটি আর্টিস্ট পেশায় ভালো পরিবারের মেয়েরা আসে না বা শিক্ষিত পরিবারের মেয়েরা কাজ করে না, এমন একটি ধারণা ছিল তাদের। তবে একপর্যায়ে ইলমা বোঝাতে সক্ষম হন বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটি মোটেই কোনো ছোট পেশা নয়। এই পেশাতে অনেক বিখ্যাত বিউটি আর্টস্ট রয়েছেন এবং তারা দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন। আর তাঁর মা-ও এই ক্ষেত্রে সাহায্য করেন তাকে। ইলমা জানান, সমাজকে দেখার নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি আমার ভেতর তৈরি করে দিয়েছিলো উজ্জ্বলা। এখান অনেক আপুরা শিখতে আসতেন। তাদের এক একজনের জীবনে এক এক রকম কষ্ট, লড়াই। উজ্জ্বলা কেবল মেকআপ শেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, জীবনবোধও শেখায়। এই শিক্ষাটা নিয়েই আমি আমার পরিবারকে এই পেশার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টি তৈরি করতে সক্ষম হই। আর এখন যেহেতু টাকাও আয় করি, তাই বাসার সবই বেশ খুশি।

বর্তমানে Glow and gloss নামে ফেসবুকে একটি বিউটি পেইজ চালান তিনি। এই পেইজের মাধ্যমেই বুকিং নেন। তবে শুরুতেই এতো সাফল্য আসেনি। অপেক্ষা করতে হয়েছে, ধৈর্য ধরতে হয়েছে। বলেন, ‘কোর্স করে বের হওয়ার পর মনে হয়েছিলো আমি আমার ক্যারিয়ারে ঠিক পথেই এগোচ্ছি তো? একটু দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। এ সময় উজ্জ্বলা থেকে অনেক বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানটি আমার সাহসকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলো। ফেসবুকে যখন পোস্ট দিই উজ্জ্বলা থেকে সার্টিফাইড, তখন অনেক ক্লাইন্ট আমার কাছে আসা শুরু করে। আর এখন তো কখনো কখনো এমনও হয় যে আমি ক্লাইন্ডদের শিডিউলও দিতে পারি না। এখন এটা ভেবে অবাক লাগে যে কেউ তার বিয়ের মতো বিশেষ দিনে আমার হাতে সাজবে বলে অপেক্ষা করে।’

আমার জীবনে এতোটুকু আসার পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব উজ্জ্বলার। উজ্জ্বলা এতো সুন্দরভাবে সবকিছু শিখিয়েছে বলেই আজ বিউটি ইন্ডাসট্রিতে ভালোভাবে কাজ করতে পারছি। উজ্জ্বলার সহপ্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন আপা একদিন ক্লাসে বলছিলেন, ‘আমি তোমাদের আমার সবটা শিখিয়ে দিলাম। নিয়মিত প্র্যাকটিস করে আরো দক্ষ হতে হবে তোমাদের।’ কাজ করতে গিয়ে আমিও সেটাই দেখছি, যত কাজ করছি, তত বেশি অন্যকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারছি-জানান তিনি।

ভবিষ্যতে একটি পার্লার খোলার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। ‘আগামী বছরই এই কাজ শুরু করবো। উজ্জ্বলা যা শিখেছি, তা আরো ভালোভাবে প্রয়োগ করতে চাই। উজ্জ্বলায় আসা আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত ছিলো’,- এমনটাই বলেন তিনি।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৫৩তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

ফোন : ০১৩২৪৭৩৪১৫৭

শীতকালীন বিষণ্ণতা : লক্ষণ, কারণ ও করণীয়

ফারজানা ফাতেমা (রুমী)

শীতকাল হলো পিঠাপুলি আয়োজন আর উৎসবে মাতোয়ারা হবার সময়। তবে আমরা কি জানি, শীতে ঝড়া পাতার মতো যেমন আমাদের ত্বক খসখসে হয়ে যায় তেমনি আমাদের শীতকালীন বিষণ্ণতাও হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে যে, কোনো বিষয়ে মন খারাপ হলেই তা বিষণ্ণতা নয়।

তাহলে জেনে নিই এই ঋতুভিত্তিক বিষণ্ণতা আসলে কি?

সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (SAD) হলাে এক ধরনের বিষণ্ণতা। এটি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের উপসর্গগুলো শরতকালে শুরু হয় এবং শীতের মাসগুলোতে চলতে থাকে। কোনো কাজে আনন্দ না পাওয়া, ঘরে-বাইরে কোনো কিছু উপভোগ করতে না পারা, খেতে বা ঘুমাতে ভালো না লাগা, শরীরের শক্তি কমে যাওয়া, বদমেজাজি হয়ে উঠা, সামাজিক দূরত্ব তৈরি করা, স্কুল বা কাজের সমস্যা, নেশা করার প্রবণতা ইত্যাদি হতে পারে।

পাশাপাশি অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধি যেমন- উদ্বেগ বা খাওয়ার ব্যাধি, আত্মঘাতী চিন্তা বা আচরণ ইত্যাদিও প্রকাশ পায়। আবার এই উপসর্গগুলো প্রায়ই বসন্ত ও গ্রীষ্মের মাসগুলোতে দূর হয়ে যায়। এই বাৎসরিক অনুভূতিকে ‘Winter Blues’ বলা হয়।

এর নির্দিষ্ট কারণ অজানা। তবে কার্যকরী কিছু কারণ হলো-

১। জৈবিক ঘড়ি (Circadian rhythm )
শীতকালে সূর্যের আলো কমে যায়। এতে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির নিয়ম ব্যাহত হতে পারে এবং বিষণ্ণতার অনুভূতির দিকে যেতে পারে।

২। সেরোটোনিনের মাত্রা
সেরোটোনিন হরমোন, মস্তিষ্কের রাসায়নিক নিউরোট্রান্সমিটার। এটি মন-মেজাজকে প্রভাবিত করে। এটি ‘হ্যাপি হরমোন’ নামেও পরিচিত। সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে ত্বকে ভিটামিন-ডি তৈরি হয়। ভিটামিন-ডি সেরোটোনিন কার্যকলাপ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই কম সূর্যালোক, খাবার ও অন্যান্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি না পাওয়ার কারণে শরীরে এর ঘাটতি হতে পারে। এটি বিষণ্ণতার কারণ।

৩। মেলাটোনিনের মাত্রা
ঋতু পরিবর্তন শরীরের মেলাটোনিনের স্তরের ভারসাম্যকে ব্যাহত করতে পারে। এটি ঘুমের ধরণ ও মেজাজে প্রভাব ফেলে।

৪। নারী-পুরুষ ভেদে
এটি পুরুষদের তুলনায় নারীর মাঝে প্রায়শই দেখা যায়। প্রবীণ, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অল্প বয়সীদের মাঝে এই সমস্যা বেশি হয়।

৫। পূর্ব ইতিহাস
যাদের আগে থেকে বিষণ্ণতা বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের লক্ষণগুলো রয়েছে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঋতু অনুসারে আরও খারাপ হতে পারে।

করণীয়

১। সারা বছর ধরে আপনার মেজাজ ঠিক রাখা এবং নিজেকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার মতো কিছু পদক্ষেপ নিন। দৈনিক রুটিন মেনে চলুন এবং নিয়মের মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন।

২। এই সময় কুয়াশা পড়ে এবং দিন ছোট হয়। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিতে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন বিষয় তৈরি হয়। তাই ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করুন। আলো মন ভালো করতে সাহায্য করবে। পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরুন এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে ডিপ ব্রিদিং (গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া) অনুশীলন করুন।

৩। অনর্থক লেপ মুরি দিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস বাদ দিন। এর চেয়ে কিছু সৃজনশীল কাজ করুন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো, ভ্রমণে যাওয়া ইত্যাদি কাজের পরিকল্পনা আগেই করে রাখতে পারেন। ঠান্ডায় বের হতে না চাইলে ঘরে বসে বই পড়ুন, ডাইরি লিখুন অথবা বিনোদনের জন্য নাটক, সিনেমা দেখুন।

৪। শীতকালে পানির পিপাসা তেমন হয় না তাই পানি পানের তাগিদ কম থাকে। পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ, ভিটামিন-সি, শাক-সবজি, ফলমূল, ভেষজ চা খেয়ে নিজেকে চাঙা রাখতে চেষ্টা করতে পারেন। সঙ্গে হালকা ব্যায়াম করুন। এ ছাড়া ব্যাডমিন্টন, ফুটবল ইত্যাদি খেলাধুলাও করা যেতে পারে।

৫। SAD এর চিকিৎসার মধ্যে ফটোথেরাপি, সাইকোথেরাপি ও ওষুধ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সাধারণত শীতকালে লক্ষণগুলো শুরু হওয়ার আগে চিকিৎসা শুরু করা ভালো। মনোচিকিৎসা ও মনোসেবা প্রয়োজনে দুটোই নিতে হবে।

যদিও আমাদের দেশে শীত প্রধান দেশগুলোর মতো তুষারপাত হয় না এবং একটানা সূর্যের দেখা নেই এমনটা হয় না, তারপরও সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডারের উপসর্গগুলো দেখা দিলে গুরুত্ব সহকারে নিন। অন্যান্য বিষণ্ণতার মতো, এই সমস্যাটিও আরও খারাপ হতে পারে চিকিৎসা না নেওয়া হলে।

লেখক : সাইকোলজিস্ট

চীনে বাড়ছে করোনা, সতর্ক হতে হবে আমাদেরও

ডা. মো. ফরিদ রায়হান

চীনে করোনার সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুহারও। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের (আইএইচএমই) একটি পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, নতুন বছরে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ এই রোগে মারা যেতে পারে।

চীন লড়াই করছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন বিএফ.৭-এর সঙ্গে। ভারত, জার্মানি, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সতর্ক হতে হবে বাংলাদেশকেও।

ওমিক্রন বিএফ.৭ খুব দ্রুত বিস্তার ঘটায় এবং আরটি-পিসিআর টেস্টে এটি সহজে ধরা পড়ে না। এটি কোভিডের সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরন। সাধারণত যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, যেমন শিশু, বৃদ্ধ ও প্রেগন্যান্ট নারী, অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যারা করোনার ভ্যাকসিন নেয়নি তাদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে ভ্যাকসিন দেওয়া থাকলে সংক্রমণ হলেও খুব ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না, এমনটাই বলছে গবেষণা।

অন্যান্য করোনার মতো এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, কফ-কাশি, গলাব্যথা, নাক দিয়ে পানি ঝরা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকতে পারে। তবে ওমিক্রন বিএফ.৭ দিয়ে আক্রান্ত হলে সাধারণত শুষ্ক কাশি হয়। এটি ধীরে ধীরে শুরু হয়ে, কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। এর পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, তীব্র ক্লান্তি ভাব প্রকাশ পাবে। সাধারণত ঠান্ডা-কাশিতে খুব বেশি ক্লান্ত বোধ হয় না। তবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির অতিরিক্ত দুর্বলতা ও অবসাদ হতে পারে।

প্রতিরোধ ও সতর্কতা
# যে কোনো ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে জিঙ্ক, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, আয়রন, ভিটামিন ডি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। রঙিন শাকসবজি, ফল (লেবু, কমলা, পেয়ারা ইত্যাদি), মাছ খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্টও সেবন করতে পারেন।
# রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
# ভ্যাকসিন নেওয়া না থাকলে দ্রুত নিতে হবে।
# মাস্ক পরায় অবহেলা করা যাবে না। অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।
# জীবাণু থেকে সুরক্ষা পেতে কিছুক্ষণ পরপর হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ুন।
# কাজের সময় চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
# চেষ্টা করুন জনসমাগম বা ভিড়-বাট্টা এড়িয়ে চলতে।
# যেহেতু করোনাতেই নয়, ঠান্ডা-কাশির সমস্যা অন্যান্য রোগেও হতে পারে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে রোগটি বুঝতে পারা কিছুটা কঠিন। তবে করোনা যেহেতু অতিমারি এবং এতে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে, তাই সাধারণ কফ-কাশি হলেও অবহেলা না করে পরীক্ষা করে নেওয়াই ভালো।

লেখক : নিউরো ও স্পাইনাল সার্জন
কনসালট্যান্ট, নিউরোসার্জারি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.